০১:০৮ পি.এম
বান্দরবানের চিম্বুক রেঞ্জে পর্যটন বিকাশ, পরিবেশ সংরক্ষণ ও ঐতিহাসিক মেলবন্ধনের একটি অনন্য উদাহরণ স্থাপন করা হয়েছে। ২৭ কিলোমিটার দীর্ঘ পাহাড়ি আঁকাবাঁকা সড়কের পুরো এলাকাজুড়ে দিনব্যাপী একটি বিশেষ পরিচ্ছন্নতা অভিযান পরিচালিত হয়েছে। শনিবার সকাল ৭টা থেকে শুরু হওয়া এই কর্মসূচিতে স্থানীয় ম্রো সম্প্রদায়ের এক হাজারেরও বেশি নারী-পুরুষ স্বতঃস্ফূর্তভাবে অংশগ্রহণ করে পাহাড়ি সড়কে উৎসবমুখর পরিবেশ তৈরি করেন।
৭ নভেম্বর ‘জাতীয় বিপ্লব ও সংহতি দিবস’ উপলক্ষে এবং দেশব্যাপী পরিচ্ছন্নতা অভিযানের অংশ হিসেবে ম্রো অধ্যুষিত চিম্বুক রেঞ্জে এই বিশেষ উদ্যোগ নেওয়া হয়। এতে সরাসরি মাঠে নেমে নেতৃত্ব দেন পার্বত্য চট্টগ্রামবিষয়ক মন্ত্রী সাচিং প্রু জেরী।
কর্মসূচির আনুষ্ঠানিক উদ্বোধনকালে মন্ত্রী সাচিং প্রু জেরী ম্রো জনগণের উন্নয়ন ও পাহাড়ে স্থিতিশীলতা আনয়নে শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের ঐতিহাসিক অবদানের কথা গুরুত্বের সঙ্গে স্মরণ করেন। তিনি উল্লেখ করেন, "অতীতে শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান পিছিয়ে পড়া এই জনগণের জীবনমান উন্নয়ন ও সুরক্ষায় এ অঞ্চলে ‘ম্রো কমপ্লেক্স’ গড়ে তুলেছিলেন।"
আরও পড়ুন: এআই দিয়ে আপত্তিকর ভিডিও তৈরির অভিযোগে ভৈরবে নারীর সংবাদ সম্মেলন, সামাজিক ও পারিবারিক সংকটে তানিয়া
মন্ত্রী আরও বলেন, "সেই উন্নয়ন, সম্প্রীতি ও সংহতির ধারাবাহিকতায় আজও পাহাড়ি অঞ্চলের মানুষ একতাবদ্ধ।" ম্রো জনগণের এই স্বতঃস্ফূর্ত অংশগ্রহণ প্রমাণ করে যে, তারা দেশ ও প্রকৃতির সুরক্ষায় কতটা নিবেদিত।
মন্ত্রী দৃঢ় প্রত্যয় ব্যক্ত করে বলেন, বান্দরবানের প্রধান আকর্ষণ হিসেবে পরিচিত এই ২৭ কিলোমিটার সড়কের দুপাশ সম্পূর্ণ দূষণমুক্ত ও পরিচ্ছন্ন না হওয়া পর্যন্ত এ অভিযান অব্যাহত থাকবে। তিনি আশা প্রকাশ করেন যে, এটি চিম্বুক রেঞ্জকে বিশ্বমানের একটি নান্দনিক রূপ দেবে।
স্থানীয় ম্রো নেতৃবৃন্দ ও আয়োজকেরা জানান, বান্দরবানের প্রাণপ্রকৃতি রক্ষা এবং চিম্বুককে একটি পরিবেশবান্ধব পর্যটন কেন্দ্র হিসেবে গড়ে তোলাই এই কর্মসূচির মূল লক্ষ্য। পর্যটনের প্রসার ঘটলে, দুর্গম পাহাড়ে বসবাসরত ম্রো জনগণের বিকল্প কর্মসংস্থান ও অর্থনৈতিক উন্নয়ন নিশ্চিত হবে। পাশাপাশি, সমতলের পর্যটকদের সঙ্গে পাহাড়ি ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠীর সাংস্কৃতিক মেলবন্ধন ও পারস্পরিক সৌহার্দ্য আরও সুদৃঢ় হবে।
উদ্বোধনী কর্মসূচিতে স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তি, জনপ্রতিনিধি ও বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ উপস্থিত ছিলেন।
আরও পড়ুন: তিস্তায় অভয়াশ্রম নেই, হারিয়ে যাচ্ছে দেশি মাছ
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন