সোমবার, ২৬শে অক্টোবর, ২০২৬ ইং
১২:০৭ পি.এম
খুলনা শিপইয়ার্ড বাংলাদেশ নৌবাহিনীর জন্য ৩টি এলসিটি নির্মাণের কাজ সফলভাবে সম্পন্ন করেছে। সম্প্রতি, এ বহরের তৃতীয় ও শেষ নৌযানটির নির্মাণকাজ শেষ করে রূপসা নদীতে ভাসানোর আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করেন সহকারী নৌবাহিনী প্রধান (ম্যাটেরিয়াল) রিয়ার অ্যাডমিরাল মোহাম্মদ মাকসুদ আলম-বিএন। অনুষ্ঠানে খুলনা শিপইয়ার্ডের ব্যবস্থাপনা পরিচালক এবং নৌবাহিনী ও শিপইয়ার্ডের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাগণ উপস্থিত ছিলেন।
প্রায় ২৪৫ ফুট দৈর্ঘ্য ও ৪৫ ফুট প্রস্থের এই সমর নৌযানটি সেনাবাহিনী ও নৌবাহিনীর উভচর (এম্ফিবিয়াস) অভিযানে ৩শ’রও বেশি সামরিক সদস্য পরিবহনের পাশাপাশি ৬টি ট্যাংক, ১২টি সাঁজোয়া যান (এপিসি) অথবা ১৮টি সামরিক যান বহন করতে সক্ষম। নৌযানটি সেনা ও নৌবাহিনীর উভচর অভিযানে বিশেষ বাহিনী পরিবহনসহ উপকূলীয় দ্বীপাঞ্চলে ভারী সমর সরঞ্জাম স্থানান্তরেও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে বলে শিপইয়ার্ড কর্তৃপক্ষ আশা করছে।
কানাডার ডিজাইন হাউসের নকশায় এএইচ স্টিল মেটেরিয়ালে নির্মিত এই সমর নৌযানটিতে ৩,০০৪ অশ্বশক্তির আমেরিকার দুটি ক্যাটারপিলার মূল ইঞ্জিন সংযুক্ত করা হয়েছে। জানা গেছে, এই সমর নৌযানটি ১,৫০৫ টন পানি অপসারণ করে ঘণ্টায় প্রায় ২৮ কিলোমিটার গতিতে চলতে সক্ষম। অত্যাধুনিক এই সমর নৌযানটিতে ফ্রান্সের ৩৪০ কেভিএ ক্ষমতার দুটি জেনারেটরও স্থাপন করা হয়েছে।
এ সমর নৌযান ৩টি নির্মাণের জন্য সামরিক ক্রয় পরিদপ্তরের সঙ্গে খুলনা শিপইয়ার্ডে ২০২২ সালের ১ জুন চুক্তি স্বাক্ষর হয়। চুক্তির শর্ত অনুযায়ী চলতি বছরের ৩১ জুন নৌযান ৩টির নির্মাণ সম্পন্ন করার সম্ভাব্য তারিখ নির্ধারিত ছিল। খুলনা শিপইয়ার্ড নির্ধারিত সময়ের মধ্যে এসব সমর নৌযানের নির্মাণ সম্পন্ন করে ইতোমধ্যে ২টি এলপিসি সরবরাহের পর গত শনিবার তৃতীয় ও শেষটির লঞ্চিংয়ের মাধ্যমে নির্মাণকাজ সম্পন্ন করেছে।
নৌবাহিনীর নিয়ন্ত্রণাধীন খুলনা শিপইয়ার্ড ইতোমধ্যে যুদ্ধজাহাজসহ ৮ শতাধিক বিভিন্ন ধরনের নৌযান নির্মাণ করেছে এবং ড্রেজারসহ প্রায় ৩ হাজার নৌযানের মেরামত কাজ সফলভাবে সম্পন্ন করেছে। দেশের মাটিতে প্রথম যুদ্ধজাহাজ হিসেবে ৫টি প্যাট্রোল ক্রাফট এবং ২টি লার্জ প্যাট্রোল ক্রাফট নির্মাণের পাশাপাশি চীনা কারিগরি ও পরামর্শক প্রতিষ্ঠান ‘সিএসওসি’র সহযোগিতায় আরও ৫টি প্যাট্রোল ক্রাফট নির্মাণ করেছে খুলনা শিপইয়ার্ড। বর্তমানে ইয়ার্ডটিতে বিআইডব্লিউটিএ’র জন্য ৪টি ড্রেজার নির্মাণকাজও শেষ পর্যায়ে রয়েছে। অতীতের ধারাবাহিকতায় প্রতিষ্ঠানটি মোংলা, পায়রা ও চট্টগ্রাম সমুদ্রবন্দরের জন্য একাধিক নৌযানের নির্মাণ কাজ অব্যাহত রেখেছে।
১৯৯৯ সালের অক্টোবরে বাংলাদেশ নৌবাহিনী খুলনা শিপইয়ার্ডের দায়িত্ব গ্রহণের পর, প্রায় ১৮০ কোটি টাকার দায়দেনা ও লোকসানের বোঝা নিয়ে প্রতিষ্ঠানটি সততা ও দক্ষতার কারণে কখনো লোকসানের মুখে পড়েনি। এমনকি করোনাকালীন দুর্যোগের সময়ও প্রতিষ্ঠানটি মুনাফা অর্জন করেছে। খুলনা অঞ্চলের শ্রেষ্ঠ করদাতার সম্মানও প্রতিষ্ঠানটি একাধিকবার অর্জন করেছে।
১৯৫৭ সালে তৎকালীন পশ্চিম জার্মানির সহায়তায় পূর্ব পাকিস্তান শিল্প উন্নয়ন করপোরেশন-এর মালিকানায় খুলনা শিপইয়ার্ডের যাত্রা শুরু হয়। প্রাথমিকভাবে জার্মান ও যুক্তরাজ্যের যৌথ ব্যবস্থাপনায় প্রতিষ্ঠানটির কার্যক্রম পরিচালিত হলেও স্বাধীনতার পর বিএসইসির ব্যবস্থাপনায় কিছু সময় লাভজনকভাবে পরিচালিত হয়। পরবর্তীতে অব্যাহত লোকসানে শিপইয়ার্ডটি বন্ধ ঘোষণা করে বিরাষ্ট্রীয়করণের সিদ্ধান্ত নেয় সরকার। কয়েকবার বিক্রির চেষ্টা করেও তা সম্ভব হয়নি। ১৯৯৯ সালে সরকার প্রতিষ্ঠানটি নৌবাহিনীর কাছে হস্তান্তরের সিদ্ধান্ত গ্রহণ করে।
চীনা কারিগরি সহায়তায় খুলনা শিপইয়ার্ডে ইতোমধ্যে একটি অত্যাধুনিক রাবার ফ্যাক্টরি গড়ে তোলা হয়েছে। এই ফ্যাক্টরির মাধ্যমে রাবার আইটেম তৈরির জন্য নিজস্ব ডিজাইন হাউস, মোল্ড ফেব্রিকেশনের জন্য অত্যাধুনিক সিএনসি মেশিন, প্রোডাকশনের জন্য রোলিং, নিডার এক্সট্রুডার মেশিন, ফেব্রিক্সযুক্ত রাবার শিট প্রস্তুতের জন্য ক্যালেন্ডার মেশিন, মেটালযুক্ত রাবার আইটেম প্রসেসিংয়ের জন্য ব্লাস্টিং মেশিন, ভালকানাইজিংয়ের জন্য উচ্চ ক্ষমতাসম্পন্ন হাইড্রোলিক প্রেসসহ সব ধরনের যন্ত্রপাতি সংযোজন করা হয়েছে। এছাড়া সেমি ফিনিশড রাবার প্রোডাক্ট ও ফিনিশড প্রোডাক্টসমূহের সর্বোচ্চ গুণগত মান নিশ্চিতকরণে বিভিন্ন ধরনের টেস্ট ইকুইপমেন্টসহ পূর্ণাঙ্গ একটি ‘রাবার টেস্ট ল্যাব’ও স্থাপন করা হয়েছে। ফলে এ ফ্যাক্টরিটি ইতোমধ্যে বিশ্বমানের একটি মেরিন রাবার উৎপাদন প্রতিষ্ঠানে পরিণত হয়েছে। প্রতিষ্ঠানটি ইতোমধ্যে মোংলা বন্দরের জেটির জন্য সফলতার সাথে ‘রাবার ফেন্ডার’ উৎপাদন ও সংযোজন করেছে।
খুলনা শিপইয়ার্ড দেড় হাজার কোটি টাকারও বেশি সম্পূর্ণ দেশীয় তহবিলে শরীয়তপুরের নড়িয়া ও বরিশালের কীর্তনখোলা নদীর ভাঙন রোধে পানি উন্নয়ন বোর্ডের দুটি প্রকল্প সফলতার সাথে বাস্তবায়ন করেছে। পাশাপাশি সমাজসেবা অধিদপ্তরের জন্যও শিশু পরিবারের নির্মাণকাজ সম্পন্ন করছে প্রতিষ্ঠানটি। রাজবাড়ীতে পদ্মা নদীর ভাঙন রোধ এবং কুষ্টিয়ার গড়াই নদী খনন কাজও সফলতার সাথে সম্পন্ন করেছে খুলনা শিপইয়ার্ড।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
গাজীপুরের কালিয়াকৈরে এক পোশাকশ্রমিকের মৃত্যু হয়েছে, যার নাম আছিয়া আক্তার (৩০)।
এটি ঘটেছে রোববার উপজেলার নিশ্চিন্তপুর এলাকায়।
আছিয়া আক্তার, যিনি কালিয়াকৈর উপজেলার নিশ্চিন্তপুর এলাকার আনোয়ার হোসেনের কন্যা, স্থানীয় ইকোটেক্স কারখানায় সেলাই অপারেটর হিসেবে কর্মরত ছিলেন।
পরিবার ও পুলিশ সূত্রে জানা যায়, রোববার মৌচাকের নিশ্চিন্তপুর এলাকায় সৈয়দ সুলতান শাহ নামক এক ব্যক্তির মাটির ঘরের টিন পাল্টানোর কাজ চলছিল। টিন পাল্টানোর সময় হঠাৎ করে ওই ঘরের এক পাশের মাটির দেয়াল পাশের বাড়ির রান্নাঘরের ওপর পড়ে যায়। এ সময় রান্নার কাজে ব্যস্ত ছিলেন আছিয়া আক্তার। দেয়ালের নিচে চাপা পড়ে তিনি গুরুতর আহত হন। পরে তাকে উদ্ধার করে গাজীপুরের শহীদ তাজউদ্দীন আহমদ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে গেলে চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।
মৌচাক পুলিশ ফাঁড়ির ইনচার্জ মো. আনিসুর রহমান জানান, খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছেছে। তবে পুলিশ পৌঁছানোর আগেই গুরুতর আহত অবস্থায় ওই নারীকে হাসপাতালে নিয়ে গেলে তিনি মারা যান। এ ঘটনায় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
এমই
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
ঠাকুরগাঁও-১ আসনের উপনির্বাচন সুষ্ঠু, অবাধ, নিরপেক্ষ ও শান্তিপূর্ণভাবে সম্পন্ন করার লক্ষ্যে নির্বাচনী এলাকায় ২১ প্লাটুন বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি) মোতায়েন করা হয়েছে। বিজিবি সদস্যরা গত ২৫ অক্টোবর থেকে নির্বাচনী এলাকায় দায়িত্ব পালন শুরু করেছেন।
ঠাকুরগাঁও ব্যাটালিয়ন (৫০ বিজিবি) সূত্রে জানা যায়, ঠাকুরগাঁও-১ আসনের অন্তর্ভুক্ত তিনটি উপজেলা, ২২টি ইউনিয়ন এবং একটি পৌরসভায় এই বিজিবি সদস্যদের মোতায়েন করা হয়েছে। তারা দায়িত্বপ্রাপ্ত এলাকায় মোবাইল ও স্ট্রাইকিং ফোর্স হিসেবে কাজ করবেন।
নির্বাচনী এলাকার নিরাপত্তা বাড়ানোর জন্য গোয়েন্দা তৎপরতা বৃদ্ধি করা হয়েছে। পাশাপাশি, বডি-ওর্ন ক্যামেরা ব্যবহার এবং ড্রোনের মাধ্যমে গুরুত্বপূর্ণ স্থানগুলো পর্যবেক্ষণ করার ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে, যা প্রেস ব্রিফিংয়ে জানানো হয়।
বিজিবির পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, ভোটাররা যেন নিরাপদ ও নির্বিঘ্ন পরিবেশে নিজেদের ভোটাধিকার প্রয়োগ করতে পারেন, সেটাই তাদের প্রধান লক্ষ্য। সকল প্রার্থী যেন সমান সুযোগ পান এবং নির্বাচনী আচরণবিধি যথাযথভাবে অনুসরণ হয়, সেই বিষয়েও নজর রাখা হচ্ছে। নির্বাচনের সময় যেকোনো বিশৃঙ্খলা, সহিংসতা কিংবা জননিরাপত্তার জন্য হুমকিস্বরূপ কর্মকাণ্ড প্রতিরোধে বিজিবি সতর্ক রয়েছে।
এছাড়া সীমান্ত এলাকায় নজরদারি ও টহল কার্যক্রমও জোরদার করা হয়েছে। চোরাচালান, অবৈধভাবে সীমান্ত অতিক্রম এবং নির্বাচনকে কেন্দ্র করে সম্ভাব্য অপরাধমূলক কর্মকাণ্ড প্রতিরোধে বাহিনীটি কাজ করছে।
প্রেস ব্রিফিংয়ে আরো জানানো হয়েছে, সংবিধান, প্রচলিত আইন ও নির্বাচন কমিশনের নির্দেশনা অনুসরণ করে বিজিবি সম্পূর্ণ নিরপেক্ষতা ও পেশাদারিত্বের সঙ্গে দায়িত্ব পালন করবে। শান্তিপূর্ণ নির্বাচন সম্পন্ন করতে স্থানীয় জনগণ, রাজনৈতিক দলের নেতা, প্রার্থী, প্রশাসন, অন্যান্য আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী ও গণমাধ্যমকর্মীদের সহযোগিতা কামনা করা হয়েছে।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
রাজধানীর গুলশানে অবস্থিত কিংফিশার রেস্টুরেন্টে অভিযান পরিচালনা করে জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের (এনবিআর) চারটি গোয়েন্দা সংস্থার সমন্বিত দল বিপুল পরিমাণ অ্যালকোহল ও অ্যালকোহলজাতীয় পানীয় জব্দ করেছে, যেগুলোর বৈধ কাগজপত্র ছিল না।
এনবিআরের নির্দেশনায় এবং কাস্টমস গোয়েন্দা ও তদন্ত অধিদপ্তরের (সিআইআইডি) তত্ত্বাবধানে গতকাল রবিবার (২৫ অক্টোবর) দিবাগত রাত সাড়ে ১২টায় গুলশানের রোড-৪৫-এ অবস্থিত কিংফিশার রেস্টুরেন্ট লিমিটেডে অভিযান শুরু হয়। এই কার্যক্রম প্রায় তিন ঘণ্টা ধরে চলেছিল। আজ সোমবার এক বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে এনবিআর এ তথ্য প্রকাশ করেছে।
সূত্র জানায়, অভিযানের মূল উদ্দেশ্য ছিল অবৈধ উৎস এবং চোরাচালানের মাধ্যমে সংগৃহীত অ্যালকোহল ও অ্যালকোহলজাতীয় পানীয়ের মজুত শনাক্ত করা। একই সঙ্গে, এসব পণ্য বিক্রির ক্ষেত্রে মূল্য সংযোজন কর (ভ্যাট) ফাঁকি দেওয়া হয়েছে কি না, বিক্রয়লব্ধ অর্থ আয়কর নথিতে সঠিকভাবে দেখানো হয়েছে কি না এবং সংশ্লিষ্ট লেনদেনে মানি লন্ডারিংয়ের কোনো সংশ্লিষ্টতা রয়েছে কি না, তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে।
অভিযানে এনবিআরের চারটি গোয়েন্দা সংস্থা অংশগ্রহণ করেছে, যার মধ্যে রয়েছে সেন্ট্রাল ইন্টেলিজেন্স সেল (সিআইসি), কাস্টমস গোয়েন্দা ও তদন্ত অধিদপ্তর (সিআইআইডি), আয়কর গোয়েন্দা ও তদন্ত ইউনিট (টিআইআইইউ) এবং মূল্য সংযোজন কর নিরীক্ষা, গোয়েন্দা ও তদন্ত অধিদপ্তর (ভিএআইআইডি)। অভিযানের পুরো সময় বিশেষ রেসপন্স ব্যাটালিয়ন (এসআরবি-১) সার্বিক সহযোগিতা প্রদান করেছে।
কাস্টমস আইন, ২০২৩, মূল্য সংযোজন কর ও সম্পূরক শুল্ক আইন, ২০১২ এবং আয়কর আইন, ২০২৩-এর সংশ্লিষ্ট ধারায় প্রদত্ত ক্ষমতাবলে অভিযানটি পরিচালিত হয়।
এনবিআরের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, অভিযানে আটক পণ্যের বিস্তারিত বিবরণ, প্রাথমিক অনুসন্ধানে পাওয়া তথ্য, সম্ভাব্য শুল্ক-কর ফাঁকির পরিমাণ এবং পরবর্তী আইনানুগ কার্যক্রম সম্পর্কে আয়োজিত প্রেস ব্রিফিংয়ে গণমাধ্যমকে বিস্তারিত জানানো হবে। তবে আটক অ্যালকোহলের পরিমাণ ও সম্ভাব্য শুল্ক-কর ফাঁকির আর্থিক হিসাব বিজ্ঞপ্তিতে উল্লেখ করা হয়নি।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
ময়মনসিংহের ভালুকায় ‘সাথী বিউটি পার্লার’-এর মালিক সাথী আক্তারকে আটক করেছে থানা পুলিশ। অভিযোগ করা হয়েছে যে, তিনি বিএনপি সরকারকে নিয়ে ‘কটূক্তি’ করেছেন। রবিবার (২৫ অক্টোবর) রাতে হবিরবাড়ী ইউনিয়নের স্কয়ার মাস্টারবাড়ী এলাকায় অবস্থিত সাথী বিউটি পার্লার থেকে তাকে আটক করে ভালুকা মডেল থানার পুলিশ।
স্থানীয় সূত্র ও থানার তথ্য অনুযায়ী, রবিবার দুপুরে সাথী আক্তার তার বিউটি পার্লারে বসে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি) সরকার এবং দলটির নেতাকর্মীদের বিরুদ্ধে বিভিন্ন ‘কুরুচিপূর্ণ’ মন্তব্য করেন। বিষয়টি স্থানীয় বিএনপির নেতাকর্মীদের দৃষ্টিগোচর হলে তাদের মধ্যে ক্ষোভের সঞ্চার ঘটে। পরে উত্তেজিত স্থানীয় রাজনৈতিক কর্মীরা স্কয়ার মাস্টারবাড়ী এলাকায় সাথী আক্তারের বিউটি পার্লারে গিয়ে তাকে জিজ্ঞাসাবাদ করেন।
এই পরিস্থিতিতে উত্তেজনা সৃষ্টি হয় এবং খবর পেয়ে ভালুকা মডেল থানার পুলিশ দ্রুত ঘটনাস্থলে উপস্থিত হয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। পুলিশ সাথী আক্তারকে আটক করে থানায় নিয়ে আসে।
ভালুকা মডেল থানার ওসি মো. জাহিদুল ইসলাম জানান, বিএনপিকে নিয়ে কটূক্তি করার অভিযোগে স্থানীয় জনতা এক নারী উদ্যোক্তাকে আটক করে পুলিশে সোপর্দ করেছে। আইনগত ব্যবস্থা প্রক্রিয়াধীন রয়েছে এবং এলাকার পরিস্থিতি বর্তমানে শান্ত আছে।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ