ঢাকা শনিবার, ০৭ই নভেম্বর, ২০২৬খ্রিষ্টাব্দ ২২শে কার্তিক, ১৪৩২বঙ্গাব্দ ২৬শে জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিজরী
শনিবার, ০৭ই নভেম্বর, ২০২৬ইং ২২শে কার্তিক, ১৪৩২বাং

জয়পুরহাটে আলুর বাজারে ধস, হিমাগারে ৪৫ শতাংশ আলু পড়ে আছে


জয়পুরহাটে আলুর বাজারে ধস, হিমাগারে ৪৫ শতাংশ আলু পড়ে আছে

জয়পুরহাটে আলুর বাজারে অব্যাহত দরপতনের ফলে কৃষক ও ব্যবসায়ীরা বিপাকে পড়েছেন। উৎপাদন খরচের তুলনায় অনেক কম দামে বিক্রি হচ্ছে আলু। এই পরিস্থিতিতে লোকসানের আশঙ্কায় অনেকেই হিমাগার থেকে আলু উত্তোলন করছেন না। জেলার ২২টি হিমাগারে সংরক্ষিত আলুর প্রায় ৪৫ শতাংশ এখনো পড়ে রয়েছে। আগামী ১৫ নভেম্বর সংরক্ষণ মেয়াদ শেষ হওয়ার আগে আলু বিক্রি করতে না পারলে কৃষক, ব্যবসায়ী ও হিমাগার মালিকদের বড় ধরনের লোকসানের আশঙ্কা দেখা দিয়েছে।

এ পরিস্থিতিতে সংশ্লিষ্টরা আলুর দাম বাড়ানো, রপ্তানির সুযোগ সৃষ্টি এবং হিমাগারে সংরক্ষণের মেয়াদ বাড়ানোর দাবি জানিয়েছেন। লোকসানের আশঙ্কায় হিমাগার মালিকেরা জেলা কৃষি বিপণন অধিদপ্তরের সহায়তা চেয়েছেন। অন্যদিকে, সংরক্ষণের মেয়াদ বাড়াতে হিমাগারগুলোতে চিঠি দেওয়ার কথা জানিয়েছে জেলা কৃষি বিপণন অফিস।

জানা গেছে, আলু উৎপাদনে দেশের অন্যতম জেলা জয়পুরহাট। গত মৌসুমে জেলায় ৯ লাখ ৪৩ হাজার মেট্রিক টন আলু উৎপাদিত হয়েছে। উৎপাদন মৌসুমে বাজারে আলুর দাম কম থাকায় কৃষকেরা লোকসানে পড়েন। পরে দাম বাড়ার আশায় জেলার ২২টি হিমাগারে ২ লাখ ৩৮ হাজার মেট্রিক টন আলু সংরক্ষণ করেন কৃষক ও ব্যবসায়ীরা। কিন্তু বাজারে প্রত্যাশিত দাম না থাকায় এখন উৎপাদন খরচ ও হিমাগারের ভাড়া তুলতে হিমশিম খাচ্ছেন তারা।

আরও পড়ুন: পার্বত্য অঞ্চলে কফি ও কাজুবাদাম চাষের সম্ভাবনা নিয়ে আলোচনা করেছেন মন্ত্রী সাচিং প্রু জেরী

কৃষক ও ব্যবসায়ীদের তথ্যমতে, সার, বীজ, শ্রমিকের মজুরিসহ বিভিন্ন খরচ মিলিয়ে স্টেরিক, কার্ডিনাল ও বারো-তেরো জাতের ৬০ কেজির এক বস্তা আলু উৎপাদনে খরচ হয়েছে সর্বোচ্চ ১ হাজার ২৫০ টাকা। অথচ হিমাগার গেটে সেই আলু বিক্রি হচ্ছে মাত্র ৫৫০ থেকে ৬৭০ টাকায়। দেশি পাকড়ি জাতের এক বস্তা আলু উৎপাদনে খরচ হয়েছে সর্বোচ্চ ১ হাজার ৬০০ টাকা। বিক্রি হচ্ছে ১ হাজার ৫০ টাকায়। এতে জাতভেদে প্রতি বস্তা আলুতে ৫০০ থেকে ৬০০ টাকা পর্যন্ত লোকসান হচ্ছে।

সংশ্লিষ্টরা জানান, মৌসুমে কৃষকের কাছ থেকে আলু কিনে ব্যবসায়ীরা নির্দিষ্ট সময়ের জন্য চুক্তিতে হিমাগারে সংরক্ষণ করেন। চুক্তির মেয়াদ শেষ হলে ব্যবসায়ীরা আলু উত্তোলন না করলেও হিমাগার মালিকেরা চুক্তির বাইরে অতিরিক্ত অর্থ দাবি করতে পারেন না। অথচ বিদ্যুৎ বিলসহ হিমাগারের পরিচালন ব্যয় তাদেরই বহন করতে হয়। ফলে আলু পড়ে থাকলে লোকসানের চাপ বাড়ে হিমাগার মালিকদের ওপরও।

এবার হিমাগারে আলু সংরক্ষণের মেয়াদ নির্ধারণ করা হয়েছে আগামী ১৫ নভেম্বর পর্যন্ত। নির্ধারিত সময়ের মধ্যে আলু উত্তোলন না হলে বিদ্যুৎ বিল, ভাড়া ও অন্যান্য খরচ মিলিয়ে প্রতি বস্তায় ৫০০ থেকে ৬০০ টাকা পর্যন্ত লোকসান হতে পারে বলে আশঙ্কা করছেন হিমাগার মালিকেরা।

সদরের আমদই গ্রামের কৃষক আবুল হোসেন বলেন, ‘আলুর দাম বাড়বে আশায় হিমাগারে ১৫০ বস্তা আলু রেখেছিলাম। এর মধ্যে ৫০ বস্তা কোনো লাভ ছাড়াই বিক্রি করেছি। এখনো ১০০ বস্তা আলু পড়ে আছে। বর্তমান বাজারে বিক্রি করলে অর্ধেক লোকসান হবে। ঋণ-দেনা তো পরিশোধ হবেই না, উল্টো আরও ক্ষতিগ্রস্ত হব। আলু নিয়ে কী করব, মাথাই কাজ করছে না।’

আরও পড়ুন: আখ চাষে কৃষকদের তিক্ততা, গুড় উৎপাদনে ঝুঁকছেন তারা

ক্ষেতলালের হিমাদ্রিপাড়ার কৃষক বাবু মিয়া বলেন, ‘হিমাগারে ৫০ বস্তা আলু রেখেছি। বর্তমান বাজারে বিক্রি করলে অনেক লোকসান হবে। আগামী ১৫ নভেম্বর পর্যন্ত সংরক্ষণের মেয়াদ আছে। এর মধ্যে দাম না বাড়লে কীভাবে বিক্রি করব? পরে মেয়াদ না বাড়ালে আলু কোথায় নিয়ে যাব? সরকারের কাছে অনুরোধ, হিমাগারে আলু রাখার মেয়াদ ও আলুর দাম বাড়ানোর ব্যবস্থা করা হোক।’

তিলাবদুল মধ্যপাড়ার ব্যবসায়ী আলাল হোসেন বলেন, ‘এক বস্তা আলুতে খরচ হয়েছে ১ হাজার ২৫০ টাকা, অথচ বিক্রি হচ্ছে ৬৫০ টাকায়। গত তিন-চার বছর ধরে লোকসান গুনতে গুনতে জমি-জমা সব শেষ। এখন যে ঋণ আছে, তা কীভাবে শোধ করব? ঋণ পরিশোধ করতে বাড়িও বিক্রি করতে হতে পারে। সরকার কোনো পদক্ষেপ না নিলে আমি একেবারে শেষ।’

হিমাদ্রি হিমাগারের ব্যবস্থাপক শরিফুল ইসলাম বলেন, ‘আমার হিমাগারে ৫০ শতাংশ আলু বের হয়েছে। বাজারমূল্য একেবারেই কম হওয়ায় কৃষক ও ব্যবসায়ীরা আলু উত্তোলন করছেন না। চুক্তির মেয়াদ পার হয়ে আলু পড়ে থাকলে সব লোকসান আমার। এ অবস্থা চলতে থাকলে কৃষক ও ব্যবসায়ীদের পাশাপাশি আমরাও ক্ষতিগ্রস্ত হব। সরকার আলু রপ্তানির সুযোগ দিলে কিছুটা ক্ষতি পুষিয়ে নেওয়া সম্ভব।’

জেলা কৃষি বিপণন অফিস জানিয়েছে, হিমাগারে আলু সংরক্ষণের মেয়াদ বাড়ানোর বিষয়ে সংশ্লিষ্ট হিমাগারগুলোতে চিঠি দেওয়া হবে।

আরও পড়ুন: সুনামগঞ্জে খরার কারণে বীজতলা ফেটে চৌচির, কৃষকরা বিপাকে

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

খুলনায় জাতীয় বিপ্লব ও সংহতি দিবসে আলোকচিত্র প্রদর্শনীর উদ্বোধন

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

তালাশ বিডি ডেস্ক

শনিবার, ৭ই নভেম্বর, ২০২৬ ইং

১০:৫২ পি.এম


খুলনায় জাতীয় বিপ্লব ও সংহতি দিবসে আলোকচিত্র প্রদর্শনীর উদ্বোধন

খুলনা, ৭ নভেম্বর, ২০২৬ : ঐতিহাসিক জাতীয় বিপ্লব ও সংহতি দিবস উপলক্ষে সপ্তাহব্যাপী কর্মসূচির প্রথম দিনে নগরীতে জাতীয়তাবাদী স্বেচ্ছাসেবক দলের উদ্যোগে একটি বিশেষ আলোকচিত্র প্রদর্শনীর উদ্বোধন করা হয়েছে।

আজ শনিবার সন্ধ্যায় শহীদ হাদিস পার্কে এ প্রদর্শনীর উদ্বোধন করেন খুলনা মহানগর বিএনপির সাধারণ সম্পাদক এবং বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ডের (বিসিবি) পরিচালক শফিকুল আলম তুহিন।

প্রদর্শনীতে শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের জীবন, মুক্তিযুদ্ধ, ৭ নভেম্বরের ঐতিহাসিক সিপাহী-জনতার বিপ্লব এবং দেশ পুনর্গঠনের বিরল ছবি ও প্রামাণ্যচিত্র তুলে ধরা হয়েছে।

আলোকচিত্র প্রদর্শনীর উদ্বোধকালে নগর বিএনপির সাধারণ সম্পাদক শফিকুল আলম তুহিন মন্তব্য করেন, "বাংলাদেশের মানুষের মূল রাজনৈতিক দর্শন হচ্ছে প্রকৃত গণতন্ত্র। এ দেশের মানুষ মুক্ত বাতাসে প্রাণ খুলে কথা বলতে চায়, নির্ভয়ে ও নিঃসংকোচে নিজের মত প্রকাশ করতে চায়।"

তিনি আরও বলেন, এ দেশের স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্বকে সুসংহত ও শক্তিশালী রাখার সুতীব্র আকাক্সক্ষা মানুষের মধ্যে সব সময় বিরাজমান। ঐতিহাসিক ৭ নভেম্বরের সিপাহী-জনতার বিপ্লবের চেতনা যুগের পর যুগ সেই জাতীয় আকাক্সক্ষাকেই জাগ্রত রেখে চলেছে।

অনুষ্ঠানে অন্যান্য বক্তারা উল্লেখ করেন, কোনো অপশক্তি বা ষড়যন্ত্রই এ দেশের গণতান্ত্রিক অগ্রযাত্রাকে ব্যাহত করতে পারবে না। সার্বভৌমত্ব রক্ষা ও গণতান্ত্রিক অধিকার পুনর্প্রতিষ্ঠায় ৭ নভেম্বরের মূলসুর ধারণ করে জনগণকে সঙ্গে নিয়ে যেকোনো চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় বিএনপি প্রস্তুত রয়েছে।

মহানগর স্বেচ্ছাসেবক দলের আহ্বায়ক মিরাজুর রহমান মিরাজের সভাপতিত্বে এবং সদস্য সচিব ইশতিয়াক আহমেদ ইসতির পরিচালনায় উপস্থিত ছিলেন যুগ্ম আহ্বায়ক এসএম মাহমুদুল হাসান টিটু, মিরাজ শাহীন শুভ, মনজুর শাহীন রুবেল, ইবাদুল ইসলাম, সিফাত আহমেদ রিকি, সদর থানা স্বেচ্ছাসেবক দলের সদস্য সচিব রায়হান বিন কামাল, সোনাডাঙা থানা সদস্য সচিব রাকিবুল হাসান প্রমুখ।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

হিমন্তর: আসামের করিমগঞ্জ থেকে ২৮ 'বাংলাদেশিকে' বিতাড়িত করার দাবি

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

শনিবার, ৭ই নভেম্বর, ২০২৬ ইং

১০:৫২ পি.এম


হিমন্তর: আসামের করিমগঞ্জ থেকে ২৮

আসামের শ্রীভূমি জেলায় বেআইনিভাবে বসবাসকারী ২৮ জন 'বাংলাদেশী নাগরিককে' শনাক্ত করে তাদের নিজ দেশে ফেরত পাঠানোর দাবি করেছেন আসামের মুখ্যমন্ত্রী উগ্র হিন্দুত্ববাদী হিমন্ত বিশ্ব শর্মা।

শনিবার (৭ নভেম্বর) এই দাবি করে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্স-এ (সাবেক টুইটার) দেওয়া এক পোস্টে তিনি লিখেছেন, "অবৈধ অনুপ্রবেশের বিরুদ্ধে আসামের ধৈর্য্যের বাঁধ ভেঙে গেছে। শ্রীভূমি পুলিশ চিহ্নিত করা ২৮ জন অবৈধ অভিবাসীকে বহিষ্কার করেছে। দৃঢ় সংকল্প নিয়ে আমরা এই অভিযান চালিয়ে যাব। আমাদের সীমান্ত, রাজ্য ও আসামের নিরাপত্তার প্রশ্নে কোনো আপস করা হবে না।"

আসামের সর্বদক্ষিণের জেলা শ্রীভূমি, যার পূর্বনাম করিমগঞ্জ ছিল, ২০২৪ সালের নভেম্বরে নতুন নামকরণ করা হয়। এই জেলা বাংলাদেশের সিলেট বিভাগের সীমান্তবর্তী। আসামের যেসব জেলা আন্তর্জাতিক সীমান্তে অবস্থিত, তার মধ্যে ধুবড়ি, দক্ষিণ সালমারা-মানকাচর ও কাছাড়ের পাশাপাশি শ্রীভূমিও অন্যতম। শ্রীভূমিতে আসামের একটি সমন্বিত চেকপোস্ট (ইন্টিগ্রেটেড চেকপোস্ট) এবং মানকাচরে একটি ল্যান্ড কাস্টমস স্টেশন রয়েছে।

ভারতীয় গণমাধ্যমের প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে, ১৯৫০ সালের 'ইমিগ্র্যান্টস (এক্সপালশন ফ্রম আসাম) অ্যাক্ট'-এর অধীনে এই বিতাড়ন প্রক্রিয়া পরিচালিত হচ্ছে। গত বছরের সেপ্টেম্বরে রাজ্য মন্ত্রিসভা এই আইনের অধীনে একটি 'স্ট্যান্ডার্ড অপারেটিং প্রসিডিউর' (এসওপি) অনুমোদন করে, যা জেলা কমিশনারদের যেকোনো সন্দেহভাজন বিদেশী নাগরিককে বিতাড়নের নির্দেশ দেওয়ার ক্ষমতা প্রদান করে। গত বছরের মে মাস থেকে সীমান্ত অঞ্চলে নিয়মিত "পুশব্যাক" ড্রাইভ চালানো হচ্ছে, যার অনেকগুলোই রাতে অনুষ্ঠিত হয়েছে এবং মুখ্যমন্ত্রী নিজেই সেগুলো সামাজিক মাধ্যমে ঘোষণা দিয়েছেন।

এই অভিযানের পরিসর ও সংখ্যা মোটেও কম নয়। চলতি বছর রাজ্য বিধানসভায় পেশ করা এক লিখিত জবাবে আসাম চুক্তি বাস্তবায়ন মন্ত্রী অতুল বোড়া জানান, ২০১৬ সাল থেকে ২০২৬ সালের ৩০ জুন পর্যন্ত রাজ্য থেকে মোট ২,০৮৯ জন অবৈধ বিদেশী নাগরিককে পুশব্যাক, দেড়ান্তর বা বিতাড়িত করা হয়েছে। এর মধ্যে ২,০২৩ জনকেই বাংলাদেশে ফেরত পাঠানো হয়েছে। শুধু একটি বছরেই সর্বাধিক ১,৮১১ জনকে ফেরত পাঠানোর রেকর্ড রয়েছে।

তবে আসামের পুরো সীমান্ত অঞ্চল এখনো সম্পূর্ণ সুরক্ষিত নয়। বাংলাদেশের সাথে আসামের ২৬৭.৫ কিলোমিটার সীমান্ত রয়েছে, যা পর্যবেক্ষণ করছে বিএসএফ-এর (বর্ডার সিকিউরিটি ফোর্স) ৯১টি সীমান্ত চৌকি, আসাম পুলিশের ১৪টি দ্বিতীয় স্তরের চৌকি এবং ১৪টি টহল পোস্ট। এর মধ্যে শ্রীভূমির কুশিয়ারা নদী সংলগ্ন ৪.৩৫ কিলোমিটার অংশে বর্ডার গার্ড বাংলাদেশের (বিজিবি) আপত্তির কারণে এখনো কাঁটাতারের বেড়া দেওয়া সম্ভব হয়নি; ফলে এলাকাটিতে কেবল বিএসএফ টহলের মাধ্যমে নজরদারি চালানো হয়। ২০২৪ সালে ফ্যাসিস্ট হাসিনার ভারতে পলায়নের পর থেকেই ভারতের উত্তর-পূর্বাঞ্চলে ১,৮৮৫ কিলোমিটার দীর্ঘ ভারত-বাংলাদেশ সীমান্তে বিএসএফ তাদের নজরদারি জোরদার করেছে। পাশাপাশি আসাম পুলিশও পানি ও স্থলপথে সর্বোচ্চ সতর্ক অবস্থায় রয়েছে।

অনুপ্রবেশের এই বিষয়টি এখন আসামের রাজনীতিতে অন্যতম প্রধান চর্চার বিষয়। বিজেপি মন্ত্রীরা গত সপ্তাহজুড়ে 'ইন্ডিয়া' জোটকে অভিযুক্ত করে আসছেন যে তারা ভারতে "বাংলাদেশের মতো সরকার পরিবর্তনের" চেষ্টা করছে। অন্যদিকে বিশ্ব শর্মা প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন রাজ্যকে অনুপ্রবেশমুক্ত করার। তবে বিরোধী দলগুলো এই অভিযানের পদ্ধতি ও গতি নিয়ে প্রশ্ন তুলে বলেছে, কেবল সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে পুশব্যাকের ঘোষণা দিয়ে আসল সমস্যার সমাধান হবে না; এর একমাত্র স্থায়ী সমাধান সীমান্তে পুরোপুরি কাঁটাতারের বেড়া নিশ্চিত করা।

প্রতিবেদন অনুযায়ী, শনিবারের এই ঘটনাটি সাম্প্রতিক ধারাবাহিক অভিযানেরই অংশ। ঠিক গত সপ্তাহে ধুবড়ির একটি খেয়াঘাট থেকে ৩৬ জন সন্দেহভাজন বাংলাদেশী নাগরিককে আটক করেছিল পুলিশ—তারা দক্ষিণ সালমারা-মানকাচর থেকে আসা ১২০ জনের একটি নৌকায় অবস্থান করছিল। এছাড়া এর আগে গুয়াহাটির বিভিন্ন হোটেল ও রেলওয়ে স্টেশন থেকেও ২০ জনেরও বেশি সন্দেহভাজনকে আটক করা হয়।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

পাকিস্তানি গানের জাদুতে মুগ্ধ অ্যালান ওয়াকার, ‘আলফাজ’ নিয়ে যৌথ কাজের ইঙ্গিত!

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

বিনোদন ডেস্ক

শনিবার, ৭ই নভেম্বর, ২০২৬ ইং

১০:৫৩ পি.এম


পাকিস্তানি গানের জাদুতে মুগ্ধ অ্যালান ওয়াকার, ‘আলফাজ’ নিয়ে যৌথ কাজের ইঙ্গিত!

বিশ্বজুড়ে জনপ্রিয় সংগীতশিল্পী ও ডিজে অ্যালান ওয়াকারকে ঘিরে পাকিস্তানের গান ‘আলফাজ’ নতুন করে আলোচনার কেন্দ্রবিন্দু হয়ে উঠেছে। গানটির জনপ্রিয়তা দেখে মুগ্ধ হয়ে নরওয়েজীয়-ব্রিটিশ সংগীত প্রযোজক অ্যালান ওয়াকার সম্প্রতি পাকিস্তানের লাহোরে উপস্থিত হয়েছেন। সেখানে তিনি গানটির শিল্পী হামজা মালিক ও জাইন-জোহাইবের সঙ্গে সাক্ষাৎ করেছেন। এরপর থেকেই নতুন সংগীত আয়োজনের সম্ভাবনা নিয়ে আলোচনা শুরু হয়েছে।

এই ঘটনার শুরু ‘আলফাজ’ গানের একটি মিউজিক ভিডিও থেকে। ভিডিওতে গায়কদ্বয়ের পেছনে মুখোশ পরা একটি ব্যক্তিকে দেখে অ্যালান ওয়াকার তার পরিচিত পোশাকের সঙ্গে মিল খুঁজে পান। এ নিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে তিনি মজার ছলে মন্তব্য করেন, "ভিডিওতে এই ওয়াকার কে? তবে ভিডিওটি দারুণ।"

হামজা মালিক অ্যালান ওয়াকারের সেই মন্তব্যের উত্তর দেন। ইউটিউবে তিনি লেখেন, "ধন্যবাদ! ওয়াকার এখনো রহস্য হয়েই থাকুক, তবে হয়তো আমরা একসঙ্গে সেই রহস্যের সমাধান করতে পারি।" এরপর থেকেই ভক্তদের মধ্যে আগ্রহ বাড়তে থাকে।

অ্যালান ওয়াকার বিমানবন্দর থেকে একটি ভিডিও প্রকাশ করে জানান, হামজা তার মন্তব্যের জবাব দিয়েছেন। তিনি উল্লেখ করেন, গানটি সর্বত্র শোনা যাচ্ছে এবং লাহোরে গিয়ে বিষয়টি চূড়ান্ত করতে চান। পরে লাহোরে পৌঁছে শহরের বিভিন্ন স্থান ঘুরে দেখার পাশাপাশি সংগীতশিল্পীদের সঙ্গে সময় কাটানোর ছবি ও ভিডিও প্রকাশ করেন।

এছাড়া, লাহোর ফোর্টের সামনে একটি রহস্যময় বাক্স হাতে নিয়ে ‘আলফাজ’ গানের আবহে একটি ভিডিও প্রকাশ করেন অ্যালান ওয়াকার। সেখানে তিনি ‘আরও কিছু আসছে’ বলেও ইঙ্গিত দেন। হামজা মালিক অ্যালান ওয়াকারকে ‘আলফাজ’ লেখা একটি শাল পরা অবস্থায় ছবিতে তুলে ধরেন এবং নতুন চমকের আভাস দেন। অ্যালান ওয়াকার স্টুডিওতে একসঙ্গে কাজ করার ছবিও প্রকাশ করেছেন।

সব মিলিয়ে নতুন সংস্করণে ‘আলফাজ’ আসছে, নাকি শিল্পীদের নিয়ে তৈরি হচ্ছে একেবারে নতুন কোনো গান, তা নিয়ে সংগীতপ্রেমীদের মধ্যে কৌতূহল সৃষ্টি হয়েছে। তবে এখন পর্যন্ত দুই পক্ষের কেউ আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো গানের নাম কিংবা প্রকাশের তারিখ ঘোষণা করেননি। অ্যালান ওয়াকারের এই সফর পাকিস্তানি সংগীতের জন্য আন্তর্জাতিক অঙ্গনে নতুন সম্ভাবনা তৈরি করবে কি না, সেটিই এখন দেখার বিষয়।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

ক্রাকুউতে বন্দুকধারীর হামলা, নিহত ৫, আহত ১০

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

শনিবার, ৭ই নভেম্বর, ২০২৬ ইং

১০:৫৩ পি.এম


ক্রাকুউতে বন্দুকধারীর হামলা, নিহত ৫, আহত ১০

পোল্যান্ডের ঐতিহাসিক শহর ক্রাকুউয়ের (Krakow) কেন্দ্রস্থলে একটি মর্মান্তিক বন্দুক হামলার ঘটনা ঘটেছে। শহরের প্রধান বাজার চত্বরের নিকটে চলন্ত একটি গাড়ি থেকে পথচারীদের লক্ষ্য করে নির্বিচারে গুলি চালায় এক বন্দুকধারী। এই হামলায় অন্তত পাঁজজন নিহত হয়েছেন এবং কমপক্ষে ১০ জন আহত হয়েছেন। আহতদের মধ্যে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্য বা পুলিশ অফিসারও অন্তর্ভুক্ত রয়েছেন।

ঘটনার পরপরই পোলিশ পুলিশ দ্রুত পদক্ষেপ গ্রহণ করে সন্দেহভাজন হামলাকারীকে গ্রেপ্তার করেছে। দেশটির দমকল বাহিনী ও স্থানীয় গণমাধ্যমের বরাত দিয়ে আল জাজিরা জানিয়েছে, পরিস্থিতি এখন নিয়ন্ত্রণে রয়েছে এবং এলাকায় নিরাপত্তা জোরদার করা হয়েছে।

এই আকস্মিক ও মর্মান্তিক সহিংসতার ঘটনায় গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন পোল্যান্ডের প্রধানমন্ত্রী ডোনাল্ড টাস্ক। সামাজিক মাধ্যম এক্সে (সাবেক টুইটার) দেওয়া এক বার্তায় তিনি জানিয়েছেন, স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর কাছ থেকে তিনি সার্বক্ষণিক পরিস্থিতি সম্পর্কে আপডেট নিচ্ছেন। প্রধানমন্ত্রী বলেন, “পুলিশ এই হামলার পেছনের উদ্দেশ্য এবং সমস্ত পরিস্থিতি খতিয়ে দেখতে পূর্ণাঙ্গ তদন্ত শুরু করেছে।”

কর্তৃপক্ষ হামলার পেছনের প্রকৃত কারণ উদ্ঘাটনে কাজ চালিয়ে যাচ্ছে। জনবহুল এলাকায় এমন সশস্ত্র হামলায় গোটা পোল্যান্ড জুড়ে আতঙ্ক ও শোকের ছায়া নেমে এসেছে। সূত্র: আল-জাজিরা।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

আর্কাইভ

Please select a date!

নামাজের সময়সূচী

তারিখঃ ২৬শে জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিঃ
ফজর ০৪:৫০
জোহর ১১:৪৩
আসর ০৩:৪০
মাগরিব ০৫:১৬
ইশা ০৬:২৯
সূর্যোদয় : ০৬:০৮ সূর্যাস্ত : ০৫:১৬
অনলাইন জরিপ
ফলাফল
থার্টি-ফার্স্ট নাইটে তরুণদের জন্য প্রকাশ্যে পানি-টানি খাওয়ার বিরুদ্ধে আহ্বান। আপনার মন্তব্য দিন
হ্যা
100%
না
0%
মন্তব্য নেই
0%