০২:০৮ পি.এম
পাবনা প্রতিনিধির প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, মাত্র চার ঘণ্টার জন্য প্যারোলে মুক্তি পেয়ে মায়ের জানাজায় অংশ নিয়েছেন পাবনা-৩ এর সাবেক এমপি মকবুল হোসেনের ছেলে, কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগ নেতা গোলাম হাসনাইন রাসেল। তিনি ভাঙ্গুড়া উপজেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক, সাবেক উপজেলা চেয়ারম্যান এবং সাবেক মেয়র হিসেবে পরিচিত।
শুক্রবার (১৪ আগস্ট) সকাল সাড়ে নয়টার দিকে কঠোর নিরাপত্তার মধ্যে পুলিশের গাড়িতে করে ভাঙ্গুড়া পৌর সদরের সরদারপাড়া মহল্লার নিজ বাড়িতে পৌঁছান রাসেল। এ সময় সেখানে আগে থেকে দলীয় নেতাকর্মী, সমর্থক, স্বজন এবং এলাকার মানুষ ভিড় জমিয়েছিল। গাড়ি থেকে নামার পর বাড়ির উঠোনে ফ্রিজআপ গাড়িতে রাখা মায়ের মুখ শেষবারের মতো দেখেন রাসেল। সেখান থেকে আবার পুলিশের গাড়িতে করে ভাঙ্গুড়া ইউনিয়ন স্কুল অ্যান্ড কলেজ মাঠে জানাজার স্থানে পৌঁছান তিনি।
গোলাম হাসনাইন রাসেল বলেন, 'আজকে যারা আমার মায়ের জানাজায় হাজির হয়েছেন, তাদের মধ্যে কেউ নেই যে আমার মাকে চেনেন না। তিনি পাটুলিপাড়ার মেয়েও ছিলেন। ছোটবেলা থেকে আমরা যখন থেকেই জ্ঞান অর্জন করেছি, তখন থেকেই দেখে আসছি আমার মা রান্নাঘরে। মৃত্যুর আগ পর্যন্ত তিনি চুলায় রান্না করে গেছেন।
আরও পড়ুন: জামায়াতকে দেশ ও জাতির প্রত্যাশা পূরণে কাজ করতে হবে: জুবায়ের
আমার বিশ্বাস, যারা আমাদের বাড়িতে গিয়েছেন, তারা আমার মায়ের হাতে রান্না করা ডাল-ভাত খান নাই এমন কেউ নেই। আমার মা আসলে একজন গৃহিণী ছিলেন।'
তিনি আরও বলেন, 'আমার মা আজ পৃথিবীতে নেই। আজকের এই দিনে ভালোবাসার মানুষ যারা এখানে উপস্থিত হয়েছেন, তাদের কাছে আমার মায়ের জন্য দোয়া চাই। একজন মানুষের ভুল ত্রুটি থাকা স্বাভাবিক, আল্লাহ যেন তাকে জান্নাতবাসী করেন। আল্লাহ যেন তার কবরের সওয়াল জবাবকে সহজ করে দেন। আমার ছেলে আছে, আমাদের পরিবারের জন্য সবাই আপনারা দোয়া করবেন, আল্লাহ যেন আমাদের হেফাজত করেন। এলাকাবাসী যারা এখানে উপস্থিত হয়েছেন, আমাদের পরিবার যদি আপনাদের কাছে কোনো ভুল করে থাকে তার জন্য করজোড়ে ক্ষমা চাচ্ছি। আপনারা মাফ করে দেবেন।'
এরপর তিনি মায়ের জানাজায় অংশ নেন। জানাজায় ভাঙ্গুড়া, চাটমোহর, ফরিদপুর উজেলার সহ বিভিন্ন এলাকার কয়েক হাজার দলীয় নেতাকর্মী, আত্মীয়-স্বজন ও এলাকাবাসী অংশ নেন। জানাজা শেষে রাসেল পুলিশি পাহারায় পুলিশের গাড়িতে করে পার ভাঙ্গুরা কবরস্থানে যান। সেখানে তিনি মায়ের কবরে মাটি দিয়ে দোয়ায় অংশ নেন এবং শেষে পুলিশের গাড়িতে তিনি কারাগারে ফিরে যান।
এর আগে বৃহস্পতিবার (১৩ আগস্ট) সকালে ঢাকার একটি হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা যান রাসেলের মা ও পাবনা-৩ আসনের সাবেক এমপি মকবুল হোসেনের স্ত্রী নুরজাহান রেখা। তিনি দীর্ঘদিন ধরে কিডনিসহ বিভিন্ন জটিল রোগে ভুগতে থাকেন। শারীরিক অবস্থার অবনতি হলে প্রায় দেড় মাস আগে তাকে ঢাকার একটি হাসপাতালে ভর্তি করা হয়, যেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তাকে লাইফ সাপোর্টে রাখা হয়েছিল।
আরও পড়ুন: কেরানীগঞ্জে আওয়ামী লীগ নেত্রীর গলা কাটা মরদেহ উদ্ধার
গত ২০ জুলাই রাতে ঢাকার মিরপুর এলাকা থেকে সাবেক এমপির ছেলে রাসেল ও তার সহযোগী বশিরকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ। পরে ভাঙ্গুড়া থানায় দায়ের করা একটি বিস্ফোরক আইনের মামলায় গ্রেপ্তার দেখিয়ে তাদের কারাগারে পাঠানো হয়। সম্প্রতি মায়ের শারীরিক অবস্থার অবনতি উল্লেখ করে আদালতে জামিনের আবেদন করেছিলেন তার আইনজীবী। দীর্ঘ শুনানি শেষে বুধবার (১২ আগস্ট) পাবনা জেলা ও দায়রা জজ দ্বিতীয় আদালতের বিচারক আফতাবুজ্জামান তার জামিন মঞ্জুর করেন। যথাসময়ে আদালতের জামিনে মুক্তির আদেশ পাবনা জেলা কারাগারে পৌঁছালেও রাসেলকে আর কারামুক্ত করা হয়নি।
এর মধ্যে বৃহস্পতিবার ভোরে মৃত্যুবরণ করেন রাসেলের মা। এদিন রাসেলকে আদালতে হাজির করে চাটমোহর থানায় সম্প্রতি দায়ের হওয়া অন্য একটি মামলায় শোন অ্যারেস্ট দেখায় পুলিশ। ফলে একটি মামলায় আদালতের দেওয়া জামিন কার্যকর হওয়ার আগেই নতুন মামলায় গ্রেপ্তার দেখানোয় তিনি ফের কারাগারে আটকে পড়েন। এতে নিজের মায়ের জানাজায় শেষবারের মতো অংশ নেওয়ার সুযোগ থেকে বঞ্চিত হওয়ার আশঙ্কা হয় তার। একপর্যায়ে আদালতে থাকাবস্থায় মায়ের জন্য কান্নায় ভেঙে পড়েন তিনি। পরে জেলা ম্যাজিস্ট্রেট ও জেলা প্রশাসকের কাছে প্যারোলে মুক্তির আবেদন মঞ্জুর হওয়ার পর তিনি মায়ের জানাজায় অংশ নেওয়ার সুযোগ পান।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন