ঢাকা রবিবার, ০৮ই নভেম্বর, ২০২৬খ্রিষ্টাব্দ ২৩শে কার্তিক, ১৪৩২বঙ্গাব্দ ২৭শে জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিজরী
রবিবার, ০৮ই নভেম্বর, ২০২৬ইং ২৩শে কার্তিক, ১৪৩২বাং

সোনাদিয়া গভীর সমুদ্রবন্দর না হওয়ায় বাংলাদেশ কৌশলগত সম্ভাবনা হারিয়েছে


সোনাদিয়া গভীর সমুদ্রবন্দর না হওয়ায় বাংলাদেশ কৌশলগত সম্ভাবনা হারিয়েছে

সোনাদিয়ায় আন্তর্জাতিক মানের গভীর সমুদ্রবন্দর নির্মাণের জন্য ১৮ মিটার গভীরতার প্রাকৃতিক সুযোগ থাকা সত্ত্বেও মাতারবাড়ী বন্দরকে ১৩ দশমিক ৪ মিটার ড্রাফটের বিকল্প হিসেবে গ্রহণ করায় বাংলাদেশ একটি বড় কৌশলগত সম্ভাবনা হারিয়েছে বলে মন্তব্য করেছেন জামায়াতে ইসলামীর সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল হামিদুর রহমান আযাদ। তিনি বলেন, "দুধের স্বাদ ঘোলে মেটানোর মতো বাংলাদেশকে এখন মাতারবাড়ী বন্দর নিয়ে সন্তুষ্ট থাকতে হচ্ছে।"

রোববার রাজধানীর জাতীয় প্রেস ক্লাবের কাজী নজরুল ইসলাম মিলনায়তনে ‘নেক্সাস ডিফেন্স অ্যান্ড জাস্টিস’ আয়োজিত ‘মাতারবাড়ী সমুদ্রবন্দর: ভূ-রাজনৈতিক ও কৌশলগত পর্যালোচনা’ শীর্ষক গোলটেবিল সংলাপে তিনি এসব কথা বলেন।

হামিদুর রহমান আযাদ আরও বলেন, ২০০৯ সালে কক্সবাজারের সোনাদিয়ায় গভীর সমুদ্রবন্দর নির্মাণের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছিল। সেখানে ১৮ মিটার প্রাকৃতিক গভীরতা থাকায় বড় মাদার ভেসেল সরাসরি ভেড়ানোর সুযোগ ছিল। তিনি উল্লেখ করেন, বন্দরটি নির্মিত হলে বাংলাদেশ আঞ্চলিক বাণিজ্যের একটি আন্তর্জাতিক কেন্দ্রে পরিণত হতে পারত।

আরও পড়ুন: বিচারকের বিরুদ্ধে প্রেস ব্রিফ: ব্যারিস্টার সারোয়ারকে ২৬ নভেম্বর হাইকোর্টে তলব

২০১৪ সালে চীন এ প্রকল্পে অর্থায়নে প্রস্তুত থাকলেও আঞ্চলিক ও ভূরাজনৈতিক পরাশক্তির চাপের কারণে তৎকালীন সরকার প্রকল্পটি বাস্তবায়ন থেকে সরে আসে বলে দাবি করেন তিনি।

তিনি বলেন, সোনাদিয়া প্রকল্প বাতিলের ক্ষেত্রে পরিবেশ, ইকোট্যুরিজম, কচ্ছপ ও পাখির আবাসস্থল এবং পলি জমার বিষয়টি সামনে আনা হয়েছিল। তবে এসব যুক্তির আড়ালে মূলত আন্তর্জাতিক ভূরাজনীতি কাজ করেছে। প্রকল্পটি বাস্তবায়িত হলে বাংলাদেশের কৌশলগত অবস্থান ও আঞ্চলিক বাণিজ্যে গুরুত্বপূর্ণ পরিবর্তন আসতে পারত।

মাতারবাড়ী বন্দর প্রসঙ্গে তিনি বলেন, শুরুতে এটি গভীর সমুদ্রবন্দর হিসেবে পরিকল্পিত ছিল না। মূলত ১২০০ মেগাওয়াটের কয়লাভিত্তিক বিদ্যুৎকেন্দ্রের জন্য কয়লা আমদানির জেটি ও অবকাঠামো নির্মাণের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছিল। পরবর্তী সময়ে সোনাদিয়া প্রকল্প বাদ পড়ার পর মাতারবাড়ীকে গভীর সমুদ্রবন্দরে রূপ দেওয়ার উদ্যোগ নেওয়া হয়।

তিনি আরও বলেন, সোনাদিয়ার ১৮ মিটার প্রাকৃতিক গভীরতার বিপরীতে মাতারবাড়ী বন্দরের ড্রাফট ১৩ দশমিক ৪ মিটার। ফলে পলি অপসারণ ও নিয়মিত ড্রেজিংয়ের ওপর এ বন্দরের সক্ষমতা নির্ভরশীল থাকবে। তিনি বলেন, বন্দর না হওয়ার চেয়ে মাতারবাড়ী বন্দর হওয়া অবশ্যই ভালো, কিন্তু সোনাদিয়ায় যে সম্ভাবনা ছিল, মাতারবাড়ী দিয়ে তা পূরণ হবে না। এটি বাংলাদেশের বড় ধরনের কৌশলগত সুযোগ হারানোর উদাহরণ।

আরও পড়ুন: সাভারে শ্রমিক আন্দোলনে উসকানি ও অর্থায়নের অভিযোগে যুবলীগ নেতা সোহেল গ্রেপ্তার

জাতীয় স্বার্থের পরিবর্তে দলীয় রাজনীতি ও বিদেশি শক্তির স্বার্থকে প্রাধান্য দেওয়ার কারণে দেশের ভূ-অর্থনৈতিক ও প্রতিরক্ষাসংক্রান্ত বিষয়ে স্বাধীন সিদ্ধান্ত গ্রহণের সক্ষমতা ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে বলেও মন্তব্য করেন এই জামায়াত নেতা।

নেক্সাস ডিফেন্স অ্যান্ড জাস্টিসের সভাপতি ব্রিগেডিয়ার জেনারেল (অব.) মোহাম্মদ হাসান নাসিরের সভাপতিত্বে গোলটেবিল সংলাপে আরও বক্তব্য দেন সাবেক মেজর জেনারেল আমসা আমিন, বাংলাদেশ লেবার পার্টির চেয়ারম্যান মুস্তাফিজুর রহমান ইরান, মানবাধিকারকর্মী, গবেষক ও রাজনৈতিক বিশ্লেষক রুবি আমাতুল্লাহ, ড. সিব্বির মাহমুদ এবং ঢাকা সাংবাদিক ইউনিয়নের (ডিইউজে) সভাপতি শহিদুল ইসলাম প্রমুখ।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

বৈশ্বিক প্রতিযোগিতায় টিকে থাকতে গবেষণায় গুরুত্ব দিতে হবে: শিক্ষামন্ত্রী

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

তালাশ বিডি ডেস্ক

রবিবার, ৮ই নভেম্বর, ২০২৬ ইং

০৪:৫৬ পি.এম


বৈশ্বিক প্রতিযোগিতায় টিকে থাকতে গবেষণায় গুরুত্ব দিতে হবে: শিক্ষামন্ত্রী

শিক্ষামন্ত্রী আ ন ম এহছানুল হক মিলন শিক্ষক সমাজকে উন্নতমানের গবেষণায় গুরুত্ব দেওয়ার জন্য আহ্বান জানিয়েছেন। তিনি উল্লেখ করেন, "আমরা এখন গ্লোবাল ভিলেজে বসবাস করি।" আন্তর্জাতিক বিভিন্ন বিষয়ে প্রতিযোগিতার প্রেক্ষাপটে তিনি বলেন, "এই বৈশ্বিক প্রতিযোগিতায় টিকে থাকতে হলে গবেষণায় আরো গুরুত্ব দিতে হবে।"

রবিবার (৮ নভেম্বর) বগুড়ায় পল্লী উন্নয়ন একাডেমিতে ৪৫তম বিসিএস (সাধারণ শিক্ষা) ক্যাডার কর্মকর্তাদের ওরিয়েন্টেশন প্রশিক্ষণ কোর্সের সমাপনী ও সনদ বিতরণ অনুষ্ঠানে অনলাইনে যুক্ত হয়ে শিক্ষামন্ত্রী এসব কথা বলেন।

শিক্ষামন্ত্রী আরও বলেন, "আগামী দিনের শিক্ষাব্যবস্থা একটি বৈশ্বিক চ্যালেঞ্জ।" তিনি উল্লেখ করেন যে, এই চ্যালেঞ্জ মোকাবেলা করতে হবে। এ জন্য শিক্ষাব্যবস্থায় আর্টিফিশিয়াল ইন্টেলিজেন্সের (এআই) ব্যবহার বৃদ্ধি করা আবশ্যক। তিনি সতর্ক করে দেন যে, এআই-এর যেন অপব্যবহার না হয়, সেদিকেও সজাগ থাকতে হবে।

তিনি বলেন, সরকার শিক্ষাব্যবস্থার উন্নয়নে শিক্ষাকে আনন্দময় করে তুলতে কাজ করছে। তাই শিক্ষকদেরও আনন্দময় পরিবেশে পাঠদান করতে হবে। শিক্ষকদের প্রশিক্ষণ কারিকুলামকে যুগোপযোগী করে তুলতে এআই ও তথ্য-প্রযুক্তির ব্যবহার বাড়ানোর আহ্বান জানান তিনি।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

গোবিপ্রবির শিক্ষার্থীরা অটোচালকদের খামখেয়ালিপনায় ভোগান্তিতে

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

তালাশ বিডি ডেস্ক

রবিবার, ৮ই নভেম্বর, ২০২৬ ইং

০৫:০১ পি.এম


গোবিপ্রবির শিক্ষার্থীরা অটোচালকদের খামখেয়ালিপনায় ভোগান্তিতে

গোপালগঞ্জ বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ে (গোবিপ্রবি) যাতায়াতের অটোরিকশার ভাড়া নিয়ে শিক্ষার্থীরা ভোগান্তির শিকার হচ্ছেন। নির্দিষ্ট ভাড়ার তালিকা না থাকার কারণে চালকদের বিরুদ্ধে ইচ্ছেমতো ভাড়া আদায় এবং শিক্ষার্থীদের সঙ্গে দুর্ব্যবহারের অভিযোগ উঠেছে। বিশেষ করে সন্ধ্যা ও রাতে একই গন্তব্যে যেতে দ্বিগুণ বা তারও বেশি ভাড়া দাবি করার অভিযোগ তাদের রয়েছে।

পাচুরিয়া ব্রিজ ভেঙে যাওয়ার পর শিক্ষার্থীদের ভোগান্তি আরও বেড়েছে। আগে ঘণ্টাভিত্তিক বাস চলাচলের কারণে যাতায়াতে কিছুটা স্বস্তি ছিল। বর্তমানে ক্যাম্পাস থেকে আনসার মাঠ এবং ঘোনাপাড়া হয়ে পাচুরিয়া পর্যন্ত বাস চলাচল করলেও আগের মতো ঘণ্টাভিত্তিক সেবা নেই। ফলে শিক্ষার্থীদের দীর্ঘ সময় অপেক্ষা করতে হচ্ছে। অনেকটা বাধ্য হয়েই যাতায়াতের জন্য অটোরিকশার ওপর নির্ভর করতে হচ্ছে তাদের।

বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রায় ২০ শতাংশ শিক্ষার্থীর আবাসিক সুবিধা থাকলেও বাকি ৮০ শতাংশ শিক্ষার্থীকে মেস বা ভাড়া বাসায় থাকতে হয়। ক্লাস, টিউশনি ও ব্যক্তিগত প্রয়োজনে প্রতিদিনই তাদের ক্যাম্পাসে আসা-যাওয়া করতে হয়। শিক্ষার্থীদের অভিযোগ, একই গন্তব্যে যেতে বিভিন্ন চালক বিভিন্ন ভাড়া দাবি করেন। বিশ্ববিদ্যালয় থেকে গোবরা, নিলারমাঠ ও সোনাকুড় এলাকায় যেতে প্রচলিত ভাড়া জনপ্রতি ৫ টাকা হলেও কোনো কোনো চালক ১০ টাকা দাবি করেন। এমনকি বিশ্ববিদ্যালয় থেকে শহরে যাওয়ার সময় ১০ টাকা নেওয়া হলেও ফেরার পথে একই ভাড়া দিতে চান না চালকদের কেউ কেউ। এসব এলাকায় যাতায়াতকারী শিক্ষার্থীদের অটোতে উঠতে না দেওয়ার অভিযোগও রয়েছে। নির্দিষ্ট ভাড়ার তালিকা না থাকায় এ নিয়ে প্রায়ই চালকদের সঙ্গে কথা-কাটাকাটি হয়। বিশেষ করে রাতে নজরদারি না থাকায় অতিরিক্ত ভাড়া আদায়ের প্রবণতা আরও বেড়ে যায় বলে অভিযোগ শিক্ষার্থীদের।

অটোরিকশার ভাড়া ও চালকদের আচরণ নিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমেও বিভিন্ন সময় ক্ষোভ প্রকাশ করছেন শিক্ষার্থীরা। বিশেষ করে নারী শিক্ষার্থীরা যাতায়াতের সময় অতিরিক্ত ভাড়া দাবি এবং চালকদের দুর্ব্যবহারের শিকার হওয়ার অভিজ্ঞতা তুলে ধরছেন।

সিভিল ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের ২০২৪-২৫ শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থী তাসিন জায়েফ বলেন, ‘সব সময় বাসের সময়সূচির সঙ্গে আমাদের যাতায়াতের সময় মেলে না। ফলে বাধ্য হয়েই অটোতে উঠতে হয়। কিন্তু অটোতে উঠলেই ভাড়া নিয়ে ভোগান্তিতে পড়তে হয়। নিলারমাঠ ও সোনাকুড়ের প্রচলিত ভাড়া ৫ টাকা হলেও অনেক চালক ১০ টাকা দাবি করেন। বিশ্ববিদ্যালয়ে আসার সময় ৫ টাকা ভাড়া নিলেও ফেরার পথে ১০ টাকা চান। ১০ টাকা দিতে না চাইলে অনেক সময় অটোতে তুলতে চান না। বিশেষ করে রাতে ৫ টাকার ভাড়া ২০ টাকাও দাবি করেন কেউ কেউ। আবার নতুন শিক্ষার্থীরা ভাড়া সম্পর্কে না জানায় তাদের কাছ থেকেও অতিরিক্ত ভাড়া নেওয়ার ঘটনা ঘটে।’

ভোগান্তির বিষয়ে পরিসংখ্যান বিভাগের ২০২৩-২৪ শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থী রেজওয়ানা নাসরিন বলেন, ‘বিশ্ববিদ্যালয়ের আশপাশে যাতায়াত করতে গিয়ে শুরু থেকেই অটোভাড়া নিয়ে সমস্যায় পড়তে হচ্ছে। বিষয়টি হয়তো খুব বড় কিছু নয়, কিন্তু যারা নিয়মিত এই পথে চলাচল করি, তাদের জন্য বেশ বিরক্তিকর। নিলারমাঠ, গোবরা, চরঘাটা, ঘোনাপাড়াসহ আশপাশের এলাকাগুলো থেকে ক্যাম্পাসে আসতে সাধারণত ভাড়া ৫ টাকা। কিন্তু অটোতে উঠলেই অনেক সময় ১০ টাকা দাবি করা হয়। ১০ টাকার নোট দিলে বলা হয়, তাদের কাছে ৫ টাকা নেই। কখনো আবার অন্য অজুহাত দেখানো হয়। এ নিয়ে কথা বলতে গেলে চালকরা বলেন, ‘৫ টাকা না থাকলে অটোতে উঠেছেন কেন?’

তিনি আরও বলেন, সবচেয়ে বেশি সমস্যা হয় সন্ধ্যার পর বা রাতে। কোনো কারণে ফিরতে একটু দেরি হলে একই পথের ভাড়া দ্বিগুণ দাবি করেন চালকরা। তখন প্রয়োজনের তাগিদে বাড়তি ভাড়া দিয়েই ফিরতে হয়। ভাড়া নিয়ে কিছু বলতে গেলেও অনেক সময় অপ্রয়োজনীয় কথা শুনতে হয়, তর্কে জড়াতে হয়। প্রতিদিন যাতায়াতের সময় এমন পরিস্থিতিতে পড়া সত্যিই অস্বস্তিকর। অন্তত ভাড়ার ক্ষেত্রে একটি নির্দিষ্ট নিয়ম থাকা উচিত, যাতে সময় বা পরিস্থিতির অজুহাতে সাধারণ শিক্ষার্থীদের বাড়তি ভোগান্তিতে পড়তে না হয়।

বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর ড. এস এম আহসান বলেন, এ বিষয়ে এর আগে সরাসরি কোনো অভিযোগ পাইনি। তবে শিক্ষার্থীদের যাতায়াতের সুবিধার্থে প্রতিটি রুটের জন্য একটি নির্দিষ্ট ভাড়ার তালিকা থাকা উচিত। আমরা এসব রুটে চলাচলকারী অটোরিকশা মালিক সমিতির সঙ্গে বসে শিক্ষার্থীদের জন্য ভাড়ার তালিকা তৈরি করে দেব, যাতে এ নিয়ে তাদের আর ভোগান্তিতে পড়তে না হয়।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

ফটিকছড়িতে দুই মোটরসাইকেলের মুখোমুখি সংঘর্ষে নিহত ১, তিনজনের অবস্থা আশঙ্কাজনক

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

তালাশ বিডি ডেস্ক

রবিবার, ৮ই নভেম্বর, ২০২৬ ইং

০৫:০২ পি.এম


ফটিকছড়িতে দুই মোটরসাইকেলের মুখোমুখি সংঘর্ষে নিহত ১, তিনজনের অবস্থা আশঙ্কাজনক

চট্টগ্রামের ফটিকছড়িতে দুই মোটরসাইকেলের মুখোমুখি সংঘর্ষের ঘটনায় মোহাম্মদ জিসান নামে এক যুবক নিহত হয়েছেন। এ দুর্ঘটনায় আরও চার যুবক আহত হয়েছেন। চিকিৎসকরা জানিয়েছেন, আহতদের মধ্যে তিনজনের অবস্থা আশঙ্কাজনক।

শনিবার (৭ নভেম্বর) সন্ধ্যা সাড়ে ৭টার দিকে উপজেলার নানুপুর ইউনিয়নের চাড়ালিয়াহাট সড়কের আমতলী সংলগ্ন বাইশ্যরপুল এলাকায় এই দুর্ঘটনাটি ঘটে।

আহতদের মধ্যে রয়েছেন, লেলাং ইউনিয়নের গোপালঘাটা গ্রামের মুছা আহমদের ছেলে মোহাম্মদ মোবারক (৩১), একই এলাকার মো. আকবরের ছেলে জিমান (২০), ধমধমা গ্রামের চিত্তরঞ্জনের ছেলে সাগর (২৫), দিলীপ চন্দ্র নমের ছেলে সৌরভ নম (২০) এবং সুয়াবিল ইউনিয়নের শোভনছড়ি গ্রামের সঞ্জু চক্রবর্তীর ছেলে বাবলু চক্রবর্তী (১৭)।

স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, দুটি মোটরসাইকেল বিপরীত দিক থেকে দ্রুত গতিতে আসছিল। এক পর্যায়ে নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে মোটরসাইকেল দুটির মধ্যে মুখোমুখি সংঘর্ষ ঘটে। এতে উভয় মোটরসাইকেলের আরোহীরা সড়কে ছিটকে পড়ে গুরুতর আহত হন। সংঘর্ষের ফলে মোটরসাইকেল দুটিও ব্যাপকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়।

পরে স্থানীয়রা আহতদের উদ্ধার করে নাজিরহাটস্থ ফটিকছড়ি উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যান। সেখানে জরুরি বিভাগের চিকিৎসক ফরীদা আকতার আহত পাঁচজনের অবস্থা গুরুতর বলে জানান। তাঁদের শরীরের বিভিন্ন স্থানে জখম হয়েছে। প্রাথমিক চিকিৎসার পর উন্নত চিকিৎসার জন্য তাঁদের চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়। পরে আহতদের মধ্যে মোহাম্মদ জিসানের মৃত্যু ঘটে।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

তানোরে রোপা আমন ধান কাটা শুরু, দাম নিয়ে উদ্বিগ্ন কৃষকরা

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

তালাশ বিডি ডেস্ক

রবিবার, ৮ই নভেম্বর, ২০২৬ ইং

০৫:০৩ পি.এম


তানোরে রোপা আমন ধান কাটা শুরু, দাম নিয়ে উদ্বিগ্ন কৃষকরা

বরেন্দ্র অঞ্চল হিসেবে পরিচিত তানোর উপজেলায় শুরু হয়েছে কৃষকদের স্বপ্নের সোনালী ফসল রোপা আমন ধান কাটা ও মাড়াইয়ের কার্যক্রম। এবারের ফলন একেক বিঘা জমিতে কাচিতে ৩৩ থেকে ৩৫ মন এবং পাকিতে ১৮ থেকে ২০ মন হচ্ছে। পাখির ডাকের সঙ্গে ভোর থেকে সন্ধ্যা পর্যন্ত উপজেলার বিভিন্ন মাঠে চলছে রোপা আমন ধান কাটা ও মাড়াইয়ের কাজ। কৃষক ও শ্রমিকদের মধ্যে যেন দম ফেলার সময় নেই।

একদিকে আমন ধান কাটা চলছে, অন্যদিকে সেই জমিতে আলু রোপণের জন্য হাল চাষের প্রস্তুতি নেওয়া হচ্ছে। ফলে আমন ধান কাটার পাশাপাশি আলু রোপণের প্রস্তুতির জন্য কাজ করতে পেয়ে শ্রমিকরা ব্যাপক খুশি।

জানা গেছে, অন্যবছরের তুলনায় এবছর রোপা আমন রোপণের শুরু থেকে কৃষকদের ব্যাপক দুর্ভোগ পোহাতে হয়েছে। আমন চাষের ভরা মৌসুম আষাঢ় মাসে তেমন বৃষ্টির দেখা ছিল না। এর ফলে অনেক কৃষক সঠিক সময়ে আমন ধান রোপণ করতে পারেননি। তবে অসময়ে হলেও আমন ধান চাষে বাদ পড়েননি কোনো কৃষক।

যারা আমনের শুরুতে ডিপ মটারের পানি কিনে আমন ধান রোপণ করেছিলেন, তাদের জমির ধান কাটা এখন প্রায় শেষ পর্যায়ে। এখন তারা সেই জমিতে আলু রোপণের জন্য প্রস্তুতি নিচ্ছেন। উপজেলা কৃষি অফিস সূত্রে জানা গেছে, চলতি মৌসুমে আমনের লক্ষ্যমাত্রা ২২ হাজার ৪৩৫ হেক্টর নির্ধারণ করা হয়েছিল। কিন্তু অর্জিত হয়েছে ২১ হাজার ৩৯০ হেক্টর জমিতে আমন ধান চাষ।

কামারগাঁ ইউনিয়নের হরিপুর গ্রামের কৃষক আব্দুল মজিদ জানান, এবারের আমন চাষে কৃষকদের ব্যাপক ভোগান্তি পোহাতে হয়েছে। আমন চাষের শুরু থেকেই পানির সমস্যা ছিল, তার সাথে পটাশ সারের সংকটও ছিল তীব্র। অনেক কৃষক পটাশ সার ছাড়াই আমন ধান চাষ করেছেন। তবুও আল্লাহর রহমতে ভালো ফলন হয়েছে। ছাঐড় গ্রামের কৃষক আব্দুল বলেন, "কৃষক যে পরিমাণ কষ্ট করে আমন ধান চাষ করেন কিন্তু ধানের দাম না থাকায় কষ্টের দামি উঠে না। সবকিছু দাম বাড়তি অথচ কয়েক বছর ধরে ধানের দামে ধস নেমে আছে। এভাবে চলতে থাকলে কৃষক ধান চাষ করাই ছেড়ে দিবে।" কৃষকের পাশে থাকার জন্য সরকারের কাছে অনুরোধ জানান তিনি।

উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা সাইফুল্লাহ জানান, রোপা আমনের এই একটি আবাদ কৃষকরা অল্প খরচে বেশি লাভবান হয়ে থাকেন। যদি কোনো দুর্যোগ বালাই না হয়, তাহলে আমনের ফলনও খুব ভালো হয়। কৃষকের আমন ধান চাষে রোগ বালাই না হওয়ার জন্য প্রথম থেকে প্রতিনিয়ত কৃষি অফিসের উপসহকারী কর্মকর্তাদের মাঠ পর্যায়ে থেকে তদারকি করা হয়েছে।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

আর্কাইভ

Please select a date!

নামাজের সময়সূচী

তারিখঃ ২৭শে জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিঃ
ফজর ০৪:৫১
জোহর ১১:৪৩
আসর ০৩:৪০
মাগরিব ০৫:১৬
ইশা ০৬:২৯
সূর্যোদয় : ০৬:০৮ সূর্যাস্ত : ০৫:১৬
অনলাইন জরিপ
ফলাফল
থার্টি-ফার্স্ট নাইটে তরুণদের জন্য প্রকাশ্যে পানি-টানি খাওয়ার বিরুদ্ধে আহ্বান। আপনার মন্তব্য দিন
হ্যা
100%
না
0%
মন্তব্য নেই
0%