বৃহস্পতিবার, ২৭শে আগস্ট, ২০২৬ ইং
০৬:২৯ পি.এম
যশোরে গণমাধ্যমকর্মীদের নিয়ে তথ্যের সত্যতা নিশ্চিতকরণ ও ফ্যাক্ট-চেকিং বিষয়ে দিনব্যাপী সেমিনার অনুষ্ঠিত হয়েছে। বৃহস্পতিবার যশোর জেলা প্রশাসকের সম্মেলনকক্ষে খুলনা আঞ্চলিক তথ্য অফিস ও পিআইডি এই সেমিনারের আয়োজন করে। যশোর জেলা প্রশাসন ও জেলা তথ্য অফিস এতে সহযোগিতা করে।
সেমিনারে প্রধান অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন যশোরের জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ আশেক হাসান। তিনি বলেন, সঠিক সংবাদ পরিবেশনে ফ্যাক্ট-চেকিংয়ের কোনো বিকল্প নেই। তিনি ফ্যাক্ট-চেকিং ছাড়া কোনো সংবাদ প্রচার না করার জন্য গণমাধ্যমকর্মীদের প্রতি আহ্বান জানান এবং গুজব প্রতিরোধে প্রতিরোধমূলক পদক্ষেপের ওপর গুরুত্ব দেন।
খুলনা আঞ্চলিক তথ্য অফিসের উপপ্রধান তথ্য অফিসার মো. মেহেদী হাসানের সভাপতিত্বে সেমিনারে বিশেষ অতিথি ছিলেন অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক খান মাসুম বিল্লাহ ও অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মো. মুন্না বিশ্বাস। স্বাগত বক্তব্য দেন জেলা তথ্য অফিসের সিনিয়র তথ্য অফিসার মো. রেজাউল করিম।
সেমিনারে যশোর প্রেসক্লাবের নেতৃবৃন্দসহ জেলায় কর্মরত প্রিন্ট, ইলেকট্রনিক ও অনলাইন মিডিয়ার ৩০ জন সাংবাদিক অংশ নেন।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
গ্যাস, বিদ্যুৎ, জ্বালানি, শ্রমিক মজুরি, পরিবহন ব্যয় এবং উৎপাদনের প্রধান কাঁচামালের মূল্যবৃদ্ধিতে চাপে পড়েছে কুমিল্লার বেকারি শিল্প। উৎপাদন ব্যয়ের সঙ্গে বাজারদরের অসামঞ্জস্য দূর করে ব্রেড, বিস্কুটসহ বেকারিতে উৎপাদিত বিভিন্ন খাদ্যপণ্যের মূল্য পুনর্নির্ধারণের দাবি করেছে জানিয়েছেন সংশ্লিষ্ট ব্যবসায়ীরা।
কুমিল্লার কান্দিরপাড় এলাকার একটি হোটেলে জেলা ব্রেড, বিস্কুট প্রস্তুতকারক মালিক সমিতির উদ্যোগে আয়োজিত জরুরি সভায় তারা এই দাবি জানান। বুধবার রাতের সভায় সভাপতিত্ব করেন ব্রেড, বিস্কুট প্রস্তুতকারক মালিক সমিতির সভাপতি মো. মিজানুর রহমান। অনুষ্ঠান সঞ্চালনা করেন সমিতির সাংগঠনিক সম্পাদক মো. শাহীন মিয়া।
প্রধান অতিথির বক্তব্য রাখেন মূল্য বাস্তবায়ন কমিটির চেয়ারম্যান ও সমিতির সাবেক সভাপতি মো. মজিবুর রহমান ডায়মন্ড। তিনি বলেন, দীর্ঘদিন ধরে বেকারি শিল্পের উৎপাদন ব্যয় ক্রমাগত বাড়লেও সে অনুযায়ী উৎপাদিত পণ্যের মূল্য সমন্বয় করা হয়নি। গ্যাস ও বিদ্যুতের বাড়তি ব্যয়ের পাশাপাশি ময়দা, চিনি, তেল, ডিম, প্যাকেটজাত সামগ্রী ও অন্যান্য কাঁচামালের মূল্য বৃদ্ধি পেয়েছে। এর সঙ্গে যুক্ত হয়েছে পরিবহন ও শ্রমিক ব্যয়ের ঊর্ধ্বগতি। বিদ্যমান মূল্যে ব্রেড, বিস্কুটসহ বিভিন্ন বেকারি পণ্য উৎপাদন করে বাজারজাত করা ব্যবসায়ীদের জন্য কঠিন হয়ে পড়েছে।
তিনি আরও বলেন, উৎপাদন ব্যয় ও বাজারমূল্যের মধ্যে ভারসাম্য না থাকলে বেকারি শিল্পের উদ্যোক্তাদের টিকে থাকা কঠিন হবে। তাই বাস্তব উৎপাদন ব্যয় পর্যালোচনা করে বেকারি পণ্যের মূল্য পুনর্নির্ধারণ করা এখন সময়ের দাবি।
সভায় আরও বক্তব্য রাখেন বেকারি মালিক সমিতির সাবেক সভাপতি তারেক কামাল ইমতিয়াজ, খন্দকার বেকারির মালিক ফিরোজ খন্দকার, প্রাইম বেকারির মালিক আতাউল ইসলাম, সততা বেকারির মালিক মাহফুজুর রহমান, সিয়াম ফুডের মালিক বশির আহমেদ ও বিজে ফুডের মালিক বেলাল উদ্দিন।
সভায় নোয়াখালী মালিক সমিতির নেতা মো. কামাল হোসেনসহ অন্যান্য নেতারা উপস্থিত ছিলেন। এছাড়া সমিতির চাঁদপুর, ফেনী জেলার মালিক সমিতির নেতা এবং কুমিল্লা জেলা মালিক সমিতির অধীন বুড়িচং-ব্রাহ্মণপাড়া, দেবিদ্বার, মুরাদনগর, লাকসাম, নাঙ্গলকোট, চৌদ্দগ্রাম, চান্দিনা, বরুড়া ও দাউদকান্দি উপজেলা মালিক সমিতির নেতারা অংশ নেন।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
আসক্তি চিকিৎসা ও পুনর্বাসনের সংগঠন ‘বাংলাদেশ আসক্তি পেশাজীবী সংগঠন’ বা Bangladesh Addiction Professionals-এর তৃতীয় সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে সম্প্রতি। সভায় জাকিউল আলম মিল্টনকে সভাপতি এবং সায়মা শ্রাবণীকে সাধারণ সম্পাদক করে সর্বসম্মতিক্রমে আগামী এক বছরের জন্য নতুন কমিটিও গঠন করা হয়।
দেশের মাদকাসক্তি চিকিৎসা ও পুনর্বাসন খাতের বর্তমান পরিস্থিতি, বিভিন্ন চ্যালেঞ্জ, সম্ভাবনা এবং ভবিষ্যৎ করণীয় নিয়ে বিস্তারিত ও প্রাণবন্ত আলোচনাসভাটি অনুষ্ঠিত হয় গত ২২ আগস্ট ঢাকার মাদক নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের মিলনায়তনে।
আহ্বায়ক কমিটির ডা. রাহানুল ইসলামের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন মাদক নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের প্রধান পরামর্শক ডা. কাজী লুৎফূল কবীর।
আলোচনাকালে আসক্তি চিকিৎসায় পেশাগত মানোন্নয়ন, পারস্পরিক সহযোগিতা এবং সমন্বিতভাবে কাজ করার প্রয়োজনীয়তার ওপর বিশেষ গুরুত্বারোপ করা হয়। সভায় গুরুত্বপূর্ণ দিক ছিল ‘বাংলাদেশ আসক্তি পেশাজীবী সংগঠন’ এর আগামী এক বছরের জন্য নতুন কমিটি গঠন। সংগঠনের কার্যক্রমকে আরও সুসংগঠিত করা, পেশাজীবীদের মধ্যে যোগাযোগ ও সহযোগিতা বৃদ্ধি এবং দেশের আসক্তি চিকিৎসা ও পুনর্বাসন ব্যবস্থাকে আরও মানসম্মত করার লক্ষ্যে এই কমিটি আগামী এক বছর দায়িত্ব পালন করবে।
সভায় বক্তারা বলেন, আসক্তি একটি জটিল ও বহুমাত্রিক সমস্যা। এর কার্যকর চিকিৎসা ও পুনর্বাসনের জন্য চিকিৎসক, মনোবিজ্ঞানী, কাউন্সেলর, সমাজকর্মীসহ সংশ্লিষ্ট সকল পেশাজীবীর সমন্বিত প্রচেষ্টা প্রয়োজন। তাই একটি শক্তিশালী পেশাজীবি সমাজ বা professional community গড়ে তোলার মাধ্যমে অভিজ্ঞতা ও জ্ঞান বিনিময় এবং পারস্পরিক সহযোগিতার সুযোগ তৈরি করা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। Bangladesh Addiction Professionals ভবিষ্যতেও পেশাগত উন্নয়ন ও দক্ষতা বৃদ্ধির পাশাপাশি মাদকাসক্ত ব্যক্তিদের চিকিৎসা, পুনর্বাসন ও recovery-কে আরও কার্যকর ও মানবিক করার লক্ষ্যে কাজ করে যাবে—এমন প্রত্যয় ব্যক্ত করা হয় সভায়।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
ভারতের সঙ্গে অভিন্ন নদীগুলোর পানির ন্যায্য হিস্যা আদায়ে সরকার অনড় অবস্থানে আছে বলে জানিয়েছেন পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. খলিলুর রহমান।
বৃহস্পতিবার (২৭ আগস্ট) স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদের সভাপতিত্বে শুরু জাতীয় সংসদের তৃতীয় অধিবেশনে এক লিখিত প্রশ্নের জবাবে এ কথা জানান তিনি।
এসময় ভারতের সঙ্গে গঙ্গা চুক্তির নবায়ন এবং তিস্তা প্রকল্পে চীনের সঙ্গে কারিগরি মূল্যায়ন শুরু করার বিষয়ে সরকারের সাম্প্রতিক নানা কৌশলী পদক্ষেপ তুলে ধরেন পররাষ্ট্রমন্ত্রী।
গঙ্গা চুক্তির বিষয়ে ড. খলিলুর রহমান বলেন, গঙ্গা চুক্তির মেয়াদ শেষ হওয়ার প্রেক্ষাপটে একটি নতুন দ্বিপক্ষীয় চুক্তি সম্পাদনের লক্ষ্যে ইতোমধ্যে একটি উচ্চপর্যায়ের বিশেষজ্ঞ টিম গঠন করা হয়েছে এবং ভারতের কাছে আনুষ্ঠানিক প্রস্তাব পাঠিয়ে জবাবের অপেক্ষা করা হচ্ছে।
এরপর তিস্তা প্রকল্পের বিষয়ে তিনি জানান, বহুল আলোচিত তিস্তা প্রকল্প বাস্তবায়নে চীনের সঙ্গে টেকনিক্যাল ইভালুয়েশন বা কারিগরি মূল্যায়নের প্রক্রিয়া কার্যকরভাবে শুরু হয়েছে। অচিরেই এই মূল্যায়ন কাজ শেষ করে পরবর্তী বাস্তবমুখী পদক্ষেপ গ্রহণ করবে সরকার।
জলবায়ু এবং পানিপ্রবাহ অক্ষুণ্ন রেখে আন্তর্জাতিক কূটনৈতিক যোগাযোগের মাধ্যমে নদীর পানির অধিকার রক্ষায় পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় ধারাবাহিক তৎপরতা চালিয়ে যাচ্ছে বলে এসময় আশ্বস্ত করেন মন্ত্রী।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
ঢাকা, ২৭ আগস্ট, ২০২৬ : দেশের বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে যৌন হয়রানি প্রতিরোধ কমিটি গঠন করাই যথেষ্ট নয় উল্লেখ করে বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরী কমিশনের (ইউজিসি) চেয়ারম্যান অধ্যাপক ড. মামুন আহমেদ বলেছেন, যৌন হয়রানি সংক্রান্ত সকল অভিযোগ গুরুত্বের সঙ্গে তদন্ত করে দ্রুত প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে হবে। দায়িত্ব পালনে কোনো গাফিলতি হলে সংশ্লিষ্ট বিশ্ববিদ্যালয়ের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
আজ বৃহস্পতিবার ইউজিসি ভবনে ইউজিসি ও ইউএন উইমেনের মধ্যে এক সমঝোতা স্মারক (এমওইউ) স্বাক্ষর অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
কর্মক্ষেত্র, জনপরিসর ও উচ্চশিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে যৌন ও লিঙ্গভিত্তিক সহিংসতা প্রতিরোধে ইউরোপীয় ইউনিয়নের অর্থায়নে পরিচালিত একটি প্রকল্পের আওতায় এ সমঝোতা স্মারক স্বাক্ষরিত হয়।
ইউজিসির সচিব ড. মো. ফখরুল ইসলাম এবং ইউএন উইমেনের পক্ষে বাংলাদেশ প্রতিনিধি গীতাঞ্জলি সিং সমঝোতা স্মারকে স্বাক্ষর করেন।
অধ্যাপক ড. মামুন আহমেদ বলেন, ‘হাইকোর্টের নির্দেশনা অনুযায়ী বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে কমিটি গঠন করা হলেও ইউজিসির পর্যবেক্ষণে দেখা গেছে, অনেক ক্ষেত্রেই এসব কমিটি প্রত্যাশা অনুযায়ী কাজ করছে না। নারী শিক্ষক, শিক্ষার্থী ও কর্মকর্তা-কর্মচারীদের জন্য প্রতিটি ক্যাম্পাসে নিরাপদ ও সহায়ক পরিবেশ নিশ্চিত করতে সচেতনতা বৃদ্ধির পাশাপাশি যৌন হয়রানির বিরুদ্ধে ‘শূন্য সহনশীলতা’ নীতি কার্যকর করতে হবে।’
তিনি আরও জানান, বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর অভিযোগ গ্রহণ, প্রতিকার এবং প্রতিরোধমূলক কার্যক্রম সমন্বয় ও তদারকির জন্য শিক্ষক, শিক্ষার্থী, কর্মকর্তা-কর্মচারী ও ইউজিসির প্রতিনিধিদের সমন্বয়ে জাতীয় পর্যায়ে একটি তদারকি কমিটি গঠনের উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে।
অনুষ্ঠানে ইউরোপীয় ইউনিয়নের প্রতিনিধিদলের ডেপুটি হেড বেইবা জেরিনা বলেন, গুণগত শিক্ষা নিশ্চিত ও উচ্চশিক্ষাকে প্রাতিষ্ঠানিক রূপ দিতে ক্যাম্পাসে নারী শিক্ষক, শিক্ষার্থী ও কর্মীদের জন্য নিরাপদ ও বৈষম্যহীন পরিবেশ গড়ে তোলা অত্যন্ত জরুরি। ইউজিসি ও ইউএন উইমেনের এই যৌথ উদ্যোগ প্রাতিষ্ঠানিক সক্ষমতা বাড়াতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।
এই সমঝোতা স্মারকের আওতায় প্রাথমিক পর্যায়ে শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়, খুলনা বিশ্ববিদ্যালয়, বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়, ড্যাফোডিল ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটি এবং আমেরিকান ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটি-বাংলাদেশ (এআইইউবি)-এ প্রাতিষ্ঠানিক সক্ষমতা বৃদ্ধি ও সচেতনতামূলক কার্যক্রম পরিচালিত হবে।
অনুষ্ঠানে জানানো হয়, বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরোর ২০২৪ সালের জরিপ অনুযায়ী, ২০ থেকে ২৪ বছর বয়সী তরুণীদের ১৬ শতাংশই প্রদেয় প্রযুক্তির মাধ্যমে সংঘটিত লিঙ্গভিত্তিক সহিংসতার শিকার হয়েছেন।
ইউজিসির আন্তর্জাতিক সহযোগিতা বিভাগের পরিচালক ড. সুলতান মাহমুদ ভূঁইয়ার পরিচালনায় অনুষ্ঠানে বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্যবৃন্দ, যৌন হয়রানি প্রতিরোধ কমিটির প্রধান, ইউজিসি এবং ইউএন উইমেনের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ