শুক্রবার, ২৩শে অক্টোবর, ২০২৬ ইং
০৯:০০ পি.এম
মাদক মামলায় ফাঁসানোর ভয় দেখিয়ে ১ লাখ ১০ হাজার টাকা আদায়ের অভিযোগ, তরুণীর নম্বর চেয়ে গভীর রাতে ফোন
বরিশালের উজিরপুরে মাদকবিরোধী অভিযানের সময় এক শয্যাশায়ী ব্যক্তির চিকিৎসার জন্য রাখা ১৫ হাজার টাকা নিয়ে যাওয়ার অভিযোগ উঠেছে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের (ডিএনসি) গৌরনদী সার্কেলের সদস্যদের বিরুদ্ধে। একই পরিবারের কাছ থেকে মাদক মামলায় ফাঁসানোর ভয় দেখিয়ে গত এক মাসে দুই দফায় ১ লাখ ১০ হাজার টাকা নেওয়ার অভিযোগও করেছেন ভুক্তভোগীর স্ত্রী। তবে টাকা নেওয়ার অভিযোগ অস্বীকার করেছেন অভিযানে নেতৃত্ব দেওয়া কর্মকর্তা।
বৃহস্পতিবার (২২ অক্টোবর) উপজেলার জল্লা ইউনিয়নের সীমান্তবর্তী ওড়াবাশবাড়ি গ্রামের কামরুজ্জামান কালুর বাড়িতে এ অভিযান চালানো হয়। স্থানীয়দের দাবি, তল্লাশি চালিয়ে কোনো মাদকদ্রব্য পাওয়া যায়নি। এ সময় অভিযান ঘিরে উত্তেজনা সৃষ্টি হলে স্থানীয়রা ডিএনসির সদস্যদের ঘিরে রাখেন।
কামরুজ্জামান কালুর স্ত্রী সুখী বেগম অভিযোগ করেন, অভিযানের শুরুতে তাঁর স্বামীকে মাদক মামলায় ফাঁসানোর ভয় দেখিয়ে ২০ হাজার টাকা দাবি করা হয়। টাকা দিতে রাজি না হওয়ায় তাঁকে ও তাঁর মেয়েকে দুর্ব্যবহার করা এবং হুমকি দেওয়ার অভিযোগও করেন তিনি।
সুখী বেগমের দাবি, তল্লাশির সময় তাঁর শয্যাশায়ী স্বামীর চিকিৎসার জন্য বালিশের নিচে রাখা ১৫ হাজার টাকা নিয়ে যান ডিএনসির সদস্যরা। এর আগেও গত এক মাসে দুই দফায় তাঁদের কাছ থেকে ১ লাখ ১০ হাজার টাকা নেওয়া হয়েছে বলে অভিযোগ করেন তিনি।
অভিযান চলাকালে মুঠোফোনে ধারণ করা ভিডিও মুছে দেওয়ার অভিযোগ করেছেন স্থানীয়রা। ডিএনসির সিপাহি খাইরুল ইসলাম এক তরুণীর ফোন থেকে নম্বর সংগ্রহ করে বৃহস্পতিবার দিবাগত গভীর রাতে তাঁকে ফোন করেন বলেও অভিযোগ উঠেছে।
ওই তরুণীর দাবি, ফোনে খাইরুল জানান, ঘটনাস্থলে উত্তেজনার সৃষ্টি হওয়া তরুণীকে তাঁর পছন্দ হয়েছে এবং তাঁর ফোন নম্বর প্রয়োজন। নম্বর না দিলে পরদিন সকালে তাঁদের বাড়িতে মাদকবিরোধী অভিযান চালানোর কথাও বলা হয় বলে অভিযোগ করেন তিনি।
অভিযানে নেতৃত্ব দেন ডিএনসি গৌরনদী সার্কেলের উপপরিদর্শক (এসআই) মো. ফাইজুল ইসলাম হাওলাদার। তাঁর সঙ্গে সিপাহি খাইরুল ইসলাম, রুবেল হোসেন, ফয়সাল হোসেনসহ আরও কয়েকজন সদস্য ছিলেন।
এসআই ফাইজুল ইসলাম বলেন, কামরুজ্জামান কালুর বাড়িতে তল্লাশি চালিয়ে কোনো মাদকদ্রব্য পাওয়া যায়নি। তাঁর ভাষায়, “আমরা সেখানে একটি নিষ্ফল অভিযান করেছি।”
তবে ১৫ হাজার টাকা নেওয়া এবং আগের দুই দফায় ১ লাখ ১০ হাজার টাকা আদায়ের অভিযোগ তিনি অস্বীকার করেন। অন্যদিকে, সিপাহি খাইরুলের বিরুদ্ধে তরুণীর ফোন নম্বর চেয়ে গভীর রাতে যোগাযোগের অভিযোগ প্রসঙ্গে তিনি বলেন, এ ধরনের আচরণ সত্যিই ঘৃণ্য। বিষয়টি খোঁজ নিয়ে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
বরিশাল ডিএনসির উপপরিচালক মো. তানভীর হোসেন খান বলেন, গৌরনদী সার্কেলের একটি অভিযানের বিষয়ে তিনি জানেন। তবে সেটি উজিরপুরে হয়েছিল কি না, তা নিশ্চিত নন। অভিযোগগুলো খতিয়ে দেখে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলেও জানান তিনি।
স্থানীয়দের দাবি, এসআই ফাইজুল ইসলাম হাওলাদার প্রায় সাত বছর ধরে গৌরনদী সার্কেলে দায়িত্ব পালন করছেন। তাঁর নেতৃত্বাধীন দলের বিরুদ্ধে আগৈলঝাড়া ও উজিরপুরের বিভিন্ন এলাকায় অভিযানকে কেন্দ্র করে হয়রানি ও অর্থ আদায়ের অভিযোগও রয়েছে।
ভুক্তভোগী পরিবার এসব অভিযোগের সুষ্ঠু তদন্ত এবং দায়ীদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছে।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) নতুন পুনর্গঠিত কমিটি নিয়ে প্রধানমন্ত্রীর রাজনৈতিক সহকারী রাশেদ খান তীব্র সমালোচনা করেছেন। তিনি অভিযোগ করেছেন যে, নতুন কমিটি গঠন এবং গুরুত্বপূর্ণ পদ বণ্টনের মাধ্যমে দলটির স্বতন্ত্র রাজনৈতিক অবস্থান ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। রাশেদ খান দাবি করেছেন যে, জামায়াতের অনুমোদনেই এনসিপির নতুন কমিটি গঠিত হয়েছে।
শুক্রবার (২৩ অক্টোবর) তিনি নিজের ফেসবুক পোস্টে এসব মন্তব্য করেন। পোস্টে তিনি উল্লেখ করেন, ‘অনেক আশা জাগিয়ে নতুন বন্দোবস্তের স্বপ্ন দেখানো এনসিপির কোনো ধরনের কাউন্সিল ছাড়াই নতুন কমিটি হয়েছে। যারা সারাদিন গণতন্ত্রের বুলি আওড়ায় ও বিএনপির রাজনীতি নিয়ে প্রশ্ন তোলে, তারা একটি কাউন্সিল পর্যন্ত করে কমিটি দিতে পারল না, এর থেকে বড় লজ্জা আর কী হতে পারে? এর মাধ্যমে এনসিপির সাংগঠনিক দুর্বলতার ও নেতৃত্ব কুক্ষিগত করার চরিত্রের বহিঃপ্রকাশ ঘটেছে।’
নতুন কমিটি গঠনে জামায়াতের প্রভাব রয়েছে বলে তিনি দাবি করেছেন। রাশেদ খান বলেন, ‘যতটুকু তথ্য পেয়েছি, জামায়াতের অনুমোদনে এনসিপির এই নতুন কমিটি হয়েছে। অর্থাৎ জামায়াত যাদের গুরুত্বপূর্ণ পদে চায়নি, কমিটিতে তাদের অগুরুত্বপূর্ণ জায়গায় রাখা হয়েছে। বিশেষ করে এনসিপির মধ্যে যারা স্বতন্ত্র রাজনীতির স্বপ্ন দেখে কিংবা জামায়াতবিরোধী, কমিটিতে তাদের পদাবনতি হয়েছে। আর ছাগলচোর, ল্যাপটপ চোর, নারী ও আর্থিক কেলেঙ্কারির সঙ্গে জড়িত এবং জুলাই গণঅভ্যুত্থানে বিতর্কিত ব্যক্তিদের শীর্ষ পদে আসীন করা হয়েছে।’
এনসিপির নতুন কমিটিকে জামায়াতের যুব শাখার সঙ্গে তুলনা করে তিনি আরও লিখেছেন, ‘সব মিলিয়ে এনসিপির নতুন কমিটি জামায়াতের যুব শাখা রূপে আবির্ভূত হয়েছে বলে বঞ্চিতদের একধরনের অভিযোগ রয়েছে।’
এনসিপির গঠনতন্ত্রের প্রসঙ্গ টেনে রাশেদ খান বলেন, ‘এনসিপির গঠনতন্ত্র অনুযায়ী দুইবারের বেশি কেউ সভাপতি-সাধারণ সম্পাদক হতে পারবেন না! দেখা যাক, নাহিদ ইসলাম ও আখতার হোসেনের এই মেয়াদই শেষ মেয়াদ হয় কি না! নাকি নতুন বন্দোবস্তের নামে নতুন ভণ্ডবস্তের পথেই এগোবে এনসিপি!’
নতুন রাজনৈতিক বন্দোবস্তের স্বপ্ন দেখিয়ে গড়ে ওঠা এনসিপি আওয়ামী লীগের রাজনৈতিক শূন্যতা পূরণ করতে পারত বলে মনে করেন রাশেদ খান। তার ভাষ্য, ‘আজকে যদি এনসিপি গণঅভ্যুত্থানের স্বপ্ন ধারণ করে নতুন ধারার রাজনীতি উপহার দিতে পারত, তাহলে আওয়ামী শূন্যতা পূরণের জন্য এনসিপিকে সবাই সাধুবাদ জানাতো। দুঃখের বিষয়, নতুন কমিটির ফরম্যাট দেখে মনে হলো, কিছু আসন ও আসনপ্রতি নির্বাচনী খরচের বিনিময়ে এনসিপি পুরোপুরি জামায়াতের কাছে বিক্রি হয়ে গেল! বাংলাদেশে এনসিপির আর কোনো স্বতন্ত্র রাজনীতি করার ন্যূনতম সুযোগ রইল না। এনসিপিকে বর্তমানে প্রক্সি জামায়াত পার্টি বলেও আর ভুল হবে না।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
প্রশান্ত মহাসাগরে সৃষ্টি হওয়া শক্তিশালী ঘূর্ণিঝড় চাম্পির কারণে তাইওয়ান প্রায় অচল হয়ে পড়েছে। শুক্রবার (২৩ অক্টোবর) ঝড়ের প্রভাবে দ্বীপজুড়ে শুরু হয় প্রবল বাতাস ও মুষলধারে বৃষ্টি। পরিস্থিতি মোকাবিলার জন্য আর্থিক বাজারসহ বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান বন্ধ রাখা হয়েছে। প্রায় এক হাজার অভ্যন্তরীণ ও আন্তর্জাতিক ফ্লাইট বাতিল করা হয়েছে। ঝড়ের কারণে একজনের মৃত্যু হয়েছে এবং ১৬৩ জন আহত হয়েছেন।
বার্তা সংস্থা রয়টার্সের প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে, চলতি বছরে প্রশান্ত মহাসাগরে আঘাত হানা শক্তিশালী ঝড়গুলোর মধ্যে চাম্পি অন্যতম। এক পর্যায়ে এটি সুপার টাইফুনে পরিণত হয়েছিল। যদিও ঝড়টি দুর্বল হয়ে এসেছে, তথাপি এর কেন্দ্রে বাতাসের গতিবেগ ঘণ্টায় প্রায় ১৯১ কিলোমিটার পর্যন্ত উঠছে বলে জানিয়েছেন তাইওয়ানের কেন্দ্রীয় আবহাওয়া প্রশাসন (সিডব্লিউএ)।
সিডব্লিউএর তথ্য অনুযায়ী, শুক্রবার ঝড়টির অবস্থান ছিল তাইওয়ানের পূর্ব উপকূল থেকে প্রায় ১৭০ কিলোমিটার দূরে। পূর্বাভাসে বলা হয়েছে, এটি শুক্রবার রাতে তাইওয়ানের উত্তর-পূর্ব উপকূলের কাছ দিয়ে অতিক্রম করে চীনের উপকূলের দিকে উত্তরমুখী হতে পারে। পরবর্তীতে এটি দক্ষিণ জাপানের দিকে এগিয়ে যাওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।
প্রবল বাতাস ও ভারী বৃষ্টির কারণে তাইওয়ানে একজনের মৃত্যু এবং ১৬৩ জন আহত হয়েছেন। পূর্বে আহতের সংখ্যা ১৭১ বলা হলেও পরে তা সংশোধন করা হয়। সরকার জানিয়েছে, পাহাড়ি এলাকা থেকে ২ হাজার ৬৩৯ জনকে নিরাপদ স্থানে সরিয়ে নেওয়া হয়েছে।
বিদ্যুৎ সরবরাহকারী প্রতিষ্ঠান তাইপাওয়ার জানিয়েছে, ঝড়ের কারণে ৭৭ হাজারের বেশি বাড়িতে বিদ্যুৎ বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়ে। তবে বেশিরভাগ এলাকায় বিদ্যুৎ সরবরাহ পুনরায় চালু করা হয়েছে।
বিশ্বের বৃহত্তম চুক্তিভিত্তিক চিপ নির্মাতা প্রতিষ্ঠান টিএসএমসি জানিয়েছে, তাদের কার্যক্রম স্বাভাবিক রয়েছে এবং ঝড়ের কারণে উল্লেখযোগ্য কোনো প্রভাব পড়েনি।
তাইওয়ানের আবহাওয়াবিদ লিউ পেই-তেং রয়টার্সকে জানিয়েছেন, ঝড়টি যদি তাইওয়ানের কাছে এসে থেমে যায়, ঘুরপাক খেলে কিংবা দিক পরিবর্তন করে, তবে সরাসরি স্থলভাগে আঘাত হানার আশঙ্কা উড়িয়ে দেওয়া যায় না।
তিনি আরও বলেন, সাম্প্রতিক বছরগুলোর বড় ঝড়গুলোর মধ্যে চাম্পির বাতাসের বিস্তৃতি অন্যতম। ঝড়টির গতি কমে গেলে তাইওয়ানে দীর্ঘ সময় ধরে প্রবল বাতাসের প্রভাব থাকতে পারে।
উপকূলীয় শহরগুলোতে মোবাইল ফোনে সতর্কবার্তা পাঠানো হয়েছে। এতে ঘণ্টায় ১৫০ কিলোমিটারের বেশি গতির দমকা বাতাসের আশঙ্কার কথা জানিয়ে বাসিন্দাদের দ্রুত নিরাপদ আশ্রয়ে যেতে বলা হয়েছে। এ ছাড়া তাইপেইয়ের আশপাশসহ উত্তরাঞ্চলের পাহাড়ি এলাকায় প্রায় এক মিটার বৃষ্টিপাতের পূর্বাভাস দেওয়া হয়েছে।
উত্তর-পূর্বাঞ্চলীয় ইলান কাউন্টিতে বাতাসের গতি ও বৃষ্টিপাত বাড়তে থাকায় কর্তৃপক্ষ বালুর বস্তা বিতরণ করেছে। পাশাপাশি উভচর যান ও ফোলানো যায় এমন উদ্ধারকারী নৌকা প্রস্তুত রাখা হয়েছে।
সুয়াও বন্দর শহরের প্রধান লি মিং-চেন জানিয়েছেন, প্রয়োজন হলে সেনাবাহিনীকে উদ্ধারকাজে যুক্ত করা হবে। মানুষকে নিরাপদে সরিয়ে নেওয়া এবং দুর্যোগ মোকাবিলায় উভচর যান ব্যবহার করা হতে পারে।
অন্যদিকে, উত্তরের বন্দরনগরী কিলুংয়ে নৌকার মালিকেরা নিজেদের নৌযান নিরাপদে বাঁধার কাজে ব্যস্ত ছিলেন। স্থানীয় বাসিন্দা ১৮ বছর বয়সী নির্মাণশ্রমিক লিউ ইউ-এন জানিয়েছেন, ঝড় খুব বেশি ভয়াবহ মনে না হলেও তিনি বন্যার আশঙ্কা করছেন। চলতি বছর কিলুংয়ে একাধিকবার বন্যা হয়েছে বলেও তিনি জানান।
তাইওয়ানের আবহাওয়াবিদদের হিসাব অনুযায়ী, চাম্পির বাতাসের বিস্তৃতি প্রায় ৩২০ কিলোমিটার। ফলে ঝড়টি দ্বীপটির অধিকাংশ এলাকা প্রভাবিত করতে পারে। আবহাওয়াবিশেষজ্ঞদের ধারণা, এর প্রভাব প্রায় দুই দিন স্থায়ী হতে পারে।
ঝড়ের কারণে শুক্রবার তাইওয়ানের আর্থিক বাজারও বন্ধ রাখা হয়েছে। তবে চীনের উপকূলের কাছাকাছি অবস্থিত তাইওয়ান-নিয়ন্ত্রিত কিনমেন দ্বীপপুঞ্জে স্কুল ও সরকারি-বেসরকারি অফিস স্বাভাবিকভাবে খোলা ছিল।
পরিবহন মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, শুক্রবার সব ২৬২টি অভ্যন্তরীণ ফ্লাইট বাতিল করা হয়েছে। পাশাপাশি বাতিল হয়েছে ৭১৭টি আন্তর্জাতিক ফ্লাইট। তবে উত্তর থেকে দক্ষিণে চলাচলকারী উচ্চগতির রেলসেবা স্বাভাবিক ছিল।
রাজধানী তাইপেইয়ে দমকা হাওয়ার সঙ্গে বৃষ্টি হলেও মেট্রোরেলসহ গণপরিবহন সীমিত পরিসরে চালু ছিল।
ঘূর্ণিঝড় মোকাবিলায় তাইওয়ান সাধারণত ভালো প্রস্তুতি নিয়ে থাকে। এর ফলে প্রাণহানির সংখ্যা তুলনামূলক কম রাখা সম্ভব হয়। গ্রীষ্মকালে এ ধরনের ঝড় বেশি দেখা গেলেও শরৎকালেও ঘূর্ণিঝড় আঘাত হানতে পারে।
পূর্বাভাস অনুযায়ী, চাম্পি প্রথমে জাপানের ওকিনাওয়া অঞ্চলের সবচেয়ে পশ্চিমে অবস্থিত জনবসতিপূর্ণ দ্বীপ ইয়োনাগুনির ওপর দিয়ে অতিক্রম করতে পারে। এরপর ঝড়টির গতিপথ ও শক্তির পরিবর্তনের ওপর নির্ভর করবে পরবর্তী পরিস্থিতি।
সূত্র: রয়টার্স
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প এবং রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিনের মধ্যে সম্প্রতি সম্পন্ন হওয়া একটি জ্বালানি চুক্তির পর, রাশিয়ার ডিজেলবাহী একটি জাহাজ যুক্তরাষ্ট্রের বন্দরের দিকে যাত্রা শুরু করেছে। জাহাজের ট্র্যাকিং ডাটা অনুযায়ী, এই চালানের মাধ্যমে দীর্ঘদিনের সরাসরি জ্বালানি সরবরাহের সূচনা হচ্ছে। মার্কিন প্রশাসনের উদ্যোগের অংশ হিসেবে বিশ্ববাজারে জ্বালানি সরবরাহ বৃদ্ধি করার লক্ষ্যে এই পদক্ষেপ গ্রহণ করা হয়েছে।
শিপিং ট্র্যাকিং প্রতিষ্ঠান 'কেপলার' (Kpler)-এর তথ্য অনুযায়ী, মল্টার পতাকাবাহী 'আজিওই ফানেনদেস' (Agioi Fanendes) নামের ট্যাঙ্কারটি গত বৃহস্পতিবার রাশিয়ার প্রিমোরস্ক বন্দর থেকে প্রায় ৪০,০০০ মেট্রিক টন (প্রায় ৩ লাখ ব্যারেল) আল্ট্রা-লো-সালফার ডিজেল লোড করে বের হয়েছে।
শুরুতে জাহাজটি নিজের গন্তব্য 'নিউ ইয়র্ক' হিসেবে সিগন্যাল পাঠিয়েছিল, কিন্তু পরে তা পরিবর্তন করে "ফর অর্ডার্স" (for orders) স্ট্যাটাসে রূপান্তরিত হয়েছে। সাধারণত, যখন কোনো জাহাজের চূড়ান্ত খালাস বন্দর এখনো নির্ধারিত থাকে না, তখন এ ধরনের সিগন্যাল ব্যবহার করা হয়। জাহাজটির সম্ভাব্য পৌঁছানোর তারিখ আগামী ৭ নভেম্বর নির্ধারণ করা হয়েছে।
ক্রেমলিনের মুখপাত্র দিমিত্রি পেসকভ জানিয়েছেন, ক্রেতাদের উদ্দেশ্যে প্রথম ট্যাংকারটি ইতিমধ্যেই রওনা হয়েছে এবং ভবিষ্যতে নিয়মিত এই সরবরাহ অব্যাহত থাকবে। এর আগে, ৯ অক্টোবর মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প রাশিয়ার সাথে ডিজেল সরবরাহের বিষয়ে একটি সমঝোতায় পৌঁছানোর ঘোষণা দিয়েছিলেন।
বিশ্লেষকদের মতে, এই চুক্তিটি রাশিয়াকে জ্বালানি তেল রপ্তানির নতুন বাজার খুঁজে পেতে সহায়তা করবে, অন্যদিকে যুক্তরাষ্ট্র অভ্যন্তরীণ বাজারে ডিজেলের ক্রমবর্ধমান দামের চাপ কমাতে এবং সরবরাহ বাড়াতে সচেষ্ট রয়েছে। বর্তমানে মার্কিন বাজারে জ্বালানির উচ্চ মূল্য একটি বড় রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক উদ্বেগের বিষয় হয়ে দাঁড়িয়েছে।
চুক্তি ঘোষণার পর মার্কিন ট্রেজারি ডিপার্টমেন্ট একটি সাময়িক লাইসেন্স ইস্যু করেছে। ২০২৭ সালের ৭ এপ্রিল পর্যন্ত কার্যকর এই লাইসেন্সের অধীনে রুশ ডিজেল বিক্রি, ডেলিভারি, খালাস এবং আমদানির ওপর থেকে নিষেধাজ্ঞা শিথিল করা হয়েছে।
প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের পরিকল্পনা অনুযায়ী, প্রথম ধাপে ৩ লাখ টন, নভেম্বরে ৫ লাখ টন এবং পরবর্তীতে আরও ১০ লাখ টন ডিজেল রপ্তানি করার লক্ষ্যমাত্রা রয়েছে। তবে এই সরবরাহের গতি সম্পূর্ণরূপে মস্কোর জ্বালানি সরবরাহ বজায় রাখার সক্ষমতা এবং প্রয়োজনীয় বাণিজ্যিক ও আর্থিক ব্যবস্থাপনা ঠিক রাখার ওপর নির্ভর করবে।
উল্লেখ্য, ২০২২ সাল থেকে ওয়াশিংটনের কঠোর নিষেধাজ্ঞার কারণে মার্কিন বাজারে সরাসরি রুশ ডিজেল আমদানি বন্ধ ছিল। বর্তমান এই নতুন উদ্যোগ বিশ্ব অর্থনীতি ও জ্বালানি বাজারে বড় ধরনের প্রভাব ফেলতে পারে বলে বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন। সূত্র: কেপলার।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
চলমান সংঘাতের অবসান ঘটানোর লক্ষ্যে বহুল প্রতীক্ষিত ত্রিপক্ষীয় শান্তি আলোচনার উদ্যোগ গ্রহণ করা হয়েছে। রাশিয়ার দীর্ঘদিনের সামরিক আগ্রাসন শুরু হওয়ার পর এই প্রথম যুক্তরাষ্ট্র, রাশিয়া এবং ইউক্রেনের অংশগ্রহণে একটি ত্রিপক্ষীয় বৈঠক অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে। আগামী নভেম্বরের প্রথমার্ধে সংযুক্ত আরব আমিরাতের (ইউএই) আবুধাবিতে এই বৈঠক অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা রয়েছে, যা ক্রেমলিন নিশ্চিত করেছে।
স্থানীয় সময় শুক্রবার (২৩ অক্টোবর) ক্রেমলিনের মুখপাত্র দিমিত্রি পেসকভ সাংবাদিকদের জানান, সেন্ট পিটার্সবার্গে মার্কিন বিশেষ দূত স্টিভ উইটকফের সঙ্গে রুশ প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিনের বৈঠকের পর এই নতুন কূটনৈতিক উদ্যোগের পথ উন্মুক্ত হয়েছে। চলতি বছরের শুরুর দিকে মার্কিন মধ্যস্থতায় কিছু আলোচনা অনুষ্ঠিত হলেও তা থেকে উল্লেখযোগ্য অগ্রগতি আসেনি। পরবর্তীতে মার্কিন প্রশাসন অন্যান্য আন্তর্জাতিক সংঘাতে ব্যস্ত হয়ে পড়ায় আলোচনা স্থগিত হয়ে যায়।
এদিকে, গত মঙ্গলবার কিয়েভে ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কির সঙ্গে বৈঠক করেন মার্কিন দূত উইটকফ। এরপর কিয়েভের পক্ষ থেকেও যত দ্রুত সম্ভব আলোচনা পুনরায় শুরুর আশাবাদ প্রকাশ করা হয়েছিল।
বিশ্লেষকদের মতে, এবারের বৈঠকেও বড় কোনো কূটনৈতিক সাফল্যের সম্ভাবনা খুবই কম। কারণ হিসেবে বলা হচ্ছে, ইউক্রেনের বিশাল ভূখণ্ড মস্কোর হাতে ছেড়ে দেওয়া এবং ইউক্রেনের ন্যাটো (NATO) জোটে যোগ না দেওয়ার বিষয়ে নিজেদের কঠোর অবস্থান থেকে রাশিয়া এখনো সরে আসেনি। বৃহস্পতিবার রাতে এক টেলিভিশন সাক্ষাৎকারে রুশ প্রেসিডেন্ট পুতিনও পরিষ্কার জানিয়ে দিয়েছেন যে, কোনো স্বল্পমেয়াদি যুদ্ধবিরতির চেয়ে দীর্ঘমেয়াদি নিরাপত্তা বন্দোবস্ত ও চূড়ান্ত শান্তিচুক্তিই তাদের আলোচনার মূল লক্ষ্য হওয়া উচিত।
এই কূটনৈতিক উদ্যোগের পাশাপাশি বন্দি বিনিময়ের ঘটনাও ঘটেছে। শুক্রবার রুশ প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, মস্কো ও কিয়েভের মধ্যে সমঝোতার অংশ হিসেবে উভয় পক্ষ ২৭০ জন করে যুদ্ধবন্দি একে অপরকে হস্তান্তর করেছে। যুদ্ধ শুরুর পর থেকে এ ধরনের বন্দি বিনিময় অব্যাহত রয়েছে।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ