ঢাকা বুধবার, ২১শে অক্টোবর, ২০২৬খ্রিষ্টাব্দ ০৫ই কার্তিক, ১৪৩৩বঙ্গাব্দ ১০ই জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিজরী
বুধবার, ২১শে অক্টোবর, ২০২৬ইং ০৫ই কার্তিক, ১৪৩৩বাং

পৌর চেয়ারম্যান থেকে বঙ্গভবনের পথে মির্জা ফখরুল


পৌর চেয়ারম্যান থেকে বঙ্গভবনের পথে মির্জা ফখরুল

মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। ছবি: সংগৃহীত

একসময় শিক্ষকতা করতেন মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। পাশাপাশি মঞ্চে উঠতেন তিনি। সাংস্কৃতিক কর্মকাণ্ড ও নানা খেলাধুলায় যুক্ত ছিলেন। ছাত্রজীবনে রাজনীতিতে ছিলেন সক্রিয়। এরপর তিনি পৌরসভার চেয়ারম্যান, সংসদ সদস্য, প্রতিমন্ত্রী, দলের মুখপাত্র এবং শেষ পর্যন্ত বিএনপি মহাসচিব হয়েছেন।

জীবনের প্রতিটি অধ্যায় পেরিয়ে মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বর্তমানে দাঁড়িয়ে আছেন আরও বড় এক রাজনৈতিক অধ্যায়ের সামনে। দেশের ২৩তম রাষ্ট্রপতি নির্বাচনের জন্য ক্ষমতাসীন বিএনপির মনোনয়ন পেয়েছেন তিনি। আনুষ্ঠানিক প্রক্রিয়া এখনও সম্পন্ন হয়নি, তবে চূড়ান্ত ফলাফলের জন্য অপেক্ষা করা হচ্ছে এবং রাষ্ট্রপতি পদে মির্জা ফখরুলের নাম এখন রাজনৈতিক অঙ্গনে সবচেয়ে বেশি আলোচিত বিষয়। কারণ, তিনি ক্ষমতাসীন দল বিএনপির একমাত্র মনোনীত প্রার্থী।

আরও পড়ুন: সমঅধিকারভিত্তিক সমাজ গঠনে সরকারের দৃঢ়প্রতিজ্ঞা: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী

মির্জা ফখরুলের রাষ্ট্রপতি হওয়ার পথে এমন খবরে জেলার মানুষ খুব খুশি। এ খুশির আনন্দ শুধু দলীয়ভাবে সীমাবদ্ধ নয়, এটি সাধারণ মানুষের মাঝেও ছড়িয়ে পড়েছে। মহল্লায় মহল্লায় মিষ্টি বিতরণ করা হচ্ছে জেলাজুড়ে। ধনী, গরীব, শিশু, যুবক, বৃদ্ধ—সব বয়সী মানুষের মধ্যেই উল্লাস আর আনন্দ দেখা যাচ্ছে।

নাট্যমঞ্চ থেকে রাজনীতির মঞ্চে মির্জা ফখরুলের রাজনৈতিক জীবনের গল্প শুধুমাত্র দলীয় পদ-পদবি অথবা নির্বাচনী রাজনীতির নয়। এর সঙ্গে মিশে আছে সংস্কৃতি ও নাট্যচর্চা, শিক্ষকতা এবং ছাত্ররাজনীতির অভিজ্ঞতা।

ছাত্রজীবনে তিনি নাট্যচর্চার সঙ্গে যুক্ত ছিলেন। নাট্যমঞ্চে অভিনয় করেছেন এবং সাংস্কৃতিক কর্মকাণ্ডে অংশ নিয়েছেন। সেই সময়ের সাংস্কৃতিক পরিমণ্ডল তার ব্যক্তিত্ব গঠনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছে। পরে রাজনীতির কঠিন বাস্তবতাতেও তার মধ্যে সংস্কৃতিমনস্কতার ছাপ থেকে যায়। এছাড়া ক্রীড়া সংগঠক হিসেবেও মির্জা ফখরুলের অনেক নাম রয়েছে।

১৯৪৮ সালের ২৬ জানুয়ারি ঠাকুরগাঁওয়ে জন্মগ্রহণ করেন তিনি। তার বাবা মির্জা রুহুল আমিন ছিলেন প্রতিষ্ঠিত আইনজীবী ও একাধিকবারের সংসদ সদস্য। ঐতিহ্যবাহী রাজনৈতিক পরিবারের সন্তান হিসেবে বেড়ে ওঠার পাশাপাশি তিনি শৈশব থেকে সামাজিক ও সাংস্কৃতিক কর্মকাণ্ডের সঙ্গে যুক্ত হওয়ার সুযোগ পান।

আরও পড়ুন: ইশরাকের পদত্যাগ সাংবিধানিক, আইনের ব্যত্যয় ঘটেনি: অ্যাটর্নি জেনারেল

ঢাকা কলেজ থেকে উচ্চ মাধ্যমিক সম্পন্ন করার পর ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে অর্থনীতি বিষয়ে পড়াশোনা করেন। সেখান থেকে স্নাতক ও স্নাতকোত্তর ডিগ্রি অর্জন করেন।

ছাত্রজীবনেই রাজনীতিতে সক্রিয় হয়ে ওঠেন তিনি। তৎকালীন পূর্ব পাকিস্তান ছাত্রইউনিয়নের সদস্য হিসেবে সলিমুল্লাহ মুসলিম হল শাখার সাধারণ সম্পাদক এবং পরে ১৯৬৯ সালের ঐতিহাসিক গণঅভ্যুত্থানের সময় সংগঠনটির ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় শাখার সভাপতি হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। নাট্যমঞ্চ আর রাজনীতির উত্তাল রাস্তা—দুই ভিন্ন জগতের অভিজ্ঞতা নিয়ে তরুণ মির্জা ফখরুল গড়ে ওঠেন।

শিক্ষা জীবন শেষ করে দীর্ঘ সময় শিক্ষকতা করেন মির্জা ফখরুল। তিনি ঢাকা কলেজসহ কয়েকটি সরকারি কলেজে অধ্যাপনা করেন। জিয়াউর রহমানের শাসনামলে তৎকালীন উপ-প্রধানমন্ত্রী এস. এ. বারীর ব্যক্তিগত সচিব হিসেবেও দায়িত্ব পালন করেন।

১৯৮৬ সালে শিক্ষকতা পেশা থেকে অব্যাহতি নিয়ে ১৯৮৭ সালে শিক্ষা বিভাগের অডিট সেকশনের পরিচালক হয়ে চাকরি ছেড়ে রাজনীতিতে যুক্ত হন মির্জা ফখরুল। ১৯৮৮ সালের নির্বাচনে অংশ নিয়ে ঠাকুরগাঁও পৌরসভার চেয়ারম্যান নির্বাচিত হন। এর পরে এরশাদবিরোধী আন্দোলনের সময় আনুষ্ঠানিকভাবে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দলে (বিএনপি) যোগ দেন।

আরও পড়ুন: প্রধানমন্ত্রী: আমাদের সবার পরিচয় বাংলাদেশি, মুক্তিযুদ্ধ ও আন্দোলনের গুরুত্ব তুলে ধরলেন

১৯৯১ ও ১৯৯৬ সালের জাতীয় সংসদ নির্বাচনে পরাজিত হলেও মির্জা ফখরুল থেমে যাননি। ধারাবাহিকভাবে সাংগঠনিক কর্মকাণ্ড চালিয়ে গেছেন। দীর্ঘ রাজনৈতিক পথচলার পর ২০০১ সালের অষ্টম জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ঠাকুরগাঁও-১ আসন থেকে বিপুল ভোটে জয়ী হয়ে সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন।

বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার দ্বিতীয় মন্ত্রিসভার প্রথমে কৃষি মন্ত্রণালয় এবং পরে বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটন মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রীর দায়িত্ব পান। ২০০৮ সালের নির্বাচনে আসনটি হারালেও জাতীয় রাজনীতিতে তার ভূমিকা থেমে থাকেনি। ২০০৯ সালে বিএনপির জ্যেষ্ঠ যুগ্ম মহাসচিব নির্বাচিত হওয়ার পর তিনি দলের অন্যতম প্রধান মুখপাত্র হিসেবে রাজপথ ও গণমাধ্যমে সক্রিয় হতে থাকেন।

তৎকালীন মহাসচিব খন্দকার দেলোয়ার হোসেনের মৃত্যুর পর ২০১১ সালে বিএনপির ভারপ্রাপ্ত মহাসচিবের দায়িত্ব পান মির্জা ফখরুল। কঠিন রাজনৈতিক পরিস্থিতির মধ্যেও তিনি দলকে সংগঠিত রাখার ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেন।

ঠাকুরগাঁও রিভারভিউ উচ্চ বিদ্যালয়ের শিক্ষক মুবিন রতন সমকালকে বলেন, ‘১৯৮৭ সালে ঠাকুরগাঁও সরকারি কলেজের ছাত্র ছিলাম। মির্জা ফখরুল ইসলাম স্যার অর্থনীতি বিষয়ে ক্লাশ নিতেন। তিনি অত্যন্ত মেধাবী ছিলেন। অনেক মনোযোগ দিয়ে পড়াতেন। স্যারের ক্লাসে পড়লে সে বিষয়ে আর বাড়িতে পড়তে হতো না। তিনি অত্যন্ত সৎ ও ভদ্র মানুষ ছিলেন। সহজে কারও ওপর রাগ করতেন না।’

আরও পড়ুন: দেশকে এগিয়ে নিতে ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করতে হবে: আবু হানিফ

ঠাকুরগাঁও সরকারি কলেজের অবসরপ্রাপ্ত অধ্যাপক মনতোষ কুমার দে জানান, ‘আলমগীরের সঙ্গে শৈশব-কৈশোর একসঙ্গে কেটেছে। সে অনেক মেধাবী ছিল। শিক্ষকতার পাশাপাশি নাটকের মঞ্চে অভিনয় করত। খেলাধুলার সংগঠক হিসেবে কাজ করত। রাজনীতিতেও বেশ সক্রিয় ছিল ছোটবেলা থেকে।’

তিনি আরো বলেন, ‘আজ আলমগীর বঙ্গভবনের বাসিন্দা হতে চলেছে; বুকটা গর্বে ভরে যাচ্ছে। সে যে এমন জায়গায় পৌঁছাবে এটা কিন্তু তার চালচলনে বোঝা যেত। তার মাঝে কোনো গৌরব ছিল না। ধনী-গরীবের ভেদাভেদ ছিল না। ধর্মীয় বিষয়ে কোনো বিভক্তি ছিল না। পূজার সময় আমাদের বাড়িতে আসত। এক কথায় আলমগীরকে না খাইয়ে আমরাও খেতাম না। আলমগীর আগে ঠাকুরগাঁওয়ের মানুষ থাকলেও সে দেশের সর্বোচ্চ স্থানে যেতে চলেছে। তার জন্য শুভকামনা।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

বিএনপির সাবেক আইন সম্পাদক শপথ পড়াবেন সাবেক মহাসচিবকে

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

তালাশ বিডি ডেস্ক

শুক্রবার, ১৪ই আগস্ট, ২০২৬ ইং

০২:৩৮ এম


বিএনপির সাবেক আইন সম্পাদক শপথ পড়াবেন সাবেক মহাসচিবকে

ছবি: মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর (বায়ে) ও ব্যারিস্টার কায়সার কামাল (ডানে)

এই মুহূর্তে দেশের সবচেয়ে আলোচিত খবর হলো রাষ্ট্রপতি পদে মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরের মনোনয়ন চূড়ান্ত করেছে বিএনপি। এরপরই মির্জা ফখরুল দলের মহাসচিব পদ থেকে সরে দাঁড়িয়েছেন। এই অনুযায়ী, বর্তমানে তিনি বিএনপির সাবেক মহাসচিব হিসেবে পরিচিত। সবকিছু ঠিক থাকলে, রাষ্ট্রপতি নির্বাচিত হলে তার দায়িত্ব গ্রহণের আগে শপথ নেওয়ার পালা আসবে।

এই প্রসঙ্গে একটি ভিন্ন সাংবিধানিক প্রেক্ষাপট তৈরি হয়েছে। কারণ, বর্তমানে স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমেদ ভারপ্রাপ্ত রাষ্ট্রপতির দায়িত্ব পালন করছেন। সংবিধানের ৭৪(৩) অনুচ্ছেদ অনুযায়ী, যখন স্পিকার রাষ্ট্রপতির দায়িত্ব পালন করেন, তখন তার সংসদীয় কার্যাবলি ডেপুটি স্পিকার পালন করেন।

অন্যদিকে, সংবিধানের ১৪৮ অনুচ্ছেদ অনুযায়ী, তৃতীয় তফসিলে উল্লেখিত পদে দায়িত্ব নেওয়ার আগে নির্ধারিত শপথ গ্রহণ করতে হয়। রাষ্ট্রপতির শপথ পাঠ করানোর দায়িত্ব তৃতীয় তফসিলে স্পিকারের ওপর ন্যস্ত করা হয়েছে।

সাংবিধানিক এই কাঠামো অনুযায়ী, স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমেদ যেহেতু ভারপ্রাপ্ত রাষ্ট্রপতির দায়িত্বে আছেন, এ অবস্থায় সংসদের স্পিকারের কার্যাবলি পালন করছেন ডেপুটি স্পিকার ব্যারিস্টার কায়সার কামাল। এর ফলে, যদি মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর রাষ্ট্রপতি নির্বাচিত হন, তবে তার শপথ পড়ানোর দায়িত্ব কায়সার কামালের ওপরই পড়বে। তিনি ছিলেন বিএনপির আইন সম্পাদক।

সুতরাং, এই প্রসঙ্গে বলা যায় যে, রাষ্ট্রপতি হিসেবে বিএনপির সাবেক আইন সম্পাদকের হাতেই শপথ নিতে যাচ্ছেন সাবেক মহাসচিব। এক অর্থে, বিএনপির দুই নেতাকে ঘিরে রাষ্ট্রের সর্বোচ্চ সাংবিধানিক পদে দায়িত্ব বদলের এই পর্বে একটি মধুর রাজনৈতিক ও সাংবিধানিক দৃশ্যপট তৈরি হচ্ছে।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

জাতীয় পরিচয়পত্রে জন্মতারিখ ও নাম সংশোধন সহজ করল ইসি

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

তালাশ বিডি ডেস্ক

শুক্রবার, ১৪ই আগস্ট, ২০২৬ ইং

০২:৫৮ এম


জাতীয় পরিচয়পত্রে জন্মতারিখ ও নাম সংশোধন সহজ করল ইসি

ফাইল ছবি

জাতীয় পরিচয়পত্রে (এনআইডি) জন্মতারিখসহ বিভিন্ন তথ্য সংশোধনের আবেদন নিষ্পত্তিতে গতি আনতে নতুন পরিপত্র জারি করেছে নির্বাচন কমিশন (ইসি) সচিবালয়।

এনআইডি সংশোধনের আবেদনগুলো এখন অনলাইনে যাচাইযোগ্য জুনিয়র স্কুল সার্টিফিকেট (জেএসসি), মাধ্যমিক অথবা সমমানের শিক্ষা সনদের ভিত্তিতে দ্রুত নিষ্পত্তির সুযোগ পাবেন মাঠপর্যায়ের কর্মকর্তারা।

বৃহস্পতিবার (১৩ আগস্ট) তারিখে বাংলাদেশ নির্বাচন কমিশন সচিবালয়ের জাতীয় পরিচয় নিবন্ধন অনুবিভাগের পরিচালক (অপারেশনস) মো. সাইফুল ইসলামের সই করা এক পরিপত্রের মাধ্যমে এই নির্দেশনা জারি করা হয়।

পরিপত্রে উল্লেখ করা হয়েছে যে, অনলাইনে যাচাইযোগ্য জেএসসি, মাধ্যমিক বা সমমানের শিক্ষা সনদের ভিত্তিতে গ্রহণ করা এনআইডিতে জন্মতারিখ সংশোধনের আবেদনগুলোকে ‘ক’ ক্যাটাগরিভুক্ত হিসেবে গণ্য করা হবে।

এসব আবেদন মাঠপর্যায়ে সংশ্লিষ্ট উপজেলা/থানা নির্বাচন অফিসার, সিনিয়র জেলা/জেলা নির্বাচন অফিসার এবং এনআইডি উইংয়ের সহকারী পরিচালক, উপপরিচালক ও পরিচালকগণ সরাসরি নিষ্পত্তি করবেন।

শিক্ষা সনদের পাশাপাশি প্রয়োজনীয় অন্যান্য তথ্য বা দলিল গ্রহণের ক্ষেত্রে গত ২৪ ডিসেম্বর ২০২৫ তারিখের প্রজ্ঞাপন অনুযায়ী বিদ্যমান স্ট্যান্ডার্ড অপারেটিং প্রসিডিউর অনুসরণ করতে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

পরিপত্রে এও উল্লেখ করা হয়েছে যে, আবেদন ইলেকট্রনিকালি অনুমোদন বা বাতিলকরণের সময় সিএমএস-এ আবশ্যিকভাবে নোট দিতে হবে।

আঞ্চলিক নির্বাচন কর্মকর্তা এবং অতিরিক্ত আঞ্চলিক নির্বাচন কর্মকর্তাগণ তাদের অধীনস্থ কর্মকর্তাদের সম্পাদিত কার্যক্রম নিয়মিত মনিটরিং করবেন। প্রতি মাসে দৈবচয়নের ভিত্তিতে প্রত্যেক নিষ্পত্তি করার দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তার অন্তত তিনটি আবেদন সঠিকভাবে নিষ্পত্তি হয়েছে কি না, তা যাচাই করে প্রতিবেদন পরিচালক (অপারেশনস)-এর ইন্টারনাল অ্যাকাউন্টে পাঠাবেন।

এছাড়া, উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়ের সনদ অনুসারে জন্মতারিখ সংশোধনের আবেদন এবং জন্মতারিখসহ নিজের নাম, বাবা ও মায়ের নামের সম্পূর্ণ পরিবর্তন সংক্রান্ত আবেদনগুলো মহাপরিচালক (ডিজি) পর্যায়ে নিষ্পত্তি হবে।

জন্মতারিখ, নিজের নাম এবং বাবা-মায়ের নামের সম্পূর্ণ পরিবর্তনের ক্ষেত্রে একই ফিল্ডে দ্বিতীয়বার কোনো সংশোধন করা যাবে না বলে পরিপত্রে স্পষ্টভাবে উল্লেখ করা হয়েছে।

নির্বাচন কমিশনের এই নির্দেশনার ফলে মাঠপর্যায়ে সাধারণ নাগরিকদের জাতীয় পরিচয়পত্র সংশোধনসংক্রান্ত ভোগান্তি ও অপেক্ষার সময় অনেকাংশে কমে আসবে বলে আশা করছেন সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর
স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত স্থায়ী কমিটির বৈঠক

গত ৬ মাসে কোনো দলীয়করণ ছাড়াই পুলিশে নিয়োগ হয়েছে

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

অনলাইন ডেস্ক

শুক্রবার, ১৪ই আগস্ট, ২০২৬ ইং

০৩:০৩ এম


গত ৬ মাসে কোনো দলীয়করণ ছাড়াই পুলিশে নিয়োগ হয়েছে

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত স্থায়ী কমিটির প্রথম বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়েছে।

কমিটির সভাপতি জয়নুল আবেদীনের সভাপতিত্বে বৃহস্পতিবার (১৩ আগস্ট) জাতীয় সংসদ ভবনে এই বৈঠকটি আয়োজন করা হয়। বৈঠকের সময় জানানো হয়, কোনো ধরনের রাজনৈতিক প্রভাব বা দলীয়করণ ছাড়া নিরপেক্ষভাবে গত ছয় মাসে পুলিশ নিয়োগ কার্যক্রমে শতভাগ স্বচ্ছতা বজায় রাখা হয়েছে।

বৈঠকের শুরুতে পরিচিতি পর্ব অনুষ্ঠিত হয়। এ বৈঠকে মাদক ও জুয়াকে দেশের অন্যতম প্রধান সমস্যা হিসেবে চিহ্নিত করে এগুলো নির্মূলে কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণের ওপর গুরুত্বারোপ করা হয়। বৈঠকে জাতীয় সংসদের সব সংসদ সদস্য মাদকের বিরুদ্ধে জিরো টলারেন্স নীতিতে অটল রয়েছেন এটি উল্লেখ করে মাদক নির্মূলে জনসচেতনতা বাড়ানোর পাশাপাশি সংশ্লিষ্ট সবাইকে আরও কার্যকর ও সমন্বিত ভূমিকা পালনের আহ্বান জানানো হয়।

স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকে ইতোমধ্যেই ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা, ট্রাইব্যুনাল ও এখতিয়ারসম্পন্ন আদালত গঠনসহ বেশকিছু কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে বলেও বৈঠকে জানানো হয়। এর পর দেশের সার্বিক আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি ও জননিরাপত্তা নিশ্চিত করতে নেওয়া কার্যক্রম পর্যালোচনা করা হয়। সভায় স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সার্বিক কার্যক্রম প্রেজেন্টেশনের মাধ্যমে কমিটির সামনে উপস্থাপন করা হয়।

সভায় স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় ও এর আওতাধীন সংস্থাসমূহের ২০২৬-২৭ অর্থবছরের বাজেট খাতওয়ারি বিভাজন ও ব্যয় পরিকল্পনা নিয়ে আলোচনা করা হয়। এছাড়া ২০২৭ সালের ৩০ জুন পর্যন্ত সমাপ্য অর্থবছরের জন্য মন্ত্রণালয়ের অধীন সব সংস্থার খাতওয়ারি বাজেট ও ব্যয় বিভাজন সংক্রান্ত বিস্তারিত তথ্য কমিটির সামনে উপস্থাপন করা হয়।

বৈঠকে জানানো হয়, ২০২৬-২৭ অর্থবছরে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মোট প্রস্তাবিত বাজেট ৩১ হাজার ৯৯ কোটি টাকা। এর মধ্যে পরিচালন বাজেট ২৮ হাজার ৬৩৮ কোটি ৭৯ লাখ এবং উন্নয়ন বাজেট ২ হাজার ৪৬০ কোটি ২১ লাখ টাকা।

বৈঠকে দেশের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি আরও উন্নতকরণ, জননিরাপত্তা নিশ্চিতকরণ, মাদক নির্মূল এবং অপরাধ দমনে সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয় ও সংস্থাগুলোকে আরও কার্যকর ভূমিকা পালনের আহ্বান জানানো হয়। একই সঙ্গে এসব কার্যক্রমে সংসদীয় স্থায়ী কমিটির পক্ষ থেকে প্রয়োজনীয় সহযোগিতা ও কার্যকর তদারকি অব্যাহত রাখার ওপরও গুরুত্বারোপ করা হয়।

কমিটির সদস্য এবং স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ, জাতীয় সংসদের হুইপ রকিবুল ইসলাম, হুইপ মিয়া نুরুদ্দিন আহাম্মেদ অপু, স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলম, সংসদ সদস্য মো. কামরুজ্জামান, সংসদ সদস্য মো. মনোয়ার হোসেন, সংসদ সদস্য শিরীন সুলতানা, সংসদ সদস্য মো. নুরুল ইসলাম এবং সংসদ সদস্য মো. আব্দুল বাতেন বৈঠকে অংশগ্রহণ করেন।

এবার বৈঠকে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সিনিয়র সচিব, পুলিশ মহাপরিদর্শক (আইজিপি), স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের আওতাধীন দপ্তর-সংস্থার প্রধান এবং জাতীয় সংসদ সচিবালয়ের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারাও উপস্থিত ছিলেন।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

দাবি আদায়ে অনড় পদবঞ্চিত যুবদল নেতারা

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

অনলাইন ডেস্ক

শুক্রবার, ১৪ই আগস্ট, ২০২৬ ইং

০৩:১৫ এম


দাবি আদায়ে অনড় পদবঞ্চিত যুবদল নেতারা

বিএনপির চেয়ারম্যানের কার্যালয়ের সামনে আবারও মানববন্ধন করেছে সাবেক ছাত্রদল ও যুবদলের কিছু নেতা।

বৃহস্পতিবার (১৩ আগস্ট) ফ্যাসিবাদবিরোধী আন্দোলনের অংশ হিসেবে রাজপথে সক্রিয় ও ত্যাগী ছাত্রদল এবং যুবদলের সাবেক নেতারা এ মানববন্ধনের কর্মসূচি পালন করেন।

মানববন্ধনে নেতারা দাবি জানান যে, যুবদলের সদ্য ঘোষিত কেন্দ্রীয় নির্বাহী কমিটি পুনর্বিবেচনা করা হোক এবং বিতর্কিতদের বাদ দিয়ে আন্দোলন-সংগ্রামে ত্যাগ স্বীকার করা নেতাদের কমিটিতে অন্তর্ভুক্ত করা হোক।

গত ৪ জুন যুবদলের ১৫১ সদস্যের কেন্দ্রীয় নির্বাহী কমিটি ঘোষণা করা হয়। এ কমিটি ঘোষণার পর থেকেই পদবঞ্চিত নেতারা এর বিরুদ্ধে বিরোধিতা করে আসছেন। তাদের অভিযোগ, ঘোষিত কমিটিতে বিশেষ মহলের 'পকেট কমিটি' ও 'প্রহসনের কমিটি' তৈরি করা হয়েছে। রাজপথের দীর্ঘদিনের পরীক্ষিত, ত্যাগী ও নির্যাতিত নেতাদের বাদ দিয়ে যারা রাজনীতিতে নিষ্ক্রিয়, অপরিচিত, ভীতু ও বিতর্কিত, তাদের কমিটিতে স্থান দেওয়া হয়েছে বলেও দাবি করেন তারা।

নেতারাদের মতে, বিতর্কিত ব্যক্তিদের কমিটিতে অন্তর্ভুক্তি নিয়ে ইতোমধ্যে যুবদলের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে সংগঠনটির সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদকর মধ্যে তুমুল বাকবিতণ্ডা হয়েছে। এমনকি একপর্যায়ে তা তুই-তোকারিতে গড়ায় বলেও দাবি জানিয়ে তারা। এ বিষয়ে বিভিন্ন জাতীয় দৈনিকে সংবাদও প্রকাশিত হয়েছে বলে জানান আন্দোলনকারীরা।

তাদের অভিযোগ, ১৫১ সদস্যের কমিটির অধিকাংশ নেতাই দলের দুঃসময়ে রাজপথের আন্দোলন-সংগ্রামে সক্রিয় ছিলেন না। বরং কেউ কেউ আওয়ামী লীগের নেতাদের সঙ্গে ঘনিষ্ঠতা রেখে ব্যবসা-বাণিজ্য করেছেন বলে অভিযোগ রয়েছে। এমনকি অনেকেই নিজেদের পরিবারের সদস্যদের আওয়ামী লীগপন্থি হিসেবে পরিচিত করে রাজনৈতিকভাবে 'ব্যালেন্স' করে চলেছেন বলেও দাবি করেন আন্দোলনকারীরা।

নেতারা আশঙ্কা প্রকাশ করেছেন যে, বিএনপি যদি ভবিষ্যতে আবার কোনো দুঃসময়ের মুখোমুখি হয়, তাহলে বিতর্কিত ব্যক্তিরা অনেকেই দল ছেড়ে পালিয়ে যেতে পারেন অথবা বিদেশে চলে যেতে পারেন।

তারা যুবদলের বৃহত্তর স্বার্থে দ্রুত তদন্তের মাধ্যমে বিতর্কিত ব্যক্তিদের বাদ দেওয়ার প্রয়োজনীয়তা তুলে ধরেন। একই সঙ্গে দীর্ঘদিন রাজপথে আন্দোলন-সংগ্রামে থাকা এবং ত্যাগ স্বীকার করা নেতাদের কমিটিতে অন্তর্ভুক্ত করার দাবি জানান তারা।

এছাড়া যুবদলের কেন্দ্রীয় কমিটি গঠনে অনিয়মের অভিযোগ বিএনপির চেয়ারম্যানকে অবহিত করতে তার সঙ্গে সাক্ষাতের চেষ্টা অব্যাহত রাখার ঘোষণা দেন পদবঞ্চিত নেতারা।

মানববন্ধনে ছাত্রদল কেন্দ্রীয় সংসদের সাবেক সহসভাপতি রফিকুল ইসলাম রফিক, হুমায়ুন কবির, সাজ্জাদ হোসেন উজ্জ্বল, জাকির হোসেন খান, যুবদল কেন্দ্রীয় নির্বাহী কমিটির সাবেক গ্রামবিষয়ক সম্পাদক রিয়ন তালুকদার, ছাত্রদল কেন্দ্রীয় সংসদের সাবেক যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক আবুল হাসান, মাহফুজুর রহমান মাহফুজ, ঢাকা মহানগর উত্তর ছাত্রদলের সাবেক সহসভাপতি হাফিজুর রহমান হাফিজ, সাবেক সাংগঠনিক সম্পাদক খালেদ মাহমুদ মাসুদ, সাবেক সহক্রীড়া সম্পাদক আমান উল্লাহ বিপুল, যুবদল কেন্দ্রীয় নির্বাহী কমিটির সাবেক সহস্বাস্থ্যবিষয়ক সম্পাদক বাছেদুর রহমান সোহেল, ছাত্রদলের সাবেক সাংগঠনিক সম্পাদক গোলাম আযম সেকত, সাবেক সহসাংগঠনিক সম্পাদক আজিজুল হক পাটোয়ারী, ঢাবির জিয়া হল শাখা ছাত্রদলের সাবেক সাধারণ সম্পাদক বেলাল হোসেন ইমন, যুবদল কেন্দ্রীয় নির্বাহী কমিটির সদস্য মিজানুর রহমান খান, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রদলের সাবেক সহসভাপতি শরীফ আল ফরহাদ দিপু, ছাত্রদল কেন্দ্রীয় সংসদের সাবেক যুগ্ন সাধারণ সম্পাদক ইসমাইল হোসেন, সাবেক সহসাধারণ সম্পাদক কাজী মেজবাউল আলমসহ বিভিন্ন পর্যায়ের সাবেক নেতারা উপস্থিত ছিলেন।

এছাড়া ছাত্রদল ও যুবদলের সাবেক নেতা মুজাহিদুল ইসলাম, আনোয়ার জাহিদ, মোহাম্মদ আরিফ, সুমন চৌধুরী, মাসুদ সরকার, সবুর খান সাগর, রাকিবুল ইসলাম রোকন, ফজলুল হক নীরব, জাহাঙ্গীর আলম, ইয়াকুব রাজু, শফিউল আযম, স্বপন কুমার মণ্ডল, রবিউল হাসান আরিফ, নজরুল ইসলাম নাহিদ, বিশ্বজিৎ ভদ্র, ফরিদ খান, মহিবুল্লাহ জয়, সেলিম রেজা, আজিম উদ্দিন মিরাজ, এম কামরুল ইসলাম, খসরু আহমেদ হিরন, কবির আহমেদ, খন্দকার আমিনুল হক আকন, মাজেদুল ইসলাম মাসুম, জসিম উদ্দিন সিদ্দিকী শোভন, মাইন উদ্দিন বেগ সুজন, নজরুল ইসলাম, এমদাদুল হক পারভেজ, জাহিদুল ইসলাম হিরন, আমির হোসেন বাদশা, মাহমুদ খান, দুলাল মাতব্বর, মাসুদ রানা এবং মানিক হোসেন প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

আর্কাইভ

Please select a date!

নামাজের সময়সূচী

তারিখঃ ১০ই জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিঃ
ফজর ০৪:৪৩
জোহর ১১:৪৪
আসর ০৩:৫০
মাগরিব ০৫:২৭
ইশা ০৬:৩৯
সূর্যোদয় : ০৫:৫৮ সূর্যাস্ত : ০৫:২৭
অনলাইন জরিপ
ফলাফল
থার্টি-ফার্স্ট নাইটে তরুণদের জন্য প্রকাশ্যে পানি-টানি খাওয়ার বিরুদ্ধে আহ্বান। আপনার মন্তব্য দিন
হ্যা
100%
না
0%
মন্তব্য নেই
0%