ঢাকা বুধবার, ২৮শে অক্টোবর, ২০২৬খ্রিষ্টাব্দ ১২ই কার্তিক, ১৪৩৩বঙ্গাব্দ ১৭ই জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিজরী
বুধবার, ২৮শে অক্টোবর, ২০২৬ইং ১২ই কার্তিক, ১৪৩৩বাং

১৯ দিন নিখোঁজ থাকার পর স্বামীর বাড়ির উঠান থেকে নারীর লাশ উদ্ধার


১৯ দিন নিখোঁজ থাকার পর স্বামীর বাড়ির উঠান থেকে নারীর লাশ উদ্ধার

মৌলভীবাজারের রাজনগরে, নিখোঁজ হয়ে ১৯ দিন পর এক নারীর মরদেহ পুলিশ উদ্ধার করেছে স্বামীর বাড়ির উঠান থেকে। এই ঘটনার সঙ্গে যুক্ত থাকার অভিযোগে স্বামী আলমগীর হোসেন (৩৫) এবং তার এক সহযোগীকে আটক করা হয়েছে।

নিহত জায়েদা বেগম (৩৮) রাজনগর উপজেলার ৩ নম্বর মুন্সিবাজার ইউনিয়নের সোনাটিকি গ্রামের আব্দুল হান্নানের মেয়ে। তার স্বামী আলমগীর হোসেন করিমপুর চা-বাগান এলাকার বাসিন্দা।

পুলিশ জানাচ্ছে, গত ৩ জুলাই মেয়ের নিখোঁজ হওয়ার পর জায়েদা বেগমের বাবা আব্দুল হান্নান রাজনগর থানায় একটি সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করেন। এরপর পুলিশ তদন্ত কাজ শুরু করে।

আরও পড়ুন: নওগাঁয়ে ঘরে মাটির নিচে ২৪৫ কেজির কষ্টিপাথরের শিবলিঙ্গ উদ্ধার, আটক ১

তদন্তের অংশ হিসেবে ৫ জুলাই আলমগীর হোসেনকে জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়। তিনি প্রথমে দাবি করেন, তার স্ত্রী গত ১৯ জুন সৌদি আরবে চলে গেছেন। কিন্তু তার বক্তব্যে অসঙ্গতি থাকায়, তাকে থানায় নিয়ে আরও জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়।

পুলিশের দাবি, এক পর্যায়ে আলমগীর স্বীকার করেন যে, গত ১৭ জুন রাতে স্ত্রী জায়েদা বেগমকে শ্বাসরোধ করে হত্যা করেন এক সহযোগীর সহায়তায়। পরে ১৮ জুন সকালে তিনি বাড়ির উঠানে গর্ত করে মরদেহটি মাটি চাপা দেন।

সোমবার (৬ জুলাই) সকালে আলমগীরের দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে পুলিশ সুপার মো. মনিরুল ইসলাম, অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (ক্রাইম অ্যান্ড অপস) নোবেল চাকমা, অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (সদর সার্কেল) আবুল খায়ের এবং উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা বিপুল শিকদারের উপস্থিতিতে বাড়ির উঠানে অভিযান চালানো হয়। পরে মাটি খুঁড়ে জায়েদা বেগমের মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ।

মরদেহটি ময়নাতদন্তের জন্য মৌলভীবাজার ২৫০ শয্যা জেলা সদর হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়েছে। রাজনগর থানা পুলিশ জানিয়েছে, এই ঘটনার সঙ্গে স্বামী আলমগীর হোসেন ও তার এক সহযোগীকে হেফাজতে নেয়া হয়েছে।

আরও পড়ুন: দিনাজপুর বোর্ডের ১ কোটি ২৬ লাখ টাকার দুর্নীতির তদন্তের নির্দেশ

ময়নাতদন্তের প্রতিবেদন এবং তদন্তে পাওয়া তথ্যের ভিত্তিতে পরবর্তী আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে। পুলিশ আরও জানায়, ঘটনার সঙ্গে অন্য কেউ জড়িত কি না, সেটাও তদন্ত করে দেখা হচ্ছে।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

ভারত–পাকিস্তান উত্তেজনায় সার্কের সদস্যদের মধ্যে রাজনৈতিক আস্থাহীনতা তৈরি হয়েছে: পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

অনলাইন ডেস্ক

সোমবার, ৬ই জুলাই, ২০২৬ ইং

০৫:৪৬ পি.এম


ভারত–পাকিস্তান উত্তেজনায় সার্কের সদস্যদের মধ্যে রাজনৈতিক আস্থাহীনতা তৈরি হয়েছে: পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী

পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শামা ওবায়েদ ইসলাম একটি বক্তব্যে বলেছেন, ভারত-পাকিস্তানের মধ্যে চলা উত্তেজনার ফলে সার্কের অন্যান্য দেশের মধ্যে রাজনৈতিক বিশ্বাসের অভাব সৃষ্টি হয়েছে।

তিনি বলেন, সোমবার (০৬ জুলাই) রাজধানীর ইস্কাটনে বাংলাদেশ ইনস্টিটিউট অব ইন্টারন্যাশনাল অ্যান্ড স্ট্যাটিজ্যিক স্ট্রাডিজের সার্ক নিয়ে আয়োজিত একটি সেমিনারে এই মন্তব্য করেন।

পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শামা ওবায়েদ আরও বলেন, নতুন সরকার ক্ষমতায় আসার পর সার্কের সব সদস্য রাষ্ট্রের সঙ্গে পৃথকভাবে একাধিক আলোচনা করা হয়েছে। সবাই সার্ককে কার্যকর করার জন্য আগ্রহী।

তিনি আরও জানান, বিমসটেক এবং সার্ক এশিয়ায় একে অপরের প্রতি প্রতিযোগিতা তৈরি করবে না বরং সহযোগী হিসেবে কাজ করবে।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

অর্থকষ্টে রবি মিয়ার সংসার, আটকে আছে মেয়েদের বিয়ে

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

তালাশ বিডি ডেস্ক

সোমবার, ৬ই জুলাই, ২০২৬ ইং

০৫:৪৭ পি.এম


অর্থকষ্টে রবি মিয়ার সংসার, আটকে আছে মেয়েদের বিয়ে

কিশোরগঞ্জের কটিয়াদী উপজেলার জালালপুর ইউনিয়নের চর ঝাকালিয়া গ্রামের বাসিন্দা রবি মিয়া জাজারীর্ণ ঘরের সামনে দাঁড়িয়ে আছেন। ছবিটি তুলেছেন কালের কণ্ঠের প্রতিনিধিত্বকারী সাংবাদিক ছাইদুর রহমান নাঈম।

কখনো বৃষ্টির পানি টিনের ফাঁক দিয়ে পড়ে, আবার কখনো সূর্যের আলো ঘরের ভেতরে ঢুকে পড়ে। বৃষ্টির সময় জামাকাপড়, বইপত্র এবং প্রয়োজনীয় আসবাবপত্র ভিজে যায়।

ঝড়-তুফান এলেই আতঙ্কে থাকতে হয় পরিবারের সদস্যদের—এটাই বুঝি টিনের চাল উড়ে যাবে। এমন নড়বড়ে এবং জরাজীর্ণ ঘরে ছয় সদস্যের পরিবার নিয়ে মানবেতর জীবনযাপন করছেন হতদরিদ্র রবি মিয়া।

কিশোরগঞ্জের কটিয়াদী উপজেলার জালালপুর ইউনিয়নের ৫ নম্বর ওয়ার্ডের চর ঝাকালিয়া গ্রামের এই পরিবার দীর্ঘদিন ধরে চরম অভাব-অনটনের মধ্যে জীবন কাটাচ্ছে। দুঃখ-কষ্ট ও অভাব যেন তাদের নিরন্তর সঙ্গী।

ছোট্ট ঘরে গাদাগাদি করে বসবাস করতে হয় বাবা-মা ও সন্তানদের। খাবারের কষ্টও লেগেই আছে—কখনো একেবারেই খাবার জোটে, আবার কখনো উপোস থাকতে হয়।

স্থানীয় বাসিন্দা ও পারিবারিক সূত্রে জানা যায়, অর্থের অভাবে উপযুক্ত বয়স হয়ে গেলেও রবি মিয়া দুই মেয়ের বিয়ে দিতে পারছেন না। তিনি দীর্ঘদিন ধরে বিভিন্ন শারীরিক সমস্যায় ভুগছেন।

ফলে নিয়মিত কোনো কাজ করতে পারেন না। পরিবারের সদস্যদের মধ্যে অসুস্থ বৃদ্ধ মা, স্ত্রী, দুই মেয়ে এবং এক ছেলে রয়েছেন। বড় দুই মেয়ে তাদের পড়াশোনা চালিয়ে যাচ্ছে, আর ছোট ছেলে স্থানীয় একটি মাদরাসায় অধ্যয়নরত। সংসারের আর্থিক সংকটের কারণে দুই বোন টিউশনি করে নিজেদের লেখাপড়ার খরচ চালানোর চেষ্টা করছেন।

সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, একটি ছোট বসতভিটায় তিনটি টিনের ঘর রয়েছে। দীর্ঘদিনের ব্যবহারে ঘরগুলো জরাজীর্ণ ও নড়বড়েতে হয়ে পড়েছে। একটি ঘরে রবি মিয়ার বৃদ্ধ মা থাকেন, অপর দুটি ঘরে পরিবারের অন্যান্য সদস্যরা থাকেন। ঘরের বিভিন্ন স্থানে টিন ফুটো হয়ে যাওয়ার ফলে কাগজ, কাপড় এবং পলিথিন দিয়ে জোড়াতালি দেওয়া হয়েছে। বইপত্রগুলো রক্ষার জন্য সেগুলোও পলিথিন দিয়ে মুড়িয়ে রাখা হয়েছে। পরিবারের সদস্যদের চেহারায় অভাব-অনটনের স্পষ্ট ছাপ দেখা যায়। অনেকেই বিভিন্ন রোগে ভুগছেন।

ঘরের ভেতরে বৃষ্টিতে ভেজা বই দেখছেন রবি মিয়ার কলেজ পড়ুয়া মেয়ে। ঝড়-বৃষ্টি এলেই টিনের চাল উড়ে যাওয়ার আশঙ্কায় আতঙ্কে থাকেন পরিবারের সদস্যরা। ভয়, কষ্ট এবং তীব্র অভাব যেন তাদের জীবনের অবিচ্ছেদ্য একটি অংশ হয়ে দাঁড়িয়েছে। এই দুর্দশা স্থানীয়দেরও নাড়া দিয়েছে।

রবি মিয়ার কলেজপড়ুয়া মেয়ে সানজিদা আক্তার তামান্না কালের কণ্ঠকে জানান, ‘বৃষ্টি হলে ঘরের ভেতরে পানি পড়ে। বইপত্র, কাঁথা-বালিশসহ প্রয়োজনীয় জিনিস ভিজে যায়। নিজের কলেজের খরচের পাশাপাশি ছোট বোনের পড়াশোনার খরচও বহন করতে হয়। সামান্য টিউশনি করে সবকিছু সামলানো খুবই কঠিন।’

রবি মিয়া বলেন, ‘আমার বয়স হয়ে গেছে, শরীরে আর শক্তি পাই না। নিয়মিত কোনো কাজ করতে পারি না। টাকার অভাবে উপযুক্ত বয়স হলেও দুই মেয়ের বিয়ে দিতে পারছি না। ঘরগুলোও নষ্ট হয়ে গেছে। ছেলেমেয়েরা যদি কোনো আবদার করে, তা পূরণ করতে পারি না। আমাদের দেখার মতো কেউ নেই। সংসার কীভাবে চলবে, আর সন্তানদের ভবিষ্যৎ কী হবে—এই চিন্তায় সব সময় দুশ্চিন্তায় থাকি।’

কটিয়াদী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা শামীমা আফরোজ মারলিজ বলেন, ‘রবি মিয়ার পরিবারের বিষয়ে খোঁজখবর নিয়ে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের চেষ্টা করা হবে।’

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

মঠবাড়ীয়ায় কাজী একতা ফাউন্ডেশনের উদ্যোগে ব্যবসায়ীদের মাঝে ছাতা বিতরণ ও আলোচনা সভা

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

​মঠবাড়ীয়া (পিরোজপুর) প্রতিনিধি

সোমবার, ৬ই জুলাই, ২০২৬ ইং

০৫:৪৮ পি.এম


মঠবাড়ীয়ায় কাজী একতা ফাউন্ডেশনের উদ্যোগে ব্যবসায়ীদের মাঝে ছাতা বিতরণ ও আলোচনা সভা

পিরোজপুরের মঠবাড়ীয়া উপজেলার সাপলেজা বাজারের স্থানীয় ব্যবসায়ীদের মাঝে ছাতা বিতরণ ও এক আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে। আজ সোমবার (০৬ জুলাই, ২০২৬) কাজী একতা ফাউন্ডেশনের উদ্যোগে এই মানবিক ও জনকল্যাণমূলক কর্মসূচির আয়োজন করা হয়।
অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থেকে সাপলেজা বাজারের সকল ক্ষুদ্র ও মাঝারি ব্যবসায়ীদের হাতে ছাতা তুলে দেন কাজী একতা ফাউন্ডেশনের সভাপতি কাজী জাহিদুল ইসলাম অভি।
ছাতা বিতরণ শেষে এক সংক্ষিপ্ত আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়। সভায় সভাপতির বক্তব্যে কাজী জাহিদুল ইসলাম অভি সংগঠনের লক্ষ্য ও উদ্দেশ্য সাধারণ মানুষের সামনে তুলে ধরেন। তিনি বলেন:
"কাজী একতা ফাউন্ডেশন সবসময়ই অবহেলিত ও মেহনতি মানুষের পাশে দাঁড়িয়েছে। তীব্র রোদ আর বর্ষার এই মৌসুমে আমাদের বাজারের সম্মানিত ব্যবসায়ীরা যেন নির্বিঘ্নে তাদের ব্যবসা পরিচালনা করতে পারেন, সেই ক্ষুদ্র প্রয়াস থেকেই আজকের এই ছাতা বিতরণ। আগামীতেও আমাদের এই সামাজিক ও মানবিক কর্মকাণ্ডের ধারা অব্যাহত থাকবে।"
অনুষ্ঠানে স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ, বাজারের ব্যবসায়ী নেতৃবৃন্দ এবং কাজী একতা ফাউন্ডেশনের বিভিন্ন স্তরের কর্মীবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন। রোদ-বৃষ্টির এই মৌসুমে ছাতা পেয়ে ফাউন্ডেশনের এই উদ্যোগকে সাধুবাদ জানিয়েছেন সাপলেজা বাজারের সাধারণ ব্যবসায়ীরা।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

ভৈরবে খাল দখল ও অপরিকল্পিত নগরায়নে তীব্র হচ্ছে জলাবদ্ধতা

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

তালাশ বিডি ডেস্ক

সোমবার, ৬ই জুলাই, ২০২৬ ইং

০৫:৪৯ পি.এম


ভৈরবে খাল দখল ও অপরিকল্পিত নগরায়নে তীব্র হচ্ছে জলাবদ্ধতা

 

ভৈরব পৌর এলাকায় অপরিকল্পিত নগরায়ন, অপর্যাপ্ত ড্রেনেজ ব্যবস্থা এবং একের পর এক খাল ভরাটের কারণে সামান্য বৃষ্টিতেই মুখোমুখি হওয়া চরম পানিবদ্ধতার সমস্যায় পড়তে হচ্ছে সেখানকার বাসিন্দাদের। প্রকৃতিগত কারণে এখন আষাঢ় মাস, তাই বর্ষা মৌসুমে এই সমস্যার কারণে প্রায় ১ লাখ ৫৬ হাজার ২৯৭ জন পৌর বাসিন্দা উদ্বেগের মধ্যে রয়েছেন।

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, ১৯৫৮ সালে প্রতিষ্ঠিত এই প্রথম শ্রেণীর পৌরসভায় গত কয়েক বছরে আবাসিক ভবন, বিপণী বিতান ও সড়ক নির্মিত হলেও পানি নিষ্কাশনের জন্য সুপরিকল্পিত কোনো ব্যবস্থা গড়ে উঠেনি। বরং প্রাকৃতিক পানি নিষ্কাশনের জন্য গৃহীত গুরুত্বপূর্ণ খালগুলো দখল ও ভরাট করে বিভিন্ন স্থাপনা নির্মাণ করা হয়েছে। এর ফলে বৃষ্টির পানি নামার পথ বন্ধ হয়ে গেছে।

সরেজমিনে দেখা যায়, সামান্য বৃষ্টি হলেই ভৈরবের দূর্জয় মোড়, বড়দিয়া রোড, ঢাকা-সিলেট মহাসড়ক, চন্ডিবের জগন্নাথপুর, কমলপুর, ভৈরব বাজার, বুমপট্টি সহ বিভিন্ন আবাসিক ও বাণিজ্যিক এলাকায় হাঁটু পানি গলা সমান জমে যায়। এর ফলে পৌর শহরের বিভিন্ন এলাকা পানির নিচে তলিয়ে যায় এবং জনদুর্ভোগের সৃষ্টি হয়। ব্যবসায়ীরা ব্যবসা করতে গেলে, বিশেষ করে বাজার ও নদী বাংলা সেন্টার পয়েন্ট এলাকায় বহু দোকানে পানি ঢুকে মারাত্মক ক্ষতির সম্মুখীন হচ্ছেন। ভৈরব পৌর এলাকার বাসিন্দা সাংবাদিক ও সাংস্কৃতিক ব্যাক্তিত্ব আব্দুর রউফ জানান, "আগে বৃষ্টির পানি দ্রুত নেমে যেত, কিন্তু এখন খাল ভরাট হয়ে যাওয়ার কারণে পানি দীর্ঘ সময় জমে থাকে।" এর ফলে শিশু ও বৃদ্ধদের চলাচল কঠিন হয়ে পড়েছে। তিনি পৌর কর্তৃপক্ষের অপরিকল্পিত নগরায়ন ও ড্রেনেজ ব্যবস্থার উদাসীনতাকে দায়ী করছেন। পরে আরেক বাসিন্দা শিক্ষক সাইদুর রহমান সাইফ বলেন, "পানি নিষ্কাশনের ব্যবস্থা না থাকায় দুই-তিন দিন পর্যন্ত বাড়ির সামনে পানি জমে থাকে। এমনকি মসজিদে নামাজ পড়তে যেতেও মানুষের বিড়ম্বনায় পড়তে হয়।" ৮ নং ওয়ার্ডের স্থায়ী বাসিন্দা মোঃ ইসলাম উদ্দিন বলেন, "আমাদের মনমরা ব্রীজ এলাকার থেকে বীর মুক্তিযোদ্ধা চত্বরে কাচাঁবাজারের এ রাস্তাটি আমার জন্মের পর থেকে দেখছি, সারা বছর শুধু লোক দেখানো মেরামত করেই যাচ্ছে, কিন্তু আমরা তার কোনো সুফল আর পেলাম না।"

দেখা গেছে, এক বছরও ভালো করে হয়নি যে রাস্তাটি মেরামত করা হয়েছে, কিন্তু এক সপ্তাহ যেতে না যেতেই সেখানে বড় বড় গর্ত তৈরি হয়ে যায়। রাস্তার পিচ উঠে যাওয়া মূলত নিম্নমানের নির্মাণ সামগ্রী, বিটুমিনের ঘাটতি এবং রাস্তার নিচে পানি জমার কারণে হয়ে থাকে। সাধারণত নির্মাণে নিয়মের গাফিলতি থাকলে নতুন রাস্তা বা সংস্কারের কয়েক দিনের মধ্যে এই সমস্যা দেখা দেয়। এ ক্ষেত্রে পৌর কর্তৃপক্ষের উদাসীনতা রয়েছে বলে তিনি মনে করেন।

এদিকে, দৈনিক ইনকিলাব ভৈরব প্রতিনিধি সোহান রহমানকে এক সাক্ষাৎকারে কিশোরগঞ্জ জেলা প্রশাসক ও জেলা ম্যাজিস্ট্রেট সোহানা নাসরিন বলেন, "আমাদের কিশোরগঞ্জ জেলা সহ বন্দর নগরী ভৈরব শহরে অতি বৃষ্টি হলেই পানিবদ্ধতা দেখা দেয়। সেক্ষেত্রে আমাদের ইউএনও যারা আছেন, বর্তমানে তারা পৌর প্রশাসকের দায়িত্বে আছেন। তাদেরকে আমরাও বলেছি যে আমাদের উন্নয়ন কার্যক্রমগুলো এখানে সমন্বয় করে করতে হবে। আমাদের অপরিকল্পিত নগরায়ন ও ড্রেনেজ ব্যবস্থাটা আধুনিকায়ন করতে হবে। আমাদের ভৈরবর ড্রেনেজ ব্যবস্থা অনেক ক্রটি রয়েছে, সেগুলো মেরামতের জন্য ইতিমধ্যে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।"

এছাড়াও ভৈরব উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ও পৌর প্রশাসক কে.এম. মামুনুর রশীদ বলেন, "ভৈরবে একাধিক রাস্তা অকেজো হয়ে পড়েছে। অল্প বৃষ্টি হলেই পানিবদ্ধতা তৈরি হয়। আমরা বিভিন্ন সমস্যার সম্মুখীন হচ্ছি, এর প্রধান কারণ হলো এই অঞ্চলের ঐতিহ্যবাহী যে সব খাল-বিল ডোবানালা রয়েছে, সেগুলো অবাধে এক শ্রেণীর ব্যক্তিমালিকানায় ভরাট হয়ে গেছে। ড্রেনের পানি নামার কোনো সুযোগ তৈরি হচ্ছে না। অপরিকল্পিত ড্রেনেজ ব্যবস্থার কারণে নানা সমস্যা সৃষ্টি হচ্ছে। তবে আমাদের চলমান যে কার্যক্রমগুলো আছে, সেগুলোর সুফল পেতে ভৈরববাসীকে একটু ধৈর্য ধারণ করতে হবে। তবে সচেতন মহলের মতে, দ্রুত কার্যকর পদক্ষেপ না নিলে বর্ষায় নগর জীবনে এই পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ রূপ নিতে পারে।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

আর্কাইভ

Please select a date!

নামাজের সময়সূচী

তারিখঃ ১৭ই জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিঃ
ফজর ০৪:৪৬
জোহর ১১:৪৩
আসর ০৩:৪৬
মাগরিব ০৫:২২
ইশা ০৬:৩৪
সূর্যোদয় : ০৬:০২ সূর্যাস্ত : ০৫:২২
অনলাইন জরিপ
ফলাফল
থার্টি-ফার্স্ট নাইটে তরুণদের জন্য প্রকাশ্যে পানি-টানি খাওয়ার বিরুদ্ধে আহ্বান। আপনার মন্তব্য দিন
হ্যা
100%
না
0%
মন্তব্য নেই
0%