মঙ্গলবার, ১ই সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ইং
০৩:১৪ এম
তিব্বত ও নেপাল সীমান্তে সম্প্রতি ঘটে যাওয়া প্রাণঘাতী বন্যা এবং ভয়াবহ প্রাকৃতিক বিপর্যয় হিমালয় অঞ্চলের ক্রমবর্ধমান ঝুঁকিকে আবারও কঠোর সত্যের মুখোমুখি দাঁড় করিয়ে দিয়েছে। এই বিপর্যয়টি ঠিক এমন একটি সময়ে ঘটেছে, যখন এ অঞ্চলের দেশগুলো তীব্র গতিতে এই অতি-উচ্চতাকোলের দুর্গম সীমান্ত এলাকায় নিজেদের অবকাঠামোগত বিস্তার বাড়িয়ে চলেছে। সাম্প্রতিক এই দুর্যোগে উভয় সীমান্তে ৬০০ জনেরও বেশি মানুষের প্রাণহানি ঘটেছে এবং নিখোঁজ রয়েছেন প্রায় ৩ হাজার মানুষ। যদিও এই নির্দিষ্ট ঘটনার সাথে সরাসরি মানবসৃষ্ট উন্নয়ন কর্মকাণ্ডের কোনো সংযোগের প্রমাণ মেলেনি, তবে উদ্ভূত এই বিধ্বংসী পরিস্থিতি সেইসব দেশের সরকারের জন্য একটি বড় ধরনের বাস্তবতার ধাক্কা হতে পারে, যারা হিমালয় জুড়ে জলবিদ্যুৎ সম্ভাবনা ও প্রাকৃতিক সম্পদ আহরণ এবং সীমান্ত নিরাপত্তার স্বার্থে বাঁধ, টানেল, মহাসড়ক, রেলপথ ও সেতু নির্মাণের এক বিশাল প্রতিযোগিতায় নেমেছে।
এই অঞ্চলে অবকাঠামো নির্মাণের অগ্রযাত্রায় কোনো দেশই চীনের মতো বিশাল পরিসরে উদ্যোগ নেয়নি। বেইজিংয়ের কাছে তিব্বত এবং এর হিমালয় সীমান্ত এলাকা কেবল আঞ্চলিক বিষয় নয় বরং জাতীয় ও জ্বালানি নিরাপত্তার জন্য অত্যন্ত কৌশলগত কেন্দ্রবিন্দু। চীন সরকার এই অঞ্চলটিকে সবুজ শক্তি উৎপাদন কেন্দ্রে পরিণত করার পরিকল্পনা করেছে। এর অংশ হিসেবে তারা ১৬৮ বিলিয়ন ডলার ব্যয়ে একটি বিশাল মেগা-বাঁধ নির্মাণ করছে, যা মানব প্রকৌশলবিদ্যার পূর্ববর্তী সমস্ত সীমাকে ছাড়িয়ে যেতে পারে।
তবে এই দৌড়ে চীন একা নয়। ভারত এবং কিছুটা কম পরিসরে হলেও নেপালও সাম্প্রতিক বছরগুলোতে এই অবকাঠামো তৈরির খেলায় মেতে উঠেছে। পরিবেশগতভাবে অত্যন্ত স্পর্শকাতর, ভূমিকম্পপ্রবণ এবং জলবায়ু পরিবর্তনের মারাত্মক ঝুঁকিতে থাকা এই অঞ্চলে দেশগুলো কোটি কোটি ডলার ঢালছে। কিন্তু গত বুধবার সকালে প্রকৃতির সেই ঝুঁকিপূর্ণ বাস্তবতা আরও একবার নিষ্ঠুরভাবে দৃশ্যমান হয়, যখন পাহাড়ের একটি হিমবাহ ভেঙে পড়ে শক্তিশালী ভূমিধসের সৃষ্টি করে। এর ফলে নেমে আসা পানির প্রবল স্রোত বিশাল এলাকা জুড়ে ভবন ভাসিয়ে নিয়ে যায় এবং গ্রাম, রাস্তাঘাট, সেতু ও একাধিক জলবিদ্যুৎ কেন্দ্র পুরোপুরি ধ্বংস করে দেয়, যার চূড়ান্ত মানসিক ও অর্থনৈতিক মূল্য এখনও আনুষ্ঠানিকভাবে হিসাব করা সম্ভব হয়নি।
দুর্যোগের পর থেকে উভয় সীমান্তেই উদ্ধার তৎপরতা অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে উঠেছে। ভূমিধসের ধ্বংসাবশেষ থেকে তৈরি হওয়া কৃত্রিম হ্রদ ভেঙে পুনরায় বন্যা ও ভূমিধসের মতো দ্বিতীয় পর্যায়ের দুর্যোগের তীব্র হুমকি তৈরি হয়েছে। চীনের ক্ষমতাসীন কমিউনিস্ট পার্টির শীর্ষ নেতা শি জিনপিংয়ের নেতৃত্বে গত শুক্রবার অনুষ্ঠিত এক উচ্চপর্যায়ের বৈঠকে উদ্ধার ও জরুরি সাড়াদান কার্যক্রমের ক্ষেত্রে একাধিক হিমবাহ, হিমবাহ সৃষ্ট হ্রদ, সম্ভাব্য ভূতাত্ত্বিক ঝুঁকি এবং পরিবর্তনশীল আবহাওয়াকে চরম চ্যালেঞ্জ হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে। অন্যদিকে, নেপালে রবিবারও উদ্ধারকারীরা বিভিন্ন জলবিদ্যুৎ প্রকল্পে নিখোঁজ থাকা ৯০০ জনেরও বেশি শ্রমিকের সন্ধানে অভিযান অব্যাহত রেখেছেন এবং প্রকল্পগুলোর টানেলে আটকে থাকা ধ্বংসাবশেষ সরাতে ভারী যন্ত্রপাতি ব্যবহার করছেন।
হিমালয় অঞ্চলের দেশগুলোর এই বিশাল অবকাঠামোগত স্বপ্ন পূরণের পথে এই মহাপরিপর্যয় কোনো সতর্কবার্তা বা ঘুম ভাঙার মতো ঘটনা হিসেবে কাজ করবে কি না, তা নিয়ে এখনও বড় ধরনের অনিশ্চয়তা রয়ে গেছে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, ঘটনার ভয়াবহতা এবং এটি একটি আন্তর্জাতিক সীমান্তে ঘটে যাওয়ার কারণে রাষ্ট্রীয় পরিকল্পনাকারীদের এখন আরও গভীর সতর্কতার সাথে ভাবা উচিত যে তারা কীভাবে এই অঞ্চলে প্রকল্পগুলোর নকশা, অবস্থান ও আকার নির্ধারণ করবেন। পাশাপাশি এটি যৌথ ঝুঁকি পর্যবেক্ষণ ব্যবস্থার জন্য একটি আঞ্চলিক আলোচনার সুযোগ তৈরি করেছে, বিশেষ করে যখন জলবায়ু পরিবর্তনের কারণে এসব প্রাকৃতিক দুর্যোগ দিন দিন আরও চরম এবং অননুমেয় রূপ নিচ্ছে।
উড্রো উইলসন সেন্টার ও স্টিমসন সেন্টারের এনার্জি, ওয়াটার অ্যান্ড সাসটেইনেবিলিটি প্রোগ্রামের সিনিয়র ফেলো অস্টিন লর্ড এই পরিস্থিতি সম্পর্কে বলেন, "আমরা এখন প্রতি ৫ থেকে ১০ বছরের ব্যবধানে এমন সব বন্যার মুখোমুখি হচ্ছি যা আগে ১০০ বছরে একবার দেখা যেত।" তিনি আরও উল্লেখ করেন যে, জলবায়ুজনিত ঝুঁকিগুলো আমাদের নিরাপত্তার সীমানা নিয়ে ভাবার ক্ষমতার চেয়েও অনেক দ্রুত রূপ পরিবর্তন করছে। এতসব অজানা বিষয় সঙ্গে নিয়ে আমরা যদি একসাথে কাজ শুরু না করি, তবে কোনো অগ্রগতি অর্জন করা সম্ভব হবে না এবং পরবর্তীতে আবারও আমাদের এমন বিপর্যয়ের মুখে অসহায়ভাবে তলিয়ে যেতে হবে।
হিমালয়ের ভূখণ্ড টেকটোনিক প্লেটের ক্রমাগত নড়াচড়া থেকে উদ্ভূত এবং এর মধ্য দিয়ে প্রবাহিত নদীগুলো মূল হিমবাহ থেকে তাদের পানি সংগ্রহ করে। এই নদীর অববাহিকায় বসবাসকারী ভারতীয় উপমহাদেশের কোটি কোটি মানুষ সম্পূর্ণভাবে নিম্নমুখী হয়ে প্রবাহিত হওয়া এই পানির ওপর নির্ভরশীল। এটি পৃথিবীর সবচেয়ে পরিবেশগত ও ভূ-তাত্ত্বিকভাবে সংবেদনশীল অঞ্চলগুলোর একটি হলেও এর প্রবল নদীগুলোকে বশ করে মেগা-জলবিদ্যুৎ তৈরি করার চিন্তা প্রকৌশলীদের বহু দিন ধরেই প্রলুব্ধ করে আসছে। চীনের সাম্প্রতিক বাঁধ নির্মাণ প্রযুক্তির অগ্রগতি, কয়লা ছেড়ে পরিবেশবান্ধব শক্তিতে রূপান্তরিত হওয়ার তাগিদ এবং ভারত-চীন সীমান্তে চলমান দীর্ঘদিনের উচ্চ-উচ্চতার ভূ-রাজনৈতিক উত্তেজনা এই অঞ্চলের অবকাঠামোগত পরিবর্তনকে তরান্বিত করেছে।
অস্ট্রেলিয়ার লা ট্রোব ইউনিভার্সিটির পরিবেশ, সংস্কৃতি ও জলবায়ু ইতিহাসবিদ রুথ গ্যাম্বল মনে করেন, পাহাড়গুলোকে আগে রাষ্ট্রগুলো যেভাবে পশ্চাৎপদ এলাকা বা সম্ভাব্য রাজনৈতিক অস্থিরতার কেন্দ্র হিসেবে দেখত, এখন সেই দৃষ্টিকোণ বদলে গেছে এবং সেগুলোকে সম্পদ হিসেবে পুনর্নির্ধারণ করা হয়েছে। তিনি আরও বলেন, "এটি কেবল জলবিদ্যুৎ সংক্রান্ত বিষয় নয় এর সাথে খনিজ সম্পদ ও পর্যটনের বিষয় জড়িয়ে আছে। সেখানে একটি সামরিক-শিল্প জটিলতা কাজ করছে এবং তার সাথে সম্পর্কিত প্রচুর অবকাঠামো সেখানে তৈরি হচ্ছে।"
বেইজিং বিশাল আকৃতির আল্ট্রা-হাই-ভোল্টেজ পাওয়ার ট্রান্সমিশন লাইন তৈরি করছে যাতে তিব্বতের জলবিদ্যুৎ কেন্দ্র এবং ছড়িয়ে থাকা সৌর ও উইন্ড ফার্ম থেকে তৈরি হওয়া পরিচ্ছন্ন শক্তি চীনের শিল্পভিত্তিক পূর্বাঞ্চলীয় উপকূলে নিয়ে যাওয়া যায়। এছাড়া ১৯৫৯ সালে চতুর্দশ দালাই লামার ভারতে নির্বাসনের পর থেকে তিব্বত অঞ্চলে নিজেদের পূর্ণ নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠা ও তা ধরে রাখতে বেইজিং সবসময় উন্নয়ন কর্মকাণ্ডকে অস্ত্র হিসেবে ব্যবহার করে এসেছে। তিব্বতের ইয়ারলুং সাংপো নদীতে চীনের নতুন মেগা-ড্যাম প্রকল্পটি গবেষকদের মতে তিব্বতে বাস্তবায়নাধীন ডজন ডজন জলবিদ্যুৎ প্রকল্পের অন্যতম। পাহাড় কেটে টানেল বানিয়ে প্রায় ২ হাজার মিটারের একটি সুবিশাল উচ্চতার সুবিধাকে কাজে লাগিয়ে নির্মিত এই প্রকল্পটি বিশ্বের অন্য যেকোনো বাঁধের চেয়ে বেশি বিদ্যুৎ উৎপাদনে সক্ষম হবে বলে আশা করা হচ্ছে।
একই সাথে চীন বিতর্কিত সীমান্ত এলাকা জুড়ে দ্রুত সামরিক যান চলাচলের সুবিধার্থে নতুন নতুন গ্রাম ও অবকাঠামো নির্মাণ করছে। এর প্রেক্ষিতে ভারতও পিছিয়ে নেই। ভারতের বৃহত্তম রাষ্ট্রায়ত্ত জলবিদ্যুৎ কোম্পানি চীনের প্রকল্পের ভাটিতে ১১ হাজার ২০০ মেগাওয়াটের একটি বিশাল বাঁধ নির্মাণের কাজ এগিয়ে নিয়ে যাচ্ছে। সাম্প্রতিক বছরগুলোতে নয়া দিল্লি পর্বত অতিক্রমকারী বেশ কিছু জটিল টানেল ও রেলপথের উদ্বোধন করেছে, যা সীমান্তে দ্রুত সৈন্য ও সামরিক সরঞ্জাম মোতায়েনে সাহায্য করবে। আর নেপালও তাদের দুই পরাশক্তি প্রতিবেশীর ভূ-রাজনৈতিক প্রভাব বিস্তারের প্রতিযোগিতার সুযোগ নিয়ে তাদেরই অর্থায়নে হিমালয়ের নদীগুলোতে জলবিদ্যুৎ প্রকল্পের নির্মাণকাজ বৃদ্ধি করেছে। উপরন্তু কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বা এআই প্রযুক্তির প্রসারের কারণে বিদ্যুতের বিশ্বব্যাপী যে তীব্র চাহিদা তৈরি হচ্ছে, তা হিমালয়ের নদীগুলোকে ব্যবহারের প্রবণতাকে আরও ত্বরান্বিত করতে পারে।
চৈনিক প্রকৌশলীরা বিশ্বমঞ্চে অন্যতম সেরা হিসেবে স্বীকৃত এবং তারা দুর্যোগ মোকাবিলার নানা কৌশল ও আধুনিক নজরদারি ব্যবস্থা তাদের প্রকল্পে অন্তর্ভুক্ত করছেন। তা সত্ত্বেও বিশেষজ্ঞরা হুঁশিয়ারি দিয়েছেন, বিস্ফোরণ ঘটিয়ে পাহাড়ের পাথর চূর্ণ করা, প্রাকৃতিক কাঠামোতে কংক্রিট ঢালা এবং কৃত্রিম জলাধারে পানি জমিয়ে রাখার মতো চূড়ান্ত নির্মাণকাজগুলোর কিছু অপ্রত্যাশিত ও ভয়াবহ পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া হতে পারে। ভূমিধস, ধ্বংসাবশেষের প্রবাহ এবং হিমবাহের হ্রদ ফাটা প্লাবন এই অঞ্চলের সাধারণ বৈশিষ্ট হলেও জলবায়ু পরিবর্তনের কারণে এগুলো এখন অনিয়ন্ত্রিত হয়ে পড়েছে। ফলে প্রকল্পগুলোর ধারণক্ষমতার বাইরে কোনো দুর্যোগ তৈরি হলে তা স্থানীয় সাধারণ মানুষের প্রাণহানির পাশাপাশি অবকাঠামোর অপূরণীয় ক্ষতি সাধন করে।
যেমনটি নেপালের সাম্প্রতিক বিপর্যয়ে দেখা গেছে। সেখানে নিখোঁজ শত শত শ্রমিকের পাশাপাশি ১২টি বিদ্যুৎ কেন্দ্র বন্যায় ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ায় ৪৩০ মেগাওয়াটের বেশি বিদ্যুৎ উৎপাদন হঠাৎ বন্ধ হয়ে গেছে, যা হাজার হাজার পরিবারকে অন্ধকারে ঠেলে দিয়েছে। দেশটির জ্বালানি, পানিসম্পদ ও সেচ মন্ত্রণালয়ের তথ্যানুযায়ী, নির্মাণাধীন প্রকল্পগুলোর আরও ৪৭০ মেগাওয়াট উৎপাদন ক্ষমতা ক্ষতির মুখে পড়েছে।
সীমান্তবর্তী দুর্যোগের খবর ছড়িয়ে পড়ার সাথে সাথে কিছু গুঞ্জনও ডালপালা মেলেছিল যে এই বিপর্যয়টি নাকি চীনের সীমান্তের ভেতরের কোনো বাঁধ ভেঙে যাওয়ার কারণে ঘটেছে। এই গুঞ্জনের পেছনে কোনো বস্তুগত ভিত্তি না থাকলেও, তা দেখিয়ে দেয় কীভাবে প্রাকৃতিক দুর্যোগগুলো সীমান্ত অঞ্চলে একে অপরের প্রতি অবিশ্বাস বাড়িয়ে তোলে। নেপালে নিযুক্ত চীনা দূতাবাস এক্স (টুইটার)-এ দেওয়া এক বার্তায় এই ধরণের অভিযোগ ও চীনা সতর্কবার্তা দিতে দেরি হওয়ার খবরকে পুরোপুরি ভুয়া খবর বলে উল্লেখ করেছে। তাদের মতে, একে অপরকে দোষারোপ করে কোনো সমাধান হবে না বরং পারস্পরিক সহযোগিতাই জীবন বাঁচাতে পারে। পরবর্তীতে চীনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিং নেপালের প্রেসিডেন্ট রামচন্দ্র পৌডেলের কাছে পাঠানো এক বার্তায় উদ্ধার অভিযানে সব ধরনের সক্রিয় সহায়তার আশ্বাস দিয়েছেন। উভয় পক্ষই একটি তৈরি হওয়া কৃত্রিম হ্রদ বা ব্যারিয়ার লেক নজরদারিতে রাখতে যোগাযোগ বজায় রাখছে, যা যেকোনো মুহূর্তে ভেঙে পড়ে বড় বন্যার সৃষ্টি করতে পারে। যদিও সরাসরি ওই এলাকায় নেপালের নজরদারির ব্যবস্থা নেই, তবে দুই দেশের কর্তৃপক্ষ এবং গবেষকদের মধ্যে রিয়েল-টাইম ডেটা আদান-প্রদান চলছে।
অতীতের দিকে তাকালে দেখা যায়, ইয়ারলুং সাংপো মেগা-ড্যাম প্রকল্পের নকশা বা তথ্য ভারতের সাথে শেয়ার না করার জন্য চীন আন্তর্জাতিকভাবে সমালোচনার মুখে পড়েছিল। ২০১৭ সালের সীমান্ত সংকটের সময়ও চীন কিছু সময়ের জন্য আন্তঃসীমান্ত নদীর হাইড্রোলজিক্যাল তথ্য দেওয়া বন্ধ রেখেছিল, যদিও বেইজিং সবসময় নিজেদের তথ্য স্বচ্ছতার দাবি করে এসেছে। সম্প্রতি বেইজিংয়ে অনুষ্ঠিত দুই দেশের সীমান্ত আলোচনায় চীন ও ভারত নিজেদের মধ্যে নদীর তথ্য আদান-প্রদান অব্যাহত রাখার অঙ্গীকার করেছে এবং তাদের আসন্ন দ্বি-বার্ষিক বৈঠকে এই বিষয়ে বিস্তারিত আলোচনার সিদ্ধান্ত নিয়েছে।
বিশেষজ্ঞরা জোর দিয়ে বলছেন যে, যদি এই অঞ্চলে অবকাঠামো নির্মাণের গতি বজায় রাখতেই হয়, তবে দেশগুলোকে কেবল বিশাল মেগা-প্রকল্প তৈরির মানসিকতা থেকে বের হয়ে দুর্যোগ সহনশীল প্রকল্প তৈরি করতে হবে। একই সাথে একটি সমন্বিত আগাম সতর্কতা ও তথ্য আদান-প্রদানের আঞ্চলিক কাঠামো তৈরি করা অত্যন্ত জরুরি, কারণ জলবায়ু পরিবর্তনের কারণে প্রকৃতির রূপ ক্রমেই বদলাচ্ছে। রুথ গ্যাম্বলের ভাষায়, "আমরা ধরে নিচ্ছি যে ভবিষ্যৎ ঠিক বর্তমানের মতোই থাকবে এবং এটিই আমাদের সবচেয়ে বড় অহংকার বা ভুল ধারণা। কিন্তু জলবায়ু পরিবর্তনের কারণে আমরা যে ভবিষ্যতের দিকে এগিয়ে যাচ্ছি, তা আমাদের সম্পূর্ণ অজানা।"
সূত্র: সিএনএন
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
চলতি মৌসুমে সারা দেশে আমন ধানের চাষাবাদ শুরু হয়েছে। তবে বৃষ্টির অভাবের কারণে
সংকটে কৃষকরা শ্যালো মেশিনের মাধ্যমে সেচ দিয়ে ধানের চারা রোপণ করছেন। বিভিন্ন অঞ্চলে পানি সংকটের কারণে আবাদি আমন ধানের জমি ফেটে চৌচির হয়ে গেছে। এই পরিস্থিতিতে আমন চাষ নিয়ে কৃষকদের মধ্যে উদ্বেগ দেখা দিয়েছে।
কুড়িগ্রামের চিলমারীতে দীর্ঘদিন বৃষ্টি না হওয়ায় আমনক্ষেত শুকিয়ে ফেটে চৌচির হয়ে গেছে। এর ফলে কৃষকরা আমন ধানের বৃদ্ধি ও ফলন নিয়ে দুশ্চিন্তায় পড়েছেন। আষাঢ় শ্রাবণ মাস বর্ষাকাল হলেও কাঙ্ক্ষিত পরিমাণ বৃষ্টি না হওয়ায়, কৃষকরা বাধ্য হয়ে শ্যালো মেশিন ও বিদ্যুৎচালিত সেচ পাম্প ব্যবহার করে জমিতে পানি নিয়ে আমন চারা রোপণ করছেন। বৃষ্টির অভাবে ফসলের জমি ফেটে চৌচির হয়ে যাচ্ছে। সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা যায়, চলতি মৌসুমে চিলমারী উপজেলায় প্রায় ৭ হাজার ৪৫০ হেক্টর জমিতে আমন ধান রোপণ করা হয়েছে। এর মধ্যে প্রায় ৫০ শতাংশ জমির পানি শুকিয়ে গেছে। পরিস্থিতি স্বাভাবিক না হলে, কৃষকরা চারাগাছগুলোকে রক্ষা করার জন্য আবার শ্যালো মেশিন ও বিদ্যুৎচালিত সেচ পাম্প দিয়ে জমিতে পানি দিচ্ছেন। এতে ফসল উৎপাদনে খরচ বাড়ছে এবং খরা দীর্ঘ হলে আমনের ফলন বিপর্যয়ের আশঙ্কা দেখা দিয়েছে।
কৃষকরা জানান, এই অঞ্চলে আমন চারা রোপণের উপযুক্ত সময় আষাঢ় থেকে ভাদ্র মাসের প্রথম সপ্তাহ পর্যন্ত। তবে এবারে বৃষ্টি না হওয়ায়, জমিতে পানি না থাকার কারণে শ্যালো মেশিন ও বিদ্যুৎচালিত সেচ পাম্প দিয়ে জমি তৈরি করে আমন রোপণ করতে হয়েছে। দীর্ঘদিন বৃষ্টি না হলে, জমিতে আগাছা ও পোকামাকড়ের আক্রমণ বাড়তে পারে। থানাহাট ইউনিয়নের গাবেরতল এলাকার আমন চাষি সোহেল রানা বলেন, "বৃষ্টির অভাবে ফসলের মাঠ ফেটে চৌচির হয়ে গেছে। চার বিঘা জমিতে আমন চারা রোপণ করি। ফসলের ক্ষেতে পানি না থাকায়, বাধ্য হয়ে শ্যালো মেশিন দিয়ে পানি দিচ্ছি।" রাজারভিটা এলাকার কৃষক আবুল হোসেন বলেন, "সার, কীটনাশক ও শ্রমিকের মজুরি বৃদ্ধি পাওয়ায়, আমন চাষে খরচ বেড়েছে। বৃষ্টি না হলে সেচের খরচও বাড়বে।" চিলমারী উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা কনক চন্দ্র রায় বলেন, "ধানের বৃদ্ধি পর্যায়ে
ঘাটতি হলে গাছের বৃদ্ধি কমে যেতে পারে।" একই সঙ্গে কুশির সংখ্যা কমে যেতে পারে এবং আগাছার পরিমাণ বাড়তে পারে। থোড় পর্যায়ে পানির ঘাটতি হলে শীষের দৈর্ঘ্য কমে যেতে পারে এবং চিটা বাড়তে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে। এতে ফলন কমার ঝুঁকি রয়েছে।
আষাঢ় পেরিয়ে শ্রাবণ, শ্রাবণ পেরিয়ে ভাদ্র। তবু কাঙ্ক্ষিত বৃষ্টির দেখা নেই। বৃষ্টির অভাবে শুকিয়ে ফেটে চৌচির হয়ে গেছে ফসলের মাঠ। মাঝে-মধ্যে সামান্য বৃষ্টি হলেও শুকনো মাটি তা শুষে নিচ্ছে মুহূর্তেই। তীব্র খরায় চলতি মৌসুমে আমন চাষ নিয়ে দুশ্চিন্তায় পড়েছেন জামালপুরের মাদারগঞ্জ উপজেলার চাষিরা। বাধ্য হয়ে শ্যালো মেশিন ও বিদ্যুৎচালিত সেচযন্ত্র দিয়ে জমিতে পানি দিতে হচ্ছে। ফলে বৃষ্টিনির্ভর আমন ধানও এখন সেচনির্ভর হয়ে উঠছে। এতে উৎপাদন খরচ বাড়ছে এবং খরা দীর্ঘ হলে আমনের ফলন বিপর্যয়ের আশঙ্কা দেখা দিয়েছে।
সরেজমিনে উপজেলার বিভিন্ন এলাকা ঘুরে দেখা যায়, আমন ধানের চারা রোপণ শেষের দিকে। পানির অভাবে অনেক জমি শুকিয়ে ফেটে চৌচির হয়ে গেছে। কোথাও শ্যালো মেশিন দিয়ে সেচ দিয়ে জমি প্রস্তুত করা হচ্ছে, আবার কোথাও শ্রমিকরা সারিবদ্ধভাবে ধানের চারা রোপণ করছেন। প্রচণ্ড খরায় রোপণ করা জমিও শুকিয়ে ফেটে যাচ্ছে। কোথাও কোথাও শুকিয়ে মারা যাচ্ছে ধানের চারা। এতে আমন চাষিদের চিন্তার ভাঁজ পড়েছে।
উপজেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর সূত্রে জানা গেছে, চলতি মৌসুমে মাদারগঞ্জে ১৭ হাজার ৬০০ হেক্টর জমিতে আমন ধান চাষের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে। এর মধ্যে ১৬ হাজার ৫০০ হেক্টর জমিতে চারা রোপণ করা হয়েছে। বাকি জমিতে চলতি সপ্তাহের মধ্যে চারা রোপণ শেষ হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।
চাষিরা জানান, আমনের চারা রোপণের উপযুক্ত সময় আষাঢ় থেকে ভাদ্রের প্রথম সপ্তাহ পর্যন্ত। এবার পর্যাপ্ত বৃষ্টি না হওয়ায়, অনেকে সময়মতো চারা রোপণ করতে পারেননি। ভাদ্রের মাঝামাঝি সময়েও অনেক কৃষক সেচ দিয়ে চারা রোপণ করছেন। দীর্ঘদিন বৃষ্টি না হলে জমিতে আগাছা, রোগ ও পোকার আক্রমণ বাড়তে পারে।
জোড়খালী ইউনিয়নের ফুলজোড় এলাকার কৃষক আহমেদ আলী বলেন, "বৃষ্টির অভাবে মাঠ ফেটে চৌচির হয়ে গেছে। জমিতে হাল দেওয়া যাচ্ছে না। সময়মতো ধানের চারা রোপণ করাও কঠিন হয়ে পড়েছে। এখন গভীর নলকূপের পানি দিয়ে জমি তৈরি করে আমন রোপণ করা ছাড়া উপায় নেই।"
কৃষক সুজন আহমেদ বলেন, "সার-বিষ ও শ্রমিকের মজুরি বাড়ায় এমনিতেই আমন চাষে খরচ বেড়েছে। এর মধ্যে সেচ খরচও বাড়ছে। ফলে এবার আমন চাষে প্রায় ৫০ শতাংশ পর্যন্ত বাড়তি খরচ হতে পারে।"
চাষিরা আরো জানান, প্রতি বিঘা জমিতে হালচাষ, চারা রোপণ, সার-কীটনাশক, সেচ ও ধান কাটাসহ প্রায় ১৪ থেকে ১৫ হাজার টাকা খরচ হচ্ছে। বৃষ্টির ঘাটতি দীর্ঘ হলে সেচের খরচ আরো বাড়বে।
উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা হাবিবুর রহমান বলেন, বৃষ্টিপাত কম হলেও চলতি মৌসুমে আমন চাষের লক্ষ্যমাত্রা ছাড়িয়ে যাবে। তিনি আরো বলেন, জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাবে বর্ষা মৌসুমেও প্রচণ্ড রোদ ও খরা পরিস্থিতি বিরাজ করছে। তবে দ্রুতই আবহাওয়া স্বাভাবিক হবে বলে আশা প্রকাশ করেন তিনি।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
নেত্রকোনার কেন্দুয়ায় ট্রাক ও অটোরিকশার মধ্যে মুখোমুখি সংঘর্ষের ঘটনায় এক গৃহবধূসহ দুইজন নিহত হয়েছেন। এ ঘটনায় এক শিশুসহ আরও তিনজন আহত হয়েছেন।
সোমবার (৩১ আগস্ট) সন্ধ্যা ৭টার দিকে উপজেলার কেন্দুয়া-নেত্রকোনা সড়কের রামপুর বাজারসংলগ্ন চান্দপাড়া কলেজের সামনে এ দুর্ঘটনা ঘটে।
নিহতরা হলেন- কেন্দুয়া উপজেলার গড়াডোবা ইউনিয়নের বান্দলন গ্রামের মৃত মফিজ উদ্দিনের ছেলে ও অটোরিকশাচালক ওয়াজেদ মিয়া (৩৮) এবং আশুজিয়া ইউনিয়নের চান্দপাড়া গ্রামের বাবু মিয়ার স্ত্রী লিজা আক্তার (৪০)।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, নিহত লিজা আক্তারের স্বামী বাবু মিয়া বিডিআরে (বর্তমানে বিজিবি) কর্মরত রয়েছেন।
স্থানীয় ও প্রত্যক্ষদর্শী সূত্রে জানা যায়, সোমবার সন্ধ্যায় কেন্দুয়া-নেত্রকোনা সড়কে যাত্রীবাহী অটোরিকশার সঙ্গে বিপরীত দিক থেকে আসা ট্রাকের সজোরে মুখোমুখি সংঘর্ষ হয়। সংঘর্ষের মাত্রা এতই তীব্র ছিল যে অটোরিকশাটি দুমড়েমুচড়ে যায় এবং ঘটনাস্থলেই চালক ওয়াজেদ ও যাত্রী লিজা মারা যান। পরে স্থানীয়রা দ্রুত ঘটনাস্থলে ছুটে গিয়ে আহত শিশুসহ তিনজনকে উদ্ধার করে চিকিৎসার জন্য হাসপাতালে প্রেরণ করেন। দুর্ঘটনার পর ওই এলাকায় স্থানীয় উৎসুক জনতার ভিড় জমে যায়।
খবর পেয়ে তাৎক্ষণিকভাবে কেন্দুয়া থানা পুলিশ ও ফায়ার সার্ভিসের কর্মীরা ঘটনাস্থলে ছুটে যান এবং উদ্ধারকাজে অংশ নেন।
এ বিষয়ে কেন্দুয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মুহাম্মদ তরিকুল ইসলাম জানান, দুর্ঘটনায় দুজনের মৃত্যু ও শিশুসহ তিনজনের আহত হওয়ার বিষয়টি আমরা নিশ্চিত হয়েছি। নিহতদের মরদেহ প্রাথমিকভাবে থানায় নিয়ে যাওয়া হবে। পরবর্তীতে পরিবারের পক্ষ থেকে কোনো অভিযোগ থাকলে সেই অভিযোগের পরিপ্রেক্ষিতে মরদেহ ময়নাতদন্তের জন্য মর্গে পাঠানো হবে।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
নামাজ ইসলামের পাঁচ স্তম্ভের একটি এবং এটি ইমানের পর সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ। প্রাপ্তবয়স্ক মুসলমানদের জন্য পাঁচ ওয়াক্ত নামাজ আদায় করা ফরজ।
এছাড়াও, পাঁচ ওয়াক্ত নামাজের বাইরে ওয়াজিব, সুন্নত এবং নফল নামাজেরও গুরুত্ব রয়েছে। কোরআনের বিভিন্ন স্থানে নামাজ আদায়ের নির্দেশনা প্রদান করা হয়েছে। পূর্ববর্তী নবী-রাসুলদের ক্ষেত্রেও নামাজের আদেশ ছিল। তাই, সময়মতো পাঁচ ওয়াক্ত নামাজ আদায় করা মুসলমানদের ইমানি দায়িত্ব।
মঙ্গলবার (১ সেপ্টেম্বর) ঢাকা এবং এর পার্শ্ববর্তী এলাকার নামাজের সময়সূচি নিচে উল্লেখ করা হলো—
নামাজ ও ওয়াক্ত শুরু
জোহর- ১১:৫৯ মিনিট
আসর- ৪:২৯ মিনিট
মাগরিব- ৬:২০ মিনিট
এশা- ৭:৩৪ মিনিট
ফজর (বুধবার)- ৪:২৩ মিনিট
অন্যান্য বিভাগে নামাজের সময়সূচিতে কিছু মিনিট যোগ বা বিয়োগ করতে হতে পারে।
বিয়োগ
চট্টগ্রাম: ৫ মিনিট
সিলেট: ৬ মিনিট
যোগ
খুলনা: ৩ মিনিট
রাজশাহী: ৭ মিনিট
রংপুর: ৮ মিনিট
বরিশাল: ১ মিনিট
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
পটুয়াখালীর কলাপাড়া উপজেলার নীলগঞ্জ ইউনিয়নের পাখিমারা খালের ওপর স্থায়ী সেতুর অভাবে, চরম দুর্ভোগে পড়েছেন পাঁচ শতাধিক সবজি ও কৃষিপণ্য উৎপাদনকারী কৃষক। গত প্রায় ৩০ বছর ধরে কুমিরমারা, নেয়ামতপুর ও এলেমপুর গ্রামের কৃষকদের প্রতিদিন কাদা, নৌকা এবং ঝুঁকিপূর্ণ ভাসমান সেতু পার হয়ে পাখিমারার পাইকারি বাজারে কৃষিপণ্য নিয়ে যেতে হচ্ছে।
স্থানীয়দের অভিযোগ, এই অঞ্চলে প্রতি বছর প্রায় ২০ থেকে ২৫ কোটি টাকার সবজি ও অন্যান্য কৃষিপণ্য উৎপাদিত হয়। কলাপাড়া উপজেলার প্রায় ৭০ শতাংশ সবজির চাহিদা এই অঞ্চল থেকেই পূরণ হয়। স্থানীয় চাহিদা মেটানোর পাশাপাশি উদ্বৃত্ত সবজি প্রতিদিন বাস, ট্রাক ও পিকআপে দেশের বিভিন্ন এলাকার আড়তে পাঠানো হয়।
কৃষকদের অভিযোগ, বর্ষা মৌসুমে দুর্ভোগের মাত্রা কয়েকগুণ বেড়ে যায়। গ্রামগুলোর অভ্যন্তরীণ মাটির রাস্তাগুলো কাদায় চলাচলের অযোগ্য হয়ে পড়ে। তখন দূরের কৃষকদের নৌকায় করে পাখিমারার বাজারে আসতে হয়। অথচ কৃষিপণ্য পরিবহনের জন্য গুরুত্বপূর্ণ এই পথে দীর্ঘ তিন দশকেও একটি স্থায়ী গার্ডার ব্রিজ নির্মাণ করা হয়নি।
স্থানীয় কৃষক আব্দুল আজিজ হাওলাদার জানিয়েছেন, পাখিমারার প্রায় ৩০০ ফুট প্রশস্ত খাল পারাপারে বর্তমানে কৃষকরা নিজেদের অর্থায়নে ড্রামের ওপর নির্মিত ভাসমান কাঠের পাটাতনের সেতুর ওপর নির্ভরশীল। নিজেদের উদ্যোগে এবং বিভিন্ন এনজিওর সহায়তায় কয়েক দফা মেরামত করা হলেও, দীর্ঘস্থায়ী সমাধান হয়নি।
কুমিরমারার প্রবীণ কৃষক সুলতান গাজী বলেন, "৪০-৪৫ বছর ধরে সবজি চাষ করছি। কুমিরমারাসহ তিনটি গ্রামের অন্তত সাড়ে পাঁচশ কৃষক প্রতি বছর ২০ থেকে ২৫ কোটি টাকার সবজি ও অন্যান্য কৃষিপণ্য উৎপাদন করেন।" তিনি আরও জানান, এসব পণ্য পাখিমারার আড়তে নিতে হয়। বর্ষায় কাদা ও নৌকার কারণে দুর্ভোগ আরো বাড়ে। এত বছরেও এখানে একটি পাকা ব্রিজ হয়নি।
স্থানীয়রা জানান, ২০১৬ সালে চাকামইয়া এলাকার আরপাঙ্গাশিয়া নদীর ওপর ভেঙে পড়া একটি আয়রন ব্রিজের মালামাল এনে পাখিমারা খালের ওপর একটি সেতু নির্মাণ করা হয়েছিল। কিন্তু নির্মাণের দুই বছরের মধ্যেই সেটি নষ্ট হয়ে যায়। সেতুটি ভেঙে যাওয়ার পর থেকেই ভাসমান ড্রাম সেতুই কৃষকদের একমাত্র ভরসা। বছরের পর বছর ধরে এমন পরিস্থিতি চললেও স্থায়ী সমাধান না হওয়ায়, ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন স্থানীয়রা।
এ বিষয়ে নীলগঞ্জ ইউনিয়ন পরিষদের প্রশাসক ও উপজেলা কৃষি সম্প্রসারণ কর্মকর্তা নাহিদ হাসান বলেন, পাখিমারা খালের ওপর একটি গার্ডার ব্রিজ নির্মাণের পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে। স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তর (এলজিইডি) এটি বাস্তবায়ন করবে। তিনি জানান, "নীলগঞ্জের সবজি চাষিদের দুর্ভোগ কমানো এবং কৃষিপণ্য পরিবহনের সুবিধার জন্যই প্রকল্পটি নেওয়া হয়েছে।"
এলজিইডির উপজেলা প্রকৌশলী মনিরুজ্জামান জানান, কুমিরমারার সবজি চাষিসহ এলাকার কৃষকদের কৃষিপণ্য আনা-নেওয়া ও যোগাযোগ সুবিধার জন্য পাখিমারা খালের ওপর ৪৯০ মিটার দীর্ঘ একটি গার্ডার ব্রিজ নির্মাণের পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে। তিনি বলেন, "এর ডিজাইন প্রক্রিয়া শেষ হওয়ার পথে। নেভিগেশন ছাড়পত্রও নেওয়া হয়েছে। এখন একনেকের অনুমোদন পাওয়া গেলে দ্রুততম সময়ের মধ্যে প্রকল্পটি বাস্তবায়নের আশা করা হচ্ছে।"
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ