০৫:২৭ পি.এম
গাইবান্ধার সুন্দরগঞ্জ উপজেলার নূতন দুলাল ভরট দ্বি-মুখী বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক মো. মাহফুজুল ইসলামের কাছ থেকে দুই লক্ষ টাকা চাঁদা চাওয়ার অভিযোগে ওই বিদ্যালয়ের সাময়িকভাবে বহিষ্কৃত এক সহকারী শিক্ষকসহ তিনজনের বিরুদ্ধে অভিযোগ দায়ের করা হয়েছে। এই ঘটনার প্রতিবাদে শিক্ষার্থীরা চলমান অর্ধবার্ষিক পরীক্ষা বর্জন করে অবস্থান কর্মসূচি পালন করেছে।
রোববার (৫ জুলাই) সকালে বিদ্যালয় প্রাঙ্গণে আয়োজিত অবস্থান কর্মসূচিতে শিক্ষার্থীরা অংশ নিয়েছিল। এ সময় তারা অভিযুক্তদের অবিলম্বে গ্রেফতার ও দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবিতে বিভিন্ন স্লোগান দেয়। পরে শিক্ষক ও স্থানীয়রা তাদের শান্ত করার চেষ্টা করেন।
অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক মো. মাহফুজুল ইসলামের কাছে দীর্ঘদিন ধরে একই বিদ্যালয়ের সাময়িক বহিষ্কৃত সহকারী শিক্ষক মো. জাহেদুল ইসলাম দুই লাখ টাকা চাঁদা দাবি করে আসছিলেন। চাঁদা না দিলে বিদ্যালয়ে চাকরি করতে দেওয়া হবে না বলেও তাকে হুমকি দেওয়া হয়।
আরও পড়ুন: শেরপুরে বাস-সিএনজির সংঘর্ষে জুয়েল মিয়া নিহত, আহত ৪
অভিযোগে আরও বলা হয়েছে যে, গত ২ জুলাই সকাল সাড়ে ১১টার দিকে নবম শ্রেণির চলমান অর্ধবার্ষিক পরীক্ষার সময় ডিউটিতে থাকাকালীন মো. জাহেদুল ইসলাম স্কুলে প্রবেশ করে আবারও দুই লাখ টাকা ঘুষ দাবি করেন। তিনি ঘুষ দিতে অস্বীকার করলে জাহেদুল ইসলাম, সহকারী শিক্ষক ছামছুল হক এবং দপ্তরি আব্দুল খালেক তাকে এলোপাথাড়ি মারধর করেন। এতে তিনি গুরুতর আহত হন। পরে অন্য শিক্ষকরা এগিয়ে এলে অভিযুক্তরা তাকে হত্যার হুমকি দিয়ে ঘটনাস্থল ত্যাগ করে।
শিক্ষককে মারধরের ঘটনায় অভিযুক্তদের বিচারের দাবিতে ছাত্রছাত্রীরা চলমান অর্ধ-বার্ষিক পরীক্ষা বর্জন করে বিদ্যালয় প্রাঙ্গণে অবস্থান কর্মসূচি পালন করেছে। শিক্ষার্থীরা বলেন, ‘আমাদের শিক্ষককে স্কুলের ভেতরে মারধর করা হয়েছে। আমরা এই ঘটনায় একটি সুষ্ঠু বিচার চাই। অভিযুক্তদের দ্রুত গ্রেপ্তার করে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি না দেওয়া পর্যন্ত আমরা চলমান অর্ধ-বার্ষিক পরীক্ষায় অংশগ্রহণ করব না। শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানেই যদি একজন শিক্ষক নিরাপদ না থাকেন, তাহলে আমরা কীভাবে একটি নিরাপদ পরিবেশে পড়াশোনা করব?’
শিক্ষকরা জানান, এই ঘটনার পর স্কুলের শিক্ষক ও শিক্ষার্থীদের মধ্যে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়েছে। তারা ঘটনাটির যথাযথ তদন্ত, জড়িতদের বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা গ্রহণ এবং স্কুলের স্বাভাবিক পাঠদান পরিবেশ ফিরিয়ে আনার দাবি জানান।
ভুক্তভোগী শিক্ষক মো. মাহফুজুল ইসলাম বলেন, ‘আমি দীর্ঘদিন ধরে এই স্কুলে শিক্ষকতা করছি। কিছুদিন ধরে আমার কাছে দুই লাখ টাকা চাঁদা চাওয়া হচ্ছিল। আমি চাঁদা দিতে অস্বীকার করলে আমাকে নানাভাবে ভয়ভীতি ও হুমকি দেওয়া হয়। ঘটনার দিন পরীক্ষার সময় আমি ডিউটিতে থাকাকালীন তারা স্কুলে ঢুকে আবারও চাঁদা দাবি করে। আমি টাকা দিতে অস্বীকার করলে আমাকে মারধর করা হয়। আমি এই ঘটনার যথাযথ তদন্ত, জড়িতদের গ্রেফতার ও দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানাচ্ছি।’
আরও পড়ুন: কেন্দুয়ায় পাচারের সময় ৩২ বস্তা সার জব্দ, চালক পালিয়েছে
স্কুলের ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক মোছা. জাহেনুর বেগম বলেন, ‘ঘটনার পর থেকে আমরা শিক্ষার্থীদের সঙ্গে কথা বলেছি এবং চলমান অর্ধ-বার্ষিক পরীক্ষায় অংশ নেওয়ার জন্য বারবার অনুরোধ করেছি। কিন্তু তারা কোনোভাবেই পরীক্ষা হলে প্রবেশ করতে রাজি হয়নি। শিক্ষার্থীরা বলেছে যে, শিক্ষক মারধরের ঘটনায় জড়িতদের বিরুদ্ধে দৃশ্যমান আইনি ব্যবস্থা ও সুষ্ঠু বিচার নিশ্চিত না হওয়া পর্যন্ত তারা পরীক্ষায় অংশ নেবে না। আমরা এই ঘটনার দ্রুত ও সুষ্ঠু সমাধান চাই, যাতে স্কুলের স্বাভাবিক শিক্ষাকার্যক্রম ও পরীক্ষাগুলো নির্বিঘ্নে পরিচালিত হতে পারে।’
এই ঘটনায় অভিযুক্ত সাময়িকভাবে বরখাস্ত হওয়া সহকারী শিক্ষক মো. জাহেদুল ইসলামের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তাকে পাওয়া যায়নি।
এ বিষয়ে সুন্দরগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) শাহিন মোহাম্মদ আমানুল্লাহ বলেন, ‘আমরা এই ঘটনায় একটি অভিযোগ পেয়েছি। বিষয়টি তদন্ত করে প্রয়োজনীয় আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’
আরও পড়ুন: উখিয়ায় ১৫ ঘণ্টা পরও জ্বলছে গ্যাসের আগুন, ১৫ কিলোমিটার এলাকায় বিদ্যুৎ বন্ধ
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন