মঙ্গলবার, ২৭শে অক্টোবর, ২০২৬ ইং
১০:১৪ পি.এম
বাংলাদেশসহ ২৯টি দেশের নাগরিকদের রাশিয়ার সশস্ত্র বাহিনীতে নিয়োগের জন্য পাচার করা হয়েছে, এমন তথ্য প্রকাশ করেছে ইউক্রেনবিষয়ক জাতিসংঘের স্বাধীন আন্তর্জাতিক তদন্ত কমিশন। কমিশন জানিয়েছে, বিদেশি নাগরিকদের রুশ বাহিনীতে নিয়োগের ক্ষেত্রে প্রতারণা ও জবরদস্তির প্রমাণ পাওয়া গেছে। অনেককে ইউক্রেনের যুদ্ধক্ষেত্রে পাঠানো হয়েছে, যার মধ্যে কেউ নিহত, আহত, বন্দি কিংবা নিখোঁজ হয়েছেন।
গত সোমবার জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদের ৮১তম অধিবেশনে উপস্থাপনের জন্য প্রস্তুত প্রতিবেদনে এই বিষয়গুলো তুলে ধরা হয়েছে। কমিশন ৪৮টি দেশের নাগরিকদের রুশ বাহিনীতে নিয়োগের ঘটনা তদন্ত করে ২৯টি দেশের নাগরিকদের ক্ষেত্রে প্রতারণা বা জবরদস্তির প্রমাণ পেয়েছে। এই দেশের মধ্যে বাংলাদেশ ছাড়াও ভারত, শ্রীলঙ্কা, নেপাল, ফিলিপিন্স, ঘানা, নাইজেরিয়া, কেনিয়া ও উজবেকিস্তান অন্তর্ভুক্ত রয়েছে।
প্রতিবেদন অনুযায়ী, ভুক্তভোগী পুরুষদের বয়স ১৮ থেকে ৬০ বছরের মধ্যে। তাদের অধিকাংশই অর্থনৈতিকভাবে অসচ্ছল এবং সীমিত শিক্ষার সুযোগ পাওয়া মানুষ। আর্থিক দুর্বলতার সুযোগ নিয়ে নিরাপত্তাকর্মী, গাড়িচালক, নির্মাণশ্রমিক, মেকানিকসহ বিভিন্ন পেশায় আকর্ষণীয় বেতনের চাকরির প্রস্তাব দেওয়া হয়। পরে রাশিয়ায় পৌঁছালে অনেককে দেশটির প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের সঙ্গে সামরিক চুক্তিতে স্বাক্ষর করতে বাধ্য করা হয়। চুক্তি রুশ ভাষায় হওয়ায় অনেকে শর্ত বুঝতে পারেননি। কারো কারো পাসপোর্ট ও মুঠোফোন কেড়ে নেওয়া হয়।
বাংলাদেশি নাগরিকদের ক্ষেত্রে রাশিয়ায় যাওয়ার জন্য ব্যবহৃত কয়েকটি ব্যবসায়িক ভিসার অনুলিপি সংগ্রহের কথা জানিয়েছে কমিশন। এসব ভিসায় রাশিয়ার একটি বেসামরিক প্রতিষ্ঠান বাংলাদেশিদের আমন্ত্রণ জানিয়েছিল। তবে কমিশনের সামগ্রিক অনুসন্ধানে দেখা গেছে, বেসামরিক চাকরির প্রলোভনের আড়ালে বিদেশি নাগরিকদের রুশ সামরিক বাহিনীতে নিয়োগ করা হয়েছে।
প্রতিবেদনে এক বাংলাদেশির স্ত্রীর বক্তব্যও তুলে ধরা হয়েছে। তিনি জানান, তার স্বামীর পাসপোর্ট নিয়ে তাকে শুধুমাত্র রুশ ভাষায় লেখা চুক্তির বিভিন্ন জায়গায় স্বাক্ষর করতে বলা হয়েছিল। তার স্বামী প্রচণ্ড চাপের মুখে পড়েছিলেন এবং সামনে কার্যত কোনো বিকল্প ছিল না।
কমিশন এসব ঘটনায় রাশিয়ার কর্তৃপক্ষের মানবপাচার ও অন্যান্য মানবাধিকার লঙ্ঘনের বিষয়টি চিহ্নিত করেছে। রাশিয়ার প্রতি আহ্বান জানানো হয়েছে, যাতে এ ধরনের নিয়োগ বন্ধ করা হয়, পাচারের শিকার ব্যক্তিদের সামরিক বাহিনী থেকে অব্যাহতি দেওয়া হয় এবং জড়িত ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে তদন্ত ও বিচার নিশ্চিত করা হয়।
সাড়ে আট হাজার বাংলাদেশির অবস্থান খোঁজার তাগিদ
রাশিয়ার যুদ্ধে বাংলাদেশিদের নিয়োগের বিষয়ে গত বছরই সতর্ক করেছিল ব্র্যাক। সংস্থাটির মাইগ্রেশন প্রোগ্রামের সহযোগী পরিচালক শরিফুল ইসলাম হাসান বলেন, কাজের প্রলোভন দেখিয়ে বাংলাদেশিদের রাশিয়ায় নিয়ে যাওয়ার পর যুদ্ধে নিয়োগের ঘটনা ঘটেছে। তাদের মধ্যে কেউ কাজের ভিসায়, আবার কেউ পর্যটক ভিসায় সেখানে গিয়েছিলেন। জাতিসংঘের সাম্প্রতিক প্রতিবেদনেও এসব তথ্য উঠে এসেছে।
তিনি বলেন, নতুন করে কোনো বাংলাদেশি যেন রাশিয়ার যুদ্ধে জড়িয়ে না পড়েন, তা নিশ্চিত করতে সরকারের জরুরি পদক্ষেপ নেওয়া প্রয়োজন। পাশাপাশি গত দুই বছরে বৈধভাবে রাশিয়ায় যাওয়া প্রায় সাড়ে আট হাজার বাংলাদেশির বর্তমান অবস্থান খতিয়ে দেখা দরকার। তাদের মধ্যে কতজন এখনো সেখানে কাজ করছেন, কতজন যুদ্ধে জড়িয়েছেন এবং কতজন বেঁচে আছেন, তা জানতে বিস্তারিত অনুসন্ধান প্রয়োজন।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
জাপান বাংলাদেশে টেক সিটি গড়ে তোলার জন্য আগ্রহ প্রকাশ করেছে, এমনটি জানিয়েছেন পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী হুমায়ুন কবির।
মঙ্গলবার (২৭ অক্টোবর) টোকিওতে অবস্থিত বাংলাদেশ দূতাবাসে প্রধানমন্ত্রী সফর সংক্রান্ত একটি সংবাদ সম্মেলনে তিনি এই তথ্য তুলে ধরেন।
প্রতিমন্ত্রী উল্লেখ করেন, ‘প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান জাপানের প্রধানমন্ত্রী সানায়ে তাকাইচির সঙ্গে ফলপ্রসূ বৈঠক করেছেন। দুদেশের সম্পর্ক উন্নয়নের জন্য দ্বিপাক্ষিক আলোচনা অনুষ্ঠিত হয়েছে।’
তিনি আরও বলেন, ‘জাপানের প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানকে আমন্ত্রণ জানিয়েছেন বাংলাদেশে বিনিয়োগের আগ্রহ থেকেই। জাপান বাংলাদেশে টেক সিটি গড়ে তোলার জন্য আগ্রহী।’
হুমায়ুন কবির জানান, ‘বৈঠকে তারেক রহমান জাতীয় স্বার্থকে গুরুত্ব দিয়েছেন। প্রধানমন্ত্রীর মূল লক্ষ্য হচ্ছে বিনিয়োগের দ্বার উন্মোচন করা। বর্তমানে বাংলাদেশে বিনিয়োগের জন্য অনেকের আগ্রহ দেখা যাচ্ছে।’
বাংলাদেশ এলএনজি টার্মিনাল স্থাপন করতে চায় বলেও তিনি উল্লেখ করেন, ‘এজন্য প্রধানমন্ত্রী এখানে এলএনজি টার্মিনাল পরিদর্শন করেছেন।’
সম্মেলনে প্রধানমন্ত্রীর অতিরিক্ত প্রেস সচিব আতিকুর রহমান রুমন বলেন, ‘প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান দেশের স্বার্থে জাপানে এসেছেন। অতীতে সব প্রতিষ্ঠান নষ্ট করা হয়েছে। সেসব প্রতিষ্ঠান পুনর্গঠন করতে প্রধানমন্ত্রী চেষ্টা করছেন।’
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
ইসরাইলের জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ভোটারদের উপস্থিতি একটি অভাবনীয় রেকর্ড স্পর্শ করার পথে রয়েছে। দেশটির সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুর প্রাক্তন সহকারী এবং ভোট বিশ্লেষক মিচেল বারাক পশ্চিম জেরুজালেম থেকে আল জাজিরাকে জানিয়েছেন, ভোটারদের উপস্থিতির হার অত্যন্ত বেশি, যা একটি ইতিবাচক দিক হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে। তার মতে, এবারের ভোটের হার ১৯৭৩ সালের ঐতিহাসিক রেকর্ডকেও ছাড়িয়ে যেতে পারে। ওই বছর ইসরাইল একটি বড় ধরনের যুদ্ধে জড়িয়ে পড়েছিল।
নির্বাচন কমিশনের তথ্য উদ্ধৃত করে স্থানীয় গণমাধ্যম জানাচ্ছে, দুপুর ২টা পর্যন্ত ৪৪.৯ শতাংশ ভোট পড়েছে। কেন্দ্রীয় নির্বাচন কমিশনের ভারপ্রাপ্ত মহাপরিচালক ডিন লিভনে মন্তব্য করেছেন, ১৯৭৩ সালের পর দেশে আর কখনোই এমন বিপুল ভোটারের উপস্থিতি দেখা যায়নি। তুলনামূলকভাবে, ২০২২ সালের নির্বাচনে এই একই সময়ে ভোটের হার ছিল ৩৮.৯ শতাংশ।
এই উচ্চমাত্রার উপস্থিতি ক্ষমতাসীন দলগুলোর পাশাপাশি ছোট দলগুলোর জন্য একটি বড় ধরনের প্রভাব ফেলবে। কারণ পার্লামেন্টে (নেসেট) প্রবেশের জন্য প্রয়োজনীয় ৩.২৫ শতাংশ ভোট প্রাপ্তির শর্তটি পূরণ করতে এখন আগের চেয়ে অনেক বেশি একক ভোটের প্রয়োজন হবে।
অন্যান্য সাধারণ ভোটারের পাশাপাশি সামরিক বাহিনীর সদস্যদের মধ্যে ব্যাপক উৎসাহ দেখা গেছে। ইসরাইলি সামরিক বাহিনীর তথ্য অনুযায়ী, দুপুর ১টা পর্যন্ত সেনাসদস্যদের ভোটের হার দাঁড়িয়েছে ৪৮ শতাংশে, যা ২০২২ সালের একই সময়ের ৪৪.৪ শতাংশের চেয়ে বেশি। সেনা সদস্যদের সুবিধার্থে এক সপ্তাহ আগেই দেশটির ভেতরের ও বাইরের বিভিন্ন ঘাঁটিতে ৮৫০টি ভোটকেন্দ্র স্থাপন করে ভোটগ্রহণ শুরু করা হয়েছিল।
ভোটারদের মানসিকতা নিয়ে বিশ্লেষক বারাক উল্লেখ করেছেন, বর্তমানে বেশিরভাগ ভোটারই দেশের নিরাপত্তা ব্যবস্থা এবং পরিবর্তন নিয়ে ভাবছেন। বিরোধী দলগুলোর পাশাপাশি সাবেক ডানপন্থী জেনারেল ওফের উইন্টার-এর ‘আমচা ইসরাইল’ এবং ‘হামিলুইমনিকিম’ (রিজার্ভিস্ট পার্টি)-র মতো নতুন রাজনৈতিক দলগুলো এই নির্বাচনে নির্ধারক বা ‘কিংমেকার’ ভূমিকা পালন করতে পারে।
সূত্র: আল-জাজিরা
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
টোকিও, ২৭ অক্টোবর, ২০২৬: পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী হুমায়ুন কবীর জানিয়েছেন, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান জাপানের প্রধানমন্ত্রী সানায়ে তাকাইচির সঙ্গে অনুষ্ঠিত দ্বিপক্ষীয় শীর্ষ বৈঠকে বাংলাদেশের জাতীয় স্বার্থকে গুরুত্ব দিয়ে জাপানের সঙ্গে বিভিন্ন উন্নয়ন প্রকল্প বাস্তবায়ন ও সম্পর্ক উন্নয়নে জোর দিয়েছেন।
তিনি উল্লেখ করেন, বাংলাদেশ ও জাপানের মধ্যে বাণিজ্য, বিনিয়োগ এবং অর্থনৈতিক সহযোগিতা জোরদারের পাশাপাশি কর্মসংস্থান সৃষ্টিতে সক্ষম শিল্প ও কৌশলগত অর্থনৈতিক প্রকল্পগুলো এগিয়ে নেওয়ার বিষয়ে আলোচনা হয়েছে। প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সঙ্গে বৈঠকে এসব বিষয় নিয়ে আলোচনা হয়েছে।
আজ মঙ্গলবার স্থানীয় সময় রাতে টোকিওতে বাংলাদেশ দূতাবাসে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী এসব তথ্য তুলে ধরেন।
হুমায়ুন কবীর জানান, বাংলাদেশের বিভিন্ন খাতে জাপানি বিনিয়োগ বৃদ্ধির জন্য আলোচনা হয়েছে। বিশেষ করে কর্মসংস্থান সৃষ্টিতে সক্ষম শিল্প খাতের প্রকল্পগুলোকে অগ্রাধিকার দেওয়ার ওপর প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান গুরুত্ব আরোপ করেছেন।
তিনি বলেন, জাপানের বেসরকারি খাত আগামী পাঁচ বছরে বাংলাদেশে প্রায় ৬ দশমিক ৩৪ বিলিয়ন মার্কিন ডলার বিনিয়োগের পরিকল্পনা করছে। এসব বিনিয়োগের মাধ্যমে দেশে প্রায় দুই লাখ কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি হতে পারে।
পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী আরও বলেন, বাংলাদেশ-জাপান অর্থনৈতিক অংশীদারত্ব চুক্তি (ইপিএ) দ্রুত কার্যকর করার বিষয়ে আলোচনা হয়েছে। একই সঙ্গে স্বল্পোন্নত দেশ (এলডিসি) থেকে বাংলাদেশের উত্তরণ মসৃণ ও টেকসই করতে জাপানের সহযোগিতা চাওয়া হয়েছে।
তিনি উল্লেখ করেন, কোভিড-১৯ মহামারির প্রভাব, দীর্ঘদিনের অর্থনৈতিক চ্যালেঞ্জ এবং সাম্প্রতিক বৈশ্বিক জ্বালানি সংকটের প্রেক্ষাপটে বাংলাদেশ এলডিসি উত্তরণের প্রস্তুতির জন্য অতিরিক্ত তিন বছর সময় চেয়েছে। এ বিষয়ে গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করতে জাপানের প্রতি আহ্বান জানানো হয়েছে।
হুমায়ুন কবীর জানান, দ্বিপক্ষীয় সহযোগিতার অগ্রগতি ত্বরান্বিত করতে মন্ত্রী পর্যায়ে একটি যৌথ প্রক্রিয়া গড়ে তোলা, অগ্রাধিকারভিত্তিক খাত নির্ধারণ, সুনির্দিষ্ট সময়সীমা ঠিক করা এবং নিয়মিত অগ্রগতি পর্যালোচনার বিষয়েও আলোচনা হয়েছে।
পাশাপাশি দুই দেশের বেসরকারি খাতের মধ্যে সহযোগিতা বাড়ানোর ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। তিনি বলেন, বাংলাদেশের জ্বালানি খাতে বিনিয়োগ, প্রযুক্তিনির্ভর শিল্পনগরী গড়ে তোলা এবং বিভিন্ন স্থানে এলিভেটেড এক্সপ্রেসওয়ে নির্মাণসহ অবকাঠামো উন্নয়নের প্রকল্পে জাপানের আগ্রহ রয়েছে।
জাপানের কাছ থেকে উন্নয়ন সহযোগিতা হিসেবে ৫০০ কোটি ইয়েন বা প্রায় ৩ কোটি ৪০ লাখ মার্কিন ডলারের সহায়তার বিষয়টিও উল্লেখ করেন পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী।
প্রধানমন্ত্রীর জাপান সফরকে বিনিয়োগের নতুন সুযোগ সৃষ্টি ও দ্বিপক্ষীয় অর্থনৈতিক সম্পর্ক জোরদারের ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ উল্লেখ করে হুমায়ুন কবীর বলেন, বাংলাদেশের নতুন গণতান্ত্রিক যাত্রার প্রেক্ষাপটে দেশটিতে বিনিয়োগের ব্যাপারে আন্তর্জাতিক অংশীদারদের আগ্রহ বাড়ছে।
এই সফরের অন্যতম লক্ষ্য হলো সেই আগ্রহকে বাস্তব বিনিয়োগে রূপ দেওয়া উল্লেখ করে তিনি বলেন, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সফরকালে জাপানের জ্বালানি অবকাঠামো ও লজিস্টিক ব্যবস্থাপনা পরিদর্শনের মাধ্যমে বাংলাদেশের উন্নয়ন পরিকল্পনার জন্য অভিজ্ঞতা অর্জনের সুযোগ হয়েছে।
বিশেষ করে এলএনজি টার্মিনাল স্থাপন এবং আধুনিক লজিস্টিক ব্যবস্থাপনায় জাপানের অভিজ্ঞতা কাজে লাগানোর বিষয়ে আগ্রহ প্রকাশ করা হয়েছে।
জাপানে অধ্যয়নরত বাংলাদেশি শিক্ষার্থীদের ভাষাগত দক্ষতা ও কর্মসংস্থানের সুযোগ নিয়ে এক প্রশ্নের জবাবে পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী বলেন, জাপানি ভাষা শিক্ষা এবং দক্ষ জনশক্তি তৈরির বিষয়ে দুই দেশের মধ্যে আলোচনা চলছে। এ ক্ষেত্রে একটি প্রক্রিয়া বাস্তবায়নের পর্যায়ে রয়েছে।
তিনি বলেন, আগামী বছর বহুপক্ষীয় কূটনীতির বিভিন্ন কার্যক্রমেও রোহিঙ্গা ইস্যুকে গুরুত্বের সঙ্গে তুলে ধরার পরিকল্পনা রয়েছে। এ ক্ষেত্রে জাপানের ইতিবাচক ভূমিকা প্রত্যাশা করছে বাংলাদেশ।
পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী বলেন, সামগ্রিকভাবে প্রধানমন্ত্রীর জাপান সফর অত্যন্ত ফলপ্রসূ হয়েছে। দুই দেশের নেতাদের মধ্যে আন্তরিক পরিবেশে গঠনমূলক আলোচনা হয়েছে, যা বাংলাদেশের উন্নয়ন, শিল্পায়ন ও কর্মসংস্থান সৃষ্টিতে নতুন সম্ভাবনা তৈরি করবে বলে আশা করা হচ্ছে।
সংবাদ সম্মেলনে আরও উপস্থিত ছিলেন, প্রধানমন্ত্রীর অতিরিক্ত প্রেস সচিব আতিকুর রহমান রুমন, উপ প্রেস সচিব শাহাদাৎ স্বাধীন।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
সাংবাদিক দম্পতি সাগর-রুনি হত্যাকাণ্ডের তদন্তে সাবেক (বরখাস্ত) সামরিক কর্মকর্তা জিয়াউল আহসান এবং কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগ নেত্রী ও অভিনেত্রী রোকেয়া প্রাচী জড়িত বলে উচ্চ পর্যায়ের টাস্কফোর্সকে জানিয়েছে প্রসিকিউশন।
মঙ্গলবার এই তথ্যটি অ্যাটর্নি জেনারেল মো. রুহুল কুদ্দুস কাজল প্রদান করেছেন।
বিচারপতি শিকদার মাহমুদুর রাজী ও বিচারপতি ফাতেমা আনোয়ারের সমন্বয়ে গঠিত হাইকোর্ট বেঞ্চে প্রতিবেদনটি উপস্থাপন করা হয়। রাষ্ট্রপক্ষের সময় আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে তদন্ত শেষ করার জন্য টাস্কফোর্সকে আরও ছয় মাস সময় প্রদান করা হয়েছে। এটি টাস্কফোর্সের জন্য চতুর্থবারের মতো সময় বৃদ্ধি।
আদালত পরবর্তী আদেশের জন্য ২৯ এপ্রিল তারিখ নির্ধারণ করেছে। টাস্কফোর্স এবং আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের দায়িত্বে থাকা সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিকে সেদিন উপস্থিত থাকার জন্য বলা হয়েছে, আইনজীবী সূত্রে জানা গেছে।
এর আগে, আদালতে তদন্তের অগ্রগতি প্রতিবেদন দাখিল করা হয়। অগ্রগতি প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়, টাস্কফোর্সের সদস্য এবং আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের (আইসিটি) চিফ প্রসিকিউটর আমিনুল ইসলাম ও প্রসিকিউটর তানভীর হাসান জোহারের সঙ্গে আলোচনা করে তারা প্রাথমিকভাবে সাগর-রুনি হত্যাকাণ্ডের সাথে মেজর জেনারেল (অব.) জিয়াউল আহসান ও মিডিয়া ব্যক্তিত্ব রোকেয়া প্রাচীর সংশ্লিষ্টতা পেয়েছেন এবং তারা তদন্তের যাচাই-বাছাই করছেন। তাদের প্রাথমিক তদন্ত শেষ হলে প্রাপ্ত তথ্য পিবিআইয়ের তদন্তকারী কর্মকর্তাকে হস্তান্তর করবেন বলে জানানো হয়েছে।
আজ আদালতে রাষ্ট্রপক্ষে অ্যাটর্নি জেনারেল মো. রুহুল কুদ্দুস কাজল প্রতিবেদনের কিছু অংশ তুলে ধরেন। তার সঙ্গে ছিলেন অতিরিক্ত অ্যাটর্নি জেনারেল মোহাম্মদ আরশাদুর রউফ এবং ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল নূর মোহাম্মদ আজমী। বাদীপক্ষে শুনানিতে ছিলেন জ্যেষ্ঠ আইনজীবী মোহাম্মদ শিশির মনির। রিট আবেদনকারী পক্ষে ছিলেন জ্যেষ্ঠ আইনজীবী মনজিল মোরসেদ।
পরে অ্যাটর্নি জেনারেল মো. রুহুল কুদ্দুস কাজল তার কার্যালয়ে বলেন, এই মামলার নতুন তদন্তভার গ্রহণ করে টাস্কফোর্স ২০২৪ সাল থেকে ২০২৬ সাল পর্যন্ত মোট ৯০ জন সাক্ষীকে পুনরায় জিজ্ঞাসাবাদ করেছেন এবং ২৪ জনের জবানবন্দী রেকর্ড করেছেন।
এই মামলার তদন্তে আদালতের নির্দেশে গঠিত টাস্কফোর্সের কার্যক্রমে ইতিমধ্যে উল্লেখযোগ্য অগ্রগতি সাধিত হয়েছে বলে উল্লেখ করেন অ্যাটর্নি জেনারেল। তিনি বলেন, ‘অক্টোবর মাসে, সাগর-রুনি হত্যা মামলার বিষয়ে গত ৩০ আগস্ট বিভিন্ন ইলেকট্রনিক মিডিয়া এবং সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ট্রাইব্যুনালের প্রসিকিউটর তানভীর হাসান জোহা জানান যে দুদক এনটিএমসির সাবেক পরিচালক মেজর জেনারেল অবসরপ্রাপ্ত জিয়াউল আহসানের বরিশালের বাসায় অভিযান চালায়। সেখানে বিভিন্ন ডিজিটাল আলামত পাওয়া যায় এবং সেগুলো জব্দ করা হয়। এসব আলামতের মধ্যে বিভিন্ন রকম জিও লোকেশন, এসএমএস, সিডিআরের প্রিন্টেড ভার্সন পাওয়া যায়।’
অ্যাটর্নি জেনারেল আরও বলেন, ‘জিয়াউল আহসানের সহকারী একজন র্যাব সদস্যের জিজ্ঞাসাবাদে উল্লিখিত প্রসিকিউটর জানান, প্রাথমিক তদন্তে সাগর-রুনি হত্যাকাণ্ডের সাথে মেজর জেনারেল জিয়াউল আহসান এবং একজন মিডিয়া ব্যক্তিত্বের সম্পৃক্ততা পাওয়া গেছে। জোহার বক্তব্য সমর্থন করে পরবর্তী সময়ে আইসিটি ট্রাইব্যুনালের চিফ প্রসিকিউটর মো. আমিনুল ইসলামও বিভিন্ন ইলেকট্রনিক মিডিয়া এবং সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে একই ধরনের বক্তব্য প্রদান করেন।
তারা জানান, মিডিয়াতে তাদের তদন্ত কাজ শেষ হলে সাগর-রুনি হত্যাকাণ্ড সম্পর্কিত তথ্য পিবিআইয়ের তদন্তকারী দলের কাছে হস্তান্তর করবেন।
এদিকে, পিবিআই তদন্ত দল দুজন আইনজীবী ও প্রসিকিউটরের সঙ্গে সাক্ষাৎ করেছে বলে জানান অ্যাটর্নি জেনারেল মো. রুহুল কুদ্দুস কাজল।
তিনি বলেন, ‘তাদের কাছে কী আলামত আছে তা জানতে চেয়েছেন এবং তারা একটি চিঠিও দিয়েছেন। এই চিঠির মাধ্যমে আমরা আজকে যে হাইকোর্টের আদেশের ভিত্তিতে যে অগ্রগতি প্রতিবেদন দেওয়ার কথা ছিল, সেই অগ্রগতি প্রতিবেদনে তদন্তকারী কর্মকর্তা মো. আজিজুল হক লিখেছেন। আদালতের কাছে এই তদন্ত প্রতিবেদনের অংশটি পড়ে শুনিয়েছি।’
এর আগে ২০২৪ সালের ৩০ সেপ্টেম্বর তদন্ত থেকে র্যাবকে সরিয়ে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের অধীনে উচ্চপর্যায়ের টাস্কফোর্স গঠনের নির্দেশ দিয়েছিলেন হাইকোর্ট। একই সঙ্গে ২০২৫ সালের ৬ এপ্রিলের মধ্যে প্রতিবেদন দাখিলের নির্দেশও দেওয়া হয়। পরে টাস্কফোর্স গঠন করে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়। তবে ৬ এপ্রিল উচ্চ আদালতে অবকাশকালীন ছুটি থাকায় এ বিষয়ে কোনো অগ্রগতি হয়নি।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ