১০:৫৯ পি.এম
জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদে পাকিস্তান ও বেলারুশের যৌথভাবে উত্থাপিত আঞ্চলিক ও উপ-আঞ্চলিক পর্যায়ে প্রচলিত অস্ত্র নিয়ন্ত্রণ বিষয়ক একটি খসড়া প্রস্তাবের বিপক্ষে ভোট দিয়েছে ভারত ও ইসরায়েল।
সোমবার জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদের প্রথম কমিটিতে 'সর্বাত্মক ও পূর্ণাঙ্গ নিরস্ত্রীকরণ: আঞ্চলিক ও উপ-আঞ্চলিক পর্যায়ে প্রচলিত অস্ত্র নিয়ন্ত্রণ' শীর্ষক প্রস্তাবটি ১৮০-২ ভোটে অনুমোদিত হয়। এতে কোনো দেশ ভোটদানে বিরত থাকেনি; কেবল ভারত ও ইসরায়েল প্রস্তাবটির বিরোধিতা করে বিপক্ষে ভোট দেয়।
ভারতের বিপক্ষে অবস্থান নেওয়ার ব্যাখ্যায় জাতিসংঘে ভারতের স্থায়ী মিশনের প্রথম সচিব আনমোল শের বেদি জানান, প্রচলিত অস্ত্র নিয়ন্ত্রণ বিষয়টি একটি বৈশ্বিক বিষয়। এটিকে মূলত আঞ্চলিক বা উপ-আঞ্চলিক কাঠামোর মধ্যে সীমাবদ্ধ রাখা বা সেটির মাধ্যমে পরিচালনা করা উচিত নয়।
আরও পড়ুন: বাংলাদেশি পর্যটকদের আগমনে কলকাতার হাসপাতাল ও পর্যটন ব্যবসায় ধস
বেদি বলেন, "আমরা পুরোপুরি নিশ্চিত নই যে এই প্রক্রিয়াটিকে প্রাথমিকভাবে আঞ্চলিক বা উপ-আঞ্চলিক প্রেক্ষাপটে পরিচালনা করা উচিত।" তিনি আরও উল্লেখ করেন যে, ভারতের এই অবস্থান এ সংক্রান্ত তাদের পূর্ববর্তী নীতি ও অবস্থানের সাথেই সামঞ্জস্যপূর্ণ।
জাতিসংঘে ফের নতুন করে আলোচনার প্রয়োজনীয়তা নিয়ে ভারতের প্রশ্ন
আঞ্চলিক পর্যায়ে প্রচলিত অস্ত্র নিয়ন্ত্রণ চুক্তির জন্য সহায়ক নীতি বা রূপরেখা তৈরি করতে জাতিসংঘ নিরস্ত্রীকরণ কমিশনকে প্রস্তাবটিতে যে অনুরোধ জানানো হয়েছিল, ভারত তারও বিরোধিতা করেছে। আনমোল শের বেদি উল্লেখ করেন, নিরস্ত্রীকরণ কমিশন ইতোমধ্যেই ১৯৯৩ সালে আঞ্চলিক নিরস্ত্রীকরণ, ১৯৯৯ সালে প্রচলিত অস্ত্র নিয়ন্ত্রণ ও নিরস্ত্রীকরণ এবং ২০১৭ সালে প্রচলিত অস্ত্রের ক্ষেত্রে বাস্তবভিত্তিক আত্মবিশ্বাস বৃদ্ধির পদক্ষেপসংক্রান্ত নির্দেশিকা ও সুপারিশ গ্রহণ করেছে।
তিনি বলেন, "যে সংস্থাকে এখন আবার নতুন করে শুরু করতে বলা হচ্ছে, তারা ইতোমধ্যেই একই বিষয়ে সর্বসম্মতিক্রমে তিনটি সিদ্ধান্তে পৌঁছেছে।" তিনি আরও যোগ করেন, "একটি বিষয় যা ইতোমধ্যে বিস্তারিতভাবে আলোচনা করা হয়েছে, জাতিসংঘ নিরস্ত্রীকরণ সংস্থাকে ব্যস্ত রাখা ছাড়া সেখানে কেন আরেক দফা আলোচনার প্রয়োজন—তা আমাদের বোধগম্য নয়।"
আরও পড়ুন: ভারত বাংলাদেশে শ্রমিক বিক্ষোভের পরিস্থিতি নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করছে
সীমান্ত ছাড়িয়ে নিরাপত্তা শঙ্কার যুক্তি ভারতের
প্রস্তাবটিতে নির্দিষ্ট কোনো অঞ্চল বা উপ-আঞ্চলের ভেতরে প্রতিরক্ষা সক্ষমতায় ভারসাম্য বজায় রাখার ওপর যে জোর দেওয়া হয়েছে, নতুন দিল্লি সেটিরও যৌক্তিকতা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছে। বেদি বলেন, "এই ধারণায় ধরে নেওয়া হচ্ছে যে একটি রাষ্ট্রের নিরাপত্তা সম্পর্কিত উদ্বেগ বা শঙ্কাগুলো তাদের আঞ্চলিক সীমান্তে গিয়েই খুব ভদ্রভাবে থেমে যায়। বাস্তব বিষয় হলো—তা থামে না।"
তিনি যুক্তি দেন যে, বিভিন্ন দেশের নিরাপত্তা শঙ্কা কেবল সংকীর্ণভাবে সংজ্ঞায়িত আঞ্চলিক সীমানার মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকে না। তাই কোনো নির্দিষ্ট অঞ্চল বা উপ-আঞ্চলনের মধ্যে সামরিক ভারসাম্য বজায় রাখার বিষয়টি অবাস্তব।
অন্যদিকে, প্রস্তাবটিতে যুক্তি দেওয়া হয়েছে যে, প্রচলিত অস্ত্র নিয়ন্ত্রণ মূলত আঞ্চলিক ও উপ-আঞ্চলিক সমঝোতার মাধ্যমেই বাস্তবায়িত হওয়া উচিত। কারণ স্নায়যুদ্ধ-পরবর্তী যুগে শান্তি ও নিরাপত্তার প্রতি অধিকাংশ হুমকি একই অঞ্চলে অবস্থিত দেশগুলোর মধ্যকার দ্বন্দ্ব থেকেই তৈরি হয়।
আরও পড়ুন: দিল্লি বাংলাদেশের পোশাক শ্রমিকদের বিক্ষোভ পর্যবেক্ষণ করছে: জয়সওয়াল
পাশাপাশি, এটি এমন সব চুক্তি সম্পাদনের আহ্বান জানায় যা সামরিক বাহিনী ও অস্ত্রাগারকে সর্বনিম্ন সম্ভাব্য স্তরে রেখে আঞ্চলিক শান্তি ও নিরাপত্তাকে সুসংহত করবে।
দক্ষিণ এশীয় অস্ত্র নিয়ন্ত্রণ প্রস্তাবের অনুচ্ছেদে ভারতের বিরোধিতা
প্রস্তাবটিতে দক্ষিণ এশিয়ার প্রেক্ষাপটে করা সনাতন অস্ত্র নিয়ন্ত্রণ প্রস্তাবের একটি বিশেষ অনুচ্ছেদের ওপর আলাদা ভাবে ভোট গ্রহণ করা হলে ভারত তার বিরুদ্ধে ভোট দেয়। উক্ত অনুচ্ছেদে লাতিন আমেরিকার কয়েকটি দেশের আলোচনা এবং দক্ষিণ এশিয়ায় সনাতন অস্ত্র নিয়ন্ত্রণের নানা প্রস্তাবসহ বিভিন্ন অঞ্চলের উদ্যোগের বিষয়টি উল্লেখ করা হয়েছিল। পাশাপাশি আঞ্চলিক নিরাপত্তার ক্ষেত্রে সনাতন অস্ত্র নিয়ন্ত্রণের প্রাসঙ্গিকতাকেও স্বীকার করা হয়।
প্রস্তাবে আরও বলা হয়, সামরিকভাবে প্রভাবশালী ও বৃহৎ সামরিক ক্ষমতাসম্পন্ন দেশগুলোর ওপর আঞ্চলিক শান্তি ও নিরাপত্তা জোরদারের লক্ষ্যে চুক্তি ত্বরান্বিত করার বিশেষ দায়িত্ব রয়েছে। উল্লেখ্য, নিরস্ত্রীকরণ ও আন্তর্জাতিক নিরাপত্তা বিষয়ক খসড়া প্রস্তাবটি সাধারণ পরিষদের প্রথম কমিটিতে পাস হয়েছে। কমিটির এই অনুমোদন জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদ কর্তৃক চূড়ান্ত প্রস্তাব গ্রহণের একটি অংশ।
আরও পড়ুন: ইসরায়েলকে আর সহায়তার প্রয়োজন নেই : ট্রাম্প
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন