ঢাকা বৃহস্পতিবার, ২২শে অক্টোবর, ২০২৬খ্রিষ্টাব্দ ০৬ই কার্তিক, ১৪৩৩বঙ্গাব্দ ১১ই জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিজরী
বৃহস্পতিবার, ২২শে অক্টোবর, ২০২৬ইং ০৬ই কার্তিক, ১৪৩৩বাং

কাউখালীতে মহিলা পরিষদের উদ্যোগে নারীর অধিকার বিষয়ক মতবিনিময় সভা


কাউখালীতে মহিলা পরিষদের উদ্যোগে নারীর অধিকার বিষয়ক মতবিনিময় সভা

পিরোজপুরের কাউখালীতে নারীর অধিকার ও মানবাধিকার সুরক্ষার বার্তা নিয়ে মতবিনিময় সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে। শনিবার (২৬ সেপ্টেম্বর) বিকেলে বাংলাদেশ মহিলা পরিষদ কাউখালী সাংগঠনিক জেলা শাখার উদ্যোগে, সাংগঠনিক মাস উপলক্ষে উপজেলার নিজস্ব কার্যালয়ে এ সভা অনুষ্ঠিত হয়। উপজেলার বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার নারী ও পুরুষ এই মতবিনিময় সভায় অংশ নেন।
বাংলাদেশ মহিলা পরিষদ কাউখালী সাংগঠনিক জেলা শাখার সভাপতি সুনন্দা সমাদ্দার-এর সভাপতিত্বে এবং সংগঠনের সাধারণ সম্পাদক শাহিদা হকের সঞ্চালনায় অনুষ্ঠানে বক্তব্য রাখেন, আমরাজুরী ইউনিয়ন পরিষদের সাবেক চেয়ারম্যান কৃষ্ণ লাল গুহ, কাউখালী মহিলা কলেজের জ্যেষ্ঠ প্রভাষক কুমকুম ভট্টাচার্য, শিক্ষক আব্দুর রহমান, মমিরুল ইসলাম, শিউলি কর্মকার, প্রেস ক্লাবের সভাপতি রিয়াদ মাহমুদ সিকদার, ব্যবসায়ী মাসুম বিল্লাহ, নিকাহ রেজিস্ট্রার মোঃ শফিকুল ইসলাম, নারী নেত্রী জাহানুর বেগম, মাহফুজা খাতুন, নিতু মন্ডল, রেক্সোনা খানম ও মৌমিতা সাহা প্রমুখ।
সংগঠনের সভাপতি সুনন্দা সমাদ্দার বলেন, সমাজের সর্বস্তরের মানুষের মাঝে নারীর মানবাধিকার ও সামাজিক অধিকার সম্পর্কে সচেতনতা গড়ে তোলা। নারী অধিকার কেবল নারীদের কথা নয়, এটি সমগ্র সমাজের অগ্রগতির বিষয়। আমরা চাই তৃণমূল পর্যায়ের নারী-পুরুষ সবাই একসাথে বসে এই বিষয়গুলো নিয়ে ভাবুক এবং কুসংস্কার দূর করে একটি সমতাভিত্তিক সমাজ গঠনে ভূমিকা রাখুক।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

বাকৃবিতে উদ্যোক্তাদের নিয়ে বাংলাদেশ ব্যাংকের সেমিনার

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

বাকৃবি প্রতিনিধি

শনিবার, ২৬শে সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ইং

০৭:৩৮ পি.এম


বাকৃবিতে উদ্যোক্তাদের নিয়ে বাংলাদেশ ব্যাংকের সেমিনার

তরুণ উদ্যোক্তা তৈরি ও বেসরকারি খাতের উন্নয়নে বাংলাদেশ ব্যাংকের ঘোষিত প্রণোদনা প্যাকেজ বাস্তবায়ন নিয়ে বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ে (বাকৃবি) মতবিনিময় সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে। সভায় তরুণ উদ্যোক্তাদের অর্থায়ন, এসএমই ও কৃষি খাতে ঋণপ্রবাহ বাড়ানো, ঋণখেলাপি ও অর্থপাচার রোধসহ ব্যাংকিং খাতের বিভিন্ন বিষয় উঠে আসে।

শনিবার (২৬ সেপ্টেম্বর) বিকেলে বিশ্ববিদ্যালয়ের সৈয়দ নজরুল ইসলাম সম্মেলন কক্ষে বাংলাদেশ ব্যাংকের উদ্যোগে এ সভা অনুষ্ঠিত হয়। ‘বেসরকারি খাতের উন্নয়নে বাংলাদেশ ব্যাংক ঘোষিত প্রণোদনা প্যাকেজ বাস্তবায়ন বিষয়ক মতবিনিময় সভা’ শীর্ষক এ আয়োজনে প্রথম পর্বে প্রণোদনা প্যাকেজের বিভিন্ন দিক তুলে ধরা হয়। পরে ব্যাংক কর্মকর্তা ও উদ্যোক্তাদের অংশগ্রহণে মুক্ত প্রশ্নোত্তর পর্ব অনুষ্ঠিত হয়।

বাংলাদেশ ব্যাংকের ময়মনসিংহ অঞ্চলের নির্বাহী পরিচালক মো. আরিফুজ্জামানের সভাপতিত্বে সভায় প্রধান অতিথি ছিলেন বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর মো. মোস্তাকুর রহমান। বিশেষ অতিথি ছিলেন বাকৃবির ছাত্রবিষয়ক উপদেষ্টা অধ্যাপক ড. জি. এম. মুজিবর রহমান ও ময়মনসিংহের বিভাগীয় কমিশনার এস এম হুমায়ুন কবির সরকার। এতে বিশ্ববিদ্যালয়ের বিভিন্ন অনুষদের শিক্ষক, বিভিন্ন ব্যাংকের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা ও ময়মনসিংহ অঞ্চলের উদ্যোক্তারা উপস্থিত ছিলেন।

সভায় জানানো হয়, প্রাথমিকভাবে আটটি বিভাগের ৬৪টি উপজেলায় তরুণ উদ্যোক্তা অনুসন্ধান কর্মসূচি পরিচালনা করা হবে। প্রতি উপজেলা থেকে ১০ জন করে মোট ৬৪০ জন উদ্যোক্তা প্রাথমিকভাবে চিহ্নিত করা হবে। ধারাবাহিকভাবে পাঁচ হাজার তরুণ উদ্যোক্তাকে অর্থায়নের আওতায় আনার পরিকল্পনা রয়েছে। উদ্যোক্তার চাহিদা অনুযায়ী সর্বোচ্চ ২০ লাখ টাকা পর্যন্ত অর্থায়ন দেওয়া হবে। এর ৫০ শতাংশ ব্যাংক ঋণ এবং বাকি ৫০ শতাংশ অনুদান হিসেবে থাকবে। ঋণের সুদের হার হবে ৪ থেকে ৭ শতাংশ।

ময়মনসিংহের বিভাগীয় কমিশনার এস এম হুমায়ুন কবির সরকার বলেন, ঋণখেলাপিদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নিতে হবে। মানুষের সারা জীবনের কষ্টার্জিত অর্থ ব্যাংকে জমা থাকে, অথচ ঋণখেলাপিরা সেই অর্থ আত্মসাৎ করেন। এমন ব্যবস্থা নিতে হবে, যাতে ভবিষ্যতে কেউ ঋণখেলাপি হওয়ার সাহস না পান। ময়মনসিংহে বড় বড় পুকুর ও মাছের খামার রয়েছে। এ অঞ্চলে মৎস্য প্রজনন ও উৎপাদন আরও সম্প্রসারণের সুযোগ রয়েছে। সরকারি প্রকল্পে তৃতীয়-চতুর্থ স্তরের ঠিকাদারি কমিয়ে কাজের কার্যকারিতা বাড়াতে হবে। উদ্যোক্তাদের প্রয়োজনীয় পরামর্শ ও সহযোগিতার জন্য ময়মনসিংহে চেম্বার অব কমার্স প্রতিষ্ঠার প্রয়োজনীয়তার কথাও জানান তিনি। পাশাপাশি ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠীর মানুষদের উদ্যোক্তা হিসেবে গড়ে তুলতে বিশেষ নজর দেওয়ার আহ্বান জানান।

বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর মো. মোস্তাকুর রহমান বলেন, দায়িত্ব নেওয়ার সময় দেশের বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ ছাড়া অর্থনীতির প্রায় সব সূচকই ঝুঁকিপূর্ণ ও নেতিবাচক অবস্থায় ছিল। অর্থনৈতিক পুনরুদ্ধার ও পাচার হওয়া অর্থ ফিরিয়ে আনতে একাধিক বিশেষ পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে। একই সঙ্গে ব্যাংকিং খাতের অনিয়ম ও অর্থ লোপাট মোকাবিলায় কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়া হচ্ছে। ব্যাংকগুলোর নিষ্ক্রিয় আমানত ব্যবহার করে ৪ শতাংশ সুদে তহবিল দেওয়া হচ্ছে। এসব তহবিল এসএমই ও কৃষি খাতে ৭ থেকে ৮ শতাংশ সুদে বিতরণ করা হবে। খেলাপি ঋণ ও অর্থপাচার রোধে ছয় মাসের মধ্যে বিচার নিষ্পত্তির সুযোগ রেখে ‘ডিস্ট্রেসড অ্যাসেট ম্যানেজমেন্ট অ্যাক্ট’ ও ‘মানি লোন কোর্ট অ্যাক্ট’ সংশোধনের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

পাচার হওয়া সম্পদ শনাক্ত ও ফ্রিজ করতে আন্তর্জাতিক পর্যায়ে চুক্তি করা হচ্ছে জানিয়ে গভর্নর বলেন, এ বিষয়ে বাংলাদেশ ব্যাংকের উদ্যোগে ১১টি বিশেষ যৌথ তদন্ত দল গঠন করা হয়েছে। তরুণ উদ্যোক্তা তৈরিতে নতুন তহবিল চালুর প্রক্রিয়াও চলছে। এ ক্ষেত্রে উদ্যোক্তাদের ৫০ শতাংশ অনুদান এবং ৪ থেকে ৫ শতাংশ সুদে ঋণ দেওয়ার পরিকল্পনা রয়েছে। বেসরকারি খাতের সফল উদ্যোক্তাদের মাধ্যমে সম্পূর্ণ স্বচ্ছ প্রক্রিয়ায় সুবিধাভোগী নির্বাচন করা হবে।

সভাপতির বক্তব্যে মো. আরিফুজ্জামান বলেন, ময়মনসিংহের উদ্যোক্তাদের ব্যাংক খাত থেকে যথাযথ সহযোগিতা নিশ্চিত করা এবং প্রণোদনা প্যাকেজের বাস্তবায়নে আগামী এক থেকে দুই মাসের মধ্যে উল্লেখযোগ্য অগ্রগতি দেখানোই এ আয়োজনের সার্থকতা। এ অঞ্চলের উদ্যোক্তাদের কাঙ্ক্ষিত মাত্রায় ঋণ সরবরাহের ওপরও গুরুত্বারোপ করেন তিনি।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

মায়ের স্বপ্ন ছিল ছেলে হবে জজ, মৃত্যুকে হারিয়ে সেই স্বপ্ন পূরণ করলেন তাইজুল

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

মাদারীপুর প্রতিনিধি

শনিবার, ২৬শে সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ইং

০৮:০৪ পি.এম


মায়ের স্বপ্ন ছিল ছেলে হবে জজ, মৃত্যুকে হারিয়ে সেই স্বপ্ন পূরণ করলেন তাইজুল

মাত্র আড়াই বছর বয়সে বাবাকে হারিয়েছিলেন এস এম তাইজুল ইসলাম। স্বামীকে হারিয়ে তিন সন্তানকে নিয়ে অনিশ্চয়তার মধ্যে পড়েন মা হাওয়া বেগম। অভাবের সংসারে কখনো একবেলা খাবার জোটেনি, কখনো সন্তানদের মুখে খাবার তুলে দিতে না পেরে কেঁদেছেন তিনি। তবু হাল ছাড়েননি। একটাই স্বপ্ন ছিল—ছেলেকে পড়াশোনা করিয়ে একদিন বিচারকের আসনে বসাবেন।

মায়ের সেই স্বপ্ন পূরণ হয়েছে। তবে বিচারকের আসনে বসার পথটি মোটেও সহজ ছিল না। দারিদ্র্য, পিতৃহীন শৈশয় ও কঠোর সংগ্রামের পর যখন স্বপ্ন পূরণের পথে এগোচ্ছিলেন তাইজুল, তখনই নেমে আসে জীবনের সবচেয়ে কঠিন বিপর্যয়। একে একে অকেজো হয়ে যায় তাঁর দুই কিডনি। শুরু হয় নিয়মিত ডায়ালাইসিস। প্রয়োজন পড়ে কিডনি প্রতিস্থাপনের। চিকিৎসার ব্যয় মেটাতে হিমশিম খেতে হয় পরিবারকে।

একসময় হাসপাতালের বিছানায় শুয়ে মৃত্যুর প্রহর গুনছিলেন তাইজুল। যে পরিবারে একবেলা খাবার জোগাড় করাই কঠিন ছিল, তাদের কাছে চিকিৎসার জন্য ৩০ থেকে ৪০ লাখ টাকা জোগাড় করা ছিল প্রায় অসম্ভব। তখন পাশে দাঁড়ান বন্ধু, সহপাঠী, বিশ্ববিদ্যালয়ের বড় ভাই, আত্মীয়স্বজন ও শুভাকাঙ্ক্ষীরা। মায়ের অক্লান্ত চেষ্টা আর মানুষের সহযোগিতায় শেষ পর্যন্ত ২০১৭ সালে ভারতে গিয়ে কিডনি প্রতিস্থাপন করান তিনি।

মৃত্যুর মুখ থেকে ফিরে আবার পড়াশোনায় ফেরেন তাইজুল। দীর্ঘ লড়াই শেষে ১৮তম বাংলাদেশ জুডিশিয়াল সার্ভিস (বিজেএস) পরীক্ষায় ১২০তম স্থান অর্জন করে চূড়ান্তভাবে সিভিল জাজ হিসেবে উত্তীর্ণ হয়েছেন তিনি। হাসপাতালের বিছানা থেকে বিচারকের আসনে পৌঁছানোর এই গল্পে মিশে আছে একজন মায়ের ত্যাগ, সন্তানের অদম্য লড়াই এবং মানুষের মানবিক সহযোগিতার অনন্য দৃষ্টান্ত।


মাদারীপুরের কালকিনি উপজেলার পূর্ব এনায়েতনগর ইউনিয়নের পূর্ব আলীপুর গ্রামের সন্তান তাইজুল ইসলাম। মাত্র আড়াই বছর বয়সে বাবাকে হারান তিনি। এরপর তিন সন্তানকে মানুষ করার পুরো দায়িত্ব এসে পড়ে মা হাওয়া বেগমের ওপর।

সংসারে অভাব ছিল নিত্যসঙ্গী। সন্তানদের পড়াশোনা চালিয়ে নিতে কঠোর পরিশ্রম করেছেন হাওয়া বেগম। কখনো মাঠে কাজ করেছেন, কখনো নিজের প্রয়োজনের কথা ভুলে সন্তানদের মুখে খাবার তুলে দিয়েছেন। বিভিন্ন সময়ে সহযোগিতা নিয়েছেন নিজের ভাইদের কাছ থেকেও।

হাওয়া বেগম বলেন, “স্বামী মারা যাওয়ার পর সন্তানদের নিয়ে অনেক কষ্ট করেছি। কখনো এমনও হয়েছে, ছেলেমেয়েদের মুখে খাবার দিতে পারিনি। আমার ভাইয়েরা তখন আমাদের পাশে দাঁড়িয়েছে। মাঠে কাজ করেছি, পরিশ্রম করেছি। আমার একটাই স্বপ্ন ছিল—আমার ছেলে একদিন জজ হবে।”

প্রায় ৩১ বছর ধরে একাই সন্তানদের জন্য সংগ্রাম করেছেন এই মা। তাঁর সেই দীর্ঘ ত্যাগের যেন পূর্ণতা এসেছে ছেলের বিচারক হওয়ার মধ্য দিয়ে।


অভাব-অনটনের মধ্যেও পড়াশোনায় মেধার স্বাক্ষর রাখেন তাইজুল। ২০০৮ সালে আলীপুর দাখিল মাদ্রাসা থেকে দাখিল পরীক্ষায় গোল্ডেন এ+ অর্জন করেন তিনি। মাদ্রাসাটির ইতিহাসে তিনিই প্রথম গোল্ডেন এ+ পাওয়া শিক্ষার্থী।

পরে ঢাকার ঐতিহ্যবাহী ঢাকা কলেজে মানবিক বিভাগে ভর্তি হন। ২০১০ সালের এইচএসসি পরীক্ষাতেও এ+ অর্জন করেন। এরপর ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের আইন বিভাগে ভর্তি পরীক্ষায় মেধাক্রমে ৫৮তম স্থান অর্জন করে আইন বিষয়ে পড়াশোনা শুরু করেন। ২০১৫ সালে এলএলবি এবং ২০১৮ সালে এলএলএম সম্পন্ন করেন তিনি।

তখন স্বপ্নের পথ অনেকটাই পরিষ্কার। কিন্তু এর মধ্যেই শুরু হয় তাঁর জীবনের সবচেয়ে কঠিন অধ্যায়।


২০১৩ সাল থেকে শারীরিক নানা জটিলতায় ভুগতে শুরু করেন তাইজুল। প্রথমে কোমর ও পিঠে ব্যথা, পরে ২০১৫ সালে কিডনির সমস্যা ধরা পড়ে। একপর্যায়ে চিকিৎসকেরা জানান, তাঁর দুই কিডনিই অকেজো হয়ে গেছে।

শুরু হয় নিয়মিত ডায়ালাইসিস। বাড়তে থাকে চিকিৎসার ব্যয়। একসময় চিকিৎসকেরা কিডনি প্রতিস্থাপনের পরামর্শ দেন। প্রয়োজন হয় প্রায় ৩০ থেকে ৪০ লাখ টাকা। কিন্তু পরিবারের আর্থিক অবস্থার কারণে এই অর্থ জোগাড় করা ছিল দুঃসাধ্য।

তাইজুল বলেন, “আমার দুটি কিডনি যখন ড্যামেজ হয়ে গেল, তখন লেখাপড়া বন্ধ হয়ে যায়। আমি তখন অনার্স তৃতীয় বর্ষে। আমাদের ঘরে খাওয়ার মতো চালও থাকত না। এমন অবস্থায় ৩০ লাখ টাকা চিকিৎসার জন্য প্রয়োজন হলো। তখন মনে হয়েছিল, আমি হয়তো আর বাঁচব না, মায়ের স্বপ্নও পূরণ করতে পারব না।”


তাইজুলের অসুস্থতার খবর ছড়িয়ে পড়লে পাশে দাঁড়ান বিশ্ববিদ্যালয়ের বন্ধু, সহপাঠী, বড় ভাই, আত্মীয়স্বজন ও শুভাকাঙ্ক্ষীরা। যে যার সামর্থ্য অনুযায়ী সহযোগিতার হাত বাড়িয়ে দেন।

ছেলের চিকিৎসার জন্য নিজের জমিজমা ও যা কিছু ছিল, তা বিক্রি করেও অর্থ জোগাড়ের চেষ্টা করেন হাওয়া বেগম। তাতেও প্রয়োজনীয় অর্থ পূরণ হচ্ছিল না। শেষ পর্যন্ত মানুষের সহযোগিতায় চিকিৎসার অর্থ জোগাড় হয়। ২০১৭ সালে ভারতে গিয়ে কিডনি প্রতিস্থাপন করা হয় তাইজুলের।

হাওয়া বেগম বলেন, “আমার ছেলে এমন রোগে পড়েছিল যে মনে হয়েছিল, তাকে আর বাঁচাতে পারব না। কিন্তু আল্লাহর রহমতে আর মানুষের সহযোগিতায় সে ফিরে এসেছে। আমার ছেলে আজ জজ হয়েছে। আমার সেই স্বপ্ন পূরণ হয়েছে। আল্লাহর কাছে আমি কৃতজ্ঞ।”

সেই দুঃসহ সময়ের কথা মনে করে তাইজুল বলেন, “একদিকে আমার জীবন, অন্যদিকে আমার ক্যারিয়ার—সবকিছু শেষের দিকে চলে গিয়েছিল। তখন মনে হতো, আমি যদি মারা যাই, তাহলে কীভাবে জজ হব? এই চিন্তা আমাকে আরও ভেঙে দিত। কিন্তু আমি হাল ছাড়িনি।”

কিডনি প্রতিস্থাপনের পর ধীরে ধীরে সুস্থ হয়ে আবার পড়াশোনায় ফেরেন তিনি। শারীরিক নানা সীমাবদ্ধতার মধ্যেও নিজের স্বপ্নকে সামনে রেখে বাংলাদেশ জুডিশিয়াল সার্ভিস পরীক্ষার প্রস্তুতি নিতে থাকেন।

তাইজুল বলেন, “আমি মৃত্যুর সঙ্গে লড়াই করে বেঁচে ফিরেছি। আমার মা চেয়েছিলেন আমি জজ হই। বন্ধুবান্ধব, বিশ্ববিদ্যালয়ের বড় ভাই, আত্মীয়স্বজন—অনেকে আমাকে সহযোগিতা করেছেন। তাঁরা যদি সেদিন পাশে না দাঁড়াতেন, হয়তো আমি আজ এখানে থাকতাম না। আল্লাহর রহমতে আমি বেঁচে আছি এবং আজ জজ হতে পেরেছি। আমি সবার প্রতি কৃতজ্ঞ।”

অবশেষে আসে সেই কাঙ্ক্ষিত দিন। ১৮তম বাংলাদেশ জুডিশিয়াল সার্ভিস (বিজেএস) পরীক্ষায় ১২০তম স্থান অর্জন করে সিভিল জাজ হিসেবে উত্তীর্ণ হন এস এম তাইজুল ইসলাম।

যে মা একসময় ছেলের চিকিৎসার জন্য মানুষের দ্বারে দ্বারে সহযোগিতা চেয়েছেন, সেই মায়ের চোখে এখন আনন্দের অশ্রু। দীর্ঘ ৩১ বছরের সংগ্রামের পর ছেলের সাফল্য যেন তাঁর সব কষ্টকে সার্থক করে দিয়েছে।

তাইজুলের ভাই নাজমুল ও বোন খুরশিদা বলেন, “আমরা কখনো ভাবিনি ভাই আবার সুস্থ হয়ে সংসারের হাল ধরবে। এমন রোগ হয়েছিল যে সবাই ভেবেছিল, সে হয়তো আর বাঁচবে না। কিন্তু আল্লাহর রহমত আর মানুষের সহযোগিতায় ভাই বেঁচে ফিরেছে। আজ সে জজ হয়েছে, মায়ের স্বপ্ন পূরণ করেছে। এটা আমাদের জন্য অনেক বড় আনন্দের।”

তাইজুলের সাফল্যে আনন্দিত তাঁর এলাকার মানুষও। তাঁদের ভাষ্য, একসময় যে ছেলেকে নিয়ে সবাই শঙ্কায় ছিলেন, সেই ছেলেই আজ এলাকার গর্ব।

তাইজুল ইসলামের গল্প শুধু একজন মেধাবী শিক্ষার্থীর সাফল্যের গল্প নয়। এটি একজন মায়ের দীর্ঘ ত্যাগ, একজন সন্তানের অদম্য লড়াই এবং মানুষের সম্মিলিত সহযোগিতায় ঘুরে দাঁড়ানোর গল্প।

পিতৃহীন শৈশব, দারিদ্র্যের সঙ্গে লড়াই, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়াশোনা, দুই কিডনি অকেজো হয়ে মৃত্যুর মুখোমুখি হওয়া, নিয়মিত ডায়ালাইসিস, কিডনি প্রতিস্থাপন—জীবনের প্রতিটি ধাপেই নতুন পরীক্ষার মুখোমুখি হয়েছেন তিনি।

একসময় হাসপাতালের বিছানায় শুয়ে যে তরুণের একমাত্র আকুতি ছিল বেঁচে থাকা, সেই তাইজুলই আজ বিচারকের আসনে বসার অপেক্ষায়। তাঁর এই পথচলায় পূরণ হয়েছে মায়ের দীর্ঘদিনের স্বপ্ন; আর প্রমাণিত হয়েছে—কঠিন সময় যত দীর্ঘই হোক, মানুষের সহযোগিতা ও অদম্য ইচ্ছাশক্তি থাকলে ঘুরে দাঁড়ানোর পথ তৈরি করা সম্ভব।



তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

বর্জ্যের বিনিময়ে খাবার ও গাছ বিতরণ করছে ‘ক্লিন চাঁদপুর’

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

তালাশ বিডি ডেস্ক

শনিবার, ২৬শে সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ইং

০৮:১৬ পি.এম


বর্জ্যের বিনিময়ে খাবার ও গাছ বিতরণ করছে ‘ক্লিন চাঁদপুর’

শহরের বিভিন্ন স্থানে বর্জ্য ফেলা বন্ধ করে ব্যক্তিগত উদ্যোগে পরিচ্ছন্নতার অভ্যাস গড়ে তোলার জন্য একটি ব্যতিক্রমী উদ্যোগ গ্রহণ করেছে স্বেচ্ছাসেবী সংগঠন ‘ক্লিন চাঁদপুর’। সংগঠনটি ‘বর্জ্য জমা দিন, খাদ্য ও গাছ নিন’ স্লোগানের মাধ্যমে শহরের বিভিন্ন স্থানে বর্জ্য সংগ্রহের পাশাপাশি স্থানীয় বাসিন্দাদের মধ্যে খাবার ও গাছ বিতরণ করছে।

শনিবার (২৬ সেপ্টেম্বর) বেলা ১১টা থেকে দুপুর ১২টা পর্যন্ত চাঁদপুর শহরের পুরান বাজার বৌ-বাজার সড়কের পৌরসভার ডাস্টবিন সংলগ্ন এলাকায় এই কর্মসূচিটি পরিচালিত হয়। এ সময় সংগঠনের সদস্যরা স্থানীয় বাসিন্দাদের কাছ থেকে বিভিন্ন ধরনের বর্জ্য সংগ্রহ করেন। বিনিময়ে তাদের মধ্যে খাবার ও গাছ বিতরণ করা হয়।

কর্মসূচিতে উপস্থিত ছিলেন ‘ক্লিন চাঁদপুর’-এর প্রেসিডেন্ট অ্যাডভোকেট নুরুল আমিন খান আকাশসহ সংগঠনের অন্যান্য সদস্যরা।

অ্যাডভোকেট নুরুল আমিন খান আকাশ জানান, চাঁদপুর শহরকে পরিচ্ছন্ন ও সবুজায়ন করা তাদের সংগঠনের প্রধান লক্ষ্য। এই লক্ষ্যকে সামনে রেখে তারা বিভিন্ন সচেতনতামূলক ও বাস্তবমুখী কর্মসূচি পরিচালনা করছেন।

তিনি আরও বলেন, পরিবেশ বিপর্যয়ের এই সময়ে জলাশয় রক্ষা এবং বিভিন্ন রোগবালাই থেকে মানুষের সুরক্ষা নিশ্চিত করতে পরিচ্ছন্নতার বিকল্প নেই। প্রতিদিন শহরের বিভিন্ন ড্রেনে বিপুল পরিমাণ বর্জ্য জমা হচ্ছে। বিশেষ করে প্লাস্টিক বর্জ্য ড্রেনে পড়ে পানি নিষ্কাশনে প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি করছে। এর ফলে জলাবদ্ধতা ও বিভিন্ন ধরনের পরিবেশগত সমস্যা দেখা দিচ্ছে।

সংগঠনটির সূত্রে জানা গেছে, ‘ক্লিন চাঁদপুর’ শুধুমাত্র শহরকেন্দ্রিক নয়, বরং জেলার বিভিন্ন স্থানে সমাজসেবামূলক কর্মকাণ্ড পরিচালনা করে আসছে। সড়ক পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন রাখা, সড়ক সংস্কারে স্বেচ্ছাশ্রম দেওয়া এবং বিভিন্ন জনকল্যাণমূলক কাজে সংগঠনের সদস্যরা যুক্ত রয়েছেন। এছাড়া বিভিন্ন উৎসব ও দুর্যোগের সময় সাধারণ মানুষের পাশে দাঁড়ান সংগঠনের স্বেচ্ছাসেবীরা।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

ফ্যাসিস্ট আ.লীগ দেশকে অস্থিতিশীল করতে ষড়যন্ত্রে: ড. খন্দকার মারুফ

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

তালাশ বিডি ডেস্ক

শনিবার, ২৬শে সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ইং

০৮:১৬ পি.এম


ফ্যাসিস্ট আ.লীগ দেশকে অস্থিতিশীল করতে ষড়যন্ত্রে: ড. খন্দকার মারুফ

বিএনপির জাতীয় নির্বাহী কমিটির সদস্য ও সুপ্রীম কোর্টের এডভোকেট ড. খন্দকার মারুফ হোসেন মন্তব্য করেছেন যে, জাতিসংঘের ৮১তম অধিবেশনে বিশ্বের একমাত্র জিয়া পরিবারের '৩য় সদস্য হিসেবে তারেক রহমান' ভাষণ দিয়ে একটি নতুন ইতিহাস সৃষ্টি করেছেন। এর আগে, বিশ্বের কোনো পরিবারের 'বাবা, মা এবং ছেলে' রাষ্ট্র ও সরকার প্রধান হিসেবে জাতিসংঘের অধিবেশনে ভাষণ দেননি। তারেক রহমানের বাবা, স্বাধীনতার ঘোষক শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান এবং মা, সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়া জাতিসংঘের অধিবেশনে ভাষণ দিয়েছেন। তারেক রহমানের এই ভাষণ জাতিসংঘে নজিরবিহীন ইতিহাস হয়ে থাকবে। এতে বাংলাদেশের মর্যাদা বৃদ্ধি পেয়েছে। জাতি হিসেবে আমরা গর্বিত এবং সম্মানিত হয়েছি।

শনিবার (২৬ সেপ্টেম্বর) দাউদকান্দি পৌর সদরে ফ্যাসিস্ট আ'লীগের দেশবিরোধী গভীর ষড়যন্ত্র ও সহিংসতার প্রতিবাদে অনুষ্ঠিত বিক্ষোভ মিছিলপূর্ব সমাবেশে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

সমাবেশ শেষে প্রধান অতিথি ড. খন্দকার মারুফ হোসেনের নেতৃত্বে দাউদকান্দি পৌর সদরে একটি বিক্ষোভ মিছিল বের হয়। দাউদকান্দি পৌর বিএনপি এই বিশাল মিছিল ও সমাবেশের আয়োজন করেছে।

ড. খন্দকার মারুফ বলেন, তারেক রহমানের জাতিসংঘের ভাষণে জাতির মর্যাদা বৃদ্ধি পেয়েছে। এতে দেশ ও জনগণের জন্য কল্যাণ বয়ে আনবে। কিন্তু এদিকে, দেশকে অস্থিতিশীল করতে ফ্যাসিস্ট আ.লীগ গভীর ষড়যন্ত্রে ব্যস্ত রয়েছে। দেশ ও জনগণের প্রতি এই সন্ত্রাসী সংগঠনটির সামান্যতম ভালোবাসা নেই।

তিনি উল্লেখ করেন, তারেক রহমান জাতিসংঘের ভাষণে টেকসই গণতন্ত্র, উন্নয়ন ও আইনের শাসন প্রতিষ্ঠাসহ একটি সমৃদ্ধ বাংলাদেশ গঠনের জন্য আগামীর পরিকল্পনা তুলে ধরেছেন। তারেক রহমান ভাষণে ফ্যামিলি, ফার্মার্স ও ই-হেলথ কার্ডসহ সামাজিক সুরক্ষার সুবিধাগুলো সমন্বয় করে ভবিষ্যতে একটি ‘ইউনিভার্সাল কার্ড’ চালুর পরিকল্পনার কথা জানান। এই কার্ডের মাধ্যমে মধ্যস্বত্বভোগী ছাড়াই ব্যাংক বা মোবাইল ওয়ালেটে সরাসরি প্রণোদনা পৌঁছানো এবং কৃষি ভর্তুকি ও চিকিৎসাসেবা সহজ করার সুযোগ থাকবে।

বিএনপির জাতীয় নির্বাহী কমিটির এই সদস্য বলেন, প্রধানমন্ত্রী অধিবেশনের ফাঁকে সাইডলাইনে বিভিন্ন রাষ্ট্র ও সরকার প্রধানদের সাথে বৈঠক করেন। তিনি বৈঠকে নিজ দেশের স্বার্থ সংশ্লিষ্ট বিষয়ে নানা প্রস্তাবনা তুলে ধরেন। প্রধানমন্ত্রীর ভাষণ অধিবেশনে উপস্থিত বিভিন্ন রাষ্ট্র ও সরকার প্রধানদের কাছে দারুণভাবে প্রশংসিত হয়েছে।

তিনি আরও বলেন, ফ্যাসিস্ট আ'লীগ একদলীয় শাসন চালিয়ে বিগত ১৬ বছর দেশের জনগণকে অবরুদ্ধ করে রেখেছিল। তাদের নেতাও একদলীয় বাকশাল প্রতিষ্ঠার মাধ্যমে গণতন্ত্র ও মুক্তিযোদ্ধাদের হত্যা করেছে। জনগণের বাকস্বাধীনতা কেড়ে নিয়েছে। ফ্যাসিস্ট হাসিনাও বিএনপি এবং ভিন্নমতের নেতাকর্মীদের গুম, অপহরণ ও হত্যা করেছে। মিথ্যা মামলায় আয়নাঘরে ও জেলে আটকে রেখে অগণিত মানুষের জীবন ও পরিবার বিপন্ন করেছে।

নিষিদ্ধ আ'লীগের নেতারা বিদেশে বসে নিজ দেশে অশান্ত পরিস্থিতি সৃষ্টির পাঁয়তারা করছে। শান্তিপ্রিয় জনগণ তাদের সহিংস তৎপরতা রুখে দেবে বলে মন্তব্য করেন তিনি।

দাউদকান্দি পৌর বিএনপির সাবেক আহবায়ক নূর মোহাম্মদ সেলিম সরকারের সভাপতিত্বে এবং সিনিয়র যুগ্ম আহবায়ক পিটার চৌধুরীর সঞ্চালনায় উপস্থিত ছিলেন, দাউদকান্দি উপজেলা বিএনপির সাবেক আহবায়ক এম. এ লতিফ ভূইয়া, সাবেক সদস্য সচিব ভিপি জাহাঙ্গীর আলম, বিএনপি নেতা আবদুস সাত্তার, কাউসার আলম সরকার, মাহবুব হোসেন হিরণ, কামাল হোসেন, খন্দকার বিল্লাল হোসেন সুমন, শরীফ চৌধুরী, রোমান খন্দকার, আইরিন সরকার ফরিদা ইয়াসমিন, ছাত্র দল নেতা মো. রাসেল ও পাভেল আহমেদ লিটন প্রমুখ।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

আর্কাইভ

Please select a date!

নামাজের সময়সূচী

তারিখঃ ১১ই জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিঃ
ফজর ০৪:৪৩
জোহর ১১:৪৪
আসর ০৩:৫০
মাগরিব ০৫:২৭
ইশা ০৬:৩৮
সূর্যোদয় : ০৫:৫৯ সূর্যাস্ত : ০৫:২৭
অনলাইন জরিপ
ফলাফল
থার্টি-ফার্স্ট নাইটে তরুণদের জন্য প্রকাশ্যে পানি-টানি খাওয়ার বিরুদ্ধে আহ্বান। আপনার মন্তব্য দিন
হ্যা
100%
না
0%
মন্তব্য নেই
0%