মোঃ সজিব হোসেন স্টাফ রিপোর্টার, পাবনা
বৃহস্পতিবার, ১৭ই সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ইং
০৮:০৫ পি.এম
পাবনা সদর উপজেলার দোগাছী ইউনিয়নের কুলনিয়া গ্রামে ১০ বছর বয়সী শিশু মোছা. কামরুন্নাহার কলি হত্যার মূল রহস্য উদঘাটন করেছে পুলিশ। এ ঘটনায় জড়িত প্রধান দুই আসামিকে গ্রেফতার করা হয়েছে।
পুলিশ জানায়, গত ৯ সেপ্টেম্বর সন্ধ্যায় কুলনিয়া গ্রামের কামাল প্রামাণিকের মেয়ে কামরুন্নাহার কলি নিখোঁজ হয়। পরে ১৬ সেপ্টেম্বর সকালে স্থানীয়দের তথ্যের ভিত্তিতে বাড়ির পাশের একটি ডোবা থেকে বস্তাবন্দি অবস্থায় তার মরদেহ উদ্ধার করা হয়। এ সময় মরদেহের সঙ্গে ইটসহ বিভিন্ন আলামত জব্দ করা হয়।
তদন্তে বেরিয়ে আসে, ঘটনার দিন আসামি মোস্তফা ও ইয়াসিন কৌশলে শিশুটিকে মোস্তফার মুদি দোকানের পেছনের কক্ষে নিয়ে যায়। সেখানে তাকে জোরপূর্বক ধর্ষণের পর পরিচয় ফাঁসের ভয়ে শ্বাসরোধ করে হত্যা করা হয়। পরে লাশ গুমের উদ্দেশ্যে হলুদ রঙের প্লাস্টিকের বস্তায় ভরে প্রথমে ঘরের খাটের নিচে রাখা হয়। পরদিন রাতে বস্তাটি আরেকটি সাদা বস্তায় ইটসহ বেঁধে বাড়ির পাশের পরিত্যক্ত ডোবায় ডুবিয়ে রাখা হয়।
এদিকে, এলাকাবাসীর মানববন্ধন ও বাড়ি তল্লাশির ঘোষণার পর আসামিরা লাশ সরানোর চেষ্টা করে। তবে দুর্গন্ধ ও আশপাশে কুকুরের ডাকে আতঙ্কিত হয়ে তারা বস্তাবন্দি মরদেহটি সেফটি ট্যাংকের পাশে ফেলে পালিয়ে যায়।
পুলিশ আরও জানায়, তদন্তে গ্রেফতারকৃত মোস্তফার মোবাইল ফোন থেকে গুরুত্বপূর্ণ ডিজিটাল আলামত পাওয়া গেছে। ঘটনার দিন সকালে সে শিশুটির ছবি গোপনে ধারণ করে পরে মুছে ফেললেও সেগুলো পুনরুদ্ধার করা হয়েছে। যা তার অপরাধের পূর্বপরিকল্পনা ও উদ্দেশ্যের প্রমাণ হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।
গ্রেফতারকৃত আসামিরা হলেন— মোঃ মোস্তফা কামাল (৫৫), গ্রাম কুলনিয়া, দোগাছী, পাবনা এবং মোঃ ইয়াছিন আলী (২১), স্থায়ী ঠিকানা সিরাজগঞ্জ হলেও বর্তমানে কুলনিয়ায় বসবাসরত।
পাবনা জেলা পুলিশ জানায়, আসামিদের বিরুদ্ধে অধিকতর জিজ্ঞাসাবাদের জন্য রিমান্ড আবেদন করা হবে। একই সঙ্গে মামলাটির সুষ্ঠু তদন্তের স্বার্থে এর দায়িত্ব জেলা গোয়েন্দা শাখা (ডিবি)-এর কাছে ন্যস্ত করা হয়েছে। দ্রুত সময়ের মধ্যে আদালতে অভিযোগপত্র দাখিল করা হবে বলেও জানানো হয়।
এ ঘটনায় এলাকায় শোক ও ক্ষোভ বিরাজ করছে। স্থানীয়রা দোষীদের সর্বোচ্চ শাস্তির দাবি জানিয়েছেন।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
পিরোজপুরের কাউখালীতে ডেঙ্গুর প্রকোপ আশঙ্কাজনক হারে বৃদ্ধি পাওয়ায় উপজেলা সরকারি হাসপাতালে শয্যা ও স্থান সংকট দেখা দিয়েছে। নির্ধারিত শয্যা পূর্ণ হয়ে যাওয়ায় বাধ্য হয়ে অনেক ডেঙ্গু রোগীকে হাসপাতালের মেঝে ও করিডোরে চিকিৎসা নিতে হচ্ছে। এতে সাধারণ রোগী ও স্বজনদের মধ্যে স্বাস্থ্যঝুঁকি নিয়ে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে।
বৃহস্পতিবার (১৭ সেপ্টেম্বর) সরেজমিনে কাউখালী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে গিয়ে দেখা যায়, ডেঙ্গু রোগীদের জন্য নির্ধারিত ওয়ার্ডের শয্যা পূর্ণ হয়ে গেছে। ফলে করিডোর এবং সাধারণ রোগীদের কাছাকাছি মেঝেতে ডেঙ্গু আক্রান্তদের চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে। আক্রান্তদের মশারির ভেতরে রাখা হলেও একই স্থানে সাধারণ রোগীদের অবস্থানের কারণে মশাবাহিত এ রোগের সংক্রমণ ছড়িয়ে পড়ার আশঙ্কা করছেন রোগী ও তাদের স্বজনরা।
হাসপাতাল সূত্রে জানা গেছে, জেলা স্বাস্থ্য বিভাগের ১৭ সেপ্টেম্বরের তথ্য অনুযায়ী, কাউখালী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে এ পর্যন্ত ১৬১ জন ডেঙ্গু রোগী ভর্তি হয়েছেন। এর মধ্যে ১৪৭ জন সুস্থ হয়ে বাড়ি ফিরেছেন এবং বর্তমানে ১৪ জন ডেঙ্গু রোগী চিকিৎসাধীন রয়েছেন।
হাসপাতালে রোগীদের দেখতে আসা স্বজনরা বলেন, অতিরিক্ত রোগীর চাপে চরম ভোগান্তি পোহাতে হচ্ছে। ডেঙ্গু রোগীদের জন্য অবিলম্বে পৃথক ভবন বা আলাদা কক্ষের ব্যবস্থা করা প্রয়োজন। পাশাপাশি অবহেলিত এই উপজেলার মানুষের চিকিৎসাসেবা নিশ্চিত করতে নির্মাণাধীন ১০১ শয্যাবিশিষ্ট হাসপাতালের কাজ দ্রুত বাস্তবায়ন করা দরকার।
অবশ্য স্বাস্থ্য বিভাগের দাবি, প্রতিদিন নতুন রোগী ভর্তি হলেও জেলার অন্যান্য অঞ্চলের তুলনায় কাউখালীতে বর্তমানে ডেঙ্গু পরিস্থিতি কিছুটা উন্নতির দিকে।
কাউখালী উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডাঃ সুব্রত কর্মকার জানান, উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে পর্যাপ্ত ওষুধ, প্রয়োজনীয় স্যালাইন এবং বিনামূল্যে ডেঙ্গু পরীক্ষার অ্যান্টিজেন কিট সরবরাহ রয়েছে। এ অঞ্চলে প্রচুর সুপারি ও নারিকেল গাছ থাকায় গাছের গোড়া বা পাতায় জমে থাকা পানিতে এডিস মশার লার্ভা জন্মাতে পারে। এ বিষয়ে সাধারণ মানুষকে সচেতন করতে কাজ করা হচ্ছে।
ডেঙ্গু প্রতিরোধে উপজেলা প্রশাসনের উদ্যোগ সম্পর্কে নবাগত উপজেলা নির্বাহী অফিসার মিজ রেহানা আক্তার জানান, উপজেলার বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ও জলাশয়ে বিশেষ পরিচ্ছন্নতা অভিযান চালানো হচ্ছে। পাশাপাশি মশার বংশবৃদ্ধি রোধে বিভিন্ন স্থানে নিয়মিত মশক নিধন ওষুধ ছিটানো এবং অভিযান অব্যাহত রয়েছে।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
পটুয়াখালী, ১৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬:পটুয়াখালী জেলা শিল্পকলা একাডেমি অডিটোরিয়ামে পটুয়াখালী কিন্ডারগার্টেন অ্যাসোসিয়েশনের অধীনস্থ বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের বৃত্তিপ্রাপ্ত শিক্ষার্থীদের মাঝে বৃত্তির সনদ, ক্রেস্ট ও নগদ অর্থ প্রদান করা হয়েছে।
আজ ১৭ সেপ্টেম্বর আয়োজিত এ অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন জেলা কিন্ডারগার্টেন অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি ও বিশিষ্ট সাহিত্যিক জনাব আনোয়ার হোসেন বাদল।
অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন জেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসার জনাব মাসুদ করিম। বিশেষ অতিথি ছিলেন জেলা কালচারাল অফিসার কাজী কামরুজ্জামান।
এ সময় সরকারি জুবিলী স্কুলের শিক্ষক আব্দুল হালিম, ইটবাড়িয়া ইউসি কে মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষক জনাব মাহফুজ আনাম, স্কেলেট স্কুল অ্যান্ড কলেজের অধ্যক্ষ জনাব জুবায়ের মামুনসহ বিভিন্ন বৃত্তিপ্রাপ্ত শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের প্রধানগণ উপস্থিত ছিলেন।
অনুষ্ঠানে বিভিন্ন স্কুলের শিক্ষার্থী ও শিক্ষকদের অংশগ্রহণে এক মনোজ্ঞ সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান অনুষ্ঠিত হয়। পরে বৃত্তিপ্রাপ্ত শিক্ষার্থীদের হাতে সনদ, ক্রেস্ট ও নগদ অর্থ তুলে দেওয়া হয়।
বক্তারা কিন্ডারগার্টেন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলোর শিক্ষা কার্যক্রমের প্রশংসা করেন এবং শিক্ষার্থীদের সাফল্যের জন্য সংশ্লিষ্ট শিক্ষক, অভিভাবক ও আয়োজকদের ধন্যবাদ জানান।
পুরস্কার বিতরণ শেষে অনুষ্ঠানের সভাপতি আনোয়ার হোসেন বাদল সমাপনী বক্তব্যের মাধ্যমে অনুষ্ঠানের সমাপ্তি ঘোষণা করেন।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
চট্টগ্রাম, ১৭ সেপ্টেম্বর, : গত ২৪ ঘণ্টায় চট্টগ্রাম রেঞ্জের ১১টি জেলায় মাদকবিরোধী বিশেষ অভিযান ও নিয়মিত মামলায় পুলিশ ৫২৫ জনকে গ্রেফতার করেছে। এ সময় উদ্ধার করা হয়েছে ৯১ হাজার ৩৯৪ পিস ইয়াবাসহ বিভিন্ন ধরনের মাদকদ্রব্য।
গ্রেফতারকৃতদের মধ্যে নিয়মিত মামলায় ১০৩ জন, পূর্ববর্তী মামলায় ৮৪ জন, পুলিশ অ্যাক্টের ৩৪ ধারায় ৪৮ জন, ফৌজদারি কার্যবিধির ৫৪ ধারায় ৩ জন, কার্যবিধির ১৫১ ধারা ও অন্যান্য আইনে ২৯ জন, পরোয়ানামূলে ১৪৩ জন এবং সাজা পরোয়ানামূলে ২৪ জন রয়েছেন।
এছাড়া, মাদকবিরোধী বিশেষ অভিযানে ৯১ জনকে মাদক মামলায় গ্রেফতার করা হয়েছে। তাদের মধ্যে ৩ জন মাদক বহনকারী এবং ৮৮ জন মাদকসেবী হিসেবে চিহ্নিত হয়েছেন। নিয়মিত ও অন্যান্য মামলায় আরও ৪০ জন মাদক ব্যবসায়ীকে গ্রেফতার করা হয়েছে। ফলে, মাদকবিরোধী অভিযানে মোট ১৩১ জন গ্রেফতার হয়েছেন।
অভিযানের অংশ হিসেবে ভ্রাম্যমাণ আদালতের মাধ্যমে ৪৭ জনকে কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি, ৩১ হাজার ৫০ টাকা অর্থদণ্ডও করা হয়েছে। এ সময় ২৪টি মাদক মামলা দায়ের করা হয়েছে।
পুলিশ জানায়, অভিযানে ৯১ হাজার ৩৯৪ পিস ইয়াবা ট্যাবলেট, ৩০ কেজি ৬৫৯ গ্রাম গাঁজা, ৪ লিটার চোলাইমদ, ১ ক্যান বিয়ার ও ৫ বোতল স্কাফ সিরাপ উদ্ধার করা হয়েছে।
জনস্বার্থে পরিচালিত এই বিশেষ অভিযান অব্যাহত থাকবে বলে পুলিশ নিশ্চিত করেছে।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
হবিগঞ্জের মাধবপুরে যমুনা ইন্ডাস্ট্রিয়াল পার্কের অভ্যন্তরে একটি কম্প্রেসার বিস্ফোরণের ফলে সোহেল রানা (৪০) নামের এক কর্মকর্তা নিহত হয়েছেন। এই ঘটনায় আরও দুই শ্রমিক গুরুতর আহত হয়েছেন।
বৃহস্পতিবার (১৭ সেপ্টেম্বর) সকাল সাড়ে ১০টার দিকে উপজেলার ৭ নম্বর জগদীশপুর ইউনিয়নের যমুনা ইন্ডাস্ট্রিয়াল পার্কের স্পিনিং সাইডে এই দুর্ঘটনা ঘটে।
নিহত সোহেল রানা নারায়ণগঞ্জ জেলার বন্দর থানার দেওয়ানবাগ এলাকার মৃত লাল মিয়ার পুত্র। আহতদের মধ্যে রয়েছেন কুড়িগ্রাম জেলার ফুলবাড়ী থানার বাবাইতারি এলাকার এমদাদুল হকের ছেলে সামিউল হক (২৫) এবং মাধবপুর উপজেলার তেলিয়াপাড়া এলাকার আব্দুল মজিদের ছেলে সামছুল ইসলাম (২২)।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, সকালে যমুনা ইন্ডাস্ট্রিয়াল পার্কের স্পিনিং সাইডে কাজ করার সময় হঠাৎ করে কম্প্রেসার বিস্ফোরিত হয়। এই বিস্ফোরণের ফলে সোহেল রানা, সামিউল হক এবং সামছুল ইসলাম গুরুতর আহত হন। পরে তাদের উদ্ধার করে হবিগঞ্জ সদর হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হলে কর্তব্যরত চিকিৎসক পরীক্ষা-নিরীক্ষা শেষে সোহেল রানাকে মৃত ঘোষণা করেন। আহত অপর দুইজন হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন।
খবর পেয়ে হবিগঞ্জ সদর থানা পুলিশ হাসপাতালে গিয়ে নিহতের সুরতহাল প্রতিবেদন প্রস্তুত করে। পরে মরদেহটি ময়নাতদন্তের জন্য হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়েছে।
মাধবপুর থানার পুলিশ জানিয়েছে, এই ঘটনায় আইনগত ব্যবস্থা প্রক্রিয়াধীন রয়েছে। দুর্ঘটনার পর এলাকার আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রয়েছে।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ