ঢাকা শনিবার, ০৭ই নভেম্বর, ২০২৬খ্রিষ্টাব্দ ২২শে কার্তিক, ১৪৩২বঙ্গাব্দ ২৬শে জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিজরী
শনিবার, ০৭ই নভেম্বর, ২০২৬ইং ২২শে কার্তিক, ১৪৩২বাং

যশোরের সবুজ পল্লী কলেজে ৪ শিক্ষকের ৭ এইচএসসি পরীক্ষার্থী, তবু সবাই ফেল


যশোরের সবুজ পল্লী কলেজে ৪ শিক্ষকের ৭ এইচএসসি পরীক্ষার্থী, তবু সবাই ফেল

যশোরের মণিরামপুর উপজেলার সবুজ পল্লী কলেজে এবারের এইচএসসি পরীক্ষায় অংশগ্রহণকারী সাত শিক্ষার্থীর মধ্যে কেউই পাস করতে পারেনি। বর্তমানে কলেজটিতে শিক্ষক সংখ্যা মাত্র চারজন।

মণিরামপুর-খেদাপাড়া সড়কের পাশে ধানখেতের মধ্যে কলেজটির দুটি ছোট কাঁচা-পাকা ভবন দাঁড়িয়ে আছে। একটি ভবনের পলেস্তারা খসে পড়েছে, অন্যটি তুলনামূলক নতুন। কলেজের শিক্ষক-কর্মচারীরা কখনো বেতন-ভাতা পাননি। দীর্ঘকাল ধরে কলেজের কার্যক্রম এমন পরিস্থিতিতে চলছে।

স্থানীয়দের প্রশ্ন, যেখানে শিক্ষক নেই এবং নিয়মিত পাঠদান নেই, সেখানে শিক্ষার্থীরা কিভাবে ভালো ফলাফল করতে পারে?

আরও পড়ুন: মনোহরগঞ্জে ৩৪ জন জিপিএ-৫ প্রাপ্ত শিক্ষার্থীর সংবর্ধনা অনুষ্ঠিত

খেদাপাড়া ইউনিয়নের তৎকালীন চেয়ারম্যান জিএম ওমর ফারুকের উদ্যোগে ২০০৩ সালে সবুজ পল্লী কলেজ প্রতিষ্ঠা করা হয়। প্রতিষ্ঠানের শুরুতে মানবিক, বিজ্ঞান ও বাণিজ্য বিভাগে পাঠদানের অনুমোদন পেয়েছিল। তখন শিক্ষক ছিলেন ১৫ জন। কিন্তু বেতন-ভাতা না পাওয়ার কারণে ধীরে ধীরে বিজ্ঞান ও বাণিজ্য বিভাগের শিক্ষকরা কলেজ ছেড়ে চলে যান। একসময় শিক্ষার্থীরাও কলেজ থেকে মুখ ফিরিয়ে নেয়। পরে মানবিক বিভাগের পাঁচজন প্রভাষক দিয়ে পাঠদান চলছিল। ২০২৫ সালের ৪ মার্চ ইংরেজি বিভাগের একমাত্র প্রভাষক এস আলমের মৃত্যুর পর বর্তমানে কলেজটি চারজন শিক্ষক দিয়ে চলছে।

নন-এমপিও হওয়ায় কলেজের শিক্ষকদের সরকারি বেতন-ভাতার কোনো নিশ্চয়তা নেই। এ কারণে ইংরেজি প্রভাষকের পদ শূন্য থাকায় নতুন কেউ চাকরির আগ্রহ দেখাননি। এমনকি এ পদে আবেদনও করেনি কেউ। ফলে শিক্ষার্থীদের পাবলিক পরীক্ষায় ইংরেজি শিক্ষক ছাড়াই অংশ নিতে হচ্ছে।

কলেজটির গত কয়েক বছরের ফলাফল বিশ্লেষণ করলে দেখা যায়, ২০২২ সালে ৩৬ জন পরীক্ষার্থী অংশ নিয়ে ২৯ জন পাস করেন। ২০২৩ সালে ২৭ জনের মধ্যে ২৬ জন পাস করেন। ২০২৪ সালে ১০ জন পরীক্ষার্থী পাস করেন আটজন। ২০২৫ সালে পাঁচজনের মধ্যে তিনজন পাস করেন। তবে এবার সাতজন পরীক্ষায় অংশ নিলেও পাস করতে পারেনি কেউ। তাদের মধ্যে তিনজন একটি বিষয়ে এবং দুজন দুটি বিষয়ে অকৃতকার্য হয়েছেন।

কলেজ মোড়ের দোকানি আবু রহিম বলেন, "এলাকার অধিকাংশ ছেলেমেয়ে কলেজটিতে পড়তো। কয়েক বছর পর শিক্ষকরা চলে যেতে থাকেন। একসময় শিক্ষার্থীরাও আসা বন্ধ করে দেয়।"

আরও পড়ুন: বাকৃবিতে শিক্ষার্থীদের মারামারি, ছাত্রদল নেতার ইন্ধনের অভিযোগ অস্বীকার

খেদাপাড়া বাজারের এক ব্যবসায়ী জানান, ২০০৬ সালের পর স্থানীয় আওয়ামী লীগ নেতা এসএম আব্দুল হক সবুজ পল্লী কলেজের কাছেই ‘মাতৃভাষা কলেজ’ নামে আরেকটি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান গড়ে তোলেন। আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে তিনি ওই কলেজটি দ্রুত এমপিওভুক্ত করাতে সক্ষম হন। অথচ আগে প্রতিষ্ঠিত সবুজ পল্লী কলেজটি এমপিওভুক্তি থেকে বঞ্চিত হয়। এর মধ্যে ইংরেজি শিক্ষকও মারা যান। অর্থনীতির শিক্ষক রমজান আলী একসময় ইংরেজি ক্লাস নিতেন। শিক্ষকসংকটের কারণে ধীরে ধীরে শিক্ষার্থীরাও কলেজ থেকে মুখ ফিরিয়ে নিচ্ছে।

কলেজের ভাইস প্রিন্সিপাল ইব্রাহিম হোসেন বলেন, "২৩ বছর ধরে কলেজে শিক্ষকতা করছি। এক পয়সাও পাইনি। ছেলেমেয়ে, ঘর সংসার তো রয়েছে।"

বর্তমানে একাদশ শ্রেণিতে ৩১ জন এবং দ্বাদশ শ্রেণিতে ৪১ জন শিক্ষার্থী রয়েছে বলে দাবি করেন তিনি। ইব্রাহিম হোসেন বলেন, "ছেলেমেয়েদের মুখের তাকিয়ে এখনও আছি।"

কলেজটি এমপিওভুক্ত না হওয়ার কারণ সম্পর্কে তিনি বলেন, "এমপিওভুক্তির জন্য যেসব শর্ত পূরণ করতে হয়, সেগুলো কলেজে সবসময়ই ছিল। কিন্তু রাজনৈতিক কারণে প্রতিষ্ঠানটিকে এমপিওভুক্ত হতে বাধা দেওয়া হয়েছে।"

আরও পড়ুন: শহীদ জিয়ার লক্ষ্য-আদর্শে ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয় পুনঃপ্রতিষ্ঠায় কাজ চলছে: উপাচার্য

তিনি আরও বলেন, "কলেজটির প্রতিষ্ঠাতা খেদাপাড়া ইউনিয়নের চেয়ারম্যান জিএম ওমর ফারুক উপজেলা বিএনপির সাংগঠনিক সম্পাদক ছিলেন। কলেজ প্রতিষ্ঠার কিছুদিন পর আওয়ামী লীগ সরকার ক্ষমতায় আসে। মণিরামপুরের তৎকালীন সংসদ সদস্য খান টিপু সুলতান এমপিওভুক্তিতে কোনো বাধা না দিলেও স্বপন ভট্টাচার্য সংসদ সদস্য ও প্রতিমন্ত্রী হওয়ার পর থেকে নানাভাবে বাধা দেওয়া হয়েছে। একপর্যায়ে কলেজের একমাত্র কাঁচা-পাকা ভবনটির পলেস্তারা খসে পড়তে থাকে। পরে ২০২৫ সালে সংসদ সদস্য ইয়াকুব আলী কলেজে একটি ভবন নির্মাণের ব্যবস্থা করে দেন।"

পরিচয় প্রকাশে অনিচ্ছুক কলেজের এক প্রতিষ্ঠাতা সদস্য বলেন, "চেয়ারম্যানের সাথে থেকে অনেক আশা নিয়ে আমরা কলেজটি করেছিলাম। কিন্তু কয়েক বছর পার হলেও এমপিও না হওয়ায় বিজ্ঞান ও বাণিজ্য বিভাগের শিক্ষকরা চলে যান। শিক্ষার্থীদের কলকাকলীমুখর কলেজটি এখন কোনোরকমে টিকে আছে। কলেজটি এমপিওভুক্ত হলে পাসের হার বাড়বে।"

খেদাপাড়ার স্কুলশিক্ষক মতিয়ার রহমান বলেন, "ভূগোল শিক্ষক দিয়ে ইংরেজি পড়ালে শিক্ষার্থীরা কেউ পাস করবে না— এটাই স্বাভাবিক। তবে, পুরনো প্রতিষ্ঠান। এমপিওভুক্ত হলে শিক্ষক পাওয়া যাবে। তখন এ সমস্যা থাকবে না।"

খেদাপাড়া ইউনিয়নের চেয়ারম্যান আব্দুল আলিম জিন্না বলেন, "কলেজটি খুব দুরবস্থার মধ্যে আছে। এ বছর কেউ পরীক্ষা দিয়েছিল কি না জানি না। তবে এমপিওভুক্ত হলে এ প্রতিষ্ঠান প্রাণচাঞ্চল্য ফিরে পাবে। এলাকার স্বার্থে, আমাদের ছেলে-মেয়েদের স্বার্থে কলেজটি এমপিওভুক্তির দাবি করছি।"

আরও পড়ুন: এইচএসসির সাপ্লিমেন্টারি পরীক্ষার ফি নিয়ে জরুরি নির্দেশনা

এদিকে শূন্য পাসের প্রতিষ্ঠানের বিষয়ে কঠোর অবস্থানের কথা জানিয়েছে যশোর শিক্ষা বোর্ড। বোর্ডটির পরীক্ষা নিয়ন্ত্রক প্রফেসর এস এম হোসেন আলী বলেন, "সবুজ পল্লী কলেজের প্রধানকে ডেকে স্বীকৃতি নবায়ন করা হবে না বলে জানিয়ে দেওয়া হয়েছে। শূন্য পাস প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে শিক্ষা বোর্ড অত্যন্ত কঠিন অবস্থানে রয়েছে। এ ক্ষেত্রে কোনো ধরনের ছাড় দেওয়া হবে না।"

যশোর শিক্ষা বোর্ডের চেয়ারম্যান প্রফেসর ফারুকে আযম মু. আব্দুস ছালাম ও সচিব প্রফেসর ড. মো. আব্দুল মতিনের সতর্কতার প্রসঙ্গ টেনে তিনি আরও বলেন, "বোর্ড থেকে বারবার সতর্ক করা হয়েছে। তবে চলতি বছর কলেজটির স্বীকৃতি নবায়ন হবে না— এমন কোনো নির্দেশনার কথা তিনি অস্বীকার করেন।"

কলেজের অধ্যক্ষ রেজাউল ইসলাম বলেন, "আগের বছরগুলোতে পরীক্ষার ফলাফল সন্তোষজনক ছিল। কিন্তু এবার কেউ পাস করেনি। ইংরেজি বিষয়ের প্রভাষক না থাকায় এ বিপর্যয় ঘটেছে।"

তিনি বলেন, "একজন খণ্ডকালীন ইংরেজি শিক্ষক দিয়ে ক্লাস করানোর ব্যবস্থা করা হয়েছিল। তাকে বেতন না দেওয়ায় তিনি মাস দুয়েক পর আর আসেননি। স্কুল হলে অন্য বিষয়ের শিক্ষক দিয়ে ইংরেজি পড়ানো যেত। কিন্তু কলেজে সেটি সম্ভব হচ্ছে না।"

আরও পড়ুন: হাবিপ্রবির পাঁচ শিক্ষার্থী গণিত অলিম্পিয়াডের রংপুর অঞ্চলের সেরা দশে

কলেজের পরিচালনা পর্ষদের সভাপতি কবীর হোসেন বলেন, "এলাকার শিক্ষার্থীদের সুবিধার জন্য কলেজটি প্রতিষ্ঠা করা হয়েছিল। প্রতিষ্ঠার পর নানা ঘাত-প্রতিঘাতের মধ্যেও প্রতিষ্ঠানটি টিকে আছে। তবে এবারই প্রথম পাসের হার শূন্য হয়েছে। ইংরেজি শিক্ষক থাকলে এমন পরিস্থিতি তৈরি হতো না। আগামীতে যাতে এ অবস্থার পুনরাবৃত্তি না হয়, সে ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

সামিট এলএনজি টার্মিনালের রক্ষণাবেক্ষণ শেষে গ্যাস সরবরাহ শুরু

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

তালাশ বিডি ডেস্ক

শনিবার, ৭ই নভেম্বর, ২০২৬ ইং

০৫:২৮ পি.এম


সামিট এলএনজি টার্মিনালের রক্ষণাবেক্ষণ শেষে গ্যাস সরবরাহ শুরু

কক্সবাজারের মহেশখালীর সামিট এলএনজি টার্মিনালের রক্ষণাবেক্ষণ কাজ সম্পন্ন হওয়ার পর জাতীয় গ্রিডে গ্যাস সরবরাহ আবার শুরু হয়েছে।

শনিবার (৭ নভেম্বর) দুপুর ১টার দিকে পূর্বের মতো গ্যাস সরবরাহের কার্যক্রম পুনরায় শুরু হয়।

পেট্রোবাংলার প্রকাশিত এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে উল্লেখ করা হয়, কক্সবাজারের মহেশখালীতে অবস্থিত সামিট এলএনজি টার্মিনালের রক্ষণাবেক্ষণ কাজ শেষ হওয়ার পর দুপুর ১টা থেকে রিগ্যাসিফিকেশন কার্যক্রম আবার শুরু করা হয়েছে। বর্তমানে দুইটি এলএনজি টার্মিনাল থেকে জাতীয় গ্যাস গ্রিডে পূর্বের মতো গ্যাস সরবরাহ করা হচ্ছে।

বিজ্ঞপ্তিতে গ্রাহকদের সহযোগিতার জন্য ধন্যবাদ জানানো হয়েছে পেট্রোবাংলার পক্ষ থেকে।

এর আগে পেট্রোবাংলা গত ১ নভেম্বর জানায়, সামিট এলএনজি টার্মিনালে জরুরি রক্ষণাবেক্ষণ কাজের কারণে ৪ নভেম্বর সকাল ৮টা থেকে ৭ নভেম্বর বিকেল ৪টা পর্যন্ত রিগ্যাসিফিকেশন কার্যক্রম বন্ধ থাকবে।

গত বছরের ডিসেম্বর মাসেও এই রক্ষণাবেক্ষণ কার্যক্রম সম্পন্ন করা হয়েছিল।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

অচল শরীরেও জীবনযুদ্ধে হার মানেননি কাঞ্চন, সঙ্গী স্ত্রী আসমা

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

তালাশ বিডি ডেস্ক

শনিবার, ৭ই নভেম্বর, ২০২৬ ইং

০৫:২৯ পি.এম


অচল শরীরেও জীবনযুদ্ধে হার মানেননি কাঞ্চন, সঙ্গী স্ত্রী আসমা

দুই পা অচল এবং দুই হাতের শক্তি কম থাকলেও জীবনযুদ্ধে থেমে নেই সৈয়দ কাঞ্চন। আগুনে পুড়ে গেছে তার শেষ সম্বল, কিন্তু তিনি হার মানেননি। স্ত্রী আসমা বেগম তার এই সংগ্রামে সবচেয়ে বড় ভরসা।

সৈয়দ কাঞ্চন মাদারীপুরের ডাসার উপজেলার বেতবাড়ি গ্রামের বাসিন্দা। তার পিতার নাম সৈয়দ সোহবার হোসেন। তিনি স্ত্রী, দুই মেয়ে এবং মায়ের সঙ্গে সংসার পরিচালনা করেন।

ছোটবেলায় টাইফয়েড জ্বরে আক্রান্ত হওয়ার কারণে কাঞ্চনের পরিবার যথাযথ চিকিৎসার ব্যবস্থা করতে পারেনি। এর ফলস্বরূপ, তার হাত-পা অচল হয়ে যায়। এক আত্মীয়ের মাধ্যমে আসমার সঙ্গে তার পরিচয় হয়। শারীরিক সীমাবদ্ধতা এবং জীবনের বিভিন্ন প্রতিকূলতার মধ্যেও আসমার উপস্থিতি তাকে নতুন করে স্বপ্ন দেখতে উদ্বুদ্ধ করে। তাদের ভালোবাসা ও নির্ভরতার সম্পর্কের ভিত্তিতে ২০১০ সালে তাদের বিয়ে হয়। সংসারজীবনের নানা প্রতিকূলতা সত্ত্বেও আসমা আজও তার স্বামীর পাশে রয়েছেন এবং বাকি জীবন তার সঙ্গে কাটাতে চান।

দুজনে মিলে একটি মুদি দোকান গড়ে তোলার স্বপ্ন দেখেছিলেন। কিন্তু ২০২৩ সালের এক রাতে আগুনে পুড়ে যায় তাদের দোকান, যা ছিল তাদের একমাত্র আয়ের উৎস। এই ঘটনার পরেও কাঞ্চন হাল ছাড়েননি। বর্তমানে, স্ত্রীর সহযোগিতায় বাড়িতে উপকরণ তৈরি করে প্রতিদিন বিকেলে হুইলচেয়ারে করে বের হন তিনি।

ডাসার সরকারি মহিলা কলেজের পাশে একটি ছোট জায়গায় সিঙ্গারা ও পুরির দোকান বসান। সেখানে আসমা বেগম নিজ হাতে সিঙ্গারা ও পুরি তৈরি করে বিক্রি করেন। এই আয়েই তাদের সংসার চলে। তাদের দুই মেয়ে, যারা ১২ ও ৮ বছর বয়সী, মাদ্রাসায় পড়াশোনা করছে। তাদের খাতা-কলম কেনার খরচ এবং সংসারের অন্যান্য প্রয়োজনীয় ব্যয় মেটাতে প্রতিদিন সংগ্রাম করতে হচ্ছে তাদের।

স্থানীয়রা জানিয়েছেন, শারীরিক প্রতিবন্ধকতা ও অসহায়ত্ব থাকা সত্ত্বেও কাঞ্চন কখনো ভিক্ষাবৃত্তিতে জড়াননি। তিনি নিজের পরিশ্রমের মাধ্যমে সংসার চালানোর চেষ্টা করছেন। তবে সরকারি সহায়তা পেলে তার পরিস্থিতির উন্নতি হতে পারে। জীবিকা নির্বাহের জন্য একটি আধুনিক হুইলচেয়ার এবং ঋণ সহায়তা তার বিশেষ প্রয়োজন।

সৈয়দ কাঞ্চন বলেন,

“মানুষ জন্ম নিলে একদিন মরবেই। কিন্তু যতদিন বেঁচে আছি, মাথা উঁচু করে বাঁচতে চাই। আমার দুইটা পা অচল, আমি হাঁটতে পারি না। কিন্তু আল্লাহ আমাকে একটা সুস্থ বিবেক আর দুইটা হাত দিয়েছেন। সেই হাতও প্রায় অচল। সেই বিবেক থাকতে আমি মানুষের কাছে হাত পেতে ভিক্ষা করতে পারব না। ভিক্ষা করলে হয়তো সহজে টাকা পাওয়া যায়, কিন্তু নিজের আত্মসম্মানটা ধুলায় মিশে যায়।”

তিনি আরও বলেন, “আমার একমাত্র আয়ের পথ ছিল ওই ছোট্ট মুদি দোকানটা। কিন্তু আগুনে পুড়ে আমার শেষ সম্বলটুকু যখন ছাই হয়ে গেল, আমি পুরো দিশেহারা হয়ে পড়েছিলাম। তবে আমি হাল ছাড়িনি। আমি কারও করুণা চাই না, শুধু একটু সুযোগ চাই, যেন নিজের পরিশ্রম দিয়ে আমার পরিবার আর দুই মেয়ের মুখে দুবেলা খাবার তুলে দিতে পারি।”

কাঞ্চনের স্ত্রী আসমা বেগম বলেন,

“বিয়ের পর থেকেই দেখে আসছি, তিনি কতটা কষ্ট করেন। শরীরটা অচল হলেও তার মনের জোর আমাদের সবার চেয়ে বেশি। সরকারিভাবে একটু সহযোগিতা পেলে আমরা ঘুরে দাঁড়াতে পারব।”

মাদারীপুর জেলার সহকারী সমাজসেবা কর্মকর্তা আফজাল হোসাইন জানিয়েছেন, অসহায় এই কাঞ্চনকে ইতিমধ্যে ভাতার আওতায় আনা হয়েছে। তাকে সাবলম্বী করতে সহযোগিতা করা হবে। প্রয়োজনে তাকে ক্ষুদ্র ঋণও দেয়া হবে।

মাদারীপুর জেলা সমাজসেবা কার্যালয়ের সহকারী সমাজসেবা কর্মকর্তা আফজাল হোসাইন আরও জানান, কাঞ্চনকে এরইমধ্যে ভাতার আওতায় আনা হয়েছে। তাকে স্বাবলম্বী করে তুলতে সহযোগিতা করা হবে। প্রয়োজনে তাকে ক্ষুদ্রঋণ দেয়ার ব্যবস্থা করা হবে।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

গণতান্ত্রিক মূল্যবোধ ও জাতীয় সংহতি সুদৃঢ় করতে সম্মিলিত প্রচেষ্টা: ডিসি ফরিদার আহ্বান

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

তালাশ বিডি ডেস্ক

শনিবার, ৭ই নভেম্বর, ২০২৬ ইং

০৫:২৯ পি.এম


গণতান্ত্রিক মূল্যবোধ ও জাতীয় সংহতি সুদৃঢ় করতে সম্মিলিত প্রচেষ্টা: ডিসি ফরিদার আহ্বান

ঢাকা জেলা প্রশাসক ফরিদা খানম সকলকে আহ্বান জানিয়েছেন, জাতীয় ঐক্য, পারস্পরিক শ্রদ্ধাবোধ ও গণতান্ত্রিক মূল্যবোধ সুদৃঢ় করার মাধ্যমে একটি স্থিতিশীল, মানবিক ও সমৃদ্ধ রাষ্ট্র গঠনে সম্মিলিতভাবে কাজ করতে। তিনি উল্লেখ করেন, মত ও আদর্শের ভিন্নতা গণতান্ত্রিক সমাজের স্বাভাবিক বৈশিষ্ট্য। তবে, জাতীয় স্বার্থ, সামাজিক সম্প্রীতি ও রাষ্ট্রীয় স্থিতিশীলতার প্রশ্নে সকলকে দায়িত্বশীল ও ঐক্যবদ্ধ থাকতে হবে।

শনিবার (৭ নভেম্বর) জাতীয় বিপ্লব ও সংহতি দিবস উপলক্ষে ঢাকা জেলা প্রশাসনের উদ্যোগে আয়োজিত আলোচনা সভায় তিনি এসব কথা বলেন।

জেলা প্রশাসক ফরিদা খানম বলেন, ৭ নভেম্বর বাংলাদেশের রাজনৈতিক ও রাষ্ট্রীয় ইতিহাসে একটি গুরুত্বপূর্ণ ও তাৎপর্যপূর্ণ অধ্যায়। ১৯৭৫ সালের ১৫ আগস্ট পরবর্তী সময়ে দেশে গভীর রাজনৈতিক সংকট ও অস্থিরতা সৃষ্টি হয়। এর ধারাবাহিকতায় ৩ নভেম্বর সামরিক অভ্যুত্থান এবং পরবর্তী সময়ে ৭ নভেম্বর সিপাহী-জনতার অভ্যুত্থানের মধ্য দিয়ে দেশের রাজনৈতিক ও রাষ্ট্রীয় জীবনে নতুন অধ্যায়ের সূচনা হয়।

তিনি বলেন, ইতিহাসের প্রতিটি গুরুত্বপূর্ণ ঘটনার নিজস্ব প্রেক্ষাপট, তাৎপর্য ও সুদূরপ্রসারী প্রভাব রয়েছে। ইতিহাসের যথাযথ মূল্যায়নের জন্য তথ্যনিষ্ঠ দৃষ্টিভঙ্গি, উদার মানসিকতা এবং অতীতের অভিজ্ঞতা থেকে শিক্ষা গ্রহণ করা জরুরি। অতীতকে অনুধাবন করে বর্তমানকে সমৃদ্ধ করা এবং ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য একটি স্থিতিশীল, গণতান্ত্রিক ও সমৃদ্ধ রাষ্ট্র বিনির্মাণে সকলকে দায়িত্বশীল ভূমিকা পালন করতে হবে।

জেলা প্রশাসক আরো বলেন, মহান মুক্তিযুদ্ধ বাঙালি জাতির সর্বশ্রেষ্ঠ অর্জন। লাখো শহীদের আত্মত্যাগের বিনিময়ে অর্জিত স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্ব আমাদের জাতীয় জীবনের অমূল্য সম্পদ। স্বাধীনতার মর্যাদা সমুন্নত রাখা, জাতীয় স্বার্থ সংরক্ষণ এবং রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠানগুলোকে শক্তিশালী করা আমাদের সকলের নৈতিক ও সাংবিধানিক দায়িত্ব।

তিনি বলেন, একটি রাষ্ট্রের অগ্রযাত্রা ও স্থিতিশীলতার অন্যতম প্রধান ভিত্তি হলো জাতীয় ঐক্য, পারস্পরিক শ্রদ্ধাবোধ, সহনশীলতা এবং আইনের শাসন। গণতান্ত্রিক সমাজে মত ও আদর্শের ভিন্নতা থাকা স্বাভাবিক। তবে, মতপার্থক্য যেন কখনো জাতীয় স্বার্থ, সামাজিক সম্প্রীতি ও রাষ্ট্রীয় স্থিতিশীলতাকে ক্ষতিগ্রস্ত না করে, সে বিষয়ে সকলকে সচেতন থাকতে হবে। ভিন্নমতের প্রতি শ্রদ্ধাশীল থেকে পারস্পরিক সহাবস্থান ও সহযোগিতার সংস্কৃতি গড়ে তোলাই একটি সুস্থ গণতান্ত্রিক সমাজের অন্যতম বৈশিষ্ট্য।

জনপ্রশাসনের দায়িত্বের কথা তুলে ধরে ফরিদা খানম বলেন, জনগণের প্রত্যাশা পূরণ, নাগরিক অধিকার সুরক্ষা, সরকারি সেবার মানোন্নয়ন এবং জনবান্ধব প্রশাসন প্রতিষ্ঠা জনপ্রশাসনের অন্যতম প্রধান দায়িত্ব। প্রশাসনের প্রতিটি কার্যক্রমের কেন্দ্রবিন্দুতে জনগণের কল্যাণ থাকতে হবে। স্বচ্ছতা, জবাবদিহি, পেশাদারিত্ব ও জনসেবার মানসিকতা ধারণ করে সরকারি কর্মকর্তাদের দায়িত্ব পালন করতে হবে।

নতুন প্রজন্মের কাছে দেশের সঠিক ইতিহাস, ঐতিহ্য ও জাতীয় অর্জন যথাযথভাবে তুলে ধরার ওপর গুরুত্বারোপ করে তিনি বলেন, তরুণ প্রজন্মের মধ্যে দেশপ্রেম, মানবিকতা, নৈতিকতা, অসাম্প্রদায়িক চেতনা ও দায়িত্বশীল নাগরিকত্বের মূল্যবোধ জাগ্রত করতে হবে। কারণ, আজকের তরুণরাই আগামী দিনের রাষ্ট্র ও সমাজ পরিচালনায় নেতৃত্ব দেবে।

আলোচনা সভা শেষে জেলা শিশু একাডেমি আয়োজিত চিত্রাঙ্কন প্রতিযোগিতায় বিজয়ীদের মধ্যে সনদপত্র ও পুরস্কার হিসেবে বই বিতরণ করা হয়।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

ফটিকছড়িতে বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকদের ফ্রি ক্যাম্প, ৩ লাখ টাকার ওষুধ ও চশমা বিতরণ

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

তালাশ বিডি ডেস্ক

শনিবার, ৭ই নভেম্বর, ২০২৬ ইং

০৫:২৯ পি.এম


ফটিকছড়িতে বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকদের ফ্রি ক্যাম্প, ৩ লাখ টাকার ওষুধ ও চশমা বিতরণ

"বয়স হয়েছে, চোখেও ঠিকমতো দেখি না। টাকার অভাবে ভালো ডাক্তার দেখানো সম্ভব হয় না। এখানে বিনামূল্যে বিশেষজ্ঞ ডাক্তার দেখানোর পাশাপাশি ওষুধ ও চশমাও পেয়েছি। এমন সুযোগ আমাদের মতো গরিব মানুষের জন্য অনেক বড় পাওয়া।" কথাগুলো বলছিলেন চট্টগ্রামের ফটিকছড়ির লেলাং ইউনিয়নের গোপালঘাটায় আয়োজিত বিনামূল্যে চিকিৎসা ক্যাম্পে সেবা নিতে আসা এক সত্তরোর্ধ বয়োবৃদ্ধা রোগী সায়রা খাতুন। তাঁর মতো গ্রামের শত শত অসহায় ও চিকিৎসাবঞ্চিত মানুষের জন্য একদিনের এই আয়োজন হয়ে ওঠে স্বস্তির উপলক্ষ।

চট্টগ্রামের ফটিকছড়িতে সাধারণ মানুষের দোরগোড়ায় বিশেষজ্ঞ চিকিৎসাসেবা পৌঁছে দিতে দিনব্যাপী বিশাল ফ্রি মেডিকেল ক্যাম্প অনুষ্ঠিত হয়েছে। শুক্রবার (৬ নভেম্বর) সকালে লেলাং ইউনিয়নের গোপালঘাটা উচ্চ বিদ্যালয় প্রাঙ্গণে এ ক্যাম্পের উদ্বোধন করা হয়।

‘হাজী মোমেনা-আনোয়ার মুহুরী ফাউন্ডেশন’-এর উদ্যোগে আয়োজিত এ কর্মসূচিতে সার্বিক সহযোগিতা করে রোটারি ক্লাব অব চিটাগাং এরিস্টোক্র্যাট ও নানুপুর পপুলার ডায়াগনস্টিক সেন্টার।

নবজাতক ও শিশু রোগ বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক ডা. জয়নাল আবেদীন মুহুরীর সার্বিক তত্ত্বাবধানে ক্যাম্পে ১৬ সদস্যের একটি বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক দল অংশ নেয়। দিনব্যাপী এ কার্যক্রমে চক্ষু, চর্ম ও যৌনরোগ, মেডিসিন, হৃদরোগ, গাইনি, শিশু রোগ এবং হাড়ভাঙা ও বাত-ব্যথাসহ বিভিন্ন বিভাগে সহস্রাধিক রোগীকে বিনামূল্যে চিকিৎসাসেবা দেওয়া হয়।

চিকিৎসাসেবার পাশাপাশি অসহায় ও দুস্থ রোগীদের মধ্যে প্রায় তিন লাখ টাকার বিনামূল্যের ওষুধ ও চশমা বিতরণ করা হয়। এছাড়া প্রাথমিকভাবে বাছাই করা ২০ জন ছানি রোগীর চোখের বিনামূল্যে অস্ত্রোপচারের সম্পূর্ণ ব্যবস্থা করে দেয় আয়োজক কর্তৃপক্ষ। এতে চিকিৎসাবঞ্চিত দরিদ্র রোগীদের মধ্যে ব্যাপক উৎসাহ ও স্বস্তি দেখা যায়।

স্থানীয়রা জানান, গ্রামীণ জনপদে বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকের কাছে গিয়ে পরামর্শ নেওয়া অনেক দরিদ্র পরিবারের জন্য ব্যয়বহুল ও কষ্টসাধ্য। এ ধরনের উদ্যোগের ফলে এক জায়গায় বিভিন্ন রোগের বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকের পরামর্শ, প্রয়োজনীয় ওষুধ ও চশমা পাওয়ার সুযোগ তৈরি হয়েছে। বিশেষ করে বয়োবৃদ্ধ ও অসচ্ছল রোগীদের জন্য এটি ছিল অত্যন্ত উপকারী আয়োজন।

আয়োজকরা জানান, মানুষের কল্যাণে এ ধরনের মানবিক ও সেবামূলক কার্যক্রম ভবিষ্যতেও অব্যাহত রাখার পরিকল্পনা রয়েছে।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

আর্কাইভ

Please select a date!

নামাজের সময়সূচী

তারিখঃ ২৬শে জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিঃ
ফজর ০৪:৫০
জোহর ১১:৪৩
আসর ০৩:৪০
মাগরিব ০৫:১৬
ইশা ০৬:২৯
সূর্যোদয় : ০৬:০৮ সূর্যাস্ত : ০৫:১৬
অনলাইন জরিপ
ফলাফল
থার্টি-ফার্স্ট নাইটে তরুণদের জন্য প্রকাশ্যে পানি-টানি খাওয়ার বিরুদ্ধে আহ্বান। আপনার মন্তব্য দিন
হ্যা
100%
না
0%
মন্তব্য নেই
0%