০৯:৪৭ এম
যুক্তরাষ্ট্রে চলমান ফিফা বিশ্বকাপকে ঘিরে নিরাপত্তা জোরদার করেছে দেশটির আইনশৃঙ্খলা ও বিমান চলাচল কর্তৃপক্ষ।
টুর্নামেন্ট শুরুর পর থেকে খেলার ভেন্যু এবং সমর্থকদের জমায়েতের এলাকাগুলোর আশপাশে ৬০০টির বেশি ড্রোন জব্দ করা হয়েছে।
সোমবার এ তথ্য জানিয়েছে যুক্তরাষ্ট্রের পরিবহন নিরাপত্তা প্রশাসন (টিএসএ)।
আরও পড়ুন: সাভার-আশুলিয়ার শিল্পাঞ্চলে ৮৮ কারখানা কর্মমুখর হয়ে উঠছে
টিএসএ জানায়, ১১ জুন বিশ্বকাপ শুরু হওয়ার পর থেকে বিভিন্ন স্টেডিয়াম ও ফ্যান জোনের নিষিদ্ধ আকাশসীমায় অনুমতি ছাড়া ড্রোন উড়ানোর একাধিক ঘটনা ঘটেছে।
এসব ড্রোন নিরাপত্তার স্বার্থে জব্দ করা হয়েছে। নিয়ম অনুযায়ী, খেলার দিন স্টেডিয়ামের চারপাশে তিন নটিক্যাল মাইল এলাকাজুড়ে এবং মাটি থেকে ৩ হাজার ফুট বা প্রায় ৯১৪ মিটার উচ্চতা পর্যন্ত সব ধরনের উড়োজাহাজ চলাচল নিষিদ্ধ থাকে।
এই নিষেধাজ্ঞার আওতায় ড্রোনও রয়েছে।
তবে বিমান চলাচল নিয়ন্ত্রণ কর্তৃপক্ষের বিশেষ অনুমতি থাকলে এই নিয়ম প্রযোজ্য হয় না।
আরও পড়ুন: ছাত্রীদের ওপর পুলিশের লাঠিচার্জের নিন্দা জানালেন এমপি নূরুন্নিসা
যুক্তরাষ্ট্রের কেন্দ্রীয় তদন্ত সংস্থা এফবিআই জানিয়েছে, বিশ্বকাপের আয়োজক ১১টি শহরের প্রতিটিতেই নিষিদ্ধ আকাশসীমা থেকে ড্রোন জব্দ করা হয়েছে।
অর্থাৎ কোনো আয়োজক শহরই এ ধরনের ঘটনার বাইরে ছিল না।
এফবিআইয়ের তথ্য অনুযায়ী, শুধু মায়ামিতেই এখন পর্যন্ত ১৩০টি ড্রোন জব্দ করা হয়েছে। এবং ডালাসে পাঁচটি ম্যাচ চলাকালে ৭০টির বেশি ড্রোন আটক করা হয়েছে।
ফেডারেল বিমান চলাচল প্রশাসন (এফএএ) জানিয়েছে, বিশ্বকাপের সব ম্যাচের স্টেডিয়াম এবং সংশ্লিষ্ট সমর্থকদের জমায়েতের এলাকায় ড্রোন উড়ানো সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ।
আরও পড়ুন: ৬৪ টেস্টে ২২৯ উইকেট, সাদা জার্সিকে বিদায় জানালেন শামি
ফ্যান জোনের এক নটিক্যাল মাইলের মধ্যে এবং মাটি থেকে এক হাজার ফুট উচ্চতা পর্যন্ত এই নিষেধাজ্ঞা কার্যকর রয়েছে।
এফবিআই সতর্ক করে বলেছে, অনুমতি ছাড়া কেউ নিষিদ্ধ আকাশসীমায় ড্রোন ওড়ালে তার বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
এ ধরনের অপরাধে সর্বোচ্চ এক লাখ ডলার জরিমানা হতে পারে।
পাশাপাশি ফৌজদারি মামলাও হতে পারে এবং সংশ্লিষ্ট ড্রোন জব্দ করা হবে।
আরও পড়ুন: ইংলিশ ক্রিকেটার ব্রায়ান ডিভাইন পন্টিংকে মাঠে আঙুল ফুটিয়ে দুই বছরের জন্য নিষিদ্ধ
ইউক্রেন ইস্যুতে রাশিয়াকে আলোচনায় আনতে চীনকে নরওয়ের আহ্বান
নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে বিশ্বকাপের স্টেডিয়ামগুলোর আশপাশে এফবিআইয়ের বিশেষ দল মোতায়েন রয়েছে।
এসব দল বিশেষ প্রযুক্তি ব্যবহার করে অনুমতি ছাড়া উড়ানো ড্রোন শনাক্ত এবং প্রয়োজনে নিষ্ক্রিয় করছে।
গত সপ্তাহে এ ধরনের একটি ঘটনার জেরে ৪০ বছর বয়সী মেক্সিকোর নাগরিক ক্রিস্তোবাল তোরেস আলভারেজের বিরুদ্ধে মামলা করা হয়েছে।
আরও পড়ুন: জাতীয় বিপ্লব ও সংহতি দিবস আজ
অভিযোগ রয়েছে, ডালাসের একটি স্টেডিয়ামে ম্যাচ শুরুর আগে তিনি নিষিদ্ধ আকাশসীমায় একটি ড্রোন উড়িয়েছিলেন।
ড্রোনজনিত নিরাপত্তা ঝুঁকি মোকাবিলায় যুক্তরাষ্ট্র আগেই বিভিন্ন পদক্ষেপ নিয়েছে।
২০২৫ সালে প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প হুমকিস্বরূপ ড্রোন প্রতিরোধে দেশের প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা আরো শক্তিশালী করার জন্য একটি নির্বাহী আদেশে সই করেন।
একই সময়ে যুক্তরাষ্ট্রের স্বরাষ্ট্র নিরাপত্তা বিভাগ টেক্সাসে যুক্তরাষ্ট্র-মেক্সিকো সীমান্তে নতুন ড্রোন প্রতিরোধ ব্যবস্থা স্থাপন করে।
আরও পড়ুন: জামায়াতে ইসলামীর ইসলাম অস্বীকার করলেন হেফাজতের আমির বাবুনগরী
গত কয়েক বছরে যুক্তরাষ্ট্রের বড় বড় ক্রীড়া আসরে ড্রোন-সংক্রান্ত একাধিক অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনা ঘটেছে।
২০২৫ সালে বাল্টিমোরে ন্যাশনাল ফুটবল লিগের (এনএফএল) একটি প্লে-অফ ম্যাচের সময় নিষিদ্ধ আকাশসীমায় ড্রোন ওড়ানোর অভিযোগে এক ব্যক্তির বিরুদ্ধে মামলা হয়।
পরে তিনি আদালতে নিজের দোষ স্বীকার করেন।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন