বৃহস্পতিবার, ২৪শে সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ইং
০৩:৪৫ পি.এম
রাজধানীর বারিধারায় ফুটপাতে উঠে নির্মাণ শ্রমিক মেহেদী হাসান মিমকে চাপা দিয়ে নিহতের ঘটনায় সড়ক পরিবহন আইনে করা মামলায় গ্রেপ্তার আজান আলী শরীফকে (১৭) শিশু-কিশোর সংশোধনাগারে পাঠানোর নির্দেশ দিয়েছেন আদালত। বৃহস্পতিবার (২৪ সেপ্টেম্বর) শুনানি শেষে ঢাকার নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনাল- ৮ এর বিচারক মো. আব্দুল মোক্তাদির এই নির্দেশনা প্রদান করেন।
আসামি পক্ষের আইনজীবী আলমগীর হোসেন এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন। তিনি জানান, তদন্ত কর্মকর্তার আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে আদালত ওই কিশোরকে শিশু সংশোধনাগারে পাঠানোর আদেশ দিয়েছে। মামলায় কিশোরের পক্ষে ভুক্তভোগী পরিবারের সঙ্গে ৯ লাখ টাকায় আপস হয়েছে। জামিন আবেদন করার পরিকল্পনা রয়েছে আমাদের। জামিন আবেদনের দিন আপসনামা দাখিল করা হবে।
এর আগে, গত ২২ সেপ্টেম্বর বিকেল ৫টার দিকে গুলশান থানাধীন বারিধারা ডিপ্লোম্যাটিক এলাকার ১ নম্বর সড়কে দুর্ঘটনাটি ঘটে। দ্রুতগতির একটি প্রাইভেটকার নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে ফুটপাতে উঠে গিয়ে সেখানে অবস্থানরত নির্মাণ শ্রমিক মেহেদী হাসান মিমকে চাপা দেয়। গুরুতর আহত অবস্থায় তাকে উদ্ধার করে হাসপাতালে নেওয়া হলে চিকিৎসক মৃত ঘোষণা করেন।
দুর্ঘটনার পর গাড়িটি সড়কবাতির একটি খুঁটিতে ধাক্কা দেয়। ঘটনার সিসিটিভি ফুটেজে গাড়িটি দ্রুতগতিতে ফুটপাতে উঠে যাওয়ার দৃশ্য দেখা যায় বলে পুলিশ জানিয়েছে। ঘটনার পর গাড়ির চালকের আসন থেকে এক কিশোর বেরিয়ে এলে স্থানীয়রা তাকে আটক করে পুলিশের কাছে হস্তান্তর করেন। পরে অভিযোগ ওঠে যে, তাকে ছেড়ে দেওয়া হয়েছে। নিহতের ভাই মোক্তাদীর বাদী হয়ে গুলশান থানায় মামলা করেন।
মামলায় গাড়ির চালক হিসেবে আকাশ মারককে আসামি করা হয়। পরে তদন্তে সিসিটিভি ফুটেজসহ অন্যান্য তথ্যের ভিত্তিতে কিশোর আজান আলী শারীফের গাড়ি চালানোর বিষয়টি সামনে আসে বলে পুলিশ জানায়। এরপর বুধবার গুলশান-১২ নম্বর সড়কের একটি বাসা থেকে আজানকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ। এরপর বৃহস্পতিবার ওই শিশুকে আদালতে হাজির করে কারাগারে আটক রাখার আবেদন করেন মামলার তদন্ত কর্মকর্তা গুলশান থানার উপপরিদর্শক মো. আরিফীন ইসলাম।
ওই আবেদনে তদন্ত কর্মকর্তা উল্লেখ করেন, এই মামলার ঘটনার সাথে জড়িত শিশু আজান আলী শরীফের জড়িত থাকার বিষয়ে প্রাথমিক সত্যতা পাওয়া গেছে। মামলার তদন্ত অব্যাহত আছে। মামলাটি সুষ্ঠু তদন্তের স্বার্থে আইনের সংঘাতে জড়িত শিশুকে আটক রাখা একান্ত প্রয়োজন।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের স্ত্রী ডা. জুবাইদা রহমানও ফ্যামিলি কার্ডের আওতায় আসবেন বলে জানিয়েছেন স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলম।
বৃহস্পতিবার (২৪ সেপ্টেম্বর) চট্টগ্রামের বাঁশখালীতে বন্যায় ক্ষতিগ্রস্তদের মধ্যে প্রধানমন্ত্রীর আর্থিক সহায়তার চেক বিতরণ অনুষ্ঠানে তিনি এসব কথা বলেন।
মীর শাহে আলম বলেন, তারেক রহমানের সরকার জনগণের সরকার। সরকারের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ উদ্যোগ হিসেবে ফ্যামিলি কার্ড দেওয়া হবে। পর্যায়ক্রমে দেশের ৪ কোটি পরিবারকে এই কার্ডের আওতায় আনার কথা জানান তিনি। এ কার্ড পেতে কাউকে ঘুষ দেওয়ার প্রয়োজন নেই বলেও উল্লেখ করেন প্রতিমন্ত্রী।
তিনি বলেন, প্রধানমন্ত্রীর সহধর্মিণী ডা. জুবাইদা রহমানও ফ্যামিলি কার্ড পাবেন। এটি বিএনপি সরকারের সিদ্ধান্ত।
বন্যা প্রসঙ্গে প্রতিমন্ত্রী বলেন, আকস্মিক ভারী বর্ষণের কারণে বাঁশখালী, চন্দনাইশ ও সাতকানিয়াসহ বিভিন্ন এলাকায় বন্যা পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়। এমন পরিস্থিতি মোকাবিলায় স্থানীয় মানুষেরও তেমন অভিজ্ঞতা ছিল না। জেলা প্রশাসন ও সরকার ক্ষতিগ্রস্তদের পাশে থাকার জন্য সর্বোচ্চ চেষ্টা করেছে। এ সময় সরকারের পক্ষ থেকে কোনো ভুল হয়ে থাকলে তিনি ক্ষতিগ্রস্তদের কাছে ক্ষমা চান।
অনুষ্ঠানে চট্টগ্রাম-১২ আসনের সংসদ সদস্য এনামুল হক এনাম, চট্টগ্রাম জেলা পরিষদের চেয়ারম্যান মাহবুবের রহমান শামীমসহ বিএনপির স্থানীয় নেতারা উপস্থিত ছিলেন।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
মাদারীপুর সদর উপজেলায় বিষাক্ত দ্রব্য পান করে লাবনী আক্তার (৩৫) নামে এক গৃহবধূর মৃত্যু হয়েছে। বৃহস্পতিবার (২৪ সেপ্টেম্বর) সকালে উপজেলার ধুরাইল ইউনিয়নের সরদার কান্দি এলাকায় এ ঘটনা ঘটে।
নিহত লাবনী আক্তার সরদার কান্দি গ্রামের আব্বাস আলী মল্লিকের মেয়ে এবং একই এলাকার জিলু কাজীর স্ত্রী।
স্থানীয় ও পারিবারিক সূত্রে জানা যায়, বৃহস্পতিবার সকালে নিজ বসতঘরে বিষাক্ত দ্রব্য পান করেন লাবনী। পরে স্বজনরা তাকে উদ্ধার করে মাদারীপুর ২৫০ শয্যাবিশিষ্ট জেলা হাসপাতালে নিয়ে যান। সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় বেলা সাড়ে ১১টার দিকে তার মৃত্যু হয়।
স্বজনদের দাবি, পারিবারিক বিভিন্ন বিষয় নিয়ে স্বামী জিলু কাজীর সঙ্গে লাবনীর দীর্ঘদিন ধরে বিরোধ চলছিল। এর মধ্যে স্বামীর সঙ্গে অন্য এক নারীর সম্পর্কের বিষয় নিয়েও তাদের মধ্যে ঝগড়া হয়। এসব পারিবারিক বিরোধের জেরে লাবনী বিষাক্ত দ্রব্য পান করে থাকতে পারেন বলে ধারণা করছেন স্বজনরা।
মাদারীপুর সদর মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আবুল কালাম আজাদ বলেন, নিহতের মরদেহ ময়নাতদন্তের জন্য মাদারীপুর জেলা হাসপাতালের মর্গে রাখা হয়েছে। পরিবারের পক্ষ থেকে লিখিত অভিযোগ পাওয়া গেলে তদন্ত করে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
টাঙ্গাইলের মধুপুরে জৈব পদ্ধতিতে শাকসবজি চাষ, স্থানীয় বীজ সংরক্ষণ ও পারিবারিক পুষ্টি নিশ্চিতকরণ বিষয়ে দিনব্যাপী প্রশিক্ষণ অনুষ্ঠিত হয়েছে।
বৃহস্পতিবার (২৪ সেপ্টেম্বর) কারিতাস ময়মনসিংহ অঞ্চলের ‘আলোক কোরে-২’ প্রকল্পের আয়োজনে পীরগাছা থাংয়ানি কো-অপারেটিভ ক্রেডিট ইউনিয়ন লিমিটেডের হলরুমে এ প্রশিক্ষণ অনুষ্ঠিত হয়।
প্রশিক্ষণে বসতবাড়িতে জৈব পদ্ধতিতে শাকসবজি চাষের আধুনিক ও পরিবেশবান্ধব কৌশল, বীজ উৎপাদন এবং স্থানীয় বীজ সংরক্ষণের বিভিন্ন পদ্ধতি সম্পর্কে অংশগ্রহণকারীদের ধারণা দেওয়া হয়। পাশাপাশি বসতবাড়িতে শাকসবজি চাষ ও গৃহপালিত প্রাণী পালনের মাধ্যমে পারিবারিক পুষ্টির চাহিদা পূরণ এবং জৈব পণ্য বাজারজাত করে পরিবারের আয় বৃদ্ধির বিভিন্ন দিক তুলে ধরা হয়।
প্রশিক্ষণে সহায়ক হিসেবে উপস্থিত ছিলেন মধুপুর উপজেলা কৃষি কার্যালয়ের উপ-সহকারী কৃষি কর্মকর্তা মো. আব্দুল বাছেদ। এছাড়া কারিতাসের ‘আলোক কোরে-২’ প্রকল্পের কো-অর্ডিনেটর মি. বাঁধন চিরান, কৃষি কর্মকর্তা মিসেস এনা নকরেক এবং মাঠ কর্মকর্তা মিসেস সূচনা রুরাম প্রশিক্ষণ কার্যক্রমে সহযোগিতা করেন।
আয়োজকরা জানান, প্রশিক্ষণের মাধ্যমে নির্বাচিত সদস্যদের জৈব কৃষি সম্পর্কে জ্ঞান ও দক্ষতা বৃদ্ধি পাবে। একই সঙ্গে নিরাপদ খাদ্য উৎপাদন, স্থানীয় বীজ সংরক্ষণ, পারিবারিক পুষ্টি নিশ্চিতকরণ এবং জৈব কৃষিপণ্য বাজারজাতের মাধ্যমে আয় বৃদ্ধির সুযোগ তৈরি হবে।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
সামরিক বাহিনীর শীর্ষ কর্মকর্তাদের লাগাতার বরখাস্ত ও ছাঁটাইয়ের ফলে চীনের যুদ্ধক্ষেত্রে লড়াই করার সক্ষমতা বা প্রস্তুতি কিছুটা ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে, তবে এতে প্রেসিডেন্ট শি চিনপিংয়ের সামরিক বাহিনীর ওপর নিয়ন্ত্রণ আরো শক্তিশালী হয়েছে বলে মনে করছেন কূটনীতিক ও বিশ্লেষকরা।
রয়টার্সের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, চীন যখন তাদের সামরিক বাহিনীকে আধুনিকীকরণ করার প্রচেষ্টা জোরদার করছে এবং তাইওয়ানের পাশাপাশি দক্ষিণ ও পূর্ব চীন সাগরের বিরোধপূর্ণ অঞ্চলে সেনা মোতায়েন বাড়াচ্ছে, তখন আঞ্চলিক সামরিক কর্মকর্তা এবং নিরাপত্তা বিশ্লেষকরা এই ছাঁটাই অভিযানের দিকে কড়া নজর রাখছেন।
চলতি সপ্তাহে ক্ষমতাসীন পলিটব্যুরোর পক্ষ থেকে সামরিক বাহিনীর দুই শীর্ষ নেতা ঝাং ইউশিয়া এবং লিউ ঝেনলিকে কমিউনিস্ট পার্টি ও সামরিক বাহিনী থেকে বহিষ্কারের খবর এসেছে। এটি দীর্ঘদিন ধরে চলা অভ্যন্তরীণ শুদ্ধি অভিযানের সর্বশেষ পদক্ষেপ।
ঝাং ইউশিয়া ছিলেন শি চিনপিংয়ের বাবার এক ঘনিষ্ঠ বন্ধুর ছেলে এবং দীর্ঘদিন ধরে তাকে শির সবচেয়ে কাছের সামরিক মিত্র হিসেবে দেখা হতো। তিনি চীনের শীর্ষ প্রতিরক্ষা কমান্ড বডি ‘সেন্ট্রাল মিলিটারি কমিশন’ (সিএমসি)-এ শির ডেপুটি হিসেবে দায়িত্ব পালন করছিলেন।
বিশ্লেষকরা জানান, দ্বিতীয় সারির ডজনখানেক কর্মকর্তা সিএমসি, থিয়েটার কমান্ড এবং বিভিন্ন বাহিনীর গুরুত্বপূর্ণ পদগুলোতে স্থলাভিষিক্ত হলেও সাত সদস্যের নীতি-নির্ধারণী এই পরিচালনা কমিটির পাঁচটি পদ এখনো ফাঁকা রয়েছে।
সিঙ্গাপুরভিত্তিক চীনা নিরাপত্তা বিষয়ক গবেষক জেমস চার মন্তব্য করেছেন, ঝাং এবং সামরিক বাহিনীর সাবেক শীর্ষ রাজনৈতিক কর্মকর্তা মিয়াও হুয়ার অনুসারীদের পদচ্যুত করার মাধ্যমে শি চিনপিংয়ের হাত আরও শক্তিশালী হয়েছে।
জেমস বলেন, ‘আমরা আশা করতে পারি যে শি চিনপিং চীনের সামরিক বিষয়ের ওপর নিজের সিদ্ধান্তমূলক নিয়ন্ত্রণ ও প্রভাব বজায় রাখবেন এবং এর পরিবর্ধিত রূপ হিসেবে পার্টি ও রাষ্ট্রের ওপরও তার আধিপত্য বজায় থাকবে। কারণ, যে পিপলস লিবারেশন আর্মিকে (পিএলএ) নিয়ন্ত্রণ করে, সে-ই পার্টিকে নিয়ন্ত্রণ করে।’
২০১২ সালে ক্ষমতায় আসার পর থেকে শি চিনপিং চীনের আধুনিক ইতিহাসে দুর্নীতি ও শৃঙ্খলাহীনতা দূর করতে সবচেয়ে বড় অভিযান পরিচালনা করেছেন। এর ফলেই মূলত তাকে প্রতিষ্ঠাতা নেতা মাও সেতুংয়ের পর দেশের সবচেয়ে শক্তিশালী নেতা হিসেবে অভিহিত করা হচ্ছে।
আমলাতন্ত্রের বিশাল বলয়ের মধ্যে থাকা লাখো মানুষের বিরুদ্ধে তদন্ত চালানো হয়েছে। একই সঙ্গে পার্টি, সরকার ও সামরিক বাহিনীর বহু জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তাকে তদন্তের মুখোমুখি এবং বরখাস্ত করা হয়েছে।
চীনের থিঙ্কট্যাংক ‘গ্লোবাল গভর্নেন্স ইনস্টিটিউশন’-এর প্রেসিডেন্ট তিয়ান শিচেন বলেছেন, ‘দুর্নীতিগ্রস্ত উপাদান নির্মূল করলে সশস্ত্র বাহিনীর রাজনৈতিক ভিত্তি, একতা এবং সামগ্রিক যুদ্ধ সক্ষমতা দুর্বল হওয়ার বদলে আরো শক্তিশালীই হয়।’
ঝাং এবং লিউর বিরুদ্ধে তদন্তের বিষয়টি প্রথম প্রকাশ্যে এসেছিল জানুয়ারিতে, যদিও তাদের আনুষ্ঠানিকভাবে কী শাস্তি দেওয়া হচ্ছে তা এখনো প্রকাশ করা হয়নি।
ব্যাপক রদবদলে নানা প্রশ্ন
সামরিক বাহিনীর উচ্চপদে ব্যাপক রদবদল সত্ত্বেও চীন তাদের বর্তমান প্রতিরক্ষা অবস্থান বজায় রেখেছে, যার মধ্যে রয়েছে অস্ত্র পরীক্ষা অব্যাহত রাখা এবং ক্রমান্বয়ে জটিল সামরিক মহড়া চালিয়ে যাওয়া।
তবে এই ছাঁটাই অভিযানের ফলে চীনের যুদ্ধ করার সক্ষমতা, বিশেষ করে স্বশাসিত গণতান্ত্রিক দ্বীপ তাইওয়ানকে কেন্দ্র করে যুদ্ধের সক্ষমতার ওপর কী প্রভাব পড়বে, তা নিয়ে প্রশ্ন থেকেই যাচ্ছে। উল্লেখ্য, তাইওয়ানকে চীন নিজের ভূখণ্ড বলে দাবি করে, যদিও তাইপে চীনের এই সার্বভৌমত্বের দাবি তীব্রভাবে প্রত্যাখ্যান করে আসছে।
১৯৭৯ সালে ভিয়েতনামের সাথে সংক্ষিপ্ত কিন্তু রক্তক্ষয়ী সীমান্ত যুদ্ধে অংশ নিয়েছিলেন ঝাং। এটিই ছিল বাস্তব যুদ্ধে চীনের সর্বশেষ অংশ নেওয়ার ঘটনা। সেই হিসেবে বাস্তব যুদ্ধক্ষেত্রের অভিজ্ঞতা থাকা সবচেয়ে জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তা ছিলেন এই ঝাং।
লন্ডনের টনি ব্লেয়ার ইনস্টিটিউটের চীন বিষয়ক জ্যেষ্ঠ নীতি উপদেষ্টা রুবি ওসমান বলেছেন, ‘পিএলএ তাদের দৈনন্দিন কার্যক্রমকে এই বিশৃঙ্খলা বা উত্তাল পরিস্থিতি থেকে মুক্ত রাখলেও, এত বড় মাপের ওলটপালট জটিল কোনো সামরিক অভিযানে, বিশেষ করে তাইওয়ানে পূর্ণমাত্রার কোনো জরুরি পরিস্থিতিতে সমস্যা তৈরি করবে না, তা ভাবা কঠিন।’
ওসমান আরো বলেন, ‘তবে শি চিনপিং স্পষ্টতই স্বল্পমেয়াদী এই বিঘ্নকে দীর্ঘমেয়াদী শৃঙ্খলা ও যুদ্ধপ্রস্তুতির জন্য একটি দেওয়ার মতো মূল্য হিসেবেই দেখছেন।’
শুরুতে এই শুদ্ধি অভিযান দুর্নীতিকে লক্ষ্য করে শুরু হয়েছিল। এর মধ্যে রয়েছে, পিএলএর অভিজাত ‘রকেট ফোর্স’-এর কেনাকাটার বিষয়গুলো, যা চীনের ঐতিহ্যবাহী ও পারমাণবিক ক্ষেপণাস্ত্র নিয়ন্ত্রণ করে।
তবে ধীরে ধীরে এই অভিযান একটি রাজনৈতিক রূপ নিয়েছে, যাকে অনেক বিশ্লেষক মনে করছেন, পিএলএ প্রধানত রাষ্ট্রের জন্য নয়, বরং পার্টির সেবা করার জন্যই বিদ্যমান, এই বার্তাটি স্মরণ করিয়ে দেওয়ার চেষ্টা।
প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের সাবেক কর্মকর্তা তিয়ান বিদেশি পর্যবেক্ষকদের সেই বক্তব্য খারিজ করে দেন, যেখানে বলা হয়েছিল শি চিনপিংয়ের ‘ব্যক্তিগত ক্ষমতা’ কেন্দ্রীভূত করা হয়েছে। তিয়ান বলেন, পিএলএ-র মূল নীতিই হলো ‘সেনাবাহিনীর ওপর পার্টির চূড়ান্ত ও পরম নেতৃত্ব।’
সিঙ্গাপুরের এস. রাজারত্নম স্কুল অফ ইন্টারন্যাশনাল স্টাডিজের জেমস চার বলেছেন, তিনি আশা করছেন না যে ২০২৭ সালের শেষের দিকে অনুষ্ঠিত হতে যাওয়া কমিউনিস্ট পার্টির পূর্ণাঙ্গ কংগ্রেসের আগে কমিশনের শীর্ষ প্যানেলের খালি পদগুলো পূরণ করা হবে।
ঐ অনুষ্ঠানে শি জিনপিং তার চতুর্থ পাঁচ বছরের মেয়াদ নিশ্চিত করবেন বলে ব্যাপকভাবে ধারণা করা হচ্ছে। বিশ্লেষকরা মনে করছেন, এই সম্ভাবনা থেকেই অভ্যন্তরীণ নিরাপত্তা জোরদার করার তাগিদ আরও তীব্র হয়েছে।
পদ পূরণের এই বিলম্ব চীন এবং বিদেশী সামরিক বাহিনীর মধ্যকার যোগাযোগ ও সংলাপে ব্যাঘাত ঘটাতে পারে, যা আঞ্চলিক উত্তেজনা বজায় থাকার এই সময়ে কূটনীতিকদের কাছে একটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ বিষয়।
চীনের প্রতিরক্ষা মন্ত্রী ডং জুন তার পদে বহাল থাকলেও, তিনি ক্ষমতাসীন পলিটব্যুরো বা সিএমসির সদস্য নন। ফলে আন্তর্জাতিক অঙ্গনের অন্যান্য সমকক্ষদের তুলনায় তাকে কম শক্তিশালী মনে করা হয়।
২০২৪ সালে বেইজিংয়ে যুক্তরাষ্ট্রের তৎকালীন জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টা জেক সুলিভানের সঙ্গে ঝাংয়ের বৈঠককে সে সময় যুক্তরাষ্ট্র-চীন সামরিক সম্পর্কের ক্ষেত্রে একটি বড় অগ্রগতি হিসেবে দেখা হয়েছিল। তবে ঝাংয়ের স্থলাভিষিক্ত কে হবেন তা এখনো স্পষ্ট নয়।
ওয়াশিংটনভিত্তিক থিঙ্কট্যাংক ‘জার্মান মার্শাল ফান্ড অব দ্য ইউনাইটেড স্টেটস’-এর ইন্দো-প্যাসিফিক প্রোগ্রামের প্রধান বনি গ্লেসার বলেছেন, মধ্যবর্তী এই সময়ে শি চিনপিং হয়তো কিছু সিদ্ধান্ত একাই নিচ্ছেন।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ