শুক্রবার, ২৫শে সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ইং
০৭:০৮ পি.এম
কুমিল্লার ব্রাহ্মণপাড়া থানার পুলিশ পৃথক বিশেষ অভিযানে ডাকাতির মামলায় সাজাপ্রাপ্ত আসামি সহ মোট ১১ জনকে গ্রেপ্তার করেছে। শুক্রবার (২৫ সেপ্টেম্বর) দিনভর উপজেলার বিভিন্ন স্থানে একাধিক অভিযান পরিচালনা করে তাঁদের আটক করা হয়।
গ্রেপ্তারকৃতদের মধ্যে রয়েছে সাজাপ্রাপ্ত আসামি, ওয়ারেন্টভুক্ত ডাকাতি মামলার আসামি, ডাকাতির প্রস্তুতি নেওয়া আসামি এবং সামারি ট্রায়ালের মাধ্যমে মাদকসেবী আসামিরা।
পুলিশের সূত্র অনুযায়ী, শুক্রবার ব্রাহ্মণপাড়া থানার উপপরিদর্শক (এসআই) মোঃ রফিকুল ইসলামের নেতৃত্বে একটি টিম অভিযান চালিয়ে পরোয়ানাভুক্ত সাজাপ্রাপ্ত আসামি মোঃ বাবুল হোসেন (২৯) কে গ্রেপ্তার করে। অন্য একটি অভিযানে সহকারী উপপরিদর্শক (এএসআই) রতন কুমার মল্লিক সিআর পরোয়ানাভুক্ত আসামি মোঃ আশরাফুল (২৮) কে আটক করেন।
এছাড়া, এএসআই মোঃ সাইফুল আলম সিদ্দিকী গঙ্গানগর এলাকা থেকে একই ব্যক্তির নামে দুটি জিআর পরোয়ানাভুক্ত আসামি মোঃ ফারুক আহম্মেদ ওরফে রকেল (৩৯) এবং এএসআই মোঃ নুর আল-আহসান অপর পরোয়ানাভুক্ত আসামি মোঃ ফরিদ (৬৫) কে গ্রেপ্তার করেন।
পৃথক একটি বিশেষ অভিযানে এসআই রূপম কুমার সরকার পেনাল কোডের ডাকাতি প্রস্তুতি মামলার (মামলা নং-১৮, তারিখ-২৪/০৪/২০২৬) তদন্তে পলাতক আসামি মোঃ বাবুল হোসেন (২৯) কে গ্রেপ্তার করতে সক্ষম হন। অন্যদিকে, এসআই মোহাম্মদ জালাল উদ্দিন একটি নিয়মিত মামলার (মামলা নং-৪১, তারিখ-২৫/০৯/২০২৬) এজাহারনামীয় আসামি মোঃ আবুল হোসেন (৪৫) কে গ্রেপ্তার করেন।
একই দিনে পরিচালিত অপর একটি অভিযানে এসআই মোঃ রফিকুল ইসলাম, এসআই মোঃ শামীম হোসেন, এসআই রূপম কুমার সরকার, এএসআই লিংকন কুমার নাথ ও এএসআই রতন কুমার মল্লিকের সমন্বয়ে গঠিত যৌথ টিম মাদক সেবনের অপরাধে ৫ জনকে আটক করে। আটককৃতরা হলেন— মোঃ জালাল (৫০), মোঃ ইসমাইল (২২), মোঃ মোশারফ হোসেন (২১), আল-আমিন (৩৮) এবং মোঃ মনির হোসেন (৩৮)। তাঁদের সামারি ট্রায়ালের জন্য আদালতে প্রেরণ করা হয়েছে।
ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে ব্রাহ্মণপাড়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোঃ ফারুক হোসেন জানান, গ্রেপ্তারকৃত আসামিদের আইনি প্রক্রিয়া শেষে বিজ্ঞ আদালতে প্রেরণ করা হয়েছে। আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখা এবং অপরাধ দমনে পুলিশের এ ধরনের বিশেষ অভিযান অব্যাহত থাকবে।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
পরিবারভিত্তিক অভিবাসনের মাধ্যমে যুক্তরাষ্ট্রে স্বজনদের আনতে এবং গ্রিন কার্ডের প্রক্রিয়া সম্পন্ন করার জন্য স্পনসরদের নতুন সর্বনিম্ন আয়সীমা ২০২৬ সালের জন্য ঘোষণা করেছে ইউএস সিটিজেনশিপ অ্যান্ড ইমিগ্রেশন সার্ভিসেস (ইউএসসিআইএস)। মূলত, ফর্ম আই-৮৬৪ বা ‘অ্যাফিডেভিট অব সাপোর্ট’-এর আওতায় ফেডারেল দারিদ্র্যসীমার অন্তত ১২৫ শতাংশ আয় প্রদর্শনের বাধ্যবাধকতা থেকে এই নতুন আয়সীমা নির্ধারণ করা হয়েছে।
যুক্তরাষ্ট্রের মূল ভূখণ্ডের ৪৮টি স্টেট, ওয়াশিংটন ডিসি, পুয়ের্তো রিকো, গুয়াম এবং নর্দার্ন মারিয়ানা আইল্যান্ডসের জন্য দুই সদস্যের পরিবারের ক্ষেত্রে স্পনসরের ন্যূনতম বার্ষিক আয় ২৭ হাজার ৫০ ডলার নির্ধারণ করা হয়েছে। একইভাবে, পরিবারের সদস্যসংখ্যা তিনজন হলে আয় হতে হবে ৩৪ হাজার ১৫০ ডলার, চারজন হলে ৪১ হাজার ২৫০ ডলার এবং পাঁচজনের পরিবারের জন্য ৪৮ হাজার ৩৫০ ডলার দেখাতে হবে।
এছাড়া, ৬, ৭ ও ৮ সদস্যের পরিবারের জন্য স্পনসরের বাৎসরিক আয় যথাক্রমে ৫৫ হাজার ৪৫০, ৬২ হাজার ৫৫০ এবং ৬৯ হাজার ৬৫০ ডলার নির্ধারণ করা হয়েছে। পরিবারের সদস্যসংখ্যা যদি আটজনের বেশি হয়, তাহলে প্রতি অতিরিক্ত সদস্যের জন্য ৭ হাজার ১০০ ডলার করে বাড়তি আয় যোগ করতে হবে।
হাওয়াই অঙ্গরাজ্যে অন্যান্য স্টেটের তুলনায় এই আয়সীমা কিছুটা বেশি রাখা হয়েছে। সেখানে দুই সদস্যের পরিবারের জন্য ন্যূনতম আয় ৩১ হাজার ১১৩ ডলার এবং আট সদস্যের পরিবারের জন্য ৮০ হাজার ৮৮ ডলার আয় দেখাতে হবে। এই অঞ্চলে আটজনের পর প্রতি অতিরিক্ত সদস্যের জন্য ৮ হাজার ১৬৩ ডলার করে যুক্ত হবে।
ইউএসসিআইএস আরও জানিয়েছে, সামরিক বাহিনীর সক্রিয় সদস্য যারা নিজেদের স্বামী বা স্ত্রী অথবা অপ্রাপ্তবয়স্ক সন্তানদের স্পনসর করবেন, তাদের জন্য সাধারণ ১২৫ শতাংশের বদলে ১০০ শতাংশ দারিদ্র্যসীমার আয় প্রযোজ্য হবে। তাছাড়া, মূল স্পনসরের প্রয়োজনীয় আয় না থাকলে নির্দিষ্ট নিয়মে জয়েন্ট স্পনসর যুক্ত করা কিংবা নিজস্ব সম্পদ দেখিয়েও গ্রিন কার্ডের আবেদন সম্পন্ন করার সুযোগ রাখা হয়েছে।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
সুনামগঞ্জে তিন কেজি গাঁজাসহ জান্নাতুল আক্তার (২৫) নামে এক তরুণীকে আটক করেছে পুলিশ। শুক্রবার (২৫ সেপ্টেম্বর) গোপন সংবাদের ভিত্তিতে শহরের পৌর কলেজের সামনে অভিযান চালিয়ে তাকে আটক করা হয়।
পুলিশ সূত্রে জানা যায়, পুলিশ সুপারের বিশেষ নির্দেশনায় এসআই জহিরের নেতৃত্বে অভিযানটি পরিচালনা করা হয়। এ সময় জান্নাতুল আক্তারের কাছ থেকে তিন কেজি গাঁজা উদ্ধার করা হয়।
আটক জান্নাতুল আক্তার নেত্রকোনার পূর্বধলা থানার সাধুপাড়া এলাকার বাসিন্দা। তিনি বিল্লাল হোসেনের মেয়ে এবং নাইম মিয়ার স্ত্রী।
পুলিশ জানিয়েছে, মাদকবিরোধী অভিযান অব্যাহত রয়েছে। আটক তরুণীর বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা প্রক্রিয়াধীন রয়েছে এবং আইনি প্রক্রিয়া শেষে তাকে আদালতে সোপর্দ করা হবে।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
ইয়েমেনের ইরান সমর্থিত হুথি বিদ্রোহীদের ধারাবাহিক ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলার প্রেক্ষিতে সউদী আরবকে সামরিক সহায়তা দিতে সরাসরি মাঠে নামার ইঙ্গিত দিচ্ছে পাকিস্তান ও তুরস্ক। মধ্যপ্রাচ্যে ক্রমবর্ধমান উত্তেজনার মধ্যে তিন দেশের মধ্যে স্বাক্ষরিত ‘মক্কা যৌথ প্রতিরক্ষা চুক্তি’ বাস্তবায়নের লক্ষ্যে রিয়াদে জরুরি বৈঠকে বসছেন সউদী, তুরস্ক ও পাকিস্তানের সেনাপ্রধানরা।
শুক্রবার তুরস্কের প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় নিশ্চিত করেছে যে, তাদের চিফ অফ জেনারেল স্টাফ জেনারেল সেলচুক বায়রাকতারোগলু রিয়াদ যাচ্ছেন। একইসঙ্গে পাকিস্তানের সেনাপ্রধান ফিল্ড মার্শাল অসীম মুনিরও শিগগিরই রিয়াদ পৌঁছাবেন বলে জানা গেছে।
সম্প্রতি সউদী আরবের রাজধানী রিয়াদ, ইয়ানবুতে অবস্থিত সউদী আরামকোর তেল শোধনাগার এবং তায়েফ শহর লক্ষ্য করে একযোগে বেশ কয়েকটি ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলা চালায় হুথিরা। এছাড়া মক্কা ও জেদ্দায় জরুরি সতর্কতা জারি করে সউদী কর্তৃপক্ষ। এর প্রেক্ষাপটে গত ৭ আগস্ট স্বাক্ষরিত যৌথ প্রতিরক্ষা চুক্তির আওতায় সহায়তা চেয়ে আঙ্কারা ও ইসলামাবাদের শরণাপন্ন হয় রিয়াদ। উক্ত চুক্তি অনুযায়ী—তিন দেশের যেকোনো একটির ওপর হামলাকে বাকি দুই দেশের ওপর হামলা হিসেবে গণ্য করা হবে।
জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের অধিবেশনের ফাঁকে তিনটি দেশের পররাষ্ট্রমন্ত্রীদের বৈঠকের পরেই সামরিক প্রধানদের এই জরুরি বৈঠকের ঘোষণা আসে। সউদী আরব জাতিসংঘ সনদের ৫১ নম্বর অনুচ্ছেদ অনুযায়ী নিজেদের আত্মরক্ষার অধিকারের কথা স্মরণ করিয়ে দিয়ে মিত্রদের কাছ থেকে সরাসরি পদক্ষেপ প্রত্যাশা করছে।
তবে প্রকাশ্যে কড়া বার্তা দিলেও হুথিদের সরাসরি হুমকি এবং নিজস্ব সামরিক বাস্তবতার কারণে সতর্ক পদক্ষেপ নিচ্ছে পাকিস্তান ও তুরস্ক। ইতিমধ্যে হুথিদের রাজনৈতিক ব্যুরোর সদস্য মোহাম্মদ আল-বুখাইতি সতর্ক করে বলেছেন, পাকিস্তান বা তুরস্ক যুদ্ধে অংশ নিলে তাদের "লোহার হাত" দিয়ে দমন করা হবে।
ইসলামাবাদের পলিসি স্টাডিজ ইনস্টিটিউটের বিশ্লেষকদের মতে, আফগানিস্তান সীমান্ত ও অভ্যন্তরীণ নিরাপত্তা সামলাতে গিয়ে পাকিস্তানের সেনাবাহিনী এমনিতেই বেশ ব্যস্ত। অন্যদিকে তুরস্কও নেটোর প্রতিশ্রুতি এবং সিরিয়া সীমান্ত সুরক্ষায় ব্যস্ত থাকায় সরাসরি পদাতিক সৈন্য পাঠানো কঠিন হতে পারে। তবে প্রযুক্তিগত সহায়তা, সামরিক উপদেষ্টা প্রদান এবং আকাশ প্রতিরক্ষা জোরদারে বড় ভূমিকা রাখতে পারে দুই দেশ। ইতোমধ্যেই পাকিস্তানের অবসরপ্রাপ্ত লেফটেন্যান্ট জেনারেল নোমান মাহমুদকে এই জোটের প্রথম মহাসচিব হিসেবে নিয়োগ দেওয়া হয়েছে।
সউদী আরবের ধর্মীয় প্রধান গ্র্যান্ড মুফতি শেখ সালেহ আল-ফাওজান হুথিদের বিরুদ্ধে ঐক্যবদ্ধ হওয়ার আহ্বান জানিয়ে এটিকে প্রতিটি মুসলিমের দায়িত্ব বলে অভিহিত করেছেন। অন্যদিকে বাদশা সালমান এই হামলাকে পবিত্র ভূমির ওপর আঘাত বলে উল্লেখ করেছেন।
যুক্তরাষ্ট্রের সীমিত সামরিক উপস্থিতির কারণে চাপে থাকা রিয়াদকে সহায়তা করতে ইতিমধ্যে যুক্তরাজ্য রিফুয়েলিং সুবিধা এবং ফ্রান্স গুরুত্বপূর্ণ বন্দর রক্ষার জন্য সেনা পাঠাতে সম্মত হয়েছে। বিশ্লেষকদের মতে, সামরিক ভারসাম্য বজায় রাখতে পাকিস্তান ও তুরস্ক বড় ধরনের নীতিগত সিদ্ধান্তের দিকে এগোচ্ছে। সূত্র: আল-জাজিরা।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ