ঢাকা শনিবার, ০৭ই নভেম্বর, ২০২৬খ্রিষ্টাব্দ ২২শে কার্তিক, ১৪৩২বঙ্গাব্দ ২৬শে জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিজরী
শনিবার, ০৭ই নভেম্বর, ২০২৬ইং ২২শে কার্তিক, ১৪৩২বাং

বিশ্বকাপ ভেন্যুর নিষিদ্ধ আকাশসীমায় ৬০০ ড্রোন জব্দ করল যুক্তরাষ্ট্র


বিশ্বকাপ ভেন্যুর নিষিদ্ধ আকাশসীমায় ৬০০ ড্রোন জব্দ করল যুক্তরাষ্ট্র

যুক্তরাষ্ট্রে চলমান ফিফা বিশ্বকাপকে ঘিরে নিরাপত্তা জোরদার করেছে দেশটির আইনশৃঙ্খলা ও বিমান চলাচল কর্তৃপক্ষ।

টুর্নামেন্ট শুরুর পর থেকে খেলার ভেন্যু এবং সমর্থকদের জমায়েতের এলাকাগুলোর আশপাশে ৬০০টির বেশি ড্রোন জব্দ করা হয়েছে।

সোমবার এ তথ্য জানিয়েছে যুক্তরাষ্ট্রের পরিবহন নিরাপত্তা প্রশাসন (টিএসএ)।

আরও পড়ুন: সাভার-আশুলিয়ার শিল্পাঞ্চলে ৮৮ কারখানা কর্মমুখর হয়ে উঠছে

টিএসএ জানায়, ১১ জুন বিশ্বকাপ শুরু হওয়ার পর থেকে বিভিন্ন স্টেডিয়াম ও ফ্যান জোনের নিষিদ্ধ আকাশসীমায় অনুমতি ছাড়া ড্রোন উড়ানোর একাধিক ঘটনা ঘটেছে।

এসব ড্রোন নিরাপত্তার স্বার্থে জব্দ করা হয়েছে। নিয়ম অনুযায়ী, খেলার দিন স্টেডিয়ামের চারপাশে তিন নটিক্যাল মাইল এলাকাজুড়ে এবং মাটি থেকে ৩ হাজার ফুট বা প্রায় ৯১৪ মিটার উচ্চতা পর্যন্ত সব ধরনের উড়োজাহাজ চলাচল নিষিদ্ধ থাকে।

এই নিষেধাজ্ঞার আওতায় ড্রোনও রয়েছে।

তবে বিমান চলাচল নিয়ন্ত্রণ কর্তৃপক্ষের বিশেষ অনুমতি থাকলে এই নিয়ম প্রযোজ্য হয় না।

আরও পড়ুন: ছাত্রীদের ওপর পুলিশের লাঠিচার্জের নিন্দা জানালেন এমপি নূরুন্নিসা

যুক্তরাষ্ট্রের কেন্দ্রীয় তদন্ত সংস্থা এফবিআই জানিয়েছে, বিশ্বকাপের আয়োজক ১১টি শহরের প্রতিটিতেই নিষিদ্ধ আকাশসীমা থেকে ড্রোন জব্দ করা হয়েছে।

অর্থাৎ কোনো আয়োজক শহরই এ ধরনের ঘটনার বাইরে ছিল না।

এফবিআইয়ের তথ্য অনুযায়ী, শুধু মায়ামিতেই এখন পর্যন্ত ১৩০টি ড্রোন জব্দ করা হয়েছে। এবং ডালাসে পাঁচটি ম্যাচ চলাকালে ৭০টির বেশি ড্রোন আটক করা হয়েছে।

ফেডারেল বিমান চলাচল প্রশাসন (এফএএ) জানিয়েছে, বিশ্বকাপের সব ম্যাচের স্টেডিয়াম এবং সংশ্লিষ্ট সমর্থকদের জমায়েতের এলাকায় ড্রোন উড়ানো সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ।

আরও পড়ুন: ৬৪ টেস্টে ২২৯ উইকেট, সাদা জার্সিকে বিদায় জানালেন শামি

ফ্যান জোনের এক নটিক্যাল মাইলের মধ্যে এবং মাটি থেকে এক হাজার ফুট উচ্চতা পর্যন্ত এই নিষেধাজ্ঞা কার্যকর রয়েছে।

এফবিআই সতর্ক করে বলেছে, অনুমতি ছাড়া কেউ নিষিদ্ধ আকাশসীমায় ড্রোন ওড়ালে তার বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

এ ধরনের অপরাধে সর্বোচ্চ এক লাখ ডলার জরিমানা হতে পারে।

পাশাপাশি ফৌজদারি মামলাও হতে পারে এবং সংশ্লিষ্ট ড্রোন জব্দ করা হবে।

আরও পড়ুন: ইংলিশ ক্রিকেটার ব্রায়ান ডিভাইন পন্টিংকে মাঠে আঙুল ফুটিয়ে দুই বছরের জন্য নিষিদ্ধ

ইউক্রেন ইস্যুতে রাশিয়াকে আলোচনায় আনতে চীনকে নরওয়ের আহ্বান

নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে বিশ্বকাপের স্টেডিয়ামগুলোর আশপাশে এফবিআইয়ের বিশেষ দল মোতায়েন রয়েছে।

এসব দল বিশেষ প্রযুক্তি ব্যবহার করে অনুমতি ছাড়া উড়ানো ড্রোন শনাক্ত এবং প্রয়োজনে নিষ্ক্রিয় করছে।

গত সপ্তাহে এ ধরনের একটি ঘটনার জেরে ৪০ বছর বয়সী মেক্সিকোর নাগরিক ক্রিস্তোবাল তোরেস আলভারেজের বিরুদ্ধে মামলা করা হয়েছে।

আরও পড়ুন: জাতীয় বিপ্লব ও সংহতি দিবস আজ

অভিযোগ রয়েছে, ডালাসের একটি স্টেডিয়ামে ম্যাচ শুরুর আগে তিনি নিষিদ্ধ আকাশসীমায় একটি ড্রোন উড়িয়েছিলেন।

ড্রোনজনিত নিরাপত্তা ঝুঁকি মোকাবিলায় যুক্তরাষ্ট্র আগেই বিভিন্ন পদক্ষেপ নিয়েছে।

২০২৫ সালে প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প হুমকিস্বরূপ ড্রোন প্রতিরোধে দেশের প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা আরো শক্তিশালী করার জন্য একটি নির্বাহী আদেশে সই করেন।

একই সময়ে যুক্তরাষ্ট্রের স্বরাষ্ট্র নিরাপত্তা বিভাগ টেক্সাসে যুক্তরাষ্ট্র-মেক্সিকো সীমান্তে নতুন ড্রোন প্রতিরোধ ব্যবস্থা স্থাপন করে।

আরও পড়ুন: জামায়াতে ইসলামীর ইসলাম অস্বীকার করলেন হেফাজতের আমির বাবুনগরী

গত কয়েক বছরে যুক্তরাষ্ট্রের বড় বড় ক্রীড়া আসরে ড্রোন-সংক্রান্ত একাধিক অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনা ঘটেছে।

২০২৫ সালে বাল্টিমোরে ন্যাশনাল ফুটবল লিগের (এনএফএল) একটি প্লে-অফ ম্যাচের সময় নিষিদ্ধ আকাশসীমায় ড্রোন ওড়ানোর অভিযোগে এক ব্যক্তির বিরুদ্ধে মামলা হয়।

পরে তিনি আদালতে নিজের দোষ স্বীকার করেন।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

অধিভুক্ত কলেজগুলোর জন্য জরুরি নির্দেশনা জারি জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

স্পোর্টস ডেস্ক

মঙ্গলবার, ৭ই জুলাই, ২০২৬ ইং

০৯:৪৮ এম


অধিভুক্ত কলেজগুলোর জন্য জরুরি নির্দেশনা জারি জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের

জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের অধিভুক্ত সকল কলেজ ও শিক্ষা প্রতিষ্ঠানকে জরুরি নির্দেশনা প্রদান করে একটি প্রজ্ঞাপন জারি করা হয়েছে। এতে বলা হয়েছে, বিশ্ববিদ্যালয়ের সঙ্গে যোগাযোগের জন্য ই-মেইল ব্যবহারের ক্ষেত্রে শুধুমাত্র জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ কর্তৃক প্রদত্ত অফিসিয়াল ই-মেইল আইডি (কলেজ কোড@nu.ac.bd) ব্যবহার করতে হবে। ব্যক্তিগত বা অন্য কোনো ই-মেইল আইডি থেকে পাঠানো আবেদন, তথ্য বা বার্তা কোনোভাবেই গ্রহণ করা হবে না বলে জানানো হয়েছে।

সম্প্রতি কলেজ পরিদর্শন দপ্তর থেকে জারি হওয়া এক প্রজ্ঞাপনে এসব নির্দেশনা উল্লেখ করা হয়েছে। প্রজ্ঞাপনে উল্লেখ করা হয়েছে যে, নির্দেশনা থাকা সত্ত্বেও অনেক অধিভুক্ত কলেজ ও শিক্ষা প্রতিষ্ঠান বিভিন্ন বিষয়ে অনলাইনে আবেদন বা তথ্য পাঠানোর জন্য এখনো ব্যক্তিগত বা অন্য ই-মেইল ব্যবহার করছে। এর ফলে দাপ্তরিক কার্যকলাপে বিলম্ব সৃষ্টি হচ্ছে।

আবেদন যাচাই-এর ক্ষেত্রে জটিলতা এতটা বৃদ্ধি পাচ্ছে যে, বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষের সিদ্ধান্ত গ্রহণ প্রক্রিয়া দীর্ঘসূত্রতায় পরিণত হচ্ছে।

এ অবস্থায়, কলেজ পরিদর্শন দপ্তরের ই-মেইল ([email protected])-এ কোনো আবেদন বা তথ্য পাঠানোর ক্ষেত্রে অবশ্যই জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃক প্রদান করা অফিসিয়াল ই-মেইল আইডি (কলেজ কোড@nu.ac.bd) ব্যবহার করতে হবে। ব্যক্তিগত বা অন্য কোনো ই-মেইল থেকে পাঠানো আবেদন বা তথ্য গ্রহণযোগ্য হবে না বলেও প্রজ্ঞাপনে উল্লেখ করা হয়েছে।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

জ্বালানি সংকটে কিউবায় ভয়াবহ বিদ্যুৎ বিভ্রাট, বিপর্যস্ত জনজীবন

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

মঙ্গলবার, ৭ই জুলাই, ২০২৬ ইং

০৯:৫১ এম


জ্বালানি সংকটে কিউবায় ভয়াবহ বিদ্যুৎ বিভ্রাট, বিপর্যস্ত জনজীবন

জ্বালানি সংকটের কারণে কিউবায় ভয়াবহ বিদ্যুৎ বিভ্রাট (ব্ল্যাকআউট) দেখা দিয়েছে সোমবার (৬ জুলাই)। বৈদ্যুতিক গ্রিড সম্পূর্ণ ভেঙে পড়ার ফলে দেশটির প্রায় ১ কোটি মানুষের বিদ্যুৎ সরবরাহ একেবারে বন্ধ হয়ে গেছে। এর ফলে সাধারণ মানুষ চরম ভোগান্তির শিকার হয়েছেন। সরকারের পক্ষ থেকে জানা গেছে যে, বিদ্যুৎ পরিস্থিতি স্বাভাবিক করার জন্য জরুরি পদক্ষেপ নেওয়া হচ্ছে। তবে জাতীয় বিদ্যুৎ সরবরাহ কবে পর্যন্ত ঠিক হবে, তা নিশ্চিত করা যায়নি। কিউবার রাষ্ট্রায়ত্ত বিদ্যুৎ কম্পানি 'ইলেকট্রিক ইউনিয়ন' জানিয়েছে, গ্রিড ভেঙে পড়ার কারণ খতিয়ে দেখা হচ্ছে। অন্যদিকে, দেশটির জ্বালানি ও খনি মন্ত্রণালয় বলেছে, বিদ্যুৎ ব্যবস্থা সচল করার জন্য বিশেষ প্রোটোকল চালু করা হয়েছে। মূলত, গত জানুয়ারি মাস থেকেই কিউবায় জ্বালানি তেলের তীব্র ঘাটতি চলছে। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প কিউবাতে তেল সরবরাহকারী যেকোনো দেশের ওপর বাড়তি শুল্ক আরোপের হুমকি দেওয়ার পর থেকে এই সংকট আরও বাড়ে। এর ফলে, দেশের বাইরে থেকে তেল আসা প্রায় বন্ধ হয়ে গেছে। টানা বিদ্যুৎ না থাকার কারণে কিউবার সাধারণ জীবনযাত্রা স্থবির হয়ে পড়েছে। গণপরিবহন চলাচল প্রায় সম্পূর্ণরূপে বন্ধ হয়ে গেছে। হাসপাতালগুলোতে জরুরি অস্ত্রোপচার হাজার হাজার বাতিল করতে হয়েছে। বিদ্যুৎ সরবরাহ বন্ধ হওয়ায় পানি এবং গ্যাসের সরবরাহও বিঘ্নিত হয়েছে। হাভানার ৩৬ বছর বয়সী বাসিন্দা লিনা মে বলেন, ‘বাবাকে বলেছি এখন কাঠকয়লা কিনতে হবে, নাহলে আমরা না খেয়েই মারা যাব।’ আরেক বাসিন্দা মারিও পেদ্রোসো হতাশা প্রকাশ করে বলেন, ‘বেশ কিছুদিন ধরে দেশে তেল আসছে না। কষ্ট সহ্য করা ছাড়া এখন আমাদের আর কোনো উপায় নেই।’ কিউবা তাদের চাহিদার ৪০ শতাংশ জ্বালানি নিজে উৎপাদন করতে পারে। বাকিটা আমদানির ওপর নির্ভরশীল। গত মার্চ মাসের শেষে রাশিয়া থেকে ৭ লাখ ৩০ হাজার ব্যারেল তেল এলেও এপ্রিলের শেষে তা ফুরিয়ে যায়। জ্বালানি বাঁচাতে, সরকার প্রতিদিন ঘণ্টার পর ঘণ্টা বিদ্যুৎ বন্ধ রাখছিল, যা অনেক সময় ২৪ ঘণ্টা পর্যন্তও চলে গিয়েছে। এর আগে, মার্চ ও মে মাসেও কিউবায় এমন বড় ধরনের ব্ল্যাকআউট বা বিদ্যুৎ বিপর্যয়ের ঘটনা ঘটেছিল।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

পণ্যবোঝাই ২৫০ কনটেইনার ঘিরে চট্টগ্রাম বন্দর-কাস্টমসের টানাপোড়েন

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

তালাশ বিডি ডেস্ক

মঙ্গলবার, ৭ই জুলাই, ২০২৬ ইং

০৯:৫৩ এম


পণ্যবোঝাই ২৫০ কনটেইনার ঘিরে চট্টগ্রাম বন্দর-কাস্টমসের টানাপোড়েন

চট্টগ্রাম বন্দর থেকে গত চার বছরে আমদানি করা ২৫০টি পণ্যবোঝাই কনটেইনারের হদিস না পাওয়া নিয়ে বন্দর কর্তৃপক্ষ ও কাস্টমস হাউজের মধ্যে শুরু হয়েছে টানাপোড়েন।

এ ঘটনাকে কেন্দ্র করে সরকারি এই দুই গুরুত্বপূর্ণ সংস্থার মধ্যে পাল্টাপাল্টি চিঠি চালাচালি চলছে। কাস্টমস হাউজের অভিযোগ, ছয় দফা চিঠি দিয়েও কনটেইনারের অবস্থান জানা যায়নি। কিন্তু বন্দর কর্তৃপক্ষের দাবি হলো, নিয়ম মেনেই ৮৮টি কনটেইনার ডেলিভারি দেয়া হয়েছে। বাকিগুলো বিভিন্ন অফডক ও নিলামের জন্য সংরক্ষণ করা আছে।

বিদেশ থেকে আমদানি করা কোনো পণ্য যদি চট্টগ্রাম বন্দরে পৌঁছায়, তাহলে কাস্টমসের শুল্কায়নসহ প্রয়োজনীয় প্রক্রিয়া শেষ হলেই তা ডেলিভারি দেয়া হয়। কিন্তু বর্তমানে চট্টগ্রাম কাস্টমস হাউজ বন্দরের কাছে পাঠানো এক চিঠিতে অভিযোগ করা হয়েছে যে, পণ্যবোঝাই ২৫০টি কনটেইনারের কোনো হদিস পাওয়া যাচ্ছে না।

চিঠিতে বোঝানো হয়, ২০২১ সালে ৮৩টি, ২০২২ সালে ৬১টি, ২০২৩ সালে ৪০টি এবং ২০২৪ সালে ৬৬টি কনটেইনারের অবস্থান জানা যায়নি। চোরাচালান, রাজস্ব ফাঁকি বা সন্দেহজনক পণ্যের তথ্য পাওয়ায় এসব কনটেইনার খালাস স্থগিত অথবা লক করা হয়েছিল।

চট্টগ্রাম কাস্টম হাউজের সহকারী কমিশনার শরীফ মো. আল আমিন বলেন, ঝুঁকিপূর্ণ পণ্যচালানের ক্ষেত্রে আগের তথ্য, বিভিন্ন উপাত্ত ও গোয়েন্দা তথ্য যাচাই-বাছাই করেই পুরো চালানে লক দেয়া হয়।

অন্যদিকে, বন্দর কর্তৃপক্ষের তথ্য অনুযায়ী, কাস্টমসের অভিযোগে উল্লেখ করা ২৫০টি কনটেইনারের মধ্যে ১৬৪টি পণ্যচালানে ২৯৩টি এফসিএল বক্স এবং ৮৩টি পণ্যচালানে এলসিএল কার্গো রয়েছে। এর মধ্যে কাস্টমসের আউটপাসের মাধ্যমে ৮৮টি কনটেইনার ডেলিভারি দেয়া হয়েছে। ৭০টি কনটেইনার বিভিন্ন প্রাইভেট ডিপোতে হস্তান্তর করা হয়েছে এবং ১৩১টি কনটেইনার এখনো বন্দরের ইয়ার্ডে রয়েছে। এছাড়া কাস্টমসের চিঠিতে ৪০টি চালানের ভুল বিএল নম্বর উল্লেখ করা হয়েছিল।

বন্দর কর্তৃপক্ষের দাবি, কোনো কনটেইনারও হারিয়ে যায়নি। এ নিয়ে সোমবার (৬ জুলাই) সন্ধ্যায় কাস্টমসকে একটি চিঠি দেয়া হয়েছে। চট্টগ্রাম বন্দর কর্তৃপক্ষের সচিব সৈয়দ রেফায়েত হামীম বলেন, কোনো কনটেইনার বা পণ্যচালান নিখোঁজ হওয়ার ঘটনা ঘটেনি। কাস্টমস কর্তৃপক্ষ কিছু নির্দিষ্ট পণ্যচালানের তথ্য চেয়েছিল এবং তার জবাবে বিস্তারিত তথ্য পাঠানো হয়েছে।

আমদানি করা পণ্যবোঝাই কনটেইনারের হদিস না পাওয়া নিয়ে দুই সংস্থার এই চিঠি চালাচালি দেখে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন বন্দর ব্যবহারকারী ব্যবসায়ীরা। তাদের মতে, মিথ্যা ঘোষণার মাধ্যমে যেমন পণ্য গায়েব হওয়ার সুযোগ থাকা উচিত নয়, তেমনি আমদানিকারকরাও কাঙ্ক্ষিত পণ্য না পেয়ে ক্ষতির মুখে পড়ছেন। তাই ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের মাধ্যমে বিস্তারিত তদন্ত করে এ জটিলতার সমাধান করতে হবে।

চট্টগ্রাম কাস্টম এজেন্ট অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি এস এম সাইফুল আলম বলেন, কনটেইনার উধাও হওয়ার পেছনে কোনো দুষ্টচক্র থাকতে পারে। এ ঘটনায় কারা জড়িত, তা আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকেই খুঁজে বের করতে হবে।

বাফার সাবেক ভাইস প্রেসিডেন্ট খায়রুল আলম সুজন বলেন, চোরাচালানের সঙ্গে জড়িতদের অনেক সময় কনটেইনারে যে পণ্য আনে, তার সঠিক ঘোষণা দেওয়া হয় না। আমরা ব্যবসায়ীরাও চাই, ভবিষ্যতে এ ধরনের জটিলতা আর না ঘটুক।

প্রতি বছর চট্টগ্রাম বন্দরে ৩৪ থেকে ৩৫ লাখ আমদানি-রফতানি কনটেইনার হ্যান্ডলিং হয়। এসব কনটেইনার বন্দরে প্রবেশ ও ডেলিভারির সময় অন্তত চার স্তরের নিরাপত্তা বলয় অতিক্রম করতে হয়। জনপ্রিয় চোরাচালান বা শুল্ক ফাঁকির সন্দেহ হলে অ্যাসাইকুডা ওয়ার্ল্ড সিস্টেম সফটওয়্যার ব্যবহার করে পণ্যের ডেলিভারি আটকে দিয়ে কাস্টমস কর্তৃপক্ষ কায়িক পরীক্ষা করে।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

পঞ্চদশ সংশোধনী নিয়ে হাইকোর্টের রায়ের বিরুদ্ধে দ্বিতীয় দিনের আপিল শুনানি চলছে

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

তালাশ বিডি ডেস্ক

মঙ্গলবার, ৭ই জুলাই, ২০২৬ ইং

১০:০১ এম


পঞ্চদশ সংশোধনী নিয়ে হাইকোর্টের রায়ের বিরুদ্ধে দ্বিতীয় দিনের আপিল শুনানি চলছে

বহুল আলোচিত সাবেক তত্ত্বাবধায়ক সরকারব্যবস্থা বাতিলসহ সংবিধানের পঞ্চদশ সংশোধনীতে আনা কয়েকটি বিষয় অবৈধ ঘোষণা করে হাইকোর্টের রায়ের বিরুদ্ধে করা আপিলের শুনানি এখনও চলছে, দ্বিতীয় দিনের মতো।

মঙ্গলবার (৭ জুলাই) সকালে প্রধান বিচারপতির নেতৃত্বাধীন আপিল বিভাগে দ্বিতীয় দিনের শুনানি শুরু হয়েছে।

এদিন আদালতে রাষ্ট্রপক্ষে রয়েছেন অ্যাটর্নি জেনারেল মো. রুহুল কুদ্দুস কাজল। রিটের পক্ষে প্রতিনিধিত্ব করছেন অ্যাডভোকেট মোহাম্মদ শিশির মনির ও ড. শরীফ ভূঁইয়া।

এর আগে গত বছরের ১৩ নভেম্বর বহুল আলোচিত তত্ত্বাবধায়ক সরকার ব্যবস্থা বাতিলসহ সংবিধানের পঞ্চদশ সংশোধনীতে আনা কয়েকটি বিষয় অবৈধ ঘোষণা করে হাইকোর্টের রায়ের বিরুদ্ধে আপিলের অনুমতি দেন সর্বোচ্চ আদালত। প্রধান বিচারপতি ড. সৈয়দ রেফাত আহমেদের নেতৃত্বাধীন আপিল বিভাগ এ আদেশটি প্রদান করেন।

আদালতে আবেদনের পক্ষে শুনানি করেন আইনজীবী ড. শরীফ ভূঁইয়া, এবং রাষ্ট্রপক্ষে শুনানি করেন অতিরিক্ত অ্যাটর্নি জেনারেল ব্যারিস্টার অনীক আর হক।

গত ৩ নভেম্বর সমাজে বহুল আলোচিত তত্ত্বাবধায়ক সরকার ব্যবস্থা বাতিলসহ সংবিধানের পঞ্চদশ সংশোধনীতে আনা কয়েকটি বিষয় অবৈধ ঘোষণা করে হাইকোর্টের রায়ের বিরুদ্ধে লিভ টু আপিল দায়ের করা হয়, যেখানে পঞ্চদশ সংশোধনীর পুরোটা বাতিলের দাবি করা হয়।

রিটকারী সুজনের সম্পাদক বদিউল আলম মজুমদারের পক্ষে আইনজীবী ড. শরীফ ভূঁইয়া এ আপিলটি দায়ের করেন।

গত বছরের ১৭ ডিসেম্বর হাইকোর্ট বহুল আলোচিত তত্ত্বাবধায়ক সরকার ব্যবস্থা বাতিলসহ সংবিধানের পঞ্চদশ সংশোধনীতে আনা কয়েকটি বিষয় অবৈধ ঘোষণা করেন এবং একইসঙ্গে সংবিধানে গণভোটের বিধান ফিরিয়ে আনেন উচ্চ আদালত। তবে উল্লেখ্য, পঞ্চদশ সংশোধনী পুরোটা বাতিল করা হয়নি এ রায়ে।

আদালতের রায়ের পর্যবেক্ষণে বলা হয়েছে, "গণতন্ত্র হচ্ছে আমাদের সংবিধানের মৌলিক কাঠামোর অংশ।" এ গণতন্ত্র বিকশিত হয় অবাধ, সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ এবং প্রভাবমুক্ত নির্বাচনের মধ্য দিয়ে। কিন্তু দলীয় সরকারের অধীনে বিগত তিনটি সংসদ নির্বাচনে জনগণের ইচ্ছার কোনো প্রতিফলন হয়নি, এবং দলীয় সরকারের অধীনে সুষ্ঠু নির্বাচনের আত্মবিশ্বাস জনগণের মধ্যে জন্ম নেয়নি। এর ফলশ্রুতিতে জুলাই গণঅভ্যুত্থান ঘটেছে।

হাইকোর্ট রায়ে বলেন, তত্ত্বাবধায়ক সরকার ব্যবস্থা জনগণের অভিপ্রায় অনুযায়ী সংবিধানে অন্তর্ভুক্ত হয়েছিল এবং এটি সংবিধানের মৌলিক কাঠামোর একটি অংশ হয়ে উঠেছে। বিচারপতি ফারাহ মাহবুব ও বিচারপতি দেবাশীষ রায় চৌধুরীর হাইকোর্ট বেঞ্চ এই রায় ঘোষণা করেন।

তত্ত্বাবধায়ক সরকার ব্যবস্থা বিলুপ্তি-সংক্রান্ত পঞ্চদশ সংশোধনী আইনের ২০ ও ২১ অনুচ্ছেদ সংবিধানের সঙ্গে সাংঘর্ষিক ও বাতিল ঘোষণা করে এই রায় প্রদান করেন হাইকোর্ট। রায়ে আদালত বলেন, অনুচ্ছেদ দুটি সংবিধানের মৌলিক কাঠামোকে ধ্বংস করেছে, যা হচ্ছে গণতন্ত্র। পঞ্চদশ সংশোধনী মাধ্যমে সংবিধানে যুক্ত ৭ক, ৭খ, ৪৪ (২) অনুচ্ছেদ সংবিধানের সঙ্গে সাংঘর্ষিক ও বাতিল ঘোষণা করা হয়েছে। উল্লেখ্য, পঞ্চদশ সংশোধনীর মাধ্যমে ৫৪টি ক্ষেত্রে সংযোজন, পরিমার্জন ও প্রতিস্থাপন আনা হয়েছিল।

আদালত জানায়, পঞ্চদশ সংশোধনী আইন পুরোটা বাতিল করা হচ্ছে না। বাকি বিধানগুলোর বিষয়ে আগামী জাতীয় সংসদ আইন অনুসারে জনগণের মতামত নিয়ে সংশোধন, পরিমার্জন ও পরিবর্তন করতে পারবে। এর অন্তর্ভুক্ত রয়েছে জাতির পিতার স্বীকৃতির বিষয়, ২৬ মার্চের ভাষণের বিষয়াবলী।

বহুল আলোচিত গণভোটের বিধান বিলুপ্ত করা হয়েছে, যা সংবিধানের ১৪২ অনুচ্ছেদের অংশ ছিল। এ বিধান বিলুপ্তি সংক্রান্ত পঞ্চদশ সংশোধনী আইনের ৪৭ ধারা সংবিধানের মৌলিক কাঠামোর সঙ্গে অসামঞ্জস্যপূর্ণ হওয়ায় বাতিল ঘোষণা করা হয়েছে। ফলে দ্বাদশ সংশোধনীর ১৪২ অনুচ্ছেদ পুনর্বহাল করা হয়েছে।

হাইকোর্টের রায়ে ৭ ক, ৭ খ এবং ৪৪ (২) অনুচ্ছেদও বাতিল করা হয়েছে। ৭ ক অনুচ্ছেদে সংবিধান বাতিল, স্থগিতকরন, ইত্যাদি অপরাধ এবং ৭ খ সংবিধানের মৌলিক বিধানাবলি সংশোধন অযোগ্য করার বিষয় ছিল। অন্যদিকে ৪৪ অনুচ্ছেদ মৌলিক অধিকার বলবৎকরণ সম্পর্কে নির্দেশ দিয়েছে। এ অনুচ্ছেদের ২ ধারা বলছে, এই সংবিধানের ১০২ অনুচ্ছেদের অধীন হাইকোর্ট বিভাগের ক্ষমতার হানি না ঘটিয়ে সংসদ আইন দ্বারা অন্য কোনো আদালতকে তাদের এখতিয়ারের স্থানীয় সীমার মধ্যে ওইসব বা এর কোনো ক্ষমতা প্রয়োগের ক্ষমতা দান করতে পারবেন। এই অনুচ্ছেদটি রায়ে বাতিল ঘোষণা করা হয়েছে। বেঞ্চের জ্যেষ্ঠ বিচারপতি ফারাহ মাহবুব পৌনে দুই ঘণ্টাব্যাপী এ রায় ঘোষণা করেন।

আদালতে রাষ্ট্রপক্ষে উপস্থিত ছিলেন অ্যাটর্নি জেনারেল (সাবেক) মো. আসাদুজ্জামান, ডেপুটি অ্যাটর্নি (সাবেক) জেনারেল মো. আসাদ উদ্দিন। রিটকারী প্রতিষ্ঠান সুজনের বদিউল আলমের পক্ষে ছিলেন সিনিয়র আইনজীবী ড. শরিফ ভূঁইয়া। বিএনপির পক্ষে আইনজীবীরা ছিলেন সিনিয়র আইনজীবী জয়নুল আবেদীন, ব্যারিস্টার কায়সার কামাল, ব্যারিস্টার বদরুদ্দোজা বাদল, ব্যারিস্টার রুহুল কুদ্দুস কাজল, অ্যাডভোকেট ফারজানা শারমিন পুতুল। জামায়াতের পক্ষে ছিলেন অ্যাডভোকেট মোহাম্মদ শিশির মনির, ব্যারিস্টার এহসান সিদ্দিকী। ইনসানিয়াত বিপ্লবের পক্ষে শুনানি করেন অ্যাডভোকেট ইশরাত হাসান। চার আবেদনকারীর পক্ষে ছিলেন ব্যারিস্টার জুনায়েদ আহমেদ চৌধুরী, ব্যারিস্টার নিশাত মাহমুদ, ইন্টারভেনর হিসেবে ছিলেন ব্যারিস্টার হামিদুল মিসবাহ, সেন্টার ফর ল’ গভর্নেন্স ও পলিসির পক্ষে ছিলেন ব্যারিস্টার এহসান আবদুল্লাহ সিদ্দিকী।

গত বছরের ১৯ আগস্ট তত্ত্বাবধায়ক সরকার বাতিল করে সংবিধানের পঞ্চদশ সংশোধনী কেন অবৈধ হবে না তা জানতে চেয়ে হাইকোর্ট রুল জারি করেছিলেন। বিচারপতি নাইমা হায়দার ও বিচারপতি শশাঙ্ক শেখর সরকারের হাইকোর্ট বেঞ্চ এ রুল জারি করেছিলেন। সুজনের সম্পাদক ড. বদিউল আলম মজুমদারসহ অন্যান্যদের রিট আবেদনের শুনানি নিয়ে আদালত এই রুল জারি করে।

পরে রুলে পক্ষভুক্ত হন বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর এবং জামায়াতে ইসলামীর সেক্রেটারি জেনারেল মিয়া গোলাম পরওয়ার। এছাড়া ইনসানিয়াত বিপ্লব, গণফোরাম ও চার আবেদনকারী রুলে ইন্টারভেনর হিসেবে পক্ষভুক্ত হন।

২০১১ সালের ৩০ জুন জাতীয় সংসদে পঞ্চদশ সংশোধনী পাস হয়। এই সংশোধনের মাধ্যমে শেখ মুজিবুর রহমানকে জাতির জনক হিসেবে স্বীকৃতি দেওয়া হয়। এই সংশোধনের মাধ্যমে তত্ত্বাবধায়ক সরকার ব্যবস্থা বাতিল করা হয়। পাশাপাশি জাতীয় সংসদে নারীদের জন্য সংরক্ষিত আসন সংখ্যা বিদ্যমান ৪৫-এর স্থলে ৫০ করা হয়। এছাড়াও বেশ কিছু বিষয়ে সংশোধনী আনা হয়েছিল।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

আর্কাইভ

Please select a date!

নামাজের সময়সূচী

তারিখঃ ২৬শে জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিঃ
ফজর ০৪:৫০
জোহর ১১:৪৩
আসর ০৩:৪০
মাগরিব ০৫:১৬
ইশা ০৬:২৯
সূর্যোদয় : ০৬:০৮ সূর্যাস্ত : ০৫:১৬
অনলাইন জরিপ
ফলাফল
থার্টি-ফার্স্ট নাইটে তরুণদের জন্য প্রকাশ্যে পানি-টানি খাওয়ার বিরুদ্ধে আহ্বান। আপনার মন্তব্য দিন
হ্যা
100%
না
0%
মন্তব্য নেই
0%