সোমবার, ২৬শে অক্টোবর, ২০২৬ ইং
১২:০১ পি.এম
নোয়াখালীর বেগমগঞ্জে নিষিদ্ধ ছাত্রলীগের ঝটিকা মিছিল থেকে আট নেতাকর্মীকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। এ সময় মিছিলে ব্যবহৃত ব্যানার ও লাঠি জব্দ করা হয়।
সোমবার (২৬ অক্টোবর) দুপুরে বিষয়টি নিশ্চিত করেন বেগমগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. শামসুজ্জামান। এর আগে, গত শুক্রবার (২৩ অক্টোবর) দুপুরে উপজেলার একলাশপুর বাজার এলাকা থেকে তাদের গ্রেপ্তার করা হয়।
গ্রেপ্তারকৃতরা হলেন, মো. রাসেল (২৫), রাকিব (১৯), আব্দুল আলিম (১৯), মো. কামরুল ইসলাম (১৯), মো. জিহান (১৮), নিশান (১৮), মো. সিয়াম (১৮) ও জিসান (১৮)।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, শুক্রবার দুপুর সোয়া ১২টার দিকে নিষিদ্ধ ছাত্রলীগের নেতাকর্মীরা একলাশপুর ইউনিয়নের টার্ফের পাশের সড়ক দিয়ে ঝটিকা মিছিল বের করেন। পরে তারা মহাসড়কে ওঠেন। মিছিল থেকে ‘শেখ হাসিনা আসবে, বাংলাদেশ হাসবে’সহ বিভিন্ন স্লোগান দেওয়া হয়। এ সময় গোপন সংবাদের ভিত্তিতে অভিযান চালিয়ে মিছিল থেকে আটজনকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ। এ ঘটনায় তাদের বিরুদ্ধে সন্ত্রাসবিরোধী আইনে মামলা করা হয়েছে। পরে রোববার (২৫ অক্টোবর) নিষিদ্ধ ছাত্রলীগের পলাতক নেতাকর্মীরা ফেসবুকে মিছিলের ১ মিনিট ১৮ সেকেন্ডের একটি ভিডিও ছড়ান।
বেগমগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. শামসুজ্জামান বলেন, মিছিলে ব্যবহৃত ব্যানার ও লাঠি জব্দ করা হয়েছে। এ ঘটনায় আটজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। অন্যদের গ্রেপ্তারে অভিযান অব্যাহত রয়েছে।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
ইসরাইলের নির্বাচনের মাত্র দুই দিন আগে, প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) ব্যবহার করে তেল আবিবে পরমাণু বিস্ফোরণের একটি ছবি পোস্ট করেছেন। তিনি একই সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের মেয়াদের বাকি দুই বছরকে ইরানের কাছ থেকে ‘অস্তিত্বের জন্য হুমকি’ মোকাবিলার কাজে লাগানোর আহ্বান জানিয়েছেন।
নেতানিয়াহুর পোস্ট করা ছবিতে দেখা যাচ্ছে, ঘনবসতিপূর্ণ একটি শহরের ওপর বিশাল মাশরুম আকৃতির ধোঁয়ার মেঘ। বিস্ফোরণে শহরের বেশ কয়েকটি ভবনও ক্ষতিগ্রস্ত হতে দেখা যায়। ছবিটির সঙ্গে তিনি ইসরাইলি লেখক ও রাজনৈতিক ভাষ্যকার ইউভাল ব্লুমবার্গের একটি বক্তব্যও শেয়ার করেছেন।
নেতানিয়াহু পোস্টে উল্লেখ করেন, ইসরাইল বর্তমানে একটি বাস্তব ও স্পষ্ট অস্তিত্বগত বিপদের সম্মুখীন। তিনি বলেন, "ইরান পারমাণবিক অস্ত্র অর্জন করলে সবকিছু বদলে যাবে। ইরান ও শিয়া অক্ষের কাছ থেকে আসা হুমকির তুলনায় অন্য সব বিষয়ই তুচ্ছ।"
তিনি আরও বলেন, মাঝে মাঝে যেসব সাজানো ও বানোয়াট বিতর্ক তৈরি হয়, সেগুলো ইরানের বিরুদ্ধে অভিযান সম্পন্ন করার মূল লক্ষ্য থেকে মানুষের দৃষ্টি সরিয়ে দেওয়ার চেষ্টা। এই বিষয়টি ইসরাইলের প্রতিটি মানুষের অস্তিত্বের সঙ্গে জড়িত।
নেতানিয়াহু লেখেন, "ইরানে প্রয়োজনীয় কাজ শেষ করার জন্য ট্রাম্পের হাতে আরও দুই বছর সময় রয়েছে। এরপর কে ক্ষমতায় আসবেন, তা নিশ্চিত নয়। কমলা হ্যারিস কিংবা অন্য কোনো ‘মাঝারি মানের’ ব্যক্তি ক্ষমতায় আসতে পারেন। আগামী বছরগুলোতে ইসরাইলের অস্তিত্ব নিশ্চিত করতে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়ার এটাই সুযোগ।" তিনি রাষ্ট্রের সব প্রয়োজনীয় সম্পদ বিনিয়োগের আহ্বানও জানান।
তবে নেতানিয়াহুর এই পোস্টের তীব্র সমালোচনা করেছেন তার রাজনৈতিক প্রতিপক্ষরা। ডেমোক্র্যাটস পার্টির চেয়ারম্যান ইয়ার গোলান অভিযোগ করেন, নির্বাচনের দিন যত এগিয়ে আসছে, নেতানিয়াহু ততই নিয়ন্ত্রণ হারাচ্ছেন।
গোলান বলেন, "ইসরাইলের প্রধানমন্ত্রী তেল আবিবের ওপর পারমাণবিক বোমার ছবি প্রকাশ করেছেন। তাকে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম থেকে দূরে রাখা উচিত। নেতানিয়াহু ও তার আশপাশের লোকজন নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে ফেলেছেন।"
ইয়াশার পার্টির চেয়ারম্যান গাদি আইজেনকোটও নেতানিয়াহুর সমালোচনা করেন। তিনি বলেন, "নেতানিয়াহু আবারও ভয় ছড়ানোর ভিডিও প্রকাশ করেছেন। প্রতিটি নির্বাচনি প্রচারের মতো এবারও তিনি মিথ্যা ও আতঙ্ক ছড়ানোর একই কৌশল নিয়েছেন।"
আগামী মঙ্গলবার ইসরাইলে নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে। দেশটিতে জাতীয় পর্যায়ে প্রাপ্ত ভোটের অনুপাতে সংসদে আসন বণ্টন করা হয়। ১২০ আসনের সংসদে সংখ্যাগরিষ্ঠতা পেতে কোনো দল বা জোটকে অন্তত ৬১টি আসন নিশ্চিত করতে হবে।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
যদি কোনো শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে কোনো ছাত্র বা ছাত্রী শারীরিক বা যৌন নির্যাতনের শিকার হন, তাহলে অভিযোগ আসার সঙ্গে সঙ্গে তার সুষ্ঠু তদন্ত হওয়া আবশ্যক। যদি ঘটনা সত্য প্রমাণিত হয় এবং অভিযুক্ত ব্যক্তি দোষী হন, তাহলে তার জন্য কঠোর শাস্তির ব্যবস্থা করা উচিত। অভিযোগের তদন্ত কিভাবে হবে এবং কে করবে, সেই বিষয়ে সুস্পষ্ট নিয়ম থাকা প্রয়োজন।
বাংলাদেশি গবেষক ও শিক্ষাবিদ ড. মির্জা গালিব সোমবার তার ভেরিফায়েড ফেসবুক অ্যাকাউন্টে এই বিষয়গুলো তুলে ধরেন। বর্তমানে তিনি যুক্তরাষ্ট্রের হাওয়ার্ড ইউনিভার্সিটির রসায়ন বিভাগের সহকারী অধ্যাপক হিসেবে কর্মরত আছেন।
তিনি তার স্ট্যাটাসে উল্লেখ করেন, ‘এই কথা স্কুল, কলেজ, বিশ্ববিদ্যালয়, মাদ্রাসা—সকল শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের জন্যই সমভাবে প্রযোজ্য। তবে, মাদ্রাসা দ্বীনি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান হওয়ায়, মাদ্রাসার ক্ষেত্রে এই ধরনের অভিযোগ আসলে ইসলামপন্থি সকল মানুষের দায়দায়িত্ব অন্যদের তুলনায় বেড়ে যায়। ইসলাম শুধু মুসলমানদের মুক্তির জন্য নয়, বরং সমগ্র মানবতার মুক্তির জন্য এসেছে। ইসলামী রাজনীতির ধারণা সেকুলার সিস্টেমের শোষণ নিপীড়নের বিপরীতে ইসলামী সিস্টেম মানুষের মুক্তির পথকে সুগম করতে পারে—এই ভিত্তির উপর দাঁড়িয়ে আছে। আর যদি ইসলামী শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে একজন শিক্ষার্থী নির্যাতনের শিকার হন এবং এরপর ন্যায়বিচার না পান, তাহলে এর চাইতে দুঃখজনক কিছু হতে পারে না।
যেকোনো নির্দিষ্ট অভিযোগ সত্য না মিথ্যা, সেই আলোচনায় না গিয়েও বলা যায় যে, বাংলাদেশের মাদ্রাসা শিক্ষাব্যবস্থায় এই ধরনের অভিযোগের তদন্ত এবং বিচারের জন্য একটি কার্যকর সিস্টেম নেই। অথচ বাংলাদেশের মাদ্রাসা শিক্ষাব্যবস্থায় অনেক বড় বড় আলেম আছেন এবং দেশে অনেক ইসলামি রাজনৈতিক দল রয়েছে। তাই, যদি আপনারা সবাই মিলে ইসলাম শেখার শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে ছাত্রছাত্রীদের জন্য নিরাপদ পরিবেশ নিশ্চিত করতে না পারেন, তাহলে মানুষ কেন বিশ্বাস করবে যে আপনারা যে ধর্ম প্রচার করেন এবং যে রাজনীতি করেন, তা মানুষের মুক্তির জন্য কার্যকর হবে?
ইউসুফ (আ.)কে মিশরের রাজা জেলখানা থেকে বের করে এনে ক্ষমতা দিয়েছিলেন, কারণ তিনি রাজার স্বপ্ন ব্যাখ্যা করে বলেছিলেন যে, সাত বছর পরে মিশরে দুর্ভিক্ষ হবে। এবং সেই দুর্ভিক্ষের সময় খাদ্য মন্ত্রণালয়ের অধীনে যাবতীয় ব্যবস্থা কিভাবে করতে হবে, তার বিস্তারিত গাইডলাইনও তিনি দিয়েছিলেন।
দুনিয়াতে ফিতনা ফ্যাসাদ তৈরি না করে মানুষের সমাজে কিভাবে ইনসাফ কায়েম হবে এবং কিভাবে মানুষের বাস্তব সমস্যার সমাধান হবে—সেই বিষয়গুলো দেখানোই নেতৃত্বের মূল কাজ। ঘরের সমস্যা সমাধান না করতে পারলে, সমাজ ও রাষ্ট্রের সমস্যা সমাধান কিভাবে হবে?
ইসলামপন্থি সকল রাজনৈতিক দল এবং দেশের সম্মানিত আলেমগণ—আপনারা মাদ্রাসার শিক্ষার পরিবেশ এবং শিক্ষার্থী নির্যাতনের অভিযোগ নিয়ে এখনই সিরিয়াস হন। এখন আর দেশ আওয়ামী লীগ চালায় না, আপনাদেরকে কেউ মার্জিনালাইজড করে রাখে না। সমস্যাকে উপেক্ষা করবেন না, অস্বীকার করবেন না, বরং সমস্যাকে স্বীকার করুন, কারণ আইডেন্টিফাই করুন, সমাধান করুন এবং সিস্টেম ডেভেলপমেন্ট করুন। নিজেদের সততা এবং সক্ষমতা জাতিকে দেখান।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
ইয়েমেনের হুতি বিদ্রোহীরা দাবি করেছে যে, সউদী আরবের রাজধানী রিয়াদের কিং খালেদ আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালানো হয়েছে। একইসঙ্গে, পূর্ব ও পশ্চিমাঞ্চলে অপরিশোধিত তেল পরিবহনের পাইপলাইনের পাম্পিং স্টেশনগুলোকে লক্ষ্য করে ড্রোন হামলার কথাও জানিয়েছে গোষ্ঠীটি। তবে সউদী কর্তৃপক্ষ হামলার ক্ষয়ক্ষতি বা এর প্রভাব সম্পর্কে তাৎক্ষণিকভাবে কোনো তথ্য নিশ্চিত করেনি।
সোমবার (২৬ অক্টোবর) সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে হুতিদের সামরিক মুখপাত্র ইয়াহিয়া সারি এসব দাবি করেছেন। তাঁর বক্তব্য অনুযায়ী, রিয়াদের বিমানবন্দর লক্ষ্য করে ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র নিক্ষেপ করা হয়েছে। এছাড়া, সউদী আরবের পূর্ব-পশ্চিম তেল পরিবহন পাইপলাইনের পাম্পিং স্টেশনগুলোতে ড্রোন হামলা চালানো হয়েছে।
এর আগে সউদী নেতৃত্বাধীন জোট জানিয়েছিল যে, রিয়াদ অভিমুখে হুতিদের ছোড়া একটি ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিহত ও ধ্বংস করা হয়েছে। জোটের মুখপাত্রের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, ইয়েমেনের রাজধানী সানায় ক্ষেপণাস্ত্র উৎক্ষেপণের দুটি স্থাপনাও ধ্বংস করা হয়েছে।
হুতিরা পূর্বে রিয়াদের কিং খালেদ আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর ছাড়াও সউদী আরবের দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের খামিস মুশাইত শহরে কিং খালেদ বিমানঘাঁটি এবং জাজানের একটি নৌঘাঁটিতে হামলার দাবি জানিয়েছিল। তবে বিমানবন্দর, তেল পরিবহনের অবকাঠামো ও সামরিক স্থাপনাগুলোতে সর্বশেষ হামলার দাবির পূর্ণাঙ্গ বিবরণ এবং ক্ষয়ক্ষতির তথ্য স্বাধীনভাবে যাচাই করা যায়নি।
হুতিরা দাবি করেছে যে, আগের ২৪ ঘণ্টায় সউদী নেতৃত্বাধীন জোট ইয়েমেনের বিভিন্ন এলাকায় ৫৬টি বিমান হামলা চালিয়েছে। তাদের ভাষ্য অনুযায়ী, হোদেইদা, লাহিজ, আমরান, সাদা, আল-জাওফ, তাইজ ও ইব প্রদেশে এসব হামলা চালানো হয়। তথ্যসূত্র: রয়টার্স, আল-জাজিরা
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
খুলনা শিপইয়ার্ড বাংলাদেশ নৌবাহিনীর জন্য ৩টি এলসিটি নির্মাণের কাজ সফলভাবে সম্পন্ন করেছে। সম্প্রতি, এ বহরের তৃতীয় ও শেষ নৌযানটির নির্মাণকাজ শেষ করে রূপসা নদীতে ভাসানোর আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করেন সহকারী নৌবাহিনী প্রধান (ম্যাটেরিয়াল) রিয়ার অ্যাডমিরাল মোহাম্মদ মাকসুদ আলম-বিএন। অনুষ্ঠানে খুলনা শিপইয়ার্ডের ব্যবস্থাপনা পরিচালক এবং নৌবাহিনী ও শিপইয়ার্ডের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাগণ উপস্থিত ছিলেন।
প্রায় ২৪৫ ফুট দৈর্ঘ্য ও ৪৫ ফুট প্রস্থের এই সমর নৌযানটি সেনাবাহিনী ও নৌবাহিনীর উভচর (এম্ফিবিয়াস) অভিযানে ৩শ’রও বেশি সামরিক সদস্য পরিবহনের পাশাপাশি ৬টি ট্যাংক, ১২টি সাঁজোয়া যান (এপিসি) অথবা ১৮টি সামরিক যান বহন করতে সক্ষম। নৌযানটি সেনা ও নৌবাহিনীর উভচর অভিযানে বিশেষ বাহিনী পরিবহনসহ উপকূলীয় দ্বীপাঞ্চলে ভারী সমর সরঞ্জাম স্থানান্তরেও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে বলে শিপইয়ার্ড কর্তৃপক্ষ আশা করছে।
কানাডার ডিজাইন হাউসের নকশায় এএইচ স্টিল মেটেরিয়ালে নির্মিত এই সমর নৌযানটিতে ৩,০০৪ অশ্বশক্তির আমেরিকার দুটি ক্যাটারপিলার মূল ইঞ্জিন সংযুক্ত করা হয়েছে। জানা গেছে, এই সমর নৌযানটি ১,৫০৫ টন পানি অপসারণ করে ঘণ্টায় প্রায় ২৮ কিলোমিটার গতিতে চলতে সক্ষম। অত্যাধুনিক এই সমর নৌযানটিতে ফ্রান্সের ৩৪০ কেভিএ ক্ষমতার দুটি জেনারেটরও স্থাপন করা হয়েছে।
এ সমর নৌযান ৩টি নির্মাণের জন্য সামরিক ক্রয় পরিদপ্তরের সঙ্গে খুলনা শিপইয়ার্ডে ২০২২ সালের ১ জুন চুক্তি স্বাক্ষর হয়। চুক্তির শর্ত অনুযায়ী চলতি বছরের ৩১ জুন নৌযান ৩টির নির্মাণ সম্পন্ন করার সম্ভাব্য তারিখ নির্ধারিত ছিল। খুলনা শিপইয়ার্ড নির্ধারিত সময়ের মধ্যে এসব সমর নৌযানের নির্মাণ সম্পন্ন করে ইতোমধ্যে ২টি এলপিসি সরবরাহের পর গত শনিবার তৃতীয় ও শেষটির লঞ্চিংয়ের মাধ্যমে নির্মাণকাজ সম্পন্ন করেছে।
নৌবাহিনীর নিয়ন্ত্রণাধীন খুলনা শিপইয়ার্ড ইতোমধ্যে যুদ্ধজাহাজসহ ৮ শতাধিক বিভিন্ন ধরনের নৌযান নির্মাণ করেছে এবং ড্রেজারসহ প্রায় ৩ হাজার নৌযানের মেরামত কাজ সফলভাবে সম্পন্ন করেছে। দেশের মাটিতে প্রথম যুদ্ধজাহাজ হিসেবে ৫টি প্যাট্রোল ক্রাফট এবং ২টি লার্জ প্যাট্রোল ক্রাফট নির্মাণের পাশাপাশি চীনা কারিগরি ও পরামর্শক প্রতিষ্ঠান ‘সিএসওসি’র সহযোগিতায় আরও ৫টি প্যাট্রোল ক্রাফট নির্মাণ করেছে খুলনা শিপইয়ার্ড। বর্তমানে ইয়ার্ডটিতে বিআইডব্লিউটিএ’র জন্য ৪টি ড্রেজার নির্মাণকাজও শেষ পর্যায়ে রয়েছে। অতীতের ধারাবাহিকতায় প্রতিষ্ঠানটি মোংলা, পায়রা ও চট্টগ্রাম সমুদ্রবন্দরের জন্য একাধিক নৌযানের নির্মাণ কাজ অব্যাহত রেখেছে।
১৯৯৯ সালের অক্টোবরে বাংলাদেশ নৌবাহিনী খুলনা শিপইয়ার্ডের দায়িত্ব গ্রহণের পর, প্রায় ১৮০ কোটি টাকার দায়দেনা ও লোকসানের বোঝা নিয়ে প্রতিষ্ঠানটি সততা ও দক্ষতার কারণে কখনো লোকসানের মুখে পড়েনি। এমনকি করোনাকালীন দুর্যোগের সময়ও প্রতিষ্ঠানটি মুনাফা অর্জন করেছে। খুলনা অঞ্চলের শ্রেষ্ঠ করদাতার সম্মানও প্রতিষ্ঠানটি একাধিকবার অর্জন করেছে।
১৯৫৭ সালে তৎকালীন পশ্চিম জার্মানির সহায়তায় পূর্ব পাকিস্তান শিল্প উন্নয়ন করপোরেশন-এর মালিকানায় খুলনা শিপইয়ার্ডের যাত্রা শুরু হয়। প্রাথমিকভাবে জার্মান ও যুক্তরাজ্যের যৌথ ব্যবস্থাপনায় প্রতিষ্ঠানটির কার্যক্রম পরিচালিত হলেও স্বাধীনতার পর বিএসইসির ব্যবস্থাপনায় কিছু সময় লাভজনকভাবে পরিচালিত হয়। পরবর্তীতে অব্যাহত লোকসানে শিপইয়ার্ডটি বন্ধ ঘোষণা করে বিরাষ্ট্রীয়করণের সিদ্ধান্ত নেয় সরকার। কয়েকবার বিক্রির চেষ্টা করেও তা সম্ভব হয়নি। ১৯৯৯ সালে সরকার প্রতিষ্ঠানটি নৌবাহিনীর কাছে হস্তান্তরের সিদ্ধান্ত গ্রহণ করে।
চীনা কারিগরি সহায়তায় খুলনা শিপইয়ার্ডে ইতোমধ্যে একটি অত্যাধুনিক রাবার ফ্যাক্টরি গড়ে তোলা হয়েছে। এই ফ্যাক্টরির মাধ্যমে রাবার আইটেম তৈরির জন্য নিজস্ব ডিজাইন হাউস, মোল্ড ফেব্রিকেশনের জন্য অত্যাধুনিক সিএনসি মেশিন, প্রোডাকশনের জন্য রোলিং, নিডার এক্সট্রুডার মেশিন, ফেব্রিক্সযুক্ত রাবার শিট প্রস্তুতের জন্য ক্যালেন্ডার মেশিন, মেটালযুক্ত রাবার আইটেম প্রসেসিংয়ের জন্য ব্লাস্টিং মেশিন, ভালকানাইজিংয়ের জন্য উচ্চ ক্ষমতাসম্পন্ন হাইড্রোলিক প্রেসসহ সব ধরনের যন্ত্রপাতি সংযোজন করা হয়েছে। এছাড়া সেমি ফিনিশড রাবার প্রোডাক্ট ও ফিনিশড প্রোডাক্টসমূহের সর্বোচ্চ গুণগত মান নিশ্চিতকরণে বিভিন্ন ধরনের টেস্ট ইকুইপমেন্টসহ পূর্ণাঙ্গ একটি ‘রাবার টেস্ট ল্যাব’ও স্থাপন করা হয়েছে। ফলে এ ফ্যাক্টরিটি ইতোমধ্যে বিশ্বমানের একটি মেরিন রাবার উৎপাদন প্রতিষ্ঠানে পরিণত হয়েছে। প্রতিষ্ঠানটি ইতোমধ্যে মোংলা বন্দরের জেটির জন্য সফলতার সাথে ‘রাবার ফেন্ডার’ উৎপাদন ও সংযোজন করেছে।
খুলনা শিপইয়ার্ড দেড় হাজার কোটি টাকারও বেশি সম্পূর্ণ দেশীয় তহবিলে শরীয়তপুরের নড়িয়া ও বরিশালের কীর্তনখোলা নদীর ভাঙন রোধে পানি উন্নয়ন বোর্ডের দুটি প্রকল্প সফলতার সাথে বাস্তবায়ন করেছে। পাশাপাশি সমাজসেবা অধিদপ্তরের জন্যও শিশু পরিবারের নির্মাণকাজ সম্পন্ন করছে প্রতিষ্ঠানটি। রাজবাড়ীতে পদ্মা নদীর ভাঙন রোধ এবং কুষ্টিয়ার গড়াই নদী খনন কাজও সফলতার সাথে সম্পন্ন করেছে খুলনা শিপইয়ার্ড।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ