০৫:২২ পি.এম
বাংলাদেশ পুলিশের সন্ত্রাসবিরোধী বিশেষায়িত সংস্থা অ্যান্টি টেররিজম ইউনিটের (এটিইউ) নাম পরিবর্তন করে স্পেশাল সিকিউরিটি ইউনিট (এসএসইউ) রাখা হয়েছে।
এদিকে, কাউন্টার টেররিজম অ্যান্ড ট্রান্সন্যাশনাল ক্রাইম (সিটিটিসি) ইউনিটের নাম পরিবর্তন করে স্পেশাল সিকিউরিটি ইউনিট ডিএমপি (এসসিইউ-ডিএমপি) করা হয়েছে।
মঙ্গলবার (০৭ জুলাই) পুলিশ সদর দফতর সূত্রে এ তথ্য প্রকাশ করা হয়েছে।
আরও পড়ুন: শাকিলের জানাজায় এমপির বিরুদ্ধে ‘ভুয়া ভুয়া’ স্লোগান
এটা আগে জানা যায় যে বাংলাদেশ পুলিশের বিশেষায়িত সন্ত্রাসবিরোধী সংস্থা অ্যান্টি টেররিজম ইউনিট (এটিইউ) এবং কাউন্টার টেররিজম অ্যান্ড ট্রান্সন্যাশনাল ক্রাইম (সিটিটিসি) ইউনিটের নাম পরিবর্তনের সঙ্গে সাথে তাদের দায়িত্বের পরিধিও বাড়ানোর প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে।
পুলিশ সদর দফতার (পিএইচকিউ) গত ৭ জুন স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে পাঠানো এক প্রস্তাবে এটিইউর নাম পরিবর্তন করে ‘স্পেশাল সিকিউরিটি ইউনিট (এসএসইউ)’ করার অনুমোদনের জন্য অনুরোধ করা হয়। তাঁদের যুক্তিতে বলা হয়, দেশে এবং বিশ্বে নিরাপত্তা হুমকির ধরন দ্রুত বদলাতে চলেছে। সহিংস উগ্রবাদের পাশাপাশি নতুন ধরনের চ্যালেঞ্জ মোকাবেলার জন্য আরও একটা বিস্তৃত কাঠামো প্রয়োজন।
৮ জুন ঢাকা মহানগর পুলিশের (ডিএমপি) কমিশনারের কাছে পাঠানো আরেকটি চিঠিতে ডিএমপির কাউন্টার টেররিজম অ্যান্ড ট্রান্সন্যাশনাল ক্রাইম (সিটিটিসি) ইউনিটের নাম পরিবর্তন করে ‘স্পেশাল সিকিউরিটি ইউনিট-ডিএমপি (এসএসইউ-ডিএমপি)’ করার জন্য প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে নির্দেশনা দেওয়া হয়।
এছাড়া, পুলিশ সদর দফতরের (মিডিয়া) সূত্র জানায়, ইউনিটগুলোর কার্যকারিতা আরও শক্তিশালী করার লক্ষ্যে এই সাংগঠনিক পুনর্গঠনের প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি তাদের মূল নিরাপত্তাসংক্রান্ত দায়িত্বও একই রকম থাকবে।
আরও পড়ুন: কক্সবাজারে নকল ব্যান্ডরোলযুক্ত সিগারেট জব্দ, মূল্য ২৭ লাখ টাকা
নতুন নামের অধীনে পরিচালিত হলে, অতীতে বিতর্কিত বা প্রশ্নবিদ্ধ অভিযানের সঙ্গে যুক্ত অভিযোগ থেকে সংস্থাগুলো বেরিয়ে এসে জনআস্থা পুনর্গঠনে সক্ষম হবে বলেও পুলিশ সদর দফতরের অভিমত।
পুলিশ মহাপরিদর্শকের (আইজিপি) পক্ষ থেকে অতিরিক্ত উপমহাপরিদর্শক স্বাক্ষরিত প্রস্তাবে উল্লেখ করা হয়েছে, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই), ইন্টারনেটের ব্যাপক বিস্তার ও তথ্যের দ্রুত প্রবাহের কারণে নিরাপত্তা ঝুঁকির ধরন পরিবর্তিত হয়েছে। ফলে প্রচলিত নিরাপত্তা ব্যবস্থা আধুনিকায়ন করা জরুরি হয়ে পড়েছে।
২০১৬ সালে ঢাকার হোলি আর্টিজান বেকারিতে জঙ্গি হামলার (যেখানে ১৭ জন বিদেশি নাগরিকসহ ২২ জন নিহত হন) প্রেক্ষাপটে এটিইউ গঠনের পরিকল্পনা নেওয়া হয়। ২০১৭ সালের ৭ ডিসেম্বর আনুষ্ঠানিকভাবে যাত্রা শুরু করা এই ইউনিটে অনুমোদিত জনবল রয়েছে ৬২০ জন। এরপর থেকে এটিইউ সারা দেশে বিশেষায়িত সন্ত্রাসবিরোধী বাহিনী হিসেবে দায়িত্ব পালন করে আসছে।
প্রস্তাবে এও বলা হয়েছে, উগ্রবাদী ও জঙ্গি সংগঠনগুলো বর্তমানে আরও আধুনিক কৌশলে হামলার পরিকল্পনা, অর্থায়ন ও বাস্তবায়ন করছে। তাদের লক্ষ্য রাষ্ট্রের নিরাপত্তা এবং সামাজিক স্থিতিশীলতা নষ্ট করা। এছাড়া বলা হয়েছে, এসব গোষ্ঠী ধর্মের বিকৃত ব্যাখ্যা ব্যবহার করে অর্থনৈতিকভাবে দুর্বল মানুষকে নিজেদের দলে টানে। অনলাইন প্ল্যাটফর্মে গুজব ছড়িয়ে সাম্প্রদায়িক সহিংসতা এবং সামাজিক অস্থিরতা তৈরির চেষ্টা করে। পাশাপাশি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান এবং ডিজিটাল মাধ্যমে তরুণদের উগ্রপন্থায় উদ্বুদ্ধ করে গোপন ‘স্লিপার সেল’-এ যুক্ত করছে।
আরও পড়ুন: জামায়াতের মহিলা বিভাগের প্রতিবাদ: নারী উদ্যোক্তা সাথী আক্তার গ্রেপ্তার
এসব পরিবর্তিত হুমকি মোকাবেলায় এটিইউকে স্পেশাল সিকিউরিটি ইউনিটে (এসএসইউ) রূপান্তরের প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে। নতুন কাঠামোতে ইউনিটটি শুধু জঙ্গিবাদ দমনই নয়, দেশের অভ্যন্তরীণ নিরাপত্তা, জাতীয় স্থিতিশীলতা এবং জননিরাপত্তা রক্ষায়ও বিস্তৃত ভূমিকা পালন করবে।
প্রস্তাবে আরও উল্লেখ করা হয়েছে, ‘স্পেশাল সিকিউরিটি ইউনিট’ নামটি আন্তর্জাতিকভাবে পরিচিত। এটি বিদেশি আইন প্রয়োগকারী সংস্থার সঙ্গে সহযোগিতা আরও সহজ করবে এবং দেশের অন্যান্য নিরাপত্তা সংস্থার সঙ্গে সমন্বয়ও বাড়াবে।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন