ঢাকা বুধবার, ২১শে অক্টোবর, ২০২৬খ্রিষ্টাব্দ ০৫ই কার্তিক, ১৪৩৩বঙ্গাব্দ ১০ই জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিজরী
বুধবার, ২১শে অক্টোবর, ২০২৬ইং ০৫ই কার্তিক, ১৪৩৩বাং

পাকিস্তানের হাইকমিশনারের সাথে পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী হুমায়ুন কবীরের বৈঠক


পাকিস্তানের হাইকমিশনারের সাথে পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী হুমায়ুন কবীরের বৈঠক

পাকিস্তানের হাইকমিশনার ইমরান হায়দার পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী হুমায়ুন কবীরের সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ করেছেন। এই সাক্ষাৎ আজ (২৮ সেপ্টেম্বর) পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে অনুষ্ঠিত হয়।

সাক্ষাৎকালে, হাইকমিশনার ইমরান হায়দার হুমায়ুন কবীরকে পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রীর দায়িত্ব গ্রহণের জন্য আন্তরিক অভিনন্দন ও শুভেচ্ছা জানান।

বৈঠকের সময় তিনি দুই দেশের মধ্যে বিদ্যমান দ্বি-পাক্ষিক সহযোগিতার সার্বিক অগ্রগতি ও গতিধারা সম্পর্কে প্রতিমন্ত্রীকে অবহিত করেন। শিক্ষা, বাণিজ্য, স্বাস্থ্য, সংস্কৃতি, পারস্পরিক জনসংযোগ (people-to-people exchanges) এবং কানেক্টিভিটি সহ বিভিন্ন খাতে এই সহযোগিতার বিষয়গুলো আলোচনা করা হয়।

আরও পড়ুন: ৪০ লাখ কৃষককে কার্ড, মিলবে ১০ ধরনের সুবিধা : প্রধানমন্ত্রী

দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ককে আরও জোরদার ও সুদৃঢ় করার জন্য দুই পক্ষ বিস্তারিত আলোচনা করেন। এছাড়া, পারস্পরিক স্বার্থসংশ্লিষ্ট ও দ্বিপাক্ষিক বিষয়গুলোতে তারা নিজ নিজ মতামত ও দৃষ্টিভঙ্গি বিনিময় করেন।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

জাতিসংঘে মার্কিন বিমান নিষেধাজ্ঞার বিরুদ্ধে ইরানের অভিযোগ

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

সোমবার, ২৮শে সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ইং

০৭:০৩ পি.এম


জাতিসংঘে মার্কিন বিমান নিষেধাজ্ঞার বিরুদ্ধে ইরানের অভিযোগ

জাতিসংঘের দরবারে আনুষ্ঠানিক অভিযোগ দায়ের করেছে ইরান, যুক্তরাষ্ট্রের আরোপিত নিষেধাজ্ঞার কারণে বিমান চলাচল ব্যাহত ও ফ্লাইট বাতিল হওয়ার ঘটনায়। দেশটি জানিয়েছে, ওয়াশিংটনের বেআইনি বিধিনিষেধের প্রতিবাদে এই পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে।

ইরানের সরকারি সংবাদ সংস্থা ইরনা (IRNA)-র বরাতে জানা গেছে যে, বেসামরিক বিমান চলাচল খাতের বৈধ অধিকার রক্ষা এবং যুক্তরাষ্ট্রের অবৈধ বিধিনিষেধ মোকাবিলায় আন্তর্জাতিক বেসামরিক বিমান চলাচল সংস্থায় (আইসিএও) একটি আনুষ্ঠানিক প্রতিবাদপত্র দাখিল করেছে তেহরান। উল্লেখ্য, কানাডার মন্ট্রিয়লে অবস্থিত আইসিএও হলো জাতিসংঘের একটি বিশেষায়িত সংস্থা, যা বিশ্বজুড়ে বেসামরিক বিমান চলাচলের সার্বিক মান নিয়ন্ত্রণ ও পরিচালনা করে থাকে।

ইরানের বেসামরিক বিমান চলাচল কর্তৃপক্ষের প্রধান আবুজর শিরুদি বিষয়টি নিশ্চিত করে বলেন, "আমাদের বিমান খাতের অধিকার রক্ষায় আমরা আইসিএও-তে অভিযোগ পেশ করেছি। একইসঙ্গে, পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সহযোগিতায় হেগে অবস্থিত আন্তর্জাতিক বিচার আদালতেও (আইসিজে) একটি পৃথক নালিশ দায়ের করা হয়েছে।"

সম্প্রতি মার্কিন প্রশাসন ইরানের বিমান চলাচলের ওপর নতুন করে একাধিক বিধিনিষেধ আরোপ করে। পাশাপাশি, বিশ্বের আন্তর্জাতিক সংস্থা ও বিমান পরিষেবা প্রতিষ্ঠানগুলোকে সতর্ক করে দেওয়া হয় যে, ইরানি বিমানসংস্থাগুলোর সঙ্গে কাজ অব্যাহত রাখলে তাদের বিরুদ্ধেও কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে। যুক্তরাষ্ট্রের এই নিষেধাজ্ঞার ফলেই সম্প্রতি আন্তর্জাতিক রুটে একাধিক ইরানি ফ্লাইট বাতিল করতে বাধ্য হয়েছে কর্তৃপক্ষ।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

বাজার ব্যবস্থাপনা ও সংরক্ষণ দূর্বলতা, রপ্তানি ঘাটতিতে চাষীদের সংকট

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

তালাশ বিডি ডেস্ক

সোমবার, ২৮শে সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ইং

০৭:০৪ পি.এম


বাজার ব্যবস্থাপনা ও সংরক্ষণ দূর্বলতা, রপ্তানি ঘাটতিতে চাষীদের সংকট

দেশে আলুর উৎপাদন গত কয়েক বছর ধরে অভ্যন্তরীণ চাহিদাকে ছাড়িয়ে যাচ্ছে। এর ফলে মাঠে বাম্পার ফলন হলেও বাজারে দরপতন এবং রপ্তানি ব্যর্থতায় চাষীরা সমস্যায় পড়ছেন। আলুচাষীদের সংকট কোনোভাবেই মিটছে না। খোঁজ নিয়ে জানা যায় যে ২০২৪-২৫ অর্থবছরে দেশে প্রায় ১ কোটি ১৫ লাখ ৭৩ হাজার টন আলু উৎপাদিত হয়েছে, কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের সূত্রে এই তথ্য পাওয়া গেছে। দেশের বার্ষিক চাহিদা বিভিন্ন সংস্থার হিসাবে প্রায় ৮০/৯৫ লাখ টন। কৃষি বিপণন অধিদপ্তরের হিসাব অনুযায়ী দেশে আলুর চাহিদা প্রায় ৮৯ লাখ টন। ফলে গত মৌসুমে উদ্বৃত্ত ছিল আনুমানিক ২০-২৬ লাখ টন আলু। বাংলাদেশ কোল্ড স্টোরেজ অ্যাসোসিয়েশনের সাম্প্রতিক তথ্যে দেখা যায় যে ২০২৬ সালে দেশে প্রায় ১ কোটি ১২ লাখ টন আলু উৎপাদিত হয়েছে এবং চাহিদার তুলনায় প্রায় ২২ লাখ টন উদ্বৃত্ত রয়েছে। অর্থাৎ উৎপাদন কমলেও উদ্বৃত্তের সমস্যা এখনও বিদ্যমান।

দেশের আলুর বড় অংশ উৎপাদন হয় উত্তরের রাজশাহী ও রংপুর বিভাগে। ২০২৪-২৫ অর্থবছরে রাজশাহী ও রংপুর বিভাগ মিলে প্রায় ৮৭ লাখ ৯৮ হাজার ১৮৮ টন আলু উৎপাদিত হয়েছে, যা জাতীয় উৎপাদনের প্রায় ৭৬ শতাংশ। চলতি ২০২৫-২৬ মৌসুমে এই দুই বিভাগে প্রায় ৮৪ লাখ টন আলু উৎপাদনের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছিল।

রংপুর বিভাগে চলতি মৌসুমে উৎপাদন হয়েছে ৫১ লাখ ৭৮ হাজার ৫৪৯ টন, যা গত মৌসুমে ৫৫ লাখ ৫৯ হাজার ৭৩৯ টন ছিল। যদিও উৎপাদন কিছুটা কমেছে, রংপুর এখনও জাতীয় উৎপাদনে সবচেয়ে বড় অবদানকারী অঞ্চল। অন্যদিকে রাজশাহী বিভাগেও উৎপাদন ব্যাপক। রাজশাহী জেলায় ২০২৪-২৫ মৌসুমে ১০ লাখ ৩০ হাজার ৫১৭ টন আলু উৎপাদিত হয়েছিল, যেখানে জেলার বার্ষিক চাহিদা মাত্র ১ লাখ ১৩ হাজার ১৪৫ টন। ফলে স্থানীয় চাহিদার তুলনায় বিপুল পরিমাণ আলু উদ্বৃত্ত থেকে যায় এবং তা দেশের অন্যান্য অঞ্চলে সরবরাহ করতে হয়।

রাজশাহী ও রংপুরে চাহিদা কত?

বিভাগভিত্তিক সরকারি আলু-চাহিদার পৃথক হিসাব না থাকায় ২০২২ সালের জনসংখ্যার অনুপাতে জাতীয় চাহিদা ৮৯ লাখ টন ধরে আনুমানিক হিসাব করলে, রাজশাহী বিভাগের ২.০৩ কোটি জনসংখ্যার বিপরীতে প্রায় ১১.০ লাখ টন আলুর চাহিদা রয়েছে। রাজশাহী ও রংপুর মিলিয়ে লক্ষ্যমাত্রার অংশ হিসেবে রংপুর বিভাগ ১.৭৬ কোটি জনসংখ্যার বিপরীতে ৫১.৮ লাখ টন আলু উৎপাদন করে। রাজশাহী ও রংপুর বিভাগের ৩ কোটি ৮০ লাখ জনসংখ্যার বিপরীতে চাহিদা প্রায় ২০.৫ লাখ টন, উৎপাদন হয় প্রায় ৮৪ লাখ টন আলু।

এক বিঘা জমির আলু উৎপাদনে খরচ কত?

চলতি মৌসুমে উত্তরাঞ্চলে এক বিঘা আলু উৎপাদনে খরচ অঞ্চল ও জাতভেদে ব্যাপকভাবে পরিবর্তিত হয়েছে। মাঠপর্যায়ের হিসাবে অনেক এলাকায় ৭০-৮০ হাজার টাকা পর্যন্ত খরচ হয়েছে। এর মধ্যে বীজে ২৫-৩০ হাজার, সার ও কীটনাশকে ১৫-১৮ হাজার, শ্রমে ১২-১৫ হাজার এবং সেচ ও অন্যান্য খরচে আরও ১৩-১৭ হাজার টাকা পর্যন্ত ব্যয় হয়েছে। তবে সব এলাকায় খরচ একরকম নয়। জয়পুরহাটে ২০২৫-২৬ মৌসুমে কৃষি বিভাগের হিসাবে বিঘাপ্রতি উৎপাদন খরচ প্রায় ৪১ হাজার টাকা পর্যন্ত উঠেছে। রাজশাহীর বিভিন্ন এলাকায় কৃষকের হিসাবে ৫০-৬০ হাজার টাকা পর্যন্ত খরচের কথাও এসেছে। ফলন ভালো হলে এক বিঘায় প্রায় ৭৫-৮৫ মণ পর্যন্ত আলু পাওয়া যায়। কিন্তু বাজারে ১৫/২০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হলে মোট বিক্রয়মূল্য দাঁড়ায় প্রায় ৭০ হাজার টাকা। ফলে একই পরিমাণ টাকা খরচের বিপরীতে কৃষকের ১০ হাজার টাকা পর্যন্ত লোকসান হতে পারে।

আলু রপ্তানির বিপুল  সম্ভাবনা

বাংলাদেশের আলু রপ্তানির বাজার বাড়ানোর যথেষ্ট সুযোগ রয়েছে। ২০২৪-২৫ অর্থবছরে দেশ থেকে ৬২ হাজার ১৩৫ টন আলু রপ্তানি হয়েছে, যা আগের কয়েক বছরের তুলনায় উল্লেখযোগ্য বৃদ্ধি। বাংলাদেশের আলুর বাজার হিসেবে মালয়েশিয়া, সিঙ্গাপুর, সৌদি আরব, নেপাল, সংযুক্ত আরব আমিরাত, কাতার, বাহরাইন, কুয়েত, শ্রীলঙ্কা, ওমান, কানাডা ও মালদ্বীপের মতো দেশ রয়েছে।

তবে উৎপাদনের তুলনায় রপ্তানি এখনও অত্যন্ত কম। এর অন্যতম কারণ হচ্ছে রপ্তানিযোগ্য মানের জাত, রোগমুক্ত আলু, মানসম্মত প্যাকেজিং, ফাইটোস্যানিটারি সনদ, ট্রেসেবিলিটি, পরীক্ষাগার সুবিধা এবং আন্তর্জাতিক বাজারের সঙ্গে সরবরাহ-যোগাযোগের দুর্বলতা। সরকারি কৃষি বিষয়ক বিশ্লেষণেও আলুর গুণগত বৈচিত্র্য, অতিরিক্ত আর্দ্রতা এবং আন্তর্জাতিক বাজারের সঙ্গে দুর্বল সংযোগকে রপ্তানির বড় বাধা হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে।

রাশিয়ার ক্ষেত্রে অতীতে ব্রাউন রট রোগ শনাক্ত হওয়ার পর বাংলাদেশি আলুর ওপর নিষেধাজ্ঞা দেওয়া হয়েছিল। পরবর্তীতে ২০২২ সালে তা প্রত্যাহার হয়। এ ঘটনা দেখিয়েছে যে রপ্তানি বাড়াতে হলে উৎপাদন থেকে প্যাকিং ও রপ্তানি পর্যন্ত রোগমুক্ততা, ট্রেসেবিলিটি ও ফাইটোস্যানিটারি ব্যবস্থাপনা শক্তিশালী করা জরুরি।

উত্তরাঞ্চলের সুবিধা হলো এখানে দেশের সবচেয়ে বড় আলু উৎপাদন অঞ্চল অবস্থিত। বিশেষ করে রাজশাহী, বগুড়া, জয়পুরহাট, নওগাঁ, নাটোর, রংপুর, দিনাজপুর, ঠাকুরগাঁও ও নীলফামারী এলাকায় বড় আকারে আলু উৎপাদিত হয়।

কিন্তু উৎপাদনের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ সংরক্ষণ ও রপ্তানি অবকাঠামো নেই। কৃষি তথ্য সার্ভিসের বিশ্লেষণেও উত্তরাঞ্চলে রপ্তানির জন্য প্লাগিং/প্যাকিং স্টেশন, রপ্তানি-উপযোগী কুলিং জোন এবং আধুনিক কোল্ড-চেইন গড়ে তোলার প্রয়োজনের কথা বলা হয়েছে।

দেশে হিমাগার সংখ্যা কত ?

কৃষি বিপণন অধিদপ্তরের ২০২৩ সালের তথ্য অনুযায়ী ৪০টি জেলা থেকে সংগৃহীত হিসাবে দেশে ৩৬৫টি চালু হিমাগার ছিল এবং মোট ধারণক্ষমতা ছিল প্রায় ৩০ লাখ ১৩ হাজার টন। তবে ২০২৬ সালে বাংলাদেশ কোল্ড স্টোরেজ অ্যাসোসিয়েশনের হিসাবে দেশে ৩৫১টি হিমাগারে প্রায় ৩৪ লাখ টন আলু সংরক্ষণ করা হয়েছে। সংখ্যা কম হলেও কিছু নতুন/বর্ধিত ধারণক্ষমতা যুক্ত হওয়ায় মোট সক্ষমতার হিসাব ভিন্ন হয়েছে।

রাজশাহী ও রংপুর বিভাগে ২০২৬ সালের সাম্প্রতিক কৃষি বিপণন অধিদপ্তরের তথ্যমতে ১২৬টি হিমাগার, এর মধ্যে ১২০টি সচল রয়েছে। জেলাভিত্তিক সংখ্যানুপাতে রাজশাহীতে ৪০, বগুড়ায় ৫২, জয়পুরহাট ২২, নওগাঁয় ১০, নাটোরে ৩, পাবনায় ২, সিরাজগঞ্জে ১, চাঁপাইনবাবগঞ্জ ১টি সহ মোট ১২৬ টি হিমাগার রয়েছে। রাজশাহী জেলার ৩৮টি সচল হিমাগারের মোট ধারণক্ষমতা ৪ লাখ ৩৩ হাজার ২৫০ টন বলে তথ্য পাওয়া গেছে।

রংপুর বিভাগে ১১৫টি হিমাগার এবং মোট ধারণক্ষমতা প্রায় ১১ লাখ ২৯ হাজার ৩৫ টন বলে কৃষি বিপণন অধিদপ্তরের তথ্য উদ্ধৃত করে ২০২৬ সালের প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে। চলতি মৌসুমের ৫১ লাখ ৭৮ হাজার ৫৪৯ টন উৎপাদনের বিপরীতে এই ধারণক্ষমতা মাত্র প্রায় ২২ শতাংশ। অর্থাৎ রাজশাহী ও রংপুর—দুই বিভাগে যাচাই করা সাম্প্রতিক হিসাবে মোট ২৪১টি হিমাগার রয়েছে।

সংকটের মূল কোথায়?

আলু খাতে বর্তমান সংকটকে মোটামুটি পাঁচ ভাগে দেখা যায়। এগুলো হল চাহিদার তুলনায় অতিরিক্ত উৎপাদন, অপর্যাপ্ত ও অসম বণ্টনের হিমাগার, রপ্তানি বাজার সীমিত, রপ্তানিযোগ্য মান ও ফাইটোস্যানিটারি ব্যবস্থাপনার ঘাটতি এবং কৃষকের উৎপাদন খরচের তুলনায় মাঠ পর্যায়ে অনাকাংখিতভাবে কমে যাওয়া। রংপুরে চলতি মৌসুমের উৎপাদনের মাত্র প্রায় ২২ শতাংশ হিমাগারে রাখার সক্ষমতা রয়েছে। বিশেষজ্ঞ ও কৃষি খাতসংশ্লিষ্টদের প্রস্তাব অনুযায়ী উৎপাদন অঞ্চলভিত্তিক পরিকল্পনা, রপ্তানিযোগ্য জাতের সম্প্রসারণ, কৃষক পর্যায়ে মানসম্মত বীজ, আধুনিক ছোট ও মাঝারি কোল্ড স্টোরেজ, রপ্তানি-প্যাকিং কেন্দ্র এবং পরীক্ষাগার সুবিধা বাড়ানো জরুরি।

বিশেষ করে উত্তরাঞ্চলে রাজশাহী-বগুড়া-জয়পুরহাট-রংপুর-দিনাজপুর অঞ্চলে একটি সমন্বিত পটেটো এক্সপোর্ট প্রসেসিং সেকসন গড়ে তোলা গেলে উৎপাদন, সংরক্ষণ, বাছাই, প্যাকিং ও রপ্তানি একই সরবরাহশৃঙ্খলের মধ্যে আনা সম্ভব হতে পারে। পাশাপাশি নেপাল, ভুটান, ভারতীয় উত্তর-পূর্বাঞ্চল, মধ্যপ্রাচ্য ও দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার বাজারকে লক্ষ্য করে চুক্তিভিত্তিক উৎপাদন বাড়ানো যেতে পারে।

দেশে আলু খাতে মূল সমস্যা উৎপাদনের ঘাটতি নয়; বরং উৎপাদন, সংরক্ষণ, বাজার ও রপ্তানির মধ্যে সমন্বয়ের অভাব। দেশে যখন চাহিদার চেয়ে ২০ লাখ টনের বেশি আলু উদ্বৃত্ত থাকে, তখন সেই উদ্বৃত্তকে মূল্য সংযোজন, প্রক্রিয়াজাতকরণ ও রপ্তানির মাধ্যমে কাজে লাগানোই বড় চ্যালেঞ্জ।

উত্তরাঞ্চল এ ক্ষেত্রে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে। কারণ দেশের প্রায় তিন-চতুর্থাংশ আলু উৎপাদনকারী রাজশাহী ও রংপুর অঞ্চলেই অবস্থিত। কিন্তু হিমাগার, কোল্ড-চেইন, রপ্তানি মান, প্যাকেজিং ও আন্তর্জাতিক বাজার-সংযোগ উন্নত না হলে বাম্পার ফলন কৃষকের জন্য লাভের বদলে লোকসানের কারণ হয়েই থাকবে বলে মনে করেন আলুচাষী, হিমাগার মালিক ও ব্যবসায়ী এবং রংপুর বিভাগের রপ্তানির সাথে জড়িতরা।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের চার আবাসিক হলে নতুন প্রভোস্ট নিয়োগ

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

তালাশ বিডি ডেস্ক

সোমবার, ২৮শে সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ইং

০৭:০৪ পি.এম


ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের চার আবাসিক হলে নতুন প্রভোস্ট নিয়োগ

ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের (ইবি) চারটি আবাসিক হলে নতুন প্রভোস্ট নিয়োগ দিয়েছে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন। হলগুলোর মধ্যে অন্তর্ভুক্ত রয়েছে—জুলাই-৩৬ হল, উম্মুল মুমিনীন আয়েশা সিদ্দিকা হল, শহীদ আনাস হল ও খালেদা জিয়া হল।

সোমবার (২৮ সেপ্টেম্বর) বিশ্ববিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত রেজিস্ট্রার অধ্যাপক ড. মো. আতিকুর রহমান স্বাক্ষরিত পৃথক অফিস আদেশের মাধ্যমে এ তথ্য প্রকাশ করা হয়েছে।

নবনিযুক্ত প্রভোস্টদের মধ্যে শহীদ আনাস হলের প্রভোস্ট হিসেবে দায়িত্ব পালন করবেন দাওয়াহ অ্যান্ড ইসলামিক স্টাডিজ বিভাগের অধ্যাপক ড. মো. আব্দুল করিম। ‘জুলাই ৩৬’ হলের প্রভোস্ট হিসেবে নিযুক্ত হয়েছেন আল-ফিকহ অ্যান্ড ল’ বিভাগের অধ্যাপক ড. হামিদা খাতুন। ‘উম্মুল মু’মিনীন আয়েশা সিদ্দিকা’ হলের প্রভোস্ট হিসেবে দায়িত্ব নেবেন বাংলা বিভাগের অধ্যাপক ড. রশিদুজ্জামান এবং ‘খালেদা জিয়া’ হলের প্রভোস্ট হিসেবে নিযুক্ত হয়েছেন অ্যাপ্লাইড নিউট্রিশন অ্যান্ড ফুড টেকনোলজি বিভাগের অধ্যাপক ড. এ এস এম আয়নুল হক আকন্দ।

অফিস আদেশ অনুযায়ী, ২৯ সেপ্টেম্বর পূর্ববর্তী প্রভোস্টদের মেয়াদ শেষ হয়ে যাওয়ায় ৩০ সেপ্টেম্বর থেকে নবনিযুক্ত প্রভোস্টরা তাদের দায়িত্ব পালন শুরু করবেন। দায়িত্ব পালনের জন্য তারা বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রচলিত নিয়ম অনুযায়ী সুযোগ-সুবিধা লাভ করবেন।

এছাড়া, পূর্ববর্তী প্রভোস্টদের দায়িত্ব পালনের জন্য বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষের পক্ষ থেকে ধন্যবাদ জ্ঞাপন করা হয়েছে।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

সব সম্প্রদায়ের সমঅধিকার ও সম্প্রীতির বাংলাদেশ গড়ার প্রেসিডেন্টের আহ্বান

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

তালাশ বিডি ডেস্ক

সোমবার, ২৮শে সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ইং

০৭:০৫ পি.এম


সব সম্প্রদায়ের সমঅধিকার ও সম্প্রীতির বাংলাদেশ গড়ার প্রেসিডেন্টের আহ্বান

প্রেসিডেন্ট মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বাংলাদেশে হিন্দু, বৌদ্ধ, খ্রিষ্টান ও নৃ-গোষ্ঠী সম্প্রদায়ের মানুষের অধিকার ও মর্যাদা নিশ্চিত করার জন্য ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করার আহ্বান জানিয়েছেন।

সোমবার (২৮ সেপ্টেম্বর) বঙ্গভবনে বাংলাদেশ হিন্দু-বৌদ্ধ-খ্রিষ্টান কল্যাণ ফ্রন্টের একটি প্রতিনিধি দলের সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎকালে এই আহ্বানটি তিনি জানান।

সাক্ষাৎকালে প্রেসিডেন্ট বলেন, "এ দেশে সব সম্প্রদায়ের মানুষের সমান অধিকার রয়েছে।" তিনি উল্লেখ করেন, বাংলাদেশে হিন্দু, বৌদ্ধ, খ্রিষ্টান, মুসলমানসহ সব ধর্ম ও সম্প্রদায়ের মানুষ একসঙ্গে বসবাস করে। সবার সমান অধিকার, মর্যাদা ও সুযোগ নিশ্চিত করে একটি সম্প্রীতিপূর্ণ বাংলাদেশ গড়ে তোলার প্রয়োজনীয়তার ওপর তিনি জোর দেন।

প্রেসিডেন্ট আরও বলেন, বিগত সরকারের সৃষ্টি করা সংকট থেকে উত্তরণ ঘটিয়ে দেশকে সঠিক পথে এগিয়ে নিতে সকলকে সম্মিলিতভাবে কাজ করতে হবে। নৃ-গোষ্ঠী, হিন্দু, বৌদ্ধ ও খ্রিষ্টান সম্প্রদায়ের মানুষের বিভিন্ন সমস্যা, দুঃখ-কষ্ট ও প্রত্যাশার বিষয়েও তিনি অবগত রয়েছেন বলে জানান।

তিনি ১৩তম জাতীয় সংসদ নির্বাচন সফল করতে হিন্দু, বৌদ্ধ ও খ্রিষ্টান সম্প্রদায়ের গুরুত্বপূর্ণ অংশগ্রহণ ও সহযোগিতার কথা কৃতজ্ঞতার সঙ্গে স্মরণ করেন। সংরক্ষিত নারী আসনে হিন্দু, বৌদ্ধ ও খ্রিষ্টান সম্প্রদায়ের প্রার্থীদের অধিক হারে মনোনয়ন দেওয়ার কথা উল্লেখ করে প্রেসিডেন্ট জানান, দেশের উন্নয়ন ও অগ্রযাত্রায় সব সম্প্রদায়ের মানুষের সমান অংশগ্রহণ নিশ্চিত করতে সরকার দৃঢ় প্রতিজ্ঞ।

প্রেসিডেন্ট মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর হিন্দু, বৌদ্ধ ও খ্রিষ্টান সম্প্রদায়ের প্রতিনিধিদের সমন্বয়ে একটি জাতীয় কমিটি গঠনের আহ্বান জানিয়ে বলেন, সরকারের সঙ্গে সমন্বয় করে বিভিন্ন বিষয় যথাযথভাবে তুলে ধরতে এ ধরনের একটি কমিটি কার্যকর ভূমিকা রাখতে পারে। তিনি আরও বলেন, দেশের উন্নয়নে সবার প্রতিনিধিত্ব ও অংশগ্রহণ নিশ্চিত করতে হবে; একা কোনো পক্ষের পক্ষে এগিয়ে যাওয়া সম্ভব নয়।

সাক্ষাৎকালে প্রতিনিধিদল প্রেসিডেন্টকে আসন্ন দুর্গাপূজায় ঢাকেশ্বরী ও রমনা কালী মন্দির পূজা মন্ডপ পরিদর্শনের আমন্ত্রণ জানান। প্রেসিডেন্ট মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর আমন্ত্রণ গ্রহণ করেন এবং উপস্থিত থাকার বিষয়ে আশ্বস্ত করেন।

এ সময় প্রতিনিধি দল বিভিন্ন দাবি প্রেসিডেন্টের কাছে তুলে ধরে। জবাবে প্রেসিডেন্ট অতীতে বঞ্চিতদের এগিয়ে নিতে সম্মিলিতভাবে কাজ করার ওপর গুরুত্বারোপ করেন এবং উত্থাপিত বিষয়গুলো গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনার আশ্বাস দেন।

প্রতিনিধি দলে পার্বত্য চট্টগ্রাম বিষয়ক মন্ত্রী সাচিং প্রু জেরী, প্রধানমন্ত্রীর বিশেষ সহকারী ও হিন্দু-বৌদ্ধ-খ্রিষ্টান কল্যাণ ফাউন্ডেশনের চেয়ারম্যান বিজন কান্তি সরকার, হিন্দু ধর্মীয় কল্যাণ ট্রাস্টের উপদেষ্টা তপন চন্দ্র মজুমদার, ধর্ম বিষয়ক সহ-সম্পাদক ও বিএনপির জাতীয় নির্বাহী কমিটি সদস্য অ্যাডভোকেট জন গমেজ, বিএনপির জাতীয় নির্বাহী কমিটির সদস্য ও হিন্দু-বৌদ্ধ-খ্রিষ্টান কল্যাণ ফ্রন্টের উপদেষ্টা সুশীল চন্দ্র বড়ুয়াসহ হিন্দু, বৌদ্ধ ও খ্রিষ্টান সম্প্রদায়ের সদস্যরা উপস্থিত ছিলেন।

এ সময় প্রেসিডেন্টের সামরিক সচিব, সচিব ও প্রেস সচিব উপস্থিত ছিলেন।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

আর্কাইভ

Please select a date!

নামাজের সময়সূচী

তারিখঃ ১০ই জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিঃ
ফজর ০৪:৪৩
জোহর ১১:৪৪
আসর ০৩:৫০
মাগরিব ০৫:২৭
ইশা ০৬:৩৯
সূর্যোদয় : ০৫:৫৮ সূর্যাস্ত : ০৫:২৭
অনলাইন জরিপ
ফলাফল
থার্টি-ফার্স্ট নাইটে তরুণদের জন্য প্রকাশ্যে পানি-টানি খাওয়ার বিরুদ্ধে আহ্বান। আপনার মন্তব্য দিন
হ্যা
100%
না
0%
মন্তব্য নেই
0%