বৃহস্পতিবার, ১ই অক্টোবর, ২০২৬ ইং
০৫:৫৯ পি.এম
মৌলভীবাজার জেলার উন্নয়নমূলক কার্যক্রমে বাধা সৃষ্টি ও হয়রানি করার অভিযোগে জেলা পরিষদের দুর্নীতিগ্রস্ত ও ফ্যাসিস্ট সরকারের সহযোগী ‘প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা শামীমা খন্দকারের’ অপসারণের দাবিতে মানববন্ধন অনুষ্ঠিত হয়েছে।
বৃহস্পতিবার (১ অক্টোবর) দুপুরে প্রেসক্লাবের সামনে জেলা পরিষদের ঠিকাদারদের উদ্যোগে এই মানববন্ধন অনুষ্ঠিত হয়। বক্তব্য রাখেন ঠিকাদার তোফায়েল ইসলাম তোহেল, আনিছুজ্জামান বায়েছ, আতাউর রহমানসহ অন্যান্যরা।
লিখিত অভিযোগে তারা উল্লেখ করেন, মৌলভীবাজার জেলা পরিষদের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা শামীমা খন্দকার আওয়ামী ফ্যাসিস্ট সরকারের আমলে নিয়োগপ্রাপ্ত একজন আওয়ামী ঘরানার ব্যক্তি। তিনি বর্তমান গণতান্ত্রিক সরকারের উন্নয়নবিরোধী কর্মকাণ্ডে সরাসরি জড়িত এবং সরকারের ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ন করার চক্রান্তে লিপ্ত। এছাড়া, তিনি দুর্নীতিগ্রস্ত কমিশন গ্রহণকারী কর্মকর্তা হিসেবে পরিচিত। জেলা পরিষদের বিভিন্ন উন্নয়নমূলক কাজে ঠিকাদারদের তার নির্দেশ অনুযায়ী কাজ না করলে বিভিন্নভাবে হয়রানি, ভয়ভীতি প্রদর্শন ও মিথ্যা অভিযোগের মাধ্যমে টাকা দাবি করেন, নতুবা কাজের ফাইল আটকিয়ে রাখেন।
জেলা পরিষদের আওতাধীন জলমহাল ও বিভিন্ন দোকান কোঠা থেকে উচ্চমান সহকারী এনামের মাধ্যমে মাসুরা উৎকোচ গ্রহণের অভিযোগ রয়েছে। জেলা পরিষদের ডাক বাংলার স্টাফদের মধ্যে যে অতিরিক্ত টাকা প্রদান করবে, তাকে নিয়োগ দেওয়া হবে। পূর্ববর্তী সরকারের আমলে তার অনেক ফাইল পর্যালোচনা করলে ভূয়া বিল ও ভাউচার অনুযায়ী অনেক টাকা উত্তোলনের প্রমাণ পাওয়া যাবে।
আওয়ামী আমলে জেলা আওয়ামীলীগের সাধারণ সম্পাদক মিছবাহুর রহমানের সহযোগিতায় তারা জেলা পরিষদকে একটি দুর্নীতির আখড়ায় পরিণত করেছিলেন। এর ফলস্বরূপ, আওয়ামী সরকারের ফ্যাসিস্ট প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা শামীমা খন্দকার তার একক কর্তৃত্ব ও চাঁদাবাজি পার্সেন্টিজ চালিয়ে যাচ্ছেন।
তিনি ঠিকাদারদের সিডিউল অনুযায়ী কাজ না করিয়ে তার নিজস্ব ক্ষমতাবলে আইটেম পরিবর্তন করে কাজ করান, যা বেআইনী এবং ২০২৪ সালের পিপিআর আইন লঙ্ঘন করে। পরবর্তীতে বিল আটক করে পার্সেন্টিজ আদায় করেন।
এ বিষয়ে জেলা পরিষদের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা শামীমা খন্দকার জানান, ঠিকাদারদের মানববন্ধন করে তার বিরুদ্ধে যে অভিযোগ তোলা হয়েছে, তা সম্পূর্ণ মিথ্যা ও বানোয়াট। তিনি ঠিকাদারদের বিলের বিষয়টি নিয়মতান্ত্রিকভাবে পরিচালনা করছেন।
বক্তারা আগামী ৪৮ ঘন্টার মধ্যে জেলা পরিষদ থেকে শান্তিপূর্ণ বদলির জোর দাবি জানান। পরে তারা জেলা প্রশাসক বরাবর স্মারকলিপি প্রদান করেন। এছাড়া, ঠিকাদাররা শ্রম, কর্মসংস্থান ও প্রবাসীকল্যাণ মন্ত্রণালয়, সংসদ সদস্য, সংস্থাপন মন্ত্রণালয় ও সিলেট বিভাগের বিভাগীয় কমিশনারের কাছে লিখিত অভিযোগ পাঠান।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
নারী ও শিশুদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার লক্ষ্যে দিল্লিতে একটি বিশেষ ‘পিংক ফোর্স’ গঠনের নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে, যা প্রশিক্ষণপ্রাপ্ত নারী পুলিশ সদস্যদের নিয়ে গঠিত হবে। এই বাহিনী রাজধানীর স্কুল, কলেজ, মেট্রো স্টেশন, বাজার এবং অন্যান্য ঝুঁকিপূর্ণ এলাকায় টহল দেওয়ার পাশাপাশি সংবেদনশীল সময়গুলোতে দ্রুত ব্যবস্থা গ্রহণ করবে।
সম্প্রতি দিল্লিতে প্রায় ১০ দিনের ব্যবধানে নাবালিকাদের ওপর পৃথক চারটি ধর্ষণ ও যৌন নিপীড়নের ঘটনা ঘটার পর এই উদ্যোগটি নেওয়া হয়েছে।
মঙ্গলবার (৩০ সেপ্টেম্বর) দিল্লির লেফটেন্যান্ট গভর্নর তারানজিত সিং সাধু দিল্লি পুলিশকে গোয়া পুলিশের ‘পিংক ফোর্স’-এর আদলে নতুন এই বাহিনী গঠনের নির্দেশ দেন। রাজধানীর বিভিন্ন ‘হটস্পট’ হিসেবে চিহ্নিত এলাকায় বিশেষ করে ঝুঁকিপূর্ণ সময়ে নারী পুলিশ সদস্যদের মোতায়েন করা হবে।
নতুন এই বাহিনীর প্রধান লক্ষ্য হবে গুরুত্বপূর্ণ ও সংবেদনশীল এলাকাগুলোতে পুলিশের উপস্থিতি দৃশ্যমান করা এবং যেকোনো পরিস্থিতিতে দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়া। নারী পুলিশ সদস্যদের নিয়ে গঠিত এই ইউনিট স্কুল, কলেজ, মেট্রো স্টেশন ও অন্যান্য ঝুঁকিপূর্ণ স্থানে নিয়মিত টহল দেবে।
গোয়ায় ‘পিংক ফোর্স’ মূলত নারী ও শিশুদের নিরাপত্তা এবং তাদের বিরুদ্ধে সংঘটিত অপরাধের ঘটনায় দ্রুত ব্যবস্থা নিতে কাজ করে। দিল্লির লেফটেন্যান্ট গভর্নর এই বাহিনীকে নতুন ইউনিটের মডেল হিসেবে উল্লেখ করেছেন।
তবে নারী পুলিশ সদস্যদের দিয়ে টহল দেওয়া দিল্লি পুলিশের জন্য নতুন কোনো উদ্যোগ নয়। এর আগে স্কুল, কলেজ, বাজার, মেট্রো স্টেশন ও জনবহুল এলাকায় নারী কর্মকর্তাদের স্কুটি ও বিট পেট্রোলিংয়ে মোতায়েন করা হয়েছে। নতুন প্রস্তাবের লক্ষ্য হলো এসব টহল কার্যক্রমকে একটি নির্দিষ্ট ‘পিংক ফোর্স’ কাঠামোর আওতায় নিয়ে আসা।
এ ছাড়া ‘অপারেশন শিষ্টাচার’-এর আওতায় প্রকাশ্য স্থানে নারীদের উত্ত্যক্ত করা বন্ধে আইনি অভিযান অব্যাহত রাখার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। এই কার্যক্রমের আওতায় শিক্ষা প্রতিষ্ঠান, বাজার ও গণপরিবহন কেন্দ্রগুলোতে ইতোমধ্যে টহল জোরদার রয়েছে। প্রস্তাবিত ‘পিংক ফোর্স’ এসব উদ্যোগের পাশাপাশি কাজ করবে।
সম্প্রতি চার যৌন নিপীড়নের ঘটনা
সর্বশেষ ঘটনায় কালকাজি মন্দিরের কাছে আস্থা কুঞ্জ পার্কে ১৭ বছর বয়সি এক কিশোরীকে তিন ব্যক্তি দলবদ্ধভাবে ধর্ষণ করেছে বলে অভিযোগ ওঠে। পুলিশ জানায়, অভিযুক্তরা নিজেদের পুলিশ পরিচয় দিয়ে প্রথমে ওই কিশোরীকে তার পুরুষ বন্ধুর কাছ থেকে আলাদা করে।
পরে পুলিশের সঙ্গে গোলাগুলির সময় পায়ে গুলিবিদ্ধ অবস্থায় এক অভিযুক্তকে গ্রেফতার করা হয় বলে জানিয়েছে পুলিশ।
গত ১৬ সেপ্টেম্বর সদর বাজারে স্টেশনারি কিনতে গিয়ে একটি দোকানের ভেতর এক নাবালিকা যৌন নির্যাতনের শিকার হয় বলে অভিযোগ ওঠে। এ ঘটনায় অভিযুক্তকে গ্রেফতার করে আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠানো হয়েছে।
এ ছাড়া মধ্য দিল্লির কিষাণগঞ্জে ছয় বছর বয়সি এক শিশু যৌন নির্যাতনের শিকার হয়। পুলিশ জানায়, স্থানীয় বাসিন্দারা অভিযুক্তকে আটক করে পুলিশের হাতে তুলে দেন।
সেপ্টেম্বরের শুরুতে স্বরূপ নগরে ১৬ বছর বয়সি এক কিশোরীকে দলবদ্ধভাবে ধর্ষণ ও হত্যার অভিযোগ ওঠে। এ ঘটনায় ১৯ বছর বয়সি এক তরুণকে গ্রেফাতার এবং তিন নাবালককে আটক করা হয়েছে।
ডিজিটাল ট্র্যাকিংয়ের আওতায় আসছে পুলিশি অভিযোগ।
গত ২৪ জুনের পর দিল্লি পুলিশ সদর দপ্তরে সান্ধুর দ্বিতীয় সফরের সময় ‘পিংক ফোর্স’ গঠনসহ বেশ কিছু নির্দেশনা দেওয়া হয়।
এখন থেকে দিল্লি পুলিশের ‘জন শুনানি’ কর্মসূচিতে পাওয়া অভিযোগগুলো ডিজিটাল পদ্ধতিতে ট্র্যাক করা হবে। প্রতিটি অভিযোগের প্রাপ্তিস্বীকার দেওয়া হবে এবং নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে ব্যবস্থা নেওয়া হবে। অন্য সরকারি দপ্তরের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট অভিযোগগুলো সংশ্লিষ্ট সংস্থার কাছে পাঠিয়ে দেওয়া হবে।
গত জুন থেকে বিভিন্ন থানায় ‘জন শুনানি’ কর্মসূচি চলছে। চলতি মাসে পুলিশ জানিয়েছে, এখন পর্যন্ত ১ হাজার ৩০০টির বেশি সেশন অনুষ্ঠিত হয়েছে এবং প্রায় ১০ হাজার অভিযোগের সমাধান করা হয়েছে। তবে নতুন ডিজিটাল ব্যবস্থায় অভিযোগ নিষ্পত্তির নির্দিষ্ট সময়সীমা এখনো নির্ধারণ করা হয়নি।
এ ছাড়া অপরাধপ্রবণ ও জনবহুল এলাকায়—বিশেষ করে স্কুল, কলেজ, বাজার ও পরিবহন হাবের আশপাশে—পায়ে হেঁটে এবং মোটরসাইকেলে টহল বাড়ানোর নির্দেশ দেওয়া হয়েছে থানা ও বিট কর্মকর্তাদের।
প্রতিটি পুলিশ ডিস্ট্রিক্টে একজন নোডাল অফিসার নিয়োগ করা হবে। পাশাপাশি স্কুলগুলোতে পিওসিএসও আইন, শিশু সুরক্ষা, সাইবার অপরাধ, মাদকের অপব্যবহার ও সড়ক নিরাপত্তা বিষয়ে সচেতনতামূলক সেশনের জন্য ত্রৈমাসিক ক্যালেন্ডার তৈরির নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
অন্যান্য নির্দেশনার মধ্যে রয়েছে মাদক চোরাচালান প্রতিরোধ, সাইবার অপরাধ দমন এবং ট্রাফিক ব্যবস্থাপনা জোরদার করা। থানাগুলোকে সাইবার অপরাধের অভিযোগ মোকাবিলা এবং ডিজিটাল প্রমাণ সংরক্ষণে আরও দক্ষ হওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। পিক আওয়ারে যানজটপ্রবণ প্রধান পয়েন্টগুলোতে অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন এবং সিসিটিভি নজরদারি বাড়াতেও বলা হয়েছে।
পুলিশ সদস্যদের কল্যাণের বিষয়টিও নির্দেশনায় গুরুত্ব পেয়েছে। বিশেষ করে নিম্নপদস্থ ও নারী সদস্যদের সময়মতো পদোন্নতি দেওয়ার তাগিদ দিয়েছেন সান্ধু। একই সঙ্গে পুলিশ সদর দপ্তরে নির্দিষ্ট সময়ে কর্মকর্তা-কর্মচারীদের অভিযোগ ও ক্ষোভ শোনার ব্যবস্থা করার কথা বলা হয়েছে।
এ ছাড়া পুলিশ আবাসন কলোনিগুলোকে ‘জিরো-ওয়েস্ট’ বা বর্জ্যহীন মডেলে রূপান্তরের দিকে এগিয়ে নেওয়ার নির্দেশনাও দেওয়া হয়েছে।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
বলিভিয়ার বিরুদ্ধে ৪-০ গোলে জয়লাভের পর নতুন আর্জেন্টিনা অধিনায়ক ক্রিস্তিয়ান রোমেরো লিওনেল মেসির অবসরের বিষয়টি নিয়ে মন্তব্য করেছেন। ম্যাচের পর তিনি গণমাধ্যমের সামনে নিজের অনুভূতি ব্যক্ত করেন।
রোমেরো উল্লেখ করেন, “আজকের দিনটা আমার স্মৃতিতে চিরকাল থাকবে। কখনও ভাবিনি বেলগ্রানো থেকে ক্যারিয়ার শুরু করে ১০ বছর পর জাতীয় দলে সবকিছু অর্জন করে ফিরব।”
তিনি আরও বলেন, দলের শক্তি এবং ভবিষ্যৎ নিয়ে তিনি আশাবাদী, “আমাদের ভালো খেলোয়াড় আছে, অসাধারণ কোচিং স্টাফ আছে। আমরা প্রস্তুতি নেব যাতে জাতীয় দলকে সবসময় শীর্ষে রাখা যায়।”
নতুন অধিনায়কত্ব পাওয়ার পর রোমেরো জানান, কোচ স্কালোনি তাকে অনেক আগে তৃতীয় অধিনায়ক হিসেবে মনোনীত করেছিলেন।
“লিও আর অন্যরা আমাকে বেছে নিয়েছে। দায়িত্বটা এখন আমার, আর আমি কৃতজ্ঞ।”
মেসির বিদায় নিয়ে রোমেরো বলেন, “আমরা লিওকে খুব মিস করব। তিনি আমাদের পতাকা বাহক। তার মতো আর কেউ হবে না।”
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
মার্কিন প্রতিরক্ষা সচিব পিট হেগসেথ মার্কিন মূলধারার গণমাধ্যমের তীব্র সমালোচনা করেছেন, সংবাদমাধ্যম ও সাংবাদিকদের কর্মকাণ্ডকে ‘জাতীয় বিশ্বাসঘাতকতা’ এবং ‘রাষ্ট্রদ্রোহ’ বলে অভিহিত করেছেন।
ভার্জিনিয়ার একটি মেরিন কোর ঘাঁটিতে সেনা সদস্যদের উদ্দেশ্যে দেওয়া তাঁর বার্ষিক ‘স্টেট অব দ্য ফোর্স’ ভাষণে পেন্টাগন প্রধান গণমাধ্যমের বিরুদ্ধে এক নজিরবিহীন আক্রমণাত্মক অবস্থান গ্রহণ করেন। হেগসেথ অভিযোগ করেন, মার্কিন প্রেসের ভূমিকা ইরানের রাষ্ট্রীয় মালিকানাধীন সংবাদমাধ্যমের তুলনায় অধিক পক্ষপাতদুষ্ট এবং বিভ্রান্তিকর।
হেগসেথ তাঁর বক্তব্যে বলেন, "একটি স্বাধীন ও মুক্ত গণমাধ্যম অবশ্যই যেকোনো দেশের জন্য গুরুত্বপূর্ণ। কিন্তু আমাদের সশস্ত্র বাহিনীর ঐতিহাসিক মিশন ও সৈন্যদের উদ্দেশ্যমূলকভাবে হেয় করার এই দলীয় রাজনৈতিক সক্রিয়তা পুরোপুরি আমেরিকা-বিরোধী। এটি একটি অসুস্থ মনোভাব, যা জাতীয় বিশ্বাসঘাতকতা—সহজ কথায় এটি রাষ্ট্রদ্রোহ।"
মার্কিন প্রতিরক্ষা দপ্তরের নীতির সমালোচনা এবং চলমান সামরিক অভিযান নিয়ে রিপোর্টিংয়ের কারণে তিনি বেশ কিছু শীর্ষস্থানীয় মার্কিন সংবাদমাধ্যমের প্রতি ক্ষোভ প্রকাশ করেন। সম্প্রতি মধ্যপ্রাচ্য ও ইরান ইস্যুতে প্রতিরক্ষা দপ্তরের তথ্য গোপনের অভিযোগ তুলে প্রতিবেদন প্রকাশ করায় দ্য ওয়াশিংটন পোস্টসহ একাধিক প্রধান গণমাধ্যমের ওপর পেন্টাগনের এই শীর্ষ কর্মকর্তা ক্ষুব্ধ হন। হেগসেথ দাবি করেন, মার্কিন গণমাধ্যম জাতীয় নিরাপত্তার স্বার্থ না দেখে সংবাদ বা স্ক্যান্ডাল তৈরিতে ব্যস্ত রয়েছে।
রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা মনে করছেন, পেন্টাগন প্রধানের এই ধরনের বক্তব্য স্বাধীন সাংবাদিকতার ওপর সরাসরি আঘাত এবং প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প প্রশাসনের স্বাধীন প্রেসের প্রতি কঠোর মনোভাবেরই একটি স্পষ্ট প্রতিফলন। এর আগে পেন্টাগন থেকে সংবাদ সংগ্রহের জন্য সাংবাদিকদের ওপর বেশ কিছু কড়া শর্ত আরোপের উদ্যোগও নেয়া হয়েছিল, যা নিয়ে দেশটির প্রধান প্রধান সংবাদমাধ্যমের সঙ্গে পেন্টাগনের চরম দ্বন্দ্ব তৈরি হয়।
সূত্র: অ্যাক্সিওস।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
ফোনে জরুরি কাজ করার সময় হঠাৎ স্ক্রিন আটকে যাওয়া, কোনো কমান্ডে সাড়া না দেওয়া বা কিছুক্ষণ পর নিজে থেকেই বন্ধ হয়ে যাওয়া একটি বিরক্তিকর অভিজ্ঞতা। অনেক সময় দেখা যায়, চার্জ পর্যাপ্ত থাকা সত্ত্বেও এমন সমস্যা সৃষ্টি হয়।
তবে, সবসময় ফোনের হার্ডওয়্যার নষ্ট হওয়াকেই এর জন্য দায়ী করা যায় না। ফোন হ্যাং বা বন্ধ হয়ে যাওয়ার জন্য স্টোরেজের ঘাটতি, র্যামের ওপর অতিরিক্ত চাপ, অতিরিক্ত তাপ, দুর্বল ব্যাটারি কিংবা সফটওয়্যার সমস্যাও দায়ী হতে পারে।
স্টোরেজ ভরে গেছে কি না দেখুন
যখন ফোনের স্টোরেজ প্রায় সম্পূর্ণ হয়ে যায়, তখন শুধু নতুন ফাইল সংরক্ষণে সমস্যা হয় না, বরং সিস্টেমের স্বাভাবিক কার্যক্রমও ব্যাহত হতে পারে। এর ফলে ফোন ধীর হয়ে যাওয়া, অ্যাপ হঠাৎ বন্ধ হয়ে যাওয়া বা স্ক্রিন ফ্রিজ করার মতো সমস্যাগুলি দেখা দিতে পারে।
অতএব, নিয়মিত অপ্রয়োজনীয় ছবি, ভিডিও, ডাউনলোড করা ফাইল এবং ব্যবহার না করা অ্যাপ মুছে ফেলা উচিত। এতে ফোনে প্রয়োজনীয় খালি জায়গা তৈরি হবে এবং পারফরম্যান্সও কিছুটা স্বাভাবিক থাকতে পারে।
একসঙ্গে অনেক অ্যাপ চালু রাখছেন?
একসঙ্গে বেশি অ্যাপ চালু থাকলে ফোনের র্যামের ওপর চাপ বৃদ্ধি পায়। বিশেষ করে কম র্যামের পুরোনো ডিভাইসে এই সমস্যা বেশি দেখা যায়। যেসব অ্যাপের প্রয়োজন নেই, সেগুলো বন্ধ করে দেওয়া উচিত এবং অপ্রয়োজনীয় ব্যাকগ্রাউন্ড কার্যক্রম সীমিত রাখা উচিত।
এছাড়া, নিয়মিত ফোন রিস্টার্ট করাও সাময়িক পারফরম্যান্স সমস্যা কমাতে সহায়তা করতে পারে।
অতিরিক্ত গরম হয়ে যাচ্ছে?
দীর্ঘ সময় গেম খেলা, ভারী অ্যাপ ব্যবহার, একটানা ভিডিও দেখা কিংবা চার্জে থাকা অবস্থায় ফোন ব্যবহার করলে ডিভাইস অতিরিক্ত গরম হয়ে যেতে পারে। তাপমাত্রা খুব বেড়ে গেলে ফোনের সুরক্ষা ব্যবস্থা সক্রিয় হয়ে স্বয়ংক্রিয়ভাবে ডিভাইস বন্ধ করে দিতে পারে।
এমন পরিস্থিতিতে ফোন ব্যবহার বন্ধ করে কিছুক্ষণ ঠান্ডা হতে দিতে হবে। অতিরিক্ত গরম অবস্থায় বারবার ফোন চালু করার চেষ্টা না করাই ভালো।
ব্যাটারির সমস্যাও কারণ হতে পারে
পুরোনো বা দুর্বল ব্যাটারি প্রয়োজনীয় সময়ে ফোনকে পর্যাপ্ত বিদ্যুৎ সরবরাহ করতে না পারলে ডিভাইস হঠাৎ বন্ধ হয়ে যেতে পারে। বিশেষ করে চার্জের মাত্রা স্বাভাবিক দেখানোর পরও যদি বারবার ফোন বন্ধ হয়ে যায়, তাহলে ব্যাটারির স্বাস্থ্য পরীক্ষা করা প্রয়োজন।
চার্জ দ্রুত শেষ হয়ে যাওয়া, অল্প ব্যবহারে ফোন অস্বাভাবিক গরম হওয়া কিংবা হঠাৎ ব্যাটারির শতাংশ অনেক কমে যাওয়ার মতো লক্ষণ থাকলে বিষয়টি গুরুত্ব দিয়ে দেখা উচিত।
সফটওয়্যার আপডেট করে নিন
অপারেটিং সিস্টেমের পুরোনো সংস্করণ কিংবা সফটওয়্যারের কোনো বাগ থেকেও ফোন হ্যাং করার সমস্যা হতে পারে। তাই ফোনের সেটিংসে গিয়ে নতুন কোনো সিস্টেম আপডেট পাওয়া যাচ্ছে কি না, তা পরীক্ষা করা উচিত।
যদি নির্দিষ্ট কোনো অ্যাপ চালু করার পরই ফোনে সমস্যা দেখা দেয়, তাহলে অ্যাপটি আপডেট করে দেখা উচিত। তাতেও সমাধান না হলে অ্যাপটি আনইনস্টল করে পুনরায় ইনস্টল করার চেষ্টা করা যেতে পারে।
সমস্যা হলে প্রথমে যা করবেন
ফোন হ্যাং বা আচমকা বন্ধ হয়ে গেলে প্রথমে ডিভাইসটি রিস্টার্ট করে দেখা উচিত। এরপর স্টোরেজে কিছু জায়গা খালি করা, অপ্রয়োজনীয় অ্যাপ বন্ধ করা এবং সফটওয়্যার আপডেট আছে কি না পরীক্ষা করা দরকার।
এসবের পরও সমস্যা নিয়মিত হতে থাকলে গুরুত্বপূর্ণ ছবি, ভিডিও, নথি ও অন্যান্য তথ্যের ব্যাকআপ নিয়ে ফ্যাক্টরি রিসেটের কথা ভাবা যেতে পারে। তবে ফ্যাক্টরি রিসেট করলে ফোনের সংরক্ষিত তথ্য মুছে যেতে পারে। তাই ব্যাকআপ না নিয়ে কখনোই এই প্রক্রিয়া শুরু করা উচিত নয়।
ফ্যাক্টরি রিসেটের পরও যদি ফোন বারবার হ্যাং বা বন্ধ হয়ে যায়, তাহলে সমস্যাটি সফটওয়্যারের বাইরে হার্ডওয়্যার-সংক্রান্তও হতে পারে। সে ক্ষেত্রে ডিভাইসটি অনুমোদিত সার্ভিস সেন্টারে নিয়ে গিয়ে পরীক্ষা করানোই নিরাপদ।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ