০৯:৫৩ এম
রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের (রাবি) এক শিক্ষার্থীকে মারধরের প্রতিবাদে এবং অভিযুক্তের যথাযথ শাস্তির দাবিতে বিশ্ববিদ্যালয়ের চারুকলা-সংলগ্ন রেললাইন অবরোধ করছেন শিক্ষার্থীরা।
মঙ্গলবার (২১ জুলাই) সকাল ৭টার দিকে এই অবরোধ শুরু করেন তারা।
ভুক্তভোগী শিক্ষার্থীর নাম ফুরকান উদ্দিন। তিনি রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের আইন বিভাগের শিক্ষার্থী। তাঁর ভাষ্যমতে, বিনা টিকিটের যাত্রীকে ঘুষের বিনিময়ে সুবিধা দিচ্ছিলেন ট্রেনের দায়িত্বরত টিটিই। তিনি যখন এ বিষয়ে জানতে চাইলে এবং সরকারি সম্পদ আত্মসাৎ ও অনিয়মের প্রতিবাদ করলে তখন তাকে শারীরিকভাবে হেনস্তা করা হয় বলে অভিযোগ করেন ফুরকান। এ সময় তাঁর চশমা ভেঙে যায়। পরে যখন তিনি ফেসবুকে একটি পোস্টের মাধ্যমে জনসাধারণের দৃষ্টি আকর্ষণ করেন, তখন বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা রেললাইন অবরোধ করেন।
আরও পড়ুন: চাটমোহরে তিন প্রশাসনিক কর্মকর্তার বদলি ও নতুন পদায়ন
ফুরকান উদ্দিন বলেন, 'টিকিট ইস্যু না করে টিটিই যাত্রীদের কাছ থেকে টাকা নিচ্ছিলেন। রেলের টাকা রাষ্ট্রের সম্পদ। কিন্তু টিকিট ইস্যু না করে অল্প টাকায় সুবিধা দিয়ে সেই অর্থ আত্মসাৎ করা হচ্ছিল। একজন আইন বিভাগের শিক্ষার্থী ও সচেতন নাগরিক হিসেবে আমি এর প্রতিবাদ করি। এ সময় পেছন থেকে অতর্কিতভাবে আমার ওপর হামলা করা হয়। আমার চশমা ভেঙে গেছে এবং আমি বেশ আহত হয়েছি।'
এদিকে, বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীকে হেনস্তার ঘটনায় উদ্বেগ জানিয়েছে রাকসু। শিক্ষার্থীদের আন্দোলনের প্রতি সমর্থন জানিয়ে অবরোধস্থলে অবস্থান করছেন রাকসুর জিএস সালাহউদ্দিন আম্মার। অন্যদিকে, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে এক পোস্টের মাধ্যমে আন্দোলনের প্রতি সমর্থন জানিয়ে দাবি আদায় না হওয়া পর্যন্ত অবরোধ চলবে বলে জানিয়েছেন রাকসুর ভিপি মোস্তাকুর রহমান জাহিদ।
ফেসবুক পোস্টে তিনি লিখেন, 'রেললাইন বন্ধ থাকবে। রেলওয়ে-সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা নিজেরা আমাদের কাছে এসে এখন এটি সামলান। কাদের গায়ে হাত দিয়েছেন, তা ঠাহর তো করতে হবে। পদ্মা এক্সপ্রেসের টিটিইর মাধ্যমে রাবির ২০১৯-২০ শিক্ষাবর্ষের এক শিক্ষার্থী ভাইকে অন্যায়ভাবে মারধরের ঘটনার প্রতিবাদে রেললাইন বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে। স্টেশনের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা আমাদের কাছে এসে এ ব্যাপারে সমাধান করবেন। নচেৎ রাজশাহীর সঙ্গে সারা দেশের রেল যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন থাকবে। অভিযুক্তকে ক্ষমা চাইতে হবে। তাঁর বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নিতে হবে।'
তিনি আরও লিখেন, 'এর আগেও জানা-অজানা এমন অনেক আচরণ রাবি শিক্ষার্থীদের সঙ্গে করা হয়েছে। আজ থেকে বিশ্ববিদ্যালয়ের কোনো শিক্ষার্থীর দিকে যেন রেলের দুষ্কৃতকারীরা বাঁকা চোখেও তাকাতে না পারে, সে ব্যবস্থা করতে হবে।'
আরও পড়ুন: মহেশপুর সীমান্তে ১২ বাংলাদেশি আটক, ৪৬৬ প্যাকেট কীটনাশক উদ্ধার
আন্দোলনরত রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের ইসলামিক স্টাডিজ বিভাগের শিক্ষার্থী ও শহীদ জিয়াউর রহমান হল সংসদের জিএস আরিফুল ইসলাম বলেন, 'অন্যায়ের প্রতিবাদ করায় আমাদের এক ভাইকে মারধর করা হয়েছে। রেলে অনিয়ম এবং প্রতিবাদকারীদের হেনস্তা এখন নিয়মিত ঘটনায় পরিণত হয়েছে। আমরা রেললাইন অবরোধ করেছি। কর্তৃপক্ষ এসে ঘুষ নেওয়ার অভিযোগে অভিযুক্তের শাস্তি, মারধরের ক্ষতিপূরণসহ যথাযথ সমাধান না করা পর্যন্ত রেল যোগাযোগ সম্পূর্ণ বন্ধ থাকবে.'
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন