ঢাকা সোমবার, ২৬শে অক্টোবর, ২০২৬খ্রিষ্টাব্দ ১০ই কার্তিক, ১৪৩৩বঙ্গাব্দ ১৫ই জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিজরী
সোমবার, ২৬শে অক্টোবর, ২০২৬ইং ১০ই কার্তিক, ১৪৩৩বাং

চট্টগ্রাম ওয়াসার ৯৪টি পানি এটিএম স্থাপনে চুক্তি


চট্টগ্রাম ওয়াসার ৯৪টি পানি এটিএম স্থাপনে চুক্তি

চট্টগ্রাম নগরীতে নিরাপদ পানি সরবরাহকে আরও সহজতর করতে নতুন করে ৯৪টি পানি এটিএম স্থাপনের উদ্যোগ গ্রহণ করেছে চট্টগ্রাম ওয়াসা। এই উদ্দেশ্যে ওয়াসার সঙ্গে ড্রিংকওয়েলের একটি সমঝোতা স্মারক স্বাক্ষরিত হয়েছে। এই উদ্যোগটি পাঁচ বছরের জন্য বাস্তবায়িত হবে।

রবিবার (১৩ সেপ্টেম্বর) চট্টগ্রাম ওয়াসা ভবনে এই সমঝোতা স্মারকটি স্বাক্ষরিত হয়। চট্টগ্রাম ওয়াসার ব্যবস্থাপনা পরিচালক প্রকৌশলী সেলিম মো. জাহাঙ্গীর আলম এবং ড্রিংকওয়েলের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা মিনহাজ চৌধুরীসহ সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন।

 

আরও পড়ুন: বকশীগঞ্জে গণঅধিকার পরিষদের প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীতে র‍্যালি ও আলোচনা সভা

চট্টগ্রাম ওয়াসা ও ড্রিংকওয়েলের মধ্যে স্বাক্ষরিত এই সমঝোতার অধীনে নগরীর বিভিন্ন স্থানে পর্যায়ক্রমে ৯৪টি পানি এটিএম স্থাপন করা হবে। বর্তমানে চট্টগ্রাম ওয়াসার আওতায় ছয়টি পানি এটিএম বিদ্যমান রয়েছে। নতুন ৯৪টি যুক্ত হলে নগরীতে মোট পানি এটিএমের সংখ্যা ১০০টিতে পৌঁছাবে।

চুক্তির আওতায় ড্রিংকওয়েল ওয়াসার সরবরাহকৃত পানির মান এবং প্রয়োজনীয় শোধনব্যবস্থা মূল্যায়ন করবে। প্রয়োজন অনুযায়ী অতিরিক্ত শোধনব্যবস্থার বিষয়টিও নির্ধারণ করা হবে।

পানি এটিএমগুলোতে পরিচয়ভিত্তিক কার্ড ব্যবস্থার মাধ্যমে পানি সরবরাহের প্রযুক্তি ব্যবহার করা হবে। প্রাথমিক পর্যায়ে এটিএম স্থাপনের জন্য প্রয়োজনীয় জায়গা প্রদান করবে চট্টগ্রাম ওয়াসা। অপরদিকে, এটিএম স্থাপনের জন্য প্রয়োজনীয় যন্ত্রপাতি এবং মূলধনি বিনিয়োগ করবে ড্রিংকওয়েল।

সমঝোতার শর্ত অনুযায়ী, পানি এটিএমের নকশা, স্থাপন, পরিচালনা ও রক্ষণাবেক্ষণের দায়িত্বও ড্রিংকওয়েলের উপর থাকবে। এর মাধ্যমে নগরবাসীর কাছে নিরাপদ ও মানসম্মত পানি সহজে পৌঁছে দেওয়ার পাশাপাশি আধুনিক পানি সংগ্রহের ব্যবস্থা গড়ে তোলার লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে।

আরও পড়ুন: সুজাপুরে ৭০ বছর ধরে নারীদের জন্য বউমেলা

অনুষ্ঠানে ড্রিংকওয়েল বাংলাদেশের সেবা প্রকৌশল বিভাগের প্রধান মো. আবদুস সাত্তার এবং চট্টগ্রাম ওয়াসার উপব্যবস্থাপনা পরিচালক (প্রকৌশল) প্রকৌশলী বিষ্ণু কুমার সরকারসহ অন্যান্য সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

নিবন্ধন পেল অনলাইন এডিটরস অ্যালায়েন্স

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

তালাশ বিডি ডেস্ক

রবিবার, ১৩ই সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ইং

০৮:৫০ পি.এম


নিবন্ধন পেল অনলাইন এডিটরস অ্যালায়েন্স

দেশের শীর্ষস্থানীয় মূলধারার গণমাধ্যমগুলোর অনলাইন ও ডিজিটাল বিভাগের প্রধানদের পেশাজীবী সংগঠন ‘অনলাইন এডিটরস অ্যালায়েন্স’ আনুষ্ঠানিকভাবে নিবন্ধন লাভ করেছে।

রোববার (১৩ সেপ্টেম্বর) রেজিস্ট্রার অব জয়েন্ট স্টক কোম্পানিজ অ্যান্ড ফার্মস (আরজেএসসি) থেকে সোসাইটিজ রেজিস্ট্রেশন অ্যাক্ট, ১৮৬০-এর আওতায় সংগঠনটিকে নিবন্ধন প্রদান করা হয়। সংগঠনটির নিবন্ধন নম্বর এস-১৫৩৪৩/২০২৬।

আইনি ও প্রাতিষ্ঠানিক প্রক্রিয়ার অংশ হিসেবে ‘অনলাইন এডিটরস সোসাইটি’ নামে নিবন্ধন সম্পন্ন হলেও, সংগঠনের অনুমোদিত নথিতে থাকা বিশেষ বিধান অনুযায়ী এটি পূর্বনির্ধারিত ও পরিচিত নাম ‘অনলাইন এডিটরস অ্যালায়েন্স’ নামেই কার্যক্রম পরিচালনা করবে।

সংগঠনের সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন, এই নিবন্ধন দেশের ডিজিটাল গণমাধ্যমের বিকাশে একটি গুরুত্বপূর্ণ মাইলফলক হিসেবে কাজ করবে। এর মাধ্যমে অনলাইন গণমাধ্যমের পেশাজীবীদের পেশাগত মানোন্নয়ন, অধিকার ও মর্যাদা সুরক্ষা এবং সাইবার সাংবাদিকতার নানা চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় আরও সুসংগঠিতভাবে কাজ করার সুযোগ সৃষ্টি হবে।

নিবন্ধন প্রসঙ্গে অনলাইন এডিটরস অ্যালায়েন্সের সভাপতি হাসান শরীফ মন্তব্য করেন, ‘অনলাইন এডিটরস অ্যালায়েন্সের এই নিবন্ধন আমাদের পেশাজীবী সংগঠনের প্রাতিষ্ঠানিক পথচলায় একটি গুরুত্বপূর্ণ মাইলফলক। আমরা ডিজিটাল সাংবাদিকতার মানোন্নয়ন এবং পেশাগত অধিকার ও মর্যাদা সুরক্ষায় ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করে যেতে চাই।’

সংগঠনের সাধারণ সম্পাদক মিজানুর রহমান সোহেল বলেন, ‘এই নিবন্ধনের মাধ্যমে অনলাইন এডিটরস অ্যালায়েন্স আরও সুসংগঠিত ও কার্যকরভাবে দায়িত্ব পালনের সুযোগ পেল। দেশের ডিজিটাল সাংবাদিকতার চ্যালেঞ্জ মোকাবিলা এবং পেশাজীবীদের স্বার্থে সংগঠনটি কার্যকর ভূমিকা রাখবে, এটাই আমাদের প্রত্যাশা।’

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

অস্ট্রেলিয়া বধের আত্মবিশ্বাস টি-টোয়েন্টিতেও শান্তর সহায় হবে: সুজন

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

স্পোর্টস ডেস্ক

রবিবার, ১৩ই সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ইং

০৮:৫১ পি.এম


অস্ট্রেলিয়া বধের আত্মবিশ্বাস টি-টোয়েন্টিতেও শান্তর সহায় হবে: সুজন

জাতীয় দলের টি-টোয়েন্টি জার্সিতে প্রায় দেড় বছর পর আবারও ফিরছেন নাজমুল হোসেন শান্ত। তিনি এশিয়ান গেমসের পূর্ণাঙ্গ শক্তির বাংলাদেশ দলে অন্তর্ভুক্ত হয়েছেন। শান্তর দলে প্রত্যাবর্তন নিয়ে সাবেক অধিনায়ক খালেদ মাহমুদ সুজন মন্তব্য করেছেন, "আমার মনে হয়, শান্ত যেবার বিপিএলে খুলনার হয়ে ১০০ করেছিল। তখন থেকেই শান্তর স্ট্রাইক রেট আর গড় খুব একটা খারাপ নয়।"

শান্তর সাম্প্রতিক পারফরম্যান্স তার দলে ফেরার পক্ষে সমর্থন জানিয়ে সুজন বলেন, "টি-টোয়েন্টি এমন একটা খেলা, যেখানে প্রতিদিন আপনি রান করতে পারবেন না। কিন্তু মূল কথা হলো, যেদিন খেলছেন, সেদিন দলকে জেতার লক্ষ্যে পৌঁছে দিতে পারছেন কি না। এটা খুব গুরুত্বপূর্ণ।"

শান্তর সামর্থ্য নিয়ে কোনো সন্দেহ নেই, তবে আস্থার প্রতিদান শান্তকেই দিতে হবে উল্লেখ করে তিনি আরো বলেন, "শান্ত এখন যথেষ্ট অভিজ্ঞ। এই ফরম্যাটে সে অবশ্যই ভালো খেলোয়াড়। বড় ছয় মারার বা দ্রুত রান করার সামর্থ্য তার আছে। ফিটনেসের দিক থেকেও সত্যি বলতে, শান্ত এখন দলের অন্যতম সেরা। সত্যি কথা বলতে গেলে, এটা ওকেও ডেলিভার করতে হবে।"

শান্তর নেতৃত্বে অস্ট্রেলিয়ার মাটিতে বাংলাদেশের ঐতিহাসিক টেস্ট জয় তার আত্মবিশ্বাস বাড়াতে সহায়ক হবে বলে মনে করেন সুজন। অস্ট্রেলিয়ার মতো দলের বিপক্ষে তাদের মাটিতে জয় পাওয়ার পর শান্তর পাশাপাশি পুরো দলের আত্মবিশ্বাসও বেড়েছে বলে তার বিশ্বাস।

"নেতা হিসেবে শান্ত টেস্ট জিতেছে। এটা অবশ্য অন্য ফরম্যাট, তারপরও আত্মবিশ্বাসের ব্যাপারটা তো থাকবেই। অস্ট্রেলিয়ার মতো বড় দলকে তাদের মাটিতে হারিয়ে এসেছে। দলে আত্মবিশ্বাস থাকবে। তাই শান্তকে নেওয়া ভালো সিদ্ধান্ত" বলে তিনি যোগ করেন।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

ঝটিকা মিছিলের আতঙ্ক: আগাম তথ্যে গোয়েন্দা ব্যর্থতা!

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

তালাশ বিডি ডেস্ক

রবিবার, ১৩ই সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ইং

০৮:৫১ পি.এম


ঝটিকা মিছিলের আতঙ্ক: আগাম তথ্যে গোয়েন্দা ব্যর্থতা!

চট্টগ্রাম ও কক্সবাজারে গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে পুলিশ চীনসহ বিভিন্ন দেশের নাগরিকদের গ্রেফতার করেছে। তবে, এসব বিদেশি নাগরিকদের বিরুদ্ধে দেশের আইন-শৃঙ্খলা অবনতি বা রাষ্ট্রের জন্য হুমকি হওয়ার কোনো অভিযোগ ছিল না।

আটককৃতদের মধ্যে অনেকেই ভিসার মেয়াদ শেষ হওয়ার পরও বসবাস করছিলেন। তাদের সাথে পাওয়া বিভিন্ন ধরনের ইলেকট্রনিক ডিভাইস থেকেও রাষ্ট্রের জন্য হুমকিস্বরূপ কিছু পাওয়া যায়নি পুলিশ ও গোয়েন্দাদের দ্বারা। কিন্তু, রাষ্ট্রের জন্য হুমকি এবং দেশের আইন-শৃঙ্খলা অবনতির চেষ্টায় মরিয়া পলাতক আওয়ামী লীগ, যুবলীগ ও নিষিদ্ধ ছাত্রলীগের নেতাকর্মীরা প্রকাশ্যে রাষ্ট্রের সবচেয়ে স্পর্শকাতর এলাকায় ঝটিকা মিছিল করছে।

ককটেল বা বোমা বিস্ফোরণ ঘটিয়ে আতঙ্ক সৃষ্টি করে পালিয়ে গেছে তারা। অথচ, এ বিষয়ে আগাম কোনো তথ্য ছিল না দেশের গোয়েন্দা সংস্থাগুলোর কাছে। গোয়েন্দা ব্যর্থতার কারণে রাজধানীর গুলশানসহ দেশের বিভিন্ন এলাকায় একের পর এক ঝটিকা মিছিল করছে পলাতক ফ্যাসিস্টদের দোসররা। ঢাকাসহ দেশের বিভিন্ন এলাকায় একাধিক ঝটিকা মিছিলের কারণে সাধারণ মানুষের মধ্যে আতঙ্ক সৃষ্টি হয়েছে, পাশাপাশি আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর মধ্যে নতুন করে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে, যদিও দেশের গোয়েন্দা সংস্থাগুলোর দায়িত্বশীল কর্মকর্তারা নিষ্ক্রিয়।

নির্দিষ্ট স্থান ও সময় সম্পর্কে সঠিক গোয়েন্দা তথ্য না পাওয়ার কারণে মিছিল শুরুর আগেই প্রতিরোধমূলক ব্যবস্থা নিতে ব্যর্থ হচ্ছে মাঠপর্যায়ের পুলিশ। পুলিশের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের সাথে গোয়েন্দা সংস্থার সমন্বয়হীনতা স্পষ্ট হয়ে উঠেছে। ঢাকা, গাজীপুর ও চট্টগ্রামে একযোগে নিষিদ্ধঘোষিত আওয়ামী লীগ ও এর অঙ্গসংগঠনের ঝটিকা মিছিল এবং পুলিশ ও গোয়েন্দা ব্যর্থতা নিয়ে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমসহ সর্বত্র আলোচনা-সমালোচনা হচ্ছে। সমালোচনা হচ্ছে খোদ সরকারের ভেতর থেকেও।

রোববার পুলিশের একাধিক কর্মকর্তার সাথে কথা বলে জানা গেছে, মিছিল হবে এরকম আগাম কোনো তথ্য ছিল না। সাধারণত এনএসআই ও এসবি থেকে এসব তথ্য জানানো হয়ে থাকে। এ ছাড়া সিআইডি, ডিএমপির নিজস্ব গোয়েন্দা ইউনিট এবং থানার সিভিল ইউনিটও আগাম গোয়েন্দা তথ্য সংগ্রহ করে থাকে। এর বাইরে ডিজিএফআইও নানা ধরনের তথ্য সংগ্রহ করে। আগাম তথ্যের ভিত্তিতেই মূলত র‌্যাব ও পুলিশ আগাম ব্যবস্থা নিয়ে থাকে। কিন্তু গুলশানে আওয়ামী লীগের এত বড় মিছিলের আগাম কোনো তথ্য ছিল না। ফলে পুলিশ তাৎক্ষণিক কোনো ব্যবস্থা নিতে পারেনি। পরবর্তী সময়ে মিছিলের ভিডিও ফুটেজ দেখে গুলশান ও এর আশপাশের এলাকা থেকে ৪৬ নেতাকর্মীকে গ্রেফতার করা হয়। তাদের সবাইকে এরই মধ্যে আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠানো হয়েছে।

অন্যদিকে, গোয়েন্দা সংস্থাগুলোর একাধিক কর্মকর্তাদের সাথে কথা বলে জানা যায়, সাধারণত লিখিত ও ম্যাসেজ আকারে সংস্থাগুলোর সদর দপ্তরে আগাম তথ্য পাঠানো হয়। দপ্তর প্রধানরা সেই তথ্য আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর প্রধানদের জানান। আর বাহিনী প্রধানরা সে অনুযায়ী আগাম ব্যবস্থা নিয়ে থাকেন। গুলশানের ঘটনায় তেমন কোনো আগাম তথ্য মাঠ থেকে যায়নি। কেন এমনটা হলো তা নিয়ে চুলচেরা বিশ্লেষণ চলছে। এরই মধ্যে কয়েক দফা বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়েছে সরকারের উচ্চ পর্যায়ে। সেখানে নানা বিষয় উঠে এলেও গোয়েন্দা ব্যর্থতার কোনো কারণ খুঁজে পাওয়া যায়নি। মাঠ পর্যায়ের গোয়েন্দারা জানিয়েছেন, তারা মিছিলের কোনো আগাম তথ্য পায়নি। তবে একটি বিষয় স্পষ্ট উঠে এসেছে যে, পরিকল্পনাটি হয়েছে গুলশানের বাইরে। বাইরে থেকে এসে তারা গুলশানে জড়ো হয়ে হঠাৎ করেই মিছিল করে পালিয়ে গেছে। যে কারণে মিছিলের আগে কোনো আগাম তথ্য পায়নি গোয়েন্দারা। এদিকে, মিছিলের ঘটনাটি নিছক গোয়েন্দা ব্যর্থতা, নাকি গোয়েন্দা সংস্থাগুলোর অবহেলা, তা নিয়েও রাজনৈতিক অঙ্গনে চলছে নানামুখী আলোচনা। মাঠ পর্যায়ের গোয়েন্দারা ইচ্ছা করেই এরকম তথ্য সংগ্রহ করেনি, নাকি তথ্য থাকার পরও ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের অবহিত করেনি- তা নিয়েও পুলিশের শীর্ষ পর্যায়ে চলছে বিশদ আলোচনা।

আওয়ামী লীগ উঁকি মারছে—এমন মন্তব্য করে গোয়েন্দা সংস্থাগুলোর ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন বিএনপির ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী। তিনি প্রশ্ন করেন, গোয়েন্দারা কোথায়? তিনি বলেন, নিষিদ্ধ রাজনৈতিক দলটি হঠাৎ করে প্রকাশ্যে মিছিল করার চেষ্টা করছে। এত মানুষ কীভাবে জড়ো হলো, গোয়েন্দা সংস্থাগুলো তা জানত না কি না, সেই প্রশ্নের উত্তর প্রয়োজন। পুলিশ প্রশাসন কী করছিল, সেটিও খতিয়ে দেখা দরকার বলে মন্তব্য করেন তিনি। আওয়ামী লীগের রাজনৈতিক কর্মকাণ্ডের সমালোচনা করে রিজভী বলেন, আওয়ামী লীগ একটি রাজনৈতিক দল হলেও দলটির কর্মকাণ্ডের বিচার হওয়া প্রয়োজন। তার অভিযোগ, আন্দোলনের সময় প্রাথমিক, মাধ্যমিক ও বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী, রিকশাচালক, শ্রমিকসহ সাধারণ মানুষকে হত্যা করা হয়েছে। তিনি বলেন, আওয়ামী লীগ যদি আগের সেই ‘জিঘাংসু’ চেহারা নিয়েই ফিরে আসতে চায়, তাহলে দেশের পরিণতি কী হবে, তা নিয়ে গণতন্ত্রকামী মানুষের শঙ্কিত হওয়ার কারণ রয়েছে।

সূত্র জানিয়েছে, রাজধানীসহ দেশের বিভিন্ন স্থানে আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীরা মিছিল বের করার পর থেকেই পুলিশের ওপর সরকারের উচ্চপর্যায় থেকে তীব্র প্রশাসনিক চাপ তৈরি হয়েছে। মাঠপর্যায়ে পর্যাপ্ত আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী থাকার পরও কীভাবে নিষিদ্ধ সংগঠনের নেতাকর্মীরা এভাবে একযোগে মিছিল করতে পারল, সে বিষয়ে কড়া জবাব চাওয়া হয়েছে। তবে অভ্যন্তরীণ সূত্রের দাবি, এই সামগ্রিক পরিস্থিতির মূল কারণ গোয়েন্দা তথ্যের চরম ঘাটতি। বিষয়টি নিয়ে বর্তমানে পুলিশ বাহিনীর ভেতরে ব্যাপক আলোচনা-সমালোচনা চলছে। ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের চাপের মুখে মাঠপর্যায়ের কর্মকর্তারাও গোয়েন্দা তথ্যের ঘাটতির বিষয়টি স্পষ্টভাবে তুলে ধরছেন। তাদের মতে, আগে থেকে সুনির্দিষ্ট ও সময়োপযোগী তথ্য পাওয়া গেলে সংশ্লিষ্ট এলাকায় অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন ও নজরদারি বাড়িয়ে মিছিল শুরু হওয়ার আগেই তা পণ্ড করে দেওয়া সম্ভব হতো।

গোয়েন্দা প্রতিবেদনে উঠে এসেছে, ক্ষমতাচ্যুতির পর ঝটিকা মিছিল এবং বিদেশে অবস্থানরত নেতাদের সঙ্গে যোগাযোগের মাধ্যমে কর্মীদের সক্রিয় রাখার নতুন কৌশল নিয়েছে দলটি। ডিসেম্বরকে সামনে রেখে বড় ধরনের বিশৃঙ্খলা বা নাশকতার পরিকল্পনা রয়েছে কি না, তা রুখতে পুলিশ বাহিনীকে হাই-অ্যালার্টে রেখে গোয়েন্দা সমন্বয় বাড়াতে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। নাম প্রকাশ না করার শর্তে পুলিশের এক ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা জানান, কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগের ঝটিকা মিছিল ঠেকাতে মাঠপর্যায়ের পুলিশকে আগেই কঠোর সতর্কবার্তাসহ প্রয়োজনীয় নির্দেশনা দেওয়া হয়েছিল। তবে কোথায়, কখন এবং কারা সংগঠিত হচ্ছে— এ জাতীয় সুনির্দিষ্ট গোয়েন্দা তথ্য সময়মতো না পাওয়ায় অনেক ক্ষেত্রে আগে থেকে প্রতিরোধমূলক ব্যবস্থা নেওয়া যায়নি। মিছিল শুরু হওয়ার পর তাৎক্ষণিকভাবে ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনার চেষ্টা করা হয়েছে।

পুলিশের আরেক ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা বলেন, দেশের বিভিন্ন এলাকায় একই সময়ে এ ধরনের ঝটিকা কর্মসূচি পালন নিঃসন্দেহে বড় উদ্বেগের বিষয়। পুলিশের নিজস্ব সোর্সের মাধ্যমে সব স্থানের আগাম গতিবিধি জানা সম্ভব নয়, তাই গোয়েন্দা সংস্থাগুলোর কাছ থেকে মাঠপর্যায়ে সময়মতো তথ্য পাওয়া অত্যন্ত জরুরি। শুক্রবারের ঘটনাগুলো নিয়ে ইতোমধ্যে পুলিশে অভ্যন্তরীণ পর্যালোচনা শুরু হয়েছে এবং ঠিক কোথায় তথ্যের ঘাটতি ছিল তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে।

আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর মতে, গত কয়েক মাসে রাজধানীসহ চট্টগ্রাম ও গাজীপুরে জড়ো হয়ে দলীয় স্লোগান ও সরকারবিরোধী বক্তব্য দিয়ে দ্রুত সটকে পড়ার প্রবণতা বেড়েছে। কোথাও পুলিশ তাৎক্ষণিক ধাওয়া দিয়ে মিছিলকারীদের ছত্রভঙ্গ করেছে, আবার কোথাও ঝটিকা অভিযান চালিয়ে গ্রেপ্তার নিশ্চিত করেছে। পুলিশ সদর দপ্তরের মিডিয়া অ্যান্ড পাবলিক রিলেশন্স উইংয়ের এআইজি এ. এইচ. এম. শাহাদাত হোসাইন ইনকিলাবকে বলেন, নিষিদ্ধ ঘোষিত কোনো দলের কার্যক্রম সম্পর্কে গোয়েন্দা তথ্য সংগ্রহ ও নজরদারি অব্যাহত রয়েছে। কোনো ঘটনায় গোয়েন্দা ঘাটতি থাকলে তা পর্যালোচনা করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে এবং ভবিষ্যতে এ ধরনের ঘটনা প্রতিরোধে নজরদারি আরও জোরদার করা হয়েছে।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

বরিশালের বাবুগঞ্জ ডিগ্রি কলেজে মাদকবিরোধী ক্যাম্পেইন অনুষ্ঠিত

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

তালাশ বিডি ডেস্ক

রবিবার, ১৩ই সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ইং

০৮:৫১ পি.এম


বরিশালের বাবুগঞ্জ ডিগ্রি কলেজে মাদকবিরোধী ক্যাম্পেইন অনুষ্ঠিত

মাদককে বলি না, শিক্ষা ও সৃষ্টিশীলতায় এগিয়ে চলি সর্বদা’ এই প্রতিপাদ্যকে সামনে রেখে বরিশালের বাবুগঞ্জে একটি মাদকবিরোধী ক্যাম্পেইন ও সচেতনতামূলক আলোচনা সভা আয়োজন করা হয়েছে। রবিবার (১৩ সেপ্টেম্বর) সকাল ১১টায় বাবুগঞ্জ ডিগ্রি কলেজের হলরুমে এই সভাটি অনুষ্ঠিত হয়।

সভায় সভাপতিত্ব করেন কলেজের অধ্যক্ষ আ.ন.ম. আ. হালিম। প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বাবুগঞ্জ উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) কামরুন্নাহার তামান্না। সভায় আরও উপস্থিত ছিলেন বাবুগঞ্জ থানার উপপরিদর্শক (এসআই) মো. মাসুদ রানা, বাবুগঞ্জ উপজেলা বিএনপির সিনিয়র আহ্বায়ক মো. শামসুল আলম ফকির, কলেজের অভিভাবক সদস্য মো. হারুন অর রশীদ, সাবেক ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ মো. শাহে আলম এবং সহকারী অধ্যাপক মো. গোলাম হোসেন।

আলোচনা সভায় বক্তারা উল্লেখ করেন, মাদক একটি ভয়াবহ সামাজিক ব্যাধি। এর প্রভাবে একজন মানুষের স্বাভাবিক জীবন বিপর্যস্ত হওয়ার পাশাপাশি পরিবার ও সমাজে নেতিবাচক প্রভাব পড়ে। তরুণ ও শিক্ষার্থীদের মাদকের ক্ষতিকর দিক সম্পর্কে সচেতন করতে পরিবার, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান, আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীসহ সমাজের সকল স্তরের মানুষের সম্মিলিত প্রচেষ্টা প্রয়োজন।

বক্তারা আরও বলেন, শিক্ষার্থীদের মাদক থেকে দূরে রাখতে পড়াশোনার পাশাপাশি খেলাধুলা, সাংস্কৃতিক কর্মকাণ্ড ও সৃষ্টিশীল কার্যক্রমে সম্পৃক্ত করতে হবে। একই সঙ্গে মাদক ব্যবসা ও সেবনের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা জোরদার করার উপর গুরুত্বারোপ করেন তাঁরা।

প্রধান অতিথির বক্তব্যে সহকারী কমিশনার (ভূমি) কামরুন্নাহার তামান্না বলেন, মাদক ব্যক্তি, পরিবার ও সমাজের জন্য মারাত্মক ক্ষতিকর। তরুণ প্রজন্মকে মাদকের ভয়াবহতা থেকে রক্ষা করতে আইন প্রয়োগের পাশাপাশি পরিবার ও শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানভিত্তিক সচেতনতাও অপরিহার্য। শিক্ষার্থীদের নিজেদের ভবিষ্যৎ নিয়ে সচেতন হওয়ার পাশাপাশি মাদকের বিরুদ্ধে সামাজিক প্রতিরোধ গড়ে তোলার আহ্বান জানান তিনি।

বাবুগঞ্জ থানার এসআই মো. মাসুদ রানা বলেন, মাদক অনেক ক্ষেত্রে বিভিন্ন অপরাধের সঙ্গে সম্পর্কিত। মাদকের বিস্তার রোধে পুলিশ নিয়মিত অভিযান পরিচালনা করছে। মাদক সম্পর্কে কোনো তথ্য পেলে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীকে জানানোর পাশাপাশি শিক্ষার্থীদের মাদক থেকে সম্পূর্ণ দূরে থাকার আহ্বান জানান তিনি।

কলেজের অধ্যক্ষ আ.ন.ম. আ. হালিম বলেন, শিক্ষার্থীদের মাদকমুক্ত রাখতে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের পক্ষ থেকে সচেতনতামূলক কার্যক্রম অব্যাহত থাকবে। শিক্ষার্থীদের নৈতিক মূল্যবোধসম্পন্ন ও দায়িত্বশীল নাগরিক হিসেবে গড়ে তুলতে শিক্ষক, অভিভাবক ও সমাজের সবাইকে একসঙ্গে কাজ করতে হবে।

সভায় শিক্ষার্থীদের মাদকের ক্ষতিকর দিক সম্পর্কে সচেতন করা হয় এবং মাদকমুক্ত সমাজ গঠনে সবাইকে নিজ নিজ অবস্থান থেকে ভূমিকা রাখার আহ্বান জানানো হয়।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

আর্কাইভ

Please select a date!

নামাজের সময়সূচী

তারিখঃ ১৫ই জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিঃ
ফজর ০৪:৪৫
জোহর ১১:৪৩
আসর ০৩:৪৭
মাগরিব ০৫:২৪
ইশা ০৬:৩৫
সূর্যোদয় : ০৬:০১ সূর্যাস্ত : ০৫:২৪
অনলাইন জরিপ
ফলাফল
থার্টি-ফার্স্ট নাইটে তরুণদের জন্য প্রকাশ্যে পানি-টানি খাওয়ার বিরুদ্ধে আহ্বান। আপনার মন্তব্য দিন
হ্যা
100%
না
0%
মন্তব্য নেই
0%