ঢাকা বুধবার, ২৮শে অক্টোবর, ২০২৬খ্রিষ্টাব্দ ১২ই কার্তিক, ১৪৩৩বঙ্গাব্দ ১৭ই জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিজরী
বুধবার, ২৮শে অক্টোবর, ২০২৬ইং ১২ই কার্তিক, ১৪৩৩বাং

সউদী আরবের ইয়ানবু বন্দরে অপরিশোধিত তেল লোডিং শুরু


সউদী আরবের ইয়ানবু বন্দরে অপরিশোধিত তেল লোডিং শুরু

সউদী আরবের লোহিত সাগর উপকূলের ইয়ানবু বন্দরে অপরিশোধিত তেল লোডিং আবার শুরু হয়েছে। ইস্ট-ওয়েস্ট পাইপলাইনের কার্যক্রম পুনরায় চালু হওয়ার পর গত সপ্তাহে বন্দরে তেলবাহী জাহাজে তেল তোলার কার্যক্রম শুরু হয়। এই পরিস্থিতিতে মধ্যপ্রাচ্য থেকে বৈশ্বিক বাজারে তেল সরবরাহ বৃদ্ধির সম্ভাবনা দেখা দিয়েছে।

বুধবার (৩০ সেপ্টেম্বর) রয়টার্সের প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে যে, সউদী রাষ্ট্রীয় তেল কোম্পানি সউদী আরামকো ইয়ানবু বন্দর থেকে অক্টোবরে তেল লোডিংয়ের সময়সূচি গ্রাহকদের জানিয়ে দিয়েছে। গত সপ্তাহের শেষ দিকে ইয়ানবু থেকে একটি তেলবাহী জাহাজে অপরিশোধিত তেল তোলা হয়েছে।

গত ১১ সেপ্টেম্বর ড্রোন হামলার পর ইস্ট-ওয়েস্ট পাইপলাইনটি বন্ধ করে দেওয়া হয়েছিল, যার ফলে ইয়ানবু বন্দর থেকে অপরিশোধিত তেল রপ্তানি বন্ধ হয়ে যায়। সউদী আরব হামলার জন্য ইরাকভিত্তিক সশস্ত্র গোষ্ঠীগুলোকে দায়ী করেছিল। পরে ২২ সেপ্টেম্বর পাইপলাইনের কার্যক্রম পুনরায় শুরু হয়।

আরও পড়ুন: বোম্বে হাইকোর্ট ইমরান খানের ভারত ছাড়ার নোটিশ স্থগিত করেছে

ইউরোপীয় মহাকাশ সংস্থার উপগ্রহচিত্রে ইয়ানবু ও এর দক্ষিণে অবস্থিত আল-মুয়াজ্জিজ টার্মিনালে তেল লোডিং শুরু হওয়ার চিত্র দেখা গেছে। জাহাজ চলাচল পর্যবেক্ষণকারী প্রতিষ্ঠান ট্যাংকারট্র্যাকার্স জানিয়েছে, ২৭ সেপ্টেম্বরের উপগ্রহচিত্রে ওই দুটি টার্মিনালে প্রায় এক কোটি ব্যারেল অপরিশোধিত তেল লোডিংয়ের চিত্র ধরা পড়েছে। পাশাপাশি পরিশোধিত জ্বালানিও জাহাজে তোলা হয়েছে।

বাণিজ্যসংশ্লিষ্ট দুটি সূত্রের তথ্য অনুযায়ী, গত সপ্তাহ থেকে ইয়ানবু থেকে প্রতিদিন প্রায় ২০ লাখ ব্যারেল অপরিশোধিত তেল লোড করা হচ্ছে। জাহাজ চলাচল পর্যবেক্ষণকারী প্রতিষ্ঠান কেপলারের হিসাব অনুযায়ী, ইস্ট-ওয়েস্ট পাইপলাইনে বর্তমানে প্রতিদিন প্রায় ২৬ লাখ ৫০ হাজার ব্যারেল তেল পরিবহন হচ্ছে।

পাইপলাইনটির দৈনিক সক্ষমতা ৭০ লাখ ব্যারেল। কেপলার জানিয়েছে, আগামী কয়েক দিনের মধ্যে তেল পরিবহনের পরিমাণ ৩০ থেকে ৪০ লাখ ব্যারেলে পৌঁছাতে পারে। তবে হামলার আগে প্রতিদিন প্রায় ৫৫ লাখ ব্যারেল যে হারে পরিবহন করা হতো, সেই পর্যায়ে ফিরতে আরও প্রায় এক মাস সময় লাগতে পারে।

ইয়ানবু টার্মিনালে অপরিশোধিত তেলের মজুতও বৃদ্ধি পেতে শুরু করেছে। কেপলারের তথ্য অনুযায়ী, ২২ সেপ্টেম্বর সেখানে মজুত প্রায় ১০ লাখ ব্যারেল বেড়েছে। হামলার পর এটিই ছিল টার্মিনালটিতে প্রথম উল্লেখযোগ্য মজুত বৃদ্ধি।

আরও পড়ুন: সুদানে স্বর্ণের খোঁজে শ্রমিকেরা জীবন ঝুঁকিতে, খনিতে প্রাণ হারাচ্ছেন

ইস্ট-ওয়েস্ট পাইপলাইন সউদী আরবের পূর্বাঞ্চলের তেলক্ষেত্রগুলোকে লোহিত সাগরের ইয়ানবু বন্দরের সঙ্গে যুক্ত করেছে। এর মাধ্যমে হরমুজ প্রণালি এড়িয়ে লোহিত সাগর দিয়ে তেল রপ্তানি করা সম্ভব হয়। ফলে আঞ্চলিক সংঘাত ও সরবরাহে বিঘ্নের সময় পাইপলাইনটি সউদী আরবের জন্য গুরুত্বপূর্ণ বিকল্প রপ্তানি পথ হিসেবে কাজ করে।

ইয়ানবুতে তেল লোডিং পুনরায় শুরু হওয়ার পাশাপাশি মিসরের সিদি কেরির টার্মিনাল থেকেও ২২ সেপ্টেম্বর অপরিশোধিত তেল লোডিং শুরু হয়েছে। এসব কার্যক্রম মধ্যপ্রাচ্য থেকে তেল সরবরাহ ধীরে ধীরে পুনরুদ্ধারের ইঙ্গিত দিচ্ছে। এর ফলে বৈশ্বিক তেলের দামেও নিম্নমুখী চাপ তৈরি হয়েছে। তথ্যসূত্র: দ্য ডন, রয়টার্স

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

জেলা হাসপাতালে ১০ ও মেডিক্যাল কলেজে ৫০ ডায়ালিসিস মেশিন বসাবে সরকার

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

তালাশ বিডি ডেস্ক

বুধবার, ৩০শে সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ইং

১২:৪৩ পি.এম


জেলা হাসপাতালে ১০ ও মেডিক্যাল কলেজে ৫০ ডায়ালিসিস মেশিন বসাবে সরকার

স্বাস্থ্যমন্ত্রী সরদার মো. সাখাওয়াত হোসেন জানিয়েছেন, ‘সরকার দেশের জেলা পর্যায়ের হাসপাতালে ১০টি ডায়ালিসিস মেশিন এবং মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালগুলোতে ৫০টি ডায়ালিসিস মেশিন বসানোর পরিকল্পনা গ্রহণ করেছে।’

তিনি বুধবার (৩০ সেপ্টেম্বর) রাজধানীর ন্যাশনাল হার্ট ফাউন্ডেশনে ‘বিশ্ব হার্ট দিবস’ উপলক্ষে অনুষ্ঠিত একটি সেমিনারে এই তথ্য প্রকাশ করেন।

স্বাস্থ্যমন্ত্রী অভিযোগ করেন, ফ্যাসিস্ট সরকারের শাসনামলে চিকিৎসা খাতের উন্নয়নে কোনো উল্লেখযোগ্য পদক্ষেপ নেওয়া হয়নি। তিনি আরও বলেন, যেসব মেশিন আনা হয়েছে, সেগুলো ব্যবহার অযোগ্য। এর ফলে শুধুমাত্র অর্থ ব্যয় করা হয়েছে।

মন্ত্রী জানান, স্বাস্থ্য খাতকে এবারই প্রথম সর্বোচ্চ বাজেট দেওয়া হয়েছে। দেশের প্রতিটি উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সকে ৫০ থেকে ১৫১ শয্যায় উন্নীত করার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। এই পদক্ষেপের ফলে রাজধানীর হাসপাতালগুলোতে রোগীর চাপ কিছুটা কমবে বলে আশা করা হচ্ছে।

সেমিনারে বিশেষজ্ঞরা মন্তব্য করেন, অনেক সময় মানুষ বুকের ব্যথাকে গ্যাসের ব্যথা মনে করে অবহেলা করে। তবে যেকোনো ধরনের বুকের ব্যথা হলে চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া উচিত। হৃদরোগের ঝুঁকি কমাতে ধূমপান, তামাক, অতিরিক্ত লবণ ও প্রসেসড ফুড এড়িয়ে নিয়মিত ব্যায়ামের অভ্যাস গড়ে তোলার পরামর্শ দেওয়া হয়।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

‘ভ্যানিশ কুমার’ ইস্যুতে ইন্ডিয়া জোটের বৈঠকে যোগ দিতে দিল্লিতে মমতা

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

বুধবার, ৩০শে সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ইং

১২:৪৪ পি.এম


‘ভ্যানিশ কুমার’ ইস্যুতে ইন্ডিয়া জোটের বৈঠকে যোগ দিতে দিল্লিতে মমতা

মঙ্গলবার (২৯ সেপ্টেম্বর) পশ্চিমবঙ্গের প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় দিল্লিতে ভারতের বিরোধী ‘ইন্ডিয়া’ জোটের বৈঠকে অংশ নিতে পৌঁছেছেন। তাঁর সঙ্গে ছিলেন অল ইন্ডিয়া তৃণমূল কংগ্রেস (এআইটিসি) সংসদ সদস্য দোলা সেন ও কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায়।

মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় সাংবাদিকদের সামনে বলেন, “ইন্ডিয়া জোটের একটি বৈঠক রয়েছে... আমরা তাতে অংশ নিতেই এসেছি।” তিনি উল্লেখ করেন, “আমাদের আসল লক্ষ্য প্রধান নির্বাচন কমিশনার এবং তাঁর পুরো সফটওয়্যার টিম, যাঁরা সাধারণ মানুষের সঙ্গে প্রতারণা ও বিশ্বাসঘাতকতা করেছেন।” তৃণমূল প্রধান আরও জানান যে তিনি মুখ্য নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারকে ‘ভ্যানিশ কুমার’ বলে সম্বোধন করছেন।

সম্প্রতি ভোটার তালিকার বিশেষ ও নিবিড় সংশোধন এবং ভারতের প্রধান নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারের ভূমিকা নিয়ে বিরোধী দলগুলির মধ্যে ঐক্য গড়ে তুলতে সিপিআই(এম) সাধারণ সম্পাদক এম. এ. বেবি মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের সঙ্গে যোগাযোগ করেছেন। অন্যদিকে, কংগ্রেস নেতা রাহুল গান্ধীর সঙ্গেও আলোচনা করেছেন মমতা। এক জনসভায় মমতা স্পষ্ট জানিয়ে দেন, “প্রধান নির্বাচন কমিশনার সংক্রান্ত এই ইস্যুতে যে কোনও দলের সঙ্গে জোট বাঁধতে তিনি প্রস্তুত।”

এদিকে, প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রীকে কটাক্ষ করে মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী অভিযোগ করেছেন, “মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় দিল্লিতে দিমাগি নকশালদের নিয়ে বৈঠক করছেন।”

কোলকাতায় সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে শুভেন্দু অধিকারী বলেন, “ইন্ডিয়া জোটের অস্তিত্ব শেষ। উনি সেখানে গিয়ে দিমাগি নকশালদের সঙ্গে পরিকল্পনাসভা করছেন। আমি দিল্লি পুলিশ ও কেন্দ্রীয় আইবিকে নজর রাখতে বলব। যিনি আজাদির স্লোগান দেন, তিনি কী করতে পারেন তা সবার জানা। ভারতবিরোধী শক্তির সঙ্গে উনি বৈঠক করছেন কি না, সেদিকে নজর রাখা দরকার। উনি এখন দিমাগি নকশালদের উপদেষ্টা।”

একই সঙ্গে দুই চিরপ্রতিদ্বন্দ্বী দল সিপিআই(এম) ও তৃণমূলের কাছাকাছি আসা নিয়েও তীব্র সমালোচনা করেন শুভেন্দু অধিকারী, যিনি জ্ঞানেশ কুমারের ভোটার কেলেঙ্কারির ফসল।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

স্বাস্থ্য, শিক্ষা ও যোগাযোগে বাংলা কিউআরের গুরুত্ব বাড়াচ্ছে বাংলাদেশ ব্যাংক

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

তালাশ বিডি ডেস্ক

বুধবার, ৩০শে সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ইং

১২:৪৪ পি.এম


স্বাস্থ্য, শিক্ষা ও যোগাযোগে বাংলা কিউআরের গুরুত্ব বাড়াচ্ছে বাংলাদেশ ব্যাংক

বাংলাদেশ ব্যাংক ক্যাশলেস অর্থনীতি গড়ে তোলার অংশ হিসেবে স্বাস্থ্য, শিক্ষা ও যোগাযোগ খাতে বাংলা কিউআরের ব্যবহার দ্রুত বাড়ানোর ওপর সর্বোচ্চ গুরুত্ব প্রদান করছে। হাসপাতালের টিকিট ও বিভিন্ন ফি পরিশোধ, স্কুলের বেতন এবং শিক্ষার্থীদের দৈনন্দিন কেনাকাটা থেকে শুরু করে সড়ক ও সেতুর টোল পরিশোধের ক্ষেত্রে বাংলা কিউআর চালুর মাধ্যমে কেন্দ্রীয় ব্যাংক মানুষের নিয়মিত সম্পৃক্ততার এসব ক্ষেত্রে নগদ লেনদেন কমানোর চেষ্টা করছে।

বাংলাদেশ ব্যাংকের নির্বাহী পরিচালক ও মুখপাত্র আরিফ হোসেন খান বলেছেন, বাংলা কিউআর চালু হলে এসব খাতে লেনদেন সহজ ও দ্রুত হবে এবং নগদ অর্থ ও ভাংতির সমস্যাও হ্রাস পাবে।

বুধবার (৩০ সেপ্টেম্বর) বাংলা কিউআর নিয়ে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে এসব তথ্য জানান আরিফ হোসেন খান।

জানা গেছে, ক্যাশলেস অর্থনীতি গড়ে তুলতে বাংলা কিউআরকে আরও সহজ, নিরাপদ ও ব্যয়সাশ্রয়ী পেমেন্ট মাধ্যম হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করতে বাংলাদেশ ব্যাংক আগামী তিন মাসে একাধিক পদক্ষেপ বাস্তবায়ন করবে। ইতোমধ্যে বাংলা কিউআরের ব্যবহার উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে। গত জুনের তুলনায় ৩০ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত তিন মাসে বাংলা কিউআরের মাধ্যমে লেনদেনের সংখ্যা বেড়ে প্রায় সাড়ে তিন গুণ এবং লেনদেনের অর্থমূল্য বেড়েছে প্রায় পাঁচ গুণ। বর্তমানে বাংলা কিউআর ব্যবহারকারী মার্চেন্টের সংখ্যা প্রায় ৪০ লাখে পৌঁছেছে।

আরিফ হোসেন খান বলেন, বাংলাদেশ ব্যাংক দীর্ঘদিন ধরে ক্যাশলেস অর্থনীতি গড়ে তোলার জন্য কাজ করছে। এর মূল লক্ষ্য হলো অর্থনীতির প্রতিটি লেনদেনের একটি ডিজিটাল ফুটপ্রিন্ট তৈরি করা। দেশের অনানুষ্ঠানিক অর্থনীতিকে আনুষ্ঠানিক অর্থনীতির সঙ্গে যুক্ত করা গেলে অর্থনীতির প্রকৃত আকার আরও বড় হবে। এ কারণে ডিজিটাল ও ক্যাশলেস অর্থনীতি গড়ে তোলা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।

তিনি বলেন, বর্তমানে বাংলাদেশের অর্থনীতির আকার প্রায় ৫১০ বিলিয়ন ডলার। ভবিষ্যতে দেশের অর্থনীতিকে এক ট্রিলিয়ন ডলারে উন্নীত করার লক্ষ্য রয়েছে। কিন্তু অনানুষ্ঠানিক অর্থনীতির লেনদেনগুলোও যদি হিসাবের আওতায় আনা যায়, তাহলে প্রকৃত অর্থনীতির আকার আরও বড় হতে পারে। এ ধরনের বড় অর্থনীতি বিদেশি বিনিয়োগকারীদের কাছে দেশের বাজারকে আরও দৃশ্যমান করে তুলবে।

তিনি বলেন, বিদেশিরা কোনো দেশে বিনিয়োগের আগে সেখানে বাজার আছে কি না এবং বাজারের আকার কত- তা বিবেচনা করে। বাংলাদেশকে যদি এক ট্রিলিয়ন ডলারের অর্থনীতির দেশ হিসেবে বিশ্ব দরবারে তুলে ধরা যায়, তাহলে স্বাভাবিকভাবেই বিদেশি প্রতিষ্ঠানগুলো এ দেশে বিনিয়োগে আরও আগ্রহী হবে। আর এ লক্ষ্য অর্জনে ডিজিটাল ও ক্যাশলেস অর্থনীতি গুরুত্বপূর্ণ।

বাংলাদেশ ব্যাংকের মুখপাত্র বলেন, দেশের বড় অঙ্কের লেনদেন সাধারণত ক্যাশলেস পদ্ধতিতে হয়ে থাকে। কিন্তু ছোট ছোট দৈনন্দিন লেনদেন এখনো মূলত নগদনির্ভর। মুদি দোকান, বাজারসহ বিভিন্ন জায়গায় অল্প অঙ্কের লেনদেনের ক্ষেত্রে নগদ অর্থের ব্যবহার বেশি। এই ছোট লেনদেনগুলোকে ডিজিটাল ব্যবস্থায় আনতে বাংলা কিউআর গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে।

তিনি বলেন, নগদ লেনদেনে নানা ধরনের বিড়ম্বনা রয়েছে। বাজারে নিম্ন মূল্যমানের নোটের সংকট রয়েছে। অনেক সময় ক্রেতার কাছে ৫০ টাকার নোট থাকলেও ১০ বা ২০ টাকার ভাংতি পাওয়া যায় না। আবার পুরোনো ও মলিন নোট নিয়েও সমস্যা তৈরি হয়। এসব কারণে লেনদেনে সময় লাগে, কখনো ক্রেতা-বিক্রেতার মধ্যে বিরোধও তৈরি হয়। বাংলা কিউআরের মাধ্যমে এসব সমস্যা অনেকটাই দূর করা সম্ভব।

আরিফ হোসেন খান বলেন, গত ১ জুলাই থেকে সর্বস্তরে বাংলা কিউআর ব্যবহারের বাধ্যবাধকতা চালু করা হয়েছে। এরপর গত তিন মাস ধরে বাস্তবে কী ধরনের প্রতিবন্ধকতা তৈরি হচ্ছে, সেগুলো পর্যবেক্ষণ করা হয়েছে। এখন সেসব বাধা দূর করতেই নতুন পদক্ষেপ নেওয়া হচ্ছে।

তিনি বলেন, বাংলা কিউআর চালুর পর ইতিবাচক পরিবর্তন দেখা যাচ্ছে। গত জুলাই থেকে এ পর্যন্ত বাংলা কিউআরের মাধ্যমে লেনদেন প্রায় চার গুণ বেড়েছে। সর্বশেষ এক সপ্তাহে বাংলা কিউআরের মাধ্যমে প্রায় ১ হাজার কোটি টাকার লেনদেন হয়েছে। অর্থাৎ দৈনিক গড়ে প্রায় ১৪৩ কোটি টাকার লেনদেন হয়েছে। একই সময়ে মার্চেন্টের সংখ্যাও প্রায় তিন গুণ বেড়ে বর্তমানে ৪০ লাখের কাছাকাছি পৌঁছেছে।

তবে এখনো বাংলা কিউআর ব্যবহারে অন্যতম সমস্যা হিসেবে ফি বা চার্জের বিষয়টি রয়েছে বলে জানান তিনি।

আরিফ হোসেন খান বলেন, কোনো ব্যবসায়ী পণ্য বিক্রি করার পর যদি তার প্রাপ্য অর্থের একটি অংশ কেটে রাখা হয়, তাহলে তিনি স্বাভাবিকভাবেই এ ধরনের লেনদেনে উৎসাহিত হবেন না। তাই ব্যবসায়ীদের জন্য বিষয়টি কীভাবে সহজ ও ব্যয়সাশ্রয়ী করা যায়, সে বিষয়ে চিন্তাভাবনা করে বিভিন্ন সমাধান বের করা হয়েছে।

বাংলা কিউআরের আরেকটি বড় সুবিধা হলো এর আন্তঃব্যবহারযোগ্যতা উল্লেখ করে তিনি বলেন, আগে কোনো মার্চেন্ট একটি নির্দিষ্ট মোবাইল আর্থিক সেবা বা ব্যাংকের কিউআর ব্যবহার করলে অন্য প্রতিষ্ঠানের গ্রাহক সেখানে পেমেন্ট করতে পারতেন না। উদাহরণ দিয়ে তিনি বলেন, কোনো মার্চেন্ট বিকাশের কিউআর ব্যবহার করলে নগদের গ্রাহক সেখানে পেমেন্ট করতে পারতেন না। একইভাবে কোনো ব্যাংকের গ্রাহক অন্য প্রতিষ্ঠানের কিউআর থাকলে সমস্যায় পড়তেন।

কিন্তু বাংলা কিউআরের মাধ্যমে এই সমস্যা দূর হয়েছে বলে জানান তিনি। এখন একটি সার্বজনীন কিউআর ব্যবহারের মাধ্যমে বিভিন্ন ব্যাংক, মোবাইল আর্থিক সেবা ও পেমেন্ট সেবা প্রতিষ্ঠানের গ্রাহকরা লেনদেন করতে পারবেন। ফলে সবাই একটি অভিন্ন ব্যবস্থার আওতায় চলে এসেছে।

আরিফ হোসেন খান বলেন, বাংলা কিউআরকে জনপ্রিয় করার জন্য গভর্নরের নেতৃত্বে একটি স্টিয়ারিং কমিটি এবং ডেপুটি গভর্নরের নেতৃত্বে একটি কার্যকরী কমিটি কাজ করছে। এতে বাংলাদেশ ব্যাংকের পাশাপাশি বিভিন্ন ব্যাংক, মোবাইল আর্থিক সেবা প্রদানকারী প্রতিষ্ঠান, পেমেন্ট সেবা প্রদানকারী এবং সরকারের সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়ের প্রতিনিধিরা যুক্ত রয়েছেন।

তিনি বলেন, শুধু কেন্দ্রীয় ব্যাংকের নির্দেশনা দিয়ে বাংলা কিউআরের ব্যবহার দ্রুত বাড়ানো সম্ভব নয়। এ কারণে দেশের প্রায় ১৯টি জেলায় বিভিন্ন পর্যায়ের মানুষের সঙ্গে কথা বলা হয়েছে। ব্যবসায়ী সংগঠনগুলোর সঙ্গে আলোচনা করা হয়েছে। বাংলা কিউআরে কী ধরনের বৈশিষ্ট্য থাকলে এটি মানুষের কাছে বেশি গ্রহণযোগ্য হবে এবং কী ধরনের খরচ হলে এটি সবার জন্য ব্যয়সাশ্রয়ী হবে-এসব বিষয়ে মতামত নেওয়া হয়েছে।

আগামীকাল ১ অক্টোবর থেকে বাংলা কিউআরকে আরও জনপ্রিয় করতে কয়েকটি পদক্ষেপ কার্যকর হবে জানিয়ে তিনি বলেন, কিছু পদক্ষেপ ১ নভেম্বর থেকে এবং আরও কিছু পদক্ষেপ নভেম্বরের মাঝামাঝি থেকে বছরের শেষ নাগাদ বাস্তবায়ন করা হবে। এসব পদক্ষেপ চালু হলে আগামী তিন মাসে গত তিন মাসের তুলনায় আরও দ্রুত অগ্রগতি হবে বলে আশা করছে বাংলাদেশ ব্যাংক।

বাংলা কিউআর ব্যবহারের পরিধি বাড়াতে শিক্ষা, স্বাস্থ্য ও যোগাযোগ খাতকে বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে বলেও জানান তিনি। স্বাস্থ্য খাতে হাসপাতালের বহির্বিভাগের টিকিট কেনার উদাহরণ দিয়ে তিনি বলেন, অনেক সময় ১০ টাকার টিকিট কিনতে ৫০ টাকার নোট দিলে ভাংতি পাওয়া যায় না। এতে লাইনে অপেক্ষার সময় বাড়ে। বাংলা কিউআর থাকলে মোবাইল ফোন দিয়ে স্ক্যান করে সরাসরি অর্থ পরিশোধ করা যাবে।

শিক্ষা খাতেও বাংলা কিউআর ব্যবহারের পরিকল্পনা রয়েছে জানিয়ে তিনি বলেন, স্কুলের বেতন থেকে শুরু করে শিক্ষার্থীদের ক্যান্টিনে খাবার কেনা, স্টেশনারি, পেন্সিল, ইরেজার, শার্পনার বা জ্যামিতি বক্স কেনার মতো ছোট লেনদেনও বাংলা কিউআরের মাধ্যমে করা সম্ভব। ইতোমধ্যে বেসরকারি স্কুলের বেতন ক্যাশলেস করার বিষয়ে শিক্ষা মন্ত্রণালয় থেকে নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। এসব পেমেন্ট বাংলা কিউআরের মাধ্যমে করার উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে।

যোগাযোগ খাতেও বাংলা কিউআর ব্যবহারের সুযোগ রয়েছে বলে জানান তিনি। পদ্মা সেতুসহ বিভিন্ন সড়কের টোল প্লাজায় দীর্ঘ লাইনের কথা উল্লেখ করে তিনি বলেন, টোল পরিশোধের ক্ষেত্রেও কিউআর ব্যবহার করা গেলে সময় কমানো সম্ভব। এতে নগদ অর্থের প্রয়োজন হবে না এবং টোল আদায়ের প্রক্রিয়াও আরও দ্রুত করা যাবে।

বাংলাদেশ ব্যাংকের নির্বাহী পরিচালক বলেন, যেসব মন্ত্রণালয়ের সঙ্গে মানুষের দৈনন্দিন সম্পৃক্ততা সবচেয়ে বেশি, সেসব খাতে দ্রুত ক্যাশলেস ব্যবস্থা চালু করা সম্ভব। এ বিষয়ে বাংলাদেশ ব্যাংকের পেমেন্ট সিস্টেম বিভাগের কর্মকর্তারা সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়গুলোর সঙ্গে আলোচনা করেছেন। বাংলা কিউআরের উপযোগিতা, এর সুবিধা এবং বাস্তবায়নের বিষয়গুলো তাদের জানানো হয়েছে।

তিনি বলেন, বাংলা কিউআর বাস্তবায়নে কেন্দ্রীয় ব্যাংকের নির্দেশনার পাশাপাশি সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয় ও প্রতিষ্ঠানগুলোর নিজস্ব নির্দেশনাও প্রয়োজন। সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়গুলো তাদের অধীন প্রতিষ্ঠানগুলোকে নির্দেশনা দিলে বাস্তবায়ন আরও দ্রুত হবে।

আরিফ হোসেন খান বলেন, বাংলা কিউআরকে শুধু একটি পেমেন্ট পদ্ধতি হিসেবে নয়, দেশের ক্যাশলেস অর্থনীতির অন্যতম প্রধান অবকাঠামো হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করতে চায় বাংলাদেশ ব্যাংক। আগামী তিন মাসে নতুন পদক্ষেপগুলোর বাস্তবায়নের মাধ্যমে বাংলা কিউআরের ব্যবহার আরও বিস্তৃত হবে এবং দৈনন্দিন ছোট লেনদেনের বড় একটি অংশ ডিজিটাল ব্যবস্থায় নিয়ে আসা সম্ভব হবে বলে আশা করছে কেন্দ্রীয় ব্যাংক।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

গাজার তরুণদের রোবট তৈরির উদ্যোগ, প্রতিকূলতার মধ্যেও উদ্ভাবনী সক্ষমতা

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

বুধবার, ৩০শে সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ইং

১২:৪৫ পি.এম


গাজার তরুণদের রোবট তৈরির উদ্যোগ, প্রতিকূলতার মধ্যেও উদ্ভাবনী সক্ষমতা

গাজার একদল তরুণ প্রয়োজনীয় প্রযুক্তি সরঞ্জাম পাওয়ার ক্ষেত্রে যে চ্যালেঞ্জের সম্মুখীন, সেখানে হাতে থাকা সামান্য যন্ত্রাংশ দিয়েই রোবট তৈরির চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে। সীমিত উপকরণ ও সংকুচিত সুযোগ সত্ত্বেও প্রযুক্তি নিয়ে কাজ করার তাদের আগ্রহ থামাতে পারেনি।

গাজা সিটিতে অনুষ্ঠিত একটি প্রযুক্তি প্রতিযোগিতায় অংশগ্রহণ করে উদ্ভাবকেরা ফেলে দেওয়া এবং সহজলভ্য বিভিন্ন যন্ত্রাংশকে নতুনভাবে কাজে লাগানোর চেষ্টা করছেন। এসব উপকরণ ব্যবহার করে তারা তৈরি করছেন বিভিন্ন ধরনের রোবট ও প্রযুক্তিনির্ভর যন্ত্র। নিজেদের প্রয়োজন ও ধারণা অনুযায়ী এসব যন্ত্রকে সচল করার চেষ্টা করছেন তারা।

আলজাজিরার প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে, প্রতিকূল পরিস্থিতির মধ্যেও তরুণদের এই উদ্যোগ প্রযুক্তির প্রতি তাদের আগ্রহ এবং উদ্ভাবনী সক্ষমতার পরিচয় প্রদান করছে। নতুন যন্ত্র বা উপকরণ পাওয়া কঠিন হলেও, তারা হাতে থাকা জিনিস দিয়েই বিভিন্ন সমস্যার সমাধান খুঁজছেন।

এই আয়োজন শুধু রোবট তৈরির মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়। গাজার তরুণ প্রকৌশলী ও প্রোগ্রামারদের নিজেদের দক্ষতা কাজে লাগানোর এবং একসঙ্গে শেখার সুযোগও তৈরি করেছে এটি। তারা দলবদ্ধভাবে বিভিন্ন রোবট তৈরির প্রকল্প নিয়ে কাজ করছেন এবং পাশাপাশি নিজেদের ধারণা ও অভিজ্ঞতা বিনিময় করছেন।

অর্থনৈতিক সংকট ও অবকাঠামোগত নানা সীমাবদ্ধতার মধ্যেও এমন উদ্যোগ গাজার তরুণদের প্রযুক্তিনির্ভর ভবিষ্যতের আকাঙ্ক্ষাকে সামনে নিয়ে আসছে। সীমিত উপকরণ ও সুযোগের মধ্যেও তারা দেখাচ্ছেন, নতুন কিছু তৈরির জন্য সবসময় বড় আয়োজনের প্রয়োজন হয় না। কৌতূহল, সৃজনশীলতা এবং শেখার আগ্রহ উদ্ভাবনের পথ তৈরি করতে পারে। তথ্যসূত্র: আল-জাজিরা

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

আর্কাইভ

Please select a date!

নামাজের সময়সূচী

তারিখঃ ১৭ই জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিঃ
ফজর ০৪:৪৬
জোহর ১১:৪৩
আসর ০৩:৪৬
মাগরিব ০৫:২২
ইশা ০৬:৩৪
সূর্যোদয় : ০৬:০২ সূর্যাস্ত : ০৫:২২
অনলাইন জরিপ
ফলাফল
থার্টি-ফার্স্ট নাইটে তরুণদের জন্য প্রকাশ্যে পানি-টানি খাওয়ার বিরুদ্ধে আহ্বান। আপনার মন্তব্য দিন
হ্যা
100%
না
0%
মন্তব্য নেই
0%