বৃহস্পতিবার, ২৭শে আগস্ট, ২০২৬ ইং
১২:২৭ পি.এম
নেপালে আকস্মিক বন্যা ও ভূমিধসে ঘটে যাওয়া প্রাণহানি ও ধ্বংসযজ্ঞের কারণে রাষ্ট্রপতি মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর গভীর শোক প্রকাশ করেছেন এবং নিহতদের পরিবারের প্রতি আন্তরিক সমবেদনা জানিয়েছেন। তিনি বৃহস্পতিবার (২৭ আগস্ট) এই শোক প্রকাশ করেন।
এর আগে, বুধবার (২৬ আগস্ট) পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ও এই ঘটনার জন্য গভীর শোক প্রকাশ করেছে। পাশাপাশি, বর্তমান পরিস্থিতিতে উদ্ধার ও ত্রাণ কার্যক্রমে নেপালকে প্রয়োজনীয় সহায়তা দিতে বাংলাদেশ সম্পূর্ণ প্রস্তুত রয়েছে বলেও জানানো হয়েছে।
বুধবার (২৬ আগস্ট) ঘটে যাওয়া আকস্মিক বন্যায় নিহতের সংখ্যা বেড়ে ১৬২ জনে পৌঁছেছে। নিখোঁজ রয়েছেন প্রায় ৪০০ জন।
নিখোঁজদের মধ্যে বিদেশি পর্যটক, নিরাপত্তাকর্মী এবং বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ অন্তর্ভুক্ত রয়েছে। ভোতেকোশি নদীতে আকস্মিক বন্যার ফলে দেশটির তিনটি জেলা ব্যাপকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
ঢাকা-১৭ আসনের কড়াইল, সাততলা ও ভাসানটেক বস্তি এলাকায় পুনর্বাসনের উদ্দেশ্যে ১০ হাজার কোটি টাকার একটি আধুনিক আবাসন প্রস্তাব চীনের কাছে ইআরডির মাধ্যমে পাঠানো হয়েছে, এমন তথ্য জানিয়েছেন স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলম।
তিনি জানান, চীনের পক্ষ থেকে পর্যায়ক্রমে এই প্রকল্প বাস্তবায়নের জন্য সম্মতি প্রদান করা হয়েছে। এসব বস্তিতে বিশতলা ভবনে ছোট ছোট ইউনিট আকারে ফ্ল্যাট নির্মাণ করা হবে। এসব ফ্ল্যাটের বাসিন্দাদের জন্য ভাড়া ছাড়া শুধুমাত্র গ্যাস, পানি ও বিদ্যুৎ বিল পরিশোধ করতে হবে।
আজ বৃহস্পতিবার সচিবালয়ে স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী ড. আবদুল মঈন খানের সাথে বৈঠক করেন বাংলাদেশে নিযুক্ত চীনের রাষ্ট্রদূত ইয়াও ওয়েন। বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলম ও সচিব মো. শহিদুল হাসান।
বৈঠকের পর প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলম বিস্তারিত তথ্য তুলে ধরেন। তিনি বলেন, বাংলাদেশে নবায়নযোগ্য জ্বালানি উৎপাদনের বিষয়ে চীনের সম্মতি পাওয়া গেছে। চীন বাংলাদেশে বর্জ্য থেকে বিদ্যুৎ উৎপাদন, নবায়নযোগ্য জ্বালানি, বস্তি উন্নয়নসহ বিভিন্ন খাতে বিনিয়োগ করবে।
প্রতিমন্ত্রী আরও জানান, চীনের রাষ্ট্রদূত ইয়াও ওয়েন বলেছেন, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের চীন সফরের পর দুই দেশের মধ্যে ঐতিহাসিক ও সুবর্ণ সুযোগ সৃষ্টি হয়েছে।
মীর শাহে আলম বলেন, ঢাকা উত্তর সিটি কর্পোরেশনের আমিনবাজার ল্যান্ডফিলে চীনা প্রতিষ্ঠান 'সিএমইসি' এর মাধ্যমে বর্জ্য থেকে বিদ্যুৎ উৎপাদনের কাজ চলছে। ২০২৮ সালের আগস্ট-সেপ্টেম্বরের মধ্যে এই বিদ্যুৎ জাতীয় গ্রিডে যুক্ত করার লক্ষ্য রয়েছে। আগামী ২ সেপ্টেম্বর বেইজিংয়ে এর চূড়ান্ত ত্রিপক্ষীয় চুক্তি স্বাক্ষরিত হবে।
প্রতিমন্ত্রী আরও জানান, ঢাকা দক্ষিণ সিটি কর্পোরেশনের ল্যান্ডফিলের বর্জ্য ব্যবহারের জন্য 'পাওয়ার চায়না' নামক প্রতিষ্ঠানের সাথে বিদ্যুৎ উৎপাদনের কার্যক্রম প্রক্রিয়াধীন রয়েছে। এছাড়া, চীনের পক্ষ থেকে দাশেরকান্দি স্যুয়ারেজ ট্রিটমেন্ট প্ল্যান্টের বাকি কাজ সম্পন্ন করতে ঋণ বা অনুদান আকারে প্রয়োজনীয় অর্থায়নের নিশ্চয়তা দেওয়া হয়েছে। এর মাধ্যমে গুলশান, বারিধারা ও বনানী এলাকায় স্যুয়ারেজ নেটওয়ার্ক যুক্ত করার পরিকল্পনা রয়েছে।
তিনি আরও বলেন, সরকারি ভবন, সিটি কর্পোরেশন, পৌরসভা, উপজেলা ও ইউনিয়ন পরিষদের ছাদে নেটিং মিটারের মাধ্যমে সৌর বিদ্যুৎ উৎপাদনের বিষয়ে চীন বিনিয়োগে আগ্রহ প্রকাশ করেছে।
বন্দর উন্নয়ন বিষয়ে প্রতিমন্ত্রী জানান, মোংলা পোর্টের উন্নয়নেও চীন কাজ করবে। এ বিষয়ে মন্ত্রীর সাথে রাষ্ট্রদূতের আলোচনা হয়েছে। দ্রুততম সময়ে কাজ শুরু হবে এবং মোংলা পোর্টের সাথে চিটাগং পোর্টের একটি লিংকেজও তারা তৈরি করবে বলে উল্লেখ করেন প্রতিমন্ত্রী।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
নেপালে ঘটে যাওয়া বিধ্বংসী বন্যা ও ভূমিধসের ফলে বিপুলসংখ্যক প্রাণহানির ঘটনায় গভীর শোক ও দুঃখ প্রকাশ করেছেন জাতীয় সংসদের স্পিকার বীর বিক্রম মেজর (অব.) হাফিজ উদ্দিন আহমেদ, এমপি।
স্পিকার এক শোকবার্তায় শোকসন্তপ্ত পরিবারগুলোর প্রতি গভীর সমবেদনা জানান।
তিনি এই প্রাকৃতিক দুর্যোগে নিহতদের আত্মার মাগফিরাত ও শান্তি কামনা করেন এবং আহতদের দ্রুত আরোগ্য কামনা করেন।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
ঘটনার ২৭ বছর পর অবশেষে ৯/১১ হামলার বিচার শুরু হতে যাচ্ছে। বুধবার, একটি মার্কিন সামরিক আদালতের বিচারক খালিদ শেখ মোহাম্মদ, যিনি ৯/১১ হামলার মূল পরিকল্পনাকারী হিসেবে অভিযুক্ত, এবং তার তিন সহযোগীর বিচারের জন্য ২০২৮ সালের ৫ জুন তারিখ নির্ধারণ করেছেন।
প্রসিকিউটররা ২০২৭ সালের জানুয়ারি মাসে বিচার শুরুর জন্য আবেদন করেছিলেন। তবে বিচারক তার চেয়ে ১৮ মাস পিছিয়ে এই তারিখ নির্ধারণ করেছেন। বিমানবাহিনীর লেফটেন্যান্ট কর্নেল মাইকেল এ শ্রামা তার আদেশে উল্লেখ করেছেন, "বিচার শুরুর আগের বিরোধগুলো মেটাতে এই অতিরিক্ত সময়ের প্রয়োজন।" এর মধ্যে বিচারে কোন কোন তথ্য-প্রমাণ উপস্থাপন করা যাবে, তা নিয়ে মতদ্বৈধতাও রয়েছে।
আমেরিকার ইতিহাসের অন্যতম ভয়াবহ এই হামলার পরিকল্পনাকারীকে বিচারের মুখোমুখি করতে মার্কিন সামরিক বাহিনী এবং একাধিক সরকার দুই দশকেরও বেশি সময় ধরে লড়াই করছে। ২০২৮ সালের এই বিচার প্রক্রিয়া নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে বিভিন্ন লক্ষ্য ও মাইলফলক অর্জনের ওপর নির্ভর করছে এবং এটি আবারও পিছিয়ে যেতে পারে। ২০২১ সালেও একবার বিচারের তারিখ নির্ধারণ করা হয়েছিল, যা পরে বাতিল হয়ে যায়। খালিদ শেখের বিরুদ্ধে অভিযোগ রয়েছে যে, তিনি অপহৃত যাত্রীবাহী বিমানগুলো ওয়ার্ল্ড ট্রেড সেন্টার এবং পেন্টাগনে আছড়ে ফেলার পরিকল্পনা তৈরি ও তা পরিচালনা করেছেন।
খালিদ শেখের সঙ্গে তার তিন সহযোগী: ওয়ালিদ বিন আত্তাশ, আলী আব্দুল আজিজ আলী এবং মুস্তফা আল-হাউসাভিরও বিচারের মুখোমুখি হতে হবে। অভিযুক্তরা বর্তমানে কিউবার গুয়ান্তানামো বে-তে অবস্থিত মার্কিন সামরিক ঘাঁটিতে আটক থাকা শেষ বন্দিদের মধ্যে রয়েছেন।
বিচারের জন্য দীর্ঘ অপেক্ষার মধ্যে ২০২৪ সালে আসামিদের সঙ্গে একটি চুক্তি হওয়ার কথা ছিল, যেখানে মৃত্যুদণ্ডের পরিবর্তে আমৃত্যু কারাদণ্ডের শর্তে তারা দোষ স্বীকার করতে রাজি হয়েছিল। তবে রাজনৈতিক বিতর্ক এবং ভুক্তভোগীদের পরিবারের আপত্তির কারণে পরবর্তীতে জো বাইডেন প্রশাসন ও মার্কিন প্রতিরক্ষা বিভাগ সেই চুক্তি বাতিল করে দেয়। ফলে মামলাটি আবার সাধারণ বিচার প্রক্রিয়ায় ফিরে গেছে।
২০০১ সালের ১১ সেপ্টেম্বর সন্ত্রাসীরা চারটি যাত্রীবাহী বিমান ছিনতাই করে যুক্তরাষ্ট্রের বিভিন্ন লক্ষ্যে হামলা চালায়। দুটি বিমান নিউইয়র্কের ওয়ার্ল্ড ট্রেড সেন্টারের টুইন টাওয়ারের দুটি টাওয়ারই ধ্বংস করে দেয়। তৃতীয় বিমানটি আছড়ে পড়ে মার্কিন সামরিক দপ্তর পেন্টাগনে। যাত্রীদের প্রতিরোধের মুখে চতুর্থ বিমানটি পেনসিলভেনিয়ার একটি মাঠে বিধ্বস্ত হয়। এই হামলায় প্রায় ৩ হাজার মানুষ প্রাণ হারায়, যা শুধু আমেরিকা নয়, বিশ্বের ইতিহাসে ভয়াবহ একটি ঘটনা।
৯/১১ হামলার প্রায় ২৫ বছর পরেও এর বিচার শুরু করতে না পারাকে আন্তর্জাতিক আইন বিশেষজ্ঞ, মানবাধিকার কর্মী এবং ভুক্তভোগীদের পরিবারের একটি বড় অংশ আইনি ব্যবস্থার এক বিরাট ব্যর্থতা হিসেবে দেখছেন। হামলায় নিহত অনেক ভুক্তভোগীর বাবা-মা বা বয়োজ্যেষ্ঠ আত্মীয়রা কোনো বিচার না দেখেই পৃথিবী থেকে বিদায় নিয়েছেন। হামলার প্রধান পরিকল্পনাকারী খালিদ শেখ মোহাম্মদ এবং তার সহযোগীদের বিচার মূলত আইনি এবং পদ্ধতিগত জটিলতার কারণে আটকে আছে।
মার্কিন গোয়েন্দা সংস্থা সিআইএ এই আসামিদের গ্রেপ্তারের পর গোপন কারাগারে রেখে কঠোর জিজ্ঞাসাবাদের নামে ওয়াটারবোর্ডিংসহ ব্যাপক শারীরিক নির্যাতন করেছিল। আন্তর্জাতিক আইন অনুযায়ী, নির্যাতনের মাধ্যমে নেওয়া জবানবন্দি আদালতে প্রমাণ হিসেবে গ্রহণ করা যায় না। ফলে, কোন প্রমাণ বৈধ আর কোনটা অবৈধ; তা নির্ধারণ করতেই বিচারপূর্ব বিতর্কেই ২০ বছরের বেশি সময় নষ্ট হয়েছে। মার্কিন বেসামরিক আদালতে বিচার না করে গুয়ান্তানামো বে-র বিশেষ সামরিক আদালতে এই বিচার করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। এই আদালতের নিজস্ব নিয়মকানুন এবং আইনি বৈধতা নিয়ে বারবার সুপ্রিম কোর্টে চ্যালেঞ্জ হয়েছে, যা প্রক্রিয়াটিকে অন্তহীনভাবে দীর্ঘায়িত করেছে।
প্রধান অভিযুক্ত খালিদ শেখ মোহাম্মদসহ অন্যরা ২০০৩ সাল থেকে বন্দি। কোনো চূড়ান্ত রায় ছাড়া দুই দশকেরও বেশি সময় ধরে কাউকে এভাবে আটকে রাখা আন্তর্জাতিক মানবাধিকার আইনের পরিপন্থী। ৯/১১ হামলার বিচার মার্কিন বিচার ব্যবস্থার ইতিহাসে অন্যতম দীর্ঘতম এবং জটিলতম একটি অমীমাংসিত অধ্যায় হয়ে রয়েছে। সাধারণ মানুষের চোখে এই দীর্ঘসূত্রতা মার্কিন বিচার ব্যবস্থার একটি বড় ব্যর্থতা। তবে আইনগতভাবে এটি আমেরিকার ইতিহাসের সবচেয়ে জটিল মামলা, যেখানে রাজনৈতিক প্রতিশোধের চেয়ে আইনের মর্যাদা রক্ষা করাই এখন সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
নেপালের উত্তরাঞ্চলে, তিব্বত-চীন সীমান্তের কাছে অবস্থিত রাসুয়া জেলায় বন্যার ফলে প্রাণহানি এবং নিখোঁজের সংখ্যা ক্রমাগত বৃদ্ধি পাচ্ছে। এই মারাত্মক দুর্যোগের মধ্যে বাংলাদেশের জনপ্রিয় সংগীতশিল্পী ও ‘কুঁড়েঘর’ ব্যান্ডের ভোকাল তাসরিফ খান সেখানে অবস্থান করছেন।
তবে তিনি এবং তাঁর পুরো দল নিরাপদে রয়েছেন বলে নিশ্চিত করেছেন।
দুর্যোগের খবর ছড়িয়ে পড়ার পর বুধবার (২৭ আগস্ট) সন্ধ্যায় ফেসবুকে তাসরিফ লিখেছেন, ‘আমরা নেপালেই আছি এবং আল্লাহর অশেষ রহমতে এখন পর্যন্ত নিরাপদ আছি। আজ নেপালের ইতিহাসের অন্যতম ভয়াবহ দুর্যোগ হয়েছে। নেপালের উত্তরাঞ্চলে, তিব্বত-চীন সীমান্তসংলগ্ন রাসুয়া জেলায় ভয়াবহ আকস্মিক ফ্ল্যাশ ফ্লাডের আঘাতে শত শত টুরিস্ট এখন পর্যন্ত নিখোঁজ রয়েছে এবং মৃতের সংখ্যা বাড়ছে।
প্রাকৃতিক দুর্যোগের খবর পাওয়ার পর ভক্তদের উদ্বেগ প্রকাশের জন্য ধন্যবাদ জানিয়ে তাসরিফ সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে লিখেছেন, ‘খবরটি জানার পর থেকে দেশে ও দেশের বাইরে থেকে অসংখ্য শুভাকাঙ্ক্ষী ফোন ও মেসেজে আমাদের খোঁজ নিয়েছেন। আপনাদের এই আন্তরিক উদ্বেগ, দোয়া ও ভালোবাসার জন্য আমরা সত্যিই কৃতজ্ঞ।’
তাসরিফ শুধু নিজের এবং দলের নিরাপত্তার জন্য উদ্বিগ্ন নন, তিনি নেপালের স্থানীয় ক্ষতিগ্রস্তদের প্রতিও সমবেদনা জানিয়েছেন। তিনি লিখেছেন, ‘এই দুর্যোগে ক্ষতিগ্রস্ত ও বিপদগ্রস্ত সব মানুষের জন্য মন থেকে দোয়া করছি।
আল্লাহ সবাইকে হেফাজত করুন, বিপদগ্রস্ত মানুষদের দ্রুত নিরাপদে ফিরিয়ে আনুন এবং এই কঠিন পরিস্থিতি দ্রুত স্বাভাবিক করে দিন।’ সবশেষে তিনি নিজের এবং দলের জন্য সবার কাছে দোয়া চেয়েছেন।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ