০১:১৩ পি.এম
ঝিনাইদহের কালীগঞ্জ পৌরসভার নিশ্চিন্তপুর এলাকায় সরকারি খাল ভরাট করে ড্রেন নির্মাণের অভিযোগ উঠেছে। সরকারি কাগজপত্রে খাল হিসেবে উল্লেখ থাকলেও সেখানে প্রায় ১ কোটি টাকা ব্যয়ে ড্রেন নির্মাণের কাজ চলছে। এর ফলে বর্ষাকালে পানির স্বাভাবিক প্রবাহ ব্যাহত হয়ে চরম জলাবদ্ধতার শঙ্কা প্রকাশ করেছে স্থানীয় বাসিন্দারা।
সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, ২০২৫-২০২৬ অর্থবছরে কোভিড-১৯ প্রকল্পের অধীনে সরকারি খালের ওপর ১৬৫ মিটার দীর্ঘ ও ৮ ফুট প্রস্থের এই ড্রেন নির্মাণকাজে ব্যয় ধরা হয়েছে প্রায় ১ কোটি টাকা। কাজটি পেয়েছে ‘বাংলাদেশ ট্রেডিং অ্যান্ড কর্পোরেশন’ নামের ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান, যার স্বত্বাধিকারী নজরুল ইসলাম। তবে স্থানীয়ভাবে কাজটি দেখাশোনা করছেন উপজেলা যুবদলের সদস্যসচিব মাহবুবুর রহমান মিলন।
ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের স্বত্বাধিকারী নজরুল ইসলাম জানান, তার লাইসেন্সে জেলা যুবদলের সাধারণ সম্পাদক আশরাফুল ইসলাম পিন্টু এই কাজ করেন। স্থানীয় দেখভালের দায়িত্বে থাকা মাহবুবুর রহমান মিলন দাবি করেন, স্থানীয় সংসদ সদস্য ও দুই গ্রামের লোকজনের সঙ্গে সিদ্ধান্ত নিয়েই কাজটি করা হচ্ছে।
আরও পড়ুন: এআই দিয়ে আপত্তিকর ভিডিও তৈরির অভিযোগে ভৈরবে নারীর সংবাদ সম্মেলন, সামাজিক ও পারিবারিক সংকটে তানিয়া
পৌর ভূমি অফিস সূত্রে জানা যায়, কালীগঞ্জ পৌরসভার নিশ্চিন্তপুর মৌজার ১ নম্বর খতিয়ানের ২৫৫২ ও ২৬০১ নম্বর দাগে সরকারি খাল রয়েছে। এর মধ্যে ২৬০১ নম্বর দাগের সাড়ে ৩২ শতক জায়গার ওপর এই ড্রেন নির্মাণ করা হচ্ছে। অথচ মৌজার সরকারি ম্যাপেও ওই স্থানটি খাল হিসেবে চিহ্নিত এবং এর প্রস্থ ১৫ থেকে ২০ ফুট পর্যন্ত ছিল।
স্থানীয়দের ভাষ্য, বর্তমান সরকার যখন খাল পুনর্খননের উদ্যোগ নিয়েছে, তখন কালীগঞ্জে খাল ভরাট করে ড্রেন নির্মাণ করা হচ্ছে। কালীগঞ্জ পৌরসভার সাবেক কমিশনার মুক্তার হোসেন জানান, পৌরসভার কয়েকটি গ্রামসহ শিমলা-রোকনপুর ও ত্রিলোচনপুর ইউনিয়নের প্রায় ২৭টি গ্রামের পানি এই খালের মাধ্যমেই শহরের ভেতর দিয়ে চিত্রা নদীতে নিষ্কাশিত হয়। এখানে সরু ড্রেন নির্মাণ করা হলে লাখো মানুষ জলাবদ্ধতার কবলে পড়বে এবং সরকারের কোটি টাকা অপচয় হবে।
কালীগঞ্জ পৌরসভার প্রকৌশলী কবির হাসান দাবি করেন, যে স্থানে ড্রেন নির্মাণ করা হচ্ছে তা জনসাধারণের জায়গা এবং এলাকাবাসীর সঙ্গে আলোচনা ও রেজুলেশন করেই এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।
তবে কালীগঞ্জ পৌর নায়েব খোকন কুমার দাস জানান, সরকারি নথিতে ২৫৫২ ও ২৬০১ নম্বর দাগে সাড়ে ৩২ শতক জমি খাল হিসেবেই রেকর্ডভুক্ত রয়েছে।
আরও পড়ুন: তিস্তায় অভয়াশ্রম নেই, হারিয়ে যাচ্ছে দেশি মাছ
পৌরসভার প্রশাসক রেজওয়ানা নাহিদ বলেন, এলাকাবাসীর দাবির প্রেক্ষিতেই এই ড্রেন নির্মাণ করা হচ্ছে। পৌরসভার সার্ভেয়ারের তথ্য অনুযায়ী খালের কিছু অংশ রাস্তার মধ্যে চলে গেছে এবং বর্তমানে যেখানে কাজ হচ্ছে সেটি জনসাধারণের জায়গা। স্থানীয় সংসদ সদস্য, এলাকাবাসী ও বিশ্বব্যাংকের প্রতিনিধিদের সঙ্গে আলোচনা করেই এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন