ঢাকা শনিবার, ০৭ই নভেম্বর, ২০২৬খ্রিষ্টাব্দ ২২শে কার্তিক, ১৪৩২বঙ্গাব্দ ২৬শে জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিজরী
শনিবার, ০৭ই নভেম্বর, ২০২৬ইং ২২শে কার্তিক, ১৪৩২বাং

বৈধ-অবৈধ পথে আসছে স্বর্ণের বার, গন্তব্য কোথায়?


বৈধ-অবৈধ পথে আসছে স্বর্ণের বার, গন্তব্য কোথায়?

বিগত কয়েক বছরে চট্টগ্রামের শাহ আমানত আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর দিয়ে বিপুল পরিমাণ স্বর্ণের বার দেশে এসেছে। বর্তমানে এসব স্বর্ণের বাজারমূল্য ৫ লাখ ৫১ হাজার কোটি টাকার বেশি। গত চার অর্থবছরে ২৮ দশমিক ৩৫ মেট্রিক টন ওজনের ২ লাখ ৪৩ হাজার স্বর্ণের বার বৈধ করা হয়েছে। অবৈধভাবে আনার সময় ১৩৩ কেজি ওজনের ১ হাজার ১৪১টি বার জব্দ করা হয়েছে।

দেশের অলংকারের বাজারে এসব স্বর্ণের বার ব্যবহার হয়নি বলে দাবি করেছেন জুয়েলার্স সমিতির নেতারা। এই অবস্থায় প্রশ্ন উঠেছে, আসলে এসব স্বর্ণের বারের গন্তব্য কোথায়?

বিদেশ থেকে আনা স্বর্ণের বার শুল্ক দিয়ে বৈধ করতে চট্টগ্রামের শাহ আমানত আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের কাস্টমসের সামনে দীর্ঘ লাইন দেখা যায়। মধ্যপ্রাচ্য থেকে আসা প্রতিটি ফ্লাইট অবতরণের পর যাত্রীদের ভিড়ে তৈরি হয় এই জট। এই দৃশ্যই নির্দেশ করে, প্রতিদিন এই রুট দিয়ে কত পরিমাণ স্বর্ণের বার দেশে আসছে।

আরও পড়ুন: বিশ্বব্যাংক প্রাক্‌-প্রাথমিক ও প্রাথমিক শিক্ষার মানোন্নয়নে ৩০ কোটি ডলার দিচ্ছে

চট্টগ্রাম শাহ আমানত আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের পরিচালক গ্রুপ ক্যাপ্টেন নূর হোসেন জানিয়েছেন, শ্রমজীবী মানুষেরা এই বিমানবন্দর দিয়ে বেশি যাতায়াত করেন। তাদের বেশিরভাগই মধ্যপ্রাচ্যে যান। সেখানে বাংলাদেশের তুলনায় স্বর্ণের দাম কিছুটা কম এবং স্বর্ণের বিশুদ্ধতা বাংলাদেশের তুলনায় বেশি হতে পারে। এ কারণে মধ্যপ্রাচ্য থেকে স্বর্ণের বার আনার প্রতি অনেকের আগ্রহ রয়েছে।

শাহ আমানত বিমানবন্দরের তথ্য অনুযায়ী, গত চার অর্থবছরে ২৮ দশমিক ৩৫ মেট্রিক টন ওজনের ২ লাখ ৪৩ হাজার পিস স্বর্ণের বার বৈধ করা হয়েছে। এর মধ্যে ২০২২-২৩ অর্থবছরে রেকর্ড ১ লাখ ৭২ হাজার ৫১৪ পিস স্বর্ণের বার বৈধ করা হয়। প্রতিটি বার ১০ ভরি ওজনের হিসাবে এসব স্বর্ণের বর্তমান বাজারমূল্য ৫ লাখ ৫১ হাজার কোটি টাকার বেশি।

অন্যদিকে, অবৈধভাবে স্বর্ণ পাচারের সময় ১৩৩ কেজি ওজনের ১ হাজার ১৪১টি বার জব্দ করা হয়েছে।

চট্টগ্রাম কাস্টমস হাউজের সহকারী কমিশনার শরীফ মো. আল আমিন বলেছেন, স্বর্ণ পাচারের সঙ্গে জড়িত সিন্ডিকেটের সদস্যরা বাহকদের ব্যবহার করে। অনেক সময় প্রকৃত হোতারা আড়ালেই থেকে যায়। ফলে শেষ পর্যন্ত নিরীহ সাধারণ বাহকরাই আইনের আওতায় আসেন।

আরও পড়ুন: আনসার-ভিডিপি সদস্যদের বিদেশে কর্মসংস্থানে সরকারের নতুন উদ্যোগ

সরকার নির্ধারিত শুল্ক পরিশোধ করে বৈধভাবে আনা স্বর্ণের বার নিয়ে যাত্রীরা বিমানবন্দর ছাড়লেও অবৈধ স্বর্ণ জব্দের ঘটনায় নগরীর পতেঙ্গা থানায় মামলা হয়। এসব মামলার তদন্ত করে পুলিশ। কিন্তু নানা জটিলতায় এখন পর্যন্ত বাহক ছাড়া পেছনের কোনো হোতার সন্ধান পায়নি তারা।

সিএমপির উপকমিশনার (বন্দর) মো. আমিরুল ইসলাম বলেছেন, শুধু বাহককে গ্রেফতার করা হয়, পেছনের ব্যক্তিদের ধরা হয় না; এমন অভিযোগ সঠিক নয়। তদন্তে যাদের নাম ও সংশ্লিষ্টতা পাওয়া যায়, তাদের সবাইকে আইনের আওতায় আনা হয়।

এদিকে, সারাদেশে বিভিন্ন মার্কেট ও বিপণিবিতানে বড় জুয়েলারি শপসহ ছোট-বড় অন্তত ৫০ হাজার স্বর্ণালংকারের দোকান রয়েছে। তবে বিদেশ থেকে আসা বৈধ কিংবা অবৈধ অধিকাংশ স্বর্ণের বারের বিষয়ে কিছুই জানেন না বলে দাবি স্বর্ণ ব্যবসায়ীদের। এতে প্রশ্ন থেকেই যায়, এত স্বর্ণের বার শেষ পর্যন্ত কোথায় যাচ্ছে?

চট্টগ্রাম বাজুসের চেয়ারম্যান নূরুল আবসার চৌধুরী জানিয়েছেন, যারা স্বর্ণের বার আনছেন, তারা মূলত ব্যক্তিগত ও পারিবারিক ব্যবহারের জন্যই আনছেন। কিছু স্বর্ণ তারা দোকানদারদের দিয়ে অলংকার তৈরি করিয়ে নেন।

আরও পড়ুন: গভর্নরের নির্দেশে উদ্যোক্তাদের সুবিধা দ্রুত পৌঁছানোর নির্দেশ বাণিজ্যিক ব্যাংকগুলোকে

চট্টগ্রাম বাজুসের মহাসচিব প্রণব সাহা বলেছেন, যাত্রীরা ব্যাগেজের মাধ্যমে স্বর্ণ নিয়ে আসেন। সেগুলো আমরা কিনে নিই, এটাই আমাদের কাজ। তবে স্বর্ণের বার কারা আনছেন, কারা ব্যবহার করছেন, সে বিষয়ে আমাদের জানা নেই। বিষয়টি যারা আনেন, যারা ব্যবহার করেন এবং প্রশাসন জানে।

বর্তমানে ১০০ গ্রাম ওজনের প্রতিটি স্বর্ণের বারের দাম ১৯ লাখ ৬৮ হাজার টাকা। অন্যদিকে, প্রতি ভরি স্বর্ণালংকারের দাম ২ লাখ ২৯ হাজার ৬৬৪ টাকা।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

ইশরাক: প্রধানমন্ত্রীর সামনে মাথা উঁচু করে কথা বলেছি

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

তালাশ বিডি ডেস্ক

শনিবার, ৭ই নভেম্বর, ২০২৬ ইং

০১:১১ পি.এম


ইশরাক: প্রধানমন্ত্রীর সামনে মাথা উঁচু করে কথা বলেছি

ঢাকা-৬ আসনের সংসদ সদস্য ইশরাক হোসেনের হাতে পিস্তল নিয়ে কয়েকজনকে ধাওয়া করার একটি ভিডিও সামাজিক মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়েছে। গেণ্ডারিয়া রেললাইনসংলগ্ন এলাকায় গত ১৭ অক্টোবর বিকালে এই ঘটনা ঘটে বলে তার ফেসবুক পেজের পোস্টে উল্লেখ করা হয়েছে।

ভিডিওটিতে দেখা যায়, এক হাতে হ্যান্ড মাইকের মাউথপিস এবং অন্য হাতে পিস্তল নিয়ে গাড়ি থেকে নেমে তিনি একদল লোককে ধাওয়া করছেন। এ সময় পিস্তলের স্লাইড টেনে সেটি গুলি করার জন্য প্রস্তুত করে লোকগুলোর দিকে তাক করে "অ্যাই দাঁড়া, দাঁড়া" বলে চিৎকার করতে দেখা যায় তাকে। ভিডিওতে সাদা পোশাকের আরও একজনকে অস্ত্র হাতে কয়েকজনকে ধাওয়া করতে দেখা যায়।

মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক প্রতিমন্ত্রী থাকার সময় ইশরাকের এই কর্মকাণ্ডের কারণে বিএনপি ও সরকারের মধ্যে অসন্তোষ তৈরি হয়। পর দিন রোববার প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান তাকে পদত্যাগের নির্দেশ দেন বলে জানা যায়। গত ২০ অক্টোবর মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের এক প্রজ্ঞাপনে জানানো হয়, ইশরাকের পদত্যাগপত্র রাষ্ট্রপতি গ্রহণ করেছেন।

এই ঘটনার প্রেক্ষিতে এবং ভবিষ্যৎ রাজনৈতিক পরিকল্পনা নিয়ে খোলামেলা আলোচনা করেছেন ইশরাক হোসেন। সম্প্রতি তিনি যুগান্তরের স্টাফ রিপোর্টার নূরে আলম জিকুর মুখোমুখি হন।

রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের একটি অংশের মতামত হলো- আপনাকে যদি রাজনীতিতে কোণঠাসা বা দুর্বল করা যায়, তবে জামায়াত ও এনসিপি লাভবান হবে; আর আওয়ামী লীগ মাঠে ফিরলে তারা সুবিধা পাবে। এই বিষয়ে ইশরাক হোসেন বলেন, "দেখুন, বিশ্লেষক বা বিশেষজ্ঞরা তাদের নিজস্ব বিচার-বিবেচনা ও বিশেষ জ্ঞান থেকেই এমন মন্তব্য বা বিশ্লেষণ করে থাকেন। সেটিকে একেবারে উড়িয়ে দেওয়ার সুযোগ নেই; তারা নিশ্চয়ই কোনো ভিত্তি ছাড়া কথা বলেন না। তবে আমি দ্ব্যর্থহীনভাবে বলতে চাই- আমাকে রাজনৈতিকভাবে দুর্বল করার যে প্রয়াসই চলুক না কেন, তা কোনোভাবেই সফলতা পাবে না। প্রধানমন্ত্রী আমার সব কর্মকাণ্ড এবং রাজনৈতিক ভবিষ্যৎ নিয়ে পূর্ণ সচেতন ও অবগত। দলে হাজার হাজার নেতাকর্মী থাকা সত্ত্বেও তিনি সব সময় আমাকে বিশেষ স্নেহ ও আস্থার চোখে দেখেছেন। তাই দলের ভেতর কিংবা বাইরে-যে যেখান থেকেই আমাকে দুর্বল বা প্রতিবন্ধকতায় ফেলার চেষ্টা করুক না কেন, তা মোকাবিলা করার জন্য আমার পূর্ণ রাজনৈতিক ও মানসিক প্রস্তুতি রয়েছে।"

রাজনীতিতে নিজের বড় ভুলের বিষয়ে তিনি বলেন, "মানুষ হিসাবে সবারই ছোটখাটো ভুলত্রুটি হতে পারে। তবে সম্প্রতি একটি ঘটনাকে কেন্দ্র করে যে আলোচনা হচ্ছে, সে বিষয়ে আমি স্পষ্ট করতে চাই- সেখানে আমি বিন্দুমাত্র কোনো ভুল করিনি। এটি আমি প্রধানমন্ত্রীর সামনেও মাথা উঁচু করে বলে এসেছি। এলাকা থেকে মাদক নির্মূলের অংশ হিসাবে যথাযথ প্রক্রিয়ায় সেখানে গিয়েছিলাম। সেখানে আত্মরক্ষার্থে আমার লাইসেন্স করা অস্ত্রটি কিছু সময়ের জন্য প্রদর্শন করেছিলাম, যা পরে আবার যথাযথভাবে সুরক্ষিত (কনসিলড) অবস্থায় রাখা হয়। এখানে এক সেকেন্ডের জন্যও আমি কোনো অন্যায় বা ভুল করিনি এবং আমৃত্যু আমি এ অবস্থানেই অটল থাকব। তবে অতীতের সামগ্রিক রাজনীতিতে পরিস্থিতি বা বক্তব্যের কারণে অনিচ্ছাকৃত ভুল হয়ে থাকতে পারে; কারণ ভুলের ঊর্ধ্বে কেউ নয়।"

তিনি আরও বলেন, "আমি কোনো অন্ধ পরামর্শ বা কাছের মানুষের কথায় রাজনীতি করি না। আমি অনেকের মতামত শুনি, যা ইতিবাচক ও কৌশলগতভাবে কার্যকর মনে হয় তা গ্রহণ করি। কিন্তু দিনশেষে সিদ্ধান্ত আমার নিজের। কারণ যে কোনো কাজের চূড়ান্ত দায়দায়িত্ব ও পরিণতি আমার ওপরই বর্তায় এবং আমি সেই দায়ভার নিতে সর্বদা প্রস্তুত। কারও অসৎ প্ররোচনা বা ভুল পরামর্শে আমি কখনো পরিচালিত হইনি; বিগত দিনের আন্দোলন-সংগ্রামের প্রতিটি সিদ্ধান্তই ছিল নিজস্ব।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

শহীদ জিয়ার লক্ষ্য-আদর্শে ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয় পুনঃপ্রতিষ্ঠায় কাজ চলছে: উপাচার্য

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

তালাশ বিডি ডেস্ক

শনিবার, ৭ই নভেম্বর, ২০২৬ ইং

০১:১২ পি.এম


শহীদ জিয়ার লক্ষ্য-আদর্শে ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয় পুনঃপ্রতিষ্ঠায় কাজ চলছে: উপাচার্য

শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের প্রতিষ্ঠিত ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের মূল লক্ষ্য ও উদ্দেশ্য পুনঃপ্রতিষ্ঠার লক্ষ্যে কাজ চলছে, এমনটি জানিয়েছেন বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. এ. কে. এম. মতিনুর রহমান।

তিনি উল্লেখ করেন, বিশ্ববিদ্যালয়ের অতীতের ক্ষতিগ্রস্ত অবস্থান থেকে উত্তরণের জন্য প্রশাসনের প্রচেষ্টা অব্যাহত রয়েছে। শিক্ষার্থীদের জন্য নিরাপদ ক্যাম্পাস নিশ্চিত করা, যুগোপযোগী শিক্ষাক্রম প্রণয়ন এবং দক্ষ, অভিজ্ঞ ও যোগ্য নাগরিক হিসেবে গড়ে তোলার জন্য প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ গ্রহণ করা হচ্ছে।

শনিবার (৭ নভেম্বর) জাতীয় বিপ্লব ও সংহতি দিবস উপলক্ষে ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয় (ইবি) আয়োজিত কর্মসূচিতে বক্তব্য প্রদানকালে তিনি এসব কথা বলেন।

উপাচার্য বলেন, দেশ, জাতি ও বিশ্ববিদ্যালয়কে নতুনভাবে পুনর্গঠনে শিক্ষার্থীদের সহযোগিতা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। একটি সমৃদ্ধ ও আদর্শিক বিশ্ববিদ্যালয় গড়ে তুলতে শিক্ষক-শিক্ষার্থীসহ সংশ্লিষ্ট সকলের সম্মিলিত প্রচেষ্টা প্রয়োজন।

বক্তব্যের শেষ পর্যায়ে তিনি জুলাই গণ-অভ্যুত্থানে শহীদদের পাশাপাশি আহত ও পঙ্গুত্ববরণকারীদের গভীর শ্রদ্ধার সঙ্গে স্মরণ করেন। একই সঙ্গে বিগত সময়ে জুলুম, নির্যাতন ও গুমের শিকার ব্যক্তিদের এবং মহান মুক্তিযুদ্ধ থেকে শুরু করে বিভিন্ন আন্দোলন-সংগ্রামে আত্মত্যাগকারী সকল শহীদের আত্মার মাগফিরাত কামনা করেন।

এর আগে দিবসটি যথাযোগ্য মর্যাদা ও ভাবগাম্ভীর্যের মধ্য দিয়ে পালনে বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ দিনব্যাপী বিভিন্ন কর্মসূচি গ্রহণ করে। সকাল ১০টায় জাতীয় ও বিশ্ববিদ্যালয়ের পতাকা উত্তোলনের মধ্য দিয়ে কর্মসূচির সূচনা হয়। জাতীয় পতাকা উত্তোলন করেন উপাচার্য অধ্যাপক ড. এ. কে. এম. মতিনুর রহমান এবং বিশ্ববিদ্যালয়ের পতাকা উত্তোলন করেন উপ-উপাচার্য অধ্যাপক ড. মো. এমতাজ হোসেন। এ সময় উপস্থিত ছিলেন ট্রেজারার অধ্যাপক ড. মো. ইদ্রিস আলী এবং ভারপ্রাপ্ত রেজিস্ট্রার অধ্যাপক ড. মো. আতিকুর রহমান। সকাল ১০টা ১৫ মিনিটে উপাচার্য আনুষ্ঠানিকভাবে কর্মসূচির উদ্বোধন ঘোষণা করেন।

পরে সকাল সাড়ে ১০টায় প্রশাসন ভবন চত্বর থেকে একটি বর্ণাঢ্য র‍্যালি বের করা হয়। র‍্যালিতে নেতৃত্ব দেন উপাচার্য। এতে উপ-উপাচার্য, ট্রেজারার, ভারপ্রাপ্ত রেজিস্ট্রার, বিভিন্ন অনুষদের ডিন, বিভাগীয় সভাপতি, হলসমূহের প্রভোস্ট ও হাউজ টিউটর, শিক্ষক, কর্মকর্তা, কর্মচারী ও শিক্ষার্থীরা অংশ নেন। র‍্যালিটি বাংলাদেশের স্বাধীনতার ঘোষক শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমান (বীর উত্তম) কর্তৃক স্থাপিত বিশ্ববিদ্যালয়ের ভিত্তিপ্রস্তরস্থল প্রদক্ষিণ করে শেষ হয়।

র‍্যালি শেষে সকাল ১০টা ৪৫ মিনিটে বিশ্ববিদ্যালয়ের পক্ষে ভিত্তিপ্রস্তরে পুষ্পমাল্য অর্পণ করেন উপাচার্য। এ সময় উপ-উপাচার্য, ট্রেজারার ও ভারপ্রাপ্ত রেজিস্ট্রার উপস্থিত ছিলেন। এরপর পর্যায়ক্রমে বিশ্ববিদ্যালয়ের বিভিন্ন হল, বিভাগ, পরিষদ এবং সামাজিক ও সাংস্কৃতিক সংগঠনের পক্ষ থেকে সুশৃঙ্খলভাবে শ্রদ্ধাঞ্জলি নিবেদন করা হয়।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

ঝিনাইদহে সরকারি খাল ভরাট করে ড্রেন নির্মাণ, জলাবদ্ধতার আশঙ্কা

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

তালাশ বিডি ডেস্ক

শনিবার, ৭ই নভেম্বর, ২০২৬ ইং

০১:১৩ পি.এম


ঝিনাইদহে সরকারি খাল ভরাট করে ড্রেন নির্মাণ, জলাবদ্ধতার আশঙ্কা

ঝিনাইদহের কালীগঞ্জ পৌরসভার নিশ্চিন্তপুর এলাকায় সরকারি খাল ভরাট করে ড্রেন নির্মাণের অভিযোগ উঠেছে। সরকারি কাগজপত্রে খাল হিসেবে উল্লেখ থাকলেও সেখানে প্রায় ১ কোটি টাকা ব্যয়ে ড্রেন নির্মাণের কাজ চলছে। এর ফলে বর্ষাকালে পানির স্বাভাবিক প্রবাহ ব্যাহত হয়ে চরম জলাবদ্ধতার শঙ্কা প্রকাশ করেছে স্থানীয় বাসিন্দারা।

সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, ২০২৫-২০২৬ অর্থবছরে কোভিড-১৯ প্রকল্পের অধীনে সরকারি খালের ওপর ১৬৫ মিটার দীর্ঘ ও ৮ ফুট প্রস্থের এই ড্রেন নির্মাণকাজে ব্যয় ধরা হয়েছে প্রায় ১ কোটি টাকা। কাজটি পেয়েছে ‘বাংলাদেশ ট্রেডিং অ্যান্ড কর্পোরেশন’ নামের ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান, যার স্বত্বাধিকারী নজরুল ইসলাম। তবে স্থানীয়ভাবে কাজটি দেখাশোনা করছেন উপজেলা যুবদলের সদস্যসচিব মাহবুবুর রহমান মিলন।

ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের স্বত্বাধিকারী নজরুল ইসলাম জানান, তার লাইসেন্সে জেলা যুবদলের সাধারণ সম্পাদক আশরাফুল ইসলাম পিন্টু এই কাজ করেন। স্থানীয় দেখভালের দায়িত্বে থাকা মাহবুবুর রহমান মিলন দাবি করেন, স্থানীয় সংসদ সদস্য ও দুই গ্রামের লোকজনের সঙ্গে সিদ্ধান্ত নিয়েই কাজটি করা হচ্ছে।

পৌর ভূমি অফিস সূত্রে জানা যায়, কালীগঞ্জ পৌরসভার নিশ্চিন্তপুর মৌজার ১ নম্বর খতিয়ানের ২৫৫২ ও ২৬০১ নম্বর দাগে সরকারি খাল রয়েছে। এর মধ্যে ২৬০১ নম্বর দাগের সাড়ে ৩২ শতক জায়গার ওপর এই ড্রেন নির্মাণ করা হচ্ছে। অথচ মৌজার সরকারি ম্যাপেও ওই স্থানটি খাল হিসেবে চিহ্নিত এবং এর প্রস্থ ১৫ থেকে ২০ ফুট পর্যন্ত ছিল।

স্থানীয়দের ভাষ্য, বর্তমান সরকার যখন খাল পুনর্খননের উদ্যোগ নিয়েছে, তখন কালীগঞ্জে খাল ভরাট করে ড্রেন নির্মাণ করা হচ্ছে। কালীগঞ্জ পৌরসভার সাবেক কমিশনার মুক্তার হোসেন জানান, পৌরসভার কয়েকটি গ্রামসহ শিমলা-রোকনপুর ও ত্রিলোচনপুর ইউনিয়নের প্রায় ২৭টি গ্রামের পানি এই খালের মাধ্যমেই শহরের ভেতর দিয়ে চিত্রা নদীতে নিষ্কাশিত হয়। এখানে সরু ড্রেন নির্মাণ করা হলে লাখো মানুষ জলাবদ্ধতার কবলে পড়বে এবং সরকারের কোটি টাকা অপচয় হবে।

কালীগঞ্জ পৌরসভার প্রকৌশলী কবির হাসান দাবি করেন, যে স্থানে ড্রেন নির্মাণ করা হচ্ছে তা জনসাধারণের জায়গা এবং এলাকাবাসীর সঙ্গে আলোচনা ও রেজুলেশন করেই এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।

তবে কালীগঞ্জ পৌর নায়েব খোকন কুমার দাস জানান, সরকারি নথিতে ২৫৫২ ও ২৬০১ নম্বর দাগে সাড়ে ৩২ শতক জমি খাল হিসেবেই রেকর্ডভুক্ত রয়েছে।

পৌরসভার প্রশাসক রেজওয়ানা নাহিদ বলেন, এলাকাবাসীর দাবির প্রেক্ষিতেই এই ড্রেন নির্মাণ করা হচ্ছে। পৌরসভার সার্ভেয়ারের তথ্য অনুযায়ী খালের কিছু অংশ রাস্তার মধ্যে চলে গেছে এবং বর্তমানে যেখানে কাজ হচ্ছে সেটি জনসাধারণের জায়গা। স্থানীয় সংসদ সদস্য, এলাকাবাসী ও বিশ্বব্যাংকের প্রতিনিধিদের সঙ্গে আলোচনা করেই এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

তিস্তায় অভয়াশ্রম নেই, হারিয়ে যাচ্ছে দেশি মাছ

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

তালাশ বিডি ডেস্ক

শনিবার, ৭ই নভেম্বর, ২০২৬ ইং

০১:১৪ পি.এম


তিস্তায় অভয়াশ্রম নেই, হারিয়ে যাচ্ছে দেশি মাছ

কুড়িগ্রাম জেলার ৪০ কিলোমিটারজুড়ে বিস্তৃত তিস্তা নদীতে কোনো মাছের অভয়াশ্রম নেই। এর পাশাপাশি কারেন্ট শক এবং চায়না দুয়ারি জালের মাধ্যমে নির্বিচারে মাছ শিকার চলছে। এই কারণে অনেক দেশি মাছের প্রজাতি হারিয়ে যাচ্ছে।

জেলেদের মতে, গত দুই দশকের মধ্যে তিস্তায় অন্তত ১০ প্রজাতির মাছ প্রায় বিলুপ্ত হয়ে গেছে। বর্তমানে চার-পাঁচটি প্রজাতির মাছ পাওয়া যাচ্ছে, যা খুবই সামান্য। নদীর বিখ্যাত বৈরালী মাছও এখন দুষ্প্রাপ্য হয়ে পড়েছে। সারা রাত জাল টেনে কখনো কখনো ১০০ টাকার মাছও মিলছে না। ফলে তিস্তানির্ভর জেলেদের জীবনযাত্রা চরম সংকটে রয়েছে। তারা ধার-দেনা এবং দাদনের ফাঁদে পড়ে দিশাহারা হয়ে পড়েছেন।

সরেজমিনে বিদ্যানন্দ গ্রামের জেলে পল্লীতে গিয়ে দেখা যায়, জেলেদের জীবনের নানা সংকট। অনেক জেলে পেশা পরিবর্তন করলেও তিস্তাপারের ১০ গ্রামের মধ্যে একমাত্র এই জেলে পল্লীটি টিকে রয়েছে। এখানে অর্ধশত জেলে পরিবারের বাস, তবে অন্তত ২০টি পরিবার অন্যের জমিতে বসবাস করছে।

তিস্তার ভাঙনে সাতবার ভিটেমাটি হারিয়ে বর্তমানে বিদ্যানন্দ জেলেপাড়ায় বসবাস করছেন ষাটোর্ধ অতুল চন্দ্র দাস। তিনি নদীর কিনার ঘেঁষে ঘর বেঁধেছেন। স্থানীয় বাসিন্দা রাজেন চন্দ্রের দেওয়া জমিতে তার জীর্ণ চালাঘর। তিন পুরুষের পেশা মাছধরা। দীর্ঘদিন ধরে তিস্তার বুকে জাল টেনে কাটিয়েছেন জীবন। এখন বয়সজনিত ক্লান্তি তার শরীরে। মাঝে মাঝে দুই ছেলের সঙ্গে জাল ও নৌকা নিয়ে তিস্তার টানে ছুটে যান।

ছেলে সবুজ দাস ও রঞ্জিত দাস রাতভর তিস্তার বুকে ভেসে বেড়ান, কিন্তু মাছের অভাবে তাদের পেশা হুমকির মুখে। তারা জানান, কোনো কোনো দিন এক কেজির বেশি মাছ পাওয়া যায় না। তাই কার্তিক থেকে ফাল্গুন মাস পর্যন্ত আধপেটা খেয়ে কাটাতে হয়।

সবুজ ও রঞ্জিত আরও জানায়, প্রতি হাজারে মাসে ১০০ টাকা সুদ দেওয়ার চুক্তিতে ১০ হাজার টাকা দাদন নিয়ে নৌকা মেরামত করেছেন, কিন্তু নদীতে মাছের অভাবে সুদ ও আসল পরিশোধে উদ্বেগ বাড়ছে।

সবুজ চন্দ্র দাসের স্ত্রী সাধনা দাস জানান, তাদের আয় কমে গেছে। দুই সন্তানের লেখাপড়া ও চিকিৎসার জন্য মহাজনের কাছে ২০ হাজার টাকা দাদন নিয়েছেন, কিন্তু চার কিস্তি পরিশোধ করতে পারেননি। পূজার সময় আরও ১০ হাজার টাকা নিয়েছেন। এইসব ঋণ এখন গলার কাঁটা হয়ে উঠেছে। তিনি বলেন, ‘এলা তিস্তার ওপরা ভরসা করি হামার জীবন চলে না।’

প্রতিবেশী সন্দেশ দাস ৯০ হাজার টাকা দাদন নিয়ে এবছর নৌকা মেরামত ও নতুন জাল কিনেছেন, কিন্তু নদীতে মাছ না থাকায় টাকা শোধ করা কঠিন হয়ে পড়েছে। খাবারের সংস্থান ছাড়াও প্রতিবছর নৌকা মেরামত ও জাল কেনার জন্য মোটা অংকের টাকা খরচ হয়। ফলে জেলে পরিবারের দায়-দেনা বেড়ে যাচ্ছে।

সন্দেশের স্ত্রী মুক্তা রানী দাস বলেন, ‘নদীতে তো মাছ নাই, প্যাট তো সেটা মানে না। সুদের টাকা কেমন করি শোধ করমো, সেই চিন্তায় নিন্দ আইসে না।’

জেলেরা জানান, বছর দশেক আগে তিস্তায় রুই, কাতলা, আইর, বোয়াল, চিতল, চেলা, বৈরালী, উপুর চৌকা, ঢুরুয়া, বাইম, শোল, পুঁটি, টেংরা, ঘারুয়া, বাছা, চিংড়ি ও ইলিশসহ নানা প্রজাতির প্রচুর মাছ পাওয়া যেত। ২০২২ সালের হরকা বানের ঘোলা পানিতে অনেক মাছ মরে যায়। এরপর মাছের উৎপাদন কিছুটা বাড়লেও গত দুই বছর ধরে মাছের আকাল চরম আকার ধারণ করেছে। বর্তমানে অল্প পরিমাণে বৈরালী, চেলা, পুঁটি, টেংরা ছাড়া অন্য কোনো মাছের দেখা মেলে না।

বাহাদুর দাস নামের আরেক জেলে জানান, দুপুর ২টার পর জাল-নৌকা নিয়ে তিস্তায় নামেন তিনি। সারা রাত নদীতে মাছ ধরে সকালে ফেরেন, কিন্তু সুবিধা হয় না। মাছ বিক্রি করে এমন দিনও যায় যখন ১০০ টাকার বেশি আয় হয় না।

বৃদ্ধ জেলে বুদা দাসের ভাষ্য অনুযায়ী, ১০-১২ প্রজাতির মাছ নদী থেকে হারিয়ে গেছে। আগে চেচা, ঘাইয়াল, ব্যার, মুঠা, আউংটা জালের ব্যবহার হতো; এখন ব্যার আর চেচা জাল ছাড়া ব্যবহার করা হয় না। তিনি বলেন, ‘ওমারে প্যাট চলে না, মোক পোষে কেমন করি।’

জেলেদের অভিযোগ, চর এলাকায় অপেশাদার মাছ শিকারিরা ব্যাপকভাবে কারেন্ট জাল ব্যবহার করছে। এতে মাছের বংশ ধ্বংস হচ্ছে। জেলেরা এসব অমৎস্যজীবী ‘বাঙাল’ বা ‘ভাটিয়া’র ওপর প্রচণ্ড ক্ষুব্ধ। জীবন-জীবিকা হুমকিতে পড়লেও জেলেরা কখনো এসব নিষিদ্ধ জাল ব্যবহার করেন না। তাছাড়া জলভাগের একটা বড় অংশ ‘অমৎস্যজীবীরা’ দখল করে জেলেদের মাছ ধরতে বাধা দেয়। ফলে মাছ ধরার জায়গাও তাদের জন্য সংকুচিত হয়ে পড়েছে।

জেলা মৎস্য অফিস সূত্রে জানা গেছে, জেলায় আটটি মাছের অভয়াশ্রম রয়েছে। তবে এর মধ্যে একটি অভয়াশ্রমও তিস্তায় নেই। অথচ তিস্তা নদী ৪০ কিলোমিটারজুড়ে বিস্তৃত। ব্রহ্মপুত্রে হাতিয়া ও শাখাহাতি ছাড়াও ছয়টি বিল ও ছড়ায় এই অভয়াশ্রমে দেশীয় মাছ সংরক্ষণ করে বংশ বিস্তারে সহায়তা করা হয়, কিন্তু তিস্তায় এ ধরনের কোনো মাছের অভয়াশ্রম নেই। তাই তিস্তায় বিচরণকারী মাছের প্রজাতি রক্ষায় কোনো উদ্যোগ নেই।

জেলা মৎস্য কর্মকর্তা জহিরুল ইসলাম আকন্দ জানান, দেশীয় মাছের প্রজাতি রক্ষায় তিস্তা ও ব্রহ্মপুত্রকেন্দ্রিক একটি বড় আকারের অভয়াশ্রম গড়ে তোলার প্রস্তাবনা প্রস্তুত করা হচ্ছে।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

আর্কাইভ

Please select a date!

নামাজের সময়সূচী

তারিখঃ ২৬শে জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিঃ
ফজর ০৪:৫০
জোহর ১১:৪৩
আসর ০৩:৪০
মাগরিব ০৫:১৬
ইশা ০৬:২৯
সূর্যোদয় : ০৬:০৮ সূর্যাস্ত : ০৫:১৬
অনলাইন জরিপ
ফলাফল
থার্টি-ফার্স্ট নাইটে তরুণদের জন্য প্রকাশ্যে পানি-টানি খাওয়ার বিরুদ্ধে আহ্বান। আপনার মন্তব্য দিন
হ্যা
100%
না
0%
মন্তব্য নেই
0%