ঢাকা বুধবার, ২৮শে অক্টোবর, ২০২৬খ্রিষ্টাব্দ ১২ই কার্তিক, ১৪৩৩বঙ্গাব্দ ১৭ই জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিজরী
বুধবার, ২৮শে অক্টোবর, ২০২৬ইং ১২ই কার্তিক, ১৪৩৩বাং

ইউক্রেনে বড় হামলা চালিয়েছে রাশিয়া, বহু হতাহত


ইউক্রেনে বড় হামলা চালিয়েছে রাশিয়া, বহু হতাহত

 

রাশিয়া ইউক্রেনের কিয়েভ এবং দনিপ্রোর মতো শহরগুলোতে ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র হামলা নিক্ষেপ করেছে। এতে অন্তত ১০ জন নিহত এবং প্রায় ১০০ জন আহত হওয়ার তথ্য কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে।

মস্কোর বড় ধরনের হামলার পরিকল্পনার বিষয়ে কয়েক দিন ধরে সতর্কবার্তা দেওয়ার পর আজ মঙ্গলবার (২ জুন) ভোরে এই হামলা করা হয়।

আরও পড়ুন: ট্রাম্পের বিরুদ্ধে ১২৪ কোটি টাকার ক্ষতিপূরণ মামলা

চার বছরেরও বেশি সময় ধরে চলা এই যুদ্ধে রাশিয়া ইউক্রেনের বিদ্যুৎ সরবরাহ ও অবকাঠামোকে লক্ষ্যবস্তু করেছে। অন্যদিকে, ইউক্রেনও এ বছর রাশিয়ার তেল স্থাপনাগুলোতে হামলা বাড়িয়েছে। উভয় পক্ষই বেসামরিক নাগরিকদের লক্ষ্যবস্তু করার অভিযোগ অস্বীকার করেছে।

গত সপ্তাহে রাশিয়ার নিয়ন্ত্রিত লুহানস্ক অঞ্চলের একটি ছাত্রাবাসে ড্রোন হামলায় ২১ জন নিহত হওয়ার ঘটনার প্রতিক্রিয়ায় ক্রেমলিন কিয়েভে ‘পরিকল্পিত হামলা’ চালানোর হুমকি দিয়েছে। তবে ইউক্রেন ওই হামলায় জড়িত থাকার অভিযোগ অস্বীকার করেছে। ইউক্রেনের রাজধানী কিয়েভে রাতভর রাশিয়ান হামলায় অন্তত চারজন নিহত এবং শিশুসহ ৫৮ জন আহত হয়েছেন বলে জানান শহরের মেয়র ভিতালি ক্লিচকো। হামলার পর তোলা ছবিতে উঁচু ভবনের উপরে ধোঁয়ার কুণ্ডলী এবং বড় বিস্ফোরণের দৃশ্য দেখা যায়।

হামলার ভেতরে একটি স্থানীয় বাসিন্দা, ওলহা মুদ্রা, তার ছয় বছর বয়সী মেয়ে নাতালিয়াকে নিয়ে আতঙ্কের মুহূর্তের বর্ণনা দেন। তিনি বলেন, ‘আমরা বুঝতেই পারছিলাম না কী ঘটছে। মনে হচ্ছিল যেন পৃথিবীর শেষ সময় এসে গেছে।’

তিনি হামলার ভয়াবহতার বিষয় বর্ণনা করতে গিয়ে বলেন, ‘চারদিক ছড়িয়ে ছিল ধ্বংসস্তূপ, সবকিছু ধোঁয়ায় ঢেকে গিয়েছিল। কিছুই দেখা যাচ্ছিল না।’ উক্ত ধ্বংস হয়ে যাওয়া একটি আবাসিক ভবন এবং ক্ষতিগ্রস্ত গাড়ির সামনে দাঁড়িয়ে তিনি এই কথা জানান।

আরও পড়ুন: সরকারকে সেলিম উদ্দিনের আহ্বান, গণরায়ের বিরুদ্ধে না গিয়ে জনগণের পক্ষে দাঁড়ান

কিয়েভের মেয়র ভিতালি ক্লিচকো বলেন, একটি সন্দেহভাজন ক্ষেপণাস্ত্র হামলায় ২৪ তলা একটি অ্যাপার্টমেন্ট ভবনের অংশ ধসে পড়েছে। এতে ধ্বংসস্তূপের নিচে মানুষ আটকা পড়ে থাকতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।

তাছাড়া, ক্ষেপণাস্ত্রের ধ্বংসাবশেষ পড়ে একটি নয়তলা আবাসিক ভবন এবং আরও কয়েকটি ভবনে আগুন লেগেছে। ক্লিচকো জানান, ‘ওবোলন জেলায় ক্ষেপণাস্ত্রের ধ্বংসাবশেষ পড়ে কয়েকটি গাড়িতে আগুন লেগেছে। খোলা জায়গার অন্তত দুটি স্থানেও আগুন ছড়িয়ে পড়েছে, যার একটি একটি কিন্ডারগার্টেনের কাছাকাছি।’

প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, মঙ্গলবার ভোরে রুশ হামলা থেকে বাঁচার জন্য হাজার হাজার মানুষ কিয়েভের মেট্রো স্টেশনগুলোতে আশ্রয় নিতে উদ্যোগী হন। অনেককে প্রয়োজনীয় জিনিসপত্র ও গদি সঙ্গে নিয়ে আশ্রয়কেন্দ্রে যেতে দেখা গেছে। এ সময় শহরজুড়ে রাশিয়ার হামলা প্রতিহত করার জন্য ইউক্রেনের আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থার গর্জন শোনা যাচ্ছিল।

ভোর হওয়ার পরও কিয়েভে একের পর এক বিস্ফোরণের শব্দ শোনা গেছে বলে জানিয়েছেন রয়টার্সের একজন প্রত্যক্ষদর্শী। ইউক্রেনের দক্ষিণ-পূর্বাঞ্চলীয় শহর ডনিপ্রো এবং এর আশপাশের এলাকায় রাশিয়ার ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলায় অন্তত ছয়জন নিহত এবং ৩৬ জন আহত হয়েছেন। আঞ্চলিক গভর্নর ওলেক্সান্দর হানঝা এই তথ্য জানান।

আরও পড়ুন: স্বাস্থ্য খাত ধ্বংস করেছে ফ্যাসিস্ট সরকার: স্বাস্থ্যমন্ত্রী

তিনি বলেন, আহত সবাইকে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে এবং তাদের অবস্থা স্থিতিশীল। সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ধ্বংস হয়ে যাওয়া আবাসিক ভবন, পুড়ে যাওয়া যানবাহন এবং ক্ষতিগ্রস্ত শিশুদের খেলার মাঠের ছবিও তিনি প্রকাশ করেছেন। এর পাশাপাশি, মঙ্গলবার ভোরে ইউক্রেনের বেশিরভাগ অঞ্চলে বিমান হামলার সতর্কতা জারি করা হয়েছিল। এর আগের দিনই ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কি বড় ধরনের রুশ হামলার আশঙ্কার কথা জানিয়েছেন।

রাতের ভিডিও ভাষণে জেলেনস্কি বলেন, ‘রাশিয়ার সম্ভাব্য হামলা নিয়ে গোয়েন্দা সতর্কতা এখনো বহাল রয়েছে। বড় ধরনের হামলা হতে পারে। তারা এর প্রস্তুতি নিয়েছে।’ তিনি আরও বলেন, ‘আমাদের প্রতিরক্ষা বাহিনী বর্তমানে যেসব সরঞ্জাম ও সক্ষমতা রয়েছে, তা নিয়ে ২৪ ঘণ্টা প্রস্তুত রয়েছে।’

ইউক্রেনের উত্তর-পূর্বাঞ্চলীয় খারকিভ অঞ্চলেও রুশ ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র হামলায় একটি শিশুসহ অন্তত ১০ জন আহত হয়েছেন। এ তথ্য জানিয়েছেন শহরের মেয়র ইহর তেরেখভ। অন্যদিকে, রাশিয়ার বিভিন্ন অঞ্চলও ইউক্রেনের হামলার মুখে পড়েছে। স্থানীয় কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, দক্ষিণ রাশিয়ার ক্রাসনোদার অঞ্চলের ইলস্কি তেল শোধনাগারে ড্রোন হামলার আগে আগুন ধরে যায়।

ইউক্রেন সীমান্তবর্তী রাশিয়ার বেলগোরোদ অঞ্চলে একটি ইউক্রেনীয় ড্রোন একটি বাড়িতে আঘাত হানলে ১১ বছর বয়সী একটি ছেলেশিশু আহত হয় বলে স্থানীয় কর্মকর্তারা জানিয়েছেন।

আরও পড়ুন: হাসনাত আবদুল্লাহ: জনগণের বিরুদ্ধে অবৈধ সাম্রাজ্য রক্ষার দায়িত্ব পুলিশের নয়

রুশ প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের বরাত দিয়ে দেশটির সংবাদমাধ্যমগুলো জানিয়েছে, রাতভর ইউক্রেনের মোট ১৪৮টি ড্রোন ভূপাতিত করেছে রাশিয়ার আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা। এ ছাড়া রাশিয়ার নিয়ন্ত্রণাধীন ক্রিমিয়ার সেভাস্তোপল নৌঘাঁটির ওপরও ড্রোন হামলার চেষ্টা চালানো হয়েছে। স্থানীয় কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, সেখানে আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা হামলা প্রতিহত করতে কার্যক্রম চালিয়েছে।

কিন্তু এসব ঘটনার সব তথ্য স্বাধীনভাবে যাচাই করতে পারেনি রয়টার্স। ২০২২ সালের ফেব্রুয়ারিতে রাশিয়া ইউক্রেনে পূর্ণমাত্রার আগ্রাসন শুরুর পর থেকে যুদ্ধ অব্যাহত রয়েছে। যুদ্ধ বন্ধের বিভিন্ন উদ্যোগ নেওয়া হলেও এখন পর্যন্ত উল্লেখযোগ্য অগ্রগতি হয়নি। এদিকে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের প্রশাসন বর্তমানে মধ্যপ্রাচ্যের সংঘাত মোকাবেলায় বেশি মনোযোগ দিচ্ছে।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

তাপে পুড়ছে ৪০ জেলা, বিপর্যস্ত জনজীবন

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

অনলাইন ডেস্ক

মঙ্গলবার, ২ই জুন, ২০২৬ ইং

১২:৩২ পি.এম


তাপে পুড়ছে ৪০ জেলা, বিপর্যস্ত জনজীবন

 

রাজধানী ঢাকাসহ বেশ কয়েকটি জেলায় গত কয়েকদিন ধরে বৃষ্টির দেখা নেই।

প্রচণ্ড রোদ আর তাপমাত্রা বেড়ে সর্বত্রই বিরাজ করছে তীব্র গরম।

ঘরে-বাইরে কোথাও স্বস্তি নেই। প্রখর রোদে পথঘাট সবকিছুই উত্তপ্ত।

তীব্র এই গরমে বেশি ভোগান্তিতে পড়েছেন খেটে খাওয়া ও শ্রমজীবী মানুষ।

রাস্তার ঘাটে লোকজন কম বের হওয়ায় আয় কমেছে তাদের। ফলে বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছে জনজীবন।

শুধু তাই নয়, গরমে হাঁসফাঁস করছে প্রাণিকুলও।

মঙ্গলবার সকালে আবহাওয়া অধিদপ্তর জানিয়েছে, ঢাকাসহ দেশের ৪০ জেলায় তাপপ্রবাহ বয়ে যাচ্ছে এবং তা অব্যাহত থাকতে পারে।

এ ছাড়া চার বিভাগের বিভিন্ন জায়গায় বজ্রসহ বৃষ্টি হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে বলেও জানিয়েছে সংস্থাটি।

পাশাপাশি তিন বিভাগে ভারি বর্ষণ হতে পারে।

আবহাওয়া অফিস জানায়, ঢাকা, নারায়ণগঞ্জ, টাঙ্গাইল, ফরিদপুর, গোপালগঞ্জ, ময়মনসিংহ, চাঁদপুর ও লক্ষ্মীপুর জেলাসহ রংপুর, রাজশাহী, খুলনা ও বরিশাল বিভাগের ওপর দিয়ে মৃদু তাপপ্রবাহ বয়ে যাচ্ছে এবং তা অব্যাহত থাকতে পারে।

আগামী ২৪ ঘণ্টায় সারা দেশে দিন ও রাতের তাপমাত্রা প্রায় অপরিবর্তিত থাকার সম্ভাবনা রয়েছে।

বৃষ্টি নিয়ে আবহাওয়া অধিদপ্তর জানায়, পশ্চিমা লঘুচাপের বর্ধিতাংশটি পশ্চিমবঙ্গ থেকে উত্তর বঙ্গোপসাগর পর্যন্ত বিরাজমান রয়েছে।

আগামী ৭২ ঘণ্টার মধ্যে দক্ষিণ-পশ্চিম মৌসুমীবায়ু টেকনাফ উপকূল পর্যন্ত অগ্রসর হতে পারে— এমন পরিস্থিতিতে চট্টগ্রাম, ময়মনসিংহ ও সিলেট বিভাগের কিছু কিছু জায়গায় এবং ঢাকা বিভাগের দু-এক জায়গায় অস্থায়ীভাবে দমকা অথবা ঝোড়ো হাওয়া ও বিদ্যুৎ চমকানোসহ হালকা থেকে মাঝারি ধরনের বৃষ্টি বা বজ্রসহ বৃষ্টি হতে পারে।

সেই সঙ্গে চট্টগ্রাম, ময়মনসিংহ ও সিলেট বিভাগের কোথাও কোথাও মাঝারি ধরনের ভারি বর্ষণ হতে পারে।

এছাড়া দেশের অন্যত্র অস্থায়ীভাবে আংশিক মেঘলা আকাশসহ আবহাওয়া প্রধানত শুষ্ক থাকতে পারে।

এদিকে গত ২৪ ঘণ্টায় দেশের সর্বোচ্চ তাপমাত্রা রেকর্ড করা হয়েছে খুলনায় ৩৮ ডিগ্রি সেলসিয়াস।

এ সময় সর্বোচ্চ বৃষ্টিপাত হয়েছে কুমিল্লায় ৫৪ মিলিমিটার।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

সরকারি স্যানিটেশন প্রকল্পে অনিয়মের অভিযোগ, মাস পেরোলেও প্রতিবেদন দেওয়া হয়নি

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

তালাশ বিডি ডেস্ক

মঙ্গলবার, ২ই জুন, ২০২৬ ইং

১২:৩৬ পি.এম


সরকারি স্যানিটেশন প্রকল্পে অনিয়মের অভিযোগ, মাস পেরোলেও প্রতিবেদন দেওয়া হয়নি

ব্রাহ্মণবাড়িয়ার বাঞ্ছারামপুর উপজেলায় সরকারি স্যানিটেশন প্রকল্পে অনিয়মের অভিযোগ উঠেছে। টুইন পিট ল্যাট্রিন নির্মাণের জন্য নিম্নমানের কাজ, উপকারভোগীদের কাছ থেকে অর্থ আদায় এবং নির্ধারিত সময়ের মধ্যে কাজ শেষ না করার অভিযোগের কারণে স্থানীয়দের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ বেড়ে গেছে।

গণমাধ্যমে সংবাদ প্রকাশিত হওয়ার পর তদন্ত কমিটি গঠন করে তিন কার্যদিবসের মধ্যে প্রতিবেদন জমা দেওয়ার জন্য বলা হলেও এখন মাস পেরিয়ে গেছে। স্থানীয়রা অভিযোগ করেছেন যে, এই ঘটনার সত্যতা ধামাচাপা দিতেই দেরি হচ্ছে।

স্থানীয়দের অভিযোগ রয়েছে, “উপজেলা জনস্বাস্থ্য প্রকৌশল দপ্তরের সহকারী প্রকৌশলী আবু সিয়াম এবং একটি প্রভাবশালী মহলকে ‘ম্যানেজ’ করে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান দীর্ঘদিন ধরে প্রকল্পে অনিয়ম ও দায়িত্বহীনতা রক্ষা করছে। তদন্ত কমিটি গঠনের পরও নির্ধারিত সময়ে প্রতিবেদন জমা না হওয়া এবং সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের নীরবতা অভিযোগগুলোর সত্যতা আরও স্পষ্ট করেছে।

বিষয়টি নিয়ে উজানচর ইউনিয়নের স্বেচ্ছাসেবক দলের সভাপতি সুজন, বিএনপি নেতা বাবুল, মাসুমসহ অন্যান্যরা বলেন, ‘তদন্ত কমিটি গঠনের পরেও দৃশ্যমান কোনো অগ্রগতি না থাকায় মনে হচ্ছে বিষয়টি ধামাচাপা দেওয়ার চেষ্টা চলছে। আমরা নিম্নমানের কাজ বরদাস্ত করব না।’

তদন্ত কমিটির আহ্বায়ক উপজেলা ইঞ্জিনিয়ার জাহাঙ্গীর আলম বলেন, ‘আমি বদলি হয়ে গেছি, কিন্তু এরপরও আমাকে তদন্তের দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। সহকারী প্রকৌশলীকে বলেছি, উনি বিষয়টি দেখবেন।’

অন্যদিকে, তদন্ত কমিটির সদস্য সচিব উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা মিজানুর রহমান রিপোর্ট প্রকাশ না করেই হজ পালনের উদ্দেশ্যে সৌদি আরবে চলে গেছেন।

প্রকল্পের সূত্রে জানা যায়, উজানচর ইউনিয়নে হতদরিদ্র পরিবারগুলোর জন্য ২২৯টি টুইন পিট ল্যাট্রিন নির্মাণে ৮০ লাখ ৩৯ হাজার ৭২ টাকা বরাদ্দ দেওয়া হয়। প্রতিটি ল্যাট্রিনের ব্যয় ধরা হয় ৩৫ হাজার ১০৮ টাকা (ওয়াই জংশনসহ)। তার মানে ১৩টি ইউনিয়নে প্রকল্পটি বাস্তবায়নে মোট ১০ কোটি ৪৫ লাখ ১৬ হাজার ৫১৬ টাকা ব্যয় হওয়ার কথা।

খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, ২০২৪ সালের ২৫ জুলাই ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান ‘মেসার্স ইসলাম এন্টারপ্রাইজ’-এর সঙ্গে চুক্তি সই হয়। চুক্তি অনুসারে ছয় মাসের মধ্যে কাজ শেষ করার কথা থাকলেও প্রায় দুই বছর অতিবাহিত হওয়ার পরও প্রকল্পটি এখনো সম্পূর্ণ হয়নি। কার্যাদেশ অনুযায়ী সাত কর্মদিবসের মধ্যে কাজ শুরু হওয়া প্রয়োজন ছিল, তবে সেটারও বাস্তবায়ন হয়নি।

সরেজমিনে উজানচর গ্রামে গিয়ে দেখা গেছে, ল্যাট্রিন নির্মাণের সামগ্রী তৈরিতে নিম্নমানের ইট, সুরকি, বালু এবং রিং তৈরিতে দুর্বল মানের তার ব্যবহৃত হতে দেখা যায়। বর্তমানে নির্মাণাধীন রিং, স্ল্যাব ও পাইপের মান ও আকার শিডিউল অনুযায়ী না হওয়ায় তা দ্রুত নষ্ট হতে পারে, স্থানীয়রা এ বিষয়ে অভিযোগ করেছেন।

লোকজন অভিযোগ করেছেন যে, ল্যাট্রিন সরবরাহের কথা বলে বিভিন্ন এলাকা থেকে অর্থ আদায় করা হয়েছে। অনেকেই এখনো ল্যাট্রিন পাননি। এই ঘটনায় স্থানীয়দের মধ্যে চরম অসন্তোষ ও ক্ষোভ বিরাজ করছে। ফরদাবাদ ইউনিয়নে ২৪৫টি ল্যাট্রিন নির্মাণের অনুমোদন থাকলেও মাত্র ১২৯টি ল্যাট্রিন নির্মাণ করেই পুরো বিল উত্তোলনের অভিযোগ উঠেছে।

এই পরিস্থিতিতে সংশ্লিষ্ট ঠিকাদার এবং জনস্বাস্থ্য প্রকৌশল অধিদপ্তরের উপসহকারী প্রকৌশলী আবু সিয়ামের বিরুদ্ধে গুরুতর অনিয়মের অভিযোগ উঠেছে। বাকি কাজ বাস্তবায়নের কোনো কার্যকর উদ্যোগ না নেওয়ার কারণে প্রকল্পটি প্রশ্নবিদ্ধ হয়ে পড়েছে।

এ বিষয়ে সংশ্লিষ্ট ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান ‘মেসার্স ইসলাম এন্টারপ্রাইজ’-এর প্রতিনিধি দেওয়ান শহিদুল হক মুঠোফোনে জানান, ‘ভালোভাবে কাজ কীভাবে করব? এখানে (বাঞ্ছারামপুর) সব রাক্ষস এবং শকুনে ভরা। ওদের ম্যানেজ করতে গিয়ে আমি লসে পড়ে গেছি। এ কারণে নিম্নমানের কাজ হচ্ছে।’

উপজেলা জনস্বাস্থ্য প্রকৌশল অধিদপ্তরের উপসহকারী প্রকৌশলী মো. আবু সিয়াম বলেন, ‘কয়েকজন উপকারভোগীর কাছ থেকে টাকা নেওয়ার বিষয়ে অভিযোগ ছিল। পরে আমি ঠিকাদারকে লিখিতভাবে বিষয়টি সমাধান করেছি। নিম্নমানের সামগ্রী ব্যবহার করে কাজ হচ্ছে বিষয়েও জানতে পেরেছি। সরেজমিনে গিয়ে বিষয়টি দেখব।’

ফরদাবাদ ইউনিয়নে কাজ শেষ না করেই বিল উত্তোলনের বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি জানান, ‘এই বিষয়ে কথা বলবেন না, এটা বাদ দেন।’ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. তারিকুল ইসলাম বলেন, ‘উপজেলা প্রকৌশলী অফিসে আসেন না। অন্য সদস্য প্রকল্প কর্মকর্তা (পিআইও) মিজানুর রহমান হজে গেছেন। এ জন্য রিপোর্ট প্রকাশে দেরি হচ্ছে।’

ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলার জনস্বাস্থ্য প্রকৌশল অধিদপ্তরের নির্বাহী প্রকৌশলী (অতিরিক্ত দায়িত্ব) মো. শফিউল হক বলেন, ‘এ প্রকল্পের মেয়াদ শেষ পর্যায়ে। যদি কাজ শেষ করতে না পারে, তবে কার্যাদেশ বাতিল করে দেব। তবে তিনি নিম্নমানের কাজের প্রসঙ্গটি মুঠোফোনে এড়িয়ে যান।’

দুর্নীতি প্রতিরোধ কমিটির (দুদক অংশ) বাঞ্ছারামপুর উপজেলা শাখার সাধারণ সম্পাদক মোশাররফ হোসেন রিপন বলেন, ‘কালের কণ্ঠসহ বিভিন্ন পত্রিকায় গরিবের টয়লেট নির্মাণের ক্ষেত্রে অনিয়মের বিষয়টি আমার নজরে এসেছে। আমরা যথাসম্ভব দ্রুত বিষয়টি যথাযথ কর্তৃপক্ষের সঙ্গে আলোচনা করব।’

এ বিষয়ে ব্রাহ্মণবাড়িয়ার জেলা প্রশাসক আবু সাইদ বলেন, ‘বিষয়টি আমি অবগত। আমি বাঞ্ছারামপুর উপজেলা নির্বাহী অফিসারকে তদন্ত করে আমাকে জানানোর জন্য বলেছি।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

ভারত-নেপাল সীমান্ত নিয়ে বালেন্দ্র শাহ-এর মন্তব্যে কাঠমান্ডুর রাজনীতিতে তোলপাড়, কী বলেছেন বালেন্দ্র শাহ?

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

মঙ্গলবার, ২ই জুন, ২০২৬ ইং

১২:৪০ পি.এম


ভারত-নেপাল সীমান্ত নিয়ে বালেন্দ্র শাহ-এর মন্তব্যে কাঠমান্ডুর রাজনীতিতে তোলপাড়, কী বলেছেন বালেন্দ্র শাহ?

ভারত-নেপাল সীমান্ত সংক্রান্ত বালেন্দ্র শাহ’র একটি মন্তব্যের ফলে কাঠমান্ডুর রাজনীতিতে ব্যাপক তোলপাড় তৈরি হয়েছে। নেপালের প্রধানমন্ত্রী বালেন্দ্র শাহ’র ওই মন্তব্যের প্রেক্ষিতে দেশজুড়ে তীব্র সমালোচনা শুরু হয়েছে। এ প্রসঙ্গে পরিস্থিতি সামাল দেয়ার চেষ্টা চালাচ্ছে নেপালের সরকার।

সাম্প্রতিক সময়ে নেপালের পার্লামেন্টের প্রশ্নোত্তর পর্বে উপস্থিত হয়ে এক বিস্ফোরক মন্তব্য করেন তরুণ প্রধানমন্ত্রী বালেন্দ্র শাহ। কালাপানি, লিম্পিয়াধুরা ও লিপুলেখ সীমান্ত নিয়ে একটি প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, প্রধানমন্ত্রী হওয়ার পর তিনি জানতে পেরেছেন যে কেবল ভারতই নেপালের জমি দখল করেনি, বরং নেপালও ভারতের জমি দখল করেছে।

এই সীমান্ত বিরোধের সমাধান করতে তিনি যুক্তরাজ্যের মধ্যস্থতার আহ্বান জানিয়েছেন।

বালেন্দ্র শাহ’র এধরনের মন্তব্যের পর নেপালের রাজনৈতিক অঙ্গনে এবং রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মধ্যে তীব্র প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি হয়েছে। বিরোধী দলগুলো পার্লামেন্টের রেকর্ড থেকে এই বক্তব্য প্রত্যাহারের জন্য দাবি জানিয়েছে। বিতর্ক তীব্র আকার ধারণ করলে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে মাঠে নামে নেপালের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়।

এক বিবৃতিতে তারা উল্লেখ করেন, প্রধানমন্ত্রী কোনো রাষ্ট্রীয় ভূখণ্ড দখল করার অনুরোধ করেননি, বরং নদী অববাহিকার কারণে সৃষ্ট ‘ক্রস-বর্ডার অকুপেশন’ বা নাগরিকদের আন্তঃসীমান্ত জমি ব্যবহারের বিষয়টি উল্লেখ করেছেন।

১৯৬২ সালের চীন-ভারত যুদ্ধের পর থেকে কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ প্রায় ৩৭২ বর্গকিলোমিটারের কালাপানি অঞ্চলটি ভারতের নিয়ন্ত্রণে রয়েছে। ভারত এই অঞ্চলটিকে তাদের উত্তরাখণ্ডের অংশ বলে দাবি করে আসছে। সম্প্রতি এই সড়ক দিয়ে কৈলাশ-মানস সরোবর যাত্রা ঘোষণার পর নেপাল তীব্র আপত্তি জানায়।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

বন্ধ কারখানার ভাগ্য নির্ধারণে সক্ষমতা বিবেচনায় করা হচ্ছে তালিকা

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

অনলাইন ডেস্ক

মঙ্গলবার, ২ই জুন, ২০২৬ ইং

১২:৪১ পি.এম


বন্ধ কারখানার ভাগ্য নির্ধারণে সক্ষমতা বিবেচনায় করা হচ্ছে তালিকা

কোন প্রকার বন্ধ শিল্পকারখানা আবার চালু করা হবে, সেজন্য এক মাসের মধ্যে একটি তালিকা প্রস্তুত করে সরকারের হাতে দেবেন বাংলাদেশ ব্যাংক। ব্যাংকগুলোর সংগৃহীত তথ্য ও কলকারখানার সক্ষমতার ওপর নির্ভর করে বন্ধ শিল্পপ্রতিষ্ঠানগুলোর ভবিষ্যৎ নির্ধারণ করা হবে। তবে, শুধু ঋণ সহায়তার কথা নয়, ব্যবসা-বাণিজ্যের পরিবেশ ফিরিয়ে আনা যে খুবই জরুরি, তা মনে করছেন অর্থনীতিবিদরা। তাদের মতে, রুগ্ন ও বন্ধ শিল্পের মধ্যে পার্থক্য স্পষ্টভাবে বিবেচনায় নিয়ে যদি আর্থিক বিনিয়োগের সিদ্ধান্ত গ্রহণ করা হয়, তবে কর্মসংস্থানের বাজারও সম্প্রসারিত হবে।

যেখানে এক সময় শত শত শ্রমিক কাজ করতেন, সেই জায়গায় এখন গড়ে উঠেছে মাছের ঘের ও কৃষিজমি। কারখানার ভেতরের যন্ত্রপাতিও বিক্রি করে দেওয়ার বাধ্যবাধকতায় পড়েছেন মালিকরা। এ কারণে হাজার হাজার শ্রমিক কর্মহীন হয়ে পড়েছেন। একটি কারখানা, যেখানে প্রায় ৪ হাজার শ্রমিক কাজ করতেন, সেই কারখানার কার্যক্রম বর্তমানে সম্পূর্ণ বন্ধ হয়ে গেছে।

কোভিডের পর মোশারফ হোসেনের জন্য ব্যাংক ৫০ লাখ টাকার বরাদ্দ দিয়েছে। কিন্তু সেই টাকা তিনি এখনও হাতে পাননি। বরং, সুদের বোঝা বেড়ে গিয়ে তার প্রতিষ্ঠানটি আজ ধ্বংসের মুখে। তিনি বলেন, "ব্যাংকই আমার সঙ্গে জালিয়াতি করেছে। টাকা না দিয়েও সুদ সমন্বয় করে নেয়া হয়েছে। যদি ব্যাংক সহায়তা করতো তবে আমি আবার দাঁড়াতে পারতাম। ব্যবসা বুঝি, কাজ জানি, এবং পুনরায় ঘুড়ে দাঁড়ানোর সক্ষমতাও ছিল। কিন্তু বরাদ্দকৃত ৫০ লাখ টাকার কোন অংশই আমার কাছে পৌঁছায়নি।"

শ্রম হারানোর কাহিনীও কম নয়। অনেকে মোবাইলের ক্ষুদে বার্তায় চাকরি হারানোর খবর পেয়ে থাকেন। ২০ বছরের চাকরি হারানো মোতালিব হোসেন জানান, "সহকর্মীরা এখন কেউ অটো চালাচ্ছেন, কেউ গ্রামের দিকে ফিরে কৃষিকাজ করছেন।" দীর্ঘদিনের সহকর্মীদের মধ্যে কেউ কেউ চিকিৎসার অভাবে মৃত্যুবরণও করেছেন।

সাভারের একই সড়কে পরপর দুটি প্রতিষ্ঠান বন্ধ হয়ে গেছে, যেখানে প্রায় ৯ হাজার ও ৪ হাজার শ্রমিক কাজ করতেন। অন্য একটি প্রতিষ্ঠানের ১১ হাজার কর্মীও এখন চাকরি হারানোর পাশে দাঁড়িয়ে আছেন। এই পরিস্থিতিতে বন্ধ কারখানা চালুর সুযোগ-সুবিধা নির্ধারণের জন্য ব্যাংকগুলোর কাছে তথ্য চেয়ে পাঠিয়েছে কেন্দ্রীয় ব্যাংক।

বাংলাদেশ ব্যাংকের মুখপাত্র আরিফ হোসেন খান বলেছেন, "কেউ রফতানির উপর নির্ভরশীল ছিলেন কিন্তু বৈশ্বিক বাজার হারিয়ে ফেলেছেন, আবার কেউ দীর্ঘমেয়াদি ঋণের চাপের কারণে বন্ধ হয়ে গেছে। বিভিন্ন ধরনের কারণে কারখানাগুলো বন্ধ হয়েছে, সেগুলো বিশ্লেষণ করে নির্ধারণ করা হবে কোন কারখানার কী প্রয়োজন। পরে সরকারকে জানিয়ে নীতিগত ও আর্থিক সহায়তা নিতে হবে। সব ধরনের সমস্যা বিবেচনায় নিয়ে একটি সমন্বিত উদ্যোগ নিতে হবে, যাতে বন্ধ কারখানাগুলো আবার সচল করা যায়।"

বন্ধ কারখানা সচল করার জন্য শুধু ঋণের কথাই নয়, ব্যবসায়িক পরিবেশ ফিরিয়ে আনার প্রয়োজনেও জোর দিচ্ছেন অর্থনীতিবিদরা। বিআইবিএমের সাবেক মহাপরিচালক ড. তৌফিক আহমেদ চৌধুরী মনে করেন, "শুধু সরকার নয়, উদ্যোক্তাদেরও এগিয়ে আসতে হবে। তবে, এর আগে দায়ীদের বিরুদ্ধে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা গ্রহণ করা প্রয়োজন, নাহলে উদ্যোক্তারা আস্থা হারাবেন।"

বিগত রাজনৈতিক অসংগতির বা দীর্ঘদিন ধরে লোকসানে থাকা রুগ্ন প্রতিষ্ঠানের জন্য আলাদা নীতি প্রয়োজন বলেও মনে করছেন অর্থনীতিবিদরা। তারা মনে করছেন, বন্ধ ও রুগ্ন শিল্পকে আলাদা করে চিহ্নিত করে ঋণ ও সহায়তা দেওয়ার ফলে আর্থিক অপচয় কমবে এবং উৎপাদনশীল খাত পুনরুদ্ধার সম্ভব হবে।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

আর্কাইভ

Please select a date!

নামাজের সময়সূচী

তারিখঃ ১৭ই জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিঃ
ফজর ০৪:৪৬
জোহর ১১:৪৩
আসর ০৩:৪৬
মাগরিব ০৫:২২
ইশা ০৬:৩৪
সূর্যোদয় : ০৬:০২ সূর্যাস্ত : ০৫:২২
অনলাইন জরিপ
ফলাফল
থার্টি-ফার্স্ট নাইটে তরুণদের জন্য প্রকাশ্যে পানি-টানি খাওয়ার বিরুদ্ধে আহ্বান। আপনার মন্তব্য দিন
হ্যা
100%
না
0%
মন্তব্য নেই
0%