বৃহস্পতিবার, ৮ই অক্টোবর, ২০২৬ ইং
১০:৪৮ এম
একদিকে ঘরোয়া ফুটবলে আর্থিক অনিয়মের অভিযোগের বিরুদ্ধে আইনি লড়াই চলছে, অন্যদিকে সেই মামলার রায় ঘিরে ইউরোপীয় ফুটবলেও নতুন শাস্তির আশঙ্কা দেখা দিয়েছে। সব মিলিয়ে ম্যানচেস্টার সিটির আইনি সংকট যেন আরো ঘনীভূত হয়ে উঠছে। ইংলিশ প্রিমিয়ার লিগের রায়ে ১১৫টি অভিযোগের মধ্যে ১১৪টিতে দোষী সাব্যস্ত হওয়ার পর, সিটিজেনদের দিকে কড়া নজর রাখছে ইউরোপীয় ফুটবলের নিয়ন্ত্রক সংস্থা উয়েফা।
দীর্ঘ আইনি প্রক্রিয়ার পর সম্প্রতি প্রিমিয়ার লিগের আর্থিক বিধি ভঙ্গের অভিযোগে ম্যান সিটির বিরুদ্ধে ঐতিহাসিক এই রায় এসেছে। ক্লাবটির বিরুদ্ধে আনা অভিযোগগুলোর মধ্যে অন্যতম গুরুতর বিষয় ছিল, ২০০৯ থেকে ২০১৮ সালের মধ্যে কৃত্রিম ও ভুয়া স্পনসরশিপ চুক্তির মাধ্যমে ক্লাবটি অন্তত ৯০০ মিলিয়ন পাউন্ড রাজস্ব বেশি দেখিয়েছিল।
তবে প্রিমিয়ার লিগের এই রায় মেনে নিতে পারেনি সিটি কর্তৃপক্ষ। সিদ্ধান্তকে চ্যালেঞ্জ জানিয়ে গত সপ্তাহেই আনুষ্ঠানিক আপিল দায়ের করেছে ক্লাবটি। নিজেদের সম্পূর্ণ নির্দোষ দাবি করে ম্যানচেস্টার সিটি জানিয়েছে, তাদের হাতে এমন কিছু ‘অকাট্য প্রমাণ’ রয়েছে, যা আইনি লড়াই শেষে সব অভিযোগ থেকে তাদের পুরোপুরি মুক্ত করবে।
বর্তমানে তিন সদস্যের একটি স্বাধীন প্যানেল সিটির এই আপিল আবেদনটি পর্যালোচনা করছে। চলতি ফুটবল মৌসুম শেষ হওয়ার আগেই এই আপিলের চূড়ান্ত রায় চলে আসতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যম ‘স্কাই স্পোর্টস’-এর তথ্য অনুযায়ী, পুরো ঘটনাটি খুব কাছ থেকে পর্যবেক্ষণ করছে উয়েফা। তবে আপিলের চূড়ান্ত রায় না আসা পর্যন্ত নিজস্ব কোনো তদন্ত বা ব্যবস্থা নেওয়ার পথে হাঁটছে না সংস্থাটি।
কিন্তু স্বাধীন প্যানেলের আপিলেও যদি প্রিমিয়ার লিগের এই ১১৪টি অভিযোগের রায় বহাল থাকে, তবে ইউয়েফা সিটির বিরুদ্ধে ঠিক কতটা কঠোর ব্যবস্থা নেবে, তা নিয়ে চরম ধোঁয়াশা তৈরি হয়েছে। ফলে ঘরোয়া আদালতে লড়ার পাশাপাশি মহাদেশীয় ফুটবল মঞ্চেও নতুন সংকটের মুখোমুখি হতে যাচ্ছে ইংলিশ ক্লাবটি।
আর্থিক অনিয়মের কারণে ইউয়েফার চোখরাঙানি ম্যানচেস্টার সিটির জন্য এটাই প্রথম নয়। এর আগে ২০২০ সালে ‘ফাইন্যান্সিয়াল ফেয়ার প্লে’ (এফএফপি) নিয়ম ভঙ্গের দায়ে সিটিকে দুই বছরের জন্য চ্যাম্পিয়নস লিগসহ সব ইউরোপীয় প্রতিযোগিতায় নিষিদ্ধ করেছিল ইউয়েফা। সেই সঙ্গে দেওয়া হয়েছিল ৩০ মিলিয়ন ইউরোর মোটা অঙ্কের জরিমানা।
যদিও সেবার সিদ্ধান্তটিকে চ্যালেঞ্জ জানিয়ে ‘কোর্ট অব আরবিট্রেশন ফর স্পোর্টে’ (সিএএস) আপিল করে বড় সাফল্য পেয়েছিল সিটি। সিএএস তাদের ইউরোপীয় নিষেধাজ্ঞার সিদ্ধান্ত বাতিল করে দেয় এবং জরিমানার অঙ্ক কমিয়ে মাত্র ১০ মিলিয়ন ইউরো নির্ধারণ করে।
তবে এবারের পরিস্থিতি ভিন্ন। আপিল টিকতে না পারলে এবার ঘরোয়া ফুটবলে নজিরবিহীন বড় শাস্তির মুখে পড়বে প্রিমিয়ার লিগের এই পরাশক্তি। সম্ভাব্য শাস্তি হিসেবে বড় অঙ্কের পয়েন্ট কর্তন, বিশাল অর্থনৈতিক জরিমানা, অতীতে জেতা শিরোপা কেড়ে নেওয়া, এমনকি প্রিমিয়ার লিগ থেকে সরাসরি বহিষ্কার করার মতো কঠোর ব্যবস্থার কথাও ব্রিটিশ ক্রীড়াঙ্গনে জোর আলোচনায় রয়েছে।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
লন্ডন থেকে যুক্তরাজ্য ইসরাইলের ২৭ জন কূটনীতিক এবং তাদের পরিবারকে বহিষ্কারের বিষয়ে তেল আবিবকে সতর্ক করেছে। ব্রিটিশ কনস্যুলেটটি অধিকৃত কুদসে বন্ধ করার সিদ্ধান্ত বাতিল না করলে যুক্তরাজ্য এমন কঠোর পদক্ষেপ নিতে প্রস্তুত রয়েছে।
প্রেস টিভির রিপোর্ট অনুযায়ী, গত সোমবার ব্রিটিশ রাষ্ট্রদূত সাইমন ওয়াল্টার্স এই বার্তা ইসরাইলি কর্মকর্তাদের কাছে পৌঁছে দিয়েছেন। খবরটি মেহেরের মাধ্যমে প্রকাশিত হয়েছে।
অধিকৃত কুদসে ব্রিটিশ মিশনটি বন্ধ হওয়ার পর কূটনৈতিক মর্যাদা হারানোর আশঙ্কায় থাকা প্রতি ব্রিটিশ কর্মীর বিপরীতে একজন করে ইসরাইলি কূটনীতিককে বহিষ্কারের প্রস্তুতি নিচ্ছে লন্ডন। ব্রিটিশ পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় এ বিষয়ে মন্তব্য করতে রাজি হয়নি, তবে তারা খবরটি অস্বীকারও করেনি।
ইসরাইলের পররাষ্ট্রমন্ত্রী গিদিয়ন সা’আর বৃহস্পতিবারের (৮ অক্টোবর) মধ্যে কনস্যুলেটটি বন্ধের নির্দেশ দিয়েছেন এবং এর কর্মীদের কূটনৈতিক স্বীকৃতি বা পরিচয়পত্র বাতিল করেছেন। শেখ জাররাহ এলাকায় অবস্থিত এই মিশনটি তেল আবিবে অবস্থিত ব্রিটিশ দূতাবাস থেকে আলাদাভাবে কার্যক্রম পরিচালনা করে এবং পূর্ব আল-কুদস (পূর্ব জেরুজালেম), অধিকৃত পশ্চিম তীর ও গাজা উপত্যকায় ফিলিস্তিনিদের জন্য রাজনৈতিক ও কনস্যুলার বিষয়গুলো দেখাশোনা করে।
ইসরাইলের অবৈধ বসতিগুলো থেকে পণ্য আমদানির ওপর গত মাসে ব্রিটেনের নিষেধাজ্ঞার পাল্টা পদক্ষেপ হিসেবেই এই কনস্যুলেট বন্ধ করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।
ফিলিস্তিনিদের বিরুদ্ধে ইসরাইলি সরকারের জাতিগত নির্মূল অভিযানের প্রেক্ষাপটে ব্রিটেন, ফ্রান্স ও কানাডা পণ্য আমদানিতে নিষেধাজ্ঞা আরোপ করেছে। অধিকৃত ভূমিতে এক হাজারেরও বেশি নতুন বসতি স্থাপনের ইসরাইলি পরিকল্পনার জের ধরেই এই নিষেধাজ্ঞা আরোপ করা হয়েছিল। আন্তর্জাতিক আইন অনুযায়ী এ ধরনের সব বসতি অবৈধ।
ইসরাইলি পররাষ্ট্রমন্ত্রী ব্রিটেনের এই সিদ্ধান্তকে ‘নৈতিকভাবে বিকৃত’ বলে অভিহিত করেছেন এবং এই মাসের শেষের দিকে অনুষ্ঠেয় নির্বাচনের আগে লেবার সরকারের বিরুদ্ধে শত্রুতা ও হস্তক্ষেপের অভিযোগ তুলেছেন। তার পাল্টা পদক্ষেপগুলোর মধ্যে রয়েছে গাজার একটি সমন্বয় কেন্দ্র থেকে ব্রিটিশ প্রতিনিধিদের বহিষ্কার, ফিলিস্তিনি কর্তৃপক্ষের নিরাপত্তা বাহিনীকে ব্রিটিশ প্রশিক্ষণ প্রদান বন্ধ এবং সাবেক লেবার নেতা জেরেমি করবিনসহ ১২ জন ব্রিটিশ নাগরিকের প্রবেশ নিষিদ্ধ করা।
রয়টার্সের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, কনস্যুলেটটি খোলা রাখার লক্ষ্যে ব্রিটেনের জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টা জোনাথন পাওয়েল গত সপ্তাহে পূর্ব ঘোষণা ছাড়াই অধিকৃত অঞ্চলগুলো সফর করেছিলেন। তবে সেই আলোচনায় কোনো সমঝোতা হয়নি। ইসরাইলি পররাষ্ট্রমন্ত্রীর এক মুখপাত্র জানিয়েছেন, ঘোষিত সময়সূচি অনুযায়ী বৃহস্পতিবারই মিশনটি বন্ধ করা হবে।
ব্রিটেনের সাবেক অ্যাটর্নি জেনারেল ডমিনিক গ্রিভ পররাষ্ট্র দপ্তরকে পরামর্শ দিয়েছেন যে, কনস্যুলেটটি বন্ধ করার কোনো আইনি অধিকার ইসরাইলি সরকারের নেই।
পূর্ব আল-কুদসকে জাতিসংঘ ও ব্রিটেন—উভয়ই অধিকৃত ফিলিস্তিনি ভূখণ্ড হিসেবে স্বীকৃতি দেয়। এই মিশনটি বজায় রাখার অর্থ এই নয় যে শহরটির ওপর ইসরাইলের সার্বভৌমত্ব মেনে নেওয়া হচ্ছে।
গ্রিভ উল্লেখ করেছেন, কনস্যুলেট বন্ধ হলে তার প্রভাব মূলত ফিলিস্তিনিদের ওপরই পড়বে। কারণ এর ফলে কনস্যুলার সেবা ব্যাহত হবে এবং পশ্চিম তীর ও গাজা থেকে সহায়তা কার্যক্রমের তদারকি ও তথ্য সংগ্রহের কাজ বাধাগ্রস্ত হবে। এত বড় পরিসরে বহিষ্কারের ঘটনা লন্ডনে অবস্থিত ইসরাইলি দূতাবাসের কার্যক্রমকে মারাত্মকভাবে ব্যাহত করবে, যেখানে এক বছরেরও বেশি সময় ধরে কোনো রাষ্ট্রদূত নেই।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
দক্ষিণ আফ্রিকার পৃথক দুটি সড়ক দুর্ঘটনায় ১৬ জন নিহত হয়েছেন, যাদের মধ্যে রয়েছেন পুলিশ সদস্য, বিচারাধীন মামলার আসামি এবং ট্যাক্সি যাত্রী। লিম্পোপু প্রদেশে ছয়জন এবং কোয়াজুলু নাটাল প্রদেশে ১০ জন নিহত হয়েছেন।
মঙ্গলবার (৬ অক্টোবর) সকালে লিম্পোপু প্রদেশের ভেম্বে জেলার আর-৫২৪ লেভুবু সড়কে লুইস ট্রিচার্ডট শহরের কাছাকাছি পুলিশের গাড়ি ও একটি বাখির মধ্যে মুখোমুখি সংঘর্ষ ঘটে।
পুলিশের তথ্য অনুযায়ী, শিলওয়াভুসিকু থানার গাড়িতে তিনজন বিচারাধীন আসামিকে থোহোয়ানদোর সংশোধনাগারে নিয়ে যাওয়া হচ্ছিল। এ সময় গাড়িটির সাথে তিশিসিমানী ওয়াটার প্রতিষ্ঠানের একটি সাদা মাহিন্দ্রা বাখির সংঘর্ষ ঘটে। ঘটনাস্থলেই পাঁচজন নিহত হন। পরে গুরুতর আহত এক পুলিশ সদস্য হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা গেলে মৃতের সংখ্যা ছয়জনে পৌঁছায়।
নিহতদের মধ্যে তিনজন পুলিশ সদস্য, দুজন বিচারাধীন আসামি এবং বাখির চালক অন্তর্ভুক্ত রয়েছেন। অপর এক আসামি গুরুতর আহত হয়ে হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন এবং পুলিশ পাহারায় আছেন।
অন্যদিকে বুধবার (৭ অক্টোবর) বিকালে কোয়াজুলু নাটাল প্রদেশের হিলক্রেস্টের নিকটবর্তী কেটোরিজ এলাকার এমআর-৩৮৫ সড়কে একটি মিনিবাস ট্যাক্সি দুর্ঘটনায় ১০ জন নিহত হন। এই ঘটনায় আরও পাঁচজন গুরুতর আহত হয়েছেন, যাদের হাসপাতালে চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে।
দুটি দুর্ঘটনার কারণ অনুসন্ধানে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ তদন্ত শুরু করেছে। লিম্পোপু প্রদেশের দুর্ঘটনার ঘটনায় অনিচ্ছাকৃত হত্যাকাণ্ডের মামলা দায়ের করা হয়েছে।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
শাহরুখ খানের সঙ্গে অভিষেক বচ্চনের সম্পর্কটি শুধুমাত্র সহশিল্পীর নয়, বরং বড় ভাই ও অনুজের সম্পর্কের মতো। অভিনয়জগতে প্রবেশের পূর্বে শাহরুখের কাছ থেকে পাওয়া একটি পরামর্শ আজও অভিষেকের জীবনে গুরুত্বপূর্ণ। দীর্ঘ ক্যারিয়ারের মধ্যে সেই পরামর্শটি তাঁর কাজের মূলমন্ত্র হয়ে উঠেছে।
সম্প্রতি একটি সাক্ষাৎকারে পুরোনো দিনের স্মৃতিচারণা করতে গিয়ে অভিষেক বচ্চন বিষয়টি তুলে ধরেন। তিনি জানান, অভিনয়ে আসার আগে প্রতি রোববার যশরাজ ফিল্মসের কর্ণধার আদিত্য চোপড়ার বাড়িতে ক্রিকেট খেলতে একত্রিত হতেন তাঁরা। সেই আড্ডায় উদয় চোপড়া, হৃতিক রোশান ও সিকান্দার খেরও উপস্থিত থাকতেন।
তরুণদের সেই আড্ডায় প্রায়শই শাহরুখ খানকে দেখা যেত। অভিষেকের কাছে তিনি ছিলেন অনেকটা বড় ভাইয়ের মতো। কাজের ক্ষেত্রেই নয়, ব্যক্তিগত জীবন ও ক্যারিয়ার সম্পর্কেও শাহরুখ তাঁকে বিভিন্ন সময়ে পরামর্শ প্রদান করেছেন।
অভিষেক জানান, অভিনয়ে আসার আগে একদিন তিনি শাহরুখকে প্রশ্ন করেছিলেন, কোন সিনেমাটি তাঁর সবচেয়ে প্রিয়? শাহরুখের উত্তর ছিল এমন একটি কথা, যা অভিষেকের মনে গেঁথে যায়। শাহরুখ বলেছিলেন, "আমার প্রিয় সিনেমা সেটাই, যেটা আমি এই মুহূর্তে করছি। কারণ যে কাজটা আমি করছি, সেটাই যদি আমার সবচেয়ে প্রিয় না হয়, তাহলে আমি সেটা করছি কেন? এখনকার কাজটাই আমার কাছে সেরা হতে হবে। অতীতে কী হয়েছে, সেটা অতীত। তা নিয়ে পড়ে থাকার কোনো মানে নেই।"
শাহরুখের সেই কথাই পরবর্তী সময়ে অভিষেক তাঁর কাজের ক্ষেত্রে অনুসরণ করেছেন। তাঁর কাছে অতীতের সাফল্য কিংবা ব্যর্থতার চেয়ে বর্তমান কাজটিকেই বেশি গুরুত্ব দেওয়া জরুরি।
এদিকে, দীর্ঘ বিরতির পর সিদ্ধার্থ আনন্দের ‘কিং’ সিনেমায় আবারও একসঙ্গে পর্দায় দেখা যাবে শাহরুখ খান ও অভিষেক বচ্চনকে। সিনেমাটির মাধ্যমে বড়পর্দায় অভিষেকের অভিনয়ে শাহরুখের মেয়ে সুহানা খানের অভিষেক হচ্ছে। বিশেষ একটি নাচের দৃশ্যে কারিনা কাপুর খানকে দেখা যেতে পারে-এমন গুঞ্জনও শোনা যাচ্ছে।
বহুল প্রতীক্ষিত ‘কিং’ আগামী ২৪ ডিসেম্বর বিশ্বজুড়ে প্রেক্ষাগৃহে মুক্তির পরিকল্পনা রয়েছে।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
রেলওয়ের অনলাইনে টিকিট ছাড়ার এক মিনিটের মধ্যেই কক্সবাজারগামী দুটি ট্রেনের সব টিকিট শেষ হয়ে যাওয়ার অভিজ্ঞতা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে তুলে ধরেছেন জনপ্রিয় চলচ্চিত্র নির্মাতা ও নাট্যকার আশফাক নিপুণ। তিনি টিকিট কালোবাজারি ও অদৃশ্য সিন্ডিকেটের দৌরাত্ম্য নিয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করে বিষয়টিকে ‘কমার্স ফিকশন’ বলে অভিহিত করেছেন।
বুধবার (৭ অক্টোবর) সকালে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে দেওয়া এক দীর্ঘ স্ট্যাটাসে তিনি নিজের এই তিক্ত অভিজ্ঞতার কথা বিস্তারিত তুলে ধরেন।
নিপুণ লিখেন, আসন্ন দুর্গাপূজার ছুটিতে তার বয়োবৃদ্ধ সেজো মামাসহ পরিবারের সদস্যদের নিয়ে কক্সবাজার যাওয়ার পরিকল্পনা ছিল। বয়সের কারণে টানা বসে বাস ভ্রমণ অসম্ভব হওয়ায় রেলযাত্রার সিদ্ধান্ত নেন তারা। যাত্রার ১০ দিন আগে সকাল ৮টায় ‘ঢাকা-কক্সবাজার’ রুটের টিকিট ছাড়া হবে জেনে সকাল পৌনে আটটা থেকেই মোবাইল নিয়ে প্রস্তুতি নিয়ে বসেছিলেন তিনি। কোনো নোটিফিকেশন যেন বিঘ্ন না ঘটায় সেজন্য সব সতর্কতামূলক ব্যবস্থা নিয়েছিলেন।
তিনি আরও লিখেন, ‘ঘড়ির কাঁটা ঠিক আটটায় পৌঁছাতেই সার্চ অপশনে ক্লিক করি। চোখের সামনে সারি সারি খালি সিট ভেসে ওঠে। কিন্তু ৮টা বাজতেই টিকিট কাটার প্রক্রিয়া শুরু করার পর ৮টা ১ মিনিটে দেখি গোটা দুটি ট্রেনের সব টিকিট শেষ! চোখের পলকে একদম সব ফাঁকা!’
একজন নিয়মিত ট্রেনের যাত্রী হিসেবে স্বাভাবিক টিকিট কাটার গাণিতিক হিসাব তুলে ধরে নির্মাতা প্রশ্ন তোলেন, ‘একটি টিকিট নির্বাচন, ওটিপি প্রদান, পেমেন্ট গেটওয়ের তথ্য দিয়ে রিকনফার্ম করতেও তো অন্তত সাড়ে ছয় থেকে সাত মিনিট সময় লাগে। সবার দ্রুতগতির ইন্টারনেট থাকলেও সব টিকিট বিক্রি সম্পন্ন হতে ন্যূনতম ৮টা ৭ মিনিট বাজার কথা। সেখানে এক মিনিটে পুরো দুটি ট্রেনের সব টিকিট কীভাবে শেষ হয়ে যায়? জুল ভার্ন লিখেছিলেন সায়েন্স ফিকশন ‘৮০ দিনে বিশ্ব ভ্রমণ’, আর আমাদের রেলওয়ে লিখল ‘এক মিনিটে দুই ট্রেন গায়েব’-এর মতো কমার্স ফিকশন!’
রেলওয়ের শক্তিশালী সিন্ডিকেটকে দায়ী করে নিপুণ আরও লেখেন, ‘সরকার বদল হলেও এই সিন্ডিকেটের কোনো পরিবর্তন হয় না। কোনো আমলেই সাধারণ মানুষ সহজে টিকিট পায় না। যে সরকারই আসুক না কেন, এই টিকিট চক্রের ক্ষমতা এতটাই প্রবল যে তাদের কাছে কোনো নিয়মনীতি কার্যকর হয় না।’
তিনি চ্যালেঞ্জ ছুড়ে দিয়ে বলেন, কোনো সরকার যদি কেবল বিমানবন্দর আর রেলওয়ের এই দীর্ঘদিনের সিন্ডিকেট ভাঙতে পারে, তবে তাদের সর্বকালের সেরা সরকার হিসেবে বিনাবাক্যে মেনে নিতে তিনি প্রস্তুত।
এদিকে ট্রেনের অনলাইন প্ল্যাটফর্মে টিকিট ছাড়ার সঙ্গে সঙ্গেই তা গায়েব হয়ে যাওয়া এবং সাধারণ যাত্রীদের ভোগান্তির বিষয়টি ইতোমধ্যে আদালত পর্যন্ত গড়িয়েছে। এ নিয়ে গত ২২ সেপ্টেম্বর সিলেটের জ্যেষ্ঠ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালত (আমলি-১১) স্বপ্রণোদিত হয়ে মামলা দায়ের করেন। পরবর্তীতে ১ অক্টোবর আদালত মামলাটি তদন্তের নির্দেশ দেয় পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশনকে (পিবিআই)। বর্তমানে পিবিআইয়ের এক উপপরিদর্শক মামলাটি তদন্ত করছেন।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ