বুধবার, ৩০শে সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ইং
০৭:০৫ পি.এম
অপরাধ দমনের উদ্দেশ্যে দেশে পূর্বে প্রচলিত ছিল কথিত ‘ক্রসফায়ার’ বা ‘বন্দুকযুদ্ধ’। তবে ২০২৪ সালের ৫ আগস্টে পটপরিবর্তনের পর সেই ‘ক্রসফায়ার’ সম্পূর্ণরূপে বন্ধ হয়ে গেছে। এ সময় অপরাধীরা ‘ক্রসফায়ার’-এর ভয়ে আতঙ্কিত থাকত। যদিও এটি ছিল বিতর্কিত। তখন ঘটে যাওয়া ঘটনাগুলোকে বিচারবহির্ভূত হত্যাকাণ্ড হিসেবে অভিযোগ করা হয়েছে।
বর্তমানে দেশে অপরাধের পরিমাণ বেড়ে গেছে। অপরাধীরা আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে আর আগের মতো ভয় পাচ্ছে না। সাধারণ মানুষও পুলিশকে আস্থায় নিতে পারছে না। এর ফলে বিভিন্ন স্থানে একের পর এক অপরাধমূলক ঘটনা ঘটছে। এসব ঘটনা সরকারের ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ন করছে। যদি পুলিশের প্রতি জনগণের আস্থা ফিরে না আসে, তবে অস্থিরতা আরও ছড়িয়ে পড়ার আশঙ্কা রয়েছে।
মঙ্গলবার পুলিশ সদর দপ্তরে অনুষ্ঠিত মর্নিং মিটিংয়ে পুলিশের উচ্চপর্যায়ের কর্মকর্তারা এ মতামত প্রকাশ করেন। তারা বর্তমান পরিস্থিতি বিবেচনা করে শক্ত হাতে অপরাধ দমনের প্রস্তাব দেন। প্রয়োজনে অপরাধীদের ১৯৭৪ সালের বিশেষ ক্ষমতা আইনে ডিটেনশনে নেওয়ার বিষয়টিও উঠে আসে। কর্মকর্তারা নিজেদের মধ্যে দ্বিধাদ্বন্দ্ব দূর করে গোটা বাহিনীকে সুসংগঠিত করার প্রয়োজনীয়তার ওপর জোর দেন। তারা বলেন, চাঁদাবাজিসহ বিভিন্ন ফৌজদারি মামলার আসামিরা আইনি বাধ্যবাধকতার কারণে জামিন পাচ্ছে।
মাদকের বিস্তার রোধে সভায় অতিরিক্ত আইজিপিকে মাদক নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের ডিজি করার পরামর্শ দেওয়া হয়। পাশাপাশি মাঠপর্যায়ের পুলিশিং জোরদার করার এবং পুলিশের প্রতি জনগণের আস্থা ফিরিয়ে আনার বিষয়েও গুরুত্ব দেওয়া হয়।
পুলিশের গোপনীয় শাখার উদ্যোগে আয়োজিত এই সভায় সভাপতিত্ব করেন আইজিপি আলী হোসেন ফকির। সভায় সব অতিরিক্ত আইজিপি, বিভিন্ন ইউনিটপ্রধান, ডিআইজি (ক্রাইম) এবং ডিআইজি (প্রশাসন)সহ ঊর্ধ্বতন পুলিশ কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন। খবর সংশ্লিষ্ট সূত্রের।
অপর এক সভায় চাঁদাবাজ-সন্ত্রাসীদের যে কোনোভাবেই হোক আইনের আওতায় আনার নির্দেশ দেন পুলিশের মহাপরিদর্শক (আইজিপি)। সূত্র জানায়, আসামিদের জামিন পাওয়ার বিষয়ে মর্নিং মিটিংয়ে বলা হয়, পুলিশ আসামি গ্রেফতার করলেও অল্প সময়ের মধ্যে তারা জামিন পেয়ে যাচ্ছে। এ বিষয়ে কিছু কর্মকর্তারা ক্ষোভ প্রকাশ করলেও একজন অতিরিক্ত আইজিপি জানান, আইনি বাধ্যবাধকতা ও তদন্তে দুর্বলতার কারণেই আসামিরা দ্রুত জামিন পাচ্ছে। ওই অতিরিক্ত আইজিপি মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের মহাপরিচালক হিসেবে পুলিশের একজন অতিরিক্ত আইজিপিকে নিয়োগ দেওয়ার পরামর্শ দেন। অপর একজন অতিরিক্ত আইজিপি জানান, বর্তমানে ক্রসফায়ার বন্ধ রয়েছে। তাই অপরাধীদের ডিটেনশনে নেওয়া উচিত।
বৈঠকে উপস্থিত এক জ্যেষ্ঠ পুলিশ কর্মকর্তা যুগান্তরকে জানান, দেশের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির দ্রুত উন্নয়ন ঘটানো, অপরাধীদের জামিন রোধে আইনি ফাঁকফোকর বন্ধ করা এবং পুলিশ প্রশাসনের অভ্যন্তরীণ সমন্বয় বাড়াতে উচ্চপর্যায়ের মর্নিং সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে। সভায় বলা হয়েছে, পুলিশি সেবার মূল ভিত্তিই হলো জনগণের সঙ্গে আস্থার সম্পর্ক তৈরি করা। কেবল সংখ্যাতাত্ত্বিক হিসাব যেমন-কটি ছিনতাই, ডাকাতি বা হত্যাকাণ্ড হলো অথবা কজন ধরা পড়ল-এসব দিয়ে জনগণের আস্থা ফেরানো যাবে না। বর্তমানে পুলিশ কোন অবস্থানে আছে এবং এ অবস্থান থেকে সর্বোচ্চ কতটুকু সেবা দেওয়া যায় তার একটি নিবিড় পর্যালোচনাও প্রয়োজন। তিনি বলেন, পুলিশের প্রতি মানুষের ভুল বোঝাবুঝি বা অসন্তোষ দূর করতে হলে সরাসরি জনসংযোগ বাড়াতে হবে। সম্পর্কের উন্নয়ন ও কাজের প্রতি স্বচ্ছতা এলে জনমনে স্বস্তি ফিরবে।
একজন অতিরিক্ত আইজিপি বলেন, প্রায় ২ লাখ ৩০ হাজার সদস্যের এই বিশাল বাহিনীর মধ্যে বর্তমানে নানা বিষয়ে দ্বিধা বা ‘কনফিউশন’ কাজ করছে। বাইরের নানা গুঞ্জন, অডিও-ভিডিও প্রচার এবং মনস্তাত্ত্বিক চাপের কারণে বাহিনীর সদস্যদের মনোবলের ওপর প্রভাব পড়ছে। এ অবস্থায় দ্বিধা-দ্বন্দ্ব দূর করে গোটা পুলিশ বাহিনীকে ‘স্ট্রিমলাইনিং’ বা সুসংগঠিত করা জরুরি। তার মতে, হঠাৎ বা একদিনের চেষ্টায় ‘ফেরেশতা’ হওয়ার মতো কোনো অলৌকিক পরিবর্তন আসবে না। এজন্য দরকার একটি ধারাবাহিক ও দীর্ঘমেয়াদি প্রয়াস। কার্যকর পরিবর্তনের জন্য স্বল্পমেয়াদি ও দীর্ঘমেয়াদি বিভিন্ন পদক্ষেপ এবং পলিসি লেভেলের সংস্কার প্রয়োজন বলে তিনি জানান।
সভা সূত্রে আরও জানা যায়, চাঁদাবাজিসহ সাম্প্রতিক বেশ কয়েকটি আলোচিত ঘটনা আলোচনায় উঠে এসেছে। এক্ষেত্রে পুলিশের ভূমিকা ও আইনগত সীমাবদ্ধতা নিয়েও বিশদ আলোচনা হয়। এগুলোর মধ্যে রয়েছে-‘রাড্ডা ম্যাটার্নাল অ্যান্ড চাইল্ড হেলথ-ফ্যামিলি প্ল্যানিং সেন্টারে’ অতর্কিত হামলা, মোহাম্মদপুরে জমি দখলের উদ্দেশ্যে সশস্ত্র মব হামলা, ইসিবি চত্বরসংলগ্ন দক্ষিণ মানিকদীর নিউগিনি প্রোপার্টিজে সশস্ত্র হামলা, কনটেন্ট ক্রিয়েটর সালমান মুক্তাদিরের স্টুডিওতে ভাঙচুর, আদাবরে আটতলা বাড়ি দখলের চেষ্টা, ২৫ মামলার আসামি শীর্ষ মাদক কারবারি ‘পিচ্চি রাজা’র প্রিজনভ্যান থেকে পলায়ন, চট্টগ্রামে কিশোর গ্যাংয়ের দৌরাত্ম্য ও আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে ধারাবাহিক সংঘর্ষ, কুমিল্লার লালমাই পাহাড়ের নির্জন জঙ্গলে ১৩ বছরের স্কুলছাত্র ইশায়াত শাহরিয়ার অপ্রতিমকে নৃশংসভাবে হত্যা, মিরপুর এলাকায় চলন্ত যাত্রীবাহী বাসে অগ্নিসংযোগ, জমি দখলকে কেন্দ্র করে ময়মনসিংহ ও নাটোরে বড় ধরনের সংঘর্ষ ইত্যাদি।
বৈঠকে রেলওয়ে পুলিশের প্রধান ব্যারিস্টার জিল্লুর রহমানের বক্তব্যের বরাত দিয়ে সূত্র জানায়, বিচারপ্রক্রিয়ার সুনির্দিষ্ট কিছু আইনি বাধ্যবাধকতার কারণে আসামিরা আদালত থেকে সহজেই জামিন পেয়ে যাচ্ছে। ফৌজদারি কার্যবিধি অনুযায়ী ১২০ দিনের মধ্যে তদন্ত প্রতিবেদন জমা দিতে না পারলে আসামির জামিনের অধিকার তৈরি হয়। ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে ১৮০ দিন এবং সেশন কোর্টে ৩৬০ দিনের মধ্যে ট্রায়াল (বিচার) শেষ করার কথা থাকলেও নানা কারণে তা সম্ভব হয় না। ফলে এ সুযোগে আসামিরা জামিন পেয়ে যায়।
বর্তমানে ‘ক্রসফায়ার’ না থাকায় বিশেষ ক্ষমতা আইনের অধীনে অপরাধীদের ‘ডিটেনশন’-এ নেওয়ার প্রস্তাব দেন অতিরিক্ত আইজিপি (এইচআরএম) খোন্দকার রফিকুল ইসলাম।
এ বিষয়ে আলোচনায় অংশ নিয়ে রেলওয়ে পুলিশপ্রধান ব্যারিস্টার জিল্লুর রহমান বলেন, ঢালাওভাবে আটক না করে অপরাধীদের বিরুদ্ধে রাষ্ট্রবিরোধী কর্মকাণ্ড বা অপরাধে জড়িয়ে পড়ার সুনির্দিষ্ট ডেটাবেজ তৈরি করে আইনি প্রক্রিয়ায় ডিটেনশন দেওয়া উচিত। তিনি মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরকে (ডিএনসি) পুলিশের প্রত্যক্ষ কমান্ড বা অধীনে নিয়ে আসার প্রস্তাব করেন। তিনি জানান, সব অপরাধের মূল মাদক। পুলিশ মাদক নিয়ে কাজ করে। তাই স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সঙ্গে আলাপ করে একজন অতিরিক্ত আইজিপিকে ডিএনসির মহাপরিচালক (ডিজি) হিসাবে নিয়োগ দেওয়া যেতে পারে।
সভায় ডিএমপি কমিশনার মোসলেহ উদ্দিন আহমদ বলেন, মাদক কেনাবেচা আশঙ্কাজনকভাবে বেড়েছে। মাদকই বেশির ভাগ অপরাধের জন্ম দিচ্ছে। তাই যে কোনো মূল্যে মাদক নিয়ন্ত্রণে আনতে হবে। অপরাধ দমনে পুরোনো প্রথা বজায় রাখার পাশাপাশি আধুনিক প্রযুক্তি ব্যবহার করে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের তাগিদ দেন হাইওয়ে পুলিশের প্রধান ফারুক আহমেদ। পুলিশ আসামি গ্রেফতার করে আদালতে পাঠালেও অপরাধীরা খুব দ্রুত জামিন পাওয়ায় ক্ষোভ প্রকাশ করেন নৌপুলিশের অতিরিক্ত আইজি প্রধান করিম। ডিটেনশন দেওয়া একটি কার্যকর পদ্ধতি হতে পারে বলে একমত পোষণ করেন সিআইডিপ্রধান ব্যারিস্টার মোহাম্মদ মোশাররফ হোছাইন।
বিভিন্ন ইউনিটপ্রধানদের সঙ্গে সভা শেষে পুলিশ সদর দপ্তরে অনুষ্ঠিত মাসিক অপরাধ পর্যালোচনা সভায় (ক্রাইম কনফারেন্স) যোগ দেন আইজিপি আলী হোসেন ফকির। ক্রাইম কনফারেন্সে আইজিপি বলেন, মাদক ব্যবসায়ী, সন্ত্রাসী, চাঁদাবাজদের কঠোরভাবে আইনের আওতায় আনতে হবে। এক্ষেত্রে দলীয় পরিচয় বিবেচনার কোনো সুযোগ নেই, অপরাধীর একমাত্র পরিচয় সে অপরাধী। তিনি কিশোর অপরাধীদের বিরুদ্ধেও যথাযথ আইনি ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য মাঠপর্যায়ের পুলিশ কর্মকর্তাদের নির্দেশ দেন। কনফারেন্সে সভাপতিত্ব করেন অতিরিক্ত আইজি সাইদুর রহমান। এ সময় সব মেট্রোপলিটন পুলিশ কমিশনার, রেঞ্জ ডিআইজি ও জেলার পুলিশ সুপাররা ভার্চুয়ালি যুক্ত ছিলেন। পুলিশ হেডকোয়ার্টার্স প্রান্তে ছিলেন ডিআইজি মোহাম্মদ আবু সুফিয়ানসহ সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা। সভায় গুজব ও অপপ্রচার রোধে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশনা দেন পুলিশ প্রধান।
সভাপতির বক্তব্যে অতিরিক্ত আইজি সাইদুর রহমান বলেন, কিশোর গ্যাং সম্পর্কে তথ্য সংগ্রহ করতে হবে। এদের পেছনে কোনো প্রভাবশালী রয়েছে কিনা তা উদ্ঘাটন করে ব্যবস্থা নিতে হবে। তিনি দায়িত্ব পালনকালে পুলিশ সদস্যদের যথাযথভাবে বডি ওর্ন ক্যামেরা ব্যবহারের নির্দেশ দেন।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
চট্টগ্রামের সন্দ্বীপে ২০২৬-২০২৭ অর্থবছরের রাজস্ব বাজেটের আওতায় ২৫টি প্রাতিষ্ঠানিক জলাশয়ে ১৭৫ কেজি রুইজাতীয় মাছের পোনা অবমুক্তকরণ করা হয়েছে। উপজেলা মৎস্য দপ্তর, সন্দ্বীপের আয়োজনে বুধবার (৩০ সেপ্টেম্বর) উপজেলা পরিষদ প্রাঙ্গণে আয়োজিত কর্মসূচির মাধ্যমে এসব পোনা অবমুক্ত করা হয়।
কর্মসূচিতে সভাপতিত্ব করেন সন্দ্বীপ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা আমজাদ হোসেন। অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা মো. মারুফ হোসেন, উপজেলা মৎস্য কর্মকর্তা মো. মোতাছিম বিল্লাহ, উপজেলা সমাজসেবা কর্মকর্তা মোঃ মোহসীন আলম, উপজেলা পল্লী উন্নয়ন কর্মকর্তা মোহাম্মদ আজিম উদ্দিন, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংক সন্দ্বীপ শাখার ব্যবস্থাপক মো. আক্তারুজ্জামান সুজন এবং সোনালী ব্যাংক লিমিটেড, সন্দ্বীপ শাখার ব্যবস্থাপক।
এছাড়াও উপস্থিত ছিলেন উপজেলা বিএনপির আহ্বায়ক অ্যাডভোকেট আবু তাহের, সদস্য সচিব আলমগীর ঠাকুর, সংসদ সদস্যের পিএস মাস্টার আবুল কাসেমসহ রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দ, স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ এবং উপজেলা প্রশাসন ও মৎস্য দপ্তরের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তা-কর্মচারীরা।
কর্মসূচির আওতায় সন্দ্বীপ উপজেলার বিভিন্ন ২৫টি প্রাতিষ্ঠানিক জলাশয়ে মোট ১৭৫ কেজি রুইজাতীয় মাছের পোনা অবমুক্ত করা হয়। এর মাধ্যমে প্রাতিষ্ঠানিক জলাশয়ে মাছের উৎপাদন বৃদ্ধি, দেশীয় মাছের প্রাপ্যতা বাড়ানো এবং জলজ জীববৈচিত্র্য সংরক্ষণের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
অনুষ্ঠানে বক্তারা বলেন, প্রাকৃতিক ও প্রাতিষ্ঠানিক জলাশয়ে পরিকল্পিতভাবে মাছের পোনা অবমুক্তকরণের মাধ্যমে মাছের উৎপাদন বাড়ানোর পাশাপাশি স্থানীয় জনগণের পুষ্টির চাহিদা পূরণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখা সম্ভব। একই সঙ্গে দেশীয় মাছের প্রজনন ও বংশবিস্তার নিশ্চিত করতে জলাশয়ের পরিবেশ সংরক্ষণ জরুরি।
তারা আরও বলেন, মৎস্যসম্পদ দেশের অর্থনীতি, পুষ্টি ও কর্মসংস্থানের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ খাত। মাছের উৎপাদন বৃদ্ধির পাশাপাশি জলাশয়ে মাছের নিরাপদ প্রজনন ও বেড়ে ওঠার পরিবেশ নিশ্চিত করতে সবাইকে দায়িত্বশীল ভূমিকা পালন করতে হবে।
জলাশয় সংরক্ষণে সচেতনতার আহ্বান
বক্তারা জলাশয়ে অবৈধভাবে মাছ শিকার, নিষিদ্ধ জাল ব্যবহার এবং মাছের প্রজনন ব্যাহত হয়—এমন কর্মকাণ্ড থেকে বিরত থাকার জন্য স্থানীয় জনগণের প্রতি আহ্বান জানান। পাশাপাশি জলাশয়ের পরিবেশ রক্ষা ও মৎস্যসম্পদের টেকসই ব্যবস্থাপনায় প্রশাসনকে সহযোগিতা করার আহ্বান জানানো হয়।
উপজেলা মৎস্য দপ্তরের আয়োজনে অনুষ্ঠিত এ কর্মসূচিতে বিভিন্ন সরকারি দপ্তরের কর্মকর্তা, ব্যাংক কর্মকর্তা, রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দ, স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ এবং সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তা-কর্মচারীরা উপস্থিত ছিলেন।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
ব্রহ্মপুত্রের আগ্রাসী রূপের সম্মুখীন হচ্ছেন নদপারের বাসিন্দারা। কংক্রিটের ব্লক দিয়ে সুরক্ষিত বাঁধে ধস নামছে একের পর এক।
কুড়িগ্রামের চিলমারী এলাকায় কাঁচকোল বাজার থেকে পুঁটিমারী পর্যন্ত নদীর তীররক্ষা বাঁধের ৬০০ মিটার অংশজুড়ে প্রবাহিত হচ্ছে তীব্র স্রোত। ইতোমধ্যে চার দফায় বাঁধের ২০০ মিটার অংশ ধসে পড়ায় বসতভিটা, আবাদি জমি, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানসহ অনেক স্থাপনা ঝুঁকিতে রয়েছে। এই পরিস্থিতিতে সেখানকার বাসিন্দাদের মধ্যে আতঙ্ক সৃষ্টি হয়েছে।
পানি উন্নয়ন বোর্ড (পাউবো) জানিয়েছে, বাঁধের পাশে নদীর গভীরতা বাড়ছে এবং ঘূর্ণি স্রোত দেখা দিচ্ছে। তবে ভাঙন রোধে প্রয়োজনীয় বরাদ্দের অভাব রয়েছে।
স্থানীয় সূত্র ও পানি উন্নয়ন বোর্ড জানায়, গত জুলাই মাস থেকে ব্রহ্মপুত্রের এই এলাকায় বাঁধের পাশে তীব্র স্রোত প্রবাহিত হচ্ছে। জুলাই মাসে কাঁচকোল বাজারের উত্তরে সড়কটারি এলাকায় ১২০ মিটার অংশে ধস নেমে বাঁধটির বিলীনের শঙ্কা দেখা দেয়।
সূত্র জানায়, পানি উন্নয়ন বোর্ড জিও ব্যাগ ফেলে বাঁধ মেরামতের চেষ্টা করলেও গভীরতার কারণে সেই প্রচেষ্টা ব্যর্থ হয়েছে। গত তিন সপ্তাহে কাঁচকোল বাজারের কাছে দুইটি স্থানে এবং কেডি ওয়ারি স্কুল লাগোয়া ক্রসবাঁধের মাথায় প্রায় ৮০ মিটার অংশে ব্লক ধসে পড়ায় নদপারের মানুষের মধ্যে আতঙ্ক দেখা দিয়েছে।
কাঁচকোল গ্রামের বাসিন্দা ও অবসরপ্রাপ্ত স্কুলশিক্ষক গোলাম ফারুক জানান, বাঁধের পূর্বদিকে ভট্রিভিটা ও চর বড়ভিটাসংলগ্ন এলাকায় দুটি চর জেগেছে। এর ফলে ব্রহ্মপুত্রের মূল প্রবাহের বিপুল জলরাশি বাঁধ ঘেঁষে প্রবাহিত হচ্ছে। ঘূর্ণি স্রোত গভীরতা বাড়াচ্ছে এবং ব্লক ধসে পড়ছে।
তিনি বলেন, অসময়ে নদীর পানি বৃদ্ধি পাওয়ায় বাঁধটি ভাঙনের ঝুঁকিতে পড়েছে। এতে ১১টি গ্রামের প্রায় এক হাজার পরিবার ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার শঙ্কায় রয়েছে। পাশাপাশি দুটি বিলের শত শত একর আবাদি জমিতে বালু পড়ার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে। তিনটি বিদ্যালয় ও একটি মাদরাসাসহ বাজার বিলীনের আশঙ্কায় রয়েছে। বাঁধটি অরক্ষিত হয়ে পড়লে চিলমারী উপজেলা সদরেও পানি ঢুকে পড়বে।
কাঁচকোলের বাঁধের ধারে বাস করা বৃদ্ধ আব্দুল খালেক জানান, ‘বাঁধ ভাঙলে হামার দুঃখের সীমা থাইকপার নয়। বাড়িঘর, সয়-সম্পদ সউগ যাইবে। সেই চিন্তায় হামার নিন্দ হয় না।’
সড়কটারি গ্রামের বাসিন্দা বাছিরন বেগম চার দফা নদীভাঙনের শিকার হয়ে বাঁধের নিচে মাথা গুঁজে থাকলেও তার বাড়ির পাশেই বড় অংশজুড়ে ধস নামায় চিন্তায় পড়েছেন।
কেডি ওয়ারি ক্রসবাঁধে যেখানে ধস নেমেছে, তার পাশে বাস করেন বিধবা শেফালি বেগম। জমি জিরাত না থাকায় নদের তীরেই সংসার গড়েছেন। প্রতিবছর বানের পানিতে ভাসেন, তবে এবার আশ্রয় হারানোর আতঙ্ক তাকেও পেয়ে বসেছে।
শেফালি বেগমের মতো আরো ৩০০ পরিবার বাঁধের দুই ঢালে আশ্রিত, সবার মনে শঙ্কা ও আতঙ্ক বিরাজ করছে।
এলাকাবাসী বলছে, ২০১৮ সালে ৪৫০ কোটি টাকা ব্যয়ে ব্রহ্মপুত্রের ডান তীর রক্ষা প্রকল্পের আওতায় কংক্রিটের ব্লক পিচিং করে ভাঙন ঠেকানো গেলেও দীর্ঘসময় সংস্কার ও খননের অভাবে পুরো প্রকল্প ভেস্তে যেতে বসেছে। তাদের দাবি, জেগে ওঠা চরের পাশে ড্রেজিং করে স্রোতের গতিপথ পরিবর্তন করলে বাঁধটি রক্ষা পাবে। নইলে এবার কোনোমতে রক্ষা পেলেও সামনের বর্ষায় বাঁধটি টেকানো কঠিন হবে।
বেসরকারি চাকরিজীবী রায়হান মিয়া বলেন, পানিসম্পদ প্রতিমন্ত্রীসহ সরকারের কর্মকর্তাদের কাছে খনন করে বাঁধটি রক্ষার দাবি জানালেও কোনো কাজ হচ্ছে না।
পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী রাকিবুল হাসান জানান, কাঁচকোল এলাকায় নদীর গভীরতা কিছু কিছু স্থানে সমুদ্রপৃষ্ঠ থেকে ১৫ মিটারেও বেশি। তীর ঘেঁষে এমন গভীরতার কারণে বারবার ধস নামছে। বিষয়টি উর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে জানানো হয়েছে। কিছু এলাকায় জিও ব্যাগ ফেলা হচ্ছে। জরুরি ভিত্তিতে ছয় হাজার জিও ব্যাগ ফেলার জন্য বরাদ্দ চাওয়া হয়েছে।
নির্বাহী প্রকৌশলী বলেন, বাঁধটি স্থায়ীভাবে সংস্কার করে সুরক্ষিত করার জন্য ডিপিপি বা প্রকল্প প্রস্তাব জমা দেওয়া হয়েছে। অনুমোদন পেলে শুকনো মৌসুমে তা বাস্তবায়ন করা হবে।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
বলিউডের তারকাদের ব্যক্তিগত জীবনের অজানা দিক, প্রেম-সম্পর্ক, বন্ধুত্ব এবং বিতর্কিত মন্তব্য—এসব নিয়ে দীর্ঘ দুই দশকেরও বেশি সময় ধরে দর্শকদের মনোযোগ আকর্ষণ করেছে জনপ্রিয় আড্ডার অনুষ্ঠান ‘কফি উইথ করণ’। এবার সেই আড্ডার ইতি টানতে চলেছেন সঞ্চালক ও নির্মাতা করণ জোহর। নবম সিজনটি হবে অনুষ্ঠানটির শেষ অধ্যায়।
২০০৪ সালে শুরু হয়েছিল করণ জোহরের এই চ্যাট শো। ২২ বছরের দীর্ঘ সময়ের মধ্যে আটটি সিজনে মোট ১৬১টি পর্ব প্রচারিত হয়েছে। আগামী ১৪ অক্টোবর থেকে জিও হটস্টারে শুরু হবে অনুষ্ঠানটির নবম ও শেষ সিজন।
এই দীর্ঘ যাত্রায় ‘কফি উইথ করণ’-এর আড্ডায় অংশগ্রহণ করেছেন বলিউডের অসংখ্য তারকা। শাহরুখ খান, কাজল, অমিতাভ বচ্চন, অভিষেক বচ্চন, ঐশ্বরিয়া রাই এবং কারিনা কাপুরের মতো তারকারা উপস্থিত হয়ে অনুষ্ঠানটিকে প্রাণবন্ত করে তুলেছেন। করণের বিভিন্ন প্রশ্নের মাধ্যমে তারকাদের ব্যক্তিগত জীবন, প্রেম, বিয়ে এবং বন্ধুত্ব নিয়ে অনেক অজানা তথ্য প্রকাশ পেয়েছে। তৈরি হয়েছে অসংখ্য আলোচিত এবং ভাইরাল মুহূর্ত।
তবে জনপ্রিয়তার পাশাপাশি বিতর্কও অনুষ্ঠানটির পিছু ছাড়েনি। ২০১৯ সালে এক পর্বে নারীদের সম্পর্কে ক্রিকেটার হার্দিক পান্ডিয়ার বিতর্কিত মন্তব্যের কারণে এটি স্ট্রিমিং প্ল্যাটফর্ম থেকে সরিয়ে নেওয়া হয়। ওই ঘটনার পর হার্দিক পান্ডিয়া এবং কে এল রাহুলকে সাময়িকভাবে জাতীয় দল থেকেও নিষিদ্ধ করা হয়েছিল।
এবার অনুষ্ঠানটি শেষ করার সিদ্ধান্তের পেছনের কারণ জানিয়ে করণ জোহর বলেছেন, ‘কফি উইথ করণ’ তার পরিচয়ের একটি বড় অংশ হলেও জীবনের পরবর্তী দশকে তিনি আরো বেশি সিনেমা পরিচালনা এবং গল্প বলার কাজে মনোযোগ দিতে চান।
দীর্ঘ ২২ বছরের পথচলার পর্দা নামার খবর শুনে ভক্তদের মধ্যে বাড়তি আগ্রহ তৈরি হয়েছে। আগামী ১৪ অক্টোবর শুরু হতে যাওয়া নবম সিজন নিয়ে দর্শকদের প্রত্যাশা তুঙ্গে। তারকাদের আড্ডা, অজানা গল্প এবং নানা আলোচিত মুহূর্তের সাক্ষী এই অনুষ্ঠান শেষবারের মতো পর্দায় ফিরছে।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
ফরিদপুরের সদরপুর উপজেলার ঢেউখালী ইউনিয়নের ঢেউখালী নতুন বাজার সংলগ্ন আশ্রয়হীনদের জন্য নির্মিত আশ্রয়ণ প্রকল্পটি বর্তমানে দুর্ভোগের কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে।
প্রকল্পটি বসবাসের জন্য অনুপযোগী হয়ে পড়েছে। চলাচলের রাস্তার বেহাল অবস্থা, নিচু জমি এবং বৃষ্টির পানির জলাবদ্ধতায় বসবাসকারী পরিবারগুলো চরম দুর্ভোগে রয়েছে। অনেক ঘরে পানি ঢুকে পড়েছে এবং বাথরুম ও ঘরের সামনেও জমে থাকা পানির কারণে মানবেতর জীবনযাপন করছেন প্রকল্পের বাসিন্দারা।
বুধবার (৩০ সেপ্টেম্বর) সরেজমিনে দেখা যায়, আশ্রয়ণ প্রকল্পে মোট ৫২টি ঘর রয়েছে। এর মধ্যে মাত্র ১৫টি পরিবার কোনোরকমে বসবাস করছে। বাকি ঘরগুলো প্রায় পরিত্যক্ত অবস্থায় রয়েছে। এসব ঘরের চারপাশে লতাপাতা ও ঝোপঝাড়ে ভরে গেছে। স্থানীয়দের অভিযোগ, পরিত্যক্ত ঘরগুলোতে দিন-রাত মাদকসেবীদের আড্ডা বসে।
প্রকল্পের বাসিন্দা মিনু আক্তার (৪০) জানান, ‘বৃষ্টির পানি বের হওয়ার কোনো ব্যবস্থা নেই। একদিন বৃষ্টি হলে সাত দিন পর্যন্ত পানি জমে থাকে। আমার থাকার ঘরে পানি ঢোকে, বারান্দায় পানি জমে থাকে। এমনকি বাথরুমেও পানি জমে থাকায় সেখানে যেতে পারি না। বাধ্য হয়ে বাইরে যেতে হয়। প্রতিদিন পানি সেচতে সেচতে হাতে ঘা হয়ে গেছে। কী করব, আমাদের তো আর কোথাও যাওয়ার জায়গা নেই। তাই বাধ্য হয়ে স্বামী ও তিন সন্তান নিয়ে এখানে থাকছি।’
আরেক বাসিন্দা জিয়াসমিন আক্তার বলেন, একদিন বৃষ্টি হলে ঘরের সামনে সাত দিন পানি জমে থাকে। কয়েকদিন আগে আমার আট মাসের শিশুসন্তান উঠানের পানিতে পড়ে গিয়েছিল। পানি কমে গেলে দুর্গন্ধ ছড়ায় এবং রাস্তায় হাঁটুসমান কাদা হয়ে যায়। মশা-মাছির উপদ্রব তো রয়েছেই।
তিনি অভিযোগ করেন, এ দুরবস্থার কারণে অধিকাংশ বাসিন্দা প্রকল্প ছেড়ে অন্যত্র চলে গেছেন। তবে তাদের মতো অসহায় পরিবারের যাওয়ার মতো কোনো জায়গা নেই। পরিত্যক্ত ঘরগুলোতে মাদকসেবীদের আড্ডা বসায় তারা নিরাপত্তাহীনতায়ও ভুগছেন।
স্থানীয়দের অভিযোগ, আশ্রয়হীনদের পুনর্বাসনের উদ্দেশ্যে প্রকল্পটি নির্মাণ করা হলেও পর্যাপ্ত পানি নিষ্কাশনব্যবস্থা না থাকায় এটি এখন তাদের জন্য দুর্ভোগের কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে। দীর্ঘদিন ধরে পরিত্যক্ত ঘরগুলো ঝোপঝাড়ে ঢেকে যাওয়ায় পুরো এলাকাটি অনেকটা জঙ্গলের মতো হয়ে পড়েছে। একই সঙ্গে সেখানে মাদকসেবীদের আড্ডার অভিযোগ থাকায় বসবাসকারী পরিবারগুলো নিরাপত্তাহীনতায় রয়েছে।
স্থানীয়দের দাবি, দ্রুত পানি নিষ্কাশনের ব্যবস্থা করে প্রকল্পের পরিবেশ বসবাসের উপযোগী করা এবং পরিত্যক্ত ঘরগুলো সংস্কার ও মাদকসেবীদের আড্ডা বন্ধে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হোক।
ঢেউখালী ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মিজানুর রহমান বয়াতি বলেন, ‘আমি তাদের দুর্দশা দেখেছি। সত্যিই সেখানে বসবাসের পরিবেশ নেই। বিষয়টি ইতিপূর্বে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তাকে জানানো হয়েছে। প্রকল্পটি নির্মাণের আগে মাটি ভরাট করা প্রয়োজন ছিল। এখন মাটি ভরাট করলে জলাবদ্ধতা আরো বাড়তে পারে। এ অবস্থায় বিকল্প হিসেবে চারপাশ ঘুরিয়ে পাকা ড্রেন নির্মাণের মাধ্যমে বৃষ্টির পানি নিষ্কাশনের ব্যবস্থা করার কথা ভাবা হচ্ছে। বিষয়টি ও সম্ভাব্য সমাধানের কথা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তাকে জানিয়েছি।
এ বিষয়ে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার বক্তব্য জানতে তার কার্যালয়ে গেলে তাকে পাওয়া যায়নি। পরে মোবাইল ফোনে কল করা হলেও তিনি সাড়া দেননি।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ