বৃহস্পতিবার, ২৪শে সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ইং
০৭:৩১ পি.এম
ঢাকা, ২৪ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ : যুক্তরাষ্ট্রের নিউইয়র্ক অঙ্গরাজ্যের রাজধানী আলবানিতে প্রথমবারের মতো কোনো বাংলাদেশি চিত্রশিল্পীর একক চিত্র প্রদর্শনী শুরু হয়েছে।
বাংলাদেশের বিশিষ্ট চিত্রশিল্পী কাজী গোলাম কিবরিয়ার ‘ডিফারেন্ট ভিউ’ শীর্ষক প্রদর্শনীটি নগরজীবনের পরিবর্তন, মানুষের অনুভব এবং সময়ের অন্তর্নিহিত ভাষাকে রেখা, রং ও জ্যামিতিক বিন্যাসের বৈচিত্র্যময় ব্যবহারে তুলে ধরেছে।
আলবানির সংলগ্ন শহর বেথেলহামের স্লিংগারল্যান্ডের ‘থিংস গ্লোবাল এক্সপেরিয়েন্সেস’ গ্যালারিতে গত ১৮ সেপ্টেম্বর শুক্রবার সন্ধ্যা সাড়ে ৬টায় আনুষ্ঠানিকভাবে প্রদর্শনীর উদ্বোধন করা হয়। প্রদর্শনীটি ১৫ দিনব্যাপী চলবে।
আয়োজকদের তথ্য অনুযায়ী, এটি আলবানিতে কোনো বাংলাদেশি চিত্রশিল্পীর প্রথম একক চিত্র প্রদর্শনী। এই প্রদর্শনীর মাধ্যমে স্থানীয় শিল্প-সংস্কৃতির পরিমণ্ডলে বাংলাদেশি শিল্পীর সৃষ্টিশীলতার একটি নতুন অধ্যায়ের সূচনা হয়েছে।
কাজী গোলাম কিবরিয়ার চিত্রকর্মে নগরজীবনের প্রচলিত দৃশ্যপটের পাশাপাশি পরিবর্তনশীল নগর, মানুষের অনুভব এবং সময়ের নানা অনুষঙ্গ ভিন্ন এক দৃষ্টিভঙ্গিতে প্রতিফলিত হয়েছে। শিল্পী রেখা, রং ও জ্যামিতিক বিন্যাসের সমন্বয়ে নগরজীবনের নিজস্ব অনুভূতি ও পর্যবেক্ষণকে ক্যানভাসে তুলে ধরেছেন।
সম্প্রতি প্রদর্শনী আয়োজনের বিষয়ে শিল্পী কাজী গোলাম কিবরিয়ার সঙ্গে গ্যালারি কর্তৃপক্ষের একটি অনাড়ম্বর আলোচনা অনুষ্ঠিত হয়। এ সময় এশিয়ান আর্ট নিউইয়র্কের প্রধান ওয়ে কিন উপস্থিত ছিলেন। গ্যালারি উদ্যোক্তা এ সময় শিল্পী কিবরিয়ার শিল্পকর্মের ভূয়সী প্রশংসা করেন।
প্রদর্শনী প্রসঙ্গে শিল্পী কাজী গোলাম কিবরিয়া বলেন, ‘বাংলাদেশ থেকে প্রায় ৭ হাজার মাইল দূরে এখানে আমার একক প্রদর্শনী হবে, এটা আমি ভাবতে পারি না। সবাইকে ধন্যবাদ জানাই।’
নিজের শিল্পভাবনা তুলে ধরে তিনি বলেন, ‘আকাশে মেঘ দেখলে আমার মনে হয় ওটা দুইটা চোখ, একটা হাসি। এটা আমার মাকে বললে মা বুঝতেন না, কিন্তু আমার বাবা বুঝতেন।’
উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে শিল্পী, শিল্পানুরাগী ও বাংলাদেশি কমিউনিটির বিভিন্ন পর্যায়ের ব্যক্তিরা অংশ নেন। অনুষ্ঠানে বক্তারা বলেন, বাংলাদেশি শিল্পী কিবরিয়ার এই প্রদর্শনীর মাধ্যমে দর্শকরা তাঁর চোখে বাংলাদেশ ও নগরজীবনকে দেখার সুযোগ পাচ্ছেন।
বাংলাদেশি কমিউনিটির একজন প্রতিনিধি বলেন, ‘আমাদের এই একজন শিল্পী, আমাদের এই বন্ধু, আমাদের এই ভাই এমন একটা জিনিস উপস্থাপন করছেন, যার মাধ্যমে উনি বাংলাদেশকে যেভাবে দেখছেন, ঠিক সেইভাবে এখানে যারা দর্শক আছেন, তাদেরকেও দেখাচ্ছেন।’
আলবানিতে বাংলাদেশি কোনো শিল্পীর প্রথম একক চিত্র প্রদর্শনী হিসেবে ‘ডিফারেন্ট ভিউ’ ইতোমধ্যে স্থানীয় শিল্প-সংস্কৃতির অঙ্গনে বাংলাদেশকে নতুনভাবে তুলে ধরার একটি গুরুত্বপূর্ণ আয়োজন হিসেবে স্থান করে নিয়েছে।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
ভারতের নির্বাচনী তালিকার বিশেষ নিবিড় সংশোধন (এসআইআর) নিয়ে চলমান বিতর্কের কারণে দেশটির প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) জ্ঞানেশ কুমার গুপ্তার পদত্যাগের জন্য ৪৮ ঘণ্টার সময়সীমা নির্ধারণ করেছেন 'ককোরোচ জনতা পার্টি' (সিজেপি)-র প্রতিষ্ঠাতা অভিজিৎ দীপ। তিনি হুমকি দিয়েছেন, পদত্যাগ না করলে দেশব্যাপী আন্দোলন গড়ে তোলা হবে।
বৃহস্পতিবার (২৪ সেপ্টেম্বর) নয়াদিল্লিতে এক সংবাদ সম্মেলনে দীপ বলেন, ‘সিইসি হচ্ছেন এ দেশের সবচেয়ে বড় দেশবিরোধী। জ্ঞানেশ কুমার ভারতের এই মুহূর্তের সবচেয়ে বড় দেশবিরোধী এবং অবিলম্বে তার পদত্যাগ করা উচিত, কারণ তিনি ভারতের গণতন্ত্রের জন্য সবচেয়ে বড় হুমকি। আমাদের দেশে গণতন্ত্রের অর্থ কী ছিল? গণতন্ত্রের অর্থ ছিল জনগণ সরকার নির্বাচন করবে। কিন্তু জ্ঞানেশ কুমার সিইসি হওয়ার পর থেকে সরকার সিদ্ধান্ত নিচ্ছে কে ভোট দিতে পারবে আর কে পারবে না। এটি কি গণতন্ত্র? এটি গণতন্ত্রের কেমন সংজ্ঞা? আপনি গণতন্ত্রের পুরো ধারণাটিকেই উল্টে দিয়েছেন।’
‘যদি ৪৮ ঘণ্টার মধ্যে জ্ঞানেশ কুমার পদত্যাগ না করেন, তবে ককোরোচ জনতা পার্টি দেশব্যাপী আন্দোলন শুরু করবে। জ্ঞানেশ কুমার পদত্যাগ না করা পর্যন্ত আমরা পিছু হটব না,’ যোগ করেন সিজেপি প্রতিষ্ঠাতা। সংবাদ সম্মেলনে তার সাথে দলের সহ-আহ্বায়ক সৌরভ দাস ও আশুতোষ রাঙ্কা উপস্থিত ছিলেন।
জ্ঞানেশ কুমারের পদত্যাগের পাশাপাশি সিজেপি আরও কয়েকটি দাবি জানিয়েছে: ১) সিইসির বিরুদ্ধে ফৌজদারি মামলা দায়ের এবং কে তাকে নির্দেশ দিয়েছিল তা স্পষ্ট করা, ২) আসন্ন সমস্ত নির্বাচন স্থগিত রাখা, এসআইআর স্থগিত করে ২০২৫ সালের জানুয়ারি মাসের ভোটার তালিকা পুনর্বহাল করা এবং পুরো এসআইআর সিদ্ধান্ত গ্রহণ প্রক্রিয়ার নিরপেক্ষ তদন্ত গঠন করা, এবং গ) নির্বাচন কমিশনারদের নিয়োগ সংক্রান্ত ‘প্রধান নির্বাচন কমিশনার এবং অন্যান্য নির্বাচন কমিশনার (নিয়োগ, চাকরির শর্তাবলী এবং মেয়াদের মেয়াদ) আইন, ২০২৩’ বাতিল করে নাগরিক সমাজের প্রতিনিধিদের সক্রিয় অংশগ্রহণে একটি নতুন আইন প্রণয়ন করা যা জনগণের আস্থা অর্জন করতে পারে।
'আতঙ্কের বোতাম চেপে দেওয়া হয়েছিল
নরেন্দ্র মোদীর নেতৃত্বাধীন কেন্দ্র সরকারকে আক্রমণ করে দীপ উল্লেখ করেন যে, ২০২৪ সালের লোকসভা নির্বাচনে ভারতীয় জনতা পার্টি (বিজেপি) সংখ্যাগরিষ্ঠতা পেতে ব্যর্থ হওয়ার পরেই আতঙ্কের বোতাম চেপে দেওয়া হয়েছিল।
‘২০২৪ সালের নির্বাচনে বিজেপি সংখ্যাগরিষ্ঠতা অর্জন করতে পারেনি। '৪০০ পার'-এর স্লোগান তোলার পর তারা ২৪০টি আসনে নেমে আসার পরই আতঙ্কের পরিবেশ তৈরি হয়। এরপর তারা বুঝতে পারে দেশের মেজাজ বদলে যাচ্ছে এবং আঞ্চলিক শক্তিগুলো অত্যন্ত শক্তিশালী হয়ে উঠছে,’ বলেন তিনি।
দীপ গুরুতর প্রশ্ন তুলে বলেন, ‘মহারাষ্ট্রে উদ্ধব ঠাকরে, এনসিপি, (তামিলনাড়ুতে) এম.কে. স্ট্যালিন, (কেরালাতে) পিনারাই বিজয়ন, (দিল্লিতে) অরবিন্দ কেজরিওয়াল বা (পশ্চিমবঙ্গে) মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়—এই সব মুখ্যমন্ত্রীদের একে একে পরাজিত করা হয়েছে। এটি কোনো কাকতালীয় ঘটনা হতে পারে না। আপনি এর মধ্যে একটি নির্দিষ্ট ছক দেখতে পাবেন। এই সমস্ত মুখ্যমন্ত্রীরা একত্র হয়ে ২০২৪ সালে প্রচার চালিয়েছিলেন। কীভাবে তাদের একে একে হারিয়ে দেওয়া হলো?’
তিনি আরও উল্লেখ করেন যে, পশ্চিমবঙ্গে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের আসন থেকে ৫০,০০০ ভোট বাতিল করা হয়েছিল এবং তিনি প্রায় ১৫,০০০ ভোটে হেরে যান। একইভাবে স্ট্যালিনের আসন থেকে এক লাখ ভোট কেটে দেওয়া হয়েছিল এবং তিনি প্রায় ৪৫,০০০ ভোটে হারেন। দিল্লিতে কেজরিওয়ালের আসন থেকে ৪০,০০০ ভোট বাতিল করা হয় এবং তিনি প্রায় ৪,০০০ থেকে ৫,000 ভোটে হেরে যান।
‘আমরা কোনো বিরোধী দলের সমর্থক নই। কিন্তু গণতন্ত্রে আপনি যদি পুরো বিরোধী দলকেই শেষ করে দেওয়ার চেষ্টা করেন, তবে কি তা গণতন্ত্র থাকে? এটি কি কোনো অবাধ ও সুষ্ঠু নির্বাচন? এটি সাম্প্রতিক সমস্যা নয়; ২০১৫-১৬ সালে মধ্যপ্রদেশের সরকার ফেলে দেওয়া হয়েছিল, কর্ণাটকের সরকারও একইভাবে ফেলা হয়। এমনকি গোয়ায় আমরা দেখেছি কীভাবে মাত্র ১০টি আসন পাওয়া একটি দল রাতারাতি সরকার গঠন করেছিল,’ বলেন দীপ।
'দেশের যুবসমাজের বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্র'
সংবাদ সম্মেলনে দলের সহ-আহ্বায়ক সৌরভ দাস অভিযোগ করেন যে, সিইসি দেশের যুবসমাজের বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্র করার চেষ্টা করছেন। "দেখুন, দেশের যুবসমাজের বিরুদ্ধে এটি একটি অত্যন্ত বড় ষড়যন্ত্র এবং আমরা দেশবাসী এটি কোনোভাবেই সহ্য করব না। অভিজিৎ যেমনটা বলেছেন, বিরোধী দল বা বিজেপি, কংগ্রেস, আম আদমি পার্টি কিংবা তৃণমূলের মতো কোনো নির্দিষ্ট রাজনৈতিক দলের বিষয়ে আমাদের কোনো মাথাব্যথা নেই। এগুলো ওই দলগুলোর ইস্যু নয়; এগুলো দেশের যুবসমাজের ভবিষ্যতের কথা," বলেন সিজেপি সহ-আহ্বায়ক।
তিনি আরও যোগ করেন, "আমরা তিনটি দাবি রাখছি। এক নম্বর দাবি: জ্ঞানেশ কুমারের পদত্যাগ, অবিলম্বে তার বিরুদ্ধে ফৌজদারি বিচার শুরু করা এবং এই প্রশ্নের উত্তর দেওয়া—জ্ঞানেশ কুমারকে নির্দেশ কে দিয়েছিল? কার নির্দেশে তিনি এসব করেছেন? দুই নম্বর দাবি: অবিলম্বে সব ধরনের আসন্ন নির্বাচন স্থগিত রাখা। এসআইআর স্থগিত করে ২০২৫ সালের জানুয়ারির ভোটার তালিকায় ফিরে যাওয়া। এমন একটি নিরপেক্ষ তদন্ত কমিশন গঠন করা যা জনমনে আস্থা জোগাবে এবং এসআইআর সম্পর্কিত সব সিদ্ধান্ত গ্রহণ প্রক্রিয়া খতিয়ে দেখবে। সুপ্রিম কোর্টও এখানে সমান অপরাধী। তাই আমরা সুপ্রিম কোর্টের কাছেও দাবি জানাচ্ছি যেন এসআইআর সংক্রান্ত সমস্ত নথি অবিলম্বে আদালতের হেফাজতে নেওয়া হয়, যাতে কালকে কেউ বলতে না পারে যে নির্বাচন কমিশন ভবনে আগুন লেগেছিল আর ফাইলগুলো পুড়ে গেছে বা হারিয়ে গেছে। তিন নম্বর দাবি: নির্বাচন কমিশনার নিয়োগ সংক্রান্ত ২০২৩ সালের আইনটি বাতিল করে নাগরিক সমাজের অংশগ্রহণে এমন নতুন আইন তৈরি করা যা জনমনে বিশ্বাস স্থাপন করবে।
গতকাল 'দ্য ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেস'-এ একটি বিশেষ প্রতিবেদন প্রকাশের পর থেকেই সমালোচনার মুখে পড়েছেন জ্ঞানেশ কুমার। প্রতিবেদনটিতে তিন সদস্যের নির্বাচন কমিশনের অভ্যন্তরীণ যোগাযোগের কথা উল্লেখ করে বলা হয়েছে যে, গত দশ মাসে বিতর্কিত এসআইআর সংক্রান্ত বেশিরভাগ নির্দেশাবলীতে কমিশনারদের সংখ্যাগরিষ্ঠের সম্মতি ছিল না। অন্তত ১৪ বার অন্যান্য নির্বাচন কমিশনাররা অফিশিয়ালি এসব সিদ্ধান্তে আপত্তি জানিয়েছিলেন।
এখন পর্যন্ত এসআইআর প্রক্রিয়ার মাধ্যমে দেশজুড়ে প্রায় ১২ কোটি নাম ভোটার তালিকা থেকে কেটে ফেলা হয়েছে। ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেসের প্রতিবেদনে ইঙ্গিত দেওয়া হয়েছে যে, সিইসি কর্তৃক নেওয়া এসআইআর সংক্রান্ত সিদ্ধান্তগুলো মূলত ভারতীয় সংবিধানের ৩২৪ অনুচ্ছেদের পরিপন্থী—যেখানে স্পষ্টভাবে বলা হয়েছে যে নির্বাচন কমিশনের সমস্ত সিদ্ধান্ত যতদূর সম্ভব সর্বসম্মতিক্রমে এবং সংখ্যাগরিষ্ঠের সম্মতিতে গ্রহণ করতে হবে।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
রংপুর, ২৪ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ : জরুরি পরিস্থিতি দ্রুত মোকাবিলার জন্য এবং আইন-শৃঙ্খলা নিয়ন্ত্রণের উদ্দেশ্যে রংপুর রেঞ্জ পুলিশের অধীনে গঠন করা হচ্ছে ‘কুইক রেসপন্স টিম’ (কিউআরটি)। কোনো অনাকাঙ্ক্ষিত বা জরুরি পরিস্থিতির উদ্ভব হলে সংশ্লিষ্ট ইউনিটের ডাকার অপেক্ষা না করে, এই টিমগুলো সমন্বিতভাবে দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণ করবে।
আজ বৃহস্পতিবার দুপুরে রংপুর ডিআইজি কার্যলয়ের হলরুমে অনুষ্ঠিত বিশেষ পর্যালোচনা সভায় বিভাগের আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতি আরও কার্যকরভাবে নিয়ন্ত্রণ এবং যেকোনো জরুরি পরিস্থিতি দ্রুত মোকাবিলার লক্ষ্যে এ ‘কুইক রেসপন্স টিম’ (কিউআরটি) গঠনের সিদ্ধান্ত গৃহীত হয়।
সভায় পুলিশ বিভাগের রংপুর রেঞ্জের ডিআইজি মোহাম্মদ আবদুল মাবুদ সভাপতিত্ব করেন। তিনি জানান, কুইক রেসপন্স টিমের কার্যক্রম সংশ্লিষ্ট হোস্ট ইউনিটের নেতৃত্ব ও নির্দেশনায় পরিচালিত হবে। মেট্রোপলিটন এলাকায় রংপুর মেট্রোপলিটন পুলিশ কমিশনার এবং সংশ্লিষ্ট জেলায় পুলিশ সুপারের নির্দেশনা অনুযায়ী টিমগুলো তাদের দায়িত্ব পালন করবে।
সভায় প্রতিটি জেলা ও সংশ্লিষ্ট বিশেষায়িত ইউনিটের সমন্বয়ে কুইক রেসপন্স টিমের সদস্যদের তালিকা দ্রুত প্রস্তুত করে পুলিশ হেডকোয়ার্টার্সে পাঠানোর সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।
জননিরাপত্তা নিশ্চিতকরণ, আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণ এবং যেকোনো জরুরি পরিস্থিতিতে দ্রুত, সমন্বিত ও কার্যকর পুলিশি সাড়া নিশ্চিত করতে রংপুর রেঞ্জ পুলিশ সর্বাত্মক প্রস্তুতি নিচ্ছে বলেও সভায় জানানো হয়।
রংপুর রেঞ্জ কার্যালয়ের কনফারেন্স রুমে আয়োজিত সভায় রংপুর মেট্রোপলিটন পুলিশ কমিশনার মুহাম্মদ মাহবুবুর রশীদ, রেঞ্জের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা এবং রংপুর বিভাগের আট জেলার পুলিশ সুপারসহ সংশ্লিষ্ট ইউনিট প্রধান ও প্রতিনিধিরা অংশগ্রহণ করেন।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
ইসলামিক ফাউন্ডেশনের অধীনে দারুল আরকাম মাদরাসার শিক্ষক ও শিক্ষিকারা দেশের বিভিন্ন স্থানে জ্ঞানের আলো ছড়িয়ে দেওয়ার জন্য নিরলসভাবে কাজ করে যাচ্ছেন। তাদের বেতন ও ভাতা দীর্ঘদিন ধরে বন্ধ ছিল। দারুল আরকাম মাদরাসার শিক্ষক ও শিক্ষিকাদের সামাজিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করার লক্ষ্যে তাদের চাকরি রাজস্ব খাতে অন্তর্ভুক্ত করার জন্য সর্বাত্মক প্রচেষ্টা চালানো হবে। যদি মাদরাসা শিক্ষকদের সামাজিক মর্যাদা প্রদান না করা হয়, তাহলে সমাজ পিছিয়ে যাবে এবং আদর্শ নাগরিক তৈরির কার্যক্রম ব্যাহত হবে।
দারুল আরকাম মাদরাসার শিক্ষক ও শিক্ষিকারা সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি প্রতিষ্ঠা এবং সামাজিক সমস্যা সমাধানে অগ্রণী ভূমিকা পালন করে চলেছেন।
বৃহস্পতিবার (২৪ সেপ্টেম্বর) রাজধানীর আগারগাঁওয়ে ইসলামিক ফাউন্ডেশন মিলনায়তনে বাংলাদেশ দারুল আরকাম শিক্ষক কল্যাণ সমিতির উদ্যোগে সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি প্রতিষ্ঠা এবং সন্ত্রাস, দুর্নীতি, মাদক, নারী নির্যাতনসহ সামাজিক সমস্যা সমাধানে দারুল আরকাম ইসলামী শিক্ষা পরিচালনা ও সুসংহতকরণ প্রকল্পের শিক্ষক-শিক্ষিকা ও সহায়ক কর্মীদের ভূমিকা নিয়ে মতবিনিময় সভা এবং অনুদান প্রদান অনুষ্ঠানে ইসলামিক ফাউন্ডেশনের মহাপরিচালক আল্লামা মুফতি মুহিব্বুল্লাহিল বাকী প্রধান অতিথির বক্তব্যে এসব বিষয় তুলে ধরেন।
ইফার প্রকল্প পরিচালক মো. আনিসুজ্জামান সিকদারের সভাপতিত্বে এবং সমিতির সিনিয়র সহসভাপতি মুফতি নাজমুল হুদার সঞ্চালনায় অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন ইসলামিক ফাউন্ডেশনের বোর্ড অব গভর্ণরসের সিনিয়র সদস্য মাওলানা সৈয়দ মো. মোসাদ্দেক বিল্লাহ আল-মাদানী, ইফার বোর্ড সদস্য মুফতি আজাহারুল ইসলাম, ইফা বোর্ড সদস্য মুফতি শরীফ উল্লাহ।
অনুষ্ঠানে আরো বক্তব্য রাখেন ইফা সচিব শেখ মুর্শিদুল ইসলাম, ইসলামী ঐক্যজোটের চেয়ারম্যান মুফতি সাখাওয়াত হোসাইন রাজি, ইফা পরিচালক মো. মহিউদ্দিন, বাংলাদেশ দারুল আরকাম শিক্ষক কল্যাণ সমিতির সভাপতি মুফতি জয়নাল আবেদী, প্রকল্প পরিচালক এস এম তরিকুল ইসলাম ও ইসলামিক ফাউন্ডেশন জাতীয়তাবাদী শ্রমিক-কর্মচারী ইউনিয়নের সভাপতি এম এ বারি। মতবিনিময় সভায় দারুল আরকাম মাদরাসার শিক্ষক ও শিক্ষিকাদের পক্ষ থেকে কিছু দাবি তুলে ধরা হয়। দাবিগুলোর মধ্যে রয়েছে, দারুল আরকাম মাদরাসার শিক্ষার্থীদের জন্য মিড ডে মিল ও উপবৃত্তির ব্যবস্থা করতে হবে।
দারুল আরকাম মাদরাসার শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের পঞ্চম শ্রেণি পর্যন্ত উন্নীতকরণ, প্রয়োজনীয় শিক্ষক ও সহায়ক কর্মী নিয়োগ প্রদান, শিক্ষক ও শিক্ষিকাদের বেতন-ভাতা মাসিক ভিত্তিতে পরিশোধ, ২০২০ সালের বকেয়া বেতন-ভাতা পরিশোধ, প্রতিটি মাদরাসার জন্য সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের মতো প্রয়োজনীয় অবকাঠামো নির্মাণ এবং নিয়োগপ্রাপ্ত শিক্ষক-শিক্ষিকাদের সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের জনবলের সমপরিমাণ বেতন-ভাতা ও সুযোগ-সুবিধা প্রদান করার দাবি জানানো হয়।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রী সরদার মোঃ সাখাওয়াত হোসেন (বকুল) বলেছেন, বাঙালি জাতিকে ভারতীয় প্রভুত্ব থেকে রক্ষা করার লক্ষ্যে দেশের নিজস্ব অর্থায়নে তিস্তা ব্যারেজসহ বিভিন্ন নদী উন্নয়ন প্রকল্প বাস্তবায়নের উদ্যোগ নেওয়া হবে।
বৃহস্পতিবার (২৪ সেপ্টেম্বর) দুপুরে নরসিংদীর মনোহরদী উপজেলা অডিটোরিয়ামে অসহায় মানুষের মধ্যে আর্থিক অনুদান ও টিন বিতরণ অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
স্বাস্থ্যমন্ত্রী বলেন, “আমাদের প্রধানমন্ত্রীর চীন সফরের সফলতার ধারাবাহিকতায় খুব শীঘ্রই নিজস্ব অর্থায়নে তিস্তা ব্যারেজ নির্মাণের কাজ শুরু হবে, ইনশাআল্লাহ। উজান থেকে পানি পাঠিয়ে তারা যেভাবে আমাদের প্লাবিত করে, তিস্তা ব্যারেজের মাধ্যমে সেই পানি আটকে রেখে খরা মৌসুমে আমাদের দেশের কাজে ব্যবহার করা হবে।”
তিনি আরও বলেন, “সুরমা নদীতেও আমরা ব্যারেজ ও বিভিন্ন উন্নয়ন প্রকল্প গ্রহণ করব। এই প্রকল্পগুলো বাস্তবায়ন হবে নিজস্ব অর্থায়ন এবং চীনের সহায়তায়। আমরা কাজের মাধ্যমে ভারতীয় দাসত্ব ও প্রভুত্ব থেকে বাঙালি জাতিকে রক্ষা করতে চাই।”
রাজনীতি ও দেশের সার্বিক পরিস্থিতি নিয়ে সরদার মোঃ সাখাওয়াত হোসেন বলেন, “আমরা কোনো রাজনৈতিক দলের বিপক্ষে নই। আমরা অতীতে দেখা ফ্যাসিস্টদের মতো খুন, গুম, রাহাজানি, লুটপাট, চুরি বা টাকা পাচারের নীতিতে বিশ্বাস করি না। প্রত্যেকে নিজ নিজ মত প্রকাশ করবে—সেটাই গণতন্ত্র। তবে যারা ২০২৪-এর জুলাইয়ে আমাদের প্রায় দেড় হাজার ছাত্র-যুব-জনতাকে হত্যা করেছে এবং যারা সংবিধানিকভাবে বাংলাদেশে নিষিদ্ধ, তাদের কোনো প্রচারণা বরদাশত করা হবে না এবং তাদের সাথে কোনো আপস করা হবে না।”
দেশের সীমানা রক্ষা ও অভ্যন্তরীণ শক্তির কথা স্মরণ করিয়ে দিয়ে তিনি দৃঢ় কণ্ঠে বলেন, “বাংলাদেশ এমন এক ভৌগোলিক অবস্থানে রয়েছে, যেখানে পরাশক্তি কোনো আগ্রাসন চালানোর চেষ্টা করলে তা দেশের মাটিতে বরদাশত করা হবে না। আমাদের ২০ কোটি মানুষই আমাদের সবচেয়ে বড় সম্পদ ও শক্তি। আমাদের প্রবাসীদের পাঠানো রেমিট্যান্স ও বৈদেশিক মুদ্রায় দেশ চলছে। দেশীয় ফার্মাসিউটিক্যালস কোম্পানিগুলো আজ বিশ্বের ১৬০টিরও বেশি দেশে ওষুধ রপ্তানি করছে, চিকিৎসকদের সুনাম তৈরি হয়েছে। এই অর্জিত সুনাম ও স্বাধীনতাকে কোনো ফ্যাসিবাদের ষড়যন্ত্রকারী নষ্ট করতে পারবে না।”
অন্য দেশগুলোর সুবিধা নেওয়া প্রসঙ্গে তিনি আরও বলেন, “আমরা ১৯৭১ সালে রক্ত দিয়ে দেশ স্বাধীন করেছি অন্যের কাছে দাসত্ব করার জন্য নয়। আমাদের মাটি ব্যবহার করে অন্য দেশের ট্রেন বা বাস বিনা খাজনায় চলে যাবে, তারা আমাদের ট্যাক্স দিবে না বা আমাদের আইনশৃঙ্খলা বাহিনী তাদের গাড়ি পরীক্ষা করতে পারবে না—এমন পরাধীনতার দিন শেষ। এই পরাধীনতার হাত থেকে দেশকে মুক্ত রাখাই আমাদের মূল অঙ্গীকার।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ