সোমবার, ২১শে সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ইং
০৫:০৩ পি.এম
ইউনাইটেড কমার্শিয়াল ব্যাংকের (ইউসিবিএল) ২৫ কোটি টাকা আত্মসাৎ করে হুন্ডির মাধ্যমে বিদেশে পাচারের অভিযোগে দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) মামলায় আওয়ামী লীগ সরকারের সাবেক ভূমিমন্ত্রী সাইফুজ্জামান চৌধুরী জাবেদসহ ৩৬ জনের বিরুদ্ধে আরো ৬ জন সাক্ষীর সাক্ষ্যগ্রহণ সম্পন্ন হয়েছে। এই মামলায় মোট ৫১ জন সাক্ষীর সাক্ষ্যগ্রহণ ইতোমধ্যে শেষ হয়েছে।
সোমবার (২১ সেপ্টেম্বর) চট্টগ্রাম বিভাগীয় বিশেষ জজ আদালতের বিচারক মিজানুর রহমানের আদালতে সাক্ষ্যগ্রহণ অনুষ্ঠিত হয়। এই মামলায় মোট ৫১ জন সাক্ষীর সাক্ষ্যগ্রহণ সম্পন্ন হয়েছে।
দুদকের পাবলিক প্রসিকিউটর মোকাররম হোসাইন বিষয়টি কালের কণ্ঠকে নিশ্চিত করে জানান, ২৫ কোটি টাকা আত্মসাৎ ও পাচারের মামলায় জাবেদসহ ৩৬ আসামির বিরুদ্ধে গতকাল ৬ জন সাক্ষীর সাক্ষ্যগ্রহণ ও জেরা সম্পন্ন হয়েছে। এ নিয়ে মামলাটিতে মোট ৫১ জন সাক্ষীর সাক্ষ্যগ্রহণ সম্পন্ন হলো। আদালত আগামী ২৭ সেপ্টেম্বর পরবর্তী সাক্ষ্যগ্রহণের দিন ধার্য করেছেন।
এদিকে, চলতি বছরের ১১ মার্চ এ মামলায় ৩৬ আসামির বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠন করা হয়েছিল। তার আগে ৫ জানুয়ারি মামলার তদন্ত কর্মকর্তা দুদকের প্রধান কার্যালয়ের উপপরিচালক মো. মশিউর রহমান চট্টগ্রাম মহানগর সিনিয়র স্পেশাল জজ আদালতে অভিযোগপত্র জমা দেন।
অভিযোগপত্রে উল্লেখ করা হয়, ইউসিবি ব্যাংক থেকে ভুয়া ও অস্তিত্বহীন প্রতিষ্ঠানের নামে ২৫ কোটি টাকা ঋণ নিয়ে তা আত্মসাৎ ও বিদেশে পাচার করা হয়েছে। এতে বলা হয়, জাবেদ তাঁর মালিকানাধীন আরামিট গ্রুপের প্রটোকল অফিসার মোহাম্মদ ফরমান উল্লাহকে মালিক হিসেবে দেখিয়ে দুটি ভুয়া প্রতিষ্ঠান গড়ে তোলেন। পরে জাল নথিপত্র তৈরি করে ইউসিবি ব্যাংকের চট্টগ্রাম পোর্ট শাখা থেকে ২৫ কোটি টাকা ঋণ নেওয়া হয়।
অভিযোগে আরো বলা হয়েছে, ব্যাংকের ঋণঝুঁকি ব্যবস্থাপনা বিভাগ ১৭টি নেতিবাচক পর্যবেক্ষণ দিলেও তা উপেক্ষা করা হয়। দুদকের দাবি, পরে ওই অর্থ বিদেশে পাচার করা হয়। অভিযোগপত্রে উল্লেখ করা হয়েছে যে, ২০১৯ সালের ১৩ অক্টোবর থেকে ২০২০ সালের ১৩ ফেব্রুয়ারির মধ্যে এ আত্মসাতের ঘটনা ঘটে।
তদন্তকারী কর্মকর্তা উল্লেখ করেন, আসামিরা দণ্ডবিধির ৪০৬, ৪০৯, ৪২০, ৪৬৭, ৪৬৮, ৪৭১ ও ১০৯ ধারা এবং দুর্নীতি প্রতিরোধ আইনের ৫(২) ধারা ও মানিলন্ডারিং প্রতিরোধ আইনের ৪(২) ও ৪(৩) ধারায় শাস্তিযোগ্য অপরাধ করেছেন।
২০২৫ সালের ২৪ জুলাই জাবেদ ও তার স্ত্রীসহ ৩১ জনের বিরুদ্ধে দুদকের প্রধান কার্যালয়ের উপপরিচালক মো. মশিউর রহমান চট্টগ্রাম জেলা কার্যালয়-১-এ মামলাটি দায়ের করেন। অভিযোগপত্রে ৯২ জনকে সাক্ষী করা হয়েছে।
অভিযোগপত্র অনুযায়ী, আসামিদের মধ্যে রয়েছেন সাবেক মন্ত্রী সাইফুজ্জামান চৌধুরী জাবেদ, তাঁর স্ত্রী ও ইউসিবিএলের সাবেক চেয়ারম্যান রুকমীলা জামান, সাবেক পরিচালক আসিফুজ্জামান চৌধুরী ও রোকসানা জামান চৌধুরী।
এছাড়া সাবেক পরিচালক বশির আহমেদ, আফরোজা জামান, সৈয়দ কামরুজ্জামান, মো. শাহ আলম, মো. জোনাইদ শফিক, অপরূপ চৌধুরী, তৌহিদ সিপার রফিকুজ্জামান, ইউনুছ আহমদ, হাজী আবু কালাম, নুরুল ইসলাম চৌধুরী, সাবেক চেয়ারম্যান এম এ সবুর এবং সাবেক ভারপ্রাপ্ত ব্যবস্থাপনা পরিচালক আরিফ কাদরীসহ মোট ৩৬ জন আসামি রয়েছেন।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
বলিউডের অভিনেত্রী বিদ্যা বালান বরাবরই পর্দায় একটি বিশেষ আবহ তৈরি করেন। এবার দক্ষিণী সিনেমায় তার দাপুটে উপস্থিতি নিয়ে চমক দিতে প্রস্তুত তিনি। রজনীকান্ত অভিনীত বহুল প্রতীক্ষিত ‘জেলার ২’ সিনেমায় ‘কান্থা’ চরিত্রে তাকে দেখা যাবে। ইতিমধ্যে চরিত্রটির প্রথম ঝলক প্রকাশিত হয়েছে, যা দর্শকদের মধ্যে ব্যাপক আগ্রহ সৃষ্টি করেছে।
প্রকাশিত ঝলকে বিদ্যাকে দেখা যাচ্ছে নীল শাড়িতে। হাতে জ্বলন্ত সিগারেট নিয়ে সিঁড়ি বেয়ে নিচে নামছেন তিনি। এরপর উত্তেজনাপূর্ণ একটি মুখোমুখি দৃশ্যে ধোঁয়া ছাড়তে ছাড়তে সামনের দিকে তাকিয়ে থাকতে দেখা যায় অভিনেত্রীকে। তার অভিব্যক্তি, পোশাক এবং রহস্যময় উপস্থিতি মুহূর্তেই দর্শকদের নজর কেড়েছে।
বিদ্যার নতুন লুক প্রকাশিত হওয়ার পর সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে প্রশংসায় ভাসছেন অভিনেত্রী। একজন ভক্ত তার লুকের প্রশংসা করে লিখেছেন, ছোট চুল, ব্যাকলেস ব্লাউজ এবং বুকে ট্যাটু—সব মিলিয়ে বিদ্যা যেন চরিত্রটিতে নতুন মাত্রা যোগ করেছেন।
আরেক দর্শক মন্তব্য করেছেন, ‘দ্য ওয়ান টু ওয়াচ আউট ফর’। অর্থাৎ ছবিতে নজর রাখার মতো অন্যতম চরিত্র হতে চলেছেন বিদ্যা। ওই দর্শকের মতে, যেকোনো চরিত্রে অনায়াসে নিজেকে মানিয়ে নেওয়ার ক্ষমতা রয়েছে এই অভিনেত্রীর।
আরেক ভক্ত লিখেছেন, ‘কান্থা’ চরিত্রে বিদ্যা বালানকে দেখে মনে হচ্ছে, তিনি যে ফ্রেমেই থাকবেন, সেটিই নিজের করে নেবেন। অভিনেত্রীর উপস্থিতি এবং পর্দায় দাপট নিয়ে ভক্তদের মন্তব্যে এমন উচ্ছ্বাস দেখা যাচ্ছে।
তবে শুধু বিদ্যার লুকই নয়, তার চরিত্র নিয়েও কৌতূহল তৈরি হয়েছে। রজনীকান্তের সঙ্গে তাকে কিভাবে উপস্থাপন করা হবে, পর্দায় দুই তারকার মুখোমুখি দৃশ্য কতটা জমবে—এসব নিয়েও আলোচনা চলছে।
২০২৩ সালে মুক্তি পাওয়া ‘জেলার’-এর সিক্যুয়েল ‘জেলার ২’ পরিচালনা করছেন নেলসন দিলীপ কুমার। রজনীকান্ত ও বিদ্যা বালান ছাড়াও সিনেমাটিতে অভিনয় করেছেন রম্যা কৃষ্ণন, যোগী বাবু এবং মির্না। অনিরুদ্ধ রবিচন্দরের সংগীত সিনেমাটির আবহকে আরও আকর্ষণীয় করে তুলেছে।
সান পিকচার্স প্রযোজিত ‘জেলার ২’ আগামী ১৫ অক্টোবর প্রেক্ষাগৃহে মুক্তির কথা রয়েছে। সিনেমাটি ঘিরে রজনীকান্তের ভক্তদের আগ্রহের পাশাপাশি বিদ্যার নতুন অবতারও যে বাড়তি কৌতূহল তৈরি করেছে, তা স্পষ্ট।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
যুক্তরাজ্যের এয়ার ট্রাফিক কন্ট্রোল (এটিসি) ব্যবস্থায় আবারও একটি গুরুতর কারিগরি ত্রুটি উদ্ভূত হয়েছে। এর ফলে দেশটির আকাশসীমায় বিমান চলাচল ব্যাপকভাবে বিঘ্নিত হচ্ছে। প্রধান এয়ার ট্রাফিক কন্ট্রোল সেবাদাতা প্রতিষ্ঠান ন্যাটস এই তথ্য নিশ্চিত করেছে।
ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম দ্য গার্ডিয়ানের প্রতিবেদন অনুযায়ী, স্কটল্যান্ডের প্রেস্টউইক সেন্টারে কারিগরি সমস্যা দেখা দেওয়ার কারণে উত্তর ইংল্যান্ড, স্কটল্যান্ড এবং উত্তর আয়ারল্যান্ডের আকাশসীমায় এই জটিলতা সৃষ্টি হয়েছে।
আরো পড়ুন
জার্মানির রাজ্য নির্বাচনে ব্যাপক ভরাডুবির পরও ক্ষমতা আঁকড়ে থাকার ব্যাপারে অনড় মের্জ।
ন্যাশনাল এয়ার ট্রাফিক সার্ভিসেস (ন্যাটস) জানিয়েছে, নিরাপত্তা রক্ষার জন্য বিমানের উড্ডয়ন ও চলাচলের ওপর সাময়িক বিধিনিষেধ বা ট্রাফিক নিয়ন্ত্রণ আরোপ করা হয়েছে।
লন্ডনের গ্যাটউইক ও সিটি বিমানবন্দর বিঘ্ন ঘটার বিষয়ে সতর্কতা জারি করেছে। অন্যদিকে, ব্রিটিশ এয়ারওয়েজ তাদের গ্রাহকদের সতর্ক করেছে এবং ইজিজেট এয়ারলাইন কিছু ফ্লাইট বাতিল করেছে।
আরো পড়ুন
ট্রাম্পের সঙ্গে উত্তেজনা, ঐতিহাসিক বৈঠকে ফ্রান্স-কানাডা সম্পর্ক ঘনিষ্ঠ করার ঘোষণা।
ইজিজেট এক বিবৃতিতে জানিয়েছে, এই ঘটনা পুনরাবৃত্তি হওয়ায় ন্যাটসের সক্ষমতা ও স্থায়িত্ব সম্পর্কে প্রশ্ন উঠেছে। বারবার এই ধরনের ঘটনা ঘটায় কঠোর সতর্কতা গ্রহণের প্রয়োজনীয়তা অনুভূত হচ্ছে।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
দ্বিতীয় স্ত্রী মরিয়মকে আত্মহত্যায় প্ররোচনার মামলায় রিমান্ড শুনানিতে সাবেক সংসদ সদস্য গাজী নজরুল ইসলামকে উদ্দেশ্য করে রাষ্ট্রপক্ষের পাবলিক প্রসিকিউটর (পিপি) ওমর ফারুক ফারুকী মন্তব্য করেন, ‘সৎ লোকের শাসন চাই’ স্লোগান শোনা গেলেও তিনি রাজনৈতিক ক্ষমতার অপব্যবহার করে বিয়ে করেছেন। পিপির বক্তব্যের প্রেক্ষিতে বিচারককে শুধুমাত্র মামলার বিষয় নিয়ে আলোচনা করতে বলেন।
সোমবার (২১ সেপ্টেম্বর) ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট মোহাম্মদ এহসানুল ইসলামের আদালতে রিমান্ড শুনানির সময় এই ঘটনা ঘটে। শুনানির শেষে আদালত গাজী নজরুল ইসলামকে চার দিনের এবং তার প্রথম স্ত্রী মাকছুদা ইসলামকে এক দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেন।
মামলার তদন্ত কর্মকর্তা শেরেবাংলা নগর থানার উপপরিদর্শক (এসআই) শামসুদ্দোহা সরকার তাদের সাত দিনের রিমান্ডের আবেদন করেছিলেন।
আরো পড়ুন
ব্যক্তিগত সফরে মালয়েশিয়া গেলেন চিফ হুইপ।
রিমান্ডের পক্ষে যুক্তি উপস্থাপন করতে গিয়ে পিপি ওমর ফারুক ফারুকী বলেন, গাজী নজরুল ইসলাম তার দ্বিতীয় স্ত্রীকে ক্ষমতার প্রভাব ও প্রলোভন দেখিয়ে বিয়েতে বাধ্য করেছেন বলে অভিযোগ রয়েছে। পরে তাকে বিভিন্ন আবাসিক হোটেলে নিয়ে যাওয়া এবং ন্যাম ভবনের বাসায় তার প্রথম স্ত্রীর উপস্থিতিতে শারীরিক ও মানসিক নির্যাতনের অভিযোগও রয়েছে। এসব অভিযোগের প্রকৃত ঘটনা ও নেপথ্যের বিষয় উদঘাটনে নজরুল ইসলামকে জিজ্ঞাসাবাদ করা প্রয়োজন বলে তিনি আদালতে জানান।
এদিন দুপুর ৩টা ১১ মিনিটে পুলিশ গাজী নজরুল ইসলাম ও মাকছুদা ইসলামকে আদালতে হাজির করে। পরে তাদের পক্ষের আইনজীবীরা ওকালতনামায় স্বাক্ষর করেন। সোয়া ৩টার দিকে বিচারক এজলাসে প্রবেশ করেন এবং আদালতের পরিস্থিতি শান্ত রাখার নির্দেশ দেন। ৩টা ১৬ মিনিটে শুনানি শুরু হয়। শুরুতেই বিচারক তদন্ত কর্মকর্তাকে মামলার অভিযোগ সম্পর্কে জানাতে বলেন।
গাজী নজরুল ইসলাম ও মাকছুদা ইসলামের পক্ষে আইনজীবী মো. মাহবুবুর রহমানসহ অন্যান্যরা রিমান্ড বাতিল করে জামিনের আবেদন করেন। তারা বলেন, রিমান্ডের কোনো যৌক্তিকতা নেই। গাজী নজরুল একজন মুক্তিযোদ্ধা এবং চারবারের সংসদ সদস্য। মামলায় তাদের রিমান্ডে নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য সুনির্দিষ্ট কারণ উপস্থাপন করা হয়নি। দুজনই বয়স্ক এবং তদন্তে সহযোগিতা করবেন বলেও আদালতকে জানান তারা।
রিমান্ড আবেদনে পুলিশ পাঁচটি কারণ উল্লেখ করে। এতে বলা হয়, ঘটনার সময় আসামিরা বাসায় উপস্থিত ছিলেন কি না এবং মরিয়মের মৃত্যুর পেছনে তাদের প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষ কোনো ভূমিকা ছিল কি না, তা নিশ্চিত হওয়ার প্রয়োজন।
এছাড়া মরিয়মকে আত্মহত্যায় প্ররোচনা, উসকানি, মানসিক চাপ বা ভয়ভীতি প্রদর্শনের ক্ষেত্রে আসামিদের কোনো ভূমিকা ছিল কি না, তা উদঘাটনের জন্য জিজ্ঞাসাবাদ প্রয়োজন বলে আবেদনে উল্লেখ করা হয়। মামলার পলাতক আসামি গাড়িচালক ওবায়দুল ইসলামের ভূমিকা, তার অবস্থান শনাক্ত এবং ঘটনার সঙ্গে অন্য কোনো ব্যক্তি জড়িত কি না, তা খতিয়ে দেখার কথাও বলা হয়।
আরো পড়ুন
মা হতে চান শ্রুতি, প্রয়োজনে দত্তক নেবেন।
এর আগে মরিয়মের বাবা এস এম মাসুম বিল্লাহ শেরেবাংলা নগর থানায় গাজী নজরুল ইসলাম, তার প্রথম স্ত্রী মাকছুদা ইসলাম ও গাড়িচালক ওবায়দুল ইসলামের বিরুদ্ধে মামলাটি দায়ের করেন।
এজাহার সূত্রে জানা যায়, গত জুনে মরিয়মের সঙ্গে গাজী নজরুল ইসলামের ইসলামি শরিয়াহ অনুযায়ী বিয়ে হয়। নজরুল শেরেবাংলা নগর থানার মানিক মিয়া অ্যাভিনিউসংলগ্ন ন্যাম ভবনের একটি ফ্ল্যাটে বসবাস করতেন। একই ফ্ল্যাটে তার প্রথম স্ত্রী মাকছুদা ইসলামও ছিলেন।
এজাহারে অভিযোগ করা হয়, বিয়ের পর থেকেই নজরুল ও মাকছুদা বিভিন্ন বিষয় নিয়ে মরিয়মের ওপর শারীরিক ও মানসিক নির্যাতন চালিয়ে আসছিলেন। মরিয়ম তার পরিবারের সদস্যদের কাছে এসব বিষয়ে একাধিকবার জানিয়েছিলেন বলেও এজাহারে উল্লেখ করা হয়েছে।
আরো পড়ুন
হাম উপসর্গে আরো ৬ শিশুর মৃত্যু
২০ সেপ্টেম্বর বিকেলে গাজী নজরুল ইসলাম ফোন করে মরিয়মের বাবাকে দ্রুত বাসায় আসতে বলেন। পরে পরিবারের সদস্যরা সেখানে গিয়ে পুলিশকে খবর দেন। ঘটনাস্থল থেকে পুলিশ একটি হাতে লেখা চিঠি উদ্ধার করেছে বলে এজাহারে উল্লেখ করা হয়েছে।
পরিবারের অভিযোগ, গাড়িচালক ওবায়দুল ইসলামের মধ্যস্থতা ও প্ররোচনায় মরিয়মের সঙ্গে গাজী নজরুলের বিয়ে হয়। পরে নজরুল ও মাকছুদার নির্যাতন এবং আসামিদের প্ররোচনার কারণে মরিয়মের মৃত্যু হয়েছে বলে অভিযোগ করেন তার পরিবারের সদস্যরা।
সুরতহাল প্রতিবেদন তৈরির পর মরিয়মের মরদেহ ময়নাতদন্তের জন্য শহীদ সোহরাওয়ার্দী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়েছে।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
কুড়িগ্রামে ধরলা, দুধকুমার এবং ব্রহ্মপুত্রের পানি বৃদ্ধি পাচ্ছে। যদিও তিস্তার পানি কিছুটা কমেছে, তবুও এটি বিপৎসীমার কাছাকাছি অবস্থান করছে। পানি উন্নয়ন বোর্ডের পূর্বাভাস অনুযায়ী, আগামী ২৪-৪৮ ঘণ্টার মধ্যে পানি আরও বৃদ্ধি পাবে এবং তিস্তার পানি বিপৎসীমার নিকটে থাকবে। ফলে, নদী সংলগ্ন নিম্নাঞ্চল সাময়িকভাবে প্লাবিত হতে পারে বলে জানানো হয়েছে।
এদিকে, পানি বৃদ্ধির সাথে সাথে বিভিন্ন স্থানে নদ-নদীর ভাঙন তীব্র আকার ধারণ করেছে। ঝুঁকির মধ্যে রয়েছে একটি বন্যা নিয়ন্ত্রণ বাঁধ, দুটি বাজার এবং তিনটি প্রাথমিক বিদ্যালয়।
পানি উন্নয়ন বোর্ড ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, রবিবার ব্রহ্মপুত্রের ভাঙনে চিলমারী কাচকোল বাজারের দক্ষিণে কেডি ওয়ারি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সামনে ডান তীর রক্ষা প্রকল্পের বাঁধে ধস দেখা দিয়েছে। পিচিং করা ব্লক দেবে যাচ্ছে, যার ফলে স্থানীয় জনগণ আতঙ্কিত হয়ে পড়েছেন।
উলিপুর উপজেলার সাহেবের আলগা ইউনিয়নের উত্তর নামাজের চরে ব্রহ্মপুত্রের ভাঙন তীব্র আকার ধারণ করেছে। গত ১০ দিনের মধ্যে এই এলাকায় ১৫টি বসতভিটা এবং ১৬ বিঘা জমি নদীগর্ভে বিলীন হয়েছে। ঝুঁকির মধ্যে রয়েছে উত্তর নামাজের চর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, সাহেবের আলগা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, হবিগঞ্জ বাজার এবং আনন্দ বাজার। স্থানীয় জনগণ ভাঙন রোধের দাবিতে কয়েকদিন আগে মানববন্ধন কর্মসূচি পালন করেছে। গত এক মাসে জাহাজের আলগা চরের অর্ধশতাধিক বসতভিটা নদীগর্ভে বিলীন হয়েছে। বিলীন হওয়ার পথে রয়েছে জাহাজের আলগা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়। এছাড়া, দই খাওয়ার চর নিম্ন মাধ্যমিক বিদ্যালয়, নতুন বাজারসহ বেশ কয়েকটি স্থাপনা ঝুঁকির সম্মুখীন।
এদিকে, দুধকুমারের ভাঙনে সদর উপজেলার যাত্রাপুরের বানিয়াপাড়া, ভগবতিপুর, নাগেশ্বরীর চর নারায়নপুর এবং ভুরুঙ্গামারী উপজেলার পাইকেরছড়ায় ফসলি জমি নদীগর্ভে বিলীন হয়েছে। ভাঙনের কারণে বেশ কিছু ঘরবাড়ি ঝুঁকিতে রয়েছে। ধরলার ভাঙনে সারডোব ও চর বড়লই এলাকায় আবাদী জমি বিলীন হচ্ছে। তবে, বাড়িঘর ও স্থাপনা ছাড়া জিও ব্যাগ ফেলার নির্দেশনা না থাকায় পানি উন্নয়ন বোর্ড কার্যকর ব্যবস্থা নিতে পারছে না।
তিস্তার ভাঙনে রাজারহাট উপজেলার পলাশপুর গ্রামের বিস্তৃত আবাদী জমি নদীগর্ভে বিলীন হচ্ছে। পানি উন্নয়ন বোর্ডের কোনো সাড়া না পেয়ে স্থানীয় জনগণ গাছের ডাল ফেলে ভাঙন রোধের চেষ্টা করছে। এখানে নদীর কিনারে ভাঙনের ঝুঁকিতে রয়েছে কয়েকটি বাড়ি।
কুড়িগ্রাম পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী রাকিবুল হাসান জানিয়েছেন, বর্তমানে ২০টি পয়েন্টে নদী ভাঙন অব্যাহত রয়েছে। এর মধ্যে ৪-৫টি পয়েন্টে ভাঙন প্রতিরোধের জন্য বরাদ্দ চাওয়া হয়েছে।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ