ঢাকা বুধবার, ২১শে অক্টোবর, ২০২৬খ্রিষ্টাব্দ ০৫ই কার্তিক, ১৪৩৩বঙ্গাব্দ ১০ই জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিজরী
বুধবার, ২১শে অক্টোবর, ২০২৬ইং ০৫ই কার্তিক, ১৪৩৩বাং

মুসলিম ও আদিবাসী নারীদের ভাতার টাকাও গায়েব করলেন শুভেন্দু সরকার!


মুসলিম ও আদিবাসী নারীদের ভাতার টাকাও গায়েব করলেন শুভেন্দু সরকার!

ভোটার তালিকা থেকে নাম বাদ যাওয়ার ভীতি কাটিয়ে উঠতে যে কঠিন লড়াই করতে হয়েছিল পুনিশোলবাসী হাজার হাজার মানুষের, তার পর মুসলিম নারীরা অভিযোগ করছেন যে, অন্নপূর্ণা যোজনার ভাতার জন্য বারংবার আবেদন করার পরেও তারা কেবল সরকারি উদাসীনতাই পাচ্ছেন। একইভাবে আদিবাসী নারীরাও একই ধরনের বঞ্চনার শিকার হচ্ছেন; এই বিষয়ে সরব হতে গিয়ে কেউ কেউ আবার হুমকি ও ধমকের মুখোমুখি হয়েছেন বলে অভিযোগ করেছেন।

পশ্চিমবঙ্গের বাঁকুড়া জেলার ওন্দা ব্লকের অন্তর্গত পুনিশোল গ্রামের প্রায় ৮,০০০ বৈধ ভোটার ভোটার তালিকার 'বিশেষ নিবিড় পুনরীক্ষণ' (এসআইআর) চলাকালীন অনিশ্চয়তার মুখে পড়েছিলেন। তাঁদের মধ্যে বিপুল সংখ্যক নারী ছিলেন। তাঁদের নামের বিরুদ্ধে তথাকথিত "যুক্তিসঙ্গত অসঙ্গতি" থাকার অভিযোগ তুলে শুনানির জন্য ডেকে পাঠানো হয়েছিল।

নোটিশ পেয়ে বাসিন্দারা চরম বিভ্রান্তিতে পড়ে যান। কারণ নিজেদের এই দেশেই জীবিত ও বৈধ নাগরিক হিসেবে প্রমাণ করার ভার তাঁদের ওপরই দেওয়া হয়েছিল। কয়েকজন বাসিন্দা ব্যক্তিগতভাবে শুনানিতে উপস্থিত হলেও তাঁদের অভিযোগ, প্রশাসনিক কর্মকর্তারা তাঁদের বক্তব্য বা উদ্বেগে কোনো গুরুত্বই দেননি। গত ১৭ মার্চ, পুনিশোলের ভুক্তভোগী নারী-পুরুষ বৈধ ভোটারদের সাথে কথা বলে একটি বিশেষ প্রতিবেদন প্রকাশ করে 'দ্য ওয়্যার'।

আরও পড়ুন: আরাকান আর্মির হাতে রোহিঙ্গাদের দাস বানিয়ে শোষণ, জমি দখল ও জাতিগত নিধন

প্রতিবেদনটি প্রকাশিত হওয়ার পর গ্রামবাসীরা তার কপি এবং প্রয়োজনীয় নথিপত্র নিয়ে ওন্দা ব্লক অফিসে জমা দেন। এরপর সরকারি কর্মকর্তারা পুনিশোল পরিদর্শনে যান, নথিপত্র পরীক্ষা করেন এবং উপযুক্ত ভোটারদের নাম তালিকায় ফের যুক্ত করেন। ফলে বাসিন্দারা ভোট দেওয়ার সুযোগ পান। নির্বাচনের দিন দীর্ঘ লাইনে দাঁড়িয়ে ভোট দেওয়ার সময় বহু মানুষ ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, মিডিয়া তাঁদের এই দুর্দশার কথা তুলে না ধরলে হয়তো তাঁরা ভোটই দিতে পারতেন না।

এখন রাজ্যের অন্যতম বৃহৎ মুসলিম সংখ্যাগরিষ্ঠ পুনিশোল গ্রামের নারীরা নতুন করে আরও একটি ধাক্কা খেয়েছেন। এবার তাঁদের অভিযোগ রাজ্য সরকারের নারী সামাজিক কল্যাণমূলক ‘অন্নপূর্ণা যোজনা’র ভাতা থেকে তাঁদের বঞ্চিত রাখা নিয়ে।

‘আমরা বারবার আবেদন করেছি, কিন্তু টাকা কখনো আসেনি’

পুনিশোলের ২০টি পাড়ায় ২৫ থেকে ৬০ বছর বয়সী প্রায় ৯,০০০ নারী বসবাস করেন। গ্রামের এক স্বাস্থ্যকর্মী গোলাম খাজা জানান, প্রায় ৮,০০০ নারী অনলাইনে ও অফলাইনে অন্নপূর্ণা যোজনার জন্য আবেদন করলেও মাত্র ৫০০ জনের মতো নারী আর্থিক সহায়তা পেয়েছেন।

আরও পড়ুন: ইনজেকশনের ভয় দূর করতে অভিনব 'স্টিকি প্যাচ' উদ্ভাবন, ২৫ হাজার ডলার জয় ক্ষুদে ছাত্রীর

জাসিমা খাতুন নামের এক আশা কর্মী বলেন, নারীরা প্রায়ই তাঁর কাছে এসে জানতে চান কবে তারা এই ভাতার টাকা পাবেন। “আমরা প্রতিদিন স্বাস্থ্য ও অন্যান্য বিষয়ে খবরাখবর নিতে এই নারীদের বাড়ি বাড়ি যাই। অনেকেই আমাদের কাছে জানতে চান অন্নপূর্ণা যোজনার টাকা কবে আসবে। কিন্তু আমাদের কাছে দেওয়ার মতো কোনো উত্তর নেই,” বলেন তিনি।

গত শনিবার (১০ অক্টোবর), 'দ্য ওয়্যার'-এর প্রতিনিধি পুনিশোলের একাধিক পাড়ায় গিয়ে স্থানীয় নারীদের সাথে কথা বলেন। তাঁরা জানান, বারবার পুনিশোল পঞ্চায়েত ও ওন্দা ব্লক অফিসে গিয়েও কোনো সদুত্তর পাননি। কেউ কেউ অভিযোগ করেছেন, আধিকারিকরা তাঁদের কথা না শুনেই সরাসরি তাড়িয়ে দিয়েছেন।

হাঁসদাবাদ পাড়ার গৃহবধূ রোশনা বিবি মন্ডল, জারিনা বিবি মল্লিক, সোলেমা খাতুন ও লতিফুন বিবি বলেন, “সরকার যখনই ফরম জমা দিতে বলেছে, আমরা জমা দিয়েছি। পরে বলা হলো অনলাইনে আবেদন করতে, আমরা সেটাও করেছি। অথচ আজ পর্যন্ত আমরা একটা টাকাও পাইনি।”

তারা জানান, আবেদন কেন আটকে আছে তা জানতে ব্লক অফিসে গেলে তাঁদের কোনো পাত্তাই দেওয়া হয়নি।

আরও পড়ুন: ট্রাম্প ও নেতানিয়াহুকে ‘যমজ শিশু’ বলে কটাক্ষ ইরানের জেনারেলের

বারবার চক্কর কাটার পর কয়েকজন কর্মকর্তা নাকি তাঁদের স্পষ্ট বলে দেন যে, হিন্দু আবেদনকারীরা আগে টাকা পাবেন, তার পর পাবেন মুসলিমরা। “এটা কী ধরনের বিচার?” প্রশ্ন তোলেন ফাতেমা বিবি খান ও আখরুন খাতুন।

এলাকার নারীরা জানান, ইতিপূর্বে তৃণমূল কংগ্রেস সরকারের সময় চালু থাকা ‘লক্ষ্মী ভান্ডার’ প্রকল্পে তারা ১৫০০ রূপি পেতেন। কিন্তু বর্তমান ভারতীয় জনতা পার্টি (বিজেপি) নেতৃত্বাধীন সরকার ভাতার পরিমাণ বাড়িয়ে ৩,০০০ রুপি করার পর কেন সেই টাকা আসা বন্ধ হয়ে গেল—তা তারা বুঝতে পারছেন না। “আমাদের আবেদনে কি কোনো ভুল ছিল? কেউ তো কিছুই বলছে না। আমরা মুসলিম বলেই কি টাকা পাব না?” প্রশ্ন তোলেন তারা।

আখরুন খাতুন বলেন, “হিন্দু-মুসলিম সবাই এক হয়ে ভোট দিয়ে সরকার গঠন করেছি। তাহলে এখানে আমাদের সাথে কেন এই বৈষম্য? আগে তো কখনো এমন ঘটেনি।”

জারিনা বিবি জানান, বারবার ধর্না দিয়েও হাঁসদাবাদ পাড়ার একজন নারীও অন্নপূর্ণা যোজনার টাকা পাননি। “ওরা খালি নথিপত্র জমা নেয় আর বলে যাচাই করা হচ্ছে। কিন্তু কাজের কাজ কিছুই হয় না,” বলেন তিনি। অপমানিত হওয়ার ভয়ে অনেক নারী এখন আর ব্লক অফিসে যেতে সাহস পাচ্ছেন না। গৃহবধূ জোৎস্না খাতুন ও হাবিবা বিবি মন্ডল বলেন, “আমরা এখন ব্লক অফিসে যেতে ভয় পাই। যদি আবার আমাদের অপমান করে তাড়িয়ে দেয়?”

আরও পড়ুন: মার্কিন যুদ্ধজাহাজে ক্ষেপণাস্ত্র হামলার সক্ষমতা রয়েছে ইরানের: আইআরজিসি

ফিরোজা খাতুনসহ অন্য নারীরা প্রশ্ন তোলেন, “ভোটের সময় আমাদের নাম কেটে দেওয়ার ভয় দেখানো হয়েছিল। তখনও আমাদের হেনস্থা করা হয়েছে। যখন আমরা ব্লক অফিসে গিয়ে ‘দ্য ওয়্যার’-এর রিপোর্ট দেখালাম, তখন গিয়ে হয়রানি থামল আর ভোট দিতে পারলাম। এখন আমরা কার দরজায় গিয়ে দাঁড়াব?”

‘পরিবার চালানোর জন্য এই টাকাটা আমাদের খুব দরকার ছিল’

দরিদ্র পরিবারগুলোর কাছে এই অনুদানের মূল্য অনেক। নারীরা জানান, এই টাকাটা সংসারের নিত্যদিনের খরচ সামলাতে খুব সাহায্য করত। লতিফুন বিবি মন্ডল বলেন, “আমাদের বাড়ির পুরুষরা প্রতিদিন ভোরে সাইকেল নিয়ে বাঁকুড়া, তালড্যাংরা, ওন্দাসহ নানা এলাকায় কাজে বেরিয়ে যান। তাঁরা বাড়ি বাড়ি ঘুরে পুরনো বস্তা, বই-খাতা, পেপার, লোহালক্কড় ও ভাঙাচোরা কম দামে কিনে সামান্য লাভে বিক্রি করেন। লক্ষ্মী ভান্ডারের যে টাকাটা পেতাম, তা দিয়ে সংসারটা কোনোমতে টেনেটুনে চলত। এখন সেই টাকাটাও বন্ধ হয়ে গেছে।”

একই ক্ষোভ প্রকাশ করেন জোৎস্না বেগম ও হাবিবা বিবি মন্ডল। তাঁরা জানান, প্রয়োজন হলে তাঁরা আবারও ওন্দা ব্লক অফিসে যাবেন এবং সেখানে ধর্না দেবেন। নারীদের স্পষ্ট কথা—তারা সরকারি নিয়ম মেনেই আবেদন করেছেন, সুতরাং কেন টাকা দেওয়া হচ্ছে না তার স্পষ্ট জবাব সরকারকে দিতেই হবে।

আরও পড়ুন: বাংলাদেশ থেকে ভারতে ৫.৮৪ কোটি রুপির স্বর্ণ চোরাচালান জব্দ

কারিগরি সমস্যার অজুহাত বিজেপি বিধায়কের; মানতে নারাজ নারীরা

পুনিশোলের এত বিপুল সংখ্যক নারী কেন ভাতা পাচ্ছেন না জানতে চাওয়া হলে ওন্দার বিজেপি বিধায়ক অমরনাথ শাখা জানান, কিছু আবেদনকারীর হয়তো দুই বা তিনটি ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্ট রয়েছে কিংবা ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্টের সাথে আধার কার্ডের লিঙ্ক নেই, যার কারণে টাকা প্রক্রিয়াজাত করা যাচ্ছে না।

তবে বিধায়কের এই ব্যাখ্যা সম্পূর্ণ উড়িয়ে দিয়েছেন ক্ষুব্ধ নারীরা। হাঁসদাবাদের বাসিন্দা নাসুদা বিবি খান ও জারিনা বিবি মল্লিক বলেন, “আমরা রাত জেগে বাঁকুড়া হেড পোস্ট অফিসে গিয়ে মোবাইল নম্বরের সাথে আধার কার্ড লিঙ্ক করিয়েছি। আমাদের মধ্যে কার দুটো-তিনটে অ্যাকাউন্ট আছে?” নারীদের এই ক্ষোভ একটি বড় প্রশ্ন তুলে দেয়—যেখানে নিয়ম মেনে আবেদন করা সত্ত্বেও সাহায্য মিলছে না, সেখানে এত বিলম্বের সঠিক কারণ কেন তাঁদের স্পষ্ট করে জানানো হচ্ছে না?

অন্নপূর্ণা ভাতার দাবিতে প্রতিবাদ করায় হুমকির মুখে আদিবাসী নারীরা

আরও পড়ুন: ২০২৭ সালে প্রতিরক্ষা খাতে ২২৯ শতাংশ বাজেট বাড়াল তুরস্ক

শুধু পুনিশোলের মুসলিম নারীরাই নন, পশ্চিমবঙ্গের জঙ্গলমহল অধ্যুষিত বাঁকুড়া জেলার তপশিলি উপজাতি (এসটি) সম্প্রদায়ের নারীরাও একই অন্নপূর্ণা যোজনার সুযোগ থেকে বঞ্চিত হওয়ার অভিযোগ তুলেছেন। বাঁকুড়া জঙ্গলমহল এলাকার অংশ, যেখানে বিশাল সংখ্যক আদিবাসী জনগোষ্ঠীর বসবাস। রানিবাঁধ, রাউতোড়া ও বারিকুল এলাকার জনসংখ্যার অর্ধেকেরও বেশি সাঁওতাল, শবর, মাহালি, ভূমিজ, মুণ্ডা ও কোড়া সম্প্রদায়ের মানুষ।

এই সম্প্রদায়ের নারীরাও জানিয়েছেন যে, পঞ্চায়েত ও ব্লক অফিসে বারবার ধরণা দিয়েও কোনো কাজ হয়নি।

রাজাকাত এলাকার বিরোতি গ্রামের সরস্বতী সরদার ও ভানুমতী সরদার এবং জিলিমিলির নমিতা টুডু ও কল্পনা সোরেন বলেন, “আমরা পঞ্চায়েত আর ব্লক অফিসে অন্নপূর্ণার টাকার জন্য বহুবার গিয়েছি, কিন্তু কেউ আমাদের কথা শোনে না। আমরা এখন পঞ্চায়েত অফিসের সামনে অবস্থান ধর্মঘটে বসার প্রস্তুতি নিচ্ছি।”

ভানুমতী সরদার অভিযোগ করেন, গত ৭ অক্টোবর তারা যখন রাজাকাত এলাকায় ডেপুটেশন জমা দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেন, তখন বিজেপি কর্মীরা তাঁদের ভয়ভীতি দেখান। “তারা আমাদের হুমকি দিয়েছিল যে অন্নপূর্ণা যোজনা নিয়ে মুখ খুললে ফল ভালো হবে না। কিন্তু আমরা তাঁদের হুমকিতে মাথা নত করিনি। হামলা হলে প্রতিহত করার প্রস্তুতি নিয়েই আমরা ডেপুটেশন দিতে গিয়েছিলাম,” বলেন ভানুমতী। শেষ পর্যন্ত তারা ডেপুটেশন জমা দিতে সক্ষম হন।

একইভাবে বড়জোড়া এলাকার শীতলা গ্রামের সর্পবেদা পরিবারের বহু আদিবাসী নারী এই ভাতা পাননি। মালা সর্পবেদা নামে এক স্থানীয় নারী জানান, তিনি সরকারি নিয়ম মেনে ফরম পূরণ করে জমা দিলেও আজ পর্যন্ত কোনো সুরাহা পাননি।

রাজ্যজুড়ে ৩০ লাখেরও বেশি নারীর আবেদন ‘যাচাইকরণে’ আটকে

পশ্চিমবঙ্গে অন্নপূর্ণা যোজনার প্রায় ৩০ লাখেরও বেশি নারীর আবেদন এখনো যাচাইকরণ প্রক্রিয়ার অধীনে ঝুলন্ত অবস্থায় রয়েছে। পশ্চিমবঙ্গের নারী ও শিশু বিকাশ বিভাগের একজন ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা জানান, অনলাইনে ও অফলাইনে মোট প্রায় ১ কোটি ৯০ লাখ আবেদনপত্র জমা পড়েছিল। এর মধ্যে ১ কোটি ৫৬ লাখ নারীকে ৩,০০০ রুপি করে অনুদান দেওয়া হয়েছে।

বর্তমানে অন্নপূর্ণা যোজনার আবেদন পোর্টালটি বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে, যার ফলে নতুন করে আবেদন জমা দেওয়ার কোনো সুযোগ নারীদের কাছে নেই। গত ২ থেকে ৪ অক্টোবর অনুষ্ঠিত "সেবা সেতু অভিযান" শিবিরে প্রথমে অন্নপূর্ণা যোজনাকে তালিকার বাইরে রাখা হয়েছিল। তবে ভাতা না পাওয়া নারীদের তুমুল ক্ষোভের মুখে পড়ে রাজ্য জুড়ে বিভিন্ন শিবিরে অন্নপূর্ণা যোজনা সংক্রান্ত অভিযোগ বা ক্ষোভ গ্রহণের বিশেষ ব্যবস্থা করতে বাধ্য হয় প্রশাসন। প্রয়োজনীয় সব নথিপত্র জমা দেওয়া সত্ত্বেও কেন এত বিপুল পরিমাণ আবেদন যাচাইকরণের নামে আটকে রাখা হয়েছে—তা নিয়ে প্রশ্ন তুলছেন নারীরা।

ক্ষুব্ধ নারীদের দেখা করার আহ্বান বিজেপি বিধায়কদের

আন্দোলন ও অসন্তোষ বাড়তে থাকায় ক্ষমতাসীন বিজেপি বিষয়টিকে রাজনৈতিকভাবে সামাল দেওয়ার চেষ্টা করছে। বেশ কয়েকটি স্থানে বিজেপি বিধায়কেরা যাদের আবেদন আটকে রয়েছে, তাঁদের সাথে ব্যক্তিগতভাবে দেখা করার কথা বলেছেন। তবে এই ধরণের বৈঠকগুলো নতুন বিতর্কের জন্ম দিচ্ছে।

সম্প্রতি বাঁকুড়া শহরের কেথারডাঙ্গা এলাকার মুসলিম নারীরা বাঁকুড়ার বিধায়ক নীলাদ্রি শেখর দানার সাথে দেখা করতে গেলে তিনি তাঁদের চরম অপমান করেন এবং সেখানে ধর্মীয় বিভাজনের উসকানি দেন বলে অভিযোগ উঠেছে। এক জ্যেষ্ঠ সরকারি কর্মকর্তা জানান, অন্নপূর্ণা যোজনার পাওয়ার জন্য সরকার প্রথমে কিছু লিখিত নির্দেশিকা জারি করেছিল। তবে পরবর্তীতে মৌখিক ও অলিখিত নির্দেশনার কারণে পুরো প্রক্রিয়াটি জটিল হয়ে পড়েছে।

তিনি জানান, তেমনই একটি অলিখিত নির্দেশ ছিল—যেসব পরিবারের মাসিক আয় ১০,০০০ টাকার বেশি, তারা এই প্রকল্পের সুবিধা পাবেন না। এই পরিবর্তনশীল ও অলিখিত নিয়মাবলীর কারণে আবেদন যাচাইয়ের কাজে চরম গোলযোগ তৈরি হয়েছে। সরকারি কর্মচারীরা যাচাই সম্পন্ন করার পরও বহু আবেদন ঝুলন্ত অবস্থায় থেকে যাচ্ছে।

মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর প্রশাসনিক বৈঠকগুলোতেও অন্নপূর্ণা যোজনা নিয়ে বারবার উদ্বেগ প্রকাশ করা হয়েছে। বিভিন্ন জনসভাতেও বিষয়টি উঠেছে, তবুও সমস্যার কোনো স্থায়ী সমাধান মেলেনি।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

নিলসেনের এআই অগ্রযাত্রায় ভারত কিভাবে শক্তি যোগাচ্ছে

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

বৃহস্পতিবার, ১৫ই অক্টোবর, ২০২৬ ইং

০৭:০১ পি.এম


নিলসেনের এআই অগ্রযাত্রায় ভারত কিভাবে শক্তি যোগাচ্ছে

ভারতের তথ্য ও দর্শক পরিমাপকারী প্রতিষ্ঠান নিলসেন তাদের কার্যক্রমকে বৈশ্বিক উদ্ভাবনের কেন্দ্র হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করার লক্ষ্যে কাজ করছে। দেশটিতে প্রতিষ্ঠানটির কর্মী সংখ্যা পাঁচ হাজারের বেশি, যা তাদের বৈশ্বিক কর্মী সংখ্যা প্রায় অর্ধেক। বেঙ্গালুরুতে অবস্থিত কেন্দ্রটি নিলসেনের সবচেয়ে বড় কর্মকেন্দ্র হিসেবে পরিচিত।

নিলসেনের প্রধান প্রযুক্তি কর্মকর্তা অনিল গোয়েল মানিকন্ট্রোলকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে এসব তথ্য তুলে ধরেন। তিনি জানান, প্রতিষ্ঠানটির বৈশ্বিক উদ্ভাবন কার্যক্রমের প্রায় ৭৫ শতাংশই ভারত থেকে পরিচালিত হচ্ছে। বিজ্ঞাপনের তথ্য বিশ্লেষণ স্বয়ংক্রিয় করা, খেলাধুলায় বিভিন্ন ব্র্যান্ডের দৃশ্যমানতা পর্যবেক্ষণ এবং বিচ্ছিন্ন ও বহুমাধ্যমনির্ভর পরিবেশে দর্শক পরিমাপের জন্য কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) ব্যবহার করা হচ্ছে।

গোয়েল বলেন, ‘আমরা ভারতে আমাদের কার্যক্রমকে কখনোই শুধু বৈশ্বিক সক্ষমতা কেন্দ্র (জিসিসি) হিসেবে গড়ে তোলার পরিকল্পনা করিনি। শুরু থেকেই এটিকে বৈশ্বিক উদ্ভাবন কেন্দ্র হিসেবে গড়ে তোলার লক্ষ্য ছিল।’

ভারতে প্রচলিত জিসিসিতে কর্মীরা সাধারণত বিদেশে অবস্থিত সহকর্মীদের অধীনে কাজ করেন। কিন্তু নিলসেনের ভারতে থাকা দলগুলো নিজেদের পণ্য উন্নয়ন, সিদ্ধান্ত গ্রহণ এবং বৈশ্বিক গ্রাহকদের সঙ্গে সরাসরি কাজ করে। রাজস্বের দিক থেকে ভারত এখনও নিলসেনের ছোট বাজার হলেও এটি দ্রুত সম্প্রসারিত হচ্ছে। প্রতিষ্ঠানটির প্রবৃদ্ধির সম্ভাবনাময় শীর্ষ ১০টি বাজারের মধ্যে ভারত একটি।

বিজ্ঞাপন যাচাই ও ব্র্যান্ডের নিরাপত্তা নিয়ে কাজ করা প্রতিষ্ঠান ডাবলভেরিফাই যুক্ত হওয়ার পর ভারতে নিলসেনের কার্যক্রম আরও বৃদ্ধি পাবে বলে আশা করা হচ্ছে। গোয়েলের মতে, প্রযুক্তিনির্ভর কর্মীবাহিনী দেশে উদ্ভাবন সম্প্রসারণের আরও সুযোগ তৈরি করছে।

বিজ্ঞাপন বিশ্লেষণে এআইয়ের প্রভাব

নিলসেনের বিজ্ঞাপন বিশ্লেষণ কার্যক্রমে এআইয়ের ব্যবহারে উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন এসেছে। প্রতিষ্ঠানটি ভারত ও যুক্তরাষ্ট্রসহ বিশ্বের ৩০ থেকে ৪০টি বড় বাজারে টেলিভিশন, রেডিও, সংবাদপত্র, সাময়িকী এবং আউটডোর মিডিয়ার বিজ্ঞাপনের ব্যয় পর্যবেক্ষণ করে।

আগে তথ্য প্রক্রিয়াকরণে স্বয়ংক্রিয় প্রযুক্তির পাশাপাশি কর্মীদের হাতে কাজ করতে হতো। প্রযুক্তি যেসব সমস্যা সমাধান করতে পারত না, সেগুলো সামলাতে এক হাজারের বেশি কর্মী নিয়োজিত ছিলেন।

গোয়েলের ভাষ্য অনুযায়ী, এআই ও বৃহৎ ভাষা মডেল ব্যবহারের ফলে যন্ত্রের মাধ্যমে সম্পন্ন কাজের হার ৮০-৯০ শতাংশ থেকে বেড়ে ৯৭-৯৮ শতাংশে পৌঁছেছে। এখন হাতে কাজ করার জন্য কয়েক শ কর্মীই যথেষ্ট।

এ পরিবর্তনের ফলে ছোট বিজ্ঞাপনদাতা ও অপেক্ষাকৃত কম প্রচারমাধ্যমকেও নিলসেনের পরিমাপের আওতায় আনা সম্ভব হচ্ছে। গোয়েল বলেন, ‘আমার ব্যবস্থাগুলো যদি আরও বেশি কাজ সামলাতে পারে, তাহলে আমি ছোট ও কম প্রচলিত প্রচারমাধ্যমগুলোকেও অন্তর্ভুক্ত করতে পারব।’

খেলাধুলার অনুষ্ঠানেও ব্র্যান্ডের দৃশ্যমানতা শনাক্ত করতে এআই ব্যবহার করছে প্রতিষ্ঠানটি। বেঙ্গালুরুতে নিলসেনের উদ্ভাবন দিবসে উপস্থাপিত তথ্য অনুযায়ী, খেলোয়াড়দের জার্সিতে কোনো ব্র্যান্ডের উপস্থিতি শনাক্ত করতে আগে ভিডিওর প্রতিটি ফ্রেম ধরে পরীক্ষা করতে হতো। এআইয়ের সাহায্যে সেই কাজ এখন কয়েক ঘণ্টার মধ্যে করা সম্ভব হচ্ছে। বিজ্ঞাপনদাতারা যাতে খেলা চলাকালেই নিজেদের ব্র্যান্ডের দৃশ্যমানতা বুঝতে পারেন, সে জন্য ব্যবস্থাটিকে তাৎক্ষণিক পর্যবেক্ষণব্যবস্থায় রূপ দেওয়ার কাজ চলছে।

বিভিন্ন মাধ্যমে একই দর্শক শনাক্ত

নিলসেনের মূল ব্যবসা দর্শক পরিমাপেও এআইয়ের ব্যবহার বৃদ্ধি পাচ্ছে। দর্শকেরা এখন প্রচলিত টেলিভিশন, ইন্টারনেট-সংযুক্ত টিভি, স্ট্রিমিং সেবা, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম, গেমিং ও মোবাইলের মধ্যে নিয়মিত যাতায়াত করেন। ফলে একই ব্যক্তিকে একাধিক মাধ্যমে গণনা করা হচ্ছে কি না, তা নির্ধারণ করা বিজ্ঞাপনদাতাদের জন্য কঠিন হয়ে পড়েছে।

এ সমস্যা সমাধানে নিলসেন নিজস্ব পরিচয় শনাক্তকরণ কাঠামো তৈরি করছে। গোয়েল জানান, এতে মেশিন লার্নিং মডেলের পাশাপাশি ডিভাইস আইডি, আইপি ঠিকানা ও ইমেইল ঠিকানার মতো বিভিন্ন তথ্য ব্যবহার করে বিভিন্ন মাধ্যমে একই ব্যক্তি কনটেন্ট দেখছেন কি না, তা শনাক্ত করা হয়।

গোয়েলের তথ্য অনুযায়ী, নিলসেনের টেলিভিশন দর্শক পরিমাপ প্যানেলে এক লাখের বেশি পরিবার রয়েছে। কম্পিউটার ও মোবাইল পরিমাপের জন্য রয়েছে ১০ লাখের বেশি প্যানেল। পাশাপাশি নিজস্ব ও তৃতীয় পক্ষের সূত্র থেকে ৭ কোটির বেশি পরিবারের তথ্য পাওয়ার সুযোগ রয়েছে প্রতিষ্ঠানটির।

এ ছাড়া মানুষ এআই প্ল্যাটফর্মে কত সময় ব্যয় করছেন এবং এসব প্রযুক্তি তাদের ভোক্তা-সিদ্ধান্তে কী প্রভাব ফেলছে, তা নিয়েও গবেষণা করছে নিলসেন। চ্যাটজিপিটি, জেমিনি ও ক্লডের মতো প্ল্যাটফর্মের ব্যবহার বাড়ার পাশাপাশি এআই এজেন্ট মানুষের সিদ্ধান্ত গ্রহণে ভূমিকা রাখতে শুরু করায় গণমাধ্যম ব্যবহারের প্রচলিত পরিমাপপদ্ধতিও নতুন চ্যালেঞ্জের মুখে পড়ছে।

গোয়েল বলেন, এআইয়ের তৈরি উত্তরে কোন ব্র্যান্ডের সুপারিশ কীভাবে আসছে, তা প্রভাবিত করার পরিবর্তে এসব প্ল্যাটফর্মে মানুষের সময় ব্যয় ও মনোযোগের অংশ পরিমাপের ওপর গুরুত্ব দিচ্ছে নিলসেন। বিষয়টি এখনো বিকাশের পর্যায়ে রয়েছে।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

বকশীগঞ্জে সাংবাদিকদের সঙ্গে অসৌজন্যমূলক আচরণের অভিযোগ, তদন্ত করবে ভূমি প্রশাসন

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

মো:নিয়াজ মোরশেদ জামালপুর (বকশীগঞ্জ) প্রতিনিধি

বৃহস্পতিবার, ১৫ই অক্টোবর, ২০২৬ ইং

০৭:১৯ পি.এম


বকশীগঞ্জে সাংবাদিকদের সঙ্গে অসৌজন্যমূলক আচরণের অভিযোগ, তদন্ত করবে ভূমি প্রশাসন

জামালপুরের বকশীগঞ্জ উপজেলার মেরুরচর ইউনিয়ন ভূমি কার্যালয়ে তথ্য সংগ্রহ করতে গিয়ে অসৌজন্যমূলক আচরণের শিকার হওয়ার অভিযোগ করেছেন তিন সাংবাদিক। তাঁদের অভিযোগ, পরিচয় দিয়ে তথ্য জানতে চাইলে প্রয়োজনীয় তথ্য না দিয়ে উল্টো তাঁদের ভিডিও করেন মেরুরচর ইউনিয়ন ভূমি কার্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত ভূমি উপসহকারী কর্মকর্তা শফিকুল ইসলাম।বুধবার (১৪ অক্টোবর) দুপুরে সরেজমিনে মেরুরচর ইউনিয়ন ভূমি কার্যালয়ে যান দৈনিক ডেসটিনি পত্রিকার বকশীগঞ্জ প্রতিনিধি তাহের শেখ, দৈনিক বাংলাদেশ সমাচারের প্রতিনিধি মারুফ হাসান এবং দৈনিক অগ্রযাত্রা প্রতিদিনের বকশীগঞ্জ প্রতিনিধি মোঃ আমিনুল ইসলাম।সাংবাদিকদের ভাষ্য অনুযায়ী, তাঁরা ভূমি কার্যালয়ে গিয়ে কর্মকর্তা শফিকুল ইসলামের পরিচয় ও দায়িত্ব সম্পর্কে জানতে চান। এ সময় তিনি উত্তেজিত হয়ে তাঁদের সঙ্গে মারমুখী আচরণ করেন বলে অভিযোগ করেন সাংবাদিকরা। তাঁদের দাবি, পেশাগত দায়িত্ব পালনের অংশ হিসেবে তথ্য জানতে গেলেও তাঁরা কাঙ্ক্ষিত সহযোগিতা পাননি। বরং কর্মকর্তা তাঁদের ভিডিও করেন।সাংবাদিকরা জানান, সরকারি দপ্তরের কার্যক্রম ও সেবার পরিবেশ সম্পর্কে তথ্য সংগ্রহ করতে গিয়েছিলেন তাঁরা। এ সময় তাঁদের সঙ্গে এমন আচরণের কারণ নিয়ে প্রশ্ন দেখা দিয়েছে। সরকারি কার্যালয়ে দায়িত্বরত কর্মকর্তাদের কাছ থেকে গণমাধ্যমকর্মীরা পেশাগত দায়িত্ব পালনে সহযোগিতা ও সৌজন্যপূর্ণ আচরণ প্রত্যাশা করেন।এদিকে, বুধবার দুপুরে সরেজমিনে পরিদর্শনকালে কার্যালয়ে বিদ্যুৎ ছিল না এবং আইপিএস বন্ধ দেখা যায়। এ সময় দাপ্তরিক কার্যক্রম চলতে দেখা যায়নি। তবে কার্যালয়ে জেনারেটর থাকার বিষয়টি সাংবাদিকদের নজরে আসে। পরবর্তী সময়ে সাংবাদিকদের উপস্থিতিতে একজন সেবাগ্রহীতাকে সেবা প্রদান করা হয়। এ ঘটনায় সেবাগ্রহীতাদের সেবা পেতে কোনো ভোগান্তি হচ্ছে কি না, তা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে।
এ ছাড়া কার্যালয়ের অনার বোর্ডটি সিঁড়ির নিচে পড়ে থাকতে দেখা যায় বলে জানান সাংবাদিকরা। তাঁদের মতে, সরকারি দপ্তরের সেবার মান, দাপ্তরিক কার্যক্রম ও জনসাধারণের ভোগান্তি সম্পর্কে তথ্য সংগ্রহ করা সাংবাদিকদের পেশাগত দায়িত্বের অংশ।
মেরুরচর ইউনিয়নের ভূমি উপ-সহকারী শফিকুল ইসলাম সাথে একাধিকবার মুঠোফোনে যোগাযোগ করা চেষ্টা করিলে ফোন বন্ধ পাওয়া যায়।বকশিগঞ্জের সহকারী কমিশনার (ভূমি)
আসমা উল হুসনা বলেন,তদন্ত করে ব্যবস্থা নেয়া হবে।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

জাবি ভিসি চীনে, রুটিন দায়িত্বে প্রো-ভিসি শামছুল আলম

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

বৃহস্পতিবার, ১৫ই অক্টোবর, ২০২৬ ইং

০৭:২৩ পি.এম


জাবি ভিসি চীনে, রুটিন দায়িত্বে প্রো-ভিসি শামছুল আলম

জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের (জাবি) ভিসি প্রফেসর ড. মো. নূরুল ইসলাম চীনে দুটি আন্তর্জাতিক সম্মেলনে অংশগ্রহণের উদ্দেশ্যে যাচ্ছেন। তাঁর অনুপস্থিতির সময় বিশ্ববিদ্যালয়ের ভাইস-চ্যান্সেলর রুটিন দায়িত্ব পালন করবেন প্রো-ভিসি (শিক্ষা) প্রফেসর ড. মো. শামছুল আলম।

বৃহস্পতিবার (১৫ অক্টোবর) বিশ্ববিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত রেজিস্ট্রার ড. এ বি এম আজিজুর রহমান স্বাক্ষরিত এক অফিস আদেশের মাধ্যমে এই তথ্য প্রকাশ করা হয়।

অফিস আদেশে উল্লেখ করা হয়েছে, ভিসি প্রফেসর ড. মো. নূরুল ইসলাম ১৬ থেকে ২৫ অক্টোবর পর্যন্ত চীনে অবস্থান করবেন। এই সময়কালে তিনি 'সেকেন্ড ইন্টারন্যাশনাল কনফারেন্স অন মাউন্টেন সায়েন্স (আইসিএমএস ২০২৬)’ এবং ‘কাউন্সিল মিটিং অব দ্য এশিয়ান জিওগ্রাফিক্যাল অ্যাসোসিয়েশন-২০২৬’ এ অংশগ্রহণ করবেন। ভ্রমণের জন্য সরকারি আদেশে তাঁকে দায়িত্ব পালনের অনুমতি দেওয়া হয়েছে।

অফিস আদেশে আরও উল্লেখ করা হয়েছে, ভিসির ছুটির সময় প্রো-ভিসি (শিক্ষা) প্রফেসর ড. মো. শামছুল আলম তাঁর নিয়মিত দায়িত্বের পাশাপাশি বিশ্ববিদ্যালয়ের ভাইস-চ্যান্সেলর রুটিন দায়িত্বও পালন করবেন।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

বাংলাদেশ পাচ্ছে রোনান সুলিভানকে সাফ চ্যাম্পিয়নশিপের শুরু থেকেই

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

স্পোর্টস ডেস্ক

বৃহস্পতিবার, ১৫ই অক্টোবর, ২০২৬ ইং

০৭:২৩ পি.এম


বাংলাদেশ পাচ্ছে রোনান সুলিভানকে সাফ চ্যাম্পিয়নশিপের শুরু থেকেই

সাফ চ্যাম্পিয়নশিপে বাংলাদেশের নম্বর নাইন পজিশনে কে খেলবেন, তা নিয়ে কোচ টমাস ডুলির মধ্যে দুশ্চিন্তা ছিল। তবে সেই অনিশ্চয়তা এখন দূর হচ্ছে।

বাংলাদেশ সাফের শুরু থেকেই যুক্তরাষ্ট্রপ্রবাসী ফরোয়ার্ড রোনান সুলিভানকে পাচ্ছে। গত এপ্রিলে অনুষ্ঠিত অনূর্ধ্ব-২০ সাফ চ্যাম্পিয়নশিপে বাংলাদেশের শিরোপা জয়ে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখা এই তরুণ এবার জাতীয় দলের জার্সিতে মাঠে নামার অপেক্ষায় রয়েছেন। টুর্নামেন্টে তার খেলার ব্যাপারে প্রথমে শঙ্কা থাকলেও আজ (১৫ অক্টোবর) কোচ টমাস ডুলি বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।

বাংলাদেশ দীর্ঘদিন ধরে একজন স্বীকৃত স্ট্রাইকারের অভাব অনুভব করছে। রোনানের অন্তর্ভুক্তি সেই ঘাটতি কিছুটা পূরণ করবে বলে আশা করছে দল। ডুলি একটি অনলাইন সংবাদমাধ্যমে বলেছেন, ‘রোনানকে সাফে পাওয়া যাবে এটা নিশ্চিত। তবে ডেকলানকে (রোনানের যমজ ভাই) পাওয়া যাবে না। ওকে পরের কোনো আসরে দেখা যাবে।’

বাংলাদেশ ফুটবল ফেডারেশনের (বাফুফে) সহ-সভাপতি ফাহাদ করিমও রোনানের খেলার বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। তিনি বলেন, ‘আজকেই আমাকে সে (রোনান) কনফার্ম করেছে যে, ইনশাআল্লাহ আসতে পারবে। ১৮ অক্টোবর খেলোয়াড় তালিকা নিবন্ধনের শেষ দিন। আমরা তাকে স্কোয়াডে অন্তর্ভুক্ত করব।’

গত এপ্রিলে মালদ্বীপের রাজধানী মালেতে অনুষ্ঠিত অনূর্ধ্ব-২০ সাফ চ্যাম্পিয়নশিপে বাংলাদেশ অপরাজিত চ্যাম্পিয়ন হয়েছিল। ফাইনালে ভারতকে টাইব্রেকারে ৪-৩ গোলে হারিয়ে টানা দ্বিতীয়বারের মতো শিরোপা জেতে দল।

পুরো টুর্নামেন্টে রোনান নজর কেড়েছিলেন। পাকিস্তানের বিপক্ষে প্রথম ম্যাচে ফ্রি কিক ও হেড থেকে দুটি গোল করে বাংলাদেশকে জেতান। ফাইনালে ভারতের বিপক্ষে টাইব্রেকারেও গোল করেন এই ফরোয়ার্ড।

সাফ চ্যাম্পিয়নশিপ আগামী ৪ থেকে ১৭ নভেম্বর ঢাকা জাতীয় স্টেডিয়ামে অনুষ্ঠিত হবে। ফিফার নিষেধাজ্ঞার কারণে নেপাল অংশ নিতে না পারায় এবার খেলছে ৬ দল।

‘এ’ গ্রুপে বাংলাদেশের প্রতিপক্ষ শ্রীলঙ্কা ও ভুটান। ‘বি’ গ্রুপে বর্তমান চ্যাম্পিয়ন ভারত, মালদ্বীপ ও পাকিস্তান রয়েছে।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

আর্কাইভ

Please select a date!

নামাজের সময়সূচী

তারিখঃ ১০ই জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিঃ
ফজর ০৪:৪৩
জোহর ১১:৪৪
আসর ০৩:৫০
মাগরিব ০৫:২৭
ইশা ০৬:৩৯
সূর্যোদয় : ০৫:৫৮ সূর্যাস্ত : ০৫:২৭
অনলাইন জরিপ
ফলাফল
থার্টি-ফার্স্ট নাইটে তরুণদের জন্য প্রকাশ্যে পানি-টানি খাওয়ার বিরুদ্ধে আহ্বান। আপনার মন্তব্য দিন
হ্যা
100%
না
0%
মন্তব্য নেই
0%