বৃহস্পতিবার, ৮ই অক্টোবর, ২০২৬ ইং
১২:৩৮ এম
রংপুর, ৭ অক্টোবর, ২০২৬ : রংপুর মহানগরীর অবকাঠামোগত উন্নয়ন সংক্রান্ত দুটি প্রকল্প একনেক সভায় অনুমোদিত হয়েছে, যার মোট ব্যয় ১,৮১৩ কোটি ২৮ লাখ টাকা। এ উপলক্ষে প্রধানমন্ত্রীকে আন্তরিক শুভেচ্ছা ও অভিনন্দন জানিয়েছেন রংপুর সিটি কর্পোরেশনের (আরপিসিসি) প্রশাসক।
একনেক সভায় আজ রংপুর সিটি এলাকার অবকাঠামো উন্নয়নের জন্য ১,৬০২ কোটি ৭৯ লাখ টাকা এবং ক্ষতিগ্রস্ত রাস্তা সংস্কারের জন্য ২১০ কোটি ৪৯ লাখ টাকার প্রকল্প অনুমোদন করা হয়। সভায় সভাপতিত্ব করেন প্রধানমন্ত্রী।
প্রকল্প দুটি অনুমোদনের পর আরপিসিসি প্রশাসক অ্যাডভোকেট মাহফুজ উন নবী ডন মুঠোফোনে বাসস’কে জানান, প্রধানমন্ত্রীকে অভিনন্দন ও গভীর কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন।
তিনি মন্তব্য করেন, ‘আলহামদুলিল্লাহ- রংপুরের উন্নয়নে এটি একটি ঐতিহাসিক মাইলফলক।’
আরপিসিসি প্রশাসক আরও বলেন, ‘এ দুটি প্রকল্প রংপুর মহানগরীর দীর্ঘদিনের অবকাঠামোগত সমস্যা সমাধান, সড়ক যোগাযোগ ব্যবস্থার উন্নয়ন ও নাগরিক সেবার মান বৃদ্ধিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে। এর বাস্তবায়ন রংপুর সিটি কর্পোরেশনকে একটি আধুনিক, পরিচ্ছন্ন, সুপরিকল্পিত ও নাগরিকবান্ধব শহরে রূপান্তরের পথ সুগম করবে।’
তিনি নগরবাসীর পক্ষ থেকে প্রধানমন্ত্রীকে ধন্যবাদ জানান, রংপুরের মানুষের উন্নয়ন ও এই অঞ্চলের অগ্রগতির জন্য বড় প্রকল্প অনুমোদন দেওয়ার জন্য। প্রশাসক আশা প্রকাশ করেন, সবার যৌথ প্রচেষ্টায় প্রকল্পগুলোর সুষ্ঠু বাস্তবায়নের মাধ্যমে রংপুর মহানগরীর উন্নয়নে এক নতুন অধ্যায়ের সূচনা হবে।
রংপুরকে দেশের অন্যতম সেরা মহানগরে রূপান্তরের প্রতিশ্রুতি দিয়ে প্রশাসক বলেন, বরাদ্দকৃত অর্থের ব্যবহারে শতভাগ স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা নিশ্চিত করা হবে। তিনি নগরবাসীর সর্বাত্মক সহযোগিতা কামনা করেন এসব উন্নয়ন কর্মকাণ্ডে।
এদিকে, রংপুর মহানগরীর জন্য ইতিহাসে প্রথমবারের মতো এত বিশাল অঙ্কের আর্থিক বরাদ্দ আসায় সর্বস্তরের মানুষ আনন্দ প্রকাশ করেছেন। তারা প্রধানমন্ত্রীকে ধন্যবাদ ও কৃতজ্ঞতা জানিয়েছেন।
রিকশাচালক মমতাজ হোসেন মন্তব্য করেন, ‘আগের কোনো সরকার রংপুর শহরের উন্নয়নকে এভাবে অগ্রাধিকার দেয়নি। অবশেষে সড়ক মেরামতসহ সার্বিক উন্নয়নের এই উদ্যোগ নেওয়ায় বর্তমান সরকারের ওপর আমি খুশি।’
কলেজছাত্র মুহাইমেনুল ইসলাম বলেন, ‘১,৮১৩ কোটি ২৮ লাখ টাকার দুটি প্রকল্প বরাদ্দের মাধ্যমে রংপুরের প্রতি সরকারের দৃঢ় উন্নয়ন প্রতিশ্রুতি ও আন্তরিকতার প্রমাণ মিলেছে।’
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
৩০ গোডাউন-সেলফি রোডসহ গুরুত্বপূর্ণ এলাকায় অভিযান; নেতৃত্বে ডিসি সুশান্ত সরকার
মাদক, সন্ত্রাস ও কিশোর গ্যাংয়ের দৌরাত্ম্য নিয়ন্ত্রণে বরিশাল মহানগরীতে আকস্মিক সাঁড়াশি অভিযান পরিচালনা করেছে কোতোয়ালি মডেল থানা পুলিশ। বুধবার (৭ অক্টোবর) সন্ধ্যা থেকে নগরীর ৩০ গোডাউন, সেলফি রোডসহ বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ ও অপরাধপ্রবণ এলাকায় একযোগে এ অভিযান পরিচালনা করা হয়।
বরিশাল মেট্রোপলিটন পুলিশের উপ-পুলিশ কমিশনার (দক্ষিণ) জনাব সুশান্ত সরকার, পিপিএমের নেতৃত্বে কোতোয়ালি মডেল থানার বিশেষ আভিযানিক টিম এ অভিযান পরিচালনা করে। অভিযানের সময় নগরীর বিভিন্ন পয়েন্টে পুলিশের উপস্থিতি বাড়ানো হয় এবং সন্দেহভাজন ব্যক্তি ও অপরাধপ্রবণ এলাকাগুলোতে নজরদারি জোরদার করা হয়।
বিএমপি মিডিয়া সেল সূত্রে জানা যায়, মাদক ব্যবসা, কিশোর গ্যাংয়ের তৎপরতা, সন্ত্রাসী কার্যক্রম এবং বিভিন্ন ধরনের অপরাধ নিয়ন্ত্রণে পুলিশের নিয়মিত কার্যক্রমের অংশ হিসেবে এ আকস্মিক অভিযান পরিচালনা করা হয়েছে। অভিযানে চিহ্নিত মাদক ব্যবসায়ী, কিশোর গ্যাংয়ের সদস্য, সন্ত্রাসী ও সন্দেহভাজন অপরাধীদের বিষয়ে তথ্য যাচাই এবং প্রয়োজনীয় তল্লাশি কার্যক্রম পরিচালনা করা হয়।
নগরীর ৩০ গোডাউন ও সেলফি রোডসহ গুরুত্বপূর্ণ এলাকাগুলোতে সন্ধ্যার পর বিভিন্ন বয়সী মানুষের চলাচল ও আড্ডাকে কেন্দ্র করে অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডের সুযোগ তৈরি হতে পারে—এমন বিষয়গুলো বিবেচনায় নিয়ে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর নজরদারি জোরদার করা হয়েছে বলে পুলিশ জানিয়েছে।
অভিযান চলাকালে পুলিশের বিশেষ টিম বিভিন্ন স্থানে অবস্থান নিয়ে সন্দেহজনক গতিবিধি পর্যবেক্ষণ করে। একই সঙ্গে মাদক ও অপরাধের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের বিষয়ে তথ্য সংগ্রহ এবং আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করা হয়।
পুলিশের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, শুধু একটি নির্দিষ্ট এলাকায় নয়, বরিশাল মহানগরীর বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ ও অপরাধপ্রবণ এলাকায় পর্যায়ক্রমে এ ধরনের আকস্মিক অভিযান পরিচালনা করা হবে। মাদক, সন্ত্রাস ও কিশোর গ্যাংয়ের তৎপরতা নিয়ন্ত্রণে পুলিশের অভিযান ও নজরদারি অব্যাহত থাকবে।
বিএমপি আরও জানিয়েছে, নগরীর আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখা এবং অপরাধ নিয়ন্ত্রণে প্রয়োজন অনুযায়ী বিভিন্ন এলাকায় পুলিশের টহল, চেকিং ও বিশেষ অভিযান জোরদার করা হচ্ছে। বিশেষ করে মাদক ও কিশোর গ্যাংয়ের মতো অপরাধের বিরুদ্ধে কার্যকর পদক্ষেপ নিতে মাঠপর্যায়ে পুলিশ সদস্যদের সক্রিয় থাকার নির্দেশনা রয়েছে।
এদিকে আকস্মিক এ অভিযানে নগরীর বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ পয়েন্টে পুলিশের উপস্থিতি লক্ষ্য করা গেছে। অপরাধ নিয়ন্ত্রণে এ ধরনের অভিযান অব্যাহত রাখলে নগরবাসীর মধ্যে নিরাপত্তাবোধ আরও বাড়বে বলে সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন।
অভিযানকালে আরও উপস্থিত ছিলেন বরিশাল মেট্রোপলিটন পুলিশের অতিরিক্ত উপ-পুলিশ কমিশনার (দক্ষিণ) জনাব বেলাল হোসাইন, পিপিএম; সহকারী পুলিশ কমিশনার (কোতোয়ালি জোন) জনাব অলক কান্তি শর্মাসহ কোতোয়ালি মডেল থানার অন্যান্য কর্মকর্তা ও পুলিশ সদস্যরা।
বিএমপি মিডিয়া সেলের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, বরিশাল মহানগরজুড়ে মাদক, সন্ত্রাস ও কিশোর গ্যাংবিরোধী অভিযান অব্যাহত থাকবে।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
জাতীয় স্বার্থ সুরক্ষার জন্য কূটনীতির গুরুত্ব তুলে ধরেছে ইরান। দেশটির পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাগচি উল্লেখ করেছেন, ইরান নিজের আত্মরক্ষায় দৃঢ়প্রতিজ্ঞ থাকার পাশাপাশি দেশের স্বার্থ এবং জাতীয় নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে কূটনীতির পথ অবলম্বনে তারা যথেষ্ট আন্তরিক।
নিজের টেলিগ্রাম চ্যানেলে প্রকাশিত একটি বার্তায় আরাগচি জানান, সম্প্রতি নিউইয়র্কে জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদের অধিবেশনে অংশগ্রহণকারী ইরানি প্রতিনিধিদল মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের কাছে একটি সাত দিনের প্রস্তাবিত শান্তি পরিকল্পনা উপস্থাপন করেছে। মূলত হরমুজ প্রণালি পুনরায় চালুর উদ্দেশ্যে এই পরিকল্পনাটি প্রস্তাব করা হয়েছিল।
তবে, এই প্রস্তাব পেশ করার পরের দিন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ইরানের প্রস্তাবটি নাকচ করে দেন। এরপর যুদ্ধ বন্ধের লক্ষ্যে নতুন আলোচনা পুনরুজ্জীবিত করার জন্য মার্কিন কর্মকর্তাদের পক্ষ থেকে একটি পাল্টা প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে।
সূত্র: আল-জাজিরা।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
আজ বৃহস্পতিবার (৮ অক্টোবর) নয়াদিল্লিতে বাংলাদেশ ও ভারতের যৌথ ওয়ার্কিং গ্রুপের ১৬তম বৈঠক শুরু হচ্ছে। এই বৈঠক আগামীকাল শুক্রবার শেষ হবে। বৈঠকে বাংলাদেশ দুই দেশের বাণিজ্যের বিভিন্ন সমস্যা, পাটপণ্যের ওপর অ্যান্টিডাম্পিং শুল্ক এবং স্থলবন্দরের জটিলতা নিয়ে আলোচনা করবে।
বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব আয়েশা আক্তারের নেতৃত্বে ১০ সদস্যের একটি প্রতিনিধি দল মঙ্গলবার ঢাকা ছেড়ে বৈঠকে যোগ দিতে গেছে। প্রতিনিধিদলের এক কর্মকর্তা জানিয়েছেন, বাংলাদেশ তার ব্যবসাসংক্রান্ত প্রায় সব দাবিই উত্থাপন করবে, তবে ভারতীয় পক্ষের আলোচনা বিষয় এখনও নিশ্চিত নয়। উল্লেখ্য, এটি শুধুমাত্র আলোচনা হবে, এখানে কোনো চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে না।
বৈঠকে দুই দেশের মধ্যে বাণিজ্যের বড় ফারাক বা বাণিজ্য ঘাটতির বিষয়টিও আলোচিত হবে। কারণ, ভারত থেকে আমদানি করা পণ্যের তুলনায় আমাদের রপ্তানি অনেক কম। তবে আলোচিত সিইপিএ চুক্তিটি এবারের তালিকায় অন্তর্ভুক্ত করা হয়নি।
এটি উল্লেখযোগ্য যে, চীনের পর ভারত আমাদের দেশের দ্বিতীয় বৃহত্তম আমদানির উৎস। জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের হিসাব অনুযায়ী, ২০২৫-২৬ অর্থবছরে বাংলাদেশ ভারতে ১৭৫ কোটি ডলারের পণ্য রপ্তানি করেছে, আর ভারত থেকে ১ হাজার ৯৬ কোটি ডলারের পণ্য আমদানি করেছে। দেশের ব্যবসায়ীরা মূলত ভারত থেকেই কারখানার কাঁচামাল, কাপড় ও তুলা নিয়ে আসেন।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
ভিয়েতনামের হো চি মিন সিটিতে প্রায় ২,৭০০ বিড়াল চুরি করে মাংস বিক্রির চক্রের জন্য ১২ জন ব্যক্তিকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ।
পুলিশের তথ্য অনুযায়ী, সন্দেহভাজনরা রাতে ছোট দলে বিভক্ত হয়ে মোটরসাইকেলে বিভিন্ন আবাসিক এলাকায় ঘুরে বেড়াত। তারা বিড়ালগুলো কোন বাড়িতে রাখা হয় তা জানার পর মাছের টুকরোকে টোপ হিসেবে ব্যবহার করে ঘরের বাইরে ফাঁদ পেতে রাখত।
প্রতিটি দল রাতে গড়ে চার থেকে দশটি বিড়াল চুরি করত। গত ৮ জুলাই পুলিশ অভিযান চালিয়ে ৫০টি বিড়াল, বিড়াল ধরার ফাঁদ, পশম ছাড়ানোর যন্ত্র ও নগদ অর্থসহ অন্যান্য সরঞ্জাম জব্দ করে। পরে ১২ জন সন্দেহভাজনকে জিজ্ঞাসাবাদ করা হলে তারা প্রায় ২,৭০০ বিড়াল চুরির কথা স্বীকার করে।
উদ্ধারকৃত বিড়ালগুলোর মধ্যে ১৩টি ইতোমধ্যে তাদের আসল মালিকদের কাছে ফিরিয়ে দেওয়া হয়েছে এবং বাকিগুলোকে একটি প্রাণী কল্যাণ কেন্দ্রে রাখা হয়েছে।
প্রাণী সুরক্ষা সংস্থা ‘হিউম্যান ওয়ার্ল্ড ফর অ্যানিমেলস’ জানায়, ভিয়েতনামে প্রতি বছর প্রায় ৫০ লাখ কুকুর এবং ১০ লাখ বিড়াল মাংসের জন্য চুরি, পাচার ও জবাই করা হয়। দেশটিতে কুকুর ও বিড়ালের মাংস খাওয়া আইনসম্মত হওয়ায় অনেক রেস্তোরাঁয় তা খোলাখুলি বিক্রি করা হয়, তবে বিক্রেতাদের কাছে প্রাণীগুলোর উৎস প্রদর্শনের অনুমতিপত্র থাকতে হয়।
যদিও অন্যান্য এশিয়ান দেশের তুলনায় ভিয়েতনামে এই প্রথা বেশি প্রচলিত, তবে তরুণ সমাজ ও পোষা প্রাণীর মালিকদের মধ্যে এর বিরোধিতাও ক্রমেই বাড়ছে।
সূত্র: বিবিসি
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ