০৪:২৪ পি.এম
গাজা বিষয়ে একটি পরিকল্পনার উপর মতপার্থক্য দূর করার লক্ষ্যে আগামী সপ্তাহে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের দূত এবং জামাতা জ্যারেড কুশনার ইসরাইল সফর করবেন। শুক্রবার কর্মকর্তারা এই তথ্য জানিয়েছেন।
এএফপি’র খবরে বলা হয়, ট্রাম্পের তথাকথিত ‘বোর্ড অব পিস’-এর গাজার জন্য উচ্চ প্রতিনিধি নিকোলাই ম্লাদেনভও কুশনারের সঙ্গে ইসরাইল সফর করবেন। এই বোর্ডকে গাজার সাথে সম্পর্কিত চুক্তি বাস্তবায়নের দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। তাঁরা ইসরাইলের পাশাপাশি মধ্যস্থতাকারী দেশ মিশরকেও সফর করবেন।
ম্লাদেনভ সম্প্রতি ১৫ দফার একটি পরিকল্পনা ঘোষণা করেন। এতে হামাস গাজায় একটি নতুন ফিলিস্তিনি পরিচালনা কমিটির কাছে তাদের অস্ত্র হস্তান্তরে সম্মত হয়েছে। তবে, ইসরাইলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু এই পরিকল্পনা প্রকাশ্যে প্রত্যাখ্যান করেছেন।
আরও পড়ুন: কক্সবাজারে নলকূপ খননের স্থান থেকে গ্যাসের আগুন, বাপেক্সের বিশেষজ্ঞ দল ঘটনাস্থলে
বোর্ড অব পিসের একজন কর্মকর্তা জানিয়েছেন, কুশনার এবং ম্লাদেনভ ট্রাম্পের সামগ্রিক শান্তি পরিকল্পনা এগিয়ে নিতে ‘গঠনমূলক আলোচনা’ করতে চান। ট্রাম্পের এই শান্তি উদ্যোগ ২০২৫ সালের অক্টোবরে যুদ্ধবিরতি ঘোষণার মাধ্যমে শুরু হয়, যা গাজায় ইসরাইলি হামলা কিছুটা কমায়, তবে পুরোপুরি বন্ধ করেনি।
নাম প্রকাশ না করার শর্তে ওই কর্মকর্তা বলেন, ‘চূড়ান্ত লক্ষ্য নিয়ে যুক্তরাষ্ট্র এবং ইসরাইলের মধ্যে ঐকমত্য রয়েছেÑআর তা হলো হামাসকে নিরস্ত্র করা।’
তিনি জানান, উত্থাপিত উদ্বেগগুলো শোনা হবে এবং পরবর্তী পদক্ষেপ নিয়ে আলোচনা করা হবে। তাঁর বক্তব্যে বলা হয়, গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলোÑদুই পক্ষের মধ্যে কাক্সিক্ষত ফলাফল নিয়ে একমত হওয়া এবং অগ্রগতি কীভাবে দ্রুত করা যায়, সে পথে খোঁজা হচ্ছে।
হামাসের নিরস্ত্রীকরণ নিয়ে মতবিরোধের কথা জানিয়ে বলা হয়, জুলাইয়ের শেষ দিকে হামাস গাজা পরিকল্পনার সর্বশেষ ধাপে সম্মতি দেয়। বোর্ড অব পিসের প্রকাশিত প্রাথমিক পরিকল্পনা অনুযায়ী, এর মাধ্যমে গাজার বড় একটি অংশ থেকে ধাপে ধাপে ইসরাইলি সেনা প্রত্যাহার শুরু হওয়ার কথা ছিল।
আরও পড়ুন: কুমিল্লায় রাজস্ব কর্মকর্তা বুলেট বৈরাগী হত্যা মামলায় পাঁচজনের বিরুদ্ধে চার্জশিট
তবে পরে ম্লাদেনভ তাঁর অবস্থান কিছুটা পরিবর্তন করে বলেন, হামাস পুরোপুরি নিরস্ত্র না হওয়া পর্যন্ত ইসরাইল সেনা প্রত্যাহার করতে পারবে না। নেতানিয়াহু আগেই সেনা প্রত্যাহার না করার কথা জানিয়েছিলেন। হামাস সত্যিই অস্ত্র ত্যাগ করবে কি না, তা নিয়েও তিনি সন্দেহ প্রকাশ করেছেন। তাঁর দাবি হলো, হামাসকে এমনভাবে অস্ত্র ধ্বংস করতে হবে যাতে বিষয়টি যাচাই করা যায়।
অন্যদিকে হামাস বলেছে তারা চুক্তির শর্ত মেনে চলছে। হামাসের রাজনৈতিক ব্যুরোর সদস্য বাসেম নাঈম এএফপিকে বলেন, ‘নেতানিয়াহু ও তাঁর সরকারকে রোডম্যাপ মেনে চলতে বাধ্য করতে মধ্যস্থতাকারী ও যুক্তরাষ্ট্রের পক্ষ থেকে চাপের অপেক্ষায় রয়েছি।’
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন