শনিবার, ৫ই সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ইং
০৭:০১ পি.এম
সাতক্ষীরার কালীগঞ্জে দলীয় শৃঙ্খলা ভঙ্গ করে বহিষ্কৃত নেতাদের সাথে দহরম মহরম করে দলীয় কার্যক্রম পরিচালনা করার অভিযোগে কালিগঞ্জ উপজেলার ৯ নম্বর মথুরেশপুর ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি শেখ নাজমুল ইসলাম বাবুকে কারণ দর্শানোর নোটিশ দিয়েছে জেলা বিএনপির কর্মকর্তারা। ৫ সেপ্টেম্বর জেলা বিএনপি'র সদস্য সচিব আবু জাহিদ ডাবলু স্বাক্ষরিত প্রেরিত কারণ দর্শনের নোটিশ সূত্রে জানা যায় ৯ নম্বর মথুরেশ পুর ইউনিয়ন বিএনপি'র সভাপতি শেখ নাজমুল ইসলাম বাবু দলীয় আইনশৃঙ্খলা ভঙ্গ করে বহিষ্কৃত নেতাদের সাথে বিরোধী ও কার্যক্রমে অংশগ্রহণ করায় যা দলীয় নীতি,আদর্শ এবং সাংগঠনিক শিষ্টাচারের পরিপন্থী।এমন এহেন কাজ আর কখনো কেউ যেন না করতে পারে সে জন্য শেখ নাজমুল ইসলাম বাবুকে আগামী ৭ সেপ্টেম্বর বিকাল তিনটার মধ্যে জেলা বিএনপির আহ্বায়ক ও সদস্য সচিব বরাবর লিখিত জবাবসহ জেলা বিএনপি'র কার্যালয়ে স্বশরীরে হাজির হওয়ার জন্য নির্দেশ প্রদান করা হয়েছে।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
নাটোর, ৫ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ : জেলার নলডাঙ্গা উপজেলার মাধনগর ডিগ্রি কলেজের একাডেমিক ভবন নির্মাণ কাজের ভিত্তি প্রস্তর স্থাপন করা হয়েছে।
৮৫ লাখ টাকা ব্যয়ে চারতলা ভিতের ওপরে একতলা ভবন নির্মাণ কাজ বাস্তবায়ন করছে শিক্ষা প্রকৌশল অধিদপ্তর।
আজ শনিবার কলেজের একাডেমিক ভবন নির্মাণ কাজের ভিত্তি প্রস্তর স্থাপন অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন, জাতীয় সংসদের হুইপ ও নাটোর-২ আসনের সংসদ সদস্য অ্যাড. রুহুল কুদ্দুস তালুকদার দুলু।
এ সময় প্রধান অতিথি বলেন, বিগত সরকার পরিকল্পিতভাবে দেশের শিক্ষা ব্যবস্থাকে ধ্বংস করে গেছে। কোন দেশকে ধ্বংস করতে হলে সেই দেশের শিক্ষা ব্যবস্থাকে ধ্বংস করা হয়। যেন নতুন প্রজন্ম দেশের যোগ্য নাগরিক এবং রাষ্ট্রের নীতি নির্ধারক হয়ে গড়ে উঠতে না পারে। শিক্ষাঙ্গনের ধ্বংসস্তুপের উপরে দাঁড়িয়ে বর্তমান সরকার বিগত সময়ের ক্ষতিপূরণ কাটিয়ে সামনে এগিয়ে যাওয়ার কর্মপরিকল্পনা বাস্তবায়ন করছে।
সংসদ সদস্য অ্যাড. রুহুল কুদ্দুস তালুকদার দুলু আরো বলেন, এই ধ্বংস থেকে উত্তরণের জন্যে সরকার নতুন কারিকুলাম প্রণয়নের পদক্ষেপ গ্রহণ করেছে। এছাড়া গবেষণা কার্যক্রমকে গতিশীল করা, প্রযুক্তিনির্ভর শিক্ষার বিস্তার এবং অবকাঠামো উন্নয়নেও কাজ করছে সরকার। আগামীতে এসব উদ্যোগের সুফল পাবে দেশ ও জাতি।
কলেজের অধ্যক্ষ খন্দকার আব্দুল মালেকের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথির বক্তব্য দেন, নাটোর জেলা পরিষদের প্রশাসক ও জেলা বিএনপি’র আহ্বায়ক রহিম নেওয়াজ।
এ সময় অন্যান্যের মধ্যে বক্তব্য দেন, জেলা বিএনপি’র যুগ্ম আহ্বায়ক মোস্তাফিজুর রহমান শাহীন, সাইফুল ইসলাম আফতাব এবং জেলা যুবদলের আহ্বায়ক এ হাই তালুকদার ডালিম।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
একজন সাংবাদিকের হাতে থাকা কলম কিংবা ক্যামেরা কোনো ব্যক্তির বিরুদ্ধে প্রতিশোধ নেওয়ার অস্ত্র নয়; এটি সমাজের অসঙ্গতি তুলে ধরার একটি মাধ্যম। জনস্বার্থে কোনো অনিয়ম, দুর্নীতি, অপরাধ কিংবা ক্ষমতার অপব্যবহারের অভিযোগ সামনে এলে তা অনুসন্ধান করে সত্যতা যাচাইয়ের পর প্রকাশ করাই দায়িত্বশীল সাংবাদিকতার অন্যতম প্রধান উদ্দেশ্য।
তবে সংবাদ প্রকাশের ক্ষেত্রে ভুল হলে তার দায়ও এড়ানোর সুযোগ নেই। কোনো ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে প্রকাশিত তথ্য মিথ্যা, বিভ্রান্তিকর কিংবা উদ্দেশ্যপ্রণোদিত প্রমাণিত হলে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তির প্রচলিত আইনে প্রতিকার চাওয়ার অধিকার রয়েছে। এটাই আইনের শাসনের স্বাভাবিক অংশ।
কিন্তু প্রশ্ন হলো—মামলা করার অধিকার যেমন থাকবে, তেমনি সেই মামলার দ্রুত নিষ্পত্তির নিশ্চয়তা কি থাকবে না?**
আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে ২০১৮ সালে প্রণীত বিতর্কিত ডিজিটাল নিরাপত্তা আইন এবং পরবর্তীতে ২০২৩ সালে প্রণীত সাইবার নিরাপত্তা আইন নিয়ে সাংবাদিক ও মতপ্রকাশের স্বাধীনতার সঙ্গে সংশ্লিষ্ট মহলে বিভিন্ন সময়ে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। এসব আইনের বিভিন্ন ধারার প্রয়োগকে কেন্দ্র করে সাংবাদিকদের বিরুদ্ধে মামলা, গ্রেপ্তার ও দীর্ঘ আইনি প্রক্রিয়ার ঘটনাও আলোচনায় এসেছে।
একজন সাংবাদিক যদি সত্যিই মিথ্যা তথ্য প্রকাশ করে থাকেন, তাহলে তদন্ত হোক, প্রমাণ যাচাই হোক এবং অভিযোগ সত্য হলে দ্রুত বিচারিক প্রক্রিয়ায় তাকে আইনের আওতায় আনা হোক। **কিন্তু অভিযোগের বিচার করতে গিয়ে যদি একজন সাংবাদিককে বছরের পর বছর আদালতের বারান্দায় ঘুরতে হয়, তাহলে সেটি শুধু একজন সাংবাদিকের ওপর চাপ নয়—এটি অনুসন্ধানী সাংবাদিকতার ওপরও এক ধরনের ভীতির পরিবেশ তৈরি করতে পারে।
কারণ একজন সাংবাদিক যখন দেখেন, একটি প্রতিবেদনের কারণে তাকে দীর্ঘদিন মামলা মোকাবিলা করতে হতে পারে, তখন পরবর্তী সময়ে আরও গুরুত্বপূর্ণ কোনো অনিয়ম বা দুর্নীতির তথ্য হাতে এলেও তিনি স্বাভাবিকভাবেই প্রশ্নের মুখে পড়ে আমি কি বিষয়টি প্রকাশ করব, নাকি মামলা ও হয়রানির আশঙ্কায় নীরব থাকব?”**
এই ভয় যদি সাংবাদিকতার জায়গা দখল করে নেয়, তাহলে ক্ষতিগ্রস্ত হবেন শুধু সাংবাদিক নন—ক্ষতিগ্রস্ত হবে সাধারণ মানুষও। কারণ অনেক সময় একজন সাধারণ মানুষের কাছে পৌঁছাতে না-পারা অভিযোগই একজন অনুসন্ধানী সাংবাদিকের প্রতিবেদনের মাধ্যমে জনসমক্ষে আসে।
তাই সাংবাদিকতার স্বাধীনতা মানে যা খুশি তা প্রকাশের স্বাধীনতা নয়। **সাংবাদিকের দায়িত্ব হলো তথ্য যাচাই করা, প্রমাণের ভিত্তিতে প্রতিবেদন তৈরি করা, সংশ্লিষ্ট ব্যক্তির বক্তব্য নেওয়া এবং পাঠকের সামনে সত্যকে যথাসম্ভব নিরপেক্ষভাবে তুলে ধরা।
অন্যদিকে, সংবাদে কারও বিরুদ্ধে ভুল বা মিথ্যা তথ্য প্রকাশিত হলে তারও পূর্ণ আইনি প্রতিকার পাওয়ার অধিকার রয়েছে। কিন্তু সেই প্রতিকার যেন সাংবাদিককে চুপ করিয়ে দেওয়ার হাতিয়ার না হয়—এ বিষয়টিও নিশ্চিত করা জরুরি।
মামলা হবে—বিচারও হবে। অভিযোগ থাকবে—প্রমাণও হবে। অপরাধ প্রমাণিত হলে শাস্তি হবে, আর অভিযোগ প্রমাণিত না হলে সাংবাদিকও আইনি সুরক্ষা পাবেন।
এটাই হওয়া উচিত একটি ন্যায়ভিত্তিক রাষ্ট্রব্যবস্থার স্বাভাবিক চিত্র।
বছরের পর বছর মামলা ঝুলে থাকা কোনো পক্ষের জন্যই কল্যাণকর নয়। এতে অভিযোগকারী যেমন ন্যায়বিচার থেকে বঞ্চিত হতে পারেন, তেমনি অভিযুক্ত সাংবাদিকও দীর্ঘদিন অনিশ্চয়তার মধ্যে থাকেন। সবচেয়ে বড় কথা, এর প্রভাব পড়ে **সত্য অনুসন্ধানের সাহসের ওপর।
আমরা এমন একটি সাংবাদিকতার পরিবেশ চাই, যেখানে সাংবাদিক অন্যায়ের বিরুদ্ধে প্রশ্ন করতে ভয় পাবেন না; আবার সাংবাদিকতার নাম করে কেউ মিথ্যা তথ্য ছড়িয়ে পার পাওয়ার সুযোগও পাবেন না।
কারও বিরুদ্ধে সংবাদ প্রকাশ মানেই তিনি অপরাধী—এমন নয়। আবার সাংবাদিকের হাতে প্রেস কার্ড থাকলেই তার প্রকাশিত প্রতিটি তথ্য সত্য—এমন দাবিও করা যায় না। সত্য-মিথ্যা নির্ধারণের দায়িত্ব তদন্ত ও বিচারপ্রক্রিয়ার।
তাই প্রয়োজন এমন একটি ভারসাম্যপূর্ণ ব্যবস্থা, যেখানে **সাংবাদিকের স্বাধীনতা থাকবে, নাগরিকের সম্মান ও অধিকার সুরক্ষিত থাকবে এবং অভিযোগের দ্রুত ও নিরপেক্ষ বিচার নিশ্চিত হবে।
শেষ কথা একটাই— সাংবাদিকের কলম যেন অন্যায়ের বিরুদ্ধে কথা বলতে ভয় না পায়, আর আইনের আদালত যেন ন্যায়বিচারের জন্য বছরের পর বছর অপেক্ষা করিয়ে না রাখে।
সত্য প্রকাশের পথ কঠিন হতে পারে, কিন্তু সেই পথ যেন ভয় ও দীর্ঘসূত্রতার কারণে বন্ধ হয়ে না যায় এ দায়িত্ব সাংবাদিকের যেমন, তেমনি রাষ্ট্র ও বিচারব্যবস্থারও।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
জাতীয় সংসদের বিরোধীদলীয় নেতা ও বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমান এমপি বলেছেন, দেশের সব বিভাগীয় শহরে এই লংমার্চ যাবে। আন্দোলন শুরু হয়েছে ছয় দফা দাবি আদায়ের জন্য। তিনি উল্লেখ করেছেন, "সরকার এসব দাবি মেনে না নিলে সরকার পতনের আন্দোলন সফল করেই ঘরে ফিরব।"
শনিবার (৫ সেপ্টেম্বর) দুপুরে ঢাকা থেকে চট্টগ্রামগামী লংমার্চের কুমিল্লার পথসভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
ডা. শফিকুর রহমান বলেন, "আপনারা কি ২৪ ঘণ্টা বিদ্যুৎ, গ্যাস ও পানি পান? কৃষকেরা কি সময়মতো সার পান? ব্যবসায়ীরা কি চাঁদাবাজমুক্ত পরিবেশে ব্যবসা করতে পারেন? কুমিল্লায় দুর্নীতি আছে কি না—আছে? এসব সমস্যার সমাধান চান বলেই আমরা রাস্তায় নেমেছি।"
গণভোটের গণরায় বাস্তবায়ন, জুলাই গণহত্যার বিচার, বিদ্যুৎ-গ্যাস ও সারসংকট নিরসন, নিত্যপণ্যের মূল্যবৃদ্ধি রোধ, আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির উন্নয়ন এবং দলীয়করণ বন্ধসহ ছয় দফা দাবিতে ১১ দলীয় ঐক্যজোটের ঢাকা-চট্টগ্রাম লংমার্চের অংশ হিসেবে এ পথসভার আয়োজন করা হয়।
তিনি বলেন, "আমরা সরকারকে পরিষ্কারভাবে বলেছি, কুমিল্লা বিভাগ নিয়ে আর টালবাহানা করবেন না। কুমিল্লা বিভাগ করুন এবং এর বাস্তবায়ন নিশ্চিত করুন।" তিনি আরও বলেন, "পাশের জেলা নোয়াখালীর মানুষও বিভাগ দাবি করছেন, তারাও দাবিদার। তাদেরও বিভাগ দিন। তবে কুমিল্লা যেহেতু ১৯৯৪ সাল থেকে বিভাগ দাবি করে আসছে, তাই কুমিল্লা বিভাগ আগে বাস্তবায়ন করুন।"
কুমিল্লা মহানগরী জামায়াতের আমির কাজী দ্বীনের সভাপতিত্বে পথসভায় বক্তব্য দেন জাতীয় সংসদের বিরোধীদলীয় চিফ হুইপ ও জাতীয় নাগরিক পার্টির আহ্বায়ক নাহিদ ইসলাম এমপি, বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর কেন্দ্রীয় সেক্রেটারি জেনারেল ও সাবেক এমপি অধ্যাপক মিয়া গোলাম পরওয়ার, লিবারেল ডেমোক্র্যাটিক পার্টির (এলডিপি) প্রেসিডেন্ট ড. কর্নেল (অব.) অলি আহমেদ বীর বিক্রম, বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের আমির আল্লামা মামুনুল হক, জাতীয় সংসদের বিরোধীদলীয় উপনেতা ও জামায়াতে ইসলামীর নায়েবে আমির ড. আবদুল্লাহ মুহাম্মদ তাহের এমপি, জাতীয় নাগরিক পার্টির মুখ্য সমন্বয়ক নাসির উদ্দিন পাটওয়ারী, জামায়াতে ইসলামীর কেন্দ্রীয় সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল মাওলানা এটিএম মাসুম, এলডিপির ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব বিল্লাল হোসেন মিয়াজী, জাতীয় নাগরিক পার্টির মুখপাত্র আসিফ মাহমুদ সজীব ভূঁইয়া এবং জামায়াতে ইসলামীর মাওলানা আব্দুল হালিম।
বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর কেন্দ্রীয় কর্মপরিষদ সদস্য ও কুমিল্লা মহানগরীর আমির কাজী দ্বীন মোহাম্মদের সভাপতিত্বে পথসভা পরিচালনা করেন কুমিল্লা মহানগর জামায়াতের সেক্রেটারি মু. মাহবুবর রহমান।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
পেছনের গাড়িটি সামনে থাকা গাড়িটিকে অতিক্রম করার চেষ্টা করছে। এই কারণে সিলেটগামী একটি পণ্যবাহী ট্রাক বাম দিকে সরে যায়।
হবিগঞ্জের চুনারুঘাট নতুন ব্রিজ এলাকায় মহাসড়কের কিনারায় উঠতেই গাড়ির চাকা দেবে যায়। অনেক চেষ্টা করেও সেটি তোলা সম্ভব হয়নি। পরে উদ্ধারযন্ত্র আনতে আরেকটি গাড়িতে সিলেটের উদ্দেশে রওনা হন চালক ও হেলপার।
শুক্রবার (৪ সেপ্টেম্বর) সকালে মহাসড়কে এমন দৃশ্য দেখা গেছে।
তবে এটি একমাত্র এই অংশের সমস্যা নয়, হবিগঞ্জের ৮২ কিলোমিটার অংশজুড়ে প্রতিদিনের চিত্র হয়ে দাঁড়িয়েছে। অনেক স্থানে পিচের অস্তিত্ব নেই, সড়কজুড়ে রয়েছে খানাখন্দ। এর ফলে প্রতিনিয়ত দুর্ঘটনা ঘটছে, এবং বৃষ্টির কারণে দুর্ভোগ আরো বৃদ্ধি পাচ্ছে।
জানা গেছে, ছয়লেন প্রকল্প শুরু হওয়ার প্রায় ১০ বছর পরেও জমি অধিগ্রহণ শেষ না হওয়ায় কাজ থমকে রয়েছে।
প্রকল্পের আওতায় আসার কারণে স্থানীয় সড়ক ও জনপথ বিভাগও বড় ধরনের সংস্কার কার্যক্রম পরিচালনা করছে না। ফলে দীর্ঘ সময় ধরে মহাসড়কের ছোট গর্তগুলো বড় খানাখন্দে পরিণত হয়েছে।
সরেজমিনে শায়েস্তাগঞ্জের নতুন ব্রিজ এলাকা, বাহুবল এবং নবীগঞ্জের মিনাজপুর, শেরপুর ও দিনারপুর ঘুরে দেখা গেছে, প্রায় ১০ কিলোমিটার অংশজুড়ে মহাসড়কের দূরাবস্থা। একই চিত্র মাধবপুর, শাহজিবাজার ও ওলিপুরেও। যানবাহন চলাচল ও যাত্রী ওঠানামায় প্রতিদিন চরম ভোগান্তির সম্মুখীন হতে হচ্ছে।
নতুন ব্রিজ এলাকার আশপাশে দুই কিলোমিটারে ১০ থেকে ২০ ফুট আকারের শতাধিক বড় গর্ত দেখা যাচ্ছে। এছাড়া পুরো সড়ক ছোট-বড় অসংখ্য খানাখন্দে ভরা। বৃষ্টির সময় এসব গর্তে পানি জমে ছোট জলাশয়ের মতো হয়ে যায়। যাত্রীদের কাদা মাড়িয়ে বাসে ওঠানামা করতে হয়।
হবিগঞ্জ থেকে ঢাকাগামী দিগন্ত পরিবহনের চালক মারুফ আহমেদ মন্তব্য করেন, নতুন ব্রিজ এলাকায় বাসগুলো পাঁচ থেকে ১০ মিনিট দাঁড়িয়ে যাত্রী তোলে। বৃষ্টির সময় গর্তে পানি জমে, যাত্রীরা শুরুতেই কাদায় ভিজে ক্ষোভ প্রকাশ করেন। একই ধরনের দুর্ভোগের কথা জানান বাসচালক সুজন মিয়া, রুহুল আমিন ও আল আমিন মিয়া।
জানা গেছে, ঢাকা-সিলেট ২০৯ কিলোমিটার মহাসড়ক ছয় লেনে উন্নীত করার কাজ ২০২১ সালে শুরু হয়। এজন্য জমি অধিগ্রহণ প্রকল্প ২০১৮ সালে শুরু হয়। ২০২৩ সালের মধ্যে কাজ শেষ হওয়ার কথা ছিল, কিন্তু হবিগঞ্জের ৮২ কিলোমিটারে প্রয়োজনীয় ৩০৩ একরের বিপরীতে অধিগ্রহণ হয়েছে মাত্র ৯০ একর। এখন প্রকল্পের মেয়াদ বাড়িয়ে ২০২৭ সাল করা হয়েছে।
হবিগঞ্জ সড়ক ও জনপথ বিভাগের নির্বাহী প্রকৌশলী জাকির হোসেন বলেন, ছয় লেন প্রকল্পের কাছে সড়ক হস্তান্তরের পর আমাদের পক্ষ থেকে সংস্কার করা সম্ভব হচ্ছে না। তাদের দায়িত্বে রয়েছে। এ কারণে দীর্ঘদিন ধরে খানাখন্দ বড় আকার ধারণ করেছে।
প্রকল্প ব্যবস্থাপক এ কে এম সামছুজ জোহা জানান, যেখানে গর্ত হচ্ছে, সেখানে ইট ফেলে সাময়িক মেরামত করা হচ্ছে। সাম্প্রতিক বৃষ্টিতে ক্ষতি বেড়েছে। ছয় লেনের কাজ শেষ হওয়ার আগ পর্যন্ত ঢালাইয়ের মাধ্যমে স্থায়ী সমাধান করা যায় কিনা, সেটিও বিবেচনা করা হচ্ছে।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ