ঢাকা বৃহস্পতিবার, ০৫ই নভেম্বর, ২০২৬খ্রিষ্টাব্দ ২০ই কার্তিক, ১৪৩২বঙ্গাব্দ ২৪শে জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিজরী
বৃহস্পতিবার, ০৫ই নভেম্বর, ২০২৬ইং ২০ই কার্তিক, ১৪৩২বাং

মাদক নিয়ন্ত্রণে কেন্দ্রীয় ডাটাবেজ তৈরি করতে হবে


মাদক নিয়ন্ত্রণে কেন্দ্রীয় ডাটাবেজ তৈরি করতে হবে

মাদক নিয়ন্ত্রণের ক্ষেত্রে শুধুমাত্র অভিযান পরিচালনা কিংবা বাহক ও খুচরা বিক্রেতাদের গ্রেপ্তার করলেই কাঙ্ক্ষিত সুফল পাওয়া সম্ভব নয়। মূল সরবরাহকারী, অর্থের জোগানদাতা এবং নেপথ্যের প্রভাবশালী চক্রকে আইনের আওতায় আনতে হবে। অপরাধীদের দ্রুত শনাক্ত করার জন্য একটি সমন্বিত কেন্দ্রীয় ডাটাবেজ তৈরি করার প্রয়োজনীয়তার কথা উল্লেখ করেছেন বাংলাদেশ রেলওয়ে পুলিশের প্রধান ও অতিরিক্ত আইজিপি (চার্জ) ব্যারিস্টার মো. জিল্লুর রহমান।

মঙ্গলবার ঢাকা ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটির সহযোগিতায় এবং ঢাকা ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটি সাংবাদিক সমিতির আয়োজনে ‘পলিসি ডায়ালগ অন এ ড্রাগ ফ্রি বাংলাদেশ: চ্যালেঞ্জেস অ্যান্ড অ্যাকশন’ শীর্ষক একটি নীতিসংলাপে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ মন্তব্য করেন।

ব্যারিস্টার জিল্লুর রহমান বলেন, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে সচেতনতা বৃদ্ধি, মাদকাসক্তদের চিকিৎসা এবং পুনর্বাসন নিশ্চিত করা অত্যন্ত জরুরি। এ জন্য রাষ্ট্র, প্রশাসন, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান, পরিবার এবং গণমাধ্যমের সমন্বিত উদ্যোগ প্রয়োজন।

আরও পড়ুন: টেকনাফে সন্ত্রাসীদের সঙ্গে গোলাগুলিতে সেনা সদস্য গুরুতর আহত

অনুষ্ঠানে রেলওয়ে পুলিশ প্রধান উল্লেখ করেন, মাদক কারবারিরা পরিবহনের বিভিন্ন মাধ্যমকে নিজেদের নেটওয়ার্ক বিস্তারের কাজে ব্যবহার করে। রেলপথও তাদের কাছে মাদক পরিবহনের একটি গুরুত্বপূর্ণ রুট হয়ে উঠতে পারে। বিশাল রেল নেটওয়ার্ক, প্রতিদিন বিপুলসংখ্যক যাত্রীর চলাচল এবং বিভিন্ন স্টেশনে মানুষের অবাধ যাতায়াতের কারণে নজরদারি একটি বড় চ্যালেঞ্জ। তিনি বলেন, "আমরা আমাদের সেরাটা দিয়ে এই বিষয়টি মোকাবিলা করে যাচ্ছি।"

তিনি আরও বলেন, মাদক নিয়ন্ত্রণে শুধুমাত্র বাহককে গ্রেপ্তার করলেই হবে না। মাদক চালান সংগ্রহকারী, অর্থায়নকারী এবং পুরো নেটওয়ার্ক পরিচালনাকারীদের খুঁজে বের করতে হবে। মাদক চোরাকারবারিদের জন্য একটি সেন্ট্রাল ডেটাবেজ তৈরি করা প্রয়োজন, যেখানে আইন প্রয়োগকারী সব সংস্থা একজন মাদক ব্যবসায়ীকে মুহূর্তেই চিহ্নিত করতে পারে। এ ক্ষেত্রে গোয়েন্দা নজরদারি, তথ্যপ্রযুক্তির ব্যবহার এবং বিভিন্ন আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর মধ্যে সমন্বয় বাড়ানো জরুরি।

ঢাকা ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটির উপাচার্য ড. মো. জাহিদুল ইসলাম বলেন, বিশ্ববিদ্যালয় শুধু ডিগ্রি দেওয়ার প্রতিষ্ঠান নয়, বরং শিক্ষার্থীদের নৈতিকতা ও সামাজিক দায়িত্ববোধ তৈরির জায়গাও। মাদক প্রতিরোধে বিশ্ববিদ্যালয় পর্যায়ে নিয়মিত সচেতনতামূলক কার্যক্রম, কাউন্সেলিং এবং মানসিক স্বাস্থ্যসেবা চালু করা প্রয়োজন।

তিনি বলেন, শিক্ষার্থীদের মধ্যে কেউ মাদকে জড়িয়ে পড়লে তাকে শুধুমাত্র শাস্তির আওতায় আনার চিন্তা না করে কেন সে মাদকের দিকে ঝুঁকছে, তা চিহ্নিত করতে হবে। শিক্ষকদের সঙ্গে শিক্ষার্থী ও অভিভাবকদের যোগাযোগ বাড়াতে হবে। ক্যাম্পাস এবং এর আশপাশে মাদক কেনাবেচার বিরুদ্ধে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনকে কার্যকর ভূমিকা রাখতে হবে।

আরও পড়ুন: বাংলাদেশ-যুক্তরাষ্ট্রের গভীর ও সম্মানজনক সম্পর্ক নতুন উচ্চতায়: মাহদী আমিন

ঢাকা মেইলের নির্বাহী সম্পাদক হারুন জামিল বলেন, মাদক নিয়ে সংবাদ প্রকাশের ক্ষেত্রে গণমাধ্যমের দায়িত্বশীল ভূমিকা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। মাদকাসক্ত ব্যক্তিকে শুধুমাত্র অপরাধী হিসেবে উপস্থাপন করলে তার সামাজিক পুনর্বাসনের পথ কঠিন হয়ে পড়ে। মাদকাসক্তি একটি চিকিৎসাযোগ্য সমস্যা। তাই মাদক কারবারি ও মাদকাসক্ত ব্যক্তির মধ্যে পার্থক্য করে সংবাদ পরিবেশন করা উচিত।

তিনি বলেন, মাদকের বিস্তার নিরসনে সবাইকে আলাদা আলাদা অ্যাম্বাসেডর হিসেবে কাজ করতে হবে। নতুন সরকার ক্ষমতায় আসার পর মাদকের বিরুদ্ধে যুদ্ধ শুরু করেছে, কিন্তু এই উদ্যোগ এখনো যথার্থ নয়।

তিনি আরও বলেন, "একটি মানুষ হতাশা থেকে মাদকের দিকে ঝুঁকে পড়েন। সত্যিকারের মূল্যবোধের অভাবেই মানুষ মাদকের দিকে পা বাড়ায়।" হতাশা কাটাতে হলে মূল্যবোধে ফিরতে হবে। ধর্মীয় অনুশাসন ছাড়া মাদকের বিস্তার রোধ করা সম্ভব নয়। পরকালীন জীবনের মহাসত্যের দিকে আমাদের যেতে হবে; মানুষকে আগে মানুষ হতে হবে; তবেই মাদকের ভয়াল থাবা থেকে আমাদের প্রজন্মকে রক্ষা করা যাবে।

নিরাপত্তা ও রাজনৈতিক বিশ্লেষক কর্নেল (অব.) কাজী শরীফ উদ্দিন বলেন, মাদক নিয়ন্ত্রণে আইন প্রয়োগের পাশাপাশি গোয়েন্দা সক্ষমতা বাড়ানো অত্যন্ত জরুরি। মাদক কারবারের সঙ্গে প্রভাবশালী মহলের সংশ্লিষ্টতার অভিযোগ থাকলে সেগুলো নিরপেক্ষভাবে তদন্ত করতে হবে। শুধুমাত্র দৃশ্যমান অপরাধীদের বিরুদ্ধে অভিযান পরিচালনা করে মাদকের বিস্তার বন্ধ করা যাবে না। মাদক সরবরাহের অর্থনৈতিক ও সাংগঠনিক কাঠামো ভেঙে দিতে হবে।

আরও পড়ুন: কপ৩১ সম্মেলনে অনুদানভিত্তিক সহায়তা চাইবে বাংলাদেশ: পরিবেশমন্ত্রী

তিনি বলেন, মাদক নিয়ন্ত্রণে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী, প্রশাসন এবং গোয়েন্দা সংস্থার মধ্যে তথ্য আদান-প্রদান বাড়াতে হবে। একই সঙ্গে রাজনৈতিক বা প্রশাসনিক পরিচয়ের কারণে কেউ যেন আইনের বাইরে থাকতে না পারে, সেটিও নিশ্চিত করতে হবে।

ঢাকা জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ের অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট জাবের মো. সোয়াইব বলেন, মাদক নিয়ন্ত্রণে জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে নিয়মিত অভিযান পরিচালনা করা হলেও শুধুমাত্র অভিযান দিয়ে দীর্ঘমেয়াদি সমাধান সম্ভব নয়। অভিযানের পাশাপাশি মাদকের উৎস, সরবরাহব্যবস্থা এবং সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের শনাক্ত করতে হবে।

তিনি বলেন, মাদক কারবারিদের বিরুদ্ধে সাধারণ মানুষ অনেক সময় তথ্য দিতে ভয় পান। কারণ, অভিযোগ করার পর তাদের নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ থাকে। এ ক্ষেত্রে অভিযোগকারীর পরিচয় গোপন রাখা, নিরাপত্তা নিশ্চিত করা এবং তথ্যদাতাদের আস্থায় নেওয়া জরুরি। এ বিষয়ে ঢাকা জেলা প্রশাসন ‘হ্যালো ডিসি’ নামে একটি নাগরিক সেবার প্ল্যাটফর্ম তৈরি করেছে।

রাজধানীর কন্টিনেন্টাল হসপিটালের মনোরোগ বিভাগের চিফ কনসালট্যান্ট ডা. এস এম কবির জুয়েল বলেন, মাদকাসক্ত ব্যক্তিকে সুস্থ জীবনে ফিরিয়ে আনতে শুধুমাত্র ওষুধ দিয়ে চিকিৎসা সম্পন্ন করা সম্ভব নয়। এর সঙ্গে কাউন্সেলিং, পারিবারিক সহযোগিতা এবং দীর্ঘমেয়াদি মনোসামাজিক চিকিৎসা প্রয়োজন।

আরও পড়ুন: প্রবাসীরা গ্রামের উন্নয়নে কাজ করতে চান: ব্রিটিশ কাউন্সিলর আব্দুল মালিক

তিনি বলেন, মাদকাসক্তির চিকিৎসায় রোগীর পাশাপাশি পরিবারকেও সম্পৃক্ত করতে হবে। চিকিৎসা শেষ হওয়ার পরও পুনরায় মাদকে জড়িয়ে পড়ার ঝুঁকি থাকে। এ জন্য নিয়মিত ফলোআপ, মানসিক স্বাস্থ্যসেবা এবং সামাজিক পুনর্বাসনের ব্যবস্থা থাকা জরুরি।

দেশে মাদকাসক্তদের চিকিৎসা ও পুনর্বাসনকেন্দ্রগুলোর মানোন্নয়নের ওপর গুরুত্ব দিয়ে তিনি বলেন, প্রশিক্ষিত চিকিৎসক, মনোরোগ বিশেষজ্ঞ ও কাউন্সেলরের সংখ্যা বাড়াতে হবে। চিকিৎসাকেন্দ্রগুলোর মান নিয়ন্ত্রণ এবং সেবার মান নিশ্চিত করাও প্রয়োজন। মাদকাসক্ত ব্যক্তিকে সামাজিকভাবে হেয় না করে চিকিৎসা ও স্বাভাবিক জীবনে ফেরার সুযোগ দিতে হবে।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

আশুলিয়ায় শতাধিক কারখানা বন্ধ রয়েছে: এসপি মোমিনুল ইসলাম

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

তালাশ বিডি ডেস্ক

বুধবার, ৪ই নভেম্বর, ২০২৬ ইং

০৩:১৪ এম


আশুলিয়ায় শতাধিক কারখানা বন্ধ রয়েছে: এসপি মোমিনুল ইসলাম

সাভার-আশুলিয়া শিল্প পুলিশ-১-এর এসপি মোহাম্মদ মোমিনুল ইসলাম ভূঁইয়া জানিয়েছেন, "আমার আওতাধীন আট শতাধিক কারখানার মধ্যে শতাধিক কারখানা বন্ধ রয়েছে।" নরসিংহপুর, নিশ্চিন্তপুর ও জিরাবো এলাকার কিছু কারখানা ছাড়া সাভারের অন্যান্য এলাকায় বেশিরভাগ কারখানায় কাজ চলছে। তবে কিছু কারখানায় সাময়িকভাবে উৎপাদন বন্ধ রয়েছে।

তিনি আরও জানান, পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে ঘটনাস্থলে বিপুলসংখ্যক পুলিশ এবং বর্ডার গার্ড বাংলাদেশের (বিজিবি) সদস্য মোতায়েন করা হয়েছে।

মঙ্গলবার দুপুরে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে এসপি মোহাম্মদ মোমিনুল ইসলাম ভূঁইয়া এসব তথ্য প্রদান করেন।

এরপর বিকালে তিনি যুগান্তরকে জানান, মঙ্গলবার বিকালে সাভারের হেমায়েতপুর ও তেঁতুলঝোড়া এলাকায় পোশাক শ্রমিকরা ঢাকা-আরিচা মহাসড়ক অবরোধ করেছিল। তবে শিল্প পুলিশের প্রচেষ্টায় দুই ঘণ্টার মধ্যে শ্রমিকদের মহাসড়ক থেকে সরিয়ে দেওয়া হয় এবং সন্ধ্যা সাড়ে ৬টা থেকে যানবাহন চলাচল স্বাভাবিক হয়।

এদিকে, সাভার-আশুলিয়া-ধামরাই শিল্পাঞ্চলে শ্রম অসন্তোষ দূর করা, গ্রেফতারকৃত নেতাদের মুক্তি এবং দ্রুত সম্মানজনক নতুন মজুরি কাঠামোর দাবিতে মঙ্গলবার বিকালে সাভার প্রেস ক্লাবে সংবাদ সম্মেলন করেছে শ্রমজীবী ঐক্য পরিষদ। এতে ১২টি শ্রমিক সংগঠনের প্রতিনিধিরা অংশগ্রহণ করেন।

বাংলাদেশ গার্মেন্টস অ্যান্ড শিল্প শ্রমিক ফেডারেশনের ভারপ্রাপ্ত আহ্বায়ক সুমাইয়া ইসলাম সম্মেলনে লিখিত বক্তব্য উপস্থাপন করেন। তিনি নতুন মজুরি বোর্ড গঠন করার জন্য সরকারের প্রতি ধন্যবাদ জানানোর পাশাপাশি নেতারা কারখানাগুলোতে কাজের পরিবেশ স্বাভাবিক রাখতে এবং উৎপাদনে মনোনিবেশ করতে শ্রমিকদের প্রতি আহ্বান জানান।

শ্রমিক নেতারা স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর সাম্প্রতিক বক্তব্যের বিষয়টি উল্লেখ করে বলেন, "কোনো অনাকাঙ্ক্ষিত নাশকতায় সাধারণ শ্রমিকরা জড়িত নন।" তাই অযথা নিরপরাধ শ্রমিকদের হয়রানি না করার জন্য প্রশাসন ও গোয়েন্দা সংস্থাগুলোর প্রতি জোর দাবি জানানো হয়।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

‘মোজো বিরাট CARবার’ ক্যাম্পেইনে বিজয়ীদের পুরস্কার প্রদান

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

বিনোদন ডেস্ক

বুধবার, ৪ই নভেম্বর, ২০২৬ ইং

০৩:১৫ এম


‘মোজো বিরাট CARবার’ ক্যাম্পেইনে বিজয়ীদের পুরস্কার প্রদান

বাংলাদেশের ১ নম্বর বেভারেজ ব্র্যান্ড মোজোর সর্ববৃহৎ কনজিউমার ক্যাম্পেইন ‘মোজো বিরাট CARবার’ ভোক্তাদের অকুণ্ঠ ভালোবাসা, আস্থা ও স্বতঃস্ফূর্ত অংশগ্রহণের মাধ্যমে সফলভাবে সম্পন্ন হয়েছে। ৩ নভেম্বর রাজধানীর ধানমণ্ডির রবীন্দ্র সরোবরে আয়োজিত বর্ণাঢ্য মেগা গিফট হ্যান্ডওভার সেরিমনির মাধ্যমে ক্যাম্পেইনের আনন্দ ও সাফল্য ভোক্তাদের সঙ্গে ভাগ করে নেওয়া হয়। অনুষ্ঠানে সৌভাগ্যবান বিজয়ীদের হাতে তুলে দেওয়া হয় ফ্যামিলি কার, একাধিক স্পোর্টস মোটরসাইকেল, স্মার্ট টিভি ও আইফোনসহ আকর্ষণীয় সব মেগা পুরস্কার।

অনুষ্ঠানে আকিজ ফুড অ্যান্ড বেভারেজ লিমিটেডের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা (সিইও) জনাব সৈয়দ জহুরুল আলম এবং প্রতিষ্ঠানের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন। বিজয়ীদের হাতে মেগা পুরস্কার তুলে দেওয়ার সময় ভোক্তাদের সঙ্গে মোজোর দীর্ঘদিনের ভালোবাসা, আস্থা ও সুদৃঢ় বন্ধনের এক আনন্দঘন মুহূর্ত উদযাপিত হয়।

সৈয়দ জহুরুল আলম অনুষ্ঠানে বলেন, “মোজোর প্রতিটি উদ্যোগের কেন্দ্রে রয়েছেন আমাদের সম্মানিত ভোক্তারা। ‘মোজো বিরাট CARবার’-এ তাঁদের অভূতপূর্ব সাড়া, স্বতঃস্ফূর্ত অংশগ্রহণ এবং ভালোবাসা আমাদের গভীরভাবে অনুপ্রাণিত করেছে। এই ক্যাম্পেইন শুধু পুরস্কার জেতার একটি আয়োজন নয়, বরং আমাদের ভোক্তাদের সঙ্গে গড়ে ওঠা আন্তরিক সম্পর্ক উদযাপনের একটি উপলক্ষ। ক্যাম্পেইনটিকে সফল করে তোলার জন্য আমরা প্রত্যেক ভোক্তার প্রতি আন্তরিক কৃতজ্ঞতা জানাই। তাদের এই ভালোবাসা ও আস্থা আমাদের সামনে এগিয়ে যাওয়ার প্রেরণা। আমরা ভবিষ্যতেও আরো বড়, আরো আনন্দময় ও ব্যতিক্রমী ক্যাম্পেইনের মাধ্যমে ভোক্তাদের জীবনে আনন্দের নতুন উপলক্ষ তৈরি করতে চাই। মোজোর সঙ্গে তাদের এই পথচলা আরও দীর্ঘ ও আনন্দময় হোক—এটাই আমাদের প্রত্যাশা।”

‘মোজো বিরাট CARবার’ ক্যাম্পেইনটি মোজো ও ক্লেমনের ১ লিটার এবং ২ লিটার পেট বোতলের মাধ্যমে পরিচালিত হয়। ক্যাম্পেইনে অংশগ্রহণের জন্য ভোক্তাদের বোতলের লেবেলে থাকা QR কোড স্ক্যান করে মাইক্রোসাইটে প্রবেশ করতে হয়েছে এবং বোতলের ক্যাপের নিচে থাকা ইউনিক কোড সাবমিট করতে হয়েছে। মেগা পুরস্কারের পাশাপাশি ক্যাম্পেইনে লক্ষ লক্ষ আকর্ষণীয় উপহার ছিল, যা ভোক্তাদের আনন্দকে আরও বহুগুণ বাড়িয়ে দিয়েছে।

মোজো তরুণদের উদ্দীপনা, প্রাণবন্ততা ও আধুনিক লাইফস্টাইলের সঙ্গে নিবিড়ভাবে সম্পৃক্ত। দীর্ঘদিন ধরে উদ্ভাবনী উদ্যোগ ও ব্যতিক্রমী আয়োজনের মাধ্যমে ভোক্তাদের সঙ্গে দৃঢ় সম্পর্ক গড়ে তুলছে। ব্র্যান্ডটির কাছে ভোক্তাদের প্রতিটি ভালোবাসা, প্রতিটি মুহূর্ত এবং প্রতিটি অভিজ্ঞতা বিশেষ গুরুত্ব বহন করে। ‘মোজো বিরাট CARবার’ সেই সম্পর্ককে আরো গভীর ও অর্থবহ করে তোলার একটি অনন্য প্রয়াস।

ভোক্তাদের ভালোবাসাকে শক্তি এবং তাদের আস্থাকে অনুপ্রেরণা হিসেবে ধারণ করে মোজো ভবিষ্যতেও নিয়ে আসবে আরো বড় আয়োজন, নতুন অভিজ্ঞতা ও আনন্দের অসংখ্য উপলক্ষ—যেখানে ব্র্যান্ডের সঙ্গে ভোক্তাদের সম্পর্ক হবে আরো নিবিড়, আরো আন্তরিক এবং আরো প্রাণবন্ত।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

গুলশানে উদ্বোধন হলো ‘গোল্ড কিনেন’-এর প্রথম এক্সপেরিয়েন্স সেন্টার

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

তালাশ বিডি ডেস্ক

বুধবার, ৪ই নভেম্বর, ২০২৬ ইং

০৩:১৬ এম


গুলশানে উদ্বোধন হলো ‘গোল্ড কিনেন’-এর প্রথম এক্সপেরিয়েন্স সেন্টার

রাজধানীর গুলশানে আনুষ্ঠানিকভাবে উদ্বোধন করা হয়েছে গোল্ড কিনেন-এর প্রথম এক্সপেরিয়েন্স সেন্টার। এই উদ্যোগের মাধ্যমে গ্রাহকরা সরাসরি গোল্ড বার ও কয়েন দেখতে, গোল্ড সঞ্চয় সম্পর্কে জানতে এবং তাৎক্ষণিকভাবে পণ্য ও ভাউচার ক্রয় করতে পারবেন। এটি বাংলাদেশের প্রথম ও ১ নম্বর গোল্ড সঞ্চয় অ্যাপ গোল্ড কিনেন-এর একটি গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ।

গুলশান এভিনিউতে, ‘এলিগ্যান্ট স্কয়ার’ ভবনের নিচতলায় (বাড়ি নং ৩/বি, রোড ১১১) অবস্থিত এই এক্সপেরিয়েন্স সেন্টারে রয়েছে গোল্ড কিনেন-এর সম্পূর্ণ ২২ ক্যারেট, হলমার্কড ও সার্টিফায়েড গোল্ড বার ও কয়েনের সংগ্রহ। এখানে ০.৫, ১, ৫ ও ১০ গ্রামের গোল্ড বার এবং ২ ও ৪ গ্রামের গোল্ড কয়েন পাওয়া যাবে। সব পণ্যই তাৎক্ষণিকভাবে ক্রয়ের জন্য উপলব্ধ।

এই এক্সপেরিয়েন্স সেন্টার গোল্ড কিনেন-এর অ্যাপভিত্তিক সেবার পাশাপাশি সরাসরি পণ্য দেখার ও জানার সুযোগ তৈরি করেছে। এখানে আগত গ্রাহকরা উপলব্ধ পণ্য দেখে ক্যাশ, কার্ড বা মোবাইল ওয়ালেটের মাধ্যমে নিজেদের পছন্দ অনুযায়ী গোল্ড কয়েন ও বার ক্রয় করতে পারবেন। এছাড়াও, গোল্ড কিনেন অ্যাপের মাধ্যমে কিভাবে গোল্ড সঞ্চয় করা যায় এবং প্রতিষ্ঠানটির অন্যান্য সেবা কিভাবে কাজ করে, সে সম্পর্কেও জানতে পারবেন। যারা ইতিমধ্যে অ্যাপে গোল্ড সঞ্চয় করছেন, তাদের জন্য এটি নিজেদের সঞ্চয়ের লক্ষ্যকে বাস্তবে দেখার সুযোগ। আর যারা প্রথমবার গোল্ড কিনেন সম্পর্কে জানতে চান, তারা ক্রয়ের সিদ্ধান্ত নেওয়ার আগে পণ্য ও সেবা সম্পর্কে ধারণা নিতে পারবেন।

ব্যক্তিগত সংগ্রহ, বিশেষ উপলক্ষ কিংবা করপোরেট উপহারের জন্য এই এক্সপেরিয়েন্স সেন্টার থেকে হলমার্কড সার্টিফায়েড গোল্ড বার ও কয়েন তাৎক্ষণিকভাবে ক্রয় করা যাবে। উদ্বোধনের সঙ্গে নতুনভাবে চালু হচ্ছে গোল্ড ভাউচার, যা সেন্টার থেকেই ক্রয় করা যাবে। গোল্ড উপহার দেওয়ার আরো একটি সুবিধাজনক উপায় হিসেবে এই ভাউচার ব্যবহার করা যাবে। প্রাপক গোল্ড কিনেন অ্যাপের মাধ্যমে ভাউচারটি রিডিম করতে পারবেন এবং রিডিম করার দিনের অফিশিয়াল বাজারমূল্য অনুযায়ী গোল্ডের পরিমাণ নির্ধারিত হবে।

প্রযুক্তির মাধ্যমে গোল্ড সঞ্চয়কে আরো সহজলভ্য করে তোলার লক্ষ্য নিয়ে কাজ করছে গোল্ড কিনেন। এই এক্সপেরিয়েন্স সেন্টার সেই লক্ষ্যকে আরো বিস্তৃত করেছে। এখানে আগত গ্রাহক যারা গোল্ড ক্রয় করতে চান, পণ্যের সংগ্রহ দেখতে চান, গোল্ড সঞ্চয় সম্পর্কে জানতে চান কিংবা গোল্ড কিনেন-এর সেবা সম্পর্কে আরো বুঝতে চান, সবার জন্যই এই এক্সপেরিয়েন্স সেন্টার একটি গুরুত্বপূর্ণ সংযোজন।

গোল্ড কিনেন-এর প্রতিষ্ঠাতারা বলেন, “আমাদের লক্ষ্য ছিল প্রযুক্তির মাধ্যমে গোল্ড ক্রয় ও সঞ্চয়কে মানুষের জন্য সহজ, নিরাপদ ও সুবিধাজনক করে তোলা। এই এক্সপেরিয়েন্স সেন্টারের মাধ্যমে গ্রাহকরা এখন আমাদের পণ্য সরাসরি দেখতে, জানতে এবং তাৎক্ষণিকভাবে ক্রয় করতে পারবেন। আমরা বিশ্বাস করি, এই উদ্যোগ গ্রাহকদের আস্থা আরও দৃঢ় করবে এবং তাদের গোল্ড সঞ্চয়ের যাত্রাকে আরও বাস্তব ও অনুপ্রেরণাদায়ক করে তুলবে।”

২০২২ সালে যাত্রা শুরু করা গোল্ড কিনেন বাংলাদেশের প্রথম ও ১ নম্বর গোল্ড সঞ্চয় অ্যাপ। এই অ্যাপের মাধ্যমে গ্রাহকরা সর্বনিম্ন ৫০০ টাকা থেকেই ২২ ক্যারেট, হলমার্কড ও সার্টিফায়েড গোল্ড ক্রয় ও সঞ্চয় শুরু করতে পারেন। বর্তমানে দেশজুড়ে গোল্ড কিনেন-এর নিবন্ধিত গ্রাহকের সংখ্যা ৫ লাখেরও বেশি। গ্রাহকদের গোল্ড বীমাকৃত, ব্যাংক-গ্রেড ভল্টে নিরাপদে সংরক্ষণ করা হয়। গ্রাহকরা চাইলে অ্যাপে সঞ্চিত গোল্ড যেকোনো সময়ে যেকোনো পরিমাণে বিক্রি করতে পারেন অথবা ঢাকা সিটি করপোরেশনের আওতাধীন এলাকায় হোম ডেলিভারি এবং দেশব্যাপী ৬৫০টিরও বেশি পিক-আপ পয়েন্ট থেকে গোল্ড বার বা কয়েন আকারে উত্তোলন করতে পারেন।

গোল্ড কিনেন-এর উদ্ভাবনী সেবা, সম্প্রতি Mastercard Presents 4th Bangladesh Fintech Awards 2026-এ দুটি স্বীকৃতি অর্জন করেছে। প্রতিষ্ঠানটি “Democratising Gold Saving: Technology-Enabled Financial Inclusion for Bangladesh” উদ্যোগের জন্য বিজয়ী নির্বাচিত হয়েছে, Fintech Innovation of the Year – Tech খাতে এবং “Making Gold Accessible: A New Path to Financial Inclusion” উদ্যোগের জন্য Honourable Mention, Fintech Innovation of the Year – Financial Inclusion খাতে সম্মাননা পেয়েছে। এর আগে প্রতিষ্ঠানটি Mastercard Presents 3rd Bangladesh Fintech Awards 2025-এ ‘Honourable Mention – Fintech Start-up of the Year’ এবং Bangladesh Startup Summit 2026-এ ‘Honourable Mention – Retail Start-up of the Year’ স্বীকৃতি অর্জন করে।

প্রযুক্তি, স্বচ্ছতা ও সুবিধাকে একত্র করে গোল্ড কিনেন দেশজুড়ে মানুষের জন্য গোল্ড ক্রয় ও সঞ্চয়ের অভিজ্ঞতাকে আরো সহজলভ্য করে তুলতে কাজ করছে।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

৪ জেলায় নতুন পুলিশ সুপার পদায়ন, দুজন বদলি

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

তালাশ বিডি ডেস্ক

বুধবার, ৪ই নভেম্বর, ২০২৬ ইং

০৩:১৬ এম


৪ জেলায় নতুন পুলিশ সুপার পদায়ন, দুজন বদলি

দেশের ৪ জেলায় নতুন পুলিশ সুপার (এসপি) হিসেবে চার কর্মকর্তাকে পদায়ন করেছে সরকার। একই সঙ্গে আরো দুজন পুলিশ সুপার পদমর্যাদার কর্মকর্তাকে বদলি করা হয়েছে।

মঙ্গলবার (৩ নভেম্বর) রাষ্ট্রপতির আদেশক্রমে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের পুলিশ-১ শাখা থেকে এ সংক্রান্ত একটি প্রজ্ঞাপন জারি করা হয়। প্রজ্ঞাপনে উপসচিব তৌছিফ আহমেদ সই করেছেন। জনস্বার্থে জারি করা এ আদেশ অবিলম্বে কার্যকর হবে।

প্রজ্ঞাপনে উল্লেখ করা হয়েছে, নীলফামারীর পুলিশ সুপার মো. ফরহাদ হোসেন খাঁনকে পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগে (সিআইডি) বদলি করা হয়েছে। মুন্সীগঞ্জের পুলিশ সুপার মো. মেনহাজুল আলমকে নীলফামারী জেলার পুলিশ সুপার হিসেবে নিয়োগ দেওয়া হয়েছে। বর্তমানে নেত্রকোনা জেলার পুলিশ সুপার হিসেবে দায়িত্ব পালনরত এসআরবির উপ-পরিচালক মো. বদরুদ্দোজাকে মুন্সীগঞ্জ জেলার পুলিশ সুপার হিসেবে বদলির আদেশ দেওয়া হয়েছে। জামালপুর জেলার পুলিশ সুপার ফারহানা ইয়াসমিনকে ডিএমপিতে বদলি করা হয়েছে। বরগুনা জেলার পুলিশ সুপার মো. কুদরত ই খুদাকে জামালপুর জেলায় নতুন পুলিশ সুপারের দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে।

এছাড়া এসআরবির পুলিশ সুপার কে এম এ মামুন খান চিশতীকে বরগুনা জেলার পুলিশ সুপারের দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

আর্কাইভ

Please select a date!

নামাজের সময়সূচী

তারিখঃ ২৪শে জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিঃ
ফজর ০৪:৪৯
জোহর ১১:৪৩
আসর ০৩:৪১
মাগরিব ০৫:১৭
ইশা ০৬:৩০
সূর্যোদয় : ০৬:০৬ সূর্যাস্ত : ০৫:১৭
অনলাইন জরিপ
ফলাফল
থার্টি-ফার্স্ট নাইটে তরুণদের জন্য প্রকাশ্যে পানি-টানি খাওয়ার বিরুদ্ধে আহ্বান। আপনার মন্তব্য দিন
হ্যা
100%
না
0%
মন্তব্য নেই
0%