শুক্রবার, ২৫শে সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ইং
০৩:২০ পি.এম
রাশিয়ার সামরিক বাহিনী ডনবাসের পূর্বাঞ্চলীয় শহর ডোব্রোপোলিয়েতে ইউক্রেনীয় বাহিনীকে ঘিরে বিধ্বংসী অভিযান চালিয়ে যাচ্ছে। সেন্টার ব্যাটেলগ্রুপ (Center Battlegroup) ইউক্রেনীয় সেনাদের লক্ষ্য করে সর্বাত্মক হামলা অব্যাহত রেখেছে এবং আলেকজান্দ্রোভকা অভিমুখে অগ্রযাত্রা বজায় রাখছে। এই তথ্য রাশিয়ার প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের উদ্ধৃতি দিয়ে দেশটির রাষ্ট্রীয় সংবাদ সংস্থা তাস (TASS) জানিয়েছে।
রুশ প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, ইউক্রেনীয় বাহিনী ঘেরাও ভেঙে পালিয়ে যাওয়ার কিংবা পাল্টা আক্রমণ চালানোর চেষ্টা করলেও সেগুলো সফলভাবে প্রতিহত করা হচ্ছে। শহরে অবরুদ্ধ অবস্থায় প্রতিদিন গড়ে ৩০ থেকে ৫০ জন ইউক্রেনীয় সেনা নিহত হচ্ছে বলে দাবি করা হয়েছে।
ডোব্রোপোলিয়ে দখলের কৌশলগত গুরুত্ব
ডোব্রোপোলিয়েতে বিজয় অর্জন করা রাশিয়ার সামরিক অভিযানের জন্য অত্যন্ত মৌলিক ও কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ। রুশ প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় উল্লেখ করেছে, যদি ডোব্রোপোলিয় রাশিয়ার নিয়ন্ত্রণে আসে, তবে ডনবাস অঞ্চলের ইউক্রেনীয় সশস্ত্র বাহিনীর প্রধান দুর্গ হিসেবে পরিচিত 'স্লাভিয়ানস্ক-ক্রামাতোরস্ক-দ্রুঝকোভকা' অঞ্চল সরাসরি হুমকির মুখে পড়বে।
শহরটি ইউক্রেনীয় বাহিনীর প্রধান পরিবহন ও লজিস্টিক হাব হিসেবে কাজ করে, যেখানে দ্নেপ্রোপেত্রোভস্ক অঞ্চল থেকে ইউক্রেনীয় সেনাদের জন্য প্রয়োজনীয় রসদ সরবরাহ করা হতো। রাশিয়ার নিয়ন্ত্রণে আসলে পুরো ডনবাস অঞ্চলে ইউক্রেনীয় বাহিনীর সাপ্লাই চেইন ভেঙে পড়বে।
ডোব্রোপোলিয়ের আশেপাশের গুরুত্বপূর্ণ পাহাড়ি অঞ্চল ও উঁচু অবস্থানগুলো নিয়ন্ত্রণ করতে পারলে রাশিয়ান বাহিনী ডোনেৎস্ক পিপলস রিপাবলিকের (DPR) সীমান্তে পৌঁছানোর প্রক্রিয়া আরও ত্বরান্বিত করতে সক্ষম হবে।
ইউক্রেনীয় বাহিনী এই অঞ্চলের গুরুত্ব উপলব্ধি করে ঘেরাও মুক্ত করার চেষ্টা করলেও রুশ বাহিনী তা কঠোরভাবে প্রতিহত করছে বলে তাসের প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
বঙ্গোপসাগরে বৈরী আবহাওয়ার কারণে এলএনজিবাহী জাহাজ থেকে গ্যাস খালাসে সাময়িক বিলম্ব হলেও বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী অনিন্দ্য ইসলাম অমিত জানিয়েছেন, জ্বালানি পরিস্থিতি স্বাভাবিক হয়ে আসছে।
তিনি উল্লেখ করেন, শুক্রবার সকাল ৭টা ১৮ মিনিট থেকে এলএনজি খালাস কার্যক্রম শুরু হয়েছে এবং দুপুরের মধ্যে গ্যাস সরবরাহ স্বাভাবিক পর্যায়ে ফিরে আসবে।
শুক্রবার (২৫ সেপ্টেম্বর) বেলা সাড়ে ১১টায় যশোর সার্কিট হাউসে অনুষ্ঠিত যশোর জেলা হাসপাতাল স্বাস্থ্য ব্যবস্থাপনা কমিটির সভা শেষে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে তিনি এসব কথা বলেন।
গ্যাস ও জ্বালানি পরিস্থিতি নিয়ে প্রতিমন্ত্রী বলেন, বঙ্গোপসাগরে বৈরী আবহাওয়ার কারণে এলএনজিবাহী জাহাজ থেকে গ্যাস খালাসে কিছুটা বিলম্ব হয়েছিল। ফলে সাময়িকভাবে গ্যাসের চাপ কমে যায়। তবে খালাস কার্যক্রম ইতিমধ্যে শুরু হয়েছে এবং পরিস্থিতি দ্রুত স্বাভাবিক হয়ে যাবে।
এদিকে যশোরবাসীর জন্য সুখবর দিয়ে প্রতিমন্ত্রী জানান, নির্ধারিত সময়ের মধ্যে যশোরে পূর্ণাঙ্গ করোনারি কেয়ার ইউনিটের (সিসিইউ) সেবা চালু করা হবে। গুরুতর হৃদরোগীদের চিকিৎসার জন্য অন্য জেলায় যেতে না হয়, সে লক্ষ্যেই সরকার কাজ করছে।
যশোর জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ আশেক হাসানের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত সভায় জেনারেল হাসপাতালের চিকিৎসাসেবার মানোন্নয়ন, অবকাঠামোগত উন্নয়ন এবং রোগীদের সেবা নিশ্চিত করার বিভিন্ন বিষয় নিয়ে আলোচনা হয়।
সভায় সংরক্ষিত নারী আসনের সংসদ সদস্য সাবিরা নাজমুল মুন্নি, যশোরের সিভিল সার্জন ডা. মো. মাসুদ রানা, যশোর জেনারেল হাসপাতালের তত্ত্বাবধায়ক ডা. মো. হুসাইন শাফায়াতসহ স্থানীয় স্বাস্থ্য বিভাগের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
মুন্সীগঞ্জের লৌহজং উপজেলার পদ্মা সেতু (উত্তর) থানার দক্ষিণ মেদেনীমণ্ডল মাওয়া পুরাতন ঘাটের একটি অটোরিকশার গ্যারেজ থেকে ৯৫টি পুরোনো ব্যাটারি উদ্ধার করেছে পুলিশ। এই ঘটনার সাথে জড়িত থাকার অভিযোগে তিনজনকে গ্রেফতার করা হয়েছে।
পুলিশের তথ্যমতে, গত ১৯ সেপ্টেম্বর রাত ৩টার সময় মুখোশ পরিহিত কয়েকজন দুর্বৃত্ত গ্যারেজের তালা ও শিকল কেটে ভিতরে প্রবেশ করে। তারা পাহারাদার মাসুমকে বেঁধে মারধর করে এবং হত্যার হুমকি দেয়। পরে তারা ২২টি অটোরিকশা থেকে ৯৫টি ব্যাটারি ও ২২টি চার্জার নিয়ে পালিয়ে যায়। লুট হওয়া মালামালের আনুমানিক মূল্য ১০ লাখ ৫০ হাজার টাকা।
এই ঘটনার পর ২৪ সেপ্টেম্বর পদ্মা সেতু (উত্তর) থানায় দণ্ডবিধির ৩৯৪ ধারায় একটি মামলা দায়ের করা হয়।
মামলার তদন্তের অংশ হিসেবে ২৪ সেপ্টেম্বর রাতে যাত্রাবাড়ী থেকে মো. মাসুদ (৩৩), সিরাজদিখানের মালখানগর থেকে আছলাম শেখ (৩৮) এবং টঙ্গীবাড়ীর দক্ষিণ বেতকা থেকে মো. সজিব ফকিরকে (২৯) গ্রেফতার করা হয়। মাসুদের কাছ থেকে উদ্ধার করা হয়েছে লুট হওয়া ৯৫টি ব্যাটারি।
পুলিশের দাবি, প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে গ্রেফতারকৃতরা ঘটনার সঙ্গে তাদের সংশ্লিষ্টতার কথা স্বীকার করেছেন। অন্য অভিযুক্তদের গ্রেফতার করতে অভিযান অব্যাহত রয়েছে। গ্রেফতার হওয়া আছলাম শেখের বিরুদ্ধে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইনে চারটি মামলা রয়েছে।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
কিশোরগঞ্জে বিক্ষোভ মিছিল ও সমাবেশ করেছে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী যুবদল, স্বেচ্ছাসেবক দল ও ছাত্রদল। এ কর্মসূচি অনুষ্ঠিত হয়েছে শুক্রবার সকালে, যেখানে পরিকল্পিত সন্ত্রাস, নৈরাজ্য ও সহিংসতার মাধ্যমে দেশকে অস্থিতিশীল করার অপচেষ্টার প্রতিবাদ জানানো হয়। জেলা শহরে আয়োজিত এই কর্মসূচিতে সংগঠন তিনটির বিভিন্ন পর্যায়ের নেতাকর্মীরা অংশগ্রহণ করেন।
এ কর্মসূচির নেতৃত্বে ছিলেন জেলা যুবদলের সভাপতি খসরুজ্জামান জিএস শরীফ, সাধারণ সম্পাদক আব্দুল্লাহ আল মাসুদ সুমন, সিনিয়র যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক সাজ্জাদ হোসেন সাজ্জাদ, জেলা স্বেচ্ছাসেবক দলের সদস্য সচিব শহীদুল্লাহ্ কায়সার শহীদ, সিনিয়র যুগ্ম আহ্বায়ক অ্যাডভোকেট ওয়ালীউল্লাহ রাব্বানী তৌকি, জেলা ছাত্রদলের সাবেক সভাপতি মারুফ মিয়া, বর্তমান সভাপতি শরীফুল ইসলাম নিশাদ, সাধারণ সম্পাদক রাফিউল ইসলাম নওশাদ এবং সিনিয়র যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক জাকির হোসেন রাজীব।
শুক্রবার সকাল থেকেই কিশোরগঞ্জ শহরের বিভিন্ন স্থানে নেতাকর্মীদের উপস্থিতি বাড়তে থাকে। পরে একটি বিক্ষোভ মিছিল বের করা হয়, যা শহরের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ সড়ক প্রদক্ষিণ করে। এ সময় নেতাকর্মীরা পরিকল্পিত সন্ত্রাস, নৈরাজ্য ও সহিংসতার প্রতিবাদে বিভিন্ন স্লোগান দেন।
মিছিলের পর শহরের পুরান থানা এলাকার ইসলামিয়া সুপার মার্কেটে সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়। সেখানে বক্তারা দেশের বর্তমান পরিস্থিতিতে সহিংসতা ও নৈরাজ্য সৃষ্টির যেকোনো অপচেষ্টার বিরুদ্ধে রাজনৈতিক ও সামাজিকভাবে প্রতিরোধ গড়ে তোলার আহ্বান জানান।
বক্তারা উল্লেখ করেন, রাজনৈতিক মতপার্থক্য গণতান্ত্রিক ব্যবস্থার স্বাভাবিক অংশ। তবে সেই মতপার্থক্যকে কেন্দ্র করে সহিংসতা, সন্ত্রাস বা আতঙ্ক সৃষ্টি কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়। পরিকল্পিতভাবে অস্থিতিশীল পরিস্থিতি তৈরি করে দেশের স্বাভাবিক জীবনযাত্রা ব্যাহত করার যেকোনো অপচেষ্টা প্রতিহত করতে হবে।
তারা আরও বলেন, সাধারণ মানুষের নিরাপত্তা ও স্বাভাবিক জীবনযাত্রা নিশ্চিত করা রাষ্ট্র ও রাজনৈতিক দলগুলোর গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব। কোনো পক্ষ যাতে সন্ত্রাস, নৈরাজ্য বা সহিংসতার মাধ্যমে জনজীবনে অস্থিরতা তৈরি করতে না পারে, সে বিষয়ে সবাইকে সজাগ থাকতে হবে। একই সঙ্গে রাজনৈতিক কর্মীদেরও দায়িত্বশীল আচরণ এবং শান্তিপূর্ণ কর্মসূচির মাধ্যমে নিজেদের বক্তব্য তুলে ধরার আহ্বান জানান বক্তারা।
বক্তারা অভিযোগ করেন, পরিকল্পিতভাবে সন্ত্রাস ও বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি করে দেশের রাজনৈতিক ও সামাজিক পরিবেশ অস্থিতিশীল করার চেষ্টা করা হচ্ছে। এ ধরনের অপতৎপরতার বিরুদ্ধে জনগণকে সঙ্গে নিয়ে শান্তিপূর্ণ ও গণতান্ত্রিকভাবে প্রতিরোধ গড়ে তোলার কথা জানান তারা।
সমাবেশে যুবদল, স্বেচ্ছাসেবক দল ও ছাত্রদলের বিভিন্ন পর্যায়ের নেতাকর্মীরা উপস্থিত ছিলেন। বক্তারা বলেন, জনসম্পৃক্ত রাজনৈতিক কর্মসূচির মাধ্যমে জনগণের পাশে থেকে দেশের স্থিতিশীলতা ও শান্তিপূর্ণ পরিবেশ বজায় রাখতে তারা কাজ করে যাবেন।
বিক্ষোভ মিছিল ও সমাবেশকে কেন্দ্র করে জেলা শহরে নেতাকর্মীদের মধ্যে উৎসাহ-উদ্দীপনা দেখা যায়। এ কর্মসূচিতে সংগঠন তিনটির বিভিন্ন পর্যায়ের নেতাকর্মীরা অংশ নেন।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ান মন্তব্য করেছেন যে, যুক্তরাষ্ট্রের উপর নির্ভর করছে যুদ্ধ কখন শেষ হবে। ফক্স নিউজের ‘স্পেশাল রিপোর্ট উইথ ব্রেট বায়ের’ অনুষ্ঠানে তিনি এই বিষয়টি তুলে ধরেন।
বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় প্রচারিত সাক্ষাৎকারে, সাংবাদিকরা তার কাছে জানতে চান, বছরের শেষ হওয়ার আগে কি এই সংঘাতের সমাপ্তি ঘটতে পারে? এর জবাবে মাসুদ পেজেশকিয়ান বলেন, ‘আমরা এটি চালিয়ে যেতে চাই না। আমেরিকাকেই বেছে নিতে হবে যে তারা এটি শেষ করতে চায় কি না।’
যুদ্ধের সমাপ্তি নিয়ে দুই পক্ষের মধ্যে যখন ব্যাপক দূরত্ব রয়েছে, তখন বুধবার জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদে ইরানের প্রেসিডেন্ট বলেছেন, তেহরান কখনোই মার্কিন চাপের কাছে মাথা নত করবে না।
মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প মঙ্গলবার বলেন, যুদ্ধ শেষ করার জন্য কোনো সমঝোতা না হলে তিনি ইরানকে ‘ধ্বংস’ করে দিতে পারেন। তবে তিনি এ-ও ইঙ্গিত করেছেন যে, শিগগিরই একটি চুক্তির সম্ভাবনা রয়েছে।
গত ২৮ ফেব্রুয়ারি মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল ইরানে হামলা চালানোর পর, তেহরান পাল্টা হামলা চালায় উপসাগরীয় দেশগুলোতে যেখানে মার্কিন এবং ইসরায়েলি ঘাঁটি অবস্থিত। এই ঘটনার পর থেকে ট্রাম্প যুদ্ধের লক্ষ্য ও সময়সীমা পরিবর্তনের কথা বলছেন। যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের হামলা এবং লেবাননে ইসরায়েলি আক্রমণে হাজার হাজার মানুষ নিহত এবং লাখ লাখ মানুষ বাস্তুচ্যুত হয়েছেন।
ট্রাম্প ইরানের পারমাণবিক সক্ষমতাকে দুর্বল করে দেওয়াকে তার যুদ্ধের অন্যতম উদ্দেশ্য হিসেবে উল্লেখ করেছেন। ইরানের দাবি, তাদের কোনো পারমাণবিক অস্ত্র নেই এবং তারা তা অর্জনের চেষ্টা করার কথাও অস্বীকার করেছে। অন্যদিকে, যুক্তরাষ্ট্র একটি পারমাণবিক অস্ত্রধারী দেশ। পারমাণবিক অসংঘাত চুক্তির পক্ষ হিসেবে তেহরান বলছে, শান্তিপূর্ণ উদ্দেশ্যে পারমাণবিক প্রযুক্তি বিকাশের অধিকার তাদের রয়েছে।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ