ঢাকা বৃহস্পতিবার, ২৯শে অক্টোবর, ২০২৬খ্রিষ্টাব্দ ১৩ই কার্তিক, ১৪৩৩বঙ্গাব্দ ১৮ই জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিজরী
বৃহস্পতিবার, ২৯শে অক্টোবর, ২০২৬ইং ১৩ই কার্তিক, ১৪৩৩বাং

বিদেশি পিস্তলসহ গ্রেপ্তার হওয়া যুবকের সঙ্গে জামায়াত নেতার ছবি ভাইরাল


বিদেশি পিস্তলসহ গ্রেপ্তার হওয়া যুবকের সঙ্গে জামায়াত নেতার ছবি ভাইরাল

নোয়াখালীর বেগমগঞ্জ উপজেলায় তিনটি বিদেশি পিস্তল, গুলি, ম্যাগাজিন এবং রেজিস্ট্রেশনবিহীন একটি রয়েল এনফিল্ড মোটরসাইকেলসহ গ্রেপ্তার হওয়া আব্দুর রাহিমকে ঘিরে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে নতুন বিতর্ক তৈরি হয়েছে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে তার সঙ্গে জেলা জামায়াতের সেক্রেটারি ও গত নির্বাচনে সংসদ সদস্য প্রার্থী বোরহান উদ্দিনের একটি ছবি ভাইরাল হয়েছে।

ছবিটিতে দু’জনকে পাশাপাশি দাঁড়িয়ে থাকতে দেখা যায়। এরপর থেকেই বিষয়টি নিয়ে রাজনৈতিক অঙ্গনে আলোচনা-সমালোচনা শুরু হয়। এছাড়া গ্রেপ্তার আব্দুর রাহিমের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে জামায়াতপন্থি বিভিন্ন পোস্টও পাওয়া গেছে বলে দাবি করা হচ্ছে।

তবে জামায়াতের পক্ষ থেকে জানা যাচ্ছে, ওই যুবকের সঙ্গে দলটির কোনো সাংগঠনিক সম্পর্ক নেই। সোমবার (৮ জুন) রাতে দেওয়া এক প্রতিবাদলিপিতে বেগমগঞ্জ উপজেলা জামায়াতের আমির মো. আবু জায়েদ জানান, নির্বাচনি প্রচারণার সময় প্রার্থীর সঙ্গে সাধারণ মানুষের ছবি তোলা স্বাভাবিক ঘটনা। একটি ছবি ব্যবহার করে কাউকে দলের কর্মী বা সমর্থক হিসেবে চিহ্নিত করা ঠিক নয় বলেও তিনি দাবি করেন।

আরও পড়ুন: ইনানীতে ৪২ ঘণ্টা ধরে জ্বলছে আগুন, পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আসেনি

প্রতিবাদলিপিতে আরও বলা হয়, গ্রেপ্তার আব্দুর রাহিম স্থানীয় ছাত্রদল নেতা রাকিবুল হাসান সম্রাটের ঘনিষ্ঠ ব্যক্তি এবং জব্দ হওয়া মোটরসাইকেলটি ওই নেতার বলে দাবি করা হয়েছে। একই সঙ্গে বিএনপি অপপ্রচার চালিয়ে জামায়াতকে বিতর্কিত করার চেষ্টা করছে বলেও অভিযোগ করা হয়।

অন্যদিকে, পুলিশের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, সোমবার সন্ধ্যায় বেগমগঞ্জ থানার বাংলাবাজার থেকে গোপালপুরগামী সড়কের গোপালপুর ব্রিজসংলগ্ন এলাকায় চেকপোস্টে অভিযান চালিয়ে আব্দুর রাহিমকে গ্রেপ্তার করা হয়। তার কাছ থেকে তিনটি বিদেশি পিস্তল, আট রাউন্ড গুলি ও তিনটি ম্যাগাজিন উদ্ধার করা হয়। পাশাপাশি রেজিস্ট্রেশনবিহীন রয়েল এনফিল্ড মোটরসাইকেলটিও জব্দ করা হয়েছে।

পুলিশ জানিয়েছে, গ্রেপ্তার আব্দুর রাহিম বেগমগঞ্জ উপজেলার গোপালপুর ইউনিয়নের বসন্তবাগ (ভূঁইয়া বাড়ি) এলাকার জসিম উদ্দিনের ছেলে।

আরও পড়ুন: ঠাকুরগাঁও-১ উপনির্বাচনে ৯ ভোটগ্রহণ কর্মকর্তা প্রত্যাহার, নতুন কর্মকর্তাদের নিয়োগ

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

তিন দশকে বন্ধ দেশের ১০টি এয়ারলাইন্স, বাজেটে আসবে নতুন পরিকল্পনা?

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

অনলাইন ডেস্ক

মঙ্গলবার, ৯ই জুন, ২০২৬ ইং

১২:৪৬ পি.এম


তিন দশকে বন্ধ দেশের ১০টি এয়ারলাইন্স, বাজেটে আসবে নতুন পরিকল্পনা?

তিন দশকের মধ্যে বাংলাদেশের ১০টি বেসরকারি যাত্রীবাহী এয়ারলাইন্সের কার্যক্রম বন্ধ হয়ে গেছে। উচ্চ জ্বালানি ব্যয়, বিমানবন্দরে বেশি চার্জ এবং সরকারি সারচার্জের চাপের কারণে এসব প্রতিষ্ঠান প্রতিযোগিতায় টিকে থাকতে পারেনি। সংশ্লিষ্টদের মতে, এভিয়েশন শিল্পের উন্নয়নে আসন্ন বাজেটে ব্যবসাবান্ধব নীতিমালা অপরিহার্য।

জেট ফুয়েলের উচ্চ দাম, তুলনামূলক বেশি ল্যান্ডিং ও পার্কিং চার্জ এবং দীর্ঘকাল ধরে ৭২ শতাংশ সারচার্জ বাংলাদেশের এভিয়েশন খাতের উপর চাপ সৃষ্টি করেছে। ১৯৯৫ থেকে ২০২৫ সালের মধ্যে এই কারণগুলোর জন্য ১০টি বেসরকারি এয়ারলাইন্স তাদের কার্যক্রম বন্ধ করে দিতে বাধ্য হয়েছে।

চলতি বছর শুরুতে সারচার্জ কিছুটা কমানো হলেও জ্বালানি ব্যয় এবং বিমানবন্দর চার্জ এখনও বড় সমস্যা হিসেবে রয়ে গেছে। বর্তমানে চারটি বেসরকারি এয়ারলাইন্স কার্যক্রম চালিয়ে যাচ্ছে। তবে, তাদের জন্যও বিভিন্ন ধরনের সংকট মোকাবিলা করতে হচ্ছে। বিশ্বের সঙ্গে তাল মিলিয়ে বাংলাদেশের এভিয়েশন শিল্পের প্রবৃদ্ধি বাড়ানোর জন্য খাতসংশ্লিষ্টরা আসন্ন বাজেটে নীতিগত সহায়তার দাবী করছেন।

ইউএস-বাংলা এয়ারলাইন্সের মহাব্যবস্থাপক মো. কামরুল ইসলাম জানিয়েছেন, যদি সরকার প্রত্যক্ষভাবে সহযোগিতা করে এবং খাতভিত্তিক ভর্তুকি বা সাবসিডি প্রদান করে, তবে ইউএস-বাংলাসহ অন্যান্য এয়ারলাইন্স আরও উন্নতি করতে সক্ষম হবে।

এদিকে, দীর্ঘদিন ধরে এভিয়েশন খাতের উন্নয়নের পরিকল্পনার ব্যাপারে কথা হলেও বাস্তবে অগ্রগতি সীমিত। তবে, বিএনপি সরকার এবার সেই অবস্থার পরিবর্তন করার চেষ্টা করছে। বিমান ও পর্যটন প্রতিমন্ত্রী রশিদুজ্জামান মিল্লাত উল্লেখ করেছেন, এভিয়েশন খাতকে লাভজনক করতে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ গ্রহণ করা হবে।

তিনি আরও বলেন, বাজেট অধিবেশনেই এর প্রতিফলন দেখা যাবে। এই মন্ত্রণালয়কে একটি রাজস্ব আয়কারী প্রতিষ্ঠানে পরিণত করার লক্ষ্যে কাজ করা হচ্ছে এবং চলতি বছরে এভিয়েশন খাতে লাভের চিত্র দেখা যাবে।

বিশেষজ্ঞদের মতে, বেসরকারি এয়ারলাইন্সগুলোর জন্য সবচেয়ে বেশি প্রয়োজন হচ্ছে জ্বালানির যৌক্তিক মূল্য এবং কম সুদের ব্যাংক ঋণের সুবিধা। দ্যা বাংলাদেশ মনিটরের সম্পাদক কাজী ওয়াহিদুল আলম জানিয়েছেন, এয়ারলাইন্স শিল্প টিকিয়ে রাখার জন্য বর্তমান কর কাঠামো কমাতে এবং সহজে অর্থায়নের সুযোগ নিশ্চিত করা জরুরি হয়ে পড়েছে। বর্তমানে ব্যাংক ঋণের সুদের হার ১৩ থেকে ১৫ শতাংশ থাকায় এয়ারলাইন্সগুলোর জন্য সময়মতো ঋণ পরিশোধ করা কঠিন হয়ে যাচ্ছে।

বর্তমান সময়ে বাংলাদেশে প্রায় ৩৫টি বিদেশি এয়ারলাইন্স ফ্লাইট পরিচালনা করছে। কিন্তু দেশের এয়ারলাইন্সগুলোর সীমাবদ্ধতার কারণে এই খাতের একটি বড় অংশের অর্থ বিদেশে চলে যাচ্ছে।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

পুশইন ইস্যুতে ভারত সম্পর্কে কথা বললেন তথ্য উপদেষ্টা

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

অনলাইন ডেস্ক

মঙ্গলবার, ৯ই জুন, ২০২৬ ইং

১২:৫০ পি.এম


পুশইন ইস্যুতে ভারত সম্পর্কে কথা বললেন তথ্য উপদেষ্টা

ভারত থেকে পুশইনের ঘটনা ঘটছে পশ্চিমবঙ্গের নতুন সরকারের নির্বাচনী অঙ্গীকারের অংশ হিসেবেই। প্রধানমন্ত্রীর তথ্য উপদেষ্টা ডা. জাহেদ উর রহমান এ বিষয়টি উল্লেখ করে বলেছেন, এটি বাংলাদেশকে কোনো ধরনের চাপে রাখার কৌশল নয়।

মঙ্গলবার (৯ জুন) সচিবালয়ে সরকারের বিভিন্ন কার্যক্রমের অগ্রগতির উপর সাংবাদিকদের সঙ্গে ব্রিফিংকালে তথ্য উপদেষ্টা ভারত থেকে পুশইন বা পুশব্যাক ইস্যু এবং পাশাপাশি তিস্তা ব্যারেজ ও স্থানীয় সরকার নির্বাচন নিয়ে সরকারের অবস্থান স্পষ্ট করেন।

পশ্চিমবঙ্গ সরকারের পুশব্যাক নীতি নিয়ে সাংবাদিকদের একটি প্রশ্নের জবাবে ডা. জাহেদ উর রহমান বলেন, ‘পশ্চিমবঙ্গে নতুন সরকারের নির্বাচনী অঙ্গীকার ছিল যে অবৈধ বাংলাদেশি থাকলে তাদের পুশব্যাক করা হবে। তারা বাংলাদেশকে চাপে রাখতে চাইছেন, বিষয়টি সেরকম নয়। তবে আমি আশা করি, শিগগিরই দুদেশের সরকারের মধ্যে আলোচনার মাধ্যমে এ সমস্যার সমাধান হবে।’

এই প্রসঙ্গে তিনি আরও পরিষ্কার করে বলেন, বাংলাদেশকে চাপে রাখার জন্য ভারত থেকে পুশইন হচ্ছে না। পশ্চিমবঙ্গ সরকারের নির্বাচন কমিশনের ইশতেহারে থাকার কারণে, তাদের প্রতিশ্রুতির অংশ হিসেবেই এই ঘটনা ঘটছে। তবে উদ্বেগের কোনো কারণ নেই, কারণ দ্বিপাক্ষিক আলোচনার মাধ্যমে এর সমাধান সম্ভব।

ব্রিফিংয়ে তিনি তিস্তা নদীর পানি বণ্টন সমস্যার বিকল্প সমাধানের জন্য একটি বড় পরিকল্পনার বিষয়েও আলোচনা করেন। তিনি বলেন, ‘পদ্মা ব্যারেজ নির্মাণের মতো তিস্তা ব্যারেজ নির্মাণ করে পানি সংরক্ষণ করা হবে।’ ভারত থেকে বর্ষা মৌসুমে যে পানি আসবে, সেটি এই ব্যারেজের মাধ্যমে ধরে রেখে শুষ্ক মৌসুমে ব্যবহার করা হবে।

ডা. জাহেদ উর রহমান আরও জানান, তিস্তা এলাকায় যেহেতু ব্যারেজ কিংবা রিজার্ভার (জলাধার) নির্মাণ করা হবে, সেখানে প্রায় ২০ হাজার কোটি টাকার মতো খরচ হতে পারে। এই বিপুল পরিমাণ খরচ বাংলাদেশ সরকার নিজেরা বহন করতে সক্ষম। তবে, এই মেগা প্রকল্পে যদি অন্য কোনো বন্ধুভাবাপন্ন দেশ সাহায্য করতে চায়, সেই সুযোগও খোলা রাখা হবে।

স্থানীয় সরকার নির্বাচন প্রসঙ্গে, ডা. জাহেদ উর রহমান জানান, আসন্ন নির্বাচনে সম্পূর্ণ নির্দলীয় বা দলীয় প্রতীক ছাড়া নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে। যে কেউ ব্যক্তিগত পরিচয়ে নির্বাচনে অংশ নেয়া সম্ভব হবে এবং এ ক্ষেত্রে সরকার কোনো ধরনের বাধা দেবে না।

তবে রাজনৈতিক দল হিসেবে আওয়ামী লীগের অংশগ্রহণের বিষয়ে তিনি সরকারের অবস্থান সুস্পষ্ট করেন, ‘একারণে যে আওয়ামী লীগের কার্যক্রম নিষিদ্ধ আছে, সুতরাং আওয়ামী লীগের পদ-পদবি ব্যবহার করে নির্বাচনে অংশ নেয়ার সুযোগ নেই। তবে যে দলেরই হোক, ব্যক্তিগতভাবে এই নির্বাচনে অংশ নিতে চাইলে, কারো প্রতি কোনো বাধা থাকবে না।’

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

ট্রেনের ছাদে ঝুঁকিপূর্ণ ভ্রমণ, প্রাণঘাতী দুর্ঘটনা ও রক্ষণাবেক্ষণ ব্যয় বাড়ছে

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

অনলাইন ডেস্ক

মঙ্গলবার, ৯ই জুন, ২০২৬ ইং

১২:৫২ পি.এম


ট্রেনের ছাদে ঝুঁকিপূর্ণ ভ্রমণ, প্রাণঘাতী দুর্ঘটনা ও রক্ষণাবেক্ষণ ব্যয় বাড়ছে

ঈদ, বিশ্ব ইজতেমা, ভর্তি পরীক্ষা, বিভিন্ন উৎসব কিংবা বড় রাজনৈতিক সমাবেশের সময় ট্রেনে অতিরিক্ত যাত্রী পরিবহনের চিত্র বাংলাদেশে দীর্ঘদিন ধরে দেখা যাচ্ছে। আসনসংকটের কারণে অনেক যাত্রী ট্রেনের ছাদে চড়ে ভ্রমণ করছেন, যা একদিকে প্রাণঘাতী দুর্ঘটনার ঝুঁকি বৃদ্ধি করছে, অন্যদিকে ট্রেনের ইঞ্জিন এবং কোচের ওপর নেতিবাচক প্রভাব ফেলছে।

বিভিন্ন সংস্থার তথ্য অনুযায়ী, সদ্য শেষ হওয়া ঈদযাত্রায় রেলপথে অন্তত ৩১টি দুর্ঘটনা ঘটেছে এবং এতে প্রাণ হারিয়েছেন ২৩ জন। সংশ্লিষ্টদের ধারণা, এসব দুর্ঘটনার উল্লেখযোগ্য অংশই ছাদে ঝুঁকিপূর্ণ ভ্রমণের সঙ্গে সম্পর্কিত। একই সময় রেলওয়ের কর্মকর্তারা জানাচ্ছেন, ট্রেনের ছাদে যাত্রী বহনের কারণে যান্ত্রিক ক্ষয়ক্ষতি বৃদ্ধি পাচ্ছে, এর ফলে রক্ষণাবেক্ষণ ব্যয়ও বাড়ছে এবং সেবার মান বাধাগ্রস্ত হচ্ছে।

বুধবার বাংলাদেশ রেলওয়ের সর্বশেষ প্রকাশিত ‘ইনফরমেশন বুক’ অনুযায়ী, যাত্রী পরিবহনের জন্য মোট ২ হাজার ৬৪২টি কোচ রয়েছে। এর মধ্যে ১ হাজার ১৫২টি ব্রড গেজ এবং ১ হাজার ৪৯০টি মিটার গেজ লাইনের জন্য নির্ধারিত। তবে সব কোচ সচল নয়। ব্রড গেজ লাইনের মোট ৫৬১টি যাত্রীবাহী বগির মধ্যে ১৬২টি এখন অকেজো বা মেরামতের অপেক্ষায় রয়েছে। ফলে সচল রয়েছে ৩৯৯টি বগি, যা মোট বগির ৭১ দশমিক ১২ শতাংশ। অন্যদিকে মিটার গেজ লাইনের মোট ১ হাজার ২৪৩টি বগির মধ্যে ২৪২টি অকেজো থাকলেও ১ হাজার ১টি বগি ব্যবহারের উপযোগী হয়ে আছে। এক্ষেত্রে প্রাপ্যতার হার ৮০ দশমিক ৫৩ শতাংশ।

রেলওয়ের কর্মকর্তারা বলছেন, সীমিতসংখ্যক সচল বগি দিয়েই প্রতিদিন বিপুলসংখ্যক যাত্রী পরিবহন করতে হয়। ঈদের মতো উৎসবের সময় পরিস্থিতি আরো জটিল হয়ে ওঠে। তখন অনেক ট্রেনে ধারণক্ষমতার দুই-তিন গুণ বেশি যাত্রী ওঠেন। শুধু বগির ভেতর নয়, ছাদেও অবস্থান নেয় শত শত মানুষ।

বাংলাদেশ রেলওয়ের অতিরিক্ত মহাপরিচালক (রোলিং স্টক) ফকির মো. মহিউদ্দীন গণমাধ্যমকে বলেন, রেলওয়ের বগিগুলো নির্দিষ্ট ওজন বহনের জন্য নকশা করা হয়েছে। কিন্তু ঈদের সময় যখন ধারণক্ষমতার চেয়ে অনেক বেশি যাত্রী ওঠেন, তখন ট্রেনের ভারসাম্য রক্ষা করা কঠিন হয়ে পড়ে। অতিরিক্ত ওজনের কারণে ট্রেনের গতি কমিয়ে চালাতে হয়।

তিনি বলেন, ‘‌অতিরিক্ত চাপের ফলে বগির স্প্রিংগুলো পুরোপুরি বসে যায় এবং বিভিন্ন সেফটি আইটেম ক্ষতিগ্রস্ত হয়। ঈদের পর প্রতিটি বগি নতুন করে পরীক্ষা করতে হয়। এতে ট্রেনের আয়ু সরাসরি কমে না গেলেও রক্ষণাবেক্ষণ ব্যয় উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়ে যায়। অনেক ক্ষেত্রে যে মেরামত দুই মাস পর করার কথা, সেটি ১৫ দিনের মধ্যে করতেই হয়। ফলে নির্ধারিত রক্ষণাবেক্ষণ সূচি ব্যাহত হয়।’

রেলওয়ে কর্মকর্তাদের মতে, পরিবহন, বাণিজ্যিক ও আইন-শৃঙ্খলা বিভাগ যৌথভাবে কাজ করলেও উৎসবমুখর সময়ে অতিরিক্ত যাত্রী নিয়ন্ত্রণ করা প্রায় অসম্ভব হয়ে পড়ে। ফলে ট্রেনের নিরাপত্তা, সময়ানুবর্তিতা এবং যান্ত্রিক সক্ষমতা ক্ষতিগ্রস্ত হয়।

এ প্রসঙ্গে জানতে চাইলে বাংলাদেশ রেলওয়ের মহাপরিচালক আফজাল হোসেন গণমাধ্যমকে বলেন, ‘ট্রেনের ছাদে ভ্রমণ শুধু বেআইনি নয়, অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণও। ট্রেন কোনো বাঁক বা মোড় অতিক্রম করার সময় কেন্দ্রবিমুখী বলের কারণে ছাদে থাকা যাত্রীরা ভারসাম্য হারিয়ে নিচে পড়ে যেতে পারেন। এ ধরনের দুর্ঘটনা এড়াতে চালকদের গতি কমিয়ে ট্রেন চালাতে হয়।

তিনি আরো বলেন, অতিরিক্ত যাত্রীর ওজনের কারণে বিশেষ করে মিটার গেজ ট্রেনের সাসপেনশন স্প্রিংগুলো পুরোপুরি বসে যায়। তখন বগির বডি বিভিন্ন যন্ত্রাংশের সঙ্গে ঘর্ষণে জড়িয়ে পড়ে। এতে যান্ত্রিক ক্ষতি হয় এবং অনেক সময় গুরুত্বপূর্ণ যন্ত্রাংশ ভেঙে যায়। ফলে সংশ্লিষ্ট বগিগুলো দ্রুত ওয়ার্কশপে পাঠাতে হয়।

বিশেষজ্ঞরা বলছেন, ট্রেনের ছাদে ভ্রমণ বন্ধে শুধু আইন প্রয়োগ নয়, যাত্রী চাহিদার অনুযায়ী কোচ ও ট্রেনের সংখ্যা বাড়ানোও অত্যন্ত জরুরি। অন্যথায় প্রতি উৎসব মৌসুমেই একদিকে যেমন দুর্ঘটনার ঝুঁকি থাকবে, অন্যদিকে রেলওয়ের মূল্যবান রোলিং স্টকের ওপর বাড়তি চাপ পড়বে এবং সেবার মান আরো ক্ষতিগ্রস্ত হবে।

বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ের (বুয়েট) পুরকৌশল বিভাগের অধ্যাপক ড. হাদিউজ্জামান এ প্রসঙ্গে গণমাধ্যমকে বলেন, রেলওয়ের বর্তমান সংকটের মূল কারণ হলো যাত্রী চাহিদা ও সরবরাহের মধ্যে বড় ব্যবধান। ঈদসহ বিভিন্ন উৎসবের সময়ে এ ব্যবধান আরো প্রকট হয়ে যায়। ঢাকায় কর্মসংস্থান এবং জীবিকার কারণে উত্তরাঞ্চলের বিপুলসংখ্যক মানুষ এখানে বসবাস করে। ঈদের ছুটিতে এদের বড় অংশ একসঙ্গে বাড়ি ফেরার জন্য এ রুটে অতিরিক্ত চাপ তৈরি হয়। তাই এ রুটে অতিরিক্ত ট্রেন, কোচ এবং লোকোমোটিভ সংযোজনের মাধ্যমে পরিবহন সক্ষমতা বৃদ্ধি করা জরুরি।

দীর্ঘমেয়াদে এ সমস্যার স্থায়ী সমাধানের জন্য রেলওয়ের নিজস্ব কোচ এবং লোকোমোটিভ বহর সম্প্রসারণে বিশেষ গুরুত্ব দেয়া উচিত বলে মন্তব্য করে তিনি আরো বলেন, নতুন সরকারের উচিত আগামী বাজেটে রেল পরিচালনা খাতে বিনিয়োগ বাড়িয়ে এসব সরঞ্জাম সংগ্রহকে অগ্রাধিকার দেয়া। তবে নতুন কোচ এবং লোকোমোটিভ সংগ্রহ এবং বহর সম্প্রসারণে সময় লাগবে। তাই অন্তর্বর্তী ব্যবস্থা হিসেবে উৎসব মৌসুমে প্রতিবেশী দেশ থেকে ব্রড গেজ কোচ বা লোকোমোটিভ ভাড়া বা লিজ নেয়ার উদ্যোগ বিবেচনা করা যেতে পারে। এতে ঈদকেন্দ্রিক অতিরিক্ত যাত্রীচাপ সামাল দেয়া সহজ হবে এবং ঝুঁকিপূর্ণ ভ্রমণও কমানো সম্ভব হবে।

সূত্র : বণিক বার্তা।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

সুপ্রিম কোর্টের সচিবালয় বিষয়ে হাইকোর্টের রায় স্থগিত

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

অনলাইন ডেস্ক

মঙ্গলবার, ৯ই জুন, ২০২৬ ইং

১২:৫৫ পি.এম


সুপ্রিম কোর্টের সচিবালয় বিষয়ে হাইকোর্টের রায় স্থগিত

সুপ্রিম কোর্টের জন্য একটি স্বাধীন সচিবালয় গঠনের নির্দেশনা দিয়ে হাইকোর্ট যে রায় দিয়েছিল, তার বিরুদ্ধে আপিলের শুনানি আগামী ১৬ জুন অনুষ্ঠিত হবে। আপিল নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত হাইকোর্টের ওই রায় স্থগিত রাখার সিদ্ধান্ত গ্রহণ করেছে আপিল বিভাগ।

মঙ্গলবার (৯ জুন) প্রধান বিচারপতি জুবায়ের রহমান চৌধুরীর নেতৃত্বে বেঞ্চ এই আদেশ প্রদান করেছে।

এদিন সকালে সুপ্রিম কোর্টের জন্য আলাদা স্বাধীন সচিবালয় করার নির্দেশ দিয়ে হাইকোর্টের পূর্ণাঙ্গ রায়ের বিরুদ্ধে তিন মাসের মধ্যে আপিল শুনানি শুরু হয়।

এর আগে, গত ২১ মে রাষ্ট্রপক্ষ হাইকোর্টের ওই রায়ের বিরুদ্ধে আপিল করেছে। গত ৭ এপ্রিল ১৮৫ পৃষ্ঠার হাইকোর্টের রায় প্রকাশ করা হয়। এই রায়টি বিচারপতি আহমেদ সোহেল এবং বিচারপতি দেবাশীষ রায় চৌধুরীর বেঞ্চ ২ সেপ্টেম্বর প্রদর্শন করেছিলেন।

২০২৪ সালের ২৫ আগস্ট সুপ্রিম কোর্টের কয়েকজন আইনজীবী একটি রিট দায়ের করেন, যেখানে সংবিধানের ১১৬ অনুচ্ছেদ এবং ২০১৭ সালের জুডিসিয়াল সার্ভিস (শৃঙ্খলা) বিধিমালার বৈধতা চ্যালেঞ্জ করা হয়। একই সঙ্গে বিচার বিভাগীয় পৃথক সচিবালয় প্রতিষ্ঠার নির্দেশনা চাওয়া হয়। পরে ওই রিটের ভিত্তিতে একই বছরের ২৭ অক্টোবর হাইকোর্ট রুল জারি করে।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

আর্কাইভ

Please select a date!

নামাজের সময়সূচী

তারিখঃ ১৮ই জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিঃ
ফজর ০৪:৪৬
জোহর ১১:৪৩
আসর ০৩:৪৫
মাগরিব ০৫:২২
ইশা ০৬:৩৪
সূর্যোদয় : ০৬:০২ সূর্যাস্ত : ০৫:২২
অনলাইন জরিপ
ফলাফল
থার্টি-ফার্স্ট নাইটে তরুণদের জন্য প্রকাশ্যে পানি-টানি খাওয়ার বিরুদ্ধে আহ্বান। আপনার মন্তব্য দিন
হ্যা
100%
না
0%
মন্তব্য নেই
0%