বুধবার, ২৩শে সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ইং
০১:৪৫ পি.এম
ঢাকা, ২৩ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ : গুম প্রতিরোধ আইন, মানবাধিকার কমিশন আইন ও সম্পত্তি হস্তান্তর আইন নতুন দিগন্ত উন্মোচন করেছে ন্যায়বিচারে।
সরকার গঠনের পর বিএনপি ন্যায়বিচার, আইনের শাসন ও মানবাধিকার সুরক্ষায় আইন সংস্কারের উদ্যোগ গ্রহণ করেছে।
এই প্রেক্ষাপটে জাতীয় সংসদের প্রথম তিন অধিবেশনে পাস হয়েছে শতাধিক আইন। এর মধ্যে গুম প্রতিরোধ আইন, মানবাধিকার কমিশন আইন ও সম্পত্তি হস্তান্তর আইন উল্লেখযোগ্য।
গুম প্রতিরোধ ও প্রতিকার আইন-২০২৬:
গুম প্রতিরোধ, দায়ী ব্যক্তির শাস্তি নিশ্চিতকরণ, ভুক্তভোগী ও তাদের পরিবারের অধিকার সংরক্ষণ এবং প্রতিকার প্রদানের লক্ষ্যে গুম প্রতিরোধ ও প্রতিকার আইন-২০২৬ জাতীয় সংসদে পাস হয়েছে।
২০২৬ সালে পাস হওয়া ১০৭ নম্বর এই আইনে উল্লেখ করা হয়েছে যে, গুমের জন্য দায়ী ব্যক্তি অন্তত তিন বছরের কারাদণ্ড বা সর্বোচ্চ যাবজ্জীবন কারাদণ্ডে দণ্ডনীয় হবে এবং অতিরিক্ত অনধিক পঞ্চাশ লক্ষ টাকা অর্থদণ্ডেও দণ্ডিত হতে পারে। যদি গুমের ফলে গুম হওয়া ব্যক্তির মৃত্যু ঘটে বা গুম হওয়া ব্যক্তির লাশ পাওয়া যায় অথবা গুমের ঘটনার পাঁচ বছর অতিক্রান্ত হওয়ার পরও তাকে জীবিত কিংবা মৃত অবস্থায় উদ্ধার করা সম্ভব না হয়, তাহলে গুমের জন্য দায়ী ব্যক্তি সর্বোচ্চ মৃত্যুদণ্ড বা যাবজ্জীবন কারাদণ্ড বা অন্যূন পাঁচ বছরের কারাদণ্ডে দণ্ডনীয় হবে এবং অতিরিক্ত অনধিক এক কোটি টাকা অর্থদণ্ডে দণ্ডিত হবে।
এছাড়া এখতিয়ারসম্পন্ন দায়রা আদালত এই আইনের অধীনে আরোপিত অর্থদণ্ডকে ক্ষতিপূরণ হিসেবে গণ্য করবে এবং ভুক্তভোগীকে উক্ত অর্থ প্রদান করবে। দণ্ডিত ব্যক্তির স্থাবর বা অস্থাবর সম্পত্তি থেকে অর্থদণ্ড বা ক্ষতিপূরণের অর্থ আদায়যোগ্য হবে এবং এই ক্ষেত্রে উক্ত সম্পত্তির ওপর অন্যান্য দাবি অপেক্ষা অর্থদণ্ড বা ক্ষতিপূরণের দাবি প্রাধান্য পাবে। যদি দণ্ডিত ব্যক্তির স্থাবর বা অস্থাবর সম্পত্তি থেকে অর্থ আদায় সম্ভব না হয়, তাহলে রাষ্ট্র ভুক্তভোগীকে তা প্রদানে বাধ্য থাকবে।
আইনের ২৯ ধারায় বলা হয়েছে, গুম হওয়া ব্যক্তির দায় পরিশোধ, তার স্বামী বা স্ত্রী বা নির্ভরশীল পরিবারের সদস্যদের ভরণপোষণ বা অন্য কোনো যৌক্তিক ব্যয় নির্বাহের উদ্দেশ্যে গুম হওয়া ব্যক্তির স্থাবর ও অস্থাবর সম্পত্তি ব্যবহার বা হস্তান্তরের জন্য এখতিয়ারসম্পন্ন আদালত যুক্তিসঙ্গত পরিমাণ ব্যয় নির্বাহের জন্য গুম সনদ ইস্যু করতে পারবে।
এছাড়া, যদি গুম হওয়া ব্যক্তি অন্যূন পাঁচ বছর ধরে গুম থাকেন এবং জীবিত ফিরে না আসেন, তাহলে এখতিয়ারসম্পন্ন আদালত গুম হওয়া ব্যক্তির বৈধ উত্তরাধিকারের আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে তার বিদ্যমান সম্পত্তি বৈধ উত্তরাধিকারগণের মধ্যে বণ্টনযোগ্য ঘোষণা দিতে পারবে।
এদিকে, পাস হওয়া আইনে গুমকে স্বতন্ত্র, আমলযোগ্য, জামিন অযোগ্য ও আপস অযোগ্য ফৌজদারি অপরাধ হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে। কোনো সরকারি কর্মচারী বা আইন শৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্য যদি নিজে অথবা সরকারের সমর্থন, অনুমোদন বা সম্মতিতে কাউকে গ্রেফতার, আটক বা অপহরণ করে এবং তার স্বাধীনতা হরণের বিষয়টি অস্বীকার করে বা অবস্থান গোপন করে, তাহলে তা গুম হিসেবে গণ্য হবে।
গুম প্রতিরোধ ও প্রতিকার আইনের বিষয়ে আইনমন্ত্রী মো. আসাদুজ্জামান বাসসকে বলেন, "গুম প্রতিরোধ ও প্রতিকার আইনে আমরা কিছু মৌলিক জায়গায় হাত দিয়েছি। তার একটি হলো গুমের শিকার পরিবার যেন তার সম্পত্তির ভাগ পায়। এখতিয়ারসম্পন্ন আদালতে দরখাস্ত দিয়ে তারা সে প্রতিকার পাবেন।"
আইনমন্ত্রী আরও বলেন, "গুমের দুইটা সেকশন আছে। একটা আইসিটিতে (আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল) যাবে। যেটা সিস্টেমেটিক এন্ড ওয়াইড স্প্রেড গুম। আর যেটা অর্ডিনারি কোর্সে গুম হবে ২৪ ঘন্টার বেশি কাউকে অবৈধভাবে আটকে রাখলে, সেটা যাবে এখতিয়ারসম্পন্ন আদালতে।"
গুম চিরতরে বন্ধ হবে উল্লেখ করে আইনমন্ত্রী মো. আসাদুজ্জামান বলেন, "আমরা মনে করি এবং বিশ্বাস করি বাংলাদেশে গুম চিরতরে বন্ধ হবে। যেমন আপনারা দেখেছেন আমাদের এই সময়ে কোন গুম হয়নি।"
জাতীয় মানবাধিকার কমিশন আইন-২০২৬:
২০০৯ সালের জাতীয় মানবাধিকার কমিশন আইন রহিত করে 'জাতীয় মানবাধিকার কমিশন আইন-২০২৬' পাস হয়েছে। নতুন আইনে মানবাধিকার কমিশনকে ক্ষতিপূরণ দেওয়ার ক্ষমতা এবং সমন জারিসহ দেওয়ানি আদালতের কিছু ক্ষমতা দেওয়া হয়েছে। আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর ক্ষেত্রে কমিশনের তদন্তের সুযোগও রাখা হয়েছে।
মানবাধিকার কমিশন আইনের বিষয়ে আইনমন্ত্রী মো. আসাদুজ্জামান বলেন, "মানবাধিকার কমিশন কোনো ফৌজদারি তদন্ত সংস্থা নয়। মানবাধিকার লঙ্ঘিত হয়েছে কি না, তা তদন্ত করে সরকারকে ব্যবস্থা নেওয়ার সুপারিশ করাই বিভিন্ন দেশের মানবাধিকার কমিশনের সাধারণ কাজ। ইতোমধ্যে আমি ইউএনডিপির কান্ট্রি রিপ্রেজেনটেটিভের কাছ থেকে একটা অভিনন্দন বার্তা পেয়েছি শক্তিশালী মানবাধিকার কমিশন করার জন্য। আমরা চেষ্টা করছি...।"
ট্রান্সফার অব প্রপার্টি (অ্যামেন্ডমেন্ট) অ্যাক্ট-২০২৬:
সম্পত্তি দান করার পরও দাতা জীবিত থাকা পর্যন্ত তা ভোগ করার অধিকার সংরক্ষণ করে 'ট্রান্সফার অব প্রপার্টি (অ্যামেন্ডমেন্ট) অ্যাক্ট-২০২৬' পাস করা হয়েছে। ‘জীবনকালীন ভোগাধিকার সংরক্ষণপূর্বক দান’ নামে সম্পত্তি হস্তান্তরের একটি নতুন পদ্ধতি এই আইনে যুক্ত করা হয়েছে। যেখানে সম্পত্তির মালিকানা গ্রহীতার কাছে গেলেও দাতা জীবিত থাকা পর্যন্ত সম্পত্তি ভোগ করতে পারবেন।
আলোচিত এই আইনটির বিষয়ে আইনমন্ত্রী বলেন, "আমাদের কেন? ইহজাগতিক কারোর ক্ষমতা নাই ইসলামিক ল' এর ওপর হাত দেওয়ার। আমরা সেখানে হাত দিইনি। আমরা হেবাকে সংরক্ষণ করেছি। আইনের মধ্যে এক্সপ্রেসলি সেটা বলেছি।"
আইনমন্ত্রী বলেন, "সম্পত্তি হস্তান্তরের ক্ষেত্রে একটা নতুন দিগন্ত আমরা উন্মোচন করলাম। আমরা বলেছি যে এই আইন দ্বারা হেবা কিংবা গিফট বা অন্য কোনভাবে সম্পত্তি হস্তান্তরকে বাধাগ্রস্ত করবে না বা ক্ষতিগ্রস্ত করবে না। আমরা এই আইনের মাধ্যমে সম্পত্তি হস্তান্তর আইনের একটা বিকল্প করোনারি আনছি। কেউ যদি হেবা করতে চায় হেবা করতেই পারবে। সেখানে কোন বাধা নাই। কেউ যদি অন্য আইনে সম্পত্তি ডিল করতে চান সেটা করতে পারবে। সেখানেও কোন বাধা নাই।"
তিনি আরো বলেন, "একটা গ্রুপ এটা নিয়ে পলিটিক্স করার চেষ্টা করছেন। এগুলো সাধারণ মানুষ গ্রহণ করছে না। সাধারণ মানুষ এই আইনটাকে খুব পজিটিভলি দেখছে।"
মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ (সংশোধন) আইন-২০২৬:
মাদকের বিষয়ে জিরো টলারেন্স নীতির কথা উল্লেখ করে আইনমন্ত্রী বলেন, "মাদকদ্রব্যের নিয়ন্ত্রণের ব্যাপারে আমরা কঠোর আইন করেছি। এ বিষয়ে আমাদের জিরো টলারেন্স নীতি। আমরা সামারি ট্রায়ালের মাধ্যমে মাদক নির্মূলের ব্যবস্থা করছি। পাইলট প্রোগ্রাম হিসেবে ঝিনাইদহ জেলাকে রেখেছি এবং সেখানে ভালো সাড়া পাচ্ছি।"
এছাড়া আইনের ১৮(ক) ধারা বিলুপ্ত করে ব্যাংক রেজল্যুশন (সংশোধন) আইন-২০২৬ জাতীয় সংসদে পাস করা হয়েছে। এই আইন পাসের ফলে একীভূতকরণের আওতায় যাওয়া কোনো ব্যাংকের আগের মালিক বা নিয়ন্ত্রণকারী গোষ্ঠী বিশেষ শর্ত পূরণ করে সেই ব্যাংকের মালিকানা, সম্পদ ও নিয়ন্ত্রণ ফিরে পাওয়ার সুযোগ পাবে না।
চলতি বছরের ১২ ফেব্রুয়ারি অনুষ্ঠিত ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে সংখ্যাগরিষ্ঠতা অর্জনের মধ্য দিয়ে বিএনপি সরকার গঠন করে। সরকারের প্রথম সাতমাসে জাতীয় সংসদে পাস হওয়া শতাধিক আইনের মধ্যে রয়েছে দেওয়ানি কার্যবিধি (সংশোধন) আইন, ফৌজদারি কার্যবিধি (সংশোধন) আইন, জুলাই গণ-অভ্যুত্থান স্মৃতি জাদুঘর আইন, বাংলাদেশ হাওর ও জলাভূমি সংরক্ষণ আইন, বাণিজ্যিক আদালত আইন, জুলাই গণ-অভ্যুত্থান (সুরক্ষা ও দায় নির্ধারণ) আইন, সন্ত্রাস বিরোধী (সংশোধন) আইন, মানবদেহে অঙ্গ-প্রত্যঙ্গ সংযোজন আইন, মানব পাচার ও অভিবাসী চোরাচালান প্রতিরোধ ও দমন আইন, বন ও বৃক্ষ সংরক্ষণ আইন, নারী ও শিশু নির্যাতন দমন (সংশোধন) আইন, জুয়া প্রতিরোধ আইন।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
আশুলিয়ার জামগড়ায় প্রীতি গ্রুপের কারখানা চত্বরে গ্যাস সিলিন্ডারবাহী কাভার্ড ভ্যান ও লরির বিস্ফোরণ ও অগ্নিকাণ্ডের ঘটনার পর, অনুমোদনহীন পদ্ধতিতে গ্যাস পরিবহনকারী যানবাহনে গ্যাস সরবরাহ বন্ধ করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে স্থানীয় সিএনজি স্টেশনগুলো। তিতাস গ্যাস ট্রান্সমিশন অ্যান্ড ডিস্ট্রিবিউশন কোম্পানি একই সঙ্গে এ ধরনের যানবাহনে গ্যাস না দেওয়ার নির্দেশনা প্রদান করেছে।
মঙ্গলবার (২২ সেপ্টেম্বর) বাংলাদেশ সিএনজি অ্যাসোসিয়েশনের যুগ্ম সম্পাদক তানভীর রহমান এ বিষয়টি জানান। তিনি বাংলাদেশ সিএনজি অ্যাসোসিয়েশনের উত্তরা, আশুলিয়া, নবীনগর, বাইপাইল ও চন্দ্রা জোনের জোনাল সভাপতি এবং বাইপাইলে অবস্থিত টিএস সিএনজি রিফুয়েলিং অ্যান্ড কনভার্সন লিমিটেডের স্বত্বাধিকারী।
তানভীর রহমান বলেন, "তিতাস আগে কাগজে-কলমে নিষেধ করলেও মৌখিকভাবে গ্যাস দিতে বলেছিল। কিন্তু কোনো দুর্ঘটনা ঘটলে এর দায় শেষ পর্যন্ত আমাদের ওপরই আসে। তাই আমরা আর এ ধরনের ঝুঁকির মধ্যে থাকতে চাই না।"
তিনি আরও বলেন, প্রীতি গ্রুপের ঘটনার পর আশুলিয়া অঞ্চলের তিতাস কার্যালয় থেকে সিএনজি স্টেশনগুলোকে পুনরায় চিঠি দিয়ে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে যে, অনুমতিহীন সিলিন্ডারবাহী যানবাহনে গ্যাস সরবরাহ না করা হয়।
তিতাস গ্যাসের আশুলিয়া জোনাল বিক্রয় অফিসের ব্যবস্থাপক প্রকৌশলী আবু ছালেহ মুহাম্মদ খাদেমুদ্দীন জানান, "আমরা আগেও তাদের সতর্ক করেছি, এখনো করছি। প্রীতির ঘটনার পর আবারও সিএনজি স্টেশনগুলোকে চিঠি দেওয়া হয়েছে। এর ব্যত্যয় হলে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে।"
সাভার উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো. সাইফুল ইসলাম বলেন, "সিএনজি স্টেশনগুলো মনিটরিংয়ের দায়িত্ব মূলত তিতাস ও বিস্ফোরক অধিদপ্তরের। এসব দপ্তর প্রশাসনিক সহযোগিতা চাইলে উপজেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে সহযোগিতা করা হবে।"
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
দক্ষিণ আফ্রিকার পূর্বাঞ্চলীয় কোয়াজুলু-নাটাল প্রদেশে একটি বাড়িতে বন্দুকধারীদের হামলায় অন্তত ১১ জন নিহত হয়েছেন। এ হামলায় আরও তিনজন আহত হয়েছেন।
২২ সেপ্টেম্বর মঙ্গলবার গভীর রাতে ডারবানের দক্ষিণে কোয়ামাখুথা টাউনশিপে এই হামলার ঘটনা ঘটে। দক্ষিণ আফ্রিকার টেলিভিশন সংবাদ চ্যানেল ইএনসিএ জানিয়েছে, নিহতদের মধ্যে একজন অন্তঃসত্ত্বা নারীও রয়েছেন।
ঘটনাস্থলে হামলার ফলে ১০ জন নিহত হন। পরে হাসপাতালে নেওয়ার পথে আহত আরেকজনের মৃত্যু ঘটে।
স্থানীয় সময় রাত ১১টার আগে একটি আবাসিক বাড়িতে হামলা চালানো হয়। ওই সময় টাউনশিপের বাড়িটিতে কয়েকজন অবস্থান করছিলেন। অজ্ঞাতপরিচয় হামলাকারীরা সেখানে ঢুকে এলোপাতাড়ি গুলি চালায়।
হামলার পর পালিয়ে যাওয়ার আগে বন্দুকধারীরা বাড়ির মালিকের একটি গাড়িতে আগুন ধরিয়ে দেয়।
এ ঘটনায় হামলার উদ্দেশ্য এখনো জানা যায়নি। হামলাকারীদের কাউকে শনাক্ত বা গ্রেফতার করার তথ্যও জানায়নি কর্তৃপক্ষ।
তথ্যসূত্র: আনাদোলু এজেন্সি
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
ভারত, ব্রাজিল, জার্মানি এবং জাপান, এই চারটি দেশের জোট জি-৪ জাতিসংঘ নিরাপত্তা পরিষদে দ্রুত সংস্কারের জন্য আহ্বান জানিয়েছে। পররাষ্ট্রমন্ত্রীরা বলেছেন, বর্তমান নিরাপত্তা পরিষদ আন্তর্জাতিক শান্তি ও নিরাপত্তা রক্ষার দায়িত্ব যথাযথভাবে পালন করতে সক্ষম হচ্ছে না।
মঙ্গলবার নিউইয়র্কে জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের ৮১তম অধিবেশনের ফাঁকে জি-৪-এর পররাষ্ট্রমন্ত্রীরা একত্রিত হন। বৈঠকে ভারতের পররাষ্ট্রমন্ত্রী এস জয়শঙ্কর, ব্রাজিলের পররাষ্ট্রমন্ত্রী মাউরো ভিয়েরা, জার্মানির পররাষ্ট্রমন্ত্রী ইয়োহান ডেভিড ওয়াডেফুল এবং জাপানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী মোতেগি তোশিমিৎসু উপস্থিত ছিলেন।
বৈঠকে তারা নিরাপত্তা পরিষদকে আরও কার্যকর ও প্রতিনিধিত্বশীল করার প্রয়োজনীয়তার ওপর গুরুত্ব আরোপ করেন। পাশাপাশি, বর্তমান বিশ্বের রাজনৈতিক বাস্তবতার সঙ্গে পরিষদের কাঠামোকে সামঞ্জস্যপূর্ণ করার আহ্বান জানান।
এক যৌথ বিবৃতিতে জি-৪ উল্লেখ করেছে, বিশ্বে ভূ-রাজনৈতিক উত্তেজনা ও সংঘাতের বৃদ্ধি নিরাপত্তা পরিষদের সংস্কারকে এখন আগের যেকোনো সময়ের চেয়ে বেশি জরুরি করে তুলেছে।
বিবৃতিতে বলা হয়েছে, নিরাপত্তা পরিষদের বর্তমান কাঠামো প্রায় ৮০ বছর পুরনো। ফলে এটি বর্তমান বিশ্বের রাজনৈতিক বাস্তবতা এবং পরিবর্তিত পরিস্থিতিকে যথাযথভাবে প্রতিফলিত করতে পারছে না।
জি-৪-এর মতে, এই পুরনো কাঠামো আন্তর্জাতিক শান্তি ও নিরাপত্তার বর্তমান এবং ভবিষ্যৎ চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় বাধা সৃষ্টি করছে। এর ফলে নিরাপত্তা পরিষদের প্রতিনিধিত্ব, বৈধতা, বিশ্বাসযোগ্যতা এবং কার্যকারিতা নিয়ে প্রশ্ন উঠছে। চারটি দেশ তাই নিরাপত্তা পরিষদে দ্রুত ও কার্যকর সংস্কারের ওপর জোর দিয়েছে।
এই প্রেক্ষাপটে, জাতিসংঘ নিরাপত্তা পরিষদে দ্রুত সংস্কারের আহ্বান জানিয়েছে জি-৪। তারা বলেছে, বর্তমান বিশ্বের বাস্তবতার সঙ্গে মিল রেখে নিরাপত্তা পরিষদকে আরও কার্যকর ও প্রতিনিধিত্বশীল করতে হবে।
জি-৪-এর মতে, সংস্কারের অংশ হিসেবে নিরাপত্তা পরিষদের স্থায়ী ও অস্থায়ী—দুই ধরনের সদস্য সংখ্যা বাড়ানো উচিত। একই সঙ্গে যেসব অঞ্চল এবং গোষ্ঠীর প্রতিনিধিত্ব কম বা নেই, তাদের প্রতিনিধিত্ব বাড়ানোর প্রয়োজনীয়তা রয়েছে। এর মধ্যে আফ্রিকা, এশিয়া-প্রশান্ত মহাসাগরীয় অঞ্চল এবং লাতিন আমেরিকা ও ক্যারিবীয় অঞ্চল অন্তর্ভুক্ত।
আন্তর্জাতিক শান্তি ও নিরাপত্তা রক্ষায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখা দেশগুলোর নিরাপত্তা পরিষদের কার্যক্রমে অংশগ্রহণ বাড়ানোর ওপরও জোর দিয়েছে জি-৪। জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের ৮০তম অধিবেশনের সময় আফ্রিকান দেশগুলোর পক্ষ থেকে নিরাপত্তা পরিষদ সংস্কারের প্রস্তাব দেওয়াকে স্বাগত জানিয়েছে তারা। একই সঙ্গে নিরাপত্তা পরিষদের স্থায়ী সদস্যপদসহ আফ্রিকার প্রতিনিধিত্ব বাড়ানোর দাবির প্রতি সমর্থন জানিয়েছে।
তবে নিরাপত্তা পরিষদ সংস্কার নিয়ে আইজিএন আলোচনায় অগ্রগতি কম হওয়ায় উদ্বেগ প্রকাশ করেছে জি-৪। তাদের মতে, গত ১৮ বছর ধরে আলোচনা চললেও এখনো কাঙ্ক্ষিত কোনো বাস্তব ফল পাওয়া যায়নি। লিখিত আলোচনা শুরুর আগে একটি ‘সমঝোতামূলক প্রস্তাব’ উপস্থাপনের বিষয়েও আপত্তি জানিয়েছে জি-৪।
তাদের দাবি, ওই প্রস্তাবে নিরাপত্তা পরিষদের স্থায়ী ও অস্থায়ী—দুই ধরনের সদস্যপদ বাড়ানোর পক্ষে থাকা অধিকাংশ দেশের মতামত প্রতিফলিত হয়নি।
জি-৪ আরো বলেছে, জাতিসংঘ সনদ ও আইজিএনের নিয়ম অনুযায়ী নিরাপত্তা পরিষদ সংস্কারের সিদ্ধান্ত নেওয়ার ক্ষেত্রে সব দেশের ঐকমত্য থাকা বাধ্যতামূলক নয়। ভবিষ্যতে সংস্কারপন্থী অন্যান্য দেশ ও জোটের সঙ্গে কাজ করে মতের মিল রয়েছে এমন বিষয়গুলো চিহ্নিত করতে চায় জি-৪। পাশাপাশি অধিকাংশ সদস্য দেশের মতামতকে গুরুত্ব দিয়ে একটি যৌথ সংস্কার প্রস্তাব তৈরির কথাও জানিয়েছে তারা।
জি-৪ বলেছে, নিরাপত্তা পরিষদ সংস্কার নিয়ে লিখিত আলোচনা দ্রুত শুরু করাই তাদের অন্যতম প্রধান অগ্রাধিকার। তাদের মতে, এর মাধ্যমে নিরাপত্তা পরিষদে বাস্তব ও কার্যকর সংস্কারের পথ তৈরি হতে পারে।
জি-৪-এর দেশগুলো বলেছে, জাতিসংঘ নিরাপত্তা পরিষদকে আরও প্রতিনিধিত্বশীল, বিশ্বাসযোগ্য ও কার্যকর করতে সংস্কার জরুরি। তাদের মতে, এই সংস্কারের মাধ্যমে জাতিসংঘের বহুপক্ষীয় ব্যবস্থাও আরও শক্তিশালী হবে। বৈঠকের পর ভারতের পররাষ্ট্রমন্ত্রী এস জয়শঙ্কর বলেন, ভারত, ব্রাজিল, জার্মানি ও জাপান নিরাপত্তা পরিষদকে বর্তমান বিশ্বের বাস্তবতার সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ করার লক্ষ্যে একসঙ্গে কাজ করবে।
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে এক পোস্টে জয়শঙ্কর বলেন, নিউইয়র্কে জি-৪-এর বৈঠকে বহুপক্ষীয় ব্যবস্থার সংস্কার এবং আরও প্রতিনিধিত্বশীল ও কার্যকর নিরাপত্তা পরিষদের প্রয়োজনীয়তা নিয়ে আলোচনা হয়েছে।
জার্মানির পররাষ্ট্রমন্ত্রী ইয়োহান ডেভিড ওয়াডেফুলও নিরাপত্তা পরিষদে বিশ্বের পরিবর্তিত বাস্তবতার প্রতিফলন ঘটানোর ওপর জোর দেন। তিনি আফ্রিকার দেশগুলোর প্রতিনিধিত্ব বাড়ানোর আহ্বান জানান।
ওয়াডেফুল বলেন, জাতিসংঘ প্রতিষ্ঠার পর বিশ্বে ব্যাপক পরিবর্তন এসেছে। তাই জাতিসংঘের গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত গ্রহণকারী সংস্থাতেও সেই পরিবর্তনের প্রতিফলন থাকা দরকার। ভারত, ব্রাজিল ও জাপানের সঙ্গে জার্মানি আরও অন্তর্ভুক্তিমূলক নিরাপত্তা পরিষদের জন্য কাজ করছে বলেও জানান তিনি।
তিনি আরো বলেন, নিরাপত্তা পরিষদে আফ্রিকার দেশগুলোর মতামত ও প্রতিনিধিত্ব আরও যথাযথভাবে তুলে ধরা উচিত।
এদিকে জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের ৮১তম অধিবেশন চলাকালে জি-৪-এর চার দেশ ঘনিষ্ঠভাবে সমন্বয় করে কাজ চালিয়ে যাওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে। বৈঠকে নেওয়া সিদ্ধান্ত বাস্তবায়নে নিজ নিজ দেশের কর্মকর্তাদের কাজ করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। আগামীতে নয়াদিল্লিতে মহাপরিচালক পর্যায়ের বৈঠকে সংস্কার উদ্যোগের অগ্রগতি পর্যালোচনা করার বিষয়েও তারা একমত হয়েছে।
জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের অধিবেশনের ফাঁকে জার্মানির পররাষ্ট্রমন্ত্রী ইয়োহান ডেভিড ওয়াডেফুলের সঙ্গে আলাদাভাবে বৈঠক করেন জয়শঙ্কর। বৈঠকে ইউক্রেন যুদ্ধ, উপসাগরীয় অঞ্চলের সংকট এবং বহুপক্ষীয় সহযোগিতা নিয়ে আলোচনা হয়।
পরে এক্সে দেওয়া এক পোস্টে জয়শঙ্কর বলেন, ইউক্রেন ও উপসাগরীয় অঞ্চলের চলমান সংকট নিয়ে তারা মতবিনিময় করেছেন। জাতিসংঘসহ বিভিন্ন বহুপক্ষীয় ফোরামে ভারত ও জার্মানির সহযোগিতা শক্তিশালী রয়েছে বলেও জানান তিনি।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
কিলিয়ান এমবাপ্পে গায়ের জার্সিটা সাদা নয়, বরং অলরেড হওয়ার কথা ছিল। তবে একটি মুহূর্তের মধ্যে সম্পর্ক বদলে যায়। সেই মুহূর্তটি ছিল এমবাপ্পের চাওয়া। লিভারপুলের সঙ্গে কেন চুক্তি হয়নি, সেই গল্প দ্য অ্যাথলেটিককে জানিয়েছেন ফরাসি তারকা।
ঘটনাটি ২০১৬ সালের। সে সময় মোনাকোর হয়ে মাঠ কাঁপাচ্ছিলেন এমবাপ্পে। তাকে পেতে অনেক ক্লাব যোগাযোগ শুরু করে। লিভারপুলও ছিল সেই তালিকায়। তখনকার ইংলিশ ক্লাবটির কোচ ছিলেন ইয়ুর্গেন ক্লপ। এমবাপ্পের মায়ের বড় ভক্ত ছিলেন ক্লপ। তাই মায়ের ইচ্ছা ছিল ছেলে অলরেডদের সঙ্গে চুক্তি করুক।
আলোচনার জন্য এমবাপ্পের মা প্রথমে লিভারপুলে গিয়েছিলেন। শহরটি ঘুরে দেখেন, স্টেডিয়ামে যান এবং সেখানকার লোকজনের সঙ্গে কথাও বলেন। ক্লাবটির আতিথেয়তায় তিনি অ্যানফিল্ডের প্রেমে পড়ে যান। এমবাপ্পে অ্যানফিল্ডে খেললে স্টেডিয়ামের আবহ কেমন হবে, তা বোঝার জন্য একা গ্যালারিতে বসে বেশ কিছু ম্যাচও উপভোগ করেন।
লিভারপুল থেকে ফিরে এসে এমবাপ্পের মাকে ছেলেকে চুক্তি করার জন্য তাগাদা দেন। কিন্তু ছেলের মন গলাতে পারেননি তিনি। তখন ১৮ বছর বয়সী এমবাপ্পে নিজের শহর প্যারিস ছেড়ে অন্য কোথাও যেতে চাননি। তাই পিএসজিতে যোগ দেন তিনি।
স্মৃতি রোমন্থন করতে গিয়ে এমবাপ্পে বলেন, “লিভারপুলের সঙ্গে চুক্তির শেষ পর্যায়ে ছিলাম। আমার মায়ের সবচেয়ে পছন্দের জায়গা ছিল লিভারপুল, তিনি চেয়েছিলেন আমি যেন সেখানেই যাই। কিন্তু আমি মায়ের কথা শুনিনি। কারণ আমি প্যারিসে খেলতে চেয়েছিলাম। তারকা হওয়ার আগে নিজের দেশ ছেড়ে যেতে চাইনি। তবে আমার মা সব সময় বলতেন— ‘তুমি লিভারপুলেই যাবে, অ্যানফিল্ডে খেলবে, আর সেটা তোমার জন্য অবিশ্বাস্য এক অভিজ্ঞতা হবে’।”
এমবাপ্পের সঙ্গে চুক্তির বিষয়টি ২০২৬ বিশ্বকাপ চলাকালীন সময়ে ম্যাজেন্টা টিভিতে সাক্ষাৎকার দেওয়ার সময় ক্লপ স্বীকার করেছেন। বিষয়টি গোপন রাখতে ব্ল্যাকপুল থেকে ফ্রান্সের নিস শহরে পাঁচ রুমের একটি বিশাল প্রাইভেট জেট পাঠানো হয়েছিল। যাতে আকাশে চক্কর দিতে দিতে চুক্তির আলোচনা করা যায়।
সেই ঘটনা নিয়ে ক্লপ বলেন, ‘এমবাপ্পেকে পাওয়ার জন্য সব চেষ্টাই করেছিলাম। এমবাপ্পের পরিবারকে জেটে তুলে নিয়ে আকাশে চক্কর দিতে দিতে চুক্তি নিয়ে আলোচনা করি। সঙ্গে সবাই মিলে সুস্বাদু খাবারও খাই। মুহূর্তটা দারুণ ছিল। তবে শেষ পর্যন্ত সেই আলোচনা আলোর মুখ দেখেনি। সে প্যারিসেই চলে যায়।’
শুরুতে ধারে পিএসজিতে খেলেন এমবাপ্পে। পরে ১৮০ মিলিয়ন ইউরোয় চুক্তি হয়। দীর্ঘ ৭ বছরের ক্যারিয়ারে ক্লাবের সর্বকালের সর্বোচ্চ গোলদাতা হন। এরপর ২০২৪ সালে রিয়ালে যোগ দেন তিনি। পিএসজিতে যোগ দেওয়ার বিষয়ে এমবাপ্পে বলেন, ‘দিনশেষে পিএসজিতে যাওয়ার সিদ্ধান্ত নিই। কারণ প্যারিসে জন্ম ও বেড়ে ওঠা একজন তরুণের নিজ শহরের ক্লাবেই বড় তারকা হয়ে ওঠার চেয়ে সুন্দর অনুভূতি আমার কাছে আর কিছু ছিল না।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ