ঢাকা শনিবার, ২৪শে অক্টোবর, ২০২৬খ্রিষ্টাব্দ ০৮ই কার্তিক, ১৪৩৩বঙ্গাব্দ ১৩ই জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিজরী
শনিবার, ২৪শে অক্টোবর, ২০২৬ইং ০৮ই কার্তিক, ১৪৩৩বাং

টানা তিনদিন অনুপস্থিতির পর আতলেতিকোর অনুশীলনে ফিরলেন আলভারেজ


টানা তিনদিন অনুপস্থিতির পর আতলেতিকোর অনুশীলনে ফিরলেন আলভারেজ

আতলেতিকো মাদ্রিদের অনুশীলনে আলভারেজ ফিরে এসেছেন, তিনদিন অনুপস্থিত থাকার পর।

 

গ্রীষ্মকালীন দলবদলে আর্জেন্টাইন তারকা হুলিয়ান আলভারেজের বিষয়টি সবচেয়ে বেশি আলোচনার জন্ম দিয়েছে। বার্সেলোনায় যাওয়ার আগ্রহ প্রকাশ করেছেন আলভারেজ।

আরও পড়ুন: সিরাজগঞ্জে যুবক হত্যার অভিযোগে ছাত্রলীগ নেতা গ্রেপ্তার

 

কিন্তু আতলেতিকো মাদ্রিদ স্পষ্টভাবে জানিয়ে দিয়েছে যে, তারা এই স্ট্রাইকারকে বার্সেলোনার কাছে বিক্রি করবে না। আলভারেজ বার্সেলোনা ছাড়া অন্য কোনো ক্লাবে যেতে পারেন।

এ কারণে ক্লাবের সাথে তার সম্পর্কের অবনতি ঘটে। অসুস্থতার কারণে তিনদিন অনুশীলনে অনুপস্থিত থাকায় তার ফিরে আসা নিয়ে নানা আলোচনা শুরু হয়।

 

আরও পড়ুন: ফজলু হত্যার অভিযোগপত্র সাত মাসেও আদালতে পেশ হয়নি

সব কিছু ছাপিয়ে অবশেষে গতকাল শুক্রবার তিনি অনুশীলনে ফিরে আসেন। তবে তিনি দলের সাথে নয়, ফিটনেস কোচের অধীনে ব্যক্তিগতভাবে অনুশীলন করেন।

প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, অসুস্থতার কারণে টানা তিনদিন অনুশীলনে না থাকায় সেভিয়ার বিপক্ষে ম্যাচে আলভারেজকে দেখা যাবে না। এই বিষয়টি গতকালই নিশ্চিত করেছেন কোচ দিয়েগো সিমিওনে।

 

শুক্রবার সকালে সংবাদ সম্মেলনে সিমিওনে বলেন, “অবশ্যই, সে আগামীকাল (শনিবার) থাকবে না।”

আরও পড়ুন: সংবিধান সংশোধন কমিটির বিশেষ বৈঠক সংসদে শুরু

আলভারেজের বর্তমান পরিস্থিতি সম্পর্কে সিমিওনে আরো বলেন, “খেলার দিক থেকে আমার অবস্থান একই আছে। আমি নিশ্চিত করতে চাই যে, সে যেন দলের জন্য গুরুত্বপূর্ণ খেলোয়াড় হিসেবে থাকতে পারে। আর এই মুহূর্তে আমার মনোযোগ সেভিয়া ম্যাচে।”

আলভারেজ দলের সঙ্গে অনুশীলনে ফিরে আসলে তাকে আগের মতোই গুরুত্বপূর্ণ মনে করানোর বিষয়ে সিমিওনে বলেন, “হুলিয়ান যখন আমাদের সঙ্গে অনুশীলনে ফিরবে, তখন আমরা সবসময় যা দিয়ে এসেছি, সেটাই তাকে দেব, যাতে সে বুঝতে পারে সে গুরুত্বপূর্ণ—কারণ সে আমাদের দলের জন্য গুরুত্বপূর্ণ।”আলভারেজকে ঘিরে ট্রান্সফার টানাপোড়েন এখনও শেষ হয়নি। আর্জেন্টাইন ফরোয়ার্ড বার্সেলোনায় যেতে আগ্রহী হলেও আতলেতিকো মাদ্রিদ স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছে, তারা তাকে বার্সেলোনার কাছে বিক্রি করবে না। তবে বার্সেলোনা এখনও আলভারেজকে পাওয়ার আশা ছাড়েনি।

গ্রীষ্মকালীন ট্রান্সফার উইন্ডো বন্ধ হতে মাত্র তিন দিন বাকি রয়েছে। ফলে আলভারেজের সামনে দুটি পথ রয়েছে—আতলেতিকোতেই থাকা, অথবা বার্সেলোনা ছাড়া অন্য কোনো ক্লাবের প্রস্তাব গ্রহণ করা। তার আতলেতিকোর সাথে চুক্তির মেয়াদ ২০৩০ সাল পর্যন্ত।

আলভারেজকে বিক্রি করতে হলে আতলেতিকো ১৫০ মিলিয়ন ইউরো পাওয়ার প্রত্যাশা করছে। ইংলিশ সংবাদমাধ্যমের খবর অনুযায়ী, আর্সেনাল তাকে দলে নিতে আগ্রহী হতে পারে। তবে লন্ডনের ক্লাবে যাওয়ার বিষয়ে আলভারেজ সম্মতি দিলেই কেবল সেই সম্ভাবনা বাস্তব রূপ নিতে পারে।

আরও পড়ুন: জামায়াত আমিরের ডিভাইস না দেওয়ার পেছনে বড় অপরাধ লুকানোর বিষয় আছে: রাশেদ খান

তবে আতলেতিকো আলভারেজকে ধরে রাখতে আগ্রহী। ক্লাবটির প্রধান নির্বাহী মিগেল আনহেল হিল মারিন বৃহস্পতিবার জানিয়েছেন, “আমাদের ইচ্ছা এবং আমার ব্যক্তিগত স্বপ্ন হলো, সে আমাদের সঙ্গে থাকুক এবং আতলেতিকো মাদ্রিদের হয়ে খেলা চালিয়ে যাক।”

আলভারেজ যদি আতলেতিকোর হয়ে খেলা চালিয়ে যেতে আগ্রহী না হন, সেক্ষেত্রে বিকল্প খোঁজার কথা জানিয়েছেন মারিন। সেই বিকল্পের মধ্যে বার্সেলোনা থাকবে না বলে তিনি জানান।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

রংপুরে রিকশাচালককে গলা কেটে হত্যা

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

স্পোর্টস ডেস্ক

শনিবার, ২৯শে আগস্ট, ২০২৬ ইং

০৫:৪১ পি.এম


রংপুরে রিকশাচালককে গলা কেটে হত্যা

 

রংপুরের গঙ্গাচড়ায় ৫৫ বছর বয়সী মোখলেছুর রহমানকে গলা কেটে হত্যা করার পর দুর্বৃত্তরা তার রিকশা নিয়ে পালিয়ে গেছে। শুক্রবার (২৮ আগস্ট) দিবাগত রাতে উপজেলার গজঘণ্টা ইউনিয়নের শান্তিপাড়া-কাউয়াফান্দা এলাকার একটি বটগাছের নিচে পুলিশ তার মরদেহ উদ্ধার করে।

 

মোখলেছুর রহমান গঙ্গাচড়া উপজেলার নবনীদাস পাড়ার মৃত হামিদুর রহমানের পুত্র ছিলেন। তিনি ব্যাটারিচালিত রিকশা চালিয়ে জীবিকা নির্বাহ করতেন।

পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, শুক্রবার রাত পৌনে ১২টার দিকে স্থানীয় বাসিন্দারা গজঘণ্টা ইউনিয়নের শান্তিপাড়া-কাউয়াফান্দা এলাকার একটি বটগাছের নিচে একজনের মরদেহ পড়ে থাকতে দেখতে পান। মরদেহটি দেখে তাদের মধ্যে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে।

 

এরপর তারা বিষয়টি পুলিশকে জানায়। খবর পেয়ে গঙ্গাচড়া থানা-পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে মরদেহটি উদ্ধার করে।

পুলিশ জানায়, মরদেহটি ময়নাতদন্তের জন্য রংপুর মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়েছে। ময়নাতদন্তের প্রতিবেদন পাওয়ার পর মৃত্যুর সঠিক কারণ এবং হত্যার ধরণ সম্পর্কে বিস্তারিত জানা যাবে।

 

গঙ্গাচড়া মডেল থানার ওসি আব্দুস সবুর বিষয়টি নিশ্চিত করে বলেন, শুক্রবার বিকেলে মোখলেছুর রহমান রিকশা নিয়ে বাড়ি থেকে বের হন। পরে রাতের কোনো এক সময় দুর্বৃত্তরা তাকে হত্যা করে রিকশাটি নিয়ে যায়।

ওসি আরও জানান, হত্যার কারণ উদঘাটন এবং জড়িতদের শনাক্তে পুলিশ কাজ করছে।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

ইউক্রেনে রাশিয়ার ড্রোন হামলায় ২৭ জনের প্রাণহানি

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

শনিবার, ২৯শে আগস্ট, ২০২৬ ইং

০৫:৪১ পি.এম


ইউক্রেনে রাশিয়ার ড্রোন হামলায় ২৭ জনের প্রাণহানি

ইউক্রেনের রাজধানী কিয়েভের কাছে একটি গুদামে রাশিয়ার ড্রোন হামলায় অন্তত ২৭ জন নিহত হয়েছেন। এছাড়াও অনেক আহত হওয়ার খবর পাওয়া গেছে। শনিবার (২৯ আগস্ট) ভোরে এই হামলার হামলার পর ওই এলাকা থেকে শত শত মানুষকে সরিয়ে নেওয়া হয়েছে।

ভলোদিমির জেলেনস্কি হামলার বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। একই সঙ্গে তিনি এ ঘটনায় তদন্তের পাশাপাশি সরকারের কোনো অবহেলা ছিল কি না, তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে বলে জানিয়েছেন। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেওয়া এক বার্তায় জেলেনস্কি বলেন, এ বিষয়ে সুনির্দিষ্ট নিয়ম রয়েছে বাড়িঘর বা অন্যান্য আবাসিক এলাকার কাছাকাছি গোলাবারুদ মজুদ করা যাবে না। তবে বিস্ফোরণের কারণ কী ছিল কিংবা হামলার সময় ওই গুদামে কী ধরনের সামগ্রী রাখা ছিল, সে বিষয়ে তিনি স্পষ্টভাবে কিছু বলেননি।

কিয়েভ অঞ্চলের সামরিক প্রশাসনের প্রধান তিমুর তকাচেঙ্কো বলেন, এই হামলায় অন্তত ৫০টি আবাসিক ভবন ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। দুর্ভাগ্যবশত এখন পর্যন্ত ২৭ জনের মৃত্যুর বিষয়টি নিশ্চিত হওয়া গেছে। তবে এই সংখ্যাটিই চূড়ান্ত নাও হতে পারে। আমি নিহতদের পরিবার ও স্বজনদের প্রতি গভীর সমবেদনা জানাচ্ছি।

প্রেসিডেন্ট জেলেনস্কি জানিয়েছেন, নিহতদের মধ্যে দিমিত্রিবকা কমিউনিটির প্রধান তারাস দিদিচও রয়েছেন, যিনি মানুষকে উদ্ধারের কাজে নিয়োজিত ছিলেন। তিনি আরও বলেন, এ বিষয়ে অবশ্যই যথাযথ সিদ্ধান্ত বা পদক্ষেপ নেওয়া হবে। ইউক্রেনের প্রসিকিউটর জেনারেলের কার্যালয় জানিয়েছে, একটি ড্রোন মিলা শহরের একটি প্রতিষ্ঠানের প্রাঙ্গণে  আঘাত হেনেছে। এতে আরও বলা হয়, ওই প্রতিষ্ঠানের প্রাঙ্গণে ব্যাপক অগ্নিকাণ্ড শুরু হয় এবং একের পর এক বিস্ফোরণ ঘটতে থাকে।

এদিকে হামলার পর কিয়েভ অঞ্চলের বুচা জেলায় জরুরি সেবাকর্মী ও স্থানীয় কর্তৃপক্ষ ঘটনাস্থলে কাজ করছে। প্রধানমন্ত্রী সের্গেই কোরেটস্কি দুঃখ প্রকাশ করে বলেন, কিয়েভের কাছে ভিশনেভে এলাকায় জুলাই মাসে গোলাবারুদের গুদামে হওয়া আগের প্রাণঘাতী হামলার পরও কোনো ‘শিক্ষা’ নেওয়া হয়নি। সেই তদন্তে রাষ্ট্রায়ত্ত কোম্পানিটির গুরুতর গাফিলতি বেরিয়ে এসেছিল। আবাসিক ভবনগুলোর কাছাকাছি অবস্থান সত্ত্বেও তারা নিরাপত্তা মানদণ্ড মেনে চলেনি।

সূত্র: সিএনএন।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

যাত্রাবাড়ী থানা থেকে পালানো নারী গ্রেপ্তারের পর কারাগারে

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

অনলাইন ডেস্ক

শনিবার, ২৯শে আগস্ট, ২০২৬ ইং

০৫:৪৫ পি.এম


যাত্রাবাড়ী থানা থেকে পালানো নারী গ্রেপ্তারের পর কারাগারে

যাত্রাবাড়ী থানার পুলিশ হেফাজত থেকে পালিয়ে যাওয়া নারীকে গ্রেপ্তার করার পর কারাগারে পাঠানো হয়েছে। হত্যার মামলায় জিজ্ঞাসাবাদের জন্য এই নারীকে গ্রেপ্তার করা হয়। শনিবার (২৯ অগাস্ট) বিকেলে তদন্ত কর্মকর্তার আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট মঞ্জুরুল ইসলাম ওই সন্দিগ্ধ আসামি মিতুকে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেন।

 

প্রসিকিউশন বিভাগের এসআই মহিন উদ্দিন বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন, তবে ওই দিন আসামিপক্ষের কোনো আইনজীবী আদালতে উপস্থিত ছিলেন না। এর আগে, গত রাত ১২টার দিকে কেরানীগঞ্জের কদমতলী এলাকা থেকে মিতুকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ। শনিবার, মামলার তদন্ত কর্মকর্তা যাত্রাবাড়ী থানার এসআই সৌমিত্র সরকার তাকে আদালতে হাজির করে কারাগারে আটক রাখার আবেদন করেন।

কারাগারে পাঠানোর আবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে, যাত্রাবাড়ী থানার একটি হত্যা মামলায় সন্দিগ্ধ আসামি হিসেবে গ্রেপ্তার হওয়ার পর ২৪ অগাস্ট মিতুর তিন দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করা হয়।

 

জিজ্ঞাসাবাদের জন্য তদন্ত কর্মকর্তা এসআই হাসান কবির তাকে থানায় নিয়ে আসেন। এ সময় মিতুর সঙ্গে তার দুই বছর পাঁচ মাসের শিশু সন্তানও ছিল। তাকে ঘটনার বিষয়ে বিভিন্ন সময়ে জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়। ২৭ অগাস্ট সকালে রিমান্ড শেষে মিতুকে আদালতে পাঠানোর আগে ডাক্তারি পরীক্ষার জন্য ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয় এবং পরীক্ষা শেষে সকাল সাড়ে ৭টার দিকে থানায় ফিরিয়ে আনা হয়।

 

এক নারী কনস্টেবলের পাহারায় মিতু থানার নারী ও শিশু হেল্প ডেক্সে ছিলেন। সকাল সাড়ে ৭টার দিকে তিনি কৌশলে দরজা খুলে শিশুসন্তান নিয়ে পালিয়ে যান।

বর্তমানে মামলাটি তদন্তাধীন রয়েছে। মামলার সুষ্ঠু তদন্তের স্বার্থে তাকে কারাগারে আটক রাখার আবেদন করেছেন তদন্ত কর্মকর্তা। হেফাজত থেকে পালানোর ঘটনায় যাত্রাবাড়ী থানায় এসআই খন্দকার আবু সালেহ নাঈম একটি মামলা দায়ের করেছেন।

 

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

পাসের অপেক্ষায় গুম প্রতিরোধ ও প্রতিকার আইন

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

তালাশ বিডি ডেস্ক

শনিবার, ২৯শে আগস্ট, ২০২৬ ইং

০৫:৪৯ পি.এম


পাসের অপেক্ষায় গুম প্রতিরোধ ও প্রতিকার আইন

ঢাকা, ২৯ আগস্ট, ২০২৬ : আগামীকাল ৩০ আগস্ট আন্তর্জাতিক গুম প্রতিরোধ দিবস। গুম বা ‘এনফোর্সড ডিজঅ্যাপিয়ারেন্স’ বন্ধ, অতীতের গুমের ঘটনা তদন্ত ও দায়ীদের বিচারের আওতায় আনা এবং ভুক্তভোগী ও তাদের পরিবারের অধিকার ও প্রতিকার নিশ্চিত করতে পৃথক আইনি কাঠামো প্রণয়নের উদ্যোগ নিয়েছে বর্তমান সরকার। 

এরই ধারাবাহিকতায় জাতীয় সংসদে ইতোমধ্যে ‘গুম প্রতিরোধ ও প্রতিকার বিল, ২০২৬’ উত্থাপিত হয়েছে, যা এখন পাসের অপেক্ষায় রয়েছে।

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ গত ২৭ আগস্ট জাতীয় সংসদের তৃতীয় অধিবেশনের প্রথম দিনে বিলটি উত্থাপন করেন। পরে বিলটি পরীক্ষা-নিরীক্ষার জন্য সংশ্লিষ্ট সংসদীয় স্থায়ী কমিটিতে পাঠানোর প্রস্তাব করেন তিনি। ডেপুটি স্পিকার ব্যারিস্টার কায়সার কামাল বিলটি সংশ্লিষ্ট সংসদীয় স্থায়ী কমিটিতে পাঠিয়ে দুই কার্যদিবসের মধ্যে প্রতিবেদন দিতে বলেন।

প্রস্তাবিত আইনে গুমকে একটি স্বতন্ত্র, আমলযোগ্য, অজামিনযোগ্য ও আপস-অযোগ্য ফৌজদারি অপরাধ হিসেবে সংজ্ঞায়িত করা হয়েছে। কোনো সরকারি কর্মচারী বা শৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্য কর্তৃক অথবা সরকারি কর্তৃপক্ষের অনুমোদন, সমর্থন বা সম্মতিতে কোনো ব্যক্তিকে গ্রেফতার, আটক, অপহরণ বা অন্য কোনোভাবে স্বাধীনতা থেকে বঞ্চিত করার পর ঘটনাটি অস্বীকার করা কিংবা সংশ্লিষ্ট ব্যক্তির অবস্থান, অবস্থা বা পরিণতি গোপন রাখাকে ‘গুম’ হিসেবে বিবেচনা করার প্রস্তাব করা হয়েছে।

বিলে গুমের জন্য দায়ী ব্যক্তির অন্যূন তিন বছর থেকে সর্বোচ্চ যাবজ্জীবন কারাদণ্ড এবং এর অতিরিক্ত অনধিক ৫০ লাখ টাকা অর্থদণ্ডের বিধান রাখা হয়েছে। কোনো ভুক্তভোগী মারা গেলে অথবা পাঁচ বছরের বেশি সময় নিখোঁজ থাকার পরও তাকে জীবিত বা মৃত অবস্থায় উদ্ধার করা সম্ভব না হলে দায়ী ব্যক্তির সর্বোচ্চ মৃত্যুদণ্ড বা যাবজ্জীবন কারাদণ্ড অথবা অন্যূন পাঁচ বছর কারাদণ্ড এবং এর অতিরিক্ত অনধিক ১ কোটি টাকা অর্থদণ্ডের প্রস্তাব করা হয়েছে।

গুমের সাক্ষ্যপ্রমাণ জেনেশুনে বিনষ্ট, গোপন, বিকৃত বা পরিবর্তন করলে অন্যূন পাঁচ বছর কারাদণ্ড এবং অনধিক ২০ লাখ টাকা অর্থদণ্ডের বিধান রাখা হয়েছে। একইভাবে গোপন আটককেন্দ্র নির্মাণ, স্থাপন বা ব্যবহার করলে অন্যূন পাঁচ বছর কারাদণ্ড এবং অনধিক ২০ লাখ টাকা অর্থদণ্ডের প্রস্তাব রয়েছে।

প্রস্তাবিত আইনে ব্যাপক বা পরিকল্পিত পদ্ধতিতে সংঘটিত গুমকে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল আইনের অধীন মানবতাবিরোধী অপরাধ হিসেবে বিচারযোগ্য করার কথা বলা হয়েছে। এছাড়া গুম প্রতিরোধ, অপরাধের তদন্ত ও বিচার, নিখোঁজ ব্যক্তিদের সন্ধান এবং ভুক্তভোগী ও তাদের পরিবারের সুরক্ষায় একটি সমন্বিত আইনি কাঠামো তৈরির প্রস্তাব রয়েছে।

নিখোঁজ ব্যক্তিদের সন্ধানে আদালতের মাধ্যমে তল্লাশি পরোয়ানা জারি, অভিযুক্তের অনুপস্থিতিতে বিচার এবং ডিজিটাল সাক্ষ্য গ্রহণের বিধান রাখা হয়েছে। পাশাপাশি সাক্ষী, অভিযোগকারী, তথ্য প্রকাশকারী বা হুইসেলব্লোয়ার এবং ভুক্তভোগীদের গোপনীয়তা ও নিরাপত্তা নিশ্চিত করার প্রস্তাব করা হয়েছে।

ভুক্তভোগী ও তাঁদের পরিবারের তদন্তের অগ্রগতি সম্পর্কে তথ্য পাওয়ার, ঘটনার প্রকৃত সত্য জানার এবং নিখোঁজ ব্যক্তির অবস্থান বা পরিণতি সম্পর্কে জানার অধিকার নিশ্চিত করার কথা বলা হয়েছে।

গুমের শিকার ব্যক্তি ও তাদের পরিবারের জন্য রাষ্ট্রীয় অর্থায়নে আইনি সহায়তা, চিকিৎসা, পুনর্বাসন ও ক্ষতিপূরণ নিশ্চিত করতে বিশেষ তহবিল গঠনের প্রস্তাব করা হয়েছে। দোষী সাব্যস্ত ব্যক্তির সম্পদ থেকে ক্ষতিপূরণের অর্থ আদায় করা হবে। তা সম্ভব না হলে রাষ্ট্র এ ব্যয় বহন করবে।

নিখোঁজ ব্যক্তির স্বামী বা স্ত্রী এবং নির্ভরশীল পরিবারের সদস্যদের ভরণপোষণ ও প্রয়োজনীয় ব্যয় নির্বাহের জন্য তার সম্পত্তি ব্যবহারের সুযোগ দেওয়ার প্রস্তাব রয়েছে। পাঁচ বছর পর উত্তরাধিকার-সংক্রান্ত বিষয় নিষ্পত্তির সুবিধার্থে নিখোঁজ ব্যক্তির সনদ দেওয়ার বিধানও রাখা হয়েছে।

বিলে গুমের ঘটনা নিয়ে একটি কেন্দ্রীয় তথ্যভাণ্ডার সংরক্ষণ এবং আন্তর্জাতিক সহযোগিতার ব্যবস্থা করার প্রস্তাব রয়েছে। তদন্ত ও বিচার-উভয় কার্যক্রম সর্বোচ্চ ১২০ দিনের মধ্যে শেষ করার বিধান রাখার প্রস্তাব করা হয়েছে।

তবে প্রস্তাবিত আইনে গুমের ঘটনা তদন্তের জন্য কোনো স্বাধীন তদন্তকারী সংস্থা গঠনের কথা বলা হয়নি। এ ধরনের মামলার তদন্তের দায়িত্ব পুলিশের ওপরই রাখার প্রস্তাব করা হয়েছে।

এদিকে, বর্তমান সরকার অতীতে সংঘটিত গুমের ঘটনাগুলো তদন্ত করে দায়ীদের আইনের আওতায় আনার উদ্যোগ নিয়েছে। বিভিন্ন ঘটনায় তদন্ত ও বিচার কার্যক্রম এগিয়ে নেওয়ার পাশাপাশি ভবিষ্যতে যাতে কোনো ব্যক্তি রাষ্ট্রীয় বা অন্য কোনো কর্তৃপক্ষের মাধ্যমে বেআইনিভাবে গুমের শিকার না হন, সে লক্ষ্যে পৃথক আইনি কাঠামো প্রণয়নের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

বিলটির উদ্দেশ্য ও কারণসংবলিত বিবৃতিতে বলা হয়েছে, মানবাধিকার, মানবিক মর্যাদা, ব্যক্তি-স্বাধীনতা ও আইনের শাসন প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যে গুম প্রতিরোধ ও প্রতিকারের জন্য এ আইন প্রণয়ন প্রয়োজন। প্রস্তাবিত আইনটি গুম প্রতিরোধ, দায়ী ব্যক্তিদের বিচার, গুম হওয়া ব্যক্তিদের সন্ধান এবং ভুক্তভোগী ও তাঁদের পরিবারের অধিকার, ক্ষতিপূরণ ও পুনর্বাসন নিশ্চিত করার একটি সমন্বিত আইনগত কাঠামো প্রতিষ্ঠা করবে।

বিশ্ব গুম দিবসের প্রাক্কালে জাতীয় সংসদে ‘গুম প্রতিরোধ ও প্রতিকার বিল, ২০২৬’ উত্থাপনকে গুমের মতো গুরুতর মানবাধিকার লঙ্ঘন প্রতিরোধে সরকারের আইনি উদ্যোগের গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ হিসেবে দেখা হচ্ছে। সংসদীয় স্থায়ী কমিটির প্রতিবেদন এবং পরবর্তী সংসদীয় প্রক্রিয়া শেষে বিলটি পাস হলে গুম প্রতিরোধ, তদন্ত ও বিচার এবং ভুক্তভোগী ও তাদের পরিবারের প্রতিকার নিশ্চিত করার ক্ষেত্রে একটি পৃথক আইনগত ভিত্তি তৈরি হবে।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

আর্কাইভ

Please select a date!

নামাজের সময়সূচী

তারিখঃ ১৩ই জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিঃ
ফজর ০৪:৪৪
জোহর ১১:৪৪
আসর ০৩:৪৮
মাগরিব ০৫:২৫
ইশা ০৬:৩৭
সূর্যোদয় : ০৬:০০ সূর্যাস্ত : ০৫:২৫
অনলাইন জরিপ
ফলাফল
থার্টি-ফার্স্ট নাইটে তরুণদের জন্য প্রকাশ্যে পানি-টানি খাওয়ার বিরুদ্ধে আহ্বান। আপনার মন্তব্য দিন
হ্যা
100%
না
0%
মন্তব্য নেই
0%