শুক্রবার, ১৮ই সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ইং
০৪:০৪ পি.এম
যশোরের শার্শা থেকে মালয়েশিয়ায় কর্মরত উজ্জ্বল হোসেন নামের এক যুবকের মরদেহ দেশে ফিরেছে মৃত্যুর ১৭ দিন পর। শনিবার দিবাগত রাতের একটি ফ্লাইটে তার কফিনবন্দি মরদেহ ঢাকার শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে এসে পৌঁছালে পরিবারের সদস্যরা তা গ্রহণ করেন।
শুক্রবার (১৮ সেপ্টেম্বর) সকাল ৮ টার দিকে কফিনে করে তার মরদেহ উপজেলার বাহাদুরপুর ইউনিয়নের রঘুনাথপুর গ্রামের নিজ বাড়িতে পৌঁছায়। উজ্জ্বল হোসেন ওই গ্রামের লিয়াকত আলীর সন্তান।
পরিবারের সূত্রে জানা গেছে, ২০১৫ সালে জীবিকার সন্ধানে মালয়েশিয়া পাড়ি জমান উজ্জ্বল হোসেন। তিনি পরিবারের অভাব-অনটন দূর করতে এবং প্রিয়জনদের মুখে হাসি ফোটাতে সেখানে গিয়েছিলেন। কিন্তু সেই স্বপ্নের পথ শেষ হলো নিথর দেহ হয়ে, মাটির টানে ফিরলেন তিনি, তবে জীবিত নয়, কফিনবন্দি হয়ে।
দীর্ঘ আট বছর প্রবাসজীবন কাটিয়ে ২০২৩ সালে দেশে ফিরে বিয়ে করেন তিনি। নতুন সংসারের স্বপ্নে তখন জীবন রঙিন হয়ে ওঠে। কিন্তু সেই সুখ বেশিদিন স্থায়ী হয়নি। বিয়ের মাত্র তিন মাস পর আবারও মালয়েশিয়ায় ফিরে যেতে হয় উজ্জ্বলকে। প্রিয়তমা স্ত্রীর কাছে তিনি প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন যে, ফিরে এসে তাদের সংসার সাজাবেন এবং স্বপ্ন পূরণ করবেন। কিন্তু নিয়তি যেন অন্য গল্প লিখে রেখেছিল।
মালয়েশিয়ায় যাওয়ার প্রায় তিন বছর পর, গত ১৫ দিন আগে হঠাৎ জ্বরে আক্রান্ত হন উজ্জ্বল। সহকর্মীরা তাকে গুরুতর অসুস্থ অবস্থায় মালয়েশিয়ার সুলতানা আমিনা হাসপাতালে ভর্তি করেন। সেখানে এক সপ্তাহ চিকিৎসাধীন অবস্থায় গত ১ সেপ্টেম্বর তিনি মারা যান। তার মৃত্যুর পর মরদেহ দেশে ফিরিয়ে আনতে প্রয়োজনীয় আইনি ও প্রশাসনিক প্রক্রিয়া সম্পন্ন করতে সময় লাগে।
স্বজনরা জানান, দূতাবাসের সহায়তায় তারা তার মরদেহ দেশে আনতে সক্ষম হয়েছেন। আজ সকাল ১১ টায় স্থানীয় ঈদগাহ মাঠে জানাজা অনুষ্ঠিত হয়। এতে স্বজন, প্রতিবেশীসহ স্থানীয় লোকজন অংশ নেন। জানাজা শেষে পারিবারিক কবরস্থানে তার মরদেহ দাফন করা হয়।
যে মানুষটি একদিন পরিবারের স্বপ্ন পূরণ করতে বিদেশে পাড়ি দিয়েছিলেন, আজ সেই মানুষটিই ফিরেছেন কফিনবন্দি হয়ে। তার মৃত্যুতে গ্রামে শোকের ছায়া নেমে এসেছে।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
দল থেকে বহিষ্কারের দুই মাস পর, বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর সংসদ সদস্য (এমপি) গাজী মো. নজরুল ইসলাম নিজেকে এখনও এমপি হিসেবে দাবি করেছেন সাতক্ষীরা-৪ আসনের। অন্যদিকে, জামায়াতের দায়িত্বশীল নেতারা বলছেন, তিনি বহিষ্কারের পর আর জামায়াতের সদস্য নন।
৭৫ বছর বয়সী এই সংসদ সদস্য, যিনি সাতক্ষীরা-৪ আসন থেকে তৃতীয়বারের মতো নির্বাচিত, গণমাধ্যমের কাছে বলেন, "আমাকে দল থেকে বহিষ্কার করা হয়েছে। তবে সদস্যপদ আল্লাহর রহমতে এখনো আছে। খাতা-কলমে সব জায়গায় আমি জামায়াতের সদস্য হিসেবেই আছি।" তিনি আরও জানান, দল তার বিষয়ে কী বলেছে, তা তার জানা নেই।
জামায়াতের কেন্দ্রীয় নেতাদের বক্তব্য সম্পূর্ণ ভিন্ন। জামায়াতের কেন্দ্রীয় নির্বাহী পরিষদের সদস্য এবং সাতক্ষীরা-১ আসনের সংসদ সদস্য মো. ইজ্জতুল্লাহ জানান, "বহিষ্কারের সিদ্ধান্ত ইতিমধ্যেই সংসদ সচিবালয় ও নির্বাচন কমিশনে (ইসি) লিখিতভাবে জানানো হয়েছে।"
এছাড়া, দলটির সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল এহসানুল মাহবুব জুবায়ের বলেন, "আমরা তাকে দল থেকে বহিষ্কার করার পর স্পিকার ও ইলেকশন কমিশনসহ সংশ্লিষ্ট সব জায়গায় চিঠি পাঠিয়ে দিয়েছি।"
গাজী মো. নজরুল ইসলামকে গত ২২ জুলাই নৈতিক স্খলনের অভিযোগে জামায়াতে ইসলামী দল থেকে বহিষ্কার করে, যখন সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে তার একটি ব্যক্তিগত মুহূর্তের ভিডিও ছড়িয়ে পড়ে। পরে, তার বিষয়ে প্রয়োজনীয় আইনি ব্যবস্থা নিতে স্পিকার ও নির্বাচন কমিশনে চিঠি দেওয়া হয়।
দল থেকে বহিষ্কারের পর, জাতীয় সংসদে তার সদস্যপদ বহাল থাকবে কিনা অথবা তিনি স্বতন্ত্র সদস্য হিসেবে গণ্য হবেন কিনা, এই বিষয়টি এখন স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদ এবং নির্বাচন কমিশনের সিদ্ধান্তের ওপর নির্ভর করছে। তবে জামায়াতের চিঠির পরিপ্রেক্ষিতে, স্পিকার কিংবা নির্বাচন কমিশন থেকে এখন পর্যন্ত চূড়ান্ত কোনো সিদ্ধান্ত দেওয়া হয়নি।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
পরিকল্পনা মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী মো. জোনায়েদ আব্দুর রহিম সাকি এমপি বলেছেন, দেশের সকল মানুষের কাছে নিরাপদ ও সুপেয় পানি পৌঁছে দেওয়ার ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে, যা বর্তমান সরকারের নির্বাচনী ইশতেহারের একটি অংশ। সরকার কাজ করছে যাতে কেউ নিরাপদ পানি থেকে বঞ্চিত না হয়।
শুক্রবার (১৮ সেপ্টেম্বর) দুপুর সাড়ে ১২টার দিকে মানিকগঞ্জের সাটুরিয়া উপজেলার ভাসিয়ানি-কৃষ্টপুর এলাকায় জনস্বাস্থ্য প্রকৌশল অধিদপ্তরের বাস্তবায়িত ‘সমগ্র দেশে নিরাপদ পানি সরবরাহ’ প্রকল্পের আওতায় পানির উৎস স্থাপন কাজ পরিদর্শনকালে তিনি এসব কথা বলেন। পরিদর্শনের পর তিনি উপকারভোগীদের সঙ্গে মতবিনিময় করেন।
এ সময় প্রতিমন্ত্রী ভাসিয়ালি-কৃষ্টপুর এলাকার আব্দুর রহমানের বাড়িতে জনস্বাস্থ্য প্রকৌশল অধিদপ্তরের উদ্যোগে স্থাপিত একটি গভীর নলকূপ পরিদর্শন করেন। তিনি গভীর নলকূপের কার্যক্রম ও পানি সরবরাহ ব্যবস্থা সম্পর্কে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের কাছ থেকে বিস্তারিত তথ্য সংগ্রহ করেন। স্থানীয় বাসিন্দাদের সঙ্গে কথা বলে নিরাপদ পানি সরবরাহের ক্ষেত্রে তাদের সমস্যা ও প্রয়োজনের কথা শোনেন।
প্রতিমন্ত্রী বলেন, মানিকগঞ্জ জেলায় এ প্রকল্পের কার্যক্রম চলমান রয়েছে। প্রকল্প বাস্তবায়নে কোনো মানুষ যেন বাদ না পড়ে, সেদিকে সংশ্লিষ্টদের গুরুত্ব দিতে হবে। জনগণের চাহিদা ও প্রয়োজনকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়ে নিরাপদ পানি সরবরাহ নিশ্চিত করতে হবে। যেসব এলাকায় বিশুদ্ধ পানির সংকট রয়েছে, সেসব এলাকায় অগ্রাধিকার দিয়ে কার্যকর ব্যবস্থা নিতে হবে। পানি সরবরাহের ক্ষেত্রে কোনো মানুষ বা কোনো এলাকা যেন বাদ না পড়ে, সেদিকে সংশ্লিষ্টদের নজর রাখতে হবে।
পরিদর্শন ও মতবিনিময়কালে ‘সমগ্র দেশে নিরাপদ পানি সরবরাহ’ প্রকল্পের পরিচালক মো. হানিফ, উপ-প্রকল্প পরিচালক মো. মোস্তাফিজুর রহমান, অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (শিক্ষা ও আইসিটি) মো. খায়রুল ইসলাম, জনস্বাস্থ্য প্রকৌশল অধিদপ্তর মানিকগঞ্জের নির্বাহী প্রকৌশলী গাজী ফাতিমা ফেরদৌস, সাটুরিয়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা কাজী মোহাম্মদ অনিক ইসলাম, সাটুরিয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মোশাররফ হোসেন, বিএনপি নেতা আব্দুল কুদ্দুস খান মাখনসহ সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তা, জনপ্রতিনিধি ও স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিরা উপস্থিত ছিলেন।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
রাজধানীর খুচরা বাজারে বোতলজাত সয়াবিন তেলের সংকট এখনও কাটেনি। দাম বৃদ্ধি সত্ত্বেও অনেক মুদি দোকানে তেল পাওয়া যাচ্ছে না। কিছু দোকানে ২ বা ৫ লিটারের বোতল পাওয়া গেলেও আধা লিটার ও এক লিটারের বোতল নেই বললেই চলে।
শুক্রবার (১৮ সেপ্টেম্বর) রাজধানীর বিভিন্ন বাজার পরিদর্শন করে এবং বিক্রেতাদের সঙ্গে আলাপ করে এই তথ্য সংগ্রহ করা হয়েছে।
খুচরা বিক্রেতা ও তেলের পাইকারি সরবরাহকারীদের মতে, গত ২ সেপ্টেম্বর ভোজ্যতেলের দাম বৃদ্ধি করেছে কোম্পানিগুলো। কিন্তু তারপরও তারা সরবরাহ স্বাভাবিক করেনি। মূলত, বোতলজাত সয়াবিন তেল বাজারে কম পরিমাণে ছাড়ছে ভোজ্যতেল পরিশোধনকারী কোম্পানিগুলো।
বিক্রেতারা জানাচ্ছেন, বাজারে বোতলজাত সয়াবিনের তীব্র সংকটের কারণে সাধারণ ক্রেতারা ভোগান্তিতে পড়ছেন। ক্রেতাদের আকৃষ্ট করতে অনেক বিক্রেতা এখন খোলা সয়াবিন তেল বিক্রি শুরু করেছেন।
তেল কেনার জন্য ক্রেতাদের ৪-৫টি দোকান ঘুরে একটিতে তেল পাওয়া যাচ্ছে, তাও কাঙ্খিত পরিমাণের বোতল মিলছে না।
খুচরা বিক্রেতারা জানান, বাজারে সয়াবিনের আধা লিটার ও এক লিটার বোতলের সরবরাহ একেবারেই নেই। পরিবেশকদের কাছে বারবার তাগাদা দিয়েও তারা তেল পাচ্ছেন না। বর্তমানে শুধুমাত্র দু-তিনটি কোম্পানি বোতলজাত সয়াবিন তেল বাজারে ছাড়ছে, যা চাহিদার তুলনায় সামান্য। তাও ২ ও ৫ লিটারের বোতলে।
বোতলজাত সয়াবিন তেলের দাম প্রতি লিটারে ৫ টাকা বৃদ্ধি পেয়ে এখন প্রতি লিটার সয়াবিন তেলের দাম ২০৪ টাকা। অর্থাৎ, ২ লিটার তেল কিনতে ক্রেতাকে একসঙ্গে গুনতে হচ্ছে ৪০৮ টাকা এবং পাঁচ লিটার তেলের জন্য ১০২০ টাকা।
অন্যদিকে, খুচরা বিক্রেতারা জানিয়েছেন, তেল কোম্পানিগুলো তাদের বিক্রির কমিশন একবারে কমিয়ে দিয়েছে। এখন প্রতি লিটারে মাত্র এক টাকা কমিশন দেওয়া হচ্ছে।
রামপুরা এলাকার ভাই ভাই স্টোরের দোকানি আফজাল হোসেন বলেন, ৫ লিটার তেল কিনলে মানুষ ৫-১০ টাকা কম দিতে চায়। এখন আমাদের মুনাফা ৫ টাকা। অর্থাৎ, হাজার টাকা ইনভেস্ট করে লাভ হচ্ছে ৫ টাকা। তাও কোম্পানি তেল দিচ্ছে না। সবাইকে জিম্মি করে রেখেছে।
এদিকে, বোতলজাত তেলের সংকটে খোলা তেলের দাম হুহু করে বাড়ছে। প্রতি লিটার সয়াবিন এখন ২০৫-২০৮ টাকা দরে বিক্রি হতে দেখা যাচ্ছে। এছাড়া, পাম তেল বিক্রি হচ্ছে ১৮০ থেকে ১৮৫ টাকা দরে।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
গাজায় ইসরায়েলি সামরিক অভিযানের বিভিন্ন দিক নিয়ে নির্মিত তথ্যচিত্র ‘নাজা’ (NAZA) ভেনিস চলচ্চিত্র উৎসবে বিশেষ জুরি পুরস্কার পাওয়ার পর ইসরায়েলে তীব্র বিতর্কের সৃষ্টি করেছে। ছবিটির নির্মাতা ইউভাল আব্রাহাম ও র্যাচেল সোরের বিরুদ্ধে সরকারি পর্যায় থেকে কঠোর পদক্ষেপের দাবি উঠেছে।
এই তথ্যচিত্রটি গাজায় সামরিক হামলার লক্ষ্য নির্ধারণ ও বেসামরিক হতাহতের বিষয়ে ২৪ জন ইসরায়েলি সামরিক ও গোয়েন্দা কর্মকর্তার বেনামি সাক্ষ্যের ভিত্তিতে তৈরি করা হয়েছে। ছবিতে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তাভিত্তিক প্রযুক্তি ব্যবহার করে হামলার লক্ষ্য নির্ধারণ এবং বেসামরিক হতাহতের সম্ভাবনা জানা থাকা সত্ত্বেও কিছু হামলা অনুমোদনের অভিযোগ তুলে ধরা হয়েছে। ইসরায়েলি সামরিক বাহিনী এসব অভিযোগের বিশ্বাসযোগ্যতা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছে।
১০ সেপ্টেম্বর ভেনিস চলচ্চিত্র উৎসবে ‘নাজা’র প্রদর্শনী অনুষ্ঠিত হয়। ১২ সেপ্টেম্বর ছবিটি বিশেষ জুরি পুরস্কার লাভ করে। প্রদর্শনের পর প্রায় ২৫ মিনিট ধরে দাঁড়িয়ে অভিবাদন পাওয়ার খবরও বিভিন্ন আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমে প্রকাশিত হয়েছে।
পুরস্কার পাওয়ার পর ইসরায়েলে ছবিটি নিয়ে রাজনৈতিক প্রতিক্রিয়া আরও তীব্র হয়ে ওঠে। দেশটির সংস্কৃতিমন্ত্রী মিকি জোহার নির্মাতাদের ইসরায়েলি নাগরিকত্ব বাতিলের আহ্বান জানান এবং তাদের বিরুদ্ধে রাষ্ট্রের প্রতি বিশ্বাসঘাতকতার অভিযোগ তোলেন। প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুও ছবিটির সমালোচনা করেন।
এদিকে, ছবিটির নির্মাতারা ইসরায়েলেই ‘নাজা’ প্রদর্শনের চেষ্টা করছেন। ইউভাল আব্রাহাম জানিয়েছেন, ছবিটি ইসরায়েলি দর্শকদের জন্য দেখানো গুরুত্বপূর্ণ। তবে ইসরায়েলি সংবাদমাধ্যমে ছবিটির সাংবাদিকতার মান, বেনামি সূত্রের ব্যবহার এবং এতে উপস্থাপিত অভিযোগ যাচাইয়ের পদ্ধতি নিয়ে প্রশ্ন তোলা হয়েছে।
আল জাজিরার বিশ্লেষণধর্মী নিবন্ধে লেখক ইয়েহুদা শেনহাভ-শাহরাবানি যুক্তি দিয়েছেন, ইসরায়েলি সমাজের একটি অংশ ছবিটির বিষয়বস্তু দেখার আগেই তা প্রত্যাখ্যান করছে। তাঁর মতে, গাজা যুদ্ধ নিয়ে আন্তর্জাতিক সমালোচনা ও ইসরায়েলের বিরুদ্ধে অভিযোগের দীর্ঘ ধারাবাহিকতার কারণে অনেক ইসরায়েলি নতুন সমালোচনাকেও বিদেশি চাপ বা ইসরায়েলবিরোধী প্রচারণা হিসেবে দেখছেন।
নিবন্ধটিতে ইসরায়েলি সংবাদমাধ্যমের ভূমিকা নিয়েও প্রশ্ন তোলা হয়েছে। সেখানে সাংবাদিক রাভিভ দ্রুকারের সঙ্গে ইউভাল আব্রাহামের একটি সাক্ষাৎকারের প্রসঙ্গ তুলে ধরে বলা হয়েছে, ছবিতে উত্থাপিত বিষয়গুলো নিয়ে ইসরায়েলি সংবাদমাধ্যমে অনুসন্ধানী প্রতিবেদন কেন আরও হয়নি, তা নিয়েও বিতর্ক রয়েছে। একই সঙ্গে ছবিটির সাংবাদিকতার মান ও নির্মাতাদের উদ্দেশ্য নিয়ে ইসরায়েলি সাংবাদিকদের একাংশের সমালোচনার কথাও উল্লেখ করা হয়েছে।
তবে ‘নাজা’ নিয়ে বিতর্কের কেন্দ্রে থাকা অনেক অভিযোগ এর আগে বিভিন্ন অনুসন্ধানী প্রতিবেদনে উঠে এসেছে। ভেনিস চলচ্চিত্র উৎসবের তথ্য অনুযায়ী, ছবিটি গাজায় ইসরায়েলি সামরিক অভিযানের লক্ষ্য নির্ধারণ ও বেসামরিক হতাহতের বিষয়ে আগে প্রকাশিত অনুসন্ধানী প্রতিবেদনগুলোর ওপরও ভিত্তি করে তৈরি হয়েছে।
ছবিটির নাম ‘নাজা’ ইসরায়েলি সামরিক গোয়েন্দা ব্যবস্থায় ব্যবহৃত একটি পরিভাষা থেকে নেওয়া হয়েছে, যা সম্ভাব্য হামলায় বেসামরিক হতাহতের সংখ্যা বোঝাতে ব্যবহৃত হয় বলে ছবিটির নির্মাতা ও উৎসগুলো জানিয়েছেন। তথ্যচিত্রটির প্রদর্শনী এখন ইসরায়েলের বাইরেও অব্যাহত রয়েছে। ২৫ সেপ্টেম্বর থেকে নিউইয়র্ক চলচ্চিত্র উৎসবেও ছবিটির উত্তর আমেরিকা প্রিমিয়ার হওয়ার কথা রয়েছে।
আল জাজিরার ওই বিশ্লেষণে মূলত যুক্তি দেওয়া হয়েছে, ‘নাজা’ নিয়ে ইসরায়েলের অভ্যন্তরীণ প্রতিক্রিয়া শুধু একটি চলচ্চিত্রের বিতর্ক নয়; বরং গাজা যুদ্ধের সামরিক কর্মকাণ্ড, বেসামরিক হতাহত এবং এসব নিয়ে আন্তর্জাতিক সমালোচনার মুখে ইসরায়েলি সমাজের একটি অংশ কীভাবে প্রতিক্রিয়া দেখাচ্ছে, সেটিও এর মাধ্যমে সামনে এসেছে। এটি লেখকের বিশ্লেষণ, সর্বজনীনভাবে প্রতিষ্ঠিত কোনো সিদ্ধান্ত নয়। তথ্যসূত্র: আল-জাজিরা, রয়টার্স
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ