বৃহস্পতিবার, ২৩শে জুলাই, ২০২৬ ইং
০৩:৩৭ পি.এম
বাণিজ্যমন্ত্রী খন্দকার আবদুল মুক্তাদির বলেছেন, থাইল্যান্ড দীর্ঘকাল ধরে বাংলাদেশের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ বাণিজ্য অংশীদার হয়ে রয়েছে। দুই দেশের দ্বিপাক্ষিক বাণিজ্যের পরিমাণ ধারাবাহিকভাবে বাড়ছে, তবে বাণিজ্য ও বিনিয়োগ আরও সম্প্রসারণের যথেষ্ট সম্ভাবনা এখনও কাজে লাগানো সম্ভব হয়নি।
বৃহস্পতিবার, রাজধানীর প্যান প্যাসিফিক সোনারগাঁও হোটেলে আয়োজিত ‘টপ থাই ব্র্যান্ডস ২০২৬’-এর উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি জানান। অনুষ্ঠানে বাণিজ্যমন্ত্রী ‘টপ থাই ব্র্যান্ডস ২০২৬’ মেলার উদ্বোধন করেছেন।
তিনি উল্লেখ করেন, বাংলাদেশ থাইল্যান্ডে রপ্তানিযোগ্য পণ্যের বৈচিত্র্য বাড়াতে আগ্রহী। সম্ভাবনাময় পণ্যের মধ্যে রয়েছে ওষুধ, প্রক্রিয়াজাত খাদ্য, পরিবেশবান্ধব পণ্যগুলো পাটজাত, চামড়াজাত পণ্য এবং লাইট ইঞ্জিনিয়ারিং পণ্য।
বাণিজ্যমন্ত্রী আরও বলেন, আমি বাংলাদেশি ব্যবসায়ীদের থাইল্যান্ডে আমাদের পণ্য ও সেবা রপ্তানির সুযোগগুলো কাজে লাগানোর আহ্বান জানাচ্ছি। টেকসই অর্থনৈতিক সহযোগিতা অবশ্যই পারস্পরিকভাবে লাভজনক হওয়া উচিত।
এই উদ্যোগের মাধ্যমে দ্বিপাক্ষিক বাণিজ্যের ভারসাম্যপূর্ণ সম্প্রসারণ নিশ্চিত করা সম্ভব হতে পারে। আমি দৃঢ়ভাবে বিশ্বাস করি, ‘টপ থাই ব্র্যান্ডস ২০২৬’ দুই দেশের বাণিজ্য, বিনিয়োগ, ব্যবসায়িক সহযোগিতা এবং বন্ধুত্ব আরো জোরদারে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।
উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে বাংলাদেশে নিযুক্ত থাইল্যান্ডের রাষ্ট্রদূত থিটিপর্ন চিরাসাওয়াদি বলেন, আমরা এই মেলার আয়োজনে অত্যন্ত আনন্দিত। বিশ্বজুড়ে থাই পণ্যের ব্যাপক সুনাম রয়েছে। এই আয়োজনের মাধ্যমে বাংলাদেশের মানুষ থাই পণ্য সম্পর্কে আরও ঘনিষ্ঠভাবে জানার সুযোগ পাবেন।
আয়োজকরা জানায়, ২৩ থেকে ২৫ জুলাই পর্যন্ত রাজধানীর প্যান প্যাসিফিক সোনারগাঁও হোটেলে অনুষ্ঠিত হবে ‘টপ থাই ব্র্যান্ডস ২০২৬’। তিন দিনব্যাপী এই আয়োজনে দর্শনার্থীরা থাইল্যান্ডের বিভিন্ন পণ্য, সংস্কৃতি ও রন্ধনশৈলীর সঙ্গে পরিচিত হওয়ার সুযোগ পাবেন।
রয়্যাল থাই দূতাবাস, থাইল্যান্ডের বাণিজ্য মন্ত্রণালয় এবং বাংলাদেশ-থাইল্যান্ড বিজনেস কাউন্সিলের যৌথ উদ্যোগে আয়োজিত ‘টপ থাই ব্র্যান্ডস ২০২৬’-এর এটি ২১তম আসর। মেলাটি প্রতিদিন সকাল ১০টা থেকে রাত ৮টা পর্যন্ত সবার জন্য উন্মুক্ত থাকবে।
এবারের মেলায় ৫৯টি প্রতিষ্ঠান অংশ নিচ্ছে। থাইল্যান্ডের শীর্ষস্থানীয় কোম্পানিগুলোর পাশাপাশি বাংলাদেশি আমদানিকারক ও এজেন্টরাও এতে অংশগ্রহণ করছেন। মেলায় খাদ্য ও পানীয়, হাসপাতাল ও স্বাস্থ্যসেবা, ওয়েলনেস, ফ্যাশন, বিউটি ও কসমেটিকস, নির্মাণসামগ্রী, কেমিক্যাল ও লুব্রিকেন্ট, স্টেশনারি এবং শিশু পরিচর্যাসহ বিভিন্ন খাতের পণ্য প্রদর্শিত হচ্ছে।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
টাঙ্গাইলের বাসাইলে অজ্ঞাত গাড়ির ধাক্কায় এক পথচারী নিহত হয়েছেন, যার নাম শফিকুল ইসলাম খানশূর, বয়স ৫০ বছর। বৃহস্পতিবার (২৩ জুলাই) ভোর রাতে ঢাকা টাঙ্গাইল মহাসড়কের বাসাইলের করাতিপাড়া বাইপাসের যমুনা সেতুমুখী সার্ভিস লেনে এই দুর্ঘটনাটি ঘটে।
নিহত খানশূর বাসাইল পৌরসভার জড়াশাহীবাগ এলাকার মৃত কামদার আলী খানশূরের ছেলে। তিনি দীর্ঘদিন ধরে চট্টগ্রামে জাহাজে চাকরি করতেন।
জানা যায়, বৃহস্পতিবার ভোরে রাস্তা পারাপারের সময় একটি অজ্ঞাত গাড়ি তাকে পেছন থেকে সজোরে ধাক্কা দিয়ে বদলে দিয়েছে। এতে তিনি রাস্তায় ছিটকে পড়ে ঘটনাস্থলেই মারা যান।
বাসাইল থানার ওসি আলমগীর কবির গনমাধ্যমে বলেন, ‘আইনি প্রক্রিয়া শেষে মরদেহ পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে।’
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
ভারতের উত্তর-পূর্বাঞ্চলীয় সিকিম রাজ্যে নির্মাণাধীন একটি জলবিদ্যুৎ প্রকল্পের সুড়ঙ্গ থেকে আরো সাতটি মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে। এর ফলে বিস্ফোরণের ঘটনায় নিহতের সংখ্যা বেড়ে ২২ জনে দাঁড়িয়েছে বলে বৃহস্পতিবার (২৩ জুন) রাজ্য সরকার জানিয়েছে।
সোমবার সামারদুং গ্রামের তিস্তা নদীর ওপর রাষ্ট্রায়ত্ত ন্যাশনাল হাইড্রোইলেকট্রিক পাওয়ার করপোরেশন (এনএইচপিসি)-এর নির্মাণাধীন জলবিদ্যুৎ প্রকল্পে এই বিস্ফোরণের ঘটনা ঘটে। এর আগে উদ্ধারকারীরা ১৩ এবং পরে ২০ জনের নিহত হওয়ার খবর দিয়েছিল।
প্রাথমিক তদন্তে ধারণা করা হচ্ছে, সুড়ঙ্গের ভেতরে শিলার মধ্যে আটকে থাকা বা সেখান থেকে নির্গত মিথেন গ্যাসের কারণে বিস্ফোরণ ঘটে। বিস্ফোরণের পর সুড়ঙ্গটি ঘন ধোঁয়া ও বিষাক্ত গ্যাসে ভরে যায়, ফলে এনএইচপিসির ২৫ জন কর্মী ও কর্মকর্তা সেখানে আটকা পড়েন।
সিকিম রাজ্য সরকার এক ফেসবুক পোস্টে জানিয়েছে, ‘উদ্ধার অভিযান এখনও চলছে। বিশেষজ্ঞ দলগুলো সমন্বিতভাবে কাজ করে বাকি নিখোঁজদের খুঁজে বের করার চেষ্টা করছে।’ কর্তৃপক্ষ আগেই জানিয়েছিল, সুড়ঙ্গে আটকে পড়াদের বেঁচে থাকার সম্ভাবনা খুবই কম।
সপ্তাহের শুরুতে কর্মকর্তারা জানান, সুড়ঙ্গের ভেতরে জমে থাকা কাদা ও পানি এবং সম্ভাব্য গ্যাস লিকের কারণে শ্বাস-প্রশ্বাসের সমস্যা সৃষ্টি হওয়ায় উদ্ধারকাজ ব্যাহত হচ্ছে।
এদিকে এনএইচপিসি বুধবার ঘোষণা করেছে, এই দুর্ঘটনায় নিহতদের প্রত্যেকের পরিবারকে ৫ লাখ ভারতীয় রুপি (প্রায় ৫১৭৮ মার্কিন ডলার) আর্থিক সহায়তা দেওয়া হবে।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
ভেনেজুয়েলায় গত মাসে আঘাত হানা জোড়া ভূমিকম্পের পর মৃতের সংখ্যা বেড়ে ৫ হাজার ৩৯৮ জনে পৌঁছেছে। সরকারি সর্বশেষ হিসাবে বুধবার এ তথ্য প্রকাশ করা হয়েছে।
২৪ জুন আঘাত হানা ভূমিকম্প দুটির মাত্রা যথাক্রমে ৭ দশমিক ২ ও ৭ দশমিক ৫ ছিল। ভূমিকম্পটি দেশটির উত্তর উপকূলীয় লা গুয়াইরা অঙ্গরাজ্যে সবচেয়ে বেশি ক্ষতির কারণ হয়। সেখানে বেশ কয়েকশত ভবন ধসে পড়েছে।
এএফপি বার্তা সংস্থার মাধ্যমে কারাকাস থেকে এ খবর জানা গেছে। ভেনেজুয়েলার আইনসভার প্রধান হোর্হে রড্রিগেজ দৈনিক বুলেটিনে জানান, আগের দিনের তুলনায় মৃতের সংখ্যা ৫২ জন বেড়ে বর্তমানে ৫ হাজার ৩৯৮ জন হয়ে দাঁড়িয়েছে। আহতের সংখ্যা ১৬ হাজার ৭৪০ জন রয়েছে।
এখনও কতজন নিখোঁজ রয়েছে, সে বিষয়ে কারাকাস কোনো তথ্য প্রকাশ করেনি। তবে জাতীয় ও আন্তর্জাতিক সংস্থাগুলোর ধারণায়, এখনও কয়েক হাজার মানুষের সন্ধান পাওয়া যায়নি।
ধ্বংসস্তূপের নিচে স্বজনদের মরদেহের খোঁজে উদ্ধার অভিযান এখনও পরিচালিত হচ্ছে। তবে, এক মাস পেরিয়ে যাওয়ার পর কার্যক্রমটি বর্তমানে ধীরে ধীরে ভূমিকম্প-পরবর্তী মানবিক সহায়তা ও পুনর্গঠন কার্যক্রমের দিকে বেশি গুরুত্ব দিচ্ছে।
অন্তর্বর্তীকালীন প্রেসিডেন্ট ডেলসি রড্রিগেজ জানিয়েছেন, চলতি বছরের শেষ নাগাদ ভূমিকম্পে বাস্তুচ্যুতদের জন্য ৪ হাজার ঘর নির্মাণের পরিকল্পনা রয়েছে। চলমান গৃহহীনদের মধ্যে আনুমানিক ২৩ হাজার মানুষও রয়েছে। ২০২৭ সালের মধ্যে ভূমিকম্পে ক্ষতিগ্রস্তদের জন্য ১০ হাজার ঘর নির্মাণের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে।
পুনর্গঠন কার্যক্রমের জন্য আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিল (আইএমএফ) সংরক্ষিত তহবিল থেকে প্রায় ৩৪ কোটি ৬০ লাখ ডলার ছাড় করেছে।
ভেনেজুয়েলার এককক্ষবিশিষ্ট জাতীয় পরিষদ আবাসন নির্মাণকে নিশ্চিত করার ক্ষেত্রে পুনর্গঠন কার্যক্রমের অংশ হিসেবে কয়েকটি সংস্কারও অনুমোদন করেছে।
ভূমিকম্পের পর গত এক মাসে মোট ১ হাজার ৪০৫টি আফটারশকও রেকর্ড করা হয়েছে।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
ফিলিস্তিনের হামাস সদস্যদের জন্য ইসরায়েলের দক্ষিণাঞ্চলে অবস্থিত একটি কারাগারে বিশেষ জেলখানার চারপাশে কুমির রাখার উদ্দেশ্যে পরিখা বা খাল খনন কার্যক্রম শুরু করা হয়েছে।
মিডল ইস্ট মনিটরের প্রতিবেদনে বুধবার (২২ জুলাই) এই খবর প্রকাশিত হয়েছে।
কারাগারটি অবস্থিত রামাত নেগেভ আঞ্চলিক কাউন্সিলের এক স্থানীয় কর্মকর্তা জানায়, ১৭০ মিটার বিস্তৃত পরিখার খনন কাজ কেতজিওত কারাগারের একটি উইংয়ে করা হচ্ছে, যা বাইরে থেকে ধরা পড়ে না। ইসরায়েলের পরিবেশ সুরক্ষা মন্ত্রী ইদিত সিলমান নীল নদীর কুমিরকে গৃহপালিত বন্যপ্রাণী হিসেবে নতুন শ্রেণীভুক্ত করার পরেই এই উদ্যোগের পথ উন্মুক্ত হয়েছে।
এদিকে, উগ্র ডানপন্থী জাতীয় নিরাপত্তা মন্ত্রী ইতামার বেন-গভিরের দপ্তর জানায় যে, এটি একটি পাইলট প্রকল্প হিসেবে শুরু হয়েছে এবং যারা একে সস্তা স্টান্ট মনে করছিলেন, তাদের ভুল প্রমাণিত করেছে। খাল এবং কুমিরের যত্নের জন্য ২১ মিলিয়ন শেকেল বা প্রায় ৬ দশমিক ৩ মিলিয়ন ডলার বাজেট বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে এবং কারা কর্মকর্তাদের প্রশিক্ষণের ব্যবস্থা করা হচ্ছে।
অন্যদিকে, ইসরায়েলের প্রকৃতি ও উদ্যান কর্তৃপক্ষ এবং পরিবেশ মন্ত্রণালয়ের আইনগত উপদেষ্টা এই সিদ্ধান্তের তীব্র বিরোধিতা করেছেন এবং বিষয়টি নিয়ে জরুরি বৈঠক আহ্বান করেছেন। কেতজিওত কারাগারটি নেগেভ মরুভূমিতে অবস্থিত ইসরায়েলের সবচেয়ে বড় বন্দিশালা, যেখানে গাজা ও পশ্চিম তীর থেকে আটক ফিলিস্তিনিদের রাখা হয়।
ফিলিস্তিনি কারাবন্দি বিষয়ক সংস্থাগুলোর তথ्यानুযায়ী, ২০২৩ সালের অক্টোবরে গাজা যুদ্ধ শুরু হওয়ার পর থেকে ইসরায়েলের কারাগারে ফিলিস্তিনি বন্দির সংখ্যা ৮৩ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়ে ৯ হাজার ৬০০ জনে পৌঁছেছে।
একই সাথে বন্দীদের উপর নির্যাতনের অভিযোগ উঠেছেঃ কম্বল ও খাবার না দেওয়া এবং লোহার পাতে ঘুমাতে বাধ্য করা হয় বলেও জানা গেছে।
সূত্র: মিডল ইস্ট মনিটর
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ