বৃহস্পতিবার, ১৭ই সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ইং
০৮:৫০ পি.এম
গত বছরের নভেম্বরে মা হওয়ার অভিজ্ঞতা অর্জন করেন বলিউডের অভিনেত্রী ক্যাটরিনা কাইফ। এরপর থেকে তিনি অনেকটা আড়ালে কাটিয়েছেন সময়। অভিনয় থেকে বিরত থাকার পাশাপাশি পাপারাজ্জিদের ক্যামেরা থেকেও নিজেকে দূরে রেখেছিলেন এই অভিনেত্রী।
সম্প্রতি, স্বামী ও অভিনেতা ভিকি কৌশলের সঙ্গে আম্বানিদের একটি অনুষ্ঠানে উপস্থিত হয়ে দীর্ঘদিন পর প্রকাশ্যে আসেন ক্যাটরিনা। সেখানে তিনি হাসিমুখে ক্যামেরার সামনে পোজও দেন। প্রিয় তারকাকে এভাবে দেখে উচ্ছ্বসিত হয়ে ওঠেন ভক্তরা।
তবে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ভিন্ন চিত্র দেখা গেছে। বরাবরই ছিপছিপে গড়নের ক্যাটরিনার শরীরে মাতৃত্বের পর কিছুটা পরিবর্তন এসেছে। এটি সন্তান জন্মের পর একজন নারীর স্বাভাবিক শারীরিক পরিবর্তন হলেও বিষয়টি অনেক নেটিজেন মেনে নিতে পারেননি। বরং তার চেহারা ও ওজন নিয়ে শুরু হয়েছে নানা ধরনের কটূক্তি।
ক্যাটরিনাকে ঘিরে এমন নেতিবাচক মন্তব্যে হতাশা প্রকাশ করেছেন বাংলাদেশি অভিনেত্রী সালহা খানম নাদিয়া। নিজেও মা হওয়ার কারণে মাতৃত্বের পর একজন নারীর জীবন ও শরীরে আসা পরিবর্তনের অভিজ্ঞতা রয়েছে তার। তাই ক্যাটরিনার একটি ছবির সঙ্গে নিজের ছবি কোলাজ করে সামাজিক মাধ্যমে দীর্ঘ একটি পোস্ট দিয়েছেন নাদিয়া।
সেখানে তিনি উল্লেখ করেন, ‘একজন নারী যখন মা হন, তখন শুধু তার জীবনটাই বদলে যায় না, বদলে যায় তার শরীরও। গর্ভধারণ, সন্তান জন্ম দেওয়া, ঘুমহীন রাত, মানসিক চাপ, হরমোনের পরিবর্তন—সবকিছুর ছাপ কোথাও না কোথাও থেকে যায়। একটি নতুন জীবনকে পৃথিবীতে আনার সুযোগ পাওয়া সৃষ্টিকর্তার দেওয়া এক অপার আশীর্বাদ।’
মাতৃত্বের এই পরিবর্তনকে সম্মানের চোখে দেখার আহ্বান জানিয়ে নাদিয়া আরও বলেন, ‘একজন নারীর শরীরের মাধ্যমে একটি নতুন প্রজন্ম পৃথিবীর আলো দেখে, এর চেয়ে বড় সৌভাগ্য আর কী হতে পারে! এই সৌভাগ্য সবার জীবনে আসে না। আর যাদের জীবনে আসে, তারাও কখনো কখনো এই আশীর্বাদের মূল্যটা ভুলে গিয়ে মায়ের বদলে যাওয়া শরীরটাকেই দেখতে শুরু করে।’
সামাজিক মাধ্যমে মায়েদের শরীর নিয়ে করা মন্তব্যের প্রসঙ্গে নাদিয়া লিখেছেন, ‘আশ্চর্যের বিষয় হলো, একজন মায়ের এই পরিবর্তনগুলোকে আমরা অনেক সময় ভালোবাসা আর সম্মানের চোখে দেখার বদলে বিচারের চোখে দেখি। ‘আগের মতো নেই কেন?’, ‘ওজন এত বেড়ে গেল কেন?’, ‘আগের ফিগারটা কোথায়?’, ‘নিজেকে একটু মেইনটেইন করা উচিত’—এই কথাগুলো বলার সময় হয়ত খুব সাধারণ মনে হয়। কিন্তু একজন মায়ের জন্য এগুলো কখনো কখনো নিজের শরীর, নিজের আত্মবিশ্বাস এবং নিজের পরিচয় নিয়ে প্রশ্ন তৈরি করে।’
মাতৃত্বের পর শরীর বদলে যাওয়াকে স্বাভাবিক হিসেবে দেখার আহ্বান জানিয়ে নাদিয়া বলেন, যে শরীর একটি জীবনকে পৃথিবীতে এনেছে, রাতের পর রাত জেগেছে, ক্লান্ত হয়েছে এবং পরদিন আবারও উঠে দাঁড়িয়েছে—সেই শরীরে পরিবর্তন আসাটাই স্বাভাবিক।
তিনি লেখেন, ‘একজন মায়ের শরীরকে আগের মতো করার চাপ না দিয়ে, ‘তুমি কেমন আছো?’—এই প্রশ্নটা করি। মায়েদের শরীর কোনো আগে-পরের ছবি নয়, কোনো পাবলিক প্রপার্টি নয়। আর একজন নারীর মূল্য তার ওজন, কোমরের মাপ বা চেহারার পরিবর্তনে কখনোই নির্ধারিত হয় না।’
নিজের অভিজ্ঞতা তুলে ধরে নাদিয়া আরও বলেন, ‘আমি একজন মা। আমিও জানি, মা হওয়ার পর নিজের জন্য সময় বের করা কতটা কঠিন। কখনো নিজের যত্ন নেওয়ার সুযোগ আসে, কখনো আসে না। কখনো নিজের শরীরকে ভালো লাগে, কখনো নতুন শরীরটাকে চিনতেই একটু সময় লাগে। কিন্তু আমি বিশ্বাস করি—মায়েদের একে অপরকে বিচার নয়, বরং একটু বেশি বোঝাপড়া, একটু বেশি ভালোবাসা আর একটু বেশি সাপোর্ট দেওয়া দরকার।’
মা হওয়ার পর কোনো নারীর সৌন্দর্য কমে যায় না—এমন বার্তাও দিয়েছেন নাদিয়া। তার ভাষায়, ‘কারও শরীর নিয়ে মন্তব্য করার আগে একবার ভাবুন, আপনার একটা কথা হয়ত তার কাছে শুধু একটা কথা নয়। চলুন, মায়েদের শরীর নিয়ে মন্তব্য করার সংস্কৃতি বদলাই। তাদের শরীরের পরিবর্তন নিয়ে প্রশ্ন না তুলে, তাদের শক্তিটাকে উদযাপন করি। কারণ মা হওয়ার পর একজন নারী কম সুন্দর হয়ে যান না; তিনি শুধু জীবনের একটা অসাধারণ অধ্যায়ের মধ্য দিয়ে বদলে যান।’
প্রসঙ্গত, ২০২৪ সালের জুনে অভিনেতা সালমান আরাফাতের সঙ্গে বিয়ে হয় সালহা খানম নাদিয়ার। চলতি বছরের জানুয়ারিতে তাদের ঘরে আসে কন্যাসন্তান। মা হওয়ার পর এখন মেয়ে ও সংসার নিয়েই ব্যস্ত সময় কাটছে নাদিয়ার। এর পাশাপাশি ছোট পরিসরে কিছু কাজও করছেন তিনি।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
সৌদি আরবের দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলীয় তায়েফে ড্রোন প্রতিহত করার সময় একজন বিদেশি নাগরিক প্রাণ হারিয়েছেন। এই ঘটনায় আরও দুজন আহত হয়েছেন।
কাতারভিত্তিক গণমাধ্যম আল-জাজিরার তথ্য অনুযায়ী, নিহত ব্যক্তি ইয়েমেনের নাগরিক, যিনি সৌদি আরবে বসবাস করতেন।
সৌদি আরবের সিভিল ডিফেন্স জানিয়েছে, ইয়েমেনের ইরান-সমর্থিত হুথিরা তায়েফের দিকে একটি ড্রোন উৎক্ষেপণ করেছিল। ওই ড্রোনটি প্রতিহত করার সময় এই হতাহতের ঘটনা ঘটে। আহত দুজনের পরিচয় এবং তাদের আঘাতের মাত্রা সম্পর্কে তাৎক্ষণিকভাবে কোনো তথ্য পাওয়া যায়নি।
এ মাসে সৌদি আরবে হুথিদের হামলা বৃদ্ধি পাওয়ার পর এটি দেশটিতে প্রথম প্রাণহানির ঘটনা হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে।
ইয়েমেনের হুথিরা পূর্বে সৌদি আরবের বিভিন্ন স্থাপনা লক্ষ্য করে ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালিয়েছে। সৌদি আরবও নিয়মিতভাবে এসব হামলা প্রতিহত করার দাবি করে আসছে।
এদিকে, ইয়েমেনের হুথিদের সঙ্গে সংঘাত দীর্ঘায়িত হওয়ায় সৌদির ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিরোধী ব্যবস্থা বা ইন্টারসেপ্টর সংখ্যা কমে আসছে। এই পরিস্থিতিতে রিয়াদ মহা বিপাকে পড়েছে। পরিস্থিতি মোকাবিলার জন্য ফ্রান্স, যুক্তরাজ্য, পাকিস্তান ও মিসরের কাছে বিমান প্রতিরক্ষা সহায়তা চেয়েছে তারা।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
সরকার সৌরবিদ্যুতের বিস্তার ঘটাতে বড় ধরনের অর্থায়ন কর্মসূচি গ্রহণ করেছে, যা আমদানিনির্ভর জীবাশ্ম জ্বালানির ব্যবহার কমাবে। গৃহস্থালি, প্রতিষ্ঠান ও শিল্প পর্যায়ে ছাদভিত্তিক সৌরবিদ্যুৎসহ বিভিন্ন নবায়নযোগ্য জ্বালানি প্রকল্পের জন্য ১ হাজার ৫০০ কোটি টাকা সরকারি ঋণ প্রদান করা হবে। সুবিধাভোগী পর্যায়ে সব ধরনের ফি-চার্জসহ কার্যকর বার্ষিক সুদের হার সর্বোচ্চ ৬ শতাংশ নির্ধারণ করা হয়েছে।
অর্থ মন্ত্রণালয়ের সামষ্টিক অর্থনীতি অনুবিভাগ বুধবার একটি পরিপত্র জারি করে এই সিদ্ধান্তের কথা জানায়। পরিপত্র অনুযায়ী, সরকারের দেওয়া ঋণের সুদহার হবে বার্ষিক ৩ দশমিক ৫ শতাংশ। ঋণের মেয়াদ ১০ বছর হবে, যার মধ্যে এক বছর গ্রেস পিরিয়ড থাকবে।
পরিপত্রে উল্লেখ করা হয়েছে, ১ হাজার ৫০০ কোটি টাকার মধ্যে ১ হাজার কোটি টাকা ২০২৬-২৭ অর্থবছরের বাজেটে এমএসএমই খাতের জন্য সংরক্ষিত ২ হাজার কোটি টাকা থেকে পুনর্বিন্যাস করে নেওয়া হবে। বাকি ৫০০ কোটি টাকা পরিচালন ঋণ থেকে সংগ্রহ করা হবে। তিনটি প্রতিষ্ঠান অর্থায়ন পাবে- ইনফ্রাস্ট্রাকচার ডেভেলপমেন্ট কোম্পানি লিমিটেড (ইডকল), বাংলাদেশ ইনফ্রাস্ট্রাকচার ফাইন্যান্স ফান্ড লিমিটেড (বিআইএফএফএল) এবং পল্লী কর্ম-সহায়ক ফাউন্ডেশন (পিকেএসএফ)। প্রত্যেক প্রতিষ্ঠানকে ৫০০ কোটি টাকা করে দেওয়া হবে। এই প্রতিষ্ঠানগুলো সরাসরি অথবা অংশীদার/সহযোগী প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে ঋণ বিতরণ করতে পারবে। তবে সুবিধাভোগীর ঋণখেলাপির ঝুঁকি সংশ্লিষ্ট অংশগ্রহণকারী প্রতিষ্ঠানকেই বহন করতে হবে।
যেসব কাজে মিলবে ঋণ। ছাদভিত্তিক সৌরবিদ্যুৎ ব্যবস্থা ও নেট মিটারিং সংযোগ, সোলার হোম সিস্টেম, শিল্পপ্রতিষ্ঠানে সৌরবিদ্যুৎ, সৌরচালিত সেচপাম্প, ইনভার্টার, মিটার ও ব্যাটারি সংরক্ষণ ব্যবস্থাসহ বিভিন্ন নবায়নযোগ্য জ্বালানি প্রযুক্তি স্থাপন, সম্প্রসারণ ও আধুনিকায়নে এ অর্থ ব্যবহার করা যাবে। তবে পুরোনো ঋণ পরিশোধ, ঋণ পুনঃঅর্থায়ন, জমি বা শেয়ার কেনা, ব্যক্তিগত ভোগ কিংবা প্রতিষ্ঠানের সাধারণ প্রশাসনিক ব্যয়ে এ অর্থ ব্যবহার করা যাবে না।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
সিলেট-২ (বিশ্বনাথ-ওসমানীনগর) আসনের সংসদ সদস্য তাহসিনা রুশদীর লুনা মন্তব্য করেছেন যে, একটি দক্ষ ও শিক্ষিত প্রজন্ম গড়ে তুলতে শিক্ষার সুযোগকে আরও বিস্তৃত করার প্রয়োজন রয়েছে। শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের মানোন্নয়ন ঘটানোর পাশাপাশি শিক্ষার্থীদের নৈতিকতা, মানবিক মূল্যবোধ এবং বিজ্ঞানভিত্তিক আধুনিক জ্ঞান অর্জনের সুযোগ তৈরি করতে হবে। বর্তমান বিশ্বে শুধুমাত্র প্রচলিত শিক্ষার মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকা যথেষ্ট নয়। বিজ্ঞান, প্রযুক্তি ও দক্ষতাভিত্তিক শিক্ষার মাধ্যমে শিক্ষার্থীদের ভবিষ্যতের জন্য প্রস্তুত করতে হবে। শিক্ষার পরিবেশ উন্নত হলে একটি এলাকার সামাজিক ও অর্থনৈতিক উন্নয়নও ত্বরান্বিত হয়।
বৃহস্পতিবার (১৭ সেপ্টেম্বর) দুপুরে সিলেটের বিশ্বনাথ উপজেলার খাজাঞ্চি ইউনিয়নের আলহাজ্ব লজ্জতুন নেছা বহুমুখী উচ্চ বিদ্যালয়ের কলেজ শাখার উদ্বোধন ও সংবর্ধনা অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
তাহসিনা রুশদীর লুনা আরও বলেন, "একটি দেশের উন্নয়নের মূল ভিত্তি হচ্ছে শিক্ষা। শিক্ষার আলো যত বেশি মানুষের কাছে পৌঁছাবে, সমাজ তত বেশি এগিয়ে যাবে।" তিনি বিশেষভাবে উল্লেখ করেন যে, গ্রাম ও প্রত্যন্ত অঞ্চলের শিক্ষার্থীদের উচ্চশিক্ষার সুযোগ দেওয়ার বিষয়ে গুরুত্ব দেওয়া উচিত। তিনি বলেন, "প্রত্যন্ত এলাকার শিক্ষার্থীদের উচ্চশিক্ষার সুযোগ নিশ্চিত করতে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের অবকাঠামোগত উন্নয়ন, মানসম্মত শিক্ষা এবং আধুনিক শিক্ষাব্যবস্থার ওপর গুরুত্ব দিচ্ছে বর্তমান সরকার।"
অনুষ্ঠানে প্রতিষ্ঠানের ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ তোলষি কুমার সাহার সভাপতিত্বে এবং শিক্ষক মাওলানা আবুল বশর মোহাম্মদ ফারুকের পরিচালনায় বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন উপজেলা নির্বাহী অফিসার মো. জাহেদ বিন কাশেম, উপজেলা বিএনপির সভাপতি গৌছ আলী, সাধারণ সম্পাদক মো. লিলু মিয়া, জেলা বিএনপির সাবেক যুগ্ম সম্পাদক, জননেতা ইলিয়াস আলী সাহেবের একান্ত সহকারী মো. ময়নুল হক, প্রভাষক মোনায়েম খান, অলংকারী ইউপি চেয়ারম্যান আতিকুর রহমান লিটন, খাজাঞ্চি ইউনিয়নের সাবেক চেয়ারম্যান তালুকদার গিয়াস উদ্দিন, বিএনপি নেতা সাজ্জাদুর রহমান, শিক্ষানুরাগী মাওলানা আব্দুর রউফ, মুক্তাদীর, কয়েছ প্রমুখ।
অনুষ্ঠানে স্বাগত বক্তব্য প্রদান করেন ডা. মোস্তাক আহমদ রুহেল। পবিত্র কোরআন থেকে তেলাওয়াত করেন শিক্ষার্থী তারেক আহমদ। মানপত্র পাঠ করেন শিক্ষার্থী মুক্তারা জান্নাত ফাহমিদা। নাতে রাসুল পরিবেশন করেন শিক্ষার্থী মারুফা বেগম।
কলেজ শাখার উদ্বোধন উপলক্ষে আয়োজিত অনুষ্ঠানে শিক্ষক, শিক্ষার্থী, অভিভাবক, স্থানীয় জনপ্রতিনিধি, রাজনৈতিক নেতাকর্মী ও বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ উপস্থিত ছিলেন।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
ঢাকা, ১৭ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ : জাতীয় সংসদের স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদ বীর বিক্রম উল্লেখ করেছেন যে, বাংলাদেশের জনগণের বাকস্বাধীনতা এবং মানবাধিকার পরিস্থিতি আন্তর্জাতিক মানে উন্নীত করার জন্য বর্তমান সরকার সচেষ্ট রয়েছে।
স্পিকারের বক্তব্যটি আজ তাঁর কার্যালয়ে জার্মানির সংসদীয় প্রতিনিধিদলের সঙ্গে সাক্ষাৎকালে প্রকাশ পায়।
তিনি বলেন, বাংলাদেশ এবং জার্মানির মধ্যে দীর্ঘকাল ধরে বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক বিদ্যমান। দেশটির স্বাধীনতার সূচনালগ্ন থেকে জার্মান সরকার বাংলাদেশকে সর্বোচ্চ সহায়তা প্রদান করে আসছে। স্পিকার উল্লেখ করেন, ইউরোপের বাজারে বাংলাদেশের রপ্তানি পণ্যের দ্বিতীয় বৃহত্তম গন্তব্য হিসেবে জার্মানি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছে।
স্পিকার আরও বলেন, ‘১৯৩৭ সাল থেকে আমাদের দেশে নির্বাচন অনুষ্ঠিত হলেও গণতান্ত্রিকভাবে আমরা পিছিয়ে ছিলাম। গণতান্ত্রিক অধিকার প্রতিষ্ঠার লড়াইয়ে ১৯৭১ সালের মহান মুক্তিযুদ্ধে আমাদের বিজয় অর্জিত হলেও কাঙ্ক্ষিত গণতন্ত্র অধরাই রয়ে গিয়েছিল।’
তিনি উল্লেখ করেন, আওয়ামী লীগ সরকার তিনটি প্রহসনের নির্বাচনের মাধ্যমে জনগণের ভোটাধিকার ক্ষুণ্ন করে এ দেশের গণতন্ত্রকে বিপর্যস্ত করেছিল।
স্পিকার বলেন, স্বৈরাচারী আমলের গুম, খুন, বিচার-বহির্ভূত হত্যাকাণ্ড এবং প্রহসনের নির্বাচনের বিরুদ্ধে ছাত্র-জনতার গণঅভ্যুত্থান সংঘটিত হয়েছিল। সেই প্রেক্ষিতে দেশে পুনরায় গ্রহণযোগ্য এবং নিরপেক্ষ নির্বাচনের মাধ্যমে গণতন্ত্র পুনঃপ্রতিষ্ঠিত হয়েছে।
তিনি বেগম খালেদা জিয়ার উল্লেখ করে বলেন, তিনি বাংলাদেশের প্রথম নির্বাচিত নারী প্রধানমন্ত্রী ছিলেন। দেশের নারীদের রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক ক্ষমতায়নে তাঁর অবদান অনুসরণীয়।
স্পিকার বলেন, গণতন্ত্রপ্রিয় এ দেশের জনগণ গণতন্ত্রের জন্য নিজেদের বারবার উৎসর্গ করেছে। তাদের দৃঢ় মনোবল এবং সংগ্রামের কারণে গণতন্ত্র পুনরায় প্রতিষ্ঠা সম্ভব হয়েছে।
এ সময় স্পিকার জাতীয় সংসদে নারী এমপিদের প্রতিনিধিত্বের বিষয়েও অবহিত করেন, বর্তমান সংসদে জনগণের ভোটে ৬ জন নির্বাচিত নারী সংসদ সদস্য এবং ৫০ জন সংরক্ষিত আসনের নারী সংসদ সদস্য রয়েছেন। তারা প্রত্যেকেই উচ্চ শিক্ষিত এবং স্ব স্ব ক্ষেত্রে প্রতিষ্ঠিত।
প্রতিনিধিদল সাক্ষাৎকালে জার্মানি-বাংলাদেশের সংসদীয় মৈত্রী গ্রুপ গঠনের মাধ্যমে সংসদীয় কূটনীতির প্রসার এবং বাংলাদেশে চলমান রোহিঙ্গা সংকট নিয়ে মতবিনিময় করে।
প্রতিনিধিদলটি জার্মানির ফেডারেল পার্লামেন্টের নিম্নকক্ষ-বুন্দেস্ট্যাগ সদস্য নিকলাস কাপের নেতৃত্বে গেরোল্ড ওটেন, জোহান সাথফ, উলে শাউস এবং ঢাকায় নিযুক্ত জার্মান রাষ্ট্রদূত ড. রুডিগার লোটজ বৈঠকে অংশগ্রহণ করে।
অনুষ্ঠানে জার্মান দূতাবাসের প্রতিনিধি ও বাংলাদেশ জাতীয় সংসদ সচিবালয়ের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ