মঙ্গলবার, ২২শে সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ইং
০৭:৫৮ পি.এম
সম্প্রতি ভারতের স্থানীয় সংবাদমাধ্যম এবং অনলাইনে ছড়িয়ে পড়া ভিডিও অনুযায়ী, বিহারের বেগূসরাইয়ের 'হর হর মহাদেব চত্বরে' ১৭ সেপ্টেম্বর আন্তর্জাতিক ফাস্টফুড চেইন 'কেএফসি'-র একটি নতুন আউটলেট উদ্বোধন করেন গিরিরাজ সিং, যিনি হিন্দুত্ববাদী বিজেপি সরকারের কেন্দ্রীয় বস্ত্র মন্ত্রী এবং স্থানীয় সংসদ সদস্য। উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থেকে তিনি ফিতা কেটে নতুন এই আউটলেটের সূচনা করেন।
তবে এই ঘটনাটি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ব্যাপক আলোচনা সৃষ্টি করেছে, কারণ এর আগে হালাল মাংসের বিরুদ্ধে গিরিরাজ সিং বেশ কিছু বিতর্কিত মন্তব্য করেছিলেন। ২০২৩ সালের ডিসেম্বরে এক বক্তব্যে তিনি হিন্দুদের হালাল মাংস বর্জন করে কেবল ‘ঝটকা’ মাংস খাওয়ার আহ্বান জানান, যা এক কোপে পশুর শিরচ্ছেদ করার পদ্ধতি।
বেগূসরাইয়ে আয়োজিত ওই অনুষ্ঠানে তিনি বলেন, মুসলিমদের হালাল মাংস খাওয়ার বিষয়টি ধর্মীয় অনুশাসন মেনে প্রশংসনীয়, এবং হিন্দুদেরও তাদের ধর্মীয় ঐতিহ্য মেনে চলা উচিত। তিনি উল্লেখ করেন, "হিন্দুদের পশুবলির ঐতিহ্যগত পদ্ধতি হলো ঝটকা। হিন্দুরা যখনই 'বলি' বা পশু উৎসর্গ করে, তা এক কোপেই সম্পন্ন করে। সুতরাং, হালাল মাংস খেয়ে ধর্মভ্রষ্ট হওয়া উচিত নয়। হিন্দুদের সবসময় ঝটকা মাংসেই অটল থাকা উচিত।"
এছাড়া, তিনি এমন একটি ব্যবসা প্রতিষ্ঠানের দাবি করেন, যেখানে শুধুমাত্র 'ঝটকা' পদ্ধতিতে প্রক্রিয়াজাত মাংস বিক্রি করা হবে। কেএফসি আউটলেট উদ্বোধনে গিরিরাজ সিংয়ের উপস্থিতি নিয়ে নেটিজেনরা তাঁর পুরোনো হালাল-বিরোধী বক্তব্য মনে করিয়ে দিচ্ছেন।
এই প্রসঙ্গে প্রবীণ সাংবাদিক অজিত অঞ্জুম খোঁচা মেরে মন্তব্য করেন, "হে সনাতনীরা, দেখে যাও, তোমাদের গিরিরাজ সিং এখন মুরগির দোকানের উদ্বোধন করছেন!" তবে স্থানীয় পর্যায়ে বিষয়টিকে আন্তর্জাতিক ফাস্টফুড চেইন কেএফসির একটি নতুন শাখা খোলার সাধারণ অনুষ্ঠান হিসেবেই তুলে ধরা হয়েছে।
বিহারের মাংস বিক্রি সংক্রান্ত বিভিন্ন প্রশাসনিক বিধিনিষেধ নিয়েও গিরিরাজ সিং সক্রিয় ছিলেন। ২০২৬ সালের ফেব্রুয়ারিতে বেগূসরাইয়ে সাংবাদিকদের সাথে আলাপকালে তিনি খোলা জায়গায় মাংস বিক্রির বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার সরকারি সিদ্ধান্তকে স্বাগত জানান। এই পদক্ষেপের জন্য তিনি বিহারের উপ-মুখ্যমন্ত্রী বিজয় কুমার সিনহার প্রশংসা করেন এবং জেলা প্রশাসকদের এটি কঠোরভাবে বাস্তবায়নের নির্দেশ দেন। তিনি বলেন, পরিচ্ছন্নতা ও পরিবেশের সুরক্ষার স্বার্থেই খোলা জায়গায় প্রকাশ্যে মাংস বিক্রি পুরোপুরি নিষিদ্ধ করা উচিত।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ এবং কৃষিমন্ত্রী মোহাম্মদ আমিন উর রশিদ মন্তব্য করেছেন যে, গবেষণা ও উদ্ভাবনের মাধ্যমে দেশের প্রাণিসম্পদ খাতকে এগিয়ে নিতে বিজ্ঞানীরা গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছেন। তিনি আরও বলেন, বিজ্ঞানীদের উদ্ভাবন ও গবেষণালব্ধ অর্জনের যথাযথ মূল্যায়ন নিশ্চিত করা হবে।
মঙ্গলবার (২২ সেপ্টেম্বর) সকালে মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রণালয়ের সম্মেলন কক্ষে বাংলাদেশ প্রাণিসম্পদ গবেষণা ইনস্টিটিউটের (বিএলআরআই) পরিচালনা বোর্ডের ৪৯তম সভায় তিনি এসব কথা বলেন। সভায় সভাপতিত্ব করেন মন্ত্রী, যিনি বোর্ডের চেয়ারম্যান।
মন্ত্রী উল্লেখ করেন, ‘গবেষণা ও উদ্ভাবনের মাধ্যমে দেশের প্রাণিসম্পদ খাতকে এগিয়ে নিতে বিজ্ঞানীরা গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছেন। তাদের উদ্ভাবন ও গবেষণালব্ধ অর্জনের যথাযথ মূল্যায়ন নিশ্চিত করা হবে। কারণ বিজ্ঞানীরা তাদের মেধা, শ্রম, সময় ও নিষ্ঠা ব্যয় করে নতুন প্রযুক্তি ও জ্ঞান সৃষ্টি করেন। এসব কাজের স্বীকৃতি না পেলে ভবিষ্যতে গবেষণার প্রতি আগ্রহ কমে যেতে পারে।’
তিনি আরও বলেন, ‘প্রাণিসম্পদ খাতের উৎপাদনশীলতা বৃদ্ধি, রোগ প্রতিরোধ, উন্নত জাত উদ্ভাবন, নিরাপদ প্রাণিজ আমিষ উৎপাদন এবং রপ্তানি সক্ষমতা বাড়াতে গবেষণার কোনো বিকল্প নেই। গবেষণা কার্যক্রমকে আরও ফলপ্রসূ ও বাস্তবমুখী করতে হবে, যাতে এর সুফল সরাসরি খামারি ও উদ্যোক্তারা পান। গবেষণার মাধ্যমে উদ্ভাবিত প্রযুক্তি মাঠপর্যায়ে দ্রুত সম্প্রসারণের ওপরও গুরুত্ব দিতে হবে।’
মন্ত্রী বলেন, ‘দেশের প্রাণিসম্পদ খাত আজ যে পর্যায়ে পৌঁছেছে, তার পেছনে গবেষকদের দীর্ঘদিনের নিরলস পরিশ্রম রয়েছে। গবেষণা প্রতিষ্ঠানগুলোকে আরও কার্যকর ও যুগোপযোগী করতে প্রয়োজনীয় সহায়তা অব্যাহত থাকবে। একই সঙ্গে উদ্ভাবনী গবেষণাকে উৎসাহিত করতে বিজ্ঞানীদের জন্য প্রণোদনা ও স্বীকৃতির সুযোগ বাড়ানোর বিষয়েও গুরুত্ব দেওয়া হবে।’
সভায় পটুয়াখালী-৪ আসনের সংসদ সদস্য এ বি এম মোশাররফ হোসেন, মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রণালয়ের সচিব ও বোর্ডের ভাইস চেয়ারম্যান মো. দেলোয়ার হোসেন, পরিকল্পনা কমিশনের সদস্য (সচিব) মো. মাহমুদুল হোসাইন খান, বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. মো. রফিকুল ইসলাম সরদার, বাংলাদেশ কৃষি গবেষণা কাউন্সিলের নির্বাহী চেয়ারম্যান ড. মো. আবদুছ ছালাম, প্রাণিসম্পদ অধিদপ্তরের মহাপরিচালক মো. শাহজামান খান, বিএলআরআইয়ের প্রধান বৈজ্ঞানিক কর্মকর্তা ড. ছাদেক আহমেদ, প্রধান বৈজ্ঞানিক কর্মকর্তা ড. মুহাম্মদ আবদুস সামাদ, বোর্ডের সদস্য ডা. মো. সফিউল আহাদ সরদার এবং বোর্ডের সদস্যসচিব ও বিএলআরআইয়ের মহাপরিচালক ড. শাকিলা ফারুকসহ পরিচালনা বোর্ডের সদস্যরা উপস্থিত ছিলেন।
সভায় বিএলআরআইয়ের বিভিন্ন প্রশাসনিক, আর্থিক ও গবেষণাসংক্রান্ত বিষয় পর্যালোচনা করা হয়। একই সঙ্গে প্রতিষ্ঠানের কার্যক্রম আরও গতিশীল ও ফলপ্রসূ করার লক্ষ্যে প্রয়োজনীয় দিকনির্দেশনা দেওয়া হয়।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
দেশকে পরিকল্পিতভাবে অস্থিতিশীল করার যেকোনো ষড়যন্ত্রের প্রতিবাদে কেন্দ্রীয় কর্মসূচির অংশ হিসেবে টাঙ্গাইলের কালিহাতীতে বিক্ষোভ মিছিল ও সমাবেশ করেছে জাতীয়তাবাদী যুবদল।
মঙ্গলবার (২২ সেপ্টেম্বর) বিকেলে কালিহাতী উপজেলা যুবদল, কালিহাতী পৌর যুবদল ও এলেঙ্গা পৌর যুবদলের উদ্যোগে এ কর্মসূচি অনুষ্ঠিত হয়।
বিকেলে কালিহাতী বাসস্ট্যান্ড এলাকা থেকে বিক্ষোভ মিছিলটি বের হয়। পরে মিছিলটি পৌর এলাকার বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ সড়ক প্রদক্ষিণ করে বিএনপি কার্যালয়ের সামনে গিয়ে শেষ হয়। সেখানে নেতাকর্মীদের অংশগ্রহণে সংক্ষিপ্ত সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়।
সমাবেশে সভাপতিত্ব করেন কালিহাতী উপজেলা যুবদলের আহ্বায়ক আনোয়ার হোসেন মোল্লা। বক্তব্য দেন উপজেলা যুবদলের ভারপ্রাপ্ত সদস্যসচিব হাসমত আলী রেজা, সাবেক সিনিয়র যুগ্ম আহ্বায়ক রফিকুল ইসলাম রফিক, ফিরোজ মিয়া, কোকডহড়া ইউনিয়নের সাবেক চেয়ারম্যান নজরুল ইসলাম, যুগ্ম আহ্বায়ক আসিফুর রহমান মিথুন, কালিহাতী পৌর যুবদলের আহ্বায়ক জনি রহমান, পৌর যুবদল নেতা ইঞ্জিনিয়ার শহিদুল ইসলাম খোকন, বল্লা ইউনিয়ন যুবদলের আহ্বায়ক হায়দার আলী ও নাগবাড়ি ইউনিয়ন যুবদলের আহ্বায়ক মাসুদ রানা বাছেদ।
এ সময় বক্তারা দেশের সাম্প্রতিক রাজনৈতিক পরিস্থিতি নিয়ে বক্তব্য দেন। তারা দেশকে অস্থিতিশীল করার যেকোনো অপচেষ্টার বিরুদ্ধে দলীয় নেতাকর্মীদের ঐক্যবদ্ধ ও সতর্ক থাকার আহ্বান জানান।
কর্মসূচিতে কালিহাতী উপজেলা, পৌরসভা ও বিভিন্ন ইউনিয়ন পর্যায়ের যুবদলের নেতাকর্মীরা অংশ নেন।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
বাংলাদেশ পুলিশের ইন্সপেক্টর জেনারেল অব পুলিশ (আইজিপি) মো. আলী হোসেন ফকিরের সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ করেছেন বাংলাদেশে নিযুক্ত রাশিয়ান ফেডারেশনের রাষ্ট্রদূত আলেকজান্ডার গ্রিগোরিয়েভিচ খোজিন। সাক্ষাৎটি আজ মঙ্গলবার (২২ সেপ্টেম্বর) পুলিশ হেডকোয়ার্টার্সে অনুষ্ঠিত হয়।
একই দিন পুলিশ সদরদপ্তরের এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ সাক্ষাতের তথ্য জানানো হয়।
সৌহার্দ্যপূর্ণ আবহাবলয়ে অনুষ্ঠিত এ দ্বিপক্ষীয় সাক্ষাৎকালে রাশিয়ান রাষ্ট্রদূত রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রে কর্মরত রাশিয়ান নাগরিকদের নিরাপত্তা বিধান এবং পুলিশের ডিপ্লোমেটিক সিকিউরিটি ডিভিশনের সার্বিক কার্যক্রমে গভীর সন্তোষ প্রকাশ করেন।
আরো পড়ুন
ডিআইজিসহ পুলিশের ৩১ পদে রদবদল
রাশিয়ার নাগরিকদের নিরাপত্তা নিশ্চিতে বিশেষ ভূমিকার জন্য তিনি আইজিপিকে ধন্যবাদ জানান। একই সঙ্গে বাংলাদেশ পুলিশের প্রাতিষ্ঠানিক সক্ষমতা বাড়াতে পারস্পরিক প্রযুক্তিগত ও পেশাগত সহযোগিতা আরো জোরদার করার ব্যাপারে আগ্রহ ব্যক্ত করেন।
আইজিপি মো. আলী হোসেন ফকির দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ক ও বাংলাদেশ পুলিশের সক্ষমতা বৃদ্ধিতে রাশিয়ান রাষ্ট্রদূতের প্রস্তাবকে স্বাগত জানান।
পেশাগত মানোন্নয়নে আইজিপি বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ের ওপর জোর দেন। তিনি দুই দেশের উচ্চ পর্যায়ের পুলিশ কর্মকর্তাদের মধ্যে নিয়মিত ডায়ালগ, আন্তর্জাতিক পর্যায়ের উত্তম চর্চা এবং পারস্পরিক তথ্য বিনিময়ের গুরুত্ব তুলে ধরেন।
সাইবার নিরাপত্তা নিশ্চিত করা এবং নিরাপত্তা সম্পর্কিত আধুনিক ও উচ্চতর বিষয়ে বাংলাদেশ পুলিশের কর্মকর্তাদের রাশিয়ায় উচ্চশিক্ষা ও বিশেষায়িত প্রশিক্ষণ প্রদানের জন্য রাষ্ট্রদূতের সহযোগিতা কামনা করেন।
আরো পড়ুন
ঘুষের টাকাসহ হাতেনাতে সাবরেজিস্ট্রার আটক
এ ছাড়া ঢাকায় অবস্থিত কেন্দ্রীয় পুলিশ হাসপাতালের (সিপিএইচ) চিকিৎসাসেবা ও সার্বিক সক্ষমতা বাড়াতে রাশিয়ান সরকারের কারিগরি ও অবকাঠামোগত সহায়তা চান আইজিপি।
দ্বিপক্ষীয় এ সৌজন্য সাক্ষাৎকালে বাংলাদেশ পুলিশের উচ্চপদস্থ অন্যান্য ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাগণ উপস্থিত ছিলেন।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
বরিশাল শিক্ষা প্রকৌশল অধিদপ্তরের নির্বাহী প্রকৌশলী শহিদুল ইসলামের বিরুদ্ধে বিভিন্ন অনিয়ম, দুর্নীতি ও ঠিকাদারি কাজে পক্ষপাতিত্বের অভিযোগ তুলে মানববন্ধন করেছেন স্থানীয় ছাত্রদল ও ছাত্র ফেডারেশনের নেতা-কর্মীরা। তবে কর্মসূচি চলাকালে একদল ঠিকাদার ও তাঁদের অনুসারীরা বাধা দিয়ে মানববন্ধন পণ্ড করার চেষ্টা করেছেন বলে অভিযোগ করেছেন আয়োজকেরা।
মঙ্গলবার (২২ সেপ্টেম্বর) দুপুরে বরিশাল শিক্ষা প্রকৌশল অধিদপ্তরের কার্যালয়ের সামনে এ মানববন্ধন অনুষ্ঠিত হয়। কর্মসূচিতে নির্বাহী প্রকৌশলী শহিদুল ইসলামকে আওয়ামী লীগের ‘দোসর’ আখ্যা দিয়ে তাঁর বিরুদ্ধে বিভিন্ন অভিযোগের তদন্ত ও প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানানো হয়।
মানববন্ধনে জেলা ছাত্র ফেডারেশনের সাধারণ সম্পাদক রাইদুল ইসলাম সাকিব অভিযোগ করেন, শহিদুল ইসলাম বঙ্গবন্ধু প্রকৌশলী পরিষদের ৯ নম্বর সদস্য। তাঁর দাবি, নির্বাহী প্রকৌশলী দীর্ঘদিন ধরে আওয়ামী লীগপন্থী ব্যক্তিদের পৃষ্ঠপোষকতা করে আসছেন। সম্প্রতি বরিশালের ১০ নম্বর ওয়ার্ডে নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগের কথিত ‘গুপ্ত মিছিলেও’ তিনি অর্থায়ন করেছেন বলে অভিযোগ করেন সাকিব।
তিনি আরও অভিযোগ করেন, শিক্ষা প্রকৌশল অধিদপ্তরের অধিকাংশ ঠিকাদারি কাজ একটি নির্দিষ্ট ঠিকাদারি বলয়ের মাধ্যমে পরিচালিত হচ্ছে। এ ক্ষেত্রে মোমেন সিকদার নামের এক ঠিকাদারকে বিশেষ সুবিধা দেওয়ার অভিযোগও তোলেন তিনি।
মানববন্ধনে অংশ নেওয়া নেতা-কর্মীদের অভিযোগ, বিভিন্ন ঠিকাদারি কাজে কমিশন নেওয়া এবং পছন্দের ঠিকাদারদের কাজ পাইয়ে দেওয়ার জন্য নির্বাহী প্রকৌশলী প্রভাব খাটাচ্ছেন। এমনকি গভীর রাত পর্যন্ত কার্যালয়ে অবস্থান করে কমিশন ভাগ-বাটোয়ারার অভিযোগও করেন তাঁরা। তবে এসব অভিযোগের স্বতন্ত্র প্রমাণ তাৎক্ষণিকভাবে পাওয়া যায়নি।
কর্মসূচির একপর্যায়ে মানববন্ধনে বাধা দেওয়ার অভিযোগ ওঠে নির্বাহী প্রকৌশলীর অনুসারী হিসেবে পরিচিত কয়েকজনের বিরুদ্ধে। আয়োজকদের দাবি, যুবদলের সাবেক নির্বাহী সদস্য ও ঠিকাদার মোমেন সিকদার, ছাত্রদল নেতা সানমুন, নির্বাহী প্রকৌশলীর গাড়িচালক ইব্রাহিম এবং অফিস সহকারী তন্ময় ঘটনাস্থলে এসে মানববন্ধনের ব্যানার কেড়ে নেন এবং অংশগ্রহণকারীদের সঙ্গে অসৌজন্যমূলক আচরণ করেন।
ঘটনার একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়েছে। ভিডিওতে মানববন্ধন চলাকালে মোমেন সিকদারকে কর্মসূচির ব্যানার নিয়ে প্রশ্ন তুলতে এবং ‘এই ছবি দেখিয়ে ব্ল্যাকমেল করবেন, চাঁদাবাজি করবেন, সেটা হবে না’—এমন বক্তব্য দিতে দেখা যায়। পরে গণমাধ্যমকর্মীদের উপস্থিতি টের পেয়ে তিনি ও তাঁর সঙ্গে থাকা ব্যক্তিরা সেখান থেকে সরে যান বলে আয়োজকদের দাবি।
তবে মানববন্ধনে বাধা দেওয়ার অভিযোগ অস্বীকার করেছেন ঠিকাদার ও যুবদল নেতা মোমেন সিকদার। তিনি বলেন, শিক্ষা প্রকৌশল অধিদপ্তরে যাওয়ার সময় তিনি কয়েকজনকে ব্যানার নিয়ে দাঁড়িয়ে থাকতে দেখেন। ব্যানারে নির্বাহী প্রকৌশলীর ছবি দেখে তিনি শুধু সেখানে কেন দাঁড়ানো হয়েছে, তা জানতে চেয়েছেন। মানববন্ধনে বাধা দেওয়ার অভিযোগ সত্য নয় বলে দাবি করেন তিনি।
অন্যদিকে নির্বাহী প্রকৌশলী শহিদুল ইসলামের সঙ্গে মুঠোফোনে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলে তিনি প্রথমে খুদেবার্তার মাধ্যমে সাংবাদিকের পরিচয় জানতে চান। পরিচয় জানিয়ে পুনরায় যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন ধরেননি। এর আগে গণমাধ্যমকর্মীদের তিনি জানিয়েছিলেন, তাঁর কার্যালয়ের সামনে কারা মানববন্ধন করেছেন সে বিষয়ে তিনি অবগত নন এবং এ ঘটনায় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার কথা জানান।
মানববন্ধনে মহানগর ছাত্রদলের সাবেক সহসভাপতি সোহেল খান, ১০ নম্বর ওয়ার্ড ছাত্রদলের যুগ্ম আহ্বায়ক রুম্মান স্বাধীন, ওয়ার্ড ছাত্রদলের সভাপতি বেল্লাল হোসেন, মো. রাব্বিসহ বিভিন্ন পর্যায়ের নেতা-কর্মীরা উপস্থিত ছিলেন।
এর আগে গত ৯ সেপ্টেম্বর থেকে টানা তিন দিন বরিশাল শিক্ষা প্রকৌশল অধিদপ্তরের নির্বাহী প্রকৌশলী শহিদুল ইসলামসহ কয়েকজন প্রকৌশলী ঠিকাদারদের সঙ্গে সিলেটে ভ্রমণে যান বলে জানা যায়। ওই সময়ে অধিদপ্তরের কার্যালয়ে কর্মকর্তাদের অনুপস্থিতির বিষয়টি সামনে এলে স্থানীয়ভাবে আলোচনা-সমালোচনা শুরু হয়।
এ ঘটনায় গণমাধ্যমকর্মীদের সঙ্গে নির্বাহী প্রকৌশলীর কথোপকথনের একটি অডিও ক্লিপও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে। ওই অডিও নিয়ে বিভিন্ন মহলে আলোচনা হলেও এর সত্যতা ও প্রেক্ষাপট স্বাধীনভাবে যাচাই করা সম্ভব হয়নি।
বর্তমানে নির্বাহী প্রকৌশলী শহিদুল ইসলামের বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগগুলোর বিষয়ে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের তদন্ত বা আনুষ্ঠানিক বক্তব্য পাওয়া গেলে তা প্রতিবেদনে সংযুক্ত করা হবে।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ