আহমেদ আক্তার রানা কুলাউড়া উপজেলা প্রতিনিধি
০৯:২০ পি.এম
কৃষকের প্রণোদনায় অনিয়ম: এমপি শকুর তদন্ত কমিটির রিপোর্টে সত্যতা প্রমাণ, অভিযুক্তদের সতর্কবার্তা
মৌলভীবাজার-২ (কুলাউড়া) আসনের বোরো চাষিদের সরকারি প্রণোদনা বিতরণে গাফিলতি ও অনিয়মের অভিযোগের সত্যতা পেয়েছে তদন্ত কমিটি। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে এক স্ট্যাটাসের মাধ্যমে বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন স্থানীয় সংসদ সদস্য শওকতুল ইসলাম শকু। একই সঙ্গে অনিয়মে অভিযুক্তদের ভবিষ্যতের জন্য সতর্ক থাকার কঠোর নির্দেশনা দিয়েছেন তিনি।
সংসদ সদস্য শওকতুল ইসলাম শকু তাঁর ব্যক্তিগত ফেসবুক আইডিতে দেওয়া এক পোস্টে লেখেন, “কৃষকের প্রণোদনা, গাফিলাতির জন্য তিন সদস্যের তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছিল। ইতিমধ্যে আমার কাছে রিপোর্ট এসে পৌঁছেছে। অনেক অনিয়ম ধরা পড়েছে। অভিযুক্তদের নির্দেশক্রমে ভবিষ্যতের জন্য সতর্ক থাকার জন্য অনুরোধ করা হয়েছে।”
খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, কুলাউড়া উপজেলার হাজীপুর, ব্রাহ্মণবাজার, টিলাগাঁও ও ভাটেরা ইউনিয়নে প্রকৃত ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকদের বাদ দিয়ে অকৃষক ও প্রভাবশালীদের স্বজনদের নাম প্রণোদনার তালিকায় অন্তর্ভুক্ত করার অভিযোগ ওঠে। এতে স্থানীয় কৃষকদের মাঝে তীব্র ক্ষোভের সৃষ্টি হলে সংসদ সদস্য শওকতুল ইসলাম শকু একটি বিশেষ তদন্ত কমিটি গঠন করেন। সাবেক ইউপি চেয়ারম্যান এম. এস. জামান মতিনকে আহ্বায়ক করে গঠিত এই ৩ সদস্যের কমিটিতে অন্য দুই সদস্য ছিলেন রেদোয়ান খান ও মঈনুল হক বকুল।কমিটির জমাদানকৃত তদন্ত প্রতিবেদনে প্রণোদনা বিতরণে ব্যাপক গাফিলতি ও স্বজনপ্রীতির প্রমাণ মিলেছে। সরকারি সুবিধা যেন প্রকৃত প্রান্তিক কৃষকদের কাছে পৌঁছায়, তা নিশ্চিত করতে সংসদ সদস্যের এই কঠোর অবস্থানকে সাধুবাদ জানিয়েছেন কুলাউড়ার সর্বস্তরের সাধারণ মানুষ।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
চৌদ্দগ্রাম (কুমিল্লা) প্রতিনিধির খবর অনুসারে ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়ক বরাবর যানজট কমানোর উদ্দেশ্যে এবং মহাসড়কের পাশে সরকারি জায়গা দখলমুক্ত করার জন্য কুমিল্লার চৌদ্দগ্রামে এক উচ্ছেদ অভিযান পরিচালিত হয়েছে। ১৩ জুলাই, ২০২৬ তারিখে, উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট মো. শাহাদাৎ হোসেন নেতৃত্বে বিকেলে চৌদ্দগ্রাম বাজার এলাকায় এ অভিযানটি সম্পন্ন হয়।
উপজেলা প্রশাসন এবং পৌরসভার যৌথ উদ্যোগে পরিচালিত এই অভিযানে অংশ নেয় চৌদ্দগ্রাম মডেল থানা ও মিয়াবাজার হাইওয়ে থানার পৃথক দুটি পুলিশ দল। অভিযানের সময় মহাসড়ক ও ফুটপাত দখল করে গড়ে ওঠা অবৈধ স্থাপনা, কাঁচাবাজার এবং অস্থায়ী দোকানপাট উচ্ছেদ করা হয়। পরে, তাৎক্ষণিকভাবে বর্জ্য অপসারণও করা হয়। উপজেলা প্রশাসন জানায়, দীর্ঘদিন ধরে চৌদ্দগ্রাম বাজার এলাকায় যত্রতত্র বাস থামানো এবং ফুটপাত দখলের কারণে প্রায় প্রতিদিনই তীব্র যানজট সৃষ্টি হয়ে আসছিল।
এই সমস্যার সমাধানের জন্য, বাজারের দক্ষিণ পাশে ইসলামী ব্যাংকসংলগ্ন এলাকা এবং উত্তর পাশে হায়দার শপিং কমপ্লেক্সসংলগ্ন স্থানে দুটি বাস-বে স্থাপনের একটি সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। আপাতত এই দুটি স্থানে অস্থায়ী বাস-বে চালু করা হয়েছে এবং শিগগিরই স্থায়ী বাস-বে নির্মাণের উদ্যোগ নেওয়া হবে। এর আগে, ব্যবসায়ীদের অবৈধ স্থাপনা সরাতে কয়েক দিন সময় দেওয়া হয়েছিল এবং মাইকিং ও গণসচেতনতামূলক প্রচারও চালানো হয়েছিল।
নির্ধারিত সময় সম্পন্ন হওয়ার পর বিকালে উচ্ছেদ অভিযানটি পরিচালিত হয়। অভিযানের পর মহাসড়কে যান চলাচল স্বাভাবিক থাকায় স্থানীয় ব্যবসায়ী ও পথচারীরা সন্তোষ প্রকাশ করেছেন। উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ও পৌর প্রশাসক মো. শাহাদাৎ হোসেন বলেন, মহাসড়কের পাশের সরকারি জায়গা দখল করে অবৈধ স্থাপনা নির্মাণ এবং ফুটপাত দখলের কারণে যানজট ও দুর্ঘটনার ঝুঁকি বাড়ছিল।
বারবার সতর্ক করার সত্ত্বেও দখলদাররা তাদের স্থাপনা সরিয়ে না নেওয়ায় এই উচ্ছেদ অভিযান পরিচালনা করা হয়েছে। তিনি আরো বলেন, যানজট নিরসন, অবৈধ দখল উচ্ছেদ এবং যত্রতত্র যানবাহন পার্কিং বন্ধে এ ধরনের অভিযান ভবিষ্যতেও অব্যাহত থাকবে।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
বাঁধ নির্মাণে বিএসএফের বাধা, বাঁশের সাঁকোই ভরসা
মৌলভীবাজারের কুলাউড়া উপজেলার পৃথিমপাশা ইউনিয়নের শিকড়িয়া সীমান্ত এলাকায় বাংলাদেশ-ভারত সীমান্তবর্তী আঞ্চলিক সড়কের (বাঁধ) ক্ষতিগ্রস্ত অংশ দীর্ঘদিন ধরে মেরামত না হওয়ায় চরম দুর্ভোগে পড়েছেন স্থানীয় বাসিন্দারা।
এলাকাবাসীর অভিযোগ, সীমান্তসংক্রান্ত জটিলতা ও ভারতীয় সীমান্তরক্ষী বাহিনীর (বিএসএফ) আপত্তির কারণে বাঁধটি পুনর্নির্মাণ করা সম্ভব হচ্ছে না। ফলে বর্তমানে ভাঙা স্থানে বাঁশের সাঁকোই তাদের চলাচলের একমাত্র ভরসা।
টানা বৃষ্টিপাত ও ভারতের সীমান্তবর্তী পাহাড়ি এলাকা থেকে নেমে আসা ঢলে মনু নদীর পানি বিপৎসীমার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হওয়ায় কুলাউড়ার নদীতীরবর্তী এলাকায় বন্যা পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে। সবচেয়ে বেশি ঝুঁকিতে রয়েছে পৃথিমপাশা ইউনিয়নের রাজাপুর ও শিকড়া গ্রামের বেড়িবাঁধ। এতে স্থানীয়দের মধ্যে চরম উদ্বেগ বিরাজ করছে।
বুধবার (৮ জুলাই) গভীর রাত থেকে ভারতের সীমান্তবর্তী এলাকা দিয়ে নেমে আসা ঢলে শিকড়া গ্রামের সড়কের একটি অংশ ভেঙে যায়। এতে পানি দ্রুত লোকালয়ে প্রবেশ করে শিকড়া, রাজাপুরসহ আশপাশের কয়েকটি গ্রাম প্লাবিত হয়। দুর্ভোগে পড়েন শতাধিক পরিবার।
স্থানীয়দের দাবি, ২০২৪ সালের ভয়াবহ বন্যায় মনু নদীর উজানের প্রবল স্রোতে এই বাঁধটি প্রথম ভেঙে যায়। এরপর দীর্ঘ সময় পার হলেও সীমান্তসংক্রান্ত জটিলতা ও বিএসএফের বাধার কারণে ক্ষতিগ্রস্ত অংশটি আর মেরামত করা হয়নি। ফলে প্রতিবছর বর্ষা মৌসুমে একই দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে তাদের।
(১৩জুলাই) সোমবার সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, ভাঙা অংশে স্থানীয় বাসিন্দারা বাঁশের সাঁকো নির্মাণ করেছেন। ঝুঁকি নিয়েই নারী, শিশু, প্রবীনসহ এলাকাবাসীদের ওই সাঁকো ব্যবহার করতে হচ্ছে।
স্থানীয় বাসিন্দারা বলেন, দীর্ঘদিন ধরে আমরা ভুক্তভোগী। ২০২৪ সালের বন্যায় আমাদের একমাত্র যাতায়াতের সড়কটি ভেঙে যায়। এরপর থেকে আজ পর্যন্ত সেটি আর সংস্কার হয়নি। এবারও বন্যার পানিতে ঘরবাড়ি, ফসল ও সম্পদের ব্যাপক ক্ষতি হয়েছে। অসুস্থ রোগীদের হাসপাতালে নেওয়াও অত্যন্ত কষ্টসাধ্য হয়ে পড়েছে। আমরা সরকারের কাছে দ্রুত বাঁধ নির্মাণের জোর দাবি জানাচ্ছি।
বৃহস্পতিবার (৯ জুলাই) বন্যাকবলিত এলাকা পরিদর্শন করেন কুলাউড়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা সানজিদা আক্তার। এ সময় তিনি জানান, সরকারের পক্ষ থেকে বন্যাদুর্গত এলাকায় ত্রাণ বিতরণ কার্যক্রম চলমান রয়েছে। পাশাপাশি ক্ষতিগ্রস্ত সড়কের বাঁধ দ্রুত পুনর্নির্মাণের বিষয়ে প্রয়োজনীয় উদ্যোগ নেওয়ার আশ্বাস দেন তিনি।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
পুরান ঢাকার ধোলাইখালে সড়কের একটি অংশ ধসে পড়েছে। রোববার (১২ জুলাই) বিকেল থেকে শুরু করে সোমবার (১৩ জুলাই) দুপুরের মধ্যে নারিন্দা মোড়–সংলগ্ন রায়সাহেব বাজার থেকে মুরগিটোলামুখী সড়কের আইল্যান্ডঘেঁষা অংশটি ধসে পড়ে। বর্তমানে সড়কের এক পাশ দিয়ে যানবাহন চলাচল করায় এলাকায় যানজট সৃষ্টি হচ্ছে।
স্থানীয়দের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, রোববার বিকেলে টানা বৃষ্টির সময় রাস্তার মাঝখানে একটি গর্তের সৃষ্টি হয়। পরে স্থানীয়রা বিষয়টি পুলিশকে জানান। পুলিশ ঘটনাস্থলে এসে যান চলাচল নিয়ন্ত্রণ করে, এবং দেবে যাওয়া অংশটি ঘিরে নিরাপত্তা-ব্যবস্থা গ্রহণ করে। এক পর্যায়ে আইল্যান্ডঘেঁষা অংশটি ধসে পড়ে।
ঘটনার পর, সোমবার ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের (ডিএসসিসি) প্রকৌশল বিভাগের কর্মকর্তারা ঘটনাস্থলে পরিদর্শন করেন এবং মেরামতকাজ শুরু করেন।
সংস্কারকাজের দায়িত্বে থাকা ডিএসসিসির সাব-অ্যাসিস্ট্যান্ট ইঞ্জিনিয়ার মো. তারেক হোসেন জানালেন, সড়কের নিচের ভূমি সরে যাওয়ার কারণে ধসের সৃষ্টি হয়েছে। প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে, ওয়াসার ২০ থেকে ৩০ বছর পুরোনো পানির পাইপে দীর্ঘদিনের লিকেজের কারণে মাটি ক্ষয় হয়ে নিচে ফাঁপা জায়গা তৈরি হয়েছিল। সেটিই ধসের কারণ হয়েছে।
তিনি আরও জানান, মূল মেরামত কার্যক্রম শেষ করতে দুই থেকে তিনদিন প্রয়োজন হবে। তবে কংক্রিটের কিউরিংসহ পুরো কাজ সম্পন্ন করতে প্রায় ১০ দিন লাগতে পারে। জনদুর্ভোগ কমানোর জন্য পুরো সড়ক বন্ধ রাখা হবে না। একপাশ দিয়ে যান চলাচল সচল রেখে অন্যপাশে মেরামতের কাজ চালানো হবে।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
এক ব্যক্তিকে সৌদি আরবে পাঠিয়ে শারীরিক ও মানসিক নির্যাতনের ঘটনায় মানব পাচার প্রতিরোধ ও দমন আইনের পৃথক ধারায় তিন ভাইকে ১৯ বছর এবং তাদের বোনকে ১৭ বছরের কারাদণ্ড দিয়েছেন আদালত। পাশাপাশি চার আসামিকে ৬ লাখ টাকা করে অর্থদণ্ড দেওয়া হয়েছে এবং অনাদায়ে আরও ১১ মাসের কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে।
সোমবার বরিশালের মানব পাচার অপরাধ দমন ট্রাইব্যুনালের বিচারক মো. সোহেল আহমেদ এ রায় ঘোষণা করেন। রায় ঘোষণার সময় সৌদি প্রবাসী তিন ভাই আদালতে পলাতক ছিলেন। তবে দণ্ডপ্রাপ্ত বোন রেশমা বেগম আদালতে উপস্থিত ছিলেন।
দণ্ডপ্রাপ্তদের মধ্যে রয়েছেন বরিশাল সদর উপজেলার শায়েস্তাবাদ ইউনিয়নের দক্ষিণ পানবাড়িয়া গ্রামের সৌদি প্রবাসী রাশেদ হাওলাদার, রাসেল হাওলাদার, টিপু হাওলাদার এবং তাঁদের বোন রেশমা বেগম।
আদালত সূত্রে জানা যায়, মামলার বাদী আহিদা খাতুনের স্বামী শহিদুল ইসলাম পেশায় একজন স্যানিটারি মিস্ত্রি ছিলেন। আসামিরা তাঁকে সৌদি আরবে ভালো বেতনের চাকরির প্রলোভন দেখিয়ে ৫ লাখ টাকায় পাঠানোর প্রস্তাব দেন। পরে শহিদুল ইসলাম ৪ লাখ ৬৭ হাজার টাকা পরিশোধের পর ২০২২ সালের ২৮ ফেব্রুয়ারি তাঁকে সৌদি আরবে পাঠানো হয়।
অভিযোগে উল্লেখ করা হয়, সৌদি আরবে নেওয়ার পর তাঁকে একটি কক্ষে আটকে রেখে আরও ২ লাখ টাকা দাবি করা হয়। অতিরিক্ত টাকা দিতে ব্যর্থ হওয়ায় তাঁকে শারীরিক ও মানসিক নির্যাতনের শিকার হতে হয়। পরে তাঁকে দেশে ফেরত পাঠানো হয়।
এ ঘটনায় আহিদা খাতুন চারজনকে আসামি করে আদালতে মামলা দায়ের করেন। আদালতের নির্দেশে কাউনিয়া থানা-পুলিশ তদন্ত শেষে চার ভাই-বোনের বিরুদ্ধে অভিযোগপত্র দাখিল করে।
মামলাটির সাতজন সাক্ষীর সাক্ষ্যগ্রহণ শেষে আদালত অভিযোগ প্রমাণিত হওয়ার ভিত্তিতে রায় প্রদান করেন। আদালত অর্থদণ্ডের টাকা ভুক্তভোগীকে দেওয়ার জন্য নির্দেশনা দিয়েছে।
রায় ঘোষণার পর দণ্ডপ্রাপ্ত রেশমা বেগমকে কারাগারে পাঠানো হয়েছে। একই সঙ্গে আদালত পলাতক তিন ভাইয়ের বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করেছেন।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ