ঢাকা শনিবার, ০৭ই নভেম্বর, ২০২৬খ্রিষ্টাব্দ ২২শে কার্তিক, ১৪৩২বঙ্গাব্দ ২৬শে জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিজরী
শনিবার, ০৭ই নভেম্বর, ২০২৬ইং ২২শে কার্তিক, ১৪৩২বাং

রামিসা হত্যার নতুন মোড়, কে এই ডলার


রামিসা হত্যার নতুন মোড়, কে এই ডলার

রাজধানীর পল্লবী এলাকায় আট বছরের শিশু রামিসা আক্তারকে ধর্ষণ ও হত্যার মামলায় বিচার কার্যক্রম শুরুর অনুভবের দিনে প্রধান অভিযুক্ত সোহেল রানার বক্তব্য কেন্দ্র করে নতুন আলোচনা সৃষ্টি হয়েছে।

আদালতে হাজির হওয়ার সময় তিনি বারবার বলেন, রামিসাকে ধর্ষণ ও হত্যা করেছে “ডলার” নামক একজন ব্যক্তি। তবে তদন্তকারী কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, তদন্তের সময় ওই ব্যক্তির সংশ্লিষ্টতার বিষয়ে কোনো প্রমাণ পাওয়া যায়নি।

সোমবার (১ জুন) ঢাকার শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালে সোহেল রানা ও তার স্ত্রী স্বপ্না আক্তারের বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠন করে মামলার বিচার শুরু হয়েছে। আদালতের সামনে সোহেল রানা সাংবাদিকদের উদ্দেশে বলেন, ধর্ষণ করেছে ডলার, মারছেও ডলার। আমি তো শুধু লাশ গুম করতে চেয়েছিলাম।

আরও পড়ুন: সাভার-আশুলিয়ার শিল্পাঞ্চলে ৮৮ কারখানা কর্মমুখর হয়ে উঠছে

তিনি আরও দাবি করেন, ডলারের বাসা মিরপুর-১১ এলাকায় এবং রামিসাকে এনে দেওয়ার জন্য তাকে দুই লাখ টাকা দেওয়ার প্রস্তাব দেওয়া হয়েছিল।

শুনানি শেষে যখন হাজতখানায় নেওয়া হচ্ছিল, তখনও একই দাবি পুনরাবৃত্তি করেন সোহেল রানা। তিনি বলেন, ডলারকে খুঁজলে সব সত্য বের হবে। কিন্তু এই সময় তার স্ত্রী স্বপ্না আক্তার কোনো মন্তব্য করেননি।

স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, ডলার পল্লবী এলাকারই বাসিন্দা এবং পেশায় অটোরিকশাচালক। তিনি মাদকাসক্ত হিসেবে এলাকায় পরিচিত। সোহেল রানার সঙ্গে তার পরিচয় ছিল একটি স্থানীয় গ্যারেজের মাধ্যমে। এলাকার বাসিন্দাদের দাবি, ডলার ধনী নন, তবে তাদের পরিবার এলাকার বাড়ির মালিক ও আর্থিকভাবে সচ্ছল।

ডলারের বড় ভাই সেলিম রায়হান জানান, দীর্ঘ প্রায় ১৯ বছর ধরে পরিবারের সঙ্গে ডলারের কোনো সম্পর্ক নেই। তিনি বলেন, যদি এই ঘটনায় ডলারের কোনো ভূমিকা প্রমাণিত হয়, তাহলে তারও সর্বোচ্চ শাস্তি হওয়া উচিত।

আরও পড়ুন: ছাত্রীদের ওপর পুলিশের লাঠিচার্জের নিন্দা জানালেন এমপি নূরুন্নিসা

মামলার তদন্ত কর্মকর্তা পল্লবী থানার উপপরিদর্শক (এসআই) ওহিদুজ্জামান ভূঁইয়া জানিয়েছেন, তদন্তের সময় ডলার নামে একজনের সম্পর্কে তথ্য পাওয়া গেলেও তার বিরুদ্ধে কোনো প্রমাণ মেলেনি।

তিনি জানান, সাক্ষ্য-প্রমাণ, ডিজিটাল তথ্য এবং তদন্তে ঘটনাস্থলে ডলারের উপস্থিতি পাওয়া যায়নি। এজন্য চার্জশিটে তার নাম অন্তর্ভুক্ত করা হয়নি।

তদন্ত কর্মকর্তা আরও বলেন, সোহেল রানা ও তার স্ত্রীর প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদেও ডলারের নাম উঠে আসেনি। এছাড়াও সোহেল রানার সঙ্গে ডলারের পূর্বশত্রুতার তথ্যও পাওয়া গেছে। তার মতে, আসামি নতুন এই দাবি উত্থাপন করে বিচার প্রক্রিয়াকে ভিন্ন খাতে প্রবাহিত করতে চেয়েছে।

রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী আজিজুর রহমান দুলু বলেছেন, তদন্তে ডলারের সম্পৃক্ততার কোনো প্রমাণ পাওয়া যায়নি। তার কথায়, পেশাদার অপরাধীরা অনেক সময় তদন্তকে বিভ্রান্ত করতে অন্য ব্যক্তির নাম সামনে আনে। আদালতে আসামি এই বিষয়ে কিছু বলেনি, শুধু গণমাধ্যমের সামনে বলেছে।

আরও পড়ুন: জাতীয় বিপ্লব ও সংহতি দিবস আজ

অন্যদিকে রাষ্ট্রনিযুক্ত আসামি পক্ষের আইনজীবী মূসা কালিমূল্যাহ জানিয়েছেন, আসামির সঙ্গে তার আলোচনায় ডলারের বিষয়ে কোনো কথা ওঠেনি। আসামিরা নিজেদের নির্দোষ দাবি করেছেন।

গত ১৯ মে সকালে রাজধানীর পল্লবীর একটি বহুতল ভবনের তৃতীয় তলার ফ্ল্যাট থেকে শিশু রামিসা আক্তারের খণ্ডিত মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ। ঘটনার পর সোহেল রানা বাসার গ্রিল কেটে পালিয়ে গেলেও তার স্ত্রী স্বপ্না আক্তারকে ঘটনাস্থল থেকেই আটক করা হয়। পরে একই দিন সন্ধ্যায় নারায়ণগঞ্জের ফতুল্লা এলাকা থেকে সোহেল রানাকে গ্রেপ্তার করা হয়।

পরদিন শিশুটির বাবা পল্লবী থানায় মামলা দায়ের করেন। একই দিনে আদালতে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দেন সোহেল রানা। ঘটনার মাত্র পাঁচ দিনের মধ্যেই, ২৪ মে পুলিশ মামলার চার্জশিট আদালতে জমা দেয়।

মামলাটির বিচার কার্যক্রম এখনও চলছে। তদন্ত সংস্থার দাবি, প্রাপ্ত সাক্ষ্য-প্রমাণের ভিত্তিতে চার্জশিট তৈরি করা হয়েছে এবং প্রকৃত অপরাধীদের বিচারের আওতায় আনা হবে।

আরও পড়ুন: জামায়াতে ইসলামীর ইসলাম অস্বীকার করলেন হেফাজতের আমির বাবুনগরী

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

নবীগঞ্জে অবৈধভাবে মাটি কাটার দায়ে দেড় লাখ টাকা জরিমানা

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

তালাশ বিডি ডেস্ক

মঙ্গলবার, ২ই জুন, ২০২৬ ইং

১১:২৮ এম


নবীগঞ্জে অবৈধভাবে মাটি কাটার দায়ে দেড় লাখ টাকা জরিমানা

 

নবীগঞ্জে অবৈধভাবে মাটি কাটার অপরাধে ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা করে মো. এলাইছ মিয়া নামের একজন ব্যক্তিকে ১ লক্ষ ৫০ হাজার টাকা অর্থদণ্ড প্রদান করা হয়েছে। সোমবার (১ জুন) উপজেলার কুড়াগাঁও এলাকায় এই অভিযান পরিচালনা করা হয়।

অভিযান পরিচালনা করেন নবীগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট রুহুল আমিন।

জানা গেছে, উপজেলার কুড়াগাঁও এলাকায় একটি চক্র দীর্ঘদিন ধরে অবৈধভাবে মাটি কর্তন করে আসছিল। এই বিষয়ক গোপন সংবাদের ভিত্তিতে সোমবার কুড়াগাঁও এলাকায় ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা করা হয়। এসময় অবৈধভাবে মাটি কাটার সঙ্গে জড়িত থাকার অপরাধে কুড়াগাঁও গ্রামের মৃত গণি মিয়ার ছেলে মো. এলাইছ মিয়াকে আটক করা হয় এবং তাকে ১ লক্ষ ৫০ হাজার টাকা অর্থদণ্ড দেওয়া হয়।

অনাদায়ে নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট ২ (দুই) মাসের বিনাশ্রম কারাদণ্ডের আদেশ দেন। সাজা ঘোষণার পর তাৎক্ষণিকভাবে জরিমানার অর্থদণ্ডের ১ লক্ষ ৫০ হাজার টাকা আদায় করা হয়েছে।

অভিযান শেষে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা রুহুল আমিন জানিয়েছেন, উপজেলার পরিবেশ রক্ষা এবং সরকারি আইন বাস্তবায়ন উদ্দেশ্যে অবৈধভাবে বালু বা মাটি উত্তোলনকারীদের বিরুদ্ধে এই ধরনের অভিযান অব্যাহত রাখা হবে। আইনের পরিপন্থী যেকোনো কাজের বিরুদ্ধে প্রশাসন সর্বদা কঠোর অবস্থানে রয়েছে।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

রাজনীতির নামে গুণ্ডামি ও চাঁদাবাজি চলবে না: হুইপ নিজান

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

তালাশ বিডি ডেস্ক

মঙ্গলবার, ২ই জুন, ২০২৬ ইং

১১:২৯ এম


রাজনীতির নামে গুণ্ডামি ও চাঁদাবাজি চলবে না: হুইপ নিজান

লক্ষ্মীপুর-৪ (রামগতি-কমলনগর) আসনের সংসদ সদস্য ও জাতীয় সংসদের হুইপ এবিএম আশরাফ উদ্দিন নিজান বলেন, রাজনীতির নামে কোনো গুণ্ডামি চলবে না, চাঁদাবাজি চলবে না। যে করবে, সে যে দলেরই হোক, আত্মীয় স্বজন কাউকে প্রশ্রয় দেওয়া যাবে না।

এ ব্যাপারে যুবকদের এগিয়ে আসতে হবে। এখানে ফেরি ঘাট হবে, আপনারা ঘাটে ৫ টাকার জায়গায় ৫০ টাকা নেওয়ার চেষ্টা করবেন না। এগুলো চলবে না।

সোমবার (১ জুন) সরকারি সফরে এসে নিজ নির্বাচনী এলাকা লক্ষ্মীপুরের কমলনগর উপজেলার মতিরহাটের একটি অনুষ্ঠানে বক্তব্যে এসব কথা বলেন।

এবিএম আশরাফ উদ্দিন নিজান বলেন, ‘আজকে আমি বলে যাচ্ছি, যারা ঘাটের ডাক (ইজারা) নিয়েছেন, আমার কাছ থেকে টাকা নিয়ে যান, ঘাট ফ্রি করে দেন। কাল বা পরশু আমার সঙ্গে যোগাযোগ করবেন, হাজিরহাটে গিয়ে আমার থেকে টাকা নিয়ে আসবেন। মানুষকে কষ্ট দেওয়া যাবে না। মানুষের জন্য রাজনীতি করি।

এখানে এসপি সাহেব আছে, বিআইডব্লিউটিএর লোক আছেন, যাদের থেকে ডাক এনেছেন। তাদের সামনে বলে গেলাম।’

উপস্থিত শিক্ষার্থীদের উদ্দেশ্যে তিনি বলেন, ‘তোমরা আসো আমরা একমত হই। আমি তোমাদের সঙ্গে একমত আছি। তোমরাও আমার সঙ্গে একমত হয়েছ।

না হলে আমার বক্তব্যে সাড়া দিতা না।’

তিনি আরো বলেন, ‘আমি টাকাওয়ালা লোক নই, কিন্তু আমি ভোর রাতে যদি আমার মালিককে (আল্লাহ) বলি, আমার টাকা জোগাড় হয়ে যাবে। অতএব কথা আমার স্পষ্ট। আল্লাহর রাসুল ৬৩ বছর বেঁচে ছিলেন। তিনি আড়াই শ কোটি ফলোয়ার রেখে গেছেন। আমার আর বাঁচার দরকার নেই, এমপি হওয়ারও দরকার নেই। আপনারা আমার সঙ্গে থাকুন। এই রামগতি-কমলনগরে আমরা যদি ৩-৪টা জিনিস করে দিতে পারি, তাহলে আগামী প্রজন্ম আমাদেরকে স্বরণ রাখবে।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

৮০ ভাষায় অনুবাদিত ১৯ লাখ কোরআনের কপি বিতরণ

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

অনলাইন ডেস্ক

মঙ্গলবার, ২ই জুন, ২০২৬ ইং

১১:৩২ এম


৮০ ভাষায় অনুবাদিত ১৯ লাখ কোরআনের কপি বিতরণ

মক্কা-মদিনা থেকে বিদায় গ্রহণকারী হাজিদের হাতে পবিত্র কোরআনুল কারিম ও এর অর্থানুবাদের প্রায় ১৯ লাখ কপি বিতরণ করা হয়েছে। সৌদি আরবের ইসলামিক দাওয়াহ ও নির্দেশনা মন্ত্রণালয়ের উদ্যোগে পরিচালিত এই কর্মসূচির মাধ্যমে বিশ্বের বিভিন্ন দেশ থেকে হাজিরা বিদায় মুহূর্তকে আরো স্মরণীয় ও অর্থবহ করে তুলেছে।

মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, হাজিরা আকাশ, স্থল ও সমুদ্রপথে নিজ নিজ দেশে ফিরে যাওয়ার সময় এসব কপি বিতরণ করা হয়েছে। উপহার হিসেবে দেওয়া কোরআন শরিফগুলো মার্কিন মদীনায় অবস্থিত বিশ্ববিখ্যাত প্রতিষ্ঠান কিং ফাহদ কমপ্লেক্স প্রকাশ করেছে। এসব কপির মধ্যে পবিত্র কোরআনের মূল আরবি পাঠের পাশাপাশি দেখা যায় যে, বিশ্বের ৮০টি আন্তর্জাতিক ভাষায় অনূদিত অর্থ রয়েছে। এর ফলে বিভিন্ন ভাষাভাষী মুসলমানরা সহজেই কোরআনের মর্মবাণী উপলব্ধি করতে সক্ষম হচ্ছেন।

সৌদি সরকারের এই উদ্যোগের মূল লক্ষ্য হচ্ছে, হজের আধ্যাত্মিক শিক্ষা যেন হাজিদের জীবনে দীর্ঘস্থায়ী প্রভাব ফেলে। তাদের নিজেদের ভাষায় আল্লাহর বাণী অধ্যয়ন ও অনুধাবন করাও এ লক্ষ্যের অন্তর্ভুক্ত।

বিশ্বের অন্যতম বৃহৎ কোরআন মুদ্রণ প্রতিষ্ঠান কিং ফাহদ কমপ্লেক্স দীর্ঘদিন ধরে অত্যন্ত কঠোর মাননিয়ন্ত্রণের মাধ্যমে পবিত্র কোরআন মুদ্রণ, পর্যালোচনা এবং বিভিন্ন ভাষায় অনুবাদের কাজ করে আসছে। প্রতিষ্ঠানটি বিশ্বব্যাপী মুসলিম সমাজের কাছে কোরআনের সঠিক বার্তা পৌঁছে দেওয়ার ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছে। সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের মতে, হজ মৌসুমে হাজিদের জন্য গৃহীত বহুমুখী সেবামূলক কার্যক্রমের অংশ হিসেবেই এই কোরআন বিতরণ কর্মসূচি বাস্তবায়ন করা হয়েছে। এর ফলে হাজিরা শুধু পবিত্র হজের স্মৃতি নিয়েই নয়, বরং আল্লাহর কালামের এক মূল্যবান উপহার সঙ্গে নিয়ে নিজ দেশে ফিরতে পেরেছেন।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

আজও ইসলামী ব্যাংক গ্রাহক ফোরামের বিক্ষোভ, চেয়ারম্যানের পদত্যাগ দাবি

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

অনলাইন ডেস্ক

মঙ্গলবার, ২ই জুন, ২০২৬ ইং

১১:৩৪ এম


আজও ইসলামী ব্যাংক গ্রাহক ফোরামের বিক্ষোভ, চেয়ারম্যানের পদত্যাগ দাবি

ইসলামী ব্যাংকের চেয়ারম্যান খুরশীদ আলমের নিয়োগ বাতিল ও পদত্যাগের দাবিতে টানা দ্বিতীয় দিনের মতো বিক্ষোভ কর্মসূচি পালন করছে ‘সচেতন গ্রাহক ফোরাম’।

মঙ্গলবার (২ জুন) রাজধানীর মতিঝিলের দিলকুশায় ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ের সামনে আয়োজিত বিক্ষোভ সমাবেশে শতশত গ্রাহক উপস্থিত ছিলেন।

বিক্ষোভকারীদের অভিযোগ, সরকার ও বাংলাদেশ ব্যাংক ষড়যন্ত্রের মাধ্যমে ইসলামী ব্যাংককে আবারও একটি ‘লুটেরা গোষ্ঠীর’ হাতে তুলে দেওয়ার চেষ্টা করছে। এই পরিস্থিতি দেশের অর্থনীতির জন্য বড় ধরনের হুমকি হয়ে দাঁড়াতে পারে। তারা বাংলাদেশ ব্যাংকের সাম্প্রতিক বক্তব্যেরও তীব্র প্রতিবাদ জানান এবং চেয়ারম্যান খুরশীদ আলমকে অবিলম্বে অপসারণের দাবি তোলেন। একই সঙ্গে পরিচালনা পর্ষদের সদস্যদের রাতে কোনো বোর্ড সভা আয়োজন না করার আহ্বান জানান।

সকাল ৯টা থেকে ইসলামী ব্যাংক টাওয়ারের সামনে ‘সচেতন গ্রাহক ফোরাম’-এর ব্যানারে কর্মসূচি শুরু হয়।

আন্দোলনকে কেন্দ্র করে এলাকায় অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়। প্রস্তুত রাখা হয় জলকামান ও সাজোয়া যান।

প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, সকাল থেকে গ্রাহক, শেয়ারহোল্ডার ও বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ ব্যাংকের সামনে জড়ো হতে থাকেন। তারা বিভিন্ন স্লোগান দেন এবং তাদের দাবির পক্ষে বক্তব্য রাখেন।

এর আগে সোমবার একই দাবিতে ইসলামী ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ের সামনে মানববন্ধন ও বিক্ষোভ কর্মসূচি অনুষ্ঠিত হয়। আন্দোলনকারীদের অভিযোগ, তাদের ছত্রভঙ্গ করতে পুলিশ জলকামান, টিয়ারশেল, সাউন্ড গ্রেনেড ও লাঠিচার্জ ব্যবহার করে। এতে কয়েকজন আহত হন বলেও দাবি করা হয়। তবে এ বিষয়ে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর পক্ষ থেকে ভিন্ন বক্তব্য দেওয়া হয়েছে।

আন্দোলনের কারণে সোমবার ইসলামী ব্যাংকের নির্ধারিত পরিচালনা পর্ষদের সভা সশরীরে অনুষ্ঠিত করা সম্ভব হয়নি। পরে রাতে ভার্চুয়াল মাধ্যমে সভা অনুষ্ঠিত হয়। নতুন চেয়ারম্যান খুরশীদ আলমের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত ওই সভায় পাঁচজন পরিচালক অংশ নেন।

বাংলাদেশ ব্যাংকের নির্বাহী পরিচালক ও মুখপাত্র আরিফ হোসেন খান জানান, ভার্চুয়াল সভায় ইসলামী ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালক (এমডি) ওমর ফারুক খানের জমা দেওয়া পদত্যাগপত্র গ্রহণ করা হয়েছে। নতুন এমডি নিয়োগ না হওয়া পর্যন্ত আলতাফ হোসাইন ভারপ্রাপ্ত এমডির দায়িত্ব পালন করবেন।

সচেতন গ্রাহক ফোরামের দাবি, সাবেক এমডি ওমর ফারুক খানকে পদত্যাগে বাধ্য করা হয়েছে এবং সরকার আবারও এস আলম গ্রুপকে ইসলামী ব্যাংকে পুনর্বাসনের চেষ্টা করছে। তবে এ বিষয়ে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কোনো আনুষ্ঠানিক বক্তব্য পাওয়া যায়নি।

একসময় ইসলামী ব্যাংকের নিয়ন্ত্রণ জামায়াতপন্থীদের হাতে ছিল। ২০১৭ সালে আওয়ামী লীগ সরকারের সময়ে ব্যাংকটির নিয়ন্ত্রণ এস আলম গ্রুপের হাতে যায়। পরবর্তীতে আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পর বাংলাদেশ ব্যাংকের তদন্তে এস আলম গ্রুপের বিরুদ্ধে ইসলামী ব্যাংক থেকে নামে-বেনামে প্রায় ৮৫ হাজার ৪৪৫ কোটি টাকা ঋণ নেওয়ার অভিযোগ উঠে। যার একটি বড় অংশ বিদেশে পাচার হয়েছে বলে তদন্ত চলছে।

অন্তর্বর্তী সরকারের সময়ে পুনর্গঠিত ব্যাংকগুলোর মধ্যে ইসলামী ব্যাংক অন্যতম। প্রথমে সোনালী ও রূপালী ব্যাংকের সাবেক এমডি ওবায়েদ উল্লাহ আল মাসুদকে চেয়ারম্যান করা হলেও পরে অনিয়ম ও জালিয়াতির অভিযোগে তাকে পদত্যাগ করতে হয়।

এরপর অধ্যাপক এম জুবায়দুর রহমানChairman হিসেবে দায়িত্ব নেন। তবে শুরু থেকে তার নিয়োগের বিরোধিতা করে আসছিল সচেতন গ্রাহক ফোরাম। গত ২৪ মে তিনি পদত্যাগ করলে একই দিন বাংলাদেশ ব্যাংকের সাবেক ডেপুটি গভর্নর খুরশীদ আলমকে নতুন চেয়ারম্যান হিসেবে নিয়োগ দেওয়া হয়।

খুরশীদ আলম ২০২৪ সালের ফেব্রুয়ারিতে তিন বছরের জন্য বাংলাদেশ ব্যাংকের ডেপুটি গভর্নর হিসেবে নিয়োগ পেয়েছিলেন। আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পর কেন্দ্রীয় ব্যাংকের কর্মকর্তাদের আন্দোলনের মুখে তিনি পদত্যাগ করেন। একই সময়ে ইসলামী ব্যাংকের এমডি ওমর ফারুক খানও পদত্যাগে বাধ্য হন বলে অভিযোগ রয়েছে।

নতুন চেয়ারম্যানের নিয়োগের পর থেকেই বিভিন্ন ব্যানারে তার বিরুদ্ধে কর্মসূচি পালন করে আসছেন একদল গ্রাহক ও শেয়ারহোল্ডার। এরই ধারাবাহিকতায় টানা দ্বিতীয় দিনের মতো মঙ্গলবারও ইসলামী ব্যাংক টাওয়ারের সামনে বিক্ষোভ কর্মসূচি পালিত হয়।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

আর্কাইভ

Please select a date!

নামাজের সময়সূচী

তারিখঃ ২৬শে জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিঃ
ফজর ০৪:৫০
জোহর ১১:৪৩
আসর ০৩:৪০
মাগরিব ০৫:১৬
ইশা ০৬:২৯
সূর্যোদয় : ০৬:০৮ সূর্যাস্ত : ০৫:১৬
অনলাইন জরিপ
ফলাফল
থার্টি-ফার্স্ট নাইটে তরুণদের জন্য প্রকাশ্যে পানি-টানি খাওয়ার বিরুদ্ধে আহ্বান। আপনার মন্তব্য দিন
হ্যা
100%
না
0%
মন্তব্য নেই
0%