বৃহস্পতিবার, ২৩শে জুলাই, ২০২৬ ইং
১২:০৫ পি.এম
বাংলাদেশের রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন পদ থেকে সরে যাচ্ছেন বলে গুজব ও গুঞ্জন ছড়িয়ে পড়েছে। তবে এ বিষয়ে বঙ্গভবন থেকে আনুষ্ঠানিকভাবে কোন মন্তব্য আসেনি। গতকাল বিকেলে আকস্মিকভাবে এ গুঞ্জন শুরু হয়। সরকার ও রাজনীতির সাথে সংশ্লিষ্ট একাধিক ব্যক্তির সঙ্গে কথা বলার পর সুনির্দিষ্টভাবে কেউ বিষয়টির সত্যতা জানাতে পারেননি।
বঙ্গভবনের ঊর্ধ্বতন এক কর্মকর্তা বাংলাদেশ প্রতিদিনকে জানিয়েছেন, রাষ্ট্রপতি নানা ধরনের শারীরিক জটিলতায় আক্রান্ত আছেন। তার স্বাস্থ্যের প্রায় অবনতি হয়েছে। বিশেষ করে উচ্চ ডায়াবেটিস তাকে বেশ ভোগাচ্ছে।
তিনি আরো জানান, রাষ্ট্রপতি বুধবারও বঙ্গভবনে অফিস করেছেন এবং বৃহস্পতিবার কয়েকটি কল তার অন রয়েছে। এ বিষয়ে রাষ্ট্রপতির সঙ্গে আলোচনা করা হয়েছে।
রাষ্ট্রপতির পদত্যাগ প্রসঙ্গে ওই কর্মকর্তা বলেছেন, অফিসিয়ালি এখনও এ ধরনের কোন বার্তা তারা পাইনি। তবে কয়েক দিন ধরে বঙ্গভবনের পরিবেশ বিদায়ের। মনে হচ্ছে- এক ধরনের নীরব প্রস্তুতি চলছে।
চলতি বছরের ১২ই ফেব্রুয়ারি অনুষ্ঠিত জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বড় বিজয় নিয়ে বিএনপি সরকার গঠনের পর থেকেই রাষ্ট্রপতি পরিবর্তন প্রশ্নে নানা আলোচনা রাজনীতিতে চলছে। এমনকি বিএনপির কারা রাষ্ট্রপতি হতে পারেন, সেই বিষয়েও অনেক নাম সংবাদমাধ্যমে দেখা যাচ্ছে। সামাজিক মাধ্যমেও রয়েছে সেই নাম নিয়ে আলোচনা।
দলটির নেতা-কর্মীদের অনেকের ধারণা রাষ্ট্রপতি পদে পরিবর্তন আসতে পারে। যদিও বিএনপির নীতিনির্ধারণী পর্যায়ের একাধিক নেতা বলেছেন, বর্তমান রাষ্ট্রপতির মেয়াদের এখনো অনেকটা সময় বাকি। ফলে সংবিধান অনুযায়ী এখনই রাষ্ট্রপতি নির্বাচনের বিষয় নেই।
ক্ষমতাচ্যুত শেখ হাসিনার সরকারের আমলে ২০২৩ সালের ২৪শে এপ্রিল পাঁচ বছর মেয়াদে রাষ্ট্রপতি পদে দায়িত্বে আসেন মো. সাহাবুদ্দিন। ফলে তার মেয়াদ রয়েছে ২০২৮ সালের এপ্রিল মাস পর্যন্ত। সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন, যেহেতু মেয়াদ রয়েছে, সুতরাং মো. সাহাবুদ্দিন যদি পদত্যাগ না করেন অথবা তাকে অভিশংসন বা অপসারণ না করা হয়, তাহলে নতুন রাষ্ট্রপতি নির্বাচনের আইনগত সুযোগ নেই।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
কুমিল্লার অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (সদর সার্কেল) মোহাম্মদ সাইফুল মালিক আর নেই (ইন্না লিল্লাহি ওয়া ইন্না ইলাইহি রাজিউন)। আজ বৃহস্পতিবার ভোরে রাজধানীর এভারকেয়ার হাসপাতালে তাঁর চিকিৎসাধীন অবস্থায় মৃত্যু ঘটে।
আজ সকাল ১০টায় জেলা পুলিশ গণমাধ্যমে মুখপাত্রের মাধ্যমে বিষয়টি জানায়। সাইফুল মালিক ৩৪ তম বিসিএস (পুলিশ) ক্যাডারের কর্মকর্তা ছিলেন।
মৃত্যুর বিষয়টি নিশ্চিত করে কুমিল্লা কোতয়ালি মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) তৌহিদুল আনোয়ার বাসস’কে জানান, ভোর ৬টা ২২ মিনিটের দিকে তিনি চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা যান।
পারিবারিক সূত্রে জানা যায়, তিনি কয়েকদিন আগে স্ট্রোক করেন। প্রথমে কুমিল্লা মডার্ন হাসপাতালে চিকিৎসা শেষে উন্নত চিকিৎসার জন্য ঢাকার গ্রিন লাইফ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। পরবর্তীতে তাঁকে এভারকেয়ার হাসপাতালে স্থানান্তর করা হয়। সেখানে অস্ত্রোপচারের পর বৃহস্পতিবার ভোর ৬টার দিকে তিনি পৃথিবী ছেড়ে চলে যান।
মোহাম্মদ সাইফুল মালিকের বাড়ি চাঁদপুরের হাজীগঞ্জ উপজেলায়। তিনি বীর মুক্তিযোদ্ধা আবুল কালামের ছেলে। ১৯৮১ সালে জন্মগ্রহণ করেন সাইফুল মালিক, যিনি জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রাণিবিদ্যা বিভাগের ২৮তম ব্যাচের শিক্ষার্থী ছিলেন। ২০০৫ সালে প্রাণিবিদ্যায় স্নাতকোত্তর সম্পন্ন করেন। ২০১৬ সালে বাংলাদেশ পুলিশে ৩৪ তম বিসিএস ক্যাডারের কর্মকর্তা হিসেবে যুক্ত হন। তিনি দু’সন্তানের পিতা ছিলেন।
মৃত্যুর উপর466ন্ত তিনি কুমিল্লার অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (সদর সার্কেল) হিসেবে দায়িত্ব পালন করছিলেন। কর্মজীবনে একজন সৎ, বিনয়ী, মৃদুভাষী ও দায়িত্বশীল কর্মকর্তা হিসেবে সহকর্মী এবং সাধারণ মানুষের চোখে ভক্তি অর্জন করেছেন।
মালিকের মৃত্যুতে কুমিল্লা জেলার পুলিশ সুপার মো. আনিসুজ্জামান গভীর শোক ও দুঃখ প্রকাশ করেছেন।
তিনি মরহুমের বিদেহী আত্মার মাগফিরাত কামনা করেছেন এবং শোকসন্তপ্ত পরিবারের সদস্যদের প্রতি গভীর সমবেদনা জানান।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
রংপুর মেট্রোপলিটন পুলিশের (আরপিএমপি) ২৪ ঘণ্টার বিশেষ অভিযানে উদ্ধার করা হয়েছে ইয়াবা, হেরোইন, গাঁজা, নেশাজাতীয় সিরাপ ও চোলাই মদ। এর ফলে মাদক কারবারি, বিভিন্ন মামলার আসামি এবং গ্রেপ্তারি পরোয়ানাভুক্ত মোট ১৯ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।
এই বিশেষ অভিযানটি মহানগরের বিভিন্ন এলাকায় পরিচালিত হয়েছে, আরপিএমপি’র পুলিশ কমিশনার মোহাম্মদ আবদুল মাবুদের সার্বিক দিকনির্দেশনা ও তত্ত্বাবধানের অধীনে।
রংপুর মেট্রোপলিটন পুলিশের উপ পুলিশ কমিশনার (ডিসি ডিবি) সনাতন চক্রবর্তী বাসস’কে জানান যে, মহানগর গোয়েন্দা বিভাগের (ডিবি) পৃথক একটি অভিযানে ১১ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। এই সময় তাদের কাছ থেকে ৩ গ্রাম হেরোইন, ৫০ পিস ইয়াবা, ১শ’ গ্রাম গাঁজা, ৬৬ বোতল নেশাজাতীয় সিরাপ, একটি মোটরসাইকেল এবং ১ লিটার চোলাই মদ উদ্ধার করা হয়েছে। এর পাশাপাশি, মাদক সেবনের অভিযোগে কয়েকজনকে আটক করা হয়েছে।
অন্যদিকে, হারাগাছ থানার পুলিশ পৃথক একটি অভিযানে দুইজন গ্রেপ্তারি পরোয়ানাভুক্ত আসামিকে গ্রেপ্তার করেছে। এছাড়া, হাজীরহাট থানা নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনের একটি মামলায় ভিকটিমকে উদ্ধার করেছে এবং এজাহারভুক্ত এক আসামিকে গ্রেপ্তার করেছে। তাজহাট থানা চোলাই মদসহ এক মাদক কারবারিকে গ্রেপ্তার করেছে এবং আরও একজনকে আটক করা হয়েছে। এ সকল গ্রেপ্তারকৃতদের আদালতের মাধ্যমে জেল হাজতে পাঠানো হয়েছে।
আরপিএমপি জানিয়েছে যে, মহানগর এলাকায় মাদক উদ্ধার, মাদক কারবারি, বিভিন্ন মামলার আসামি এবং গ্রেপ্তারি পরোয়ানাভুক্ত আসামিদের বিরুদ্ধে বিশেষ অভিযান অব্যাহত থাকবে।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
কানাডার ব্রিটিশ কলাম্বিয়ার ফ্রেজার ক্যানিয়ন অঞ্চলের ছোট্ট জনপদ বোস্টনবারে নতুন করে দ্রুত ছড়িয়ে পড়া দাবানলের কারণে ফ্রেজার ভ্যালি রিজিওনাল ডিস্ট্রিক্ট অবিলম্বে সেখানে অবস্থানরত অবশিষ্ট বাসিন্দাদের এলাকা ছাড়ার নির্দেশ দিয়েছে।
স্থানীয় কর্তৃপক্ষের বরাত দিয়ে জানা যায়, মঙ্গলবার বোস্টনবারের দক্ষিণে নতুন একটি দাবানল শুরু হয়েছে। প্রবল বাতাসের কারণে আগুন খুব দ্রুত ছড়িয়ে পড়েছে এবং পরিস্থিতি অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে গেছে।
জরুরি সতর্কবার্তায় বলা হয়েছে, আপনি বিপদের মধ্যে আছেন, নিজের নিরাপত্তার জন্য এখনই এলাকা ত্যাগ করুন। যারা এখনও কমিউনিটিতে অবস্থান করছেন, তাদের অবিলম্বে চলে যেতে হবে।
এছাড়া, বোস্টনবারের দক্ষিণে হেলস গেট এবং স্কাজি ক্রিক ফরেস্ট সার্ভিস রোড এলাকার ক্ষেত্রে আরও কিছু সম্পত্তিকে নতুন করে সরিয়ে নেওয়ার আওতায় আনা হয়েছে। বোস্টনবার ভ্যাঙ্কুভার থেকে প্রায় ১৪০ কিলোমিটার উত্তর-পূর্বে ব্রিটিশ কলাম্বিয়ার ফ্রেজার ক্যানিয়ন অঞ্চলে অবস্থিত।
দাবানলের কারণে হাইওয়ে-১ এর একটি বড় অংশ উভয় দিক থেকে বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে। বিকল্প হিসেবে হাইওয়ে-৫ ব্যবহার করার জন্য নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। তবে বোস্টনবার থেকে সরিয়ে নেওয়া বাসিন্দাদের উত্তরমুখী হাইওয়ে-১ দিয়েই যাত্রা করতে বলা হয়েছে।
ব্রিটিশ কলাম্বিয়া ওয়াইল্ডফায়ার সার্ভিস জানিয়েছে, নতুন দাবানলটির আয়তন ইতোমধ্যে প্রায় ৩০০ হেক্টর এবং এটি 'আউট অব কন্ট্রোল' হিসেবে শ্রেণিবদ্ধ করা হয়েছে, অর্থাৎ আগুন এখনও নিয়ন্ত্রণের বাইরে এবং আরও ছড়িয়ে পড়ার আশঙ্কা রয়েছে।
কর্তৃপক্ষের মতে, মূলত ব্রান্সউইক ক্রিক দাবানল থেকে ছড়িয়ে পড়া একটি স্পট ফায়ার এটি।
গত সপ্তাহে ব্রান্সউইক ক্রিক এবং আইনসলি ক্রিক দাবানল নিয়ে গঠিত ব্রান্সউইক ক্রিক ওয়াইল্ডফায়ার কমপ্লেক্সের কারণে প্রায় ৪৫০টি সম্পত্তির বাসিন্দাকে সরানোর নির্দেশনা দেওয়া হয়েছিল। কিন্তু কিছু বাসিন্দা সেই নির্দেশ অমান্য করে এলাকায় থেকে গেছেন বলে কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে। নির্দিষ্টভাবে কতজন এখনো অবস্থান করছেন, তা নিশ্চিত হওয়া যায়নি।
এদিকে, বাস্তুচ্যুতদের সাহায্যের জন্য ক্যামলুপসের ম্যাকআর্থার আইল্যান্ড স্পোর্টস সেন্টারে একটি অস্থায়ী গ্রহণকেন্দ্র স্থাপন করা হয়েছে।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
মার্কিন গোয়েন্দা সংস্থার সঙ্গে যুক্ত চারজন ব্যক্তি জানিয়েছেন, উপসাগরীয় অঞ্চলে সিআইএর একটি স্থাপনায় ইরানের ড্রোন হামলার পর যুক্তরাষ্ট্র খতিয়ে দেখছে, এই হামলায় রাশিয়া কোনোভাবে সহায়তা করেছে কি না।
তাদের মতে, এখনও এ বিষয়ে নিশ্চিত কোনো প্রমাণ বা সিদ্ধান্ত পাওয়া যায়নি।
তবে হামলার নির্ভুলতা এবং ইরানকে রাশিয়ার দেওয়া উন্নত প্রযুক্তিগত সহায়তার বিষয়টি তদন্তে গুরুত্ব দিয়ে দেখা হচ্ছে।
রয়টার্সসহ কয়েকটি আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যম এবং মার্কিন কর্মকর্তাদের তথ্য অনুযায়ী, উপসাগরীয় অঞ্চলে মার্কিন লক্ষ্যবস্তুতে ইরানের হামলায় রাশিয়া আগে থেকেই লক্ষ্যবস্তু নির্ধারণসহ বিভিন্ন ধরনের সহায়তা দিয়ে আসছে। তবে সিআইএর স্থাপনায় হামলায় রাশিয়ার সম্ভাব্য ভূমিকা নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের গোয়েন্দা সংস্থার তদন্তের বিষয়টি আগে প্রকাশ করা হয়নি।
রয়টার্সের প্রতিবেদনে বলা হয়, মার্চ মাসে অন্তত দুটি সিআইএ স্থাপনায় হামলা হয়।
এর একটি ছিল সৌদি আরবের রাজধানী রিয়াদে মার্কিন দূতাবাসের ভেতরে থাকা সিআইএ স্টেশন। অন্যটি ছিল পূর্ব ইরাকে অবস্থিত একটি সিআইএ স্থাপনা। কয়েকটি সূত্র জানিয়েছে, আরো কিছু সিআইএ স্থাপনাও হামলার শিকার হয়েছে। তবে সেগুলোর বিস্তারিত তথ্য প্রকাশ করা হয়নি।
পশ্চিমা একটি গোয়েন্দা সংস্থার অভ্যন্তরীণ এক গোয়েন্দা প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, উপসাগরীয় অঞ্চলে সিআইএর স্থাপনাগুলোকে লক্ষ্যবস্তু নির্ধারণে রাশিয়ার ভূমিকা থাকার সম্ভাবনা রয়েছে। অঞ্চলটির একজন কর্মকর্তা, যিনি ওই প্রতিবেদনটি দেখেছেন, নাম প্রকাশ না করার শর্তে এ তথ্য জানান। নিরাপত্তার কারণে তিনি প্রতিবেদনের সুনির্দিষ্ট উৎস বা কোন সংস্থা এটি তৈরি করেছে, তা প্রকাশ করেননি।
উপসাগরীয় অঞ্চলের দুই পশ্চিমা কর্মকর্তা জানিয়েছেন, সৌদিতে চালানো হামলায় ইরানের শাহেদ ড্রোনের রাশিয়ার উন্নত করা দুটি সংস্করণ ব্যবহার করা হয়েছে বলে গোয়েন্দাদের ধারণা। তাদের মতে, প্রথম ড্রোনটি দূতাবাসের বাইরের একটি দুর্বল স্থানে আঘাত করে গর্ত তৈরি করে।
এরপর দ্বিতীয় ড্রোনটি সেই গর্ত দিয়ে ভেতরে ঢুকে বিস্ফোরিত হয়। এ ঘটনায় কোনো হতাহতের খবর পাওয়া যায়নি।
কর্মকর্তারা জানান, ইরানকে রাশিয়ার সহায়তা নতুন নয়। তবে সিআইএ-সংশ্লিষ্ট গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনাকে লক্ষ্যবস্তু করায় ধারণা করা হচ্ছে, যুক্তরাষ্ট্রের কার্যক্রমে বাধা দিতে মস্কো আরো কঠোর অবস্থান নিচ্ছে।
প্রয়োজন হলে এটিকে টিভি সংবাদ, অনলাইন নিউজ বা পত্রিকার ভাষায়ও সাজিয়ে দিতে পারি।
জর্দানে একটি মার্কিন বিমান ঘাঁটিতে হামলার পর রাশিয়া ইরানকে হামলার লক্ষ্য নির্ধারণে সহায়তা করছে, এমন আশঙ্কা আরো বেড়েছে। ওই হামলায় ইরানের ছোড়া একটি ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র সেনা ব্যারাকে আঘাত করলে দুই মার্কিন সেনা নিহত হন। এ বিষয়ে মন্তব্য চাইলে হোয়াইট হাউস বিষয়টি সিআইএ-এর কাছে পাঠায়। তবে সিআইএ কোনো মন্তব্য করতে রাজি হয়নি। জাতিসংঘে ইরানের মিশন, রাশিয়ার প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় এবং সৌদি সরকারও এ বিষয়ে কোনো প্রতিক্রিয়া জানায়নি।
এদিকে উপসাগরীয় অঞ্চলের দুই পশ্চিমা কর্মকর্তা দাবি করেছেন, রাশিয়া ইরানের শাহেদ ড্রোনের লক্ষ্যবস্তুতে আঘাত করার সক্ষমতা বাড়াতে সহায়তা করেছে। তাদের ধারণা, রিয়াদে হামলায় সেই উন্নত প্রযুক্তির ড্রোন ব্যবহার করা হয়েছে। আরেকটি সূত্র জানায়, রাশিয়া ইরানকে ‘কোমেটা-এম’ নামে একটি স্যাটেলাইট নেভিগেশন ব্যবস্থা দিয়েছে।
বিশেষজ্ঞদের মতে, এই প্রযুক্তি ইরানের নিজস্ব ব্যবস্থার তুলনায় বেশি নির্ভুল এবং সহজে জ্যাম করা যায় না। মার্চ মাসে ওয়াল স্ট্রিট জার্নাল জানায়, রাশিয়া ইরানকে ‘কোমেটা-এম’ স্যাটেলাইট নেভিগেশন ব্যবস্থা সরবরাহ করেছে। তবে ক্রেমলিন এ প্রতিবেদন অস্বীকার করে এটিকে ‘ভুয়া খবর’ বলে দাবি করে। বিদেশে সিআইএর বিভিন্ন স্থাপনার মধ্যে রয়েছে বিভিন্ন দেশে দূতাবাসভিত্তিক স্টেশন, নজরদারি কেন্দ্র, নিরাপদ আশ্রয়কেন্দ্র, রসদ সরবরাহ কেন্দ্র এবং অন্যান্য গোপন কার্যালয়। এসব স্থাপনার অবস্থান অত্যন্ত গোপন রাখা হয়।
সূত্রগুলো ক্ষতিগ্রস্ত সিআইএ স্থাপনাগুলোর সঠিক সংখ্যা বা অবস্থান প্রকাশ করেনি। তবে একটি সূত্র জানিয়েছে, ক্ষতিগ্রস্ত স্থাপনার সংখ্যা একটির বেশি, কিন্তু ১২টির কম। আরেকটি সূত্রের দাবি, একাধিক সিআইএ স্থাপনায় হামলায় ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।
কয়েকটি সূত্র জানিয়েছে, মার্কিন গোয়েন্দা বিশ্লেষকরা তদন্ত করে দেখছেন দূতাবাসে হামলার সময় ইরান রাশিয়ার সরবরাহ করা লক্ষ্যবস্তু-সংক্রান্ত তথ্য ব্যবহার করেছিল কি না। তবে এ বিষয়ে এখনো নিশ্চিত হওয়া যায়নি। কিছু সূত্রের মতে, ইরান হয়তো পুরো মার্কিন দূতাবাসকেই লক্ষ্যবস্তু করেছিল এবং ঘটনাক্রমে সিআইএ স্টেশনও হামলার শিকার হয়।
সূত্রগুলো বলছে, কিছু বিশ্লেষকের ধারণা হলো, রাশিয়া ছাড়া খুব কম দেশেরই যুক্তরাষ্ট্রের এমন সংবেদনশীল স্থাপনার তথ্য সংগ্রহ এবং তা হামলার উদ্দেশ্যে ব্যবহারের সক্ষমতা ও আগ্রহ রয়েছে।
সিআইএর সাবেক স্টেশন প্রধান ও গোপন অভিযান কর্মকর্তা ড্যানিয়েল হফম্যান বলেন, রাশিয়া ও ইরানের ঘনিষ্ঠ কৌশলগত সম্পর্কের কারণে মস্কো যদি সিআইএ স্থাপনাকে লক্ষ্যবস্তু করতে তেহরানকে সহায়তা করে থাকে, তাহলে তা অস্বাভাবিক হবে না। তার ভাষায়, ‘নিজেদের প্রভাব বলয়ে মার্কিন প্রভাব কমানো বা পুরোপুরি দূর করার ক্ষেত্রে রাশিয়া ও ইরানের স্বার্থ এক।’
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ